সূরা আল আ’রাফ (الأعراف) | উচু স্থানসমূহ
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ২০৬

رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।



আয়াত-২৬ঃ

يَا (ইয়া → হে)
بَنِي (বানী → সন্তানগণ)
آدَمَ (আদামা → আদম)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
أَنزَلۡنَا (আনযালনা → আমরা নাযিল করেছি)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের প্রতি)
لِبَاسًا (লিবাসান → আবরণ / পোশাক)
يُوَارِي (ইউওয়ারী → ঢেকে দেয়)
سَوۡءَاتِكُمۡ (সাওআতিকুম → তোমাদের লজ্জাস্থান / গোপন অঙ্গসমূহ)
وَرِيشًا (ওয়া রীশান → সৌন্দর্য ও শোভা)
وَلِبَاسُ (ওয়া লিবাসু → আর আবরণ)
التَّقۡوَىٰ (আত-তাকওয়া → আল্লাহভীতি)
ذَٰلِكَ (যালিকা → সেটিই)
خَيۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
ذَٰلِكَ (যালিকা → সেটি)
مِنۡ (মিন → অন্তর্ভুক্ত)
آيَاتِ (আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَذَّكَّرُونَ (ইয়াযযাক্কারূন → উপদেশ গ্রহণ করে / স্মরণ করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে আদম-সন্তান! নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের জন্য এমন পোশাক প্রদান করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢেকে দেয় এবং সৌন্দর্য ও শোভা দান করে। তবে আল্লাহভীরুতার পোশাকই সর্বোত্তম। এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের (নিদর্শনসমূহের) অন্তর্ভুক্ত, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে বা স্মরণ করে।


আয়াত-২৭ঃ

يَا (ইয়া → হে)
بَنِي (বানী → সন্তানগণ)
آدَمَ (আদামা → আদম)
لَا (লা → না)
يَفۡتِنَنَّكُمُ (ইয়াফতিনান্নাকুম → যেন বিভ্রান্ত না করে)
الشَّيۡطَانُ (আশ-শাইতানু → কুমন্ত্রণাদাতা)
كَمَا (কামা → যেমন)
أَخۡرَجَ (আখরাজা → বের করে দিয়েছিল)
أَبَوَيۡكُم (আবাওয়াইকুম → তোমাদের পিতা-মাতাকে)
مِّنَ (মিন → থেকে)
الۡجَنَّةِ (আল-জান্নাতি → উদ্যান / জান্নাত)
يَنزِعُ (ইয়ানযি‘উ → খুলে নেয়)
عَنۡهُمَا (আনহুমা → তাদের উভয়ের থেকে)
لِبَاسَهُمَا (লিবাসাহুমা → তাদের পোশাক)
لِيُرِيَهُمَا (লিইউরিয়াহুমা → যাতে দেখিয়ে দেয়)
سَوۡءَاتِهِمَا (সাওআতিহিমা → তাদের লজ্জাস্থান)
إِنَّهُ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই সে)
يَرَىٰكُمۡ (ইয়ারাকুম → তোমাদের দেখে)
هُوَ (হুওয়া → সে)
وَقَبِيلُهُ (ওয়া কাবীলুহু → এবং তার দলবল)
مِنۡ (মিন → থেকে)
حَيۡثُ (হাইছু → এমন স্থান)
لَا (লা → না)
تَرَوۡنَهُمۡ (তারাওনাহুম → তোমরা তাদের দেখতে পাও)
إِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
جَعَلۡنَا (জা‘আলনা → বানিয়েছি)
الشَّيَاطِينَ (আশ-শায়াতীনা → কুমন্ত্রণাদাতাদের/ বিদ্রোহী প্ররোচনাকারীদের)
أَوۡلِيَآءَ (আওলিয়াআ → অভিভাবক/ঘনিষ্ঠ সহচর)
لِلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য যারা)
لَا (লা → না)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে আদম-সন্তান! শয়তান (কুমন্ত্রণাদাতা) যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে, যেমন সে তোমাদের পিতা-মাতাকে উদ্যান (জান্নাত) থেকে বের করে দিয়েছিল। সে তাদের পোশাক খুলে নিয়েছিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ পায়। নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদের এমন স্থান থেকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমরা শয়তানদের তাদেরই ঘনিষ্ঠ সহচর বানিয়েছি, যারা বিশ্বাসী নয়।


