সুরা আলে ইমরান ১০১-১২৫

رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত – ১০১ঃ

وَکَیۡفَ (ওয়া কাইফা → আর কীভাবে)
تَکۡفُرُوۡنَ (তাকফুরূন → তোমরা অস্বীকার করবে)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → অথচ তোমাদের মাঝে)
تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ (তুতলা ‘আলাইকুম → পাঠ করা হচ্ছে তোমাদের কাছে)
اٰیٰتُ اللّٰہِ (আয়াতুল্লাহ → আল্লাহর আয়াতসমূহ)
وَفِیۡکُمۡ رَسُوۡلُہٗ (ওয়া ফীকুম রাসূলুহু → এবং তোমাদের মধ্যে আছেন তাঁর রাসূল)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
یَّعۡتَصِمۡ بِاللّٰہِ (ইয়া‘তাসিম বিল্লাহ → আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে)
فَقَدۡ ہُدِیَ (ফাকাদ হুদিয়া → সে অবশ্যই পথনির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছে)
اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ (ইলা সিরাতিম মুস্তাকীম → সরল পথে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমরা কীভাবে অবিশ্বাস (কুফরি) করবে, অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হচ্ছে এবং তোমাদের মাঝে তাঁর রাসূল উপস্থিত আছেন? আর যে আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, সে অবশ্যই সরল পথের হিদায়াত পেয়েছে।


আয়াত – ১০২ঃ

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا (ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ → হে বিশ্বাসীগণ)
اتَّقُوا اللّٰہَ (ইত্তাকুল্লাহ → আল্লাহকে ভয় করো)
حَقَّ تُقٰتِہٖ (হাক্কা তুকাতিহী → যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত)
وَلَا تَمُوۡتُنَّ (ওয়ালা তামূতুন্না → এবং কখনো মৃত্যুবরণ করো না)
اِلَّا وَاَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ (ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমূন → তবে আত্মসমর্পণ অবস্থায় ছাড়া)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং অবশ্যই আত্মসমর্পণ (মুসলিম) অবস্থায় ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।


আয়াত – ১০৩ঃ

وَاعۡتَصِمُوۡا (ওয়া‘তাসিমূ → দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো)
بِحَبۡلِ اللّٰہِ (বিহাবলিল্লাহ → আল্লাহর রজ্জুকে/বন্ধনকে)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সবাই মিলে)
وَّلَا تَفَرَّقُوۡا (ওয়ালা তাফাররাকূ → এবং বিভক্ত হয়ো না)

وَاذۡکُرُوۡا (ওয়াযকুরূ → স্মরণ করো)
نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ (নি‘মাতাল্লাহি ‘আলাইকুম → তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ)
اِذۡ كُنۡتُمۡ اَعۡدَآءً (ইয কুনতুম আ‘দাআন → যখন তোমরা পরস্পরের শত্রু ছিলে)
فَاَلَّفَ بَیۡنَ قُلُوۡبِكُمۡ (ফাআল্লাফা বাইনা কুলূবিকুম → তখন তিনি তোমাদের অন্তরসমূহে মিলন সৃষ্টি করলেন)
فَاَصۡبَحۡتُمۡ (ফাআসবাহতুম → ফলে তোমরা হয়ে গেলে)
بِنِعۡمَتِهٖۤ اِخۡوَانًا (বিনি‘মাতিহী ইখওয়ানান → তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই)

وَكُنۡتُمۡ عَلٰی شَفَا حُفۡرَةٍ مِّنَ النَّارِ (ওয়া কুনতুম ‘আলা শাফা হুফরাতিম মিনান্নার → আর তোমরা ছিলে আগুনের গহ্বরের কিনারায়)
فَاَنۡقَذَكُمۡ مِّنۡهَا (ফাআনকাযাকুম মিনহা → অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন)

كَذٰلِكَ (কাযালিকা → এভাবেই)
يُبَيِّنُ اللّٰهُ لَكُمۡ اٰيٰتِهٖ (ইউবাইয়িনুল্লাহু লাকুম আয়াতিহী → আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন)
لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُوۡنَ (লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন → যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর বন্ধনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না। তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো— যখন তোমরা পরস্পরের শত্রু ছিলে, তখন তিনি তোমাদের অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গহ্বরের কিনারায়, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও।


