সূরা আল আ’রাফ (الأعراف) | উচু স্থানসমূহ
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ২০৬

رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-৫১ঃ

الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّخَذُوا (ইত্তাখাযূ → গ্রহণ করেছিল)
دِينَهُمۡ (দীনাহুম → তাদের জীবনব্যবস্থা)
لَهۡوًا (লাহওয়ান → অনর্থক বিনোদন)
وَلَعِبًا (ওয়া লা‘ইবান → এবং খেল-তামাশা)
وَغَرَّتۡهُمُ (ওয়া গাররাতহুম → এবং প্রতারিত করেছিল তাদের)
الۡحَيَاةُ (আল-হায়াতু → জীবন)
الدُّنۡيَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব)
فَالۡيَوۡمَ (ফাল-ইয়াওমা → অতএব আজ)
نَنسَاهُمۡ (নানসাহুম → আমরা তাদের উপেক্ষা করব)
كَمَا (কামা → যেমন)
نَسُوا (নাসূ → তারা ভুলে গিয়েছিল)
لِقَآءَ (লিকাআ → সাক্ষাৎ)
يَوۡمِهِمۡ (ইয়াওমিহিম → তাদের সেই দিনের)
هَٰذَا (হাযা → এই)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
بِـَٔايَاتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
يَجۡحَدُونَ (ইয়াজহাদূন → প্রত্যাখ্যান করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা তাদের জীবনব্যবস্থাকে (দীনকে) অনর্থক বিনোদন ও খেল-তামাশায় পরিণত করেছিল এবং পার্থিব জীবন যাদের প্রতারিত করেছিল—আজ আমরা তাদের উপেক্ষা করব, যেমন তারা এই দিনের সাক্ষাৎকে উপেক্ষা করেছিল এবং আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) উপেক্ষা করেছিল।


আয়াত-৫২ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → এবং অবশ্যই)
جِئۡنَاهُمۡ (জি’নাহুম → আমরা তাদের কাছে এনেছি)
بِكِتَابٍ (বিকিতাবিন → এক কিতাব)
فَصَّلۡنَاهُ (ফাসসালনাহু → আমরা তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি)
عَلَىٰ (আলা → ভিত্তিতে)
عِلۡمٍ (ইলমিন → জ্ঞান)
هُدًى (হুদান → সঠিক পথনির্দেশ)
وَرَحۡمَةً (ওয়া রাহমাতান → এবং অনুগ্রহ)
لِّقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → দৃঢ় বিশ্বাস করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবশ্যই আমরা তাদের কাছে এমন এক কিতাব এনেছি, যা আমরা জ্ঞানের ভিত্তিতে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি। এটি দৃঢ় বিশ্বাসীদের জন্য সঠিক পথনির্দেশ (হুদা) ও অনুগ্রহ।


আয়াত-৫৩ঃ

هَلۡ (হাল → কি)
يَنۡظُرُونَ (ইয়ানযুরূন → তারা অপেক্ষা করছে)
إِلَّا (ইল্লা → শুধু)
تَأۡوِيلَهُۥ (তা’বীলাহু → এর পরিণতি)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → যেদিন)
يَأۡتِي (ইয়া’তী → এসে যাবে)
تَأۡوِيلُهُۥ (তা’বীলুহু → এর পরিণতি)
يَقُولُ (ইয়াকূলু → বলবে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
نَسُوهُ (নাসূহু → এটিকে ভুলে গিয়েছিল)
مِن (মিন → এর আগে)
قَبۡلُ (কাবলু → পূর্বে)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
جَآءَتۡ (জাআত → এসেছিল)
رُسُلُ (রুসুলু → বার্তাবাহকগণ)
رَبِّنَا (রাব্বিনা → আমাদের প্রতিপালকের)
بِالۡحَقِّ (বিল-হাক্কি → সত্যসহ)
فَهَلۡ (ফাহাল → তবে কি)
لَّنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مِن (মিন → কোনো)
شُفَعَآءَ (শুফা’আআ → সুপারিশকারী)
فَيَشۡفَعُوا (ফাইয়াশফা’ঊ → যারা সুপারিশ করবে)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
أَوۡ (আও → অথবা)
نُرَدُّ (নুরাদ্দু → আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে)
فَنَعۡمَلَ (ফানা’মালা → যাতে আমরা কাজ করতে পারি)
غَيۡرَ (গাইরা → ভিন্ন)
الَّذِي (আল্লাযী → যা)
كُنَّا (কুন্না → আমরা করতাম)
نَعۡمَلُ (না’মালু → কাজ করি)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
خَسِرُوا (খাসিরূ → তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে)
أَنفُسَهُمۡ (আনফুসাহুম → নিজেদের)
وَضَلَّ (ওয়া দাল্লা → এবং হারিয়ে গেছে)
عَنۡهُم (আনহুম → তাদের থেকে)
مَّا (মা → যা)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
يَفۡتَرُونَ (ইয়াফতারূন → মিথ্যা রচনা করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কি শুধু এর পরিণতিরই অপেক্ষা করছে? যেদিন শেষ পরিণাম এসে যাবে, সেদিন যারা, পূর্বে এটিকে উপেক্ষা করেছিল তারা বলবে, “অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ (বার্তাবাহকগণ) সত্য নিয়ে এসেছিলেন। এখন কি আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদের কি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে আমরা আগের কাজের পরিবর্তে ভিন্ন কাজ করতে পারি?” তারা অবশ্যই নিজেদের ক্ষতি করেছে, আর তারা যা মিথ্যা রচনা করত, তা তাদের থেকে হারিয়ে যাবে।