আয়াত-২৮ঃ

وَإِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
فَعَلُوا (ফা‘আলূ → তারা করে)
فَاحِشَةً (ফাহিশাতান → অশ্লীলতা / জঘন্য কাজ)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলে)
وَجَدۡنَا (ওয়াজাদনা → আমরা পেয়েছি)
عَلَيۡهَا (আলাইহা → এর ওপর)
آبَاءَنَا (আবাআনা → আমাদের পিতৃপুরুষদের)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
أَمَرَنَا (আমারানা → আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন)
بِهَا (বিহা → এর)
قُلۡ (কুল → বলো)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَا (লা → না)
يَأۡمُرُ (ইয়া’মুরু → নির্দেশ দেন)
بِالۡفَحۡشَاءِ (বিল-ফাহশাঈ → অশ্লীলতা / জঘন্য কাজের)
أَتَقُولُونَ (আতাকূলূন → তোমরা কি বলো)
عَلَى (আলা → সম্পর্কে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مَا (মা → এমন যা)
لَا (লা → না)
تَعۡلَمُونَ (তা‘লামূন → তোমরা জানো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন তারা কোনো অশ্লীল বা জঘন্য কাজ করে, তখন বলে, “আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এ পথেই পেয়েছি, আর আল্লাহও আমাদের এটির নির্দেশ দিয়েছেন।” বলো, “নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনো অশ্লীল বা জঘন্য কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর নামে এমন কথা বলো, যা তোমরা জানো না?”


আয়াত-২৯ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
أَمَرَ (আমারা → নির্দেশ দিয়েছেন)
رَبِّي (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
بِالۡقِسۡطِ (বিল-কিস্তি → ন্যায়বিচারের)
وَأَقِيمُوا (ওয়া আকীমূ → প্রতিষ্ঠা করো)
وُجُوهَكُمۡ (উজূহাকুম → তোমাদের মুখমণ্ডল / নিজেদের চেহারা)
عِندَ (ইনদা → কাছে)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
مَسۡجِدٍ (মাসজিদিন → আনুগত্যের স্থান/ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্থান)
وَادۡعُوهُ (ওয়াদ‘ঊহু → এবং তাঁকেই আহ্বান করো)
مُخۡلِصِينَ (মুখলিসীনা → একনিষ্ঠভাবে)
لَهُ (লাহু → তাঁর জন্য)
الدِّينَ (আদ-দীন → জীবনব্যবস্থা)
كَمَا (কামা → যেমন)
بَدَأَكُمۡ (বাদাআকুম → তিনি তোমাদের প্রথম সৃষ্টি করেছেন)
تَعُودُونَ (তা‘ঊদূন → তোমরা ফিরে আসবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “আমার প্রতিপালক ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক ন্যায়বিচারের স্থানে (মসজিদে) তোমরা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং একনিষ্ঠভাবে তারই জন্য জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) পালনে তাঁকেই ডাকো। যেমন তিনি প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তোমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাবে।”


আয়াত-৩০ঃ

فَرِيقًا (ফারীকান → একদল)
هَدَى (হাদা → তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন)
وَفَرِيقًا (ওয়া ফারীকান → আর একদল)
حَقَّ (হাক্কা → অবধারিত হয়েছে)
عَلَيۡهِمُ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
الضَّلَالَةُ (আদ্-দালালাতু → পথভ্রষ্টতা)
إِنَّهُمُ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
اتَّخَذُوا (ইত্তাখাযূ → গ্রহণ করেছে)
الشَّيَاطِينَ (আশ-শায়াতীনা → শয়তানদের / বিপথগামী প্ররোচনাকারীদের)
أَوۡلِيَاءَ (আওলিয়াআ → অভিভাবক)
مِنۡ (মিন → পরিবর্তে)
دُونِ (দূনি → বাদ দিয়ে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
وَيَحۡسَبُونَ (ওয়া ইয়াহসাবূনা → অথচ তারা মনে করে)
أَنَّهُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
مُّهۡتَدُونَ (মুহতাদূন → সঠিক পথপ্রাপ্ত / হেদায়াতপ্রাপ্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

একদলকে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন, আর একদলের ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছে। কারণ তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে, অথচ তারা মনে করে যে তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।


আয়াত-৩১ঃ

يَٰبَنِي (ইয়া-বানী → হে সন্তানগণ)
آدَمَ (আদামা → আদম)
خُذُوا (খুযূ → গ্রহণ করো)
زِينَتَكُمۡ (যীনাতাকুম → তোমাদের মর্যাদা/ বেশ-ভূষা)
عِندَ (ইনদা → প্রত্যেক)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
مَسۡجِدٍ (মাসজিদিন → আনুগত্যের স্থান)
وَكُلُوا (ওয়া কুলূ → এবং খাও)
وَاشۡرَبُوا (ওয়াশরাবূ → এবং পান করো)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُسۡرِفُوا (তুসরিফূ → অপচয় করো)
إِنَّهُ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই তিনি)
لَا (লা → না)
يُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُسۡرِفِينَ (আল-মুসরিফীন → অপচয়কারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে আদম-সন্তান! প্রত্যেক মসজিদে (আনুগত্যের স্থানে) তোমাদের বেশ-ভূষা ধারণ করো। খাও, পান করো কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।