আয়াত – ১০৪ঃ

وَلۡتَكُنۡ (ওয়ালতাকুন → হওয়া উচিত)
مِّنۡكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
أُمَّةٌ (উম্মাতুন → একটি দল/সমাজ)
يَّدۡعُوۡنَ إِلَى الْخَيْرِ (ইয়াদ‘ঊনা ইলাল খাইর → কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে)
وَيَأۡمُرُوۡنَ بِالْمَعۡرُوۡفِ (ওয়া ইয়া’মুরূনা বিল মা‘রূফ → ভালো কাজের নির্দেশ দেবে)
وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ الْمُنكَرِ (ওয়া ইয়ানহাওনা ‘আনিল মুনকার → খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে)
وَأُولٰٓئِكَ (ওয়া উলাইকা → তারাই)
هُمُ الْمُفْلِحُوۡنَ (হুমুল মুফলিহূন → সফলকাম)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর তারাই সফলকাম।


আয়াত – ১০৫ঃ

وَلَا تَكُونُوا (ওয়ালা তাকূনূ → এবং তোমরা হয়ো না)
كَالَّذِينَ (কাল্লাযীনা → তাদের মতো)
تَفَرَّقُوا (তাফাররাকূ → যারা বিভক্ত হয়েছে)
وَاخْتَلَفُوا (ওয়াখতালাফূ → এবং মতভেদ করেছে)
مِنۡ بَعۡدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ (মিম বা‘দি মা জাআহুমুল বাইয়িনাত → স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও)

وَأُولٰٓئِكَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
لَهُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٌ (লাহুম ‘আযাবুন ‘আজীম → তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও বিভক্ত হয়েছে এবং মতভেদ করেছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।


আয়াত – ১০৬ঃ

یَوۡمَ (ইয়াওমা → নির্দিষ্ট সময়ের পর্যায় /দিন)
تَبۡیَضُّ وُجُوۡهٌ (তাবইয়াদ্দু উজূহ → কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে/সাদা হবে)
وَتَسۡوَدُّ وُجُوۡهٌ (ওয়া তাসওয়াদ্দু উজূহ → এবং কিছু মুখ কালো হবে)

فَأَمَّا الَّذِینَ اسۡوَدَّتۡ وُجُوهُهُمۡ (ফাআম্মাল্লাযীনা আসওয়াদ্দাত উজূহুহুম → যাদের মুখ কালো হয়ে যাবে তাদের বলা হবে)
أَكَفَرۡتُمۡ بَعۡدَ إِيمَانِكُمۡ (আকাফারতুম বা‘দা ঈমানিকুম → তোমরা কি বিশ্বাসের পর অবিশ্বাস করেছিলে?)
فَذُوقُوا الْعَذَابَ (ফাযূকুল ‘আযাব → এখন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো)
بِمَا كُنۡتُمۡ تَكۡفُرُونَ (বিমা কুনতুম তাকফুরূন → কারণ তোমরা অবিশ্বাস করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে। যাদের মুখ কালো হয়ে যাবে, তাদের বলা হবে—তোমরা কি বিশ্বাস (ঈমান) আনার পর অবিশ্বাসী (কুফরি) হয়েছিলে? তাহলে এখন তোমরা অবিশ্বাসের কারণে শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।


আয়াত – ১০৭ঃ

وَأَمَّا (ওয়া আম্মা → আর যারা)
الَّذِينَ ابۡيَضَّتۡ وُجُوهُهُمۡ (আল্লাযীনা ইবইয়াদ্দাত উজূহুহুম → যাদের মুখ উজ্জ্বল/সাদা হবে)
فَفِي رَحۡمَةِ اللّٰهِ (ফাফী রাহমাতিল্লাহ → তারা আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে থাকবে)
هُمۡ فِيهَا خَالِدُونَ (হুম ফীহা খালিদূন → তারা সেখানে চিরস্থায়ী থাকবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে থাকবে। তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।


আয়াত – ১০৮ঃ

تِلۡكَ (তিলকা → এগুলো)
آيَاتُ اللّٰهِ (আয়াতুল্লাহ → আল্লাহর নিদর্শনসমূহ)
نَتۡلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ (নাতলূহা ‘আলাইকা বিল হাক্ক → আমরা তোমার কাছে সত্যসহ পাঠ করি)
وَمَا اللّٰهُ يُرِيدُ ظُلۡمًا لِّلْعَالَمِينَ (ওয়া মাল্লা-হু ইউরীদু জুলমান লিল‘আলামীন → আর আল্লাহ বিশ্ববাসীর প্রতি কোনো অন্যায় করতে চান না)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহ, যা আমরা তোমার কাছে সত্যসহ পাঠ করছি। আর আল্লাহ বিশ্ববাসীর প্রতি কোনো অন্যায় করতে চান না।