আয়াত-৫৪ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
رَبَّكُمُ (রাব্বাকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
خَلَقَ (খালাকা → সৃষ্টি করেছেন)
السَّمَاوَاتِ (আস-সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডলী)
وَالۡأَرۡضَ (ওয়াল আরদা → এবং পৃথিবী)
فِي (ফী → মধ্যে)
سِتَّةِ (সিত্তাতি → ছয়)
أَيَّامٍ (আইইয়ামিন → পর্যায়)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اسۡتَوَىٰ (ইস্তাওয়া → কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন)
عَلَى (আলা → ওপর)
الۡعَرۡشِ (আল-আরশি → কর্তৃত্বের আসন)
يُغۡشِي (ইউগশী → আচ্ছাদিত করেন)
اللَّيۡلَ (আল-লাইলা → রাতকে)
النَّهَارَ (আন-নাহারা → দিনের ওপর)
يَطۡلُبُهُۥ (ইয়াতলুবুহু → যা দ্রুত অনুসরণ করে)
حَثِيثًا (হাছীছান → দ্রুতগতিতে)
وَالشَّمۡسَ (ওয়াশ-শামসা → এবং সূর্যকে)
وَالۡقَمَرَ (ওয়াল কামারা → এবং চন্দ্রকে)
وَالنُّجُومَ (ওয়ান-নুজূমা → এবং নক্ষত্রসমূহকে)
مُسَخَّرَاتٍ (মুসাখখারাতিন → নিয়ন্ত্রিত)
بِأَمۡرِهِۦ (বি-আমরিহী → তাঁর নির্দেশে)
أَلَا (আলা → জেনে রাখো)
لَهُ (লাহু → তাঁরই)
الۡخَلۡقُ (আল-খালকু → সৃষ্টি)
وَالۡأَمۡرُ (ওয়াল-আমরু → নির্দেশ)
تَبَارَكَ (তাবারাকা → মহিমাময়)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
رَبُّ (রাব্বু → প্রতিপালক)
الۡعَالَمِينَ (আল-আলামীন → সকল জগতের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয়টি সময়ের পর্যায়ে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি কর্তৃত্বের আসনে (আরশে) প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি রাত দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন, যা দ্রুত তাকে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রসমূহ তাঁর নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত। জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশের একচ্ছত্র অধিকার তাঁরই। মহিমাময় আল্লাহ, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।


আয়াত-৫৫ঃ

اُدۡعُوا (উদ‘ঊ → ডাকো)
رَبَّكُمۡ (রাব্বাকুম → তোমাদের প্রতিপালককে)
تَضَرُّعًا (তাদাররু‘আন → বিনয়ের সঙ্গে)
وَّخُفۡيَةً (ওয়া খুফইয়াতান → এবং নীরবে)
إِنَّهُۥ (ইন্নাহু → নিশ্চয় তিনি)
لَا (লা → না)
يُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُعۡتَدِينَ (আল-মু‘তাদীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনয়ের সঙ্গে ও নীরবে ডাকো। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।


