সূরা আল আনআম (الأنعام) | গৃহপালিত পশু
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৬৫


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-১৫১ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
تَعَالَوۡا (তা‘আলাও → এসো)
اَتۡلُ (আতলু → আমি পাঠ করে শুনাই)
مَا (মা → যা)
حَرَّمَ (হাররামা → নিষিদ্ধ করেছেন)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
عَلَيۡكُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)
اَلَّا (আল্লা → যেন না)
تُشۡرِكُوا (তুশরিকূ → শরিক করো)
بِهٖ (বিহী → তাঁর সঙ্গে)
شَيۡـًٔا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَبِالۡوَالِدَيۡنِ (ওয়া বিল-ওয়ালিদাইনি → এবং পিতা-মাতার প্রতি)
اِحۡسَانًا (ইহসানান → উত্তম আচরণ)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقۡتُلُوۡۤا (তাকতুলূ → হত্যা করো)
اَوۡلَادَكُمۡ (আওলাদাকুম → তোমাদের সন্তানদের)
مِّنۡ (মিন → কারণে)
اِمۡلَاقٍ (ইমলাকিন → দারিদ্র্য)
نَحۡنُ (নাহনু → আমরা)
نَرۡزُقُكُمۡ (নারযুকুকুম → তোমাদের জীবিকা দিই)
وَاِيَّاهُمۡ (ওয়া ইয়্যাহুম → এবং তাদেরও)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقۡرَبُوا (তাকরাবূ → কাছে যেও)
الۡفَوَاحِشَ (আল-ফাওয়াহিশা → অশ্লীল ও জঘন্য কাজসমূহ)
مَا (মা → যা)
ظَهَرَ (যাহারা → প্রকাশ পেয়েছে)
مِنۡهَا (মিনহা → সেগুলোর মধ্যে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
بَطَنَ (বাতানা → গোপন রয়েছে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقۡتُلُوا (তাকতুলূ → হত্যা করো)
النَّفۡسَ (আন-নাফসা → প্রাণ)
الَّتِي (আল্লাতী → যা)
حَرَّمَ (হাররামা → অবৈধ করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
بِالۡحَقِّ (বিল-হাক্কি → ন্যায্য অধিকারের ভিত্তিতে)
ذٰلِكُمۡ (যালিকুম → এগুলোই)
وَصّٰىكُمۡ (ওয়াস্সাকুম → তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন)
بِهٖ (বিহী → এগুলোর মাধ্যমে)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَعۡقِلُونَ (তা‘কিলূন → বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “এসো, আমি তোমাদেরকে পাঠ করে শুনাই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য কী কী নিষিদ্ধ করেছেন; তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না; পিতা-মাতার প্রতি উত্তম আচরণ করো; দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না—আমিই তোমাদের এবং তাদের জীবিকা দিই; প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের অশ্লীল ও জঘন্য কাজের কাছেও যেও না; এবং আল্লাহ যে প্রাণকে (নফসকে) হত্যা করা অবৈধ করেছেন, ন্যায্য অধিকার ছাড়া তাকে হত্যা করো না। এগুলোই তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করো।”