আয়াত-৩২ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
مَنۡ (মান → কে)
حَرَّمَ (হাররামা → নিষিদ্ধ করেছে)
زِينَةَ (যীনাতা → শোভা / সৌন্দর্য)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
الَّتِي (আল্লাতী → যা)
أَخۡرَجَ (আখরাজা → প্রকাশ করেছেন)
لِعِبَادِهِ (লি‘ইবাদিহী → তাঁর বান্দাদের জন্য)
وَالطَّيِّبَاتِ (ওয়াত্তাইয়্যিবাতি → উত্তম ও পবিত্র বস্তুসমূহ)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الرِّزۡقِ (আর-রিযকি → জীবিকার উপকরণ)
قُلۡ (কুল → বলো)
هِيَ (হিয়া → এগুলো)
لِلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য যারা)
آمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡحَيَاةِ (আল-হায়াতি → জীবন)
الدُّنۡيَا (আদ্-দুনইয়া → পার্থিব)
خَالِصَةً (খালিসাতান → একান্তভাবে নির্ধারিত / বিশুদ্ধভাবে)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → দিনে)
الۡقِيَامَةِ (আল-কিয়ামাতি → পুনরুত্থান)
كَذَٰلِكَ (কাযালিকা → এভাবেই)
نُفَصِّلُ (নুফাসসিলু → বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি)
الۡآيَاتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন সম্প্রদায়ের জন্য)
يَعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → যারা জ্ঞান রাখে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে বেশ-ভূষা এবং পবিত্র জীবিকার উপকরণ দিয়েছেন, সেগুলো কে নিষিদ্ধ করেছে?” বলো, “এগুলো দুনিয়ার জীবনে বিশ্বাসীদের জন্য এবং পরকালের দিনে একান্তভাবেই তাদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।” এভাবেই আমরা জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আয়তসমূহ (নিদর্শনসমূহ) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি।


আয়াত-৩৩ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
إِنَّمَا (ইন্নামা → কেবল)
حَرَّمَ (হাররামা → নিষিদ্ধ করেছেন)
رَبِّيَ (রাব্বিয়া → আমার প্রতিপালক)
الۡفَوَاحِشَ (আল-ফাওয়াহিশা → অশ্লীল ও জঘন্য কাজসমূহ)
مَا (মা → যা)
ظَهَرَ (জাহারা → প্রকাশ পেয়েছে)
مِنۡهَا (মিনহা → তার মধ্যে থেকে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
بَطَنَ (বাতানা → গোপন রয়েছে)
وَالۡإِثۡمَ (ওয়াল-ইছমা → পাপ)
وَالۡبَغۡيَ (ওয়াল-বাগইয়া → সীমালঙ্ঘন)
بِغَيۡرِ (বিগাইরি → ব্যতীত)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্য)
وَأَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
تُشۡرِكُوا (তুশরিকূ → শরিক করো)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর সঙ্গে)
مَا (মা → যা)
لَمۡ (লাম → না)
يُنَزِّلۡ (ইউনাযযিল → অবতীর্ণ করেছেন)
بِهِ (বিহী → তার পক্ষে)
سُلۡطَانًا (সুলতানান → কর্তৃত্বপূর্ণ দলিল)
وَأَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
تَقُولُوا (তাকূলূ → তোমরা বলো)
عَلَى (আলা → সম্পর্কে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مَا (মা → যা)
لَا (লা → না)
تَعۡلَمُونَ (তা‘লামূন → তোমরা জানো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “আমার প্রতিপালক কেবল নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন সব অশ্লীল ও জঘন্য কাজ, পাপ, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন, আল্লাহর সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করা যার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা তোমরা জানো না।”


আয়াত-৩৪ঃ

وَلِكُلِّ (ওয়া লিকুল্লি → এবং প্রত্যেকের জন্য)
أُمَّةٍ (উম্মাতিন → জাতি )
أَجَلٌ (আজালুন → নির্ধারিত সময়সীমা)
فَإِذَا (ফাইযা → অতঃপর যখন)
جَاءَ (জা-আ → এসে যায়)
أَجَلُهُمۡ (আজালুহুম → তাদের নির্ধারিত সময়)
لَا (লা → না)
يَسۡتَأۡخِرُونَ (ইয়াসতা’খিরূন → বিলম্ব করতে পারে)
سَاعَةً (সা‘আতান → এক মুহূর্ত)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَسۡتَقۡدِمُونَ (ইয়াসতাকদিমূন → এগিয়ে আনতে পারে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। অতঃপর যখন তাদের সেই নির্ধারিত সময় আসবে, তখন তারা এক মুহূর্তও তা বিলম্ব করতে পারবে না এবং এক মুহূর্ত এগিয়েও আনতে পারবে না।