আয়াত-৫৬ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُفۡسِدُوا (তুফসিদূ → তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡأَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবীতে)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
إِصۡلَاحِهَا (ইসলাহিহা → এর সংশোধন)
وَادۡعُوهُ (ওয়াদ‘ঊহু → এবং তাঁকে আহ্বান করো)
خَوۡفًا (খাওফান → ভয়ের সঙ্গে)
وَّطَمَعًا (ওয়া তামা‘আন → এবং আশার সঙ্গে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
رَحۡمَتَ (রাহমাতা → অনুগ্রহ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
قَرِيبٌ (কারীবুন → নিকটবর্তী)
مِّنَ (মিনা → তাদের জন্য)
الۡمُحۡسِنِينَ (আল-মুহসিনীন → সৎকর্মশীলদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর পৃথিবীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। তাঁকে ভয়ের সঙ্গে এবং আশার সঙ্গে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের খুবই নিকটবর্তী।


আয়াত-৫৭ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং তিনিই)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
يُرۡسِلُ (ইউরসিলু → প্রেরণ করেন)
الرِّيَاحَ (আর-রিয়াহা → বায়ুসমূহ)
بُشۡرًۢا (বুশরান → সুসংবাদবাহী)
بَيۡنَ (বাইনা → অগ্রে)
يَدَيۡ (ইয়াদাই → দুই হাত; অর্থাৎ অগ্রভাগে)
رَحۡمَتِهِۦ (রাহমাতিহী → তাঁর অনুগ্রহের)
حَتَّىٰ (হাত্তা → অবশেষে যখন)
إِذَا (ইযা → যখন)
أَقَلَّتۡ (আকাল্লাত → বহন করে)
سَحَابًا (সাহাবান → মেঘ)
ثِقَالًا (ছিকালান → ভারী)
سُقۡنَاهُ (সুকনাহু → আমরা তা চালিয়ে নিয়ে যাই)
لِبَلَدٍ (লিবালাদিন → এক ভূখণ্ডের দিকে)
مَّيِّتٍ (মাইয়িতিন → অনুর্বর)
فَأَنزَلۡنَا (ফাআনযালনা → অতঃপর আমরা বর্ষণ করি)
بِهِ (বিহী → তা দ্বারা)
الۡمَآءَ (আল-মাআ → পানি)
فَأَخۡرَجۡنَا (ফাআখরাজনা → তারপর আমরা উৎপন্ন করি)
بِهِۦ (বিহী → তা দ্বারা)
مِن (মিন → থেকে)
كُلِّ (কুল্লি → সব ধরনের)
الثَّمَرَاتِ (আস-সামারাতি → ফল-ফসল)
كَذَٰلِكَ (কাযালিকা → এভাবেই)
نُخۡرِجُ (নুখরিজু → আমরা পুনরুজ্জীবিত করব)
الۡمَوۡتَىٰ (আল-মাওতা → মৃতদের)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَذَكَّرُونَ (তাযাক্কারূন → উপদেশ গ্রহণ কর / স্মরণ কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন সেই বায়ু ভারী মেঘ বহন করে, তখন আমরা তা মৃত (অনুর্বর) ভূখণ্ডের দিকে পরিচালিত করি। এরপর তা থেকে পানি বর্ষণ করি এবং সেই পানি দ্বারা সব ধরনের ফল-ফসল উৎপন্ন করি। এভাবেই আমরা মৃতদেরও পুনরুজ্জীবিত করব, যাতে তোমরা স্মরণকারী (যিকিরকারী) হও।


আয়াত-৫৮ঃ

وَالۡبَلَدُ (ওয়াল-বালাদু → আর জনপদ / ভূমি)
الطَّيِّبُ (আত-তাইয়িবু → উৎকৃষ্ট / উর্বর)
يَخۡرُجُ (ইয়াখরুজু → উৎপন্ন হয়)
نَبَاتُهُۥ (নাবাতুহু → তার উদ্ভিদ)
بِإِذۡنِ (বি-ইযনি → অনুমতিতে)
رَبِّهِۦ (রাব্বিহী → তার প্রতিপালকের)
وَالَّذِي (ওয়াল্লাযী → আর যা)
خَبُثَ (খাবুছা → নিকৃষ্ট / অনুর্বর হয়েছে)
لَا (লা → না)
يَخۡرُجُ (ইয়াখরুজু → উৎপন্ন হয়)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
نَكِدًا (নাকিদান → অনুৎপাদনশীলভাবে)
كَذَٰلِكَ (কাযালিকা → এভাবেই)
نُصَرِّفُ (নুসাররিফু → আমরা নানাভাবে বর্ণনা করি)
الۡآيَاتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য)
يَشۡكُرُونَ (ইয়াশকুরূন → যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর উৎকৃষ্ট ভূমিতে তার প্রতিপালকের অনুমতিতে উদ্ভিদ জন্মে। কিন্তু যে ভূমি নিকৃষ্ট, সেখানে অল্প ও অনুৎপাদনশীল ফসল ছাড়া কিছুই জন্মে না। এভাবেই আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী (শুকরিয়া আদায়কারী) সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ নানাভাবে উপস্থাপন করি।