আয়াত-১৫২ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقۡرَبُوا (তাকরাবূ → কাছে যেও)
مَالَ (মালা → সম্পদের)
الۡيَتِيمِ (আল-ইয়াতীমি → এতিমের)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
بِالَّتِي (বিল্লাতী → সেই পদ্ধতিতে যা)
هِيَ (হিয়া → তা)
اَحۡسَنُ (আহসানু → সর্বোত্তম)
حَتّٰى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَبۡلُغَ (ইয়াবলুগা → পৌঁছে)
اَشُدَّهٗ (আশুদ্দাহু → তার পূর্ণ পরিপক্বতায়)
وَاَوۡفُوا (ওয়া আওফূ → এবং পূর্ণ করো)
الۡكَيۡلَ (আল-কাইলা → পরিমাপ)
وَالۡمِيزَانَ (ওয়াল-মীযানা → ওজন)
بِالۡقِسۡطِ (বিল-কিস্তি → ন্যায়বিচারের সঙ্গে)
لَا (লা → না)
نُكَلِّفُ (নুকাল্লিফু → আমরা দায়িত্ব দিই)
نَفۡسًا (নাফসান → কোনো ব্যক্তিকে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
وُسۡعَهَا (উস‘আহা → তার সাধ্য অনুযায়ী)
وَاِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
قُلۡتُمۡ (কুলতুম → তোমরা বলো)
فَاعۡدِلُوا (ফা‘দিলূ → তখন ন্যায়বিচার করো)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → যদিও)
كَانَ (কানা → হয়)
ذَا (যা → অধিকারী)
قُرۡبٰى (কুরবা → নিকটাত্মীয়)
وَبِعَهۡدِ (ওয়া বি‘আহদি → এবং অঙ্গীকার)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اَوۡفُوا (আওফূ → পূর্ণ করো)
ذٰلِكُمۡ (যালিকুম → এগুলোই)
وَصّٰىكُمۡ (ওয়াস্সাকুম → তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন)
بِهٖ (বিহী → এগুলোর মাধ্যমে)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَذَكَّرُونَ (তাযাক্কারূন → উপদেশ গ্রহণ/ স্মরণ করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অসহায়ের (এতিমের) সম্পদের ধারে কাছে যেও না, তবে এমন পদ্ধতিতে যা সর্বোত্তম, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ পরিপক্বতায় পৌঁছে। আর ন্যায়বিচারের সঙ্গে পরিমাপ ও ওজন পূর্ণ করো। আমরা কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিই না। আর যখন তোমরা কথা বলো, তখন ন্যায়বিচার করো, যদিও তা নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে হয়। আর আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। এগুলোই তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ।


আয়াত-১৫৩ঃ

وَاَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়)
هٰذَا (হাযা → এটি)
صِرَاطِيۡ (সিরাতী → আমার পথ)
مُسۡتَقِيۡمًا (মুস্তাকীমান → সরল / সোজা / সঠিক)
فَاتَّبِعُوهُ (ফাত্তাবি‘উহু → অতএব এটি অনুসরণ করো)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَتَّبِعُوا (তাত্তাবি‘উ → অনুসরণ করো)
السُّبُلَ (আস-সুবুলা → বিভিন্ন পথ / বিভ্রান্তির পথসমূহ)
فَتَفَرَّقَ (ফাতাফাররাকা → ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে)
بِكُمۡ (বিকুম → তোমাদেরকে)
عَنۡ (‘আন → থেকে)
سَبِيۡلِهٖ (সাবীলিহী → তাঁর পথ)
ذٰلِكُمۡ (যালিকুম → এগুলোই)
وَصّٰىكُمۡ (ওয়াস্সাকুম → তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন)
بِهٖ (বিহী → এগুলোর মাধ্যমে)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَتَّقُونَ (তাত্তাকূন → খোদাভীরু হও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর নিশ্চয় এটিই আমার সরল ও সঠিক পথ (সিরাতল মুস্তাকিম)। অতএব তোমরা এই পথই অনুসরণ করো। আর বিভ্রান্তির পথসমূহের অনুসরণ করো না, কারণ সেগুলো তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলোই তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা খোদাভীরু হও।


আয়াত-১৫৪ঃ

ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اٰتَيۡنَا (আ-তাইনা → আমরা প্রদান করেছি)
مُوۡسَى (মূসা → মূসা)
الۡكِتٰبَ (আল-কিতাবা → বিধানগ্রন্থ)
تَمَامًا (তামামান → পূর্ণাঙ্গরূপে)
عَلَى (আলা → প্রতি)
الَّذِيۡ (আল্লাযী → যে)
اَحۡسَنَ (আহসানা → উৎকৃষ্ট কাজ করেছে)
وَ (ওয়া → এবং)
تَفۡصِيۡلًا (তাফসীলান → বিস্তারিত ব্যাখ্যা)
لِّكُلِّ (লিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → বিষয় / বস্তু)
وَّهُدًى (ওয়া হুদান → পথ নির্দেশনা)
وَّرَحۡمَةً (ওয়া রাহমাতান → দয়া)
لَّعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
بِلِقَآءِ (বিলিকাঈ → সাক্ষাতের ব্যাপারে)
رَبِّهِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → বিশ্বাস করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যে উৎকৃষ্ট কাজ করেছে তার জন্য অতঃপর আমরা মূসাকে বিধানগ্রন্থ প্রদান করেছি— পরিপূর্ণরূপে এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, দিকনির্দেশনা ও দয়া হিসেবে; যাতে তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতের ব্যাপারে বিশ্বাস করে।