আয়াত-৩৫ঃ

يَٰبَنِي (ইয়া-বানী → হে সন্তানগণ)
آدَمَ (আদামা → আদম)
إِمَّا (ইম্মা → যখনই)
يَأۡتِيَنَّكُمۡ (ইয়া’তিইয়ান্নাকুম → অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে)
رُسُلٌ (রুসুলুন → বার্তাবাহকগণ)
مِنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
يَقُصُّونَ (ইয়াকুসসূন → বর্ণনা করবে)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের কাছে)
آيَاتِي (আয়াতী → আমার নিদর্শনসমূহ)
فَمَنِ (ফামানি → অতঃপর যে)
اتَّقَى (ইত্তাকা → খোদাভীরু হলো)
وَأَصۡلَحَ (ওয়া আসলাহা → এবং সংশোধন করল)
فَلَا (ফালা → তবে না)
خَوۡفٌ (খাওফুন → কোনো ভয়)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
هُمۡ (হুম → তারা)
يَحۡزَنُونَ (ইয়াহযানূন → দুঃখিত হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে আদম-সন্তান! যখনই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে রাসূলগণ (বার্তাবাহকগণ) আসবে, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) বর্ণনা করবে, তখন যে আল্লাহভীরু হবে এবং নিজেকে সংশোধন করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।


আয়াত-৩৬ঃ

وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِآيَاتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَاسۡتَكۡبَرُوا (ওয়াসতাকবারূ → অহংকার করেছে)
عَنۡهَا (আনহা → সেগুলোর ব্যাপারে)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
أَصۡحَابُ (আসহাবু → অধিবাসী)
النَّارِ (আন-নারি → আগুন)
هُمۡ (হুম → তারা)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
خَالِدُونَ (খালিদূন → চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং সেগুলোর প্রতি অহংকার প্রদর্শন করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।


আয়াত-৩৭ঃ

فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর কে)
أَظۡلَمُ (আজলামু → বড় অন্যায়কারী)
مِمَّنِ (মিম্মানি → তার চেয়ে, যে)
افۡتَرَى (ইফতারা → মিথ্যা রচনা করেছে)
عَلَى (আলা → সম্পর্কে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
كَذِبًا (কাযিবান → মিথ্যা)
أَوۡ (আও → অথবা)
كَذَّبَ (কাযযাবা → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِآيَاتِهِ (বি-আয়াতিহী → তাঁর নিদর্শনসমূহকে)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
يَنَالُهُمۡ (ইয়ানালুহুম → তাদের কাছে পৌঁছাবে)
نَصِيبُهُمۡ (নাসীবুহুম → তাদের নির্ধারিত অংশ)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡكِتَابِ (আল-কিতাবি → লিখিত সিদ্ধান্ত)
حَتَّىٰ (হাত্তা → অবশেষে)
إِذَا (ইযা → যখন)
جَاءَتۡهُمۡ (জা-আতহুম → তাদের কাছে আসে)
رُسُلُنَا (রুসুলুনা → আমাদের বার্তাবাহকগণ)
يَتَوَفَّوۡنَهُمۡ (ইয়াতাওয়াফ্ফাওনাহুম → তাদের পূর্ণরূপে মৃত্যু ঘটায়)
قَالُوا (কালূ → তারা বলবে)
أَيۡنَ (আইনা → কোথায়)
مَا (মা → যাদের)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَدۡعُونَ (তাদউন → আহ্বান করতে)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُونِ (দূনি → ব্যতীত)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
قَالُوا (কালূ → তারা বলবে)
ضَلُّوا (দাল্লূ → হারিয়ে গেছে)
عَنَّا (আন্না → আমাদের থেকে)
وَشَهِدُوا (ওয়া শাহিদূ → এবং তারা সাক্ষ্য দেবে)
عَلَىٰ (আলা → বিরুদ্ধে)
أَنفُسِهِمۡ (আনফুসিহিম → নিজেদের)
أَنَّهُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
كَانُوا (কানূ → ছিল)
كَافِرِينَ (কাফিরীন → অবিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর তার চেয়ে বড় অন্যায়কারী আর কে, যে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর আয়তসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করে? তারাই তাদের জন্য কিতাবের নির্ধারিত অংশ লাভ করবে। অবশেষে যখন আমাদের রাসূলগণ (বার্তাবাহকগণ) তাদের মৃত্যু ঘটাতে আসবে, তখন তারা বলবে, “আল্লাহকে ছাড়া যাদের তোমরা আহ্বান করতে, তারা কোথায়?” তারা বলবে, “তারা আমাদের ছেড়ে হারিয়ে গেছে।” আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেবে যে, তারা ছিল অবিশ্বাসী (কাফের)।