আয়াত-৫৯ঃ

لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
أَرۡسَلۡنَا (আরসালনা → আমরা প্রেরণ করেছি)
نُوحًا (নূহান → নূহকে)
إِلَىٰ (ইলা → প্রতি)
قَوۡمِهِۦ (কাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়ের)
فَقَالَ (ফাকালা → অতঃপর তিনি বললেন)
يَٰقَوۡمِ (ইয়া-কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়)
اعۡبُدُوا (ই‘বুদূ → দাসত্ব করো)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
مَا (মা → নেই)
لَكُم (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
إِلَٰهٍ (ইলাহিন → কর্তৃত্বের অধিকারী)
غَيۡرُهُۥ (গাইরুহু → তিনি ছাড়া)
إِنِّي (ইন্নী → নিশ্চয় আমি)
أَخَافُ (আখাফু → আশঙ্কা করি)
عَلَيۡكُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের জন্য)
عَذَابَ (‘আযাবা → শাস্তি)
يَوۡمٍ (ইয়াওমিন → এক দিনের)
عَظِيمٍ (‘আজীমিন → মহা / ভয়াবহ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অবশ্যই আমরা নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি বললেন, “হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর দাসত্ব করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো বিধানদাতা নেই। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক ভয়াবহ দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি।”


আয়াত-৬০ঃ

قَالَ (কা-লা → বলল)
الۡمَلَأُ (আল-মালাউ → নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা)
مِنۡ (মিন → থেকে)
قَوۡمِهِۦ (কাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়ের)
إِنَّا (ইন্না → নিশ্চয় আমরা)
لَنَرَىٰكَ (লানারাকা → অবশ্যই তোমাকে দেখি)
فِي (ফী → মধ্যে)
ضَلَٰلٍ (দালালিন → পথভ্রষ্টতা)
مُّبِينٍ (মুবীনিন → সুস্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাঁর সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বলল, “নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।”


আয়াত-৬১ঃ

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
يَٰقَوۡمِ (ইয়া-কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়)
لَيۡسَ (লাইসা → নেই)
بِي (বী → আমার মধ্যে)
ضَلَٰلَةٌ (দালালাতুন → পথভ্রষ্টতা)
وَلَٰكِنِّي (ওয়া লাকিন্নী → বরং আমি)
رَسُولٌ (রাসূলুন → বার্তাবাহক)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّ (রাব্বি → প্রতিপালকের)
الۡعَالَمِينَ (আল-আলামীন → সকল জগত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বললেন, “হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো পথভ্রষ্টতা নেই। বরং আমি সকল জগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন বার্তাবাহক।”


আয়াত-৬২ঃ

أُبَلِّغُكُمۡ (উবাল্লিগুকুম → আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিই)
رِسَٰلَاتِ (রিসালাতি → বার্তাসমূহ)
رَبِّي (রাব্বী → আমার প্রতিপালকের)
وَأَنصَحُ (ওয়া আনসাহু → এবং আমি কল্যাণকামিতা করি)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَأَعۡلَمُ (ওয়া আ‘লামু → এবং আমি জানি)
مِنَ (মিনা → পক্ষ থেকে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
مَا (মা → যা)
لَا (লা → না)
تَعۡلَمُونَ (তা‘লামূন → তোমরা জানো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বার্তাসমূহ (রিসালত) পৌঁছে দিই, তোমাদের কল্যাণ কামনা করে উপদেশ দেই এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জানো না।