আয়াত-১৫৫ঃ

وَهٰذَا (ওয়া হাযা → এবং এটি)
كِتٰبٌ (কিতাবুন → বিধানগ্রন্থ)
اَنۡزَلۡنٰهُ (আনযালনাহু → আমরা নাযিল করেছি)
مُبٰرَكٌ (মুবারাকুন → বরকতময়)
فَاتَّبِعُوهُ (ফাত্তাবি‘উহু → অতএব এটি অনুসরণ করো)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং খোদাভীরু হও)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُرۡحَمُونَ (তুরহামূন → অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এটি এমন এক বরকতময় বিধানগ্রন্থ, যা আমরা নাযিল করেছি। অতএব, তোমরা এটির অনুসরণ করো এবং খোদাভীরু হও, যাতে তোমরা দয়া লাভ কর।


আয়াত-১৫৬ঃ

اَنۡ (আন → যেন / যাতে না)
تَقُولُوا (তাকূলূ → তোমরা বলো)
اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবল / শুধু)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাযিল করা হয়েছে)
الۡكِتٰبُ (আল-কিতাবু → বিধানগ্রন্থ)
عَلٰى (আলা → উপর)
طَآئِفَتَيۡنِ (তাইফাতাইনি → দুই সম্প্রদায়ের)
مِنۡ (মিন → পূর্বে / থেকে)
قَبۡلِنَا (কাবলিনা → আমাদের আগে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → যদিও)
كُنَّا (কুন্না → আমরা ছিলাম)
عَنۡ (‘আন → সম্পর্কে)
دِرَاسَتِهِمۡ (দিরাসাতিহিম → তাদের অধ্যয়ন)
لَغٰفِلِينَ (লাগাফিলীন → অবশ্যই উদাসীন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যাতে তোমরা বলতে না পারো, “বিধানগ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্বের দুই সম্প্রদায়ের উপরই নাযিল করা হয়েছিল এবং বলতে না পারো তাদের অধ্যয়ন সম্পর্কে আমরা অবশ্যই উদাসীন ছিলাম।”


আয়াত-১৫৭ঃ

وۡ (আও → অথবা)
تَقُولُوا (তাকূলূ → তোমরা বলো)
لَوۡ (লাও → যদি)
اَنَّا (আন্না → আমরা)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাযিল করা হতো)
عَلَيۡنَا (‘আলাইনা → আমাদের উপর)
الۡكِتٰبُ (আল-কিতাবু → বিধানগ্রন্থ)
لَكُنَّا (লাকুন্না → তবে আমরা অবশ্যই হতাম)
اَهۡدٰى (আহদা → অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের চেয়ে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → অথচ অবশ্যই)
جَآءَكُمۡ (জাআকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
بَيِّنَةٌ (বাইয়িনাতুন → সুস্পষ্ট প্রমাণ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
وَهُدًى (ওয়া হুদান → দিকনির্দেশনা)
وَّرَحۡمَةٌ (ওয়া রাহমাতুন → দয়া)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব কে)
اَظۡلَمُ (আজলামু → অধিক যালিম)
مِمَّنۡ (মিম্মান → তার চেয়ে, যে)
كَذَّبَ (কাযযাবা → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِاٰيٰتِ (বি-আয়াতি → নিদর্শনসমূহকে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَصَدَفَ (ওয়া সাদাফা → এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে)
عَنۡهَا (‘আনহা → তা থেকে)
سَنَجۡزِي (সানাজযী → আমরা অবশ্যই প্রতিফল দেব)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَصۡدِفُونَ (ইয়াসদিফূন → মুখ ফিরিয়ে নেয়)
عَنۡ (আন → থেকে)
اٰيٰتِنَا (আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহ)
سُوۡٓءَ (সূআ → কঠিন)
الۡعَذَابِ (আল-আযাবি → শাস্তি)
بِمَا (বিমা → কারণ তারা)
كَانُوا (কানূ → ছিল)
يَصۡدِفُونَ (ইয়াসদিফূন → মুখ ফিরিয়ে নিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অথবা তোমরা যেন না বলো, “যদি আমাদের উপর বিধানগ্রন্থ নাযিল করা হতো, তবে আমরা তাদের চেয়ে অধিক সরল পথপ্রাপ্ত হতাম।” অথচ এখন তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ, দিকনির্দেশনা (হুদা) এবং অনুগ্রহ এসে গেছে। অতএব তার চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা বলে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? যারা আমাদের আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদেরকে তাদের এই মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণেই আমরা কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাবো।