আয়াত-৩৮ঃ

قَالَ (ক্বালা → তিনি বলবেন)
ادۡخُلُوا (উদখুলূ → প্রবেশ করো)
فِي (ফী → মধ্যে)
أُمَمٍ (উমামিন → জাতিসমূহের)
قَدۡ (ক্বাদ → ইতোমধ্যে)
خَلَتۡ (খালাত → অতিবাহিত হয়েছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلِكُمۡ (কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡجِنِّ (আল-জিন্নি → অদৃশ্য সত্তাসমূহ/জিন)
وَالۡإِنسِ (ওয়াল-ইনসি → মানুষ)
فِي (ফী → মধ্যে)
النَّارِ (আন-নারি → আগুন)
كُلَّمَا (কুল্লামা → যখনই)
دَخَلَتۡ (দাখালাত → প্রবেশ করবে)
أُمَّةٌ (উম্মাতুন → একটি জাতি)
لَّعَنَتۡ (লা‘আনাত → অভিসম্পাত করবে)
أُخۡتَهَا (উখতাহা → তার সহচর জাতিকে)
حَتَّىٰ (হাত্তা → অবশেষে)
إِذَا (ইযা → যখন)
ادَّارَكُوا (ইদ্দারাকূ → সবাই একত্রিত হবে)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
جَمِيعًا (জামী‘আন → সবাই একসঙ্গে)
قَالَتۡ (ক্বালাত → বলবে)
أُخۡرَىٰهُمۡ (উখরাহুম → তাদের পরবর্তী দল)
لِأُولَىٰهُمۡ (লি-ঊলাহুম → তাদের পূর্ববর্তী দলের সম্পর্কে)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
هَٰؤُلَاءِ (হাউলাই → এরা)
أَضَلُّونَا (আদাল্লূনা → আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে)
فَآتِهِمۡ (ফা-আতিহিম → অতএব তাদের দাও)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
ضِعۡفًا (দি‘ফান → দ্বিগুণ)
مِنَ (মিনা → থেকে)
النَّارِ (আন-নারি → আগুনের)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বলবেন)
لِكُلٍّ (লিকুল্লিন → প্রত্যেকের জন্য)
ضِعۡفٌ (দি‘ফুন → দ্বিগুণ শাস্তি)
وَلَٰكِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لَّا (লা → না)
تَعۡلَمُونَ (তা‘লামূন → তোমরা জানো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বলবেন, “তোমাদের পূর্বে অতিবাহিত হওয়া জিন ও মানুষের বিভিন্ন জাতির সঙ্গে আগুনে প্রবেশ করো।” যখনই একটি জাতি প্রবেশ করবে, তখনই তারা তাদের সহচর জাতিকে অভিসম্পাত করবে। অবশেষে যখন সবাই সেখানে একত্রিত হবে, তখন পরবর্তী দল পূর্ববর্তী দল সম্পর্কে বলবে, “হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল; অতএব তাদের আগুনের শাস্তি দ্বিগুণ করে দাও।” তিনি বলবেন, “প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না।”


আয়াত-৩৯ঃ

وَقَالَتۡ (ওয়া ক্বালাত → এবং বলবে)
أُولَىٰهُمۡ (ঊলাহুম → তাদের পূর্ববর্তী দল)
لِأُخۡرَىٰهُمۡ (লি-উখরাহুম → তাদের পরবর্তী দলকে)
فَمَا (ফামা → অতএব কোনোই না)
كَانَ (কানা → ছিল)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَلَيۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
مِن (মিন → কোনো)
فَضۡلٍ (ফাদলিন → অতিরিক্ত মর্যাদা)
فَذُوقُوا (ফাযূকূ → অতএব স্বাদ গ্রহণ করো)
الۡعَذَابَ (আল-আযাবা → শাস্তি)
بِمَا (বিমা → কারণ যা)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা করতে)
تَكۡسِبُونَ (তাকসিবূন → অর্জন করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের পূর্ববর্তী দল পরবর্তী দলকে বলবে, “তোমাদের আমাদের ওপর কোনো অতিরিক্ত মর্যাদা ছিল না। সুতরাং তোমরা যে কর্ম অর্জন করতে, তারই ফলস্বরূপ এই শাস্তি ভোগ করো।”