আয়াত – ১০৯ঃ

وَلِلّٰهِ (ওয়ালিল্লাহ → আর আল্লাহরই জন্য)
مَا فِي السَّمٰوَاتِ (মা ফিছ ছামাওয়াত → আসমানসমূহে যা কিছু আছে)
وَمَا فِي الْأَرْضِ (ওয়া মা ফিল আরদ → এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে)

وَإِلَى اللّٰهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ (ওয়া ইলাল্লাহি তুরজা‘উল উমূর → এবং সব বিষয়ই আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। আর সবকিছুই আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে।


আয়াত – ১১০ঃ

کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
خَيۡرَ أُمَّةٍ (খাইরা উম্মাতিন → সর্বোত্তম জাতি)
أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ (উখরিজাত লিন্নাস → মানুষের জন্য উত্থিত করা হয়েছে)
تَأۡمُرُوۡنَ بِالْمَعۡرُوۡفِ (তা’মুরূনা বিল মা‘রূফ → ভালো কাজের নির্দেশ দাও)
وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ الْمُنۡكَرِ (ওয়া তানহাওনা ‘আনিল মুনকার → খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখো)
وَتُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ (ওয়া তু’মিনূনা বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখো)
وَلَوۡ آمَنَ أَهۡلُ الْكِتَابِ (ওয়া লাও আ-মানা আহলুল কিতাব → যদি কিতাবধারী পরিবার বিশ্বাস আনত)
لَكَانَ خَيۡرًا لَّهُمۡ (লাকানা খাইরাল্লাহুম → তাদের জন্য ভালো হতো)
مِنۡهُمُ الْمُؤۡمِنُوۡنَ (মিনহুমুল মু’মিনূন → তাদের মধ্যে কিছু বিশ্বাসী আছে)
وَأَكۡثَرُهُمُ الْفَاسِقُوۡنَ (ওয়া আকছারুহুমুল ফাসিকূন → আর অধিকাংশই অবাধ্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দাও, খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখো এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখো। যদি কিতাবী পরিবারও বিশ্বাস আনত, তবে তা তাদের জন্যই ভালো হতো। তাদের মধ্যে কিছু বিশ্বাসী আছে, কিন্তু অধিকাংশই অবাধ্য।


আয়াত – ১১১ঃ

لَنۡ يَضُرُّوكُمۡ (লান ইয়াদুররূকুম → তারা তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না)
إِلَّا أَذًى (ইল্লা আযান → শুধু সামান্য কষ্ট ছাড়া)
وَإِنۡ يُقَاتِلُوكُمۡ (ওয়া ইন ইউকাতিলূকুম → আর যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে)
يُوَلُّوكُمُ الْأَدۡبَارَ (ইউয়াল্লূকুমুল আদবার → তারা পিঠ ফিরিয়ে পালাবে)
ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ (ছুম্মা লা ইউনসারূন → এরপর তাদের সাহায্য করা হবে না)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা তোমাদের সামান্য কষ্ট ছাড়া কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তারা পিঠ ফিরিয়ে পালিয়ে যাবে, এরপর তাদের কোনো সাহায্য করা হবে না।


আয়াত – ১১২ঃ

ضُرِبَتۡ (দুরিবাত → আরোপিত/নির্ধারিত করা হয়েছে)
عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ (আলাইহিমুয যিল্লাহ → তাদের ওপর লাঞ্ছনা)
أَيْنَ مَا ثُقِفُوا (আইনা মা সুকিফূ → যেখানে পাওয়া যাবে)
إِلَّا بِحَبْلٍ مِّنَ اللّٰهِ (ইল্লা বিহাবলিম মিনাল্লাহ → আল্লাহর আশ্রয় ছাড়া)
وَحَبْلٍ مِّنَ النَّاسِ (ওয়া হাবলিম মিনান্নাস → মানুষের আশ্রয় ছাড়া)

وَبَاؤُوا بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰهِ (ওয়া বাউ বিগাদাবিম মিনাল্লাহ → তারা আল্লাহর ক্রোধ/অসন্তোষে পতিত হয়েছে)
وَضُرِبَتۡ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ (ওয়া দুরিবাত আলাইহিমুল মাসকানা → তাদের ওপর অসহায়তা আরোপিত হয়েছে)