আয়াত-১৫৮ঃ

هَلۡ (হাল → কী?)
يَنۡظُرُونَ (ইয়ানযুরূন → তারা অপেক্ষা করছে)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
اَنۡ (আন → যে)
تَاۡتِيَهُمُ (তা’তিয়াহুম → তাদের কাছে আসে)
الۡمَلٰٓئِكَةُ (আল-মালাইকাতু → ফেরেশতারা)
اَوۡ (আও → অথবা)
يَاۡتِيَ (ইয়া’তিয়া → আসে)
رَبُّكَ (রাব্বুকা → তোমার প্রতিপালক)
اَوۡ (আও → অথবা)
يَاۡتِيَ (ইয়া’তিয়া → আসে)
بَعۡضُ (বা‘দু → কিছু)
اٰيٰتِ (আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
رَبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালকের)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → যেদিন)
يَاۡتِي (ইয়া’তী → আসবে)
بَعۡضُ (বা‘দু → কিছু)
اٰيٰتِ (আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
رَبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালকের)
لَا (লা → না)
يَنۡفَعُ (ইয়ানফা‘উ → উপকার করবে)
نَفۡسًا (নাফসান → কোনো ব্যক্তির)
اِيۡمَانُهَا (ঈমানুহা → তার বিশ্বাস)
لَمۡ (লাম → না)
تَكُنۡ (তাকুন → ছিল)
اٰمَنَتۡ (আমানাত → বিশ্বাস করেছিল)
مِنۡ (মিন → পূর্বে)
قَبۡلُ (কাবলু → আগে)
اَوۡ (আও → অথবা)
كَسَبَتۡ (কাসাবাত → অর্জন করেছে)
فِيۡ (ফী → মধ্যে)
اِيۡمَانِهَا (ঈমানিহা → তার বিশ্বাসে)
خَيۡرًا (খাইরান → কল্যাণ)
قُلِ (কুলি → বলো)
انۡتَظِرُوا (ইনতাযিরূ → তোমরা অপেক্ষা করো)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
مُنۡتَظِرُونَ (মুনতাযিরূন → অপেক্ষাকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কি শুধু এই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে, অথবা তোমার প্রতিপালক আসবেন কিংবা তোমার প্রতিপালকের কিছু আয়াত (নিদর্শন) এসে যাবে? যেদিন তোমার প্রতিপালকের কিছু আয়ত (নিদর্শন) এসে যাবে, সেদিন কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস তার কোনো উপকার করবে না—যদি সে আগে বিশ্বাস না করে থাকে, অথবা তার বিশ্বাসের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে। বলো, “তোমরা অপেক্ষা করো; নিশ্চয়ই আমিও অপেক্ষা করে রয়েছি।”