আয়াত-৪০ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِآيَاتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَاسۡتَكۡبَرُوا (ওয়াসতাকবারূ → অহংকার করেছে)
عَنۡهَا (আনহা → সেগুলোর প্রতি)
لَا (লা → না)
تُفَتَّحُ (তুফাত্তাহু → খুলে দেওয়া হবে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
أَبۡوَابُ (আবওয়াবু → দরজাসমূহ)
السَّمَاءِ (আস-সামা-ই → আকাশের)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَدۡخُلُونَ (ইয়াদখুলূন → তারা প্রবেশ করবে)
الۡجَنَّةَ (আল-জান্নাতা → উদ্যান / জান্নাত)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَلِجَ (ইয়ালিজা → প্রবেশ করে)
الۡجَمَلُ (আল-জামালু → উট)
فِي (ফী → মধ্যে)
سَمِّ (সাম্মি → ছিদ্র)
الۡخِيَاطِ (আল-খিয়াতি → সূঁচের)
وَكَذَٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
نَجۡزِي (নাজযী → আমরা প্রতিফল দিই)
الۡمُجۡرِمِينَ (আল-মুজরিমীন → অপরাধীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয় যারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং সেগুলোর প্রতি অহংকার করেছে, তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমরা অপরাধীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।


আয়াত-৪১ঃ

لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مِنۡ (মিন → থেকে)
جَهَنَّمَ (জাহান্নামা → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
مِهَادٌ (মিহাদুন → বিছানা)
وَّمِنۡ (ওয়া মিন → এবং থেকে)
فَوۡقِهِمۡ (ফাওকিহিম → তাদের উপরে)
غَوَاشٍ (গাওয়াশিন → আচ্ছাদন)
وَكَذَٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
نَجۡزِي (নাজযী → আমরা প্রতিফল দিই)
الظَّالِمِينَ (আয-যালিমীন → যালিমদের / অন্যায়কারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের জন্য ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান হবে বিছানা এবং তাদের উপর থাকবে আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমরা অত্যাচারীদের (যালিমদের) প্রতিফল দিয়ে থাকি।


আয়াত-৪২ঃ

وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَعَمِلُوا (ওয়া ‘আমিলূ → এবং কাজ করেছে)
الصَّالِحَاتِ (আস-সালিহাতি → সৎকর্মসমূহ)
لَا (লা → না)
نُكَلِّفُ (নুকাল্লিফু → আমরা বোঝা চাপাই)
نَفۡسًا (নাফসান → কোনো ব্যক্তিকে)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
وُسۡعَهَا (উস‘আহা → তার সামর্থ্য)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
أَصۡحَابُ (আসহাবু → অধিবাসী)
الۡجَنَّةِ (আল-জান্নাতি → জান্নাত / উদ্যান)
هُمۡ (হুম → তারা)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
خَالِدُونَ (খালিদূন → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকর্ম করেছে—আমরা কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।


আয়াত-৪৩ঃ

وَنَزَعۡنَا (ওয়া নাযা‘না → এবং আমরা অপসারণ করব)
مَا (মা → যা)
فِي (ফী → মধ্যে)
صُدُورِهِمۡ (সুদূরিহিম → তাদের অন্তরসমূহে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
غِلٍّ (গিল্লিন → হিংসা)
تَجۡرِي (তাজরী → প্রবাহিত হবে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تَحۡتِهِمُ (তাহতিহিম → তাদের নিচে)
الۡأَنۡهَارُ (আল-আনহারু → নদীসমূহ)
وَقَالُوا (ওয়া ক্বালূ → এবং তারা বলবে)
الۡحَمۡدُ (আল-হামদু → সকল প্রশংসা)
لِلَّهِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
هَدَانَا (হাদানা → আমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন)
لِهَٰذَا (লিহাযা → এ পর্যন্ত)
وَمَا (ওয়া মা → এবং আমরা কখনো না)
كُنَّا (কুন্না → ছিলাম)
لِنَهۡتَدِيَ (লিনাহতাদিয়া → সঠিক পথ পেতাম)
لَوۡلَا (লাওলা → যদি না)
أَنۡ (আন → যে)
هَدَانَا (হাদানা → পথ দেখিয়েছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
جَآءَتۡ (জাআত → এসেছে)
رُسُلُ (রুসুলু → বার্তাবাহকগণ)
رَبِّنَا (রাব্বিনা → আমাদের প্রতিপালকের)
بِالۡحَقِّ (বিল-হাক্কি → সত্যসহ)
وَنُودُوا (ওয়া নূদূ → এবং তাদের ডেকে বলা হবে)
أَنۡ (আন → যে)
تِلۡكُمُ (তিলকুমু → এটাই সেই)
الۡجَنَّةُ (আল-জান্নাতু → জান্নাত / উদ্যান)
أُورِثۡتُمُوهَا (ঊরিছতুমূহা → তোমাদের উত্তরাধিকার হিসেবে দেওয়া হয়েছে)
بِمَا (বিমা → কারণ যা)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা করতে)
تَعۡمَلُونَ (তা‘মালূন → আমল / কাজ করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা তাদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ ও হিংসা দূর করে দেব। তাদের নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা বলবে, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এ পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনোই সঠিক পথ পেতাম না। অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ (বার্তাবাহকগণ) সত্য নিয়ে এসেছিলেন।” আর তাদের ডেকে বলা হবে, “এটাই সেই বাগান/জান্নাত, যা তোমাদের কর্মের ফলে তোমাদের উত্তরাধিকার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।”