আয়াত-৬৩ঃ

أَوَعَجِبۡتُمۡ (আওয়া‘আজিবতুম → তোমরা কি বিস্মিত হয়েছ?)
أَنۡ (আন → যে)
جَآءَكُمۡ (জাআকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
ذِكۡرٌ (যিকরুন → স্মারক বাণী)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
عَلَىٰ (‘আলা → মাধ্যমে)
رَجُلٖ (রাজুলিন → একজন মানুষের)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
لِيُنذِرَكُمۡ (লিইউনযিরাকুম → যাতে তিনি তোমাদের সতর্ক করেন)
وَلِتَتَّقُوا (ওয়া লিতাত্তাকূ → এবং যাতে তোমরা খোদাভীরু হও)
وَلَعَلَّكُمۡ (ওয়া লা‘আল্লাকুম → এবং যাতে তোমরা)
تُرۡحَمُونَ (তুরহামূন → দয়া লাভ কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা কি এতে বিস্মিত হয়েছ যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদেরই মধ্যকার একজন মানুষের মাধ্যমে তোমাদের কাছে স্মরণিকা (যিকির) এসেছে—যাতে তিনি তোমাদের সতর্ক করেন, তোমরা আল্লাহভীরু হও এবং তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হতে পারো?


আয়াত-৬৪ঃ

فَكَذَّبُوهُ (ফাকাযযাবূহু → অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল)
فَأَنجَيۡنَاهُ (ফাআনজাইনাহু → তারপর আমরা তাঁকে রক্ষা করলাম)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
مَعَهُۥ (মা‘আহু → তাঁর সঙ্গে ছিল)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡفُلۡكِ (আল-ফুলকি → নৌযানে)
وَأَغۡرَقۡنَا (ওয়া আগরাকনা → এবং আমরা ডুবিয়ে দিলাম)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদেরকে যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যাবাদী বলেছিল)
بِـَٔايَٰتِنَا (বিআয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
إِنَّهُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
كَانُوا (কানূ → ছিল)
قَوۡمًا (কাওমান → এক সম্প্রদায়)
عَمِينَ (‘আমীন → অন্ধ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল। তখন আমরা তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে নৌযানে থাকা লোকদের রক্ষা করলাম। আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা বলেছিল, তাদের আমরা ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয়ই তারা ছিল অন্ধ এক সম্প্রদায়।


আয়াত-৬৫ঃ

وَإِلَىٰ (ওয়া ইলা → এবং প্রতি)
عَادٍ (‘আদিন → ‘আদ জাতির)
أَخَاهُمۡ (আখাহুম → আপনজনকে)
هُودًا (হূদান → হূদকে)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
يَٰقَوۡمِ (ইয়া-কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়)
اعۡبُدُوا (ই‘বুদূ → দাসত্ব করো)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
مَا (মা → নেই)
لَكُم (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
إِلَٰهٍ (ইলাহিন → উপাস্য / বিধানদাতা)
غَيۡرُهُۥ (গাইরুহু → তিনি ছাড়া)
أَفَلَا (আফালা → তবে কি না?)
تَتَّقُونَ (তাত্তাকূন → তোমরা খোদাভীরু হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর ‘আদ জাতির কাছে তাদেরই ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বললেন, “হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর দাসত্ব করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো বিধানদাতা নেই। তবে কি তোমরা আল্লাহভীরু হবে না?”


আয়াত-৬৬ঃ

قَالَ (কা-লা → বলল)
الۡمَلَأُ (আল-মালাউ → প্রভাবশালীরা)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছিল)
مِن (মিন → থেকে)
قَوۡمِهِۦ (কাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়ের)
إِنَّا (ইন্না → নিশ্চয় আমরা)
لَنَرَىٰكَ (লানারাকা → অবশ্যই তোমাকে দেখি)
فِي (ফী → মধ্যে)
سَفَاهَةٖ (সাফাহাতিন → নির্বুদ্ধিতা)
وَإِنَّا (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয় আমরা)
لَنَظُنُّكَ (লানাযুন্নুকা → অবশ্যই তোমাকে মনে করি)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡكَاذِبِينَ (আল-কাযিবীন → মিথ্যাবাদীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাঁর সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বলল, “নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি এবং অবশ্যই আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন মনে করি।”


আয়াত-৬৭ঃ

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
يَٰقَوۡمِ (ইয়া-কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়)
لَيۡسَ (লাইসা → নেই)
بِي (বী → আমার মধ্যে)
سَفَاهَةٌ (সাফাহাতুন → নির্বুদ্ধিতা)
وَلَٰكِنِّي (ওয়া লাকিন্নী → বরং আমি)
رَسُولٌ (রাসূলুন → বার্তাবাহক)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّ (রাব্বি → প্রতিপালকের)
الۡعَالَمِينَ (আল-আলামীন → সকল জগত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বললেন, “হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই। বরং আমি সকল জগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন বার্তাবাহক।”