আয়াত-১৫৯ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
فَرَّقُوا (ফাররাকূ → বিভক্ত করেছে)
دِينَهُمۡ (দীনাহুম → তাদের জীবনব্যবস্থা)
وَكَانُوا (ওয়া কানূ → এবং তারা হয়েছে)
شِيَعًا (শিয়া‘আন → বিভিন্ন দল)
لَّسۡتَ (লাসতা → তুমি নও)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের অন্তর্ভুক্ত)
فِي (ফী → কোনো)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়ে)
اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবল)
اَمۡرُهُمۡ (আমরুহুম → তাদের বিষয়)
اِلَى (ইলা → নিকট)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
يُنَبِّئُهُمۡ (ইউনাব্বিউহুম → তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → যা সম্পর্কে)
كَانُوا (কানূ → করত)
يَفۡعَلُونَ (ইয়াফ‘আলূন → করে এসেছে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা, তাদের জীবনব্যবস্থাকে (দ্বীনকে/ধর্মকে) বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে—তাদের সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় তো কেবল আল্লাহর কাছেই ন্যাস্ত। অতঃপর তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তারা কী করে এসেছে।


আয়াত-১৬০ঃ

مَنۡ (মান → যে)
جَآءَ (জাআ → উপস্থিত হবে)
بِالۡحَسَنَةِ (বিল-হাসানাতি → সৎকর্ম)
فَلَهُ (ফালাহু → তবে তার জন্য)
عَشۡرُ (‘আশরু → দশ)
اَمۡثَالِهَا (আমছালিহা → তার সমপরিমাণ)
وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যে)
جَآءَ (জাআ → উপস্থিত হবে)
بِالسَّيِّئَةِ (বিছ-ছাইয়িআতি → অসৎকর্ম)
فَلَا (ফালা → তবে না)
يُجۡزٰى (ইউজযা → প্রতিফল দেওয়া হবে)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
مِثۡلَهَا (মিছলাহা → তার সমপরিমাণ)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → এবং তারা)
لَا (লা → না)
يُظۡلَمُونَ (ইউজলামূন → যুলুমের শিকার হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যে ব্যক্তি একটি সুন্দর কর্ম নিয়ে উপস্থিত হবে, তার জন্য থাকবে তার দশগুণ প্রতিফল। আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কর্ম নিয়ে উপস্থিত হবে, তাকে কেবল তার সমপরিমাণ প্রতিফলই দেওয়া হবে। আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না।


আয়াত-১৬১ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
اِنَّنِيۡ (ইন্নানী → নিশ্চয়ই আমি)
هَدٰىنِيۡ (হাদানী → আমাকে পথনির্দেশ দিয়েছেন)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
صِرَاطٍ (সিরাতিন → পথ)
مُّسۡتَقِيۡمٍ (মুস্তাকীমিন → সরল)
دِينًا (দীনান → জীবনব্যবস্থা)
قِيَمًا (কিয়ামান → সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত)
مِّلَّةَ (মিল্লাতা → আদর্শ)
اِبۡرٰهِيۡمَ (ইবরাহীমা → ইবরাহীম)
حَنِيۡفًا (হানীফান → একনিষ্ঠ সত্যনিষ্ঠ)
وَمَا (ওয়া মা → এবং তিনি ছিলেন না)
كَانَ (কানা → ছিলেন)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُشۡرِكِيۡنَ (আল-মুশরিকীন → অংশীদার স্থাপনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে একটি সরল পথের দিকে পথনির্দেশ (হুদা) দিয়েছেন—এক সুপ্রতিষ্ঠিত জীবনব্যবস্থা, ইবরাহীমের দৃঢ় সত্যনিষ্ঠ আদর্শ। আর তিনি অংশীদার স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।”


আয়াত-১৬২ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
صَلَاتِيۡ (সালাতী → আমার যোগাযোগ)
وَنُسُكِيۡ (ওয়া নুসুকী → এবং আমার আনুগত্যমূলক উৎসর্গ)
وَمَحۡيَايَ (ওয়া মাহইয়ায়া → এবং আমার জীবন)
وَمَمَاتِيۡ (ওয়া মামাতী → এবং আমার মৃত্যু)
لِلّٰهِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
رَبِّ (রাব্বি → প্রতিপালক)
الۡعٰلَمِيۡنَ (আল-‘আলামীন → সকল জগতের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “নিশ্চয়ই আমার যোগাযোগ (সালাত), আমার আনুগত্যমূলক উৎসর্গ (নুসুক), আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু—সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।”