আয়াত-৪৪ঃ

وَنَادَىٰ (ওয়া নাদা → এবং ডাকবে)
أَصۡحَابُ (আসহাবু → অধিবাসীরা)
الۡجَنَّةِ (আল-জান্নাতি → জান্নাতের/বাগানের)
أَصۡحَابَ (আসহাবা → অধিবাসীদের)
النَّارِ (আন-নারি → আগুন)
أَنۡ (আন → যে)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
وَجَدۡنَا (ওয়াজাদনা → আমরা পেয়েছি)
مَا (মা → যা)
وَعَدَنَا (ওয়া‘আদানা → আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন)
رَبُّنَا (রাব্বুনা → আমাদের প্রতিপালক)
حَقًّا (হাক্কান → সত্য)
فَهَلۡ (ফাহাল → তবে কি)
وَجَدۡتُّمۡ (ওয়াজাদতুম → তোমরা পেয়েছ)
مَّا (মা → যা)
وَعَدَ (ওয়া‘আদা → প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
حَقًّا (হাক্কান → সত্য)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলবে)
نَعَمۡ (না‘আম → হ্যাঁ)
فَأَذَّنَ (ফা-আযযানা → তখন ঘোষণা করবে)
مُؤَذِّنٌ (মুআযযিনুন → একজন ঘোষণাকারী)
بَيۡنَهُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
أَنۡ (আন → যে)
لَّعۡنَةُ (লা‘নাতু → অভিশাপ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَى (আলা → ওপর)
الظَّالِمِينَ (আয-যালিমীন → অন্যায়কারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর উদ্যাণের/জান্নাতের অধিবাসীরা আগুনের অধিবাসীদের ডেকে বলবে, “আমাদের প্রতিপালক আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা সত্য বলে পেয়েছি। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তোমরাও কি তা সত্য বলে পেয়েছ?” তারা বলবে, “হ্যাঁ।” তখন তাদের মধ্যে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, “আল্লাহর অভিশাপ অন্যায়কারীদের (যালিমদের) উপর।”


আয়াত-৪৫ঃ

الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَصُدُّونَ (ইয়াসুদ্দূন → বাধা দেয়)
عَنۡ (আন → থেকে)
سَبِيلِ (সাবীলি → পথ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَيَبۡغُونَهَا (ওয়া ইয়াবগূনাহা → এবং তারা সেটিকে কামনা করে)
عِوَجًا (ইওয়াজান → বক্র)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
بِالۡآخِرَةِ (বিল-আখিরাতি → পরকালকে)
كَافِرُونَ (কাফিরূন → অবিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়, আর তারা পরকালের প্রতি অবিশ্বাসী (কাফের)।


আয়াত-৪৬ঃ

وَبَيۡنَهُمَا (ওয়া বাইনাহুমা → এবং উভয়ের মধ্যে)
حِجَابٌ (হিজাবুন → পর্দা)
وَعَلَى (ওয়া আলা → এবং উপর)
الۡأَعۡرَافِ (আল-আ‘রাফি → উঁচু প্রাচীর / উচ্চস্থান)
رِجَالٌ (রিজালুন → কিছু ব্যক্তি)
يَعۡرِفُونَ (ইয়া‘রিফূন → তারা চিনবে)
كُلًّۢا (কুল্লান → প্রত্যেককে)
بِسِيمَاهُمۡ (বিসীমাহুম → তাদের চিহ্ন দ্বারা)
وَنَادَوۡا (ওয়া নাদাও → এবং তারা ডাকবে)
أَصۡحَابَ (আসহাবা → অধিবাসীদের)
الۡجَنَّةِ (আল-জান্নাতি → জান্নাতের)
أَنۡ (আন → এই বলে)
سَلَامٌ (সালামুন → শান্তি)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
لَمۡ (লাম → এখনো না)
يَدۡخُلُوهَا (ইয়াদখুলূহা → তারা সেখানে প্রবেশ করেছে)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
يَطۡمَعُونَ (ইয়াতমা‘ঊন → আশা করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের উভয়ের মধ্যে একটি পর্দা থাকবে এবং উঁচু প্রাচীরের উপর কিছু ব্যক্তি থাকবে, যারা প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে। তারা জান্নাতের অধিবাসীদের ডেকে বলবে, “সালামুন আলাইকুম (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।” তারা তখনো জান্নাতে প্রবেশ করেনি, তবে তারা আশা পোষণ করবে।