আয়াত-৬৮ঃ

أُبَلِّغُكُمۡ (উবাল্লিগুকুম → আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিই)
رِسَٰلَاتِ (রিসালাতি → বার্তাসমূহ)
رَبِّي (রাব্বী → আমার প্রতিপালকের)
وَأَنَا (ওয়া আনা → এবং আমি)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
نَاصِحٌ (নাসিহুন → আন্তরিক শুভাকাঙ্ক্ষী)
أَمِينٌ (আমীনুন → বিশ্বস্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বার্তাসমূহ (রিসালত) পৌঁছে দিই, আর আমি তোমাদের জন্য একজন আন্তরিক কল্যাণকামী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি।


আয়াত-৬৯ঃ

أَوَعَجِبۡتُمۡ (আওয়া‘আজিবতুম → তোমরা কি বিস্মিত হয়েছ?)
أَنۡ (আন → যে)
جَآءَكُمۡ (জাআকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
ذِكۡرٌ (যিকরুন → স্মারক বাণী)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
عَلَىٰ (‘আলা → মাধ্যমে)
رَجُلٖ (রাজুলিন → একজন মানুষের)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
لِيُنذِرَكُمۡ (লিইউনযিরাকুম → যাতে তিনি তোমাদের সতর্ক করেন)
وَاذۡكُرُوٓا (ওয়াযকুরূ → এবং স্মরণ করো)
إِذۡ (ইয → যখন)
جَعَلَكُمۡ (জা‘আলাকুম → তিনি তোমাদের বানিয়েছেন)
خُلَفَآءَ (খুলাফাআ → প্রতিনিধিগণ)
مِنۢ (মিম → পরে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পর)
قَوۡمِ (কাওমি → সম্প্রদায়ের)
نُوحٖ (নূহিন → নূহের)
وَزَادَكُمۡ (ওয়া ঝা-দাকুম → এবং তিনি তোমাদের বৃদ্ধি দিয়েছেন)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡخَلۡقِ (আল-খালকি → সৃষ্টি)
بَصۜۡطَةٗ (বাসতাতান → শক্তি ও বিস্তৃতি)
فَاذۡكُرُوٓا (ফাযকুরূ → অতএব স্মরণ করো)
ءَالَآءَ (আলাআ → অনুগ্রহসমূহ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُونَ (তুফলিহূন → সফলকাম হও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা কি এতে বিস্মিত হয়েছ যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদেরই মধ্যকার একজন মানুষের মাধ্যমে তোমাদের কাছে স্মরণিকা (যিকির) এসেছে, যাতে তিনি তোমাদের সতর্ক করেন? আর স্মরণ করো, যখন তিনি নূহের সম্প্রদায়ের পরে তোমাদের প্রতিনিধিগণ (খলিফা) বানিয়েছেন এবং সৃষ্টি-গঠনে তোমাদের অধিক শক্তি ও অগ্রগামিতা দান করেছেন। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।


আয়াত-৭০ঃ

قَالُوا (কা-লূ → তারা বলল)
أَجِئۡتَنَا (আজি’তানা → তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ?)
لِنَعۡبُدَ (লিনা‘বুদা → যাতে আমরা দাসত্ব করি)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
وَحۡدَهُۥ (ওয়াহদাহু → একমাত্র তাঁরই)
وَنَذَرَ (ওয়া নাযারা → এবং আমরা পরিত্যাগ করি)
مَا (মা → যা)
كَانَ (কা-না → ছিল)
يَعۡبُدُ (ইয়া‘বুদু → দাসত্ব করত)
ءَابَآؤُنَا (আবাউনা → আমাদের পূর্বপুরুষরা)
فَأۡتِنَا (ফা’তিনা → তবে আমাদের কাছে নিয়ে এসো)
بِمَا (বিমা → তা, যা)
تَعِدُنَا (তা‘ইদুনা → তুমি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ)
إِن (ইন → যদি)
كُنتَ (কুনতা → তুমি হও)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الصَّادِقِينَ (আস-সাদিকীন → সত্যবাদীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা বলল, “তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ, যাতে আমরা একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা যার দাসত্ব করত তা পরিত্যাগ করি? তাহলে তুমি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো—যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।”