আয়াত-১৬৩ঃ

لَا (লা → নেই)
شَرِيكَ (শারীকা → অংশীদার / শরীক)
لَهُ (লাহু → তাঁর)
وَبِذٰلِكَ (ওয়া বিযালিকা → এবং এরই মাধ্যমে)
اُمِرۡتُ (উমিরতু → আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে)
وَاَنَا (ওয়া আনা → এবং আমি)
اَوَّلُ (আওয়ালু → প্রথম)
الۡمُسۡلِمِينَ (আল-মুসলিমীন → আত্মসমর্পণকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর এই নির্দেশ আমাকে দেওয়া হয়েছে এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের (মুসলিমদের) মধ্যে প্রথম।


আয়াত-১৬৪ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
اَغَيۡرَ (আগাইরা → অন্য)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
اَبۡغِيۡ (আবগী → আমি কি অনুসন্ধান করব)
رَبًّا (রাব্বান → প্রতিপালকের)
وَّهُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তিনিই)
رَبُّ (রাব্বু → প্রতিপালক)
كُلِّ (কুল্লি → সকল)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → কিছুর)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَكۡسِبُ (তাকসিবু → অর্জন করে)
كُلُّ (কুল্লু → কোনো)
نَفۡسٍ (নাফসিন → ব্যক্তি/নফস)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
عَلَيۡهَا (‘আলাইহা → নিজের জন্য)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَزِرُ (তাযিরু → বহন করবে)
وَازِرَةٌ (ওয়াযিরাতুন → কোনো বোঝাবহনকারী ব্যক্তি)
وِّزۡرَ (বিযরা → বোঝা)
اُخۡرٰى (উখরা → অন্যের)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
رَبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
مَّرۡجِعُكُمۡ (মারজি‘উকুম → তোমাদের প্রত্যাবর্তন)
فَيُنَبِّئُكُمۡ (ফাইউনাব্বিউকুম → তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → সে সম্পর্কে যা)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
فِيۡهِ (ফীহি → যার মধ্যে)
تَخۡتَلِفُونَ (তাখতালিফূন → মতভেদ করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিপালকে খুঁজবো, অথচ তিনিই সকল কিছুর প্রতিপালক? কোনো ব্যক্তি (নফস) যা অর্জন করে, তা তার নিজেরই জন্য। আর কোনো বোঝাবহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের প্রতিপালকের দিকেই। তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন, যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।”


আয়াত-১৬৫ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং তিনিই)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
جَعَلَكُمۡ (জা‘আলাকুম → তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন)
خَلٰٓئِفَ (খালাইফা → প্রতিনিধিগণ)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবীর)
وَرَفَعَ (ওয়া রাফা‘আ → এবং উন্নীত করেছেন)
بَعۡضَكُمۡ (বা‘দাকুম → তোমাদের কাউকে)
فَوۡقَ (ফাওকা → উপরে)
بَعۡضٍ (বা‘দিন → অন্যদের)
دَرَجٰتٍ (দারাজাতিন → বিভিন্ন মর্যাদায়)
لِّيَبۡلُوَكُمۡ (লিইয়াবলুওয়াকুম → যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন)
فِيۡ (ফী → বিষয়ে)
مَا (মা → যা)
اٰتٰىكُمۡ (আতাকুম → তিনি তোমাদের দিয়েছেন)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালক)
سَرِيۡعُ (সারী‘উ → দ্রুত)
الۡعِقَابِ (আল-‘ইকাবি → প্রতিফলদানে)
وَاِنَّهٗ (ওয়া ইন্নাহু → এবং নিশ্চয়ই তিনি)
لَغَفُورٌ (লাগাফূরুন → অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষমাশীল)
رَّحِيۡمٌ (রাহীমুন → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি করেছেন এবং তোমাদের কাউকে অন্যদের উপর বিভিন্ন মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, সে বিষয়ে পরীক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রতিফলদানে দ্রুত এবং নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।