আয়াত-৪৭ঃ

وَإِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
صُرِفَتۡ (সুরিফাত → ফিরিয়ে দেওয়া হবে)
أَبۡصَارُهُمۡ (আবসারুহুম → তাদের দৃষ্টিসমূহ)
تِلۡقَآءَ (তিলকাআ → অভিমুখে)
أَصۡحَابِ (আসহাবি → অধিবাসীদের)
النَّارِ (আন-নারি → আগুনের)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলবে)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
لَا (লা → না)
تَجۡعَلۡنَا (তাজ‘আলনা → আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সম্প্রদায়ের)
الظَّالِمِينَ (আয-যালিমীন → অন্যায়কারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন তাদের দৃষ্টি আগুনের অধিবাসীদের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তখন তারা বলবে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের যালিমদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করবেন না।”


আয়াত-৪৮ঃ

وَنَادَىٰ (ওয়া নাদা → এবং ডাকবে)
أَصۡحَابُ (আসহাবু → অধিবাসীরা)
الۡأَعۡرَافِ (আল-আ‘রাফি → উঁচু প্রাচীরের / উচ্চস্থানের)
رِجَالًا (রিজালান → কিছু ব্যক্তিকে)
يَعۡرِفُونَهُمۡ (ইয়া‘রিফূনাহুম → তারা তাদের চিনবে)
بِسِيمَاهُمۡ (বিসীমাহুম → তাদের চিহ্ন দ্বারা)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলবে)
مَا (মা → কোনো কিছুই না)
أَغۡنَىٰ (আগনা → উপকার করেছে)
عَنكُمۡ (আনকুম → তোমাদের)
جَمۡعُكُمۡ (জাম‘উকুম → তোমাদের সমাবেশ)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা করতে)
تَسۡتَكۡبِرُونَ (তাস্তাকবিরূন → অহংকার করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর উচু স্থানের (আ‘রাফের) অধিবাসীরা এমন কিছু ব্যক্তিকে ডাকবে, যাদেরকে তারা তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে। তারা বলবে, “তোমাদের দলবল এবং যে অহংকার তোমরা করতে, তা আজ তোমাদের কোনো কাজে আসেনি।”


আয়াত-৪৯ঃ

أَهَٰؤُلَاءِ (আহাউলাই → এরা কি)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
أَقۡسَمۡتُمۡ (আকসামতুম → তোমরা শপথ করেছিলে)
لَا (লা → না)
يَنَالُهُمُ (ইয়ানালুহুম → পৌঁছাবে)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِرَحۡمَةٍ (বিরাহমাতিন → কোনো অনুগ্রহ / দয়া)
ادۡخُلُوا (উদখুলূ → প্রবেশ করো)
الۡجَنَّةَ (আল-জান্নাতা → জান্নাতে / উদ্যানে)
لَا (লা → নেই)
خَوۡفٌ (খাওফুন → কোনো ভয়)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
أَنتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
تَحۡزَنُونَ (তাহযানূন → দুঃখ করবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

“এরা কি সেই লোক, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো দয়া করবেন না?” তখন তাদের বলা হবে, “তোমরা বাগানে/জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না।”


আয়াত-৫০ঃ

وَنَادَىٰ (ওয়া নাদা → এবং ডাকবে)
أَصۡحَابُ (আসহাবু → অধিবাসীরা)
النَّارِ (আন-নারি → আগুনের)
أَصۡحَابَ (আসহাবা → অধিবাসীদের)
الۡجَنَّةِ (আল-জান্নাতি → জান্নাতের)
أَنۡ (আন → এই বলে)
أَفِيضُوا (আফীদূ → প্রবাহিত করো)
عَلَيۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡمَآءِ (আল-মাঈ → পানি)
أَوۡ (আও → অথবা)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
رَزَقَكُمُ (রাযাকাকুম → তোমাদের রিজিক দিয়েছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলবে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
حَرَّمَهُمَا (হাররামাহুমা → উভয়টিই নিষিদ্ধ করেছেন)
عَلَى (আলা → ওপর)
الۡكَافِرِينَ (আল-কাফিরীন → অবিশ্বাসীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আগুনের অধিবাসীরা জান্নাতের অধিবাসীদের ডেকে বলবে, “আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ তোমাদের যে জীবিকা দিয়েছেন, তা থেকে কিছু দাও।” তারা বলবে, “নিশ্চয় আল্লাহ এ দুটিই অবিশ্বাসীদের (কাফেরদের) জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।”