আয়াত-৭১ঃ

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
وَقَعَ (ওয়াকা‘আ → অবধারিত হয়েছে)
عَلَيۡكُم (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
رِجۡسٌ (রিজসুন → শাস্তি)
وَغَضَبٌ (ওয়া গাদাবুন → এবং ক্রোধ)
أَتُجَٰدِلُونَنِي (আতুজাদিলূনানী → তোমরা কি আমার সঙ্গে তর্ক করছ?)
فِي (ফী → সম্পর্কে)
أَسۡمَآءٍ (আসমাআইন → কিছু নাম নিয়ে)
سَمَّيۡتُمُوهَا (সাম্মাইতুমূহা → যেগুলো তোমরা নামকরণ করেছ)
أَنتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
وَءَابَآؤُكُم (ওয়া আবাউকুম → এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা)
مَّا (মা → যা সম্পর্কে)
نَزَّلَ (নাযযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِهَا (বিহা → সেগুলোর পক্ষে)
مِن (মিন → কোনো)
سُلۡطَٰنٖ (সুলতানিন → দলিল)
فَٱنتَظِرُوٓا (ফানতাজিরূ → সুতরাং অপেক্ষা করো)
إِنِّي (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
مَعَكُم (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
مِّنَ (মিনাল → অন্তর্ভুক্ত)
ٱلۡمُنتَظِرِينَ (আল-মুনতাজিরীন → অপেক্ষাকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের উপর শাস্তি ও ক্রোধ অবধারিত হয়েছে। তোমরা কি আমার সঙ্গে এমন কিছু নাম নিয়ে তর্ক করছ, যেগুলোর নাম তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা নিজেরাই রেখেছ অথচ আল্লাহ সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং অপেক্ষা করো; আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।”


আয়াত-৭২ঃ

فَأَنجَيۡنَاهُ (ফাআনজাইনাহু → অতঃপর আমরা তাঁকে রক্ষা করলাম)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
مَعَهُۥ (মা‘আহু → তাঁর সঙ্গে ছিল)
بِرَحۡمَةٖ (বিরাহমাতিন → দয়া মাধ্যমে)
مِّنَّا (মিন্না → আমাদের পক্ষ থেকে)
وَقَطَعۡنَا (ওয়া কাতা‘না → এবং আমরা সম্পূর্ণ নির্মূল করলাম)
دَابِرَ (দাবিরা → মূল শিকড়)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদের যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা বলেছিল)
بِـَٔايَٰتِنَا (বিআয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং তারা ছিল না)
كَانُوا (কানূ → ছিল)
مُؤۡمِنِينَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর আমরা আমাদের পক্ষ থেকে দয়া মাধ্যমে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা লোকদের রক্ষা করলাম। আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) অস্বীকার করেছিল, তাদের শেষ চিহ্ন পর্যন্ত নির্মূল করে দিলাম। তারা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী ছিল না।


আয়াত-৭৩ঃ

وَإِلَىٰ (ওয়া ইলা → এবং প্রতি)
ثَمُودَ (ছামূদা → সামূদ জাতির)
أَخَاهُمۡ (আখাহুম → তাদের ভাই / আপনজনকে)
صَٰلِحًا (সালিহান → সালিহকে)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
يَٰقَوۡمِ (ইয়া-কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়)
اعۡبُدُوا (ই‘বুদূ → দাসত্ব করো)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
مَا (মা → নেই)
لَكُم (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
إِلَٰهٍ (ইলাহিন → বিধানদাতা)
غَيۡرُهُۥ (গাইরুহু → তিনি ছাড়া)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
جَآءَتۡكُم (জাআতকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
بَيِّنَةٞ (বাইয়িনাতুন → সুস্পষ্ট নিদর্শন)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
هَٰذِهِۦ (হাযিহী → এই)
نَاقَةُ (নাকাতু → উটনী)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
ءَايَةٗ (আয়াতান → একটি নিদর্শন)
فَذَرُوهَا (ফাযারূহা → সুতরাং তাকে ছেড়ে দাও)
تَأۡكُلۡ (তা’কুল → সে যেন চরে খায়)
فِيٓ (ফী → মধ্যে)
أَرۡضِ (আরদি → জমিতে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَمَسُّوهَا (তামাস্সূহা → তাকে স্পর্শ করো)
بِسُوٓءٖ (বিসূইন → কোনো মন্দ উদ্দেশ্যে)
فَيَأۡخُذَكُمۡ (ফাইয়া’খুযাকুম → তাহলে তোমাদের পাকড়াও করবে)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
أَلِيمٞ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর সামূদ জাতির কাছে তাদেরই ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বললেন, “হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর দাসত্ব (ইবাদত) করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো বিধানদাতা নেই। অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি সুস্পষ্ট আয়াত (নিদর্শন) এসেছে। এই আল্লাহর উটনী তোমাদের জন্য একটি আয়াত (নিদর্শন)। তাই তাকে ছেড়ে দাও, সে যেন আল্লাহর জমিনে ঘুরেফিরে খায়। আর তাকে কোনো মন্দ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করো না; করলে তোমাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে।”


আয়াত-৭৪ঃ

وَاذۡكُرُوٓا (ওয়াযকুরূ → এবং স্মরণ করো)
إِذۡ (ইয → যখন)
جَعَلَكُمۡ (জা‘আলাকুম → তিনি তোমাদের বানিয়েছেন)
خُلَفَآءَ (খুলাফাআ → প্রতিনিধিগণ)
مِنۢ (মিম → পরে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পর)
عَادٖ (‘আদিন → ‘আদ জাতির)
وَبَوَّأَكُمۡ (ওয়া বাওওয়াআকুম → এবং তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন)
فِي (ফিল → মধ্যে)
الۡأَرۡضِ (আরদি → পৃথিবীতে)
تَتَّخِذُونَ (তাত্তাখিযূনা → তোমরা নির্মাণ কর)
مِن (মিন → থেকে)
سُهُولِهَا (সুহূলিহা → এর সমভূমিতে)
قُصُورٗا (কুসূরান → প্রাসাদসমূহ)
وَتَنۡحِتُونَ (ওয়া তানহিতূনা → এবং তোমরা খোদাই কর)
الۡجِبَالَ (আল-জিবালা → পাহাড়সমূহ)
بُيُوتٗا (বুইয়ূতান → ঘরবাড়ি)
فَاذۡكُرُوٓا (ফাযকুরূ → অতএব স্মরণ করো)
ءَالَآءَ (আলাআ → অনুগ্রহসমূহ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَعۡثَوۡا (তা‘ছাও → তোমরা তাণ্ডব চালিও)
فِي (ফিল → মধ্যে)
الۡأَرۡضِ (আরদি → পৃথিবীতে)
مُفۡسِدِينَ (মুফসিদীন → বিপর্যয় সৃষ্টিকারী / ফাসাদকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর স্মরণ করো, যখন তিনি ‘আদ জাতির পরে তোমাদের প্রতিনিধি (খলিফা) বানিয়েছেন এবং পৃথিবীতে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তোমরা এর সমভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ কর এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি কর। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় (ফাসাদ) সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।


আয়াত-৭৫

قَالَ (কা-লা → বলল)
الۡمَلَأُ (আল-মালাউ → নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اسۡتَكۡبَرُوا (ইস্তাকবারূ → অহংকার করেছিল)
مِن (মিন → থেকে)
قَوۡمِهِۦ (কাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়ের)
لِلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদেরকে যারা)
اسۡتُضۡعِفُوا (ইসতুদ‘ইফূ → নির্যাতিত ছিল)
لِمَنۡ (লিমান → তাদের মধ্যে যারা)
ءَامَنَ (আমানা → বিশ্বাস এনেছিল)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
أَتَعۡلَمُونَ (আতা‘লামূন → তোমরা কি জানো?)
أَنَّ (আন্না → যে)
صَٰلِحٗا (সালিহান → সালিহ)
مُّرۡسَلٞ (মুরসালুন → প্রেরিত রাসূল)
مِّن (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّهِۦ (রাব্বিহী → তাঁর প্রতিপালকের)
قَالُوٓا (কা-লূ → তারা বলল)
إِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
بِمَا (বিমা → যা নিয়ে)
أُرۡسِلَ (উরসিলা → তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে)
بِهِۦ (বিহী → তাতে)
مُؤۡمِنُونَ (মু’মিনূন → দৃঢ় বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাঁর সম্প্রদায়ের অহংকারী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের মধ্যে যারা দুর্বল ও নির্যাতিত ছিল এবং বিশ্বাস এনেছিল, তাদের বলল, “তোমরা কি জানো যে, সালিহ তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল?” তারা বলল, “নিশ্চয়ই তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তাতে দৃঢ় বিশ্বাসী।”