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ (যালিকা বিআন্নাহুম → এটা এজন্য যে তারা)
كَانُوا يَكۡفُرُونَ بِآيَاتِ اللّٰهِ (কানূ ইয়াকফুরূনা বিআয়াতিল্লাহ → আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করত)
وَيَقۡتُلُونَ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ (ওয়া ইয়াকতুলূনাল আম্বিয়া বিগাইরি হাক্ক → অন্যায়ভাবে আম্বিয়াগণকে হত্যা করত)

ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوْا (যালিকা বিমা ‘আসাও → এটা তাদের অবাধ্যতার কারণে)
وَكَانُوا يَعۡتَدُونَ (ওয়া কানূ ইয়াতাদূন → এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহর আশ্রয় বা মানুষের আশ্রয় ছাড়া যেখানেই তাদের পাওয়া গিয়েছে তাদের উপর লাঞ্ছনা আরোপ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে এবং তাদের উপর অসহায়তা আরোপিত হয়েছে। এটা এজন্য যে তারা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করত এবং অন্যায়ভাবে আম্বিয়াগণকে হত্যা করত। এটি তাদের অবাধ্যতা এবং সীমালঙ্ঘনের ফল।


আয়াত – ১১৩ঃ

لَيْسُوا سَوَاءً (লাইসু ছাওয়াআন → তারা সবাই এক নয়)
مِّنۡ أَهۡلِ الْكِتَابِ (মিন আহলিল কিতাব → কিতাবধারী পরিবারের মধ্যে)
أُمَّةٌ قَائِمَةٌ (উম্মাতুন কাইমা → একটি ন্যায়নিষ্ঠ দল আছে)
يَتۡلُونَ آيَاتِ اللّٰهِ (ইয়াতলূনা আয়াতিল্লাহ → আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে)
آنَاءَ اللَّيۡلِ (আনা’আল লাইল → রাতের বিভিন্ন সময়ে)
وَهُمۡ يَسۡجُدُونَ (ওয়া হুম ইয়াসজুদূন → আর তারা মান্য করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা সবাই একরকম নয়। কিতাবধারী পরিবারের মধ্যে একটি ন্যায়নিষ্ঠ দল আছে, যারা রাতের বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে এবং মান্য করে।


আয়াত – ১১৪ঃ

يُؤۡمِنُونَ بِاللّٰهِ (ইউ’মিনূনা বিল্লাহ → তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী)
وَالۡيَوۡمِ الۡآخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখির → এবং পরকালের প্রতি)
وَيَأۡمُرُونَ بِالْمَعۡرُوفِ (ওয়া ইয়া’মুরূনা বিল মা‘রূফ → ভালো কাজের নির্দেশ দেয়)
وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ الْمُنۡكَرِ (ওয়া ইয়ানহাওনা ‘আনিল মুনকার → খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে)
وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيۡرَاتِ (ওয়া ইউসা-রি‘ঊনা ফিল খাইরাত → কল্যাণকর কাজে দ্রুত অগ্রসর হয়)
وَأُولٰئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ (ওয়া উলাইকা মিনাস সা-লিহীন → তারাই সৎকর্মশীদের অন্তর্ভুক্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, ভালো কাজের নির্দেশ দেয়, খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং কল্যাণকর কাজে দ্রুত অগ্রসর হয়। আর তারাই সৎকর্মশীদের অন্তর্ভুক্ত।


আয়াত – ১১৫ঃ

وَمَا يَفۡعَلُوا مِنۡ خَيۡرٍ (ওয়া মা ইয়াফ‘আলূ মিন খাইর → তারা যে কোনো ভালো কাজই করুক না কেন)
فَلَن يُكۡفَرُوهُ (ফালান ইউকফারূহু → তা কখনোই অস্বীকার/অমূল্যায়ন করা হবে না)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِيمٌۢ بِالْمُتَّقِينَ (আলীমুম বিল মুত্তাকীন → খোদাভীরুদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা যে কোনো ভালো কাজই করুক না কেন, তা কখনোই অমূল্যায়ন করা হবে না। আর আল্লাহ খোদাভীরুদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।


আয়াত – ১১৬ঃ

اِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا (ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ → যারা অবিশ্বাস করেছে)
لَن تُغۡنِيَ عَنْهُمۡ (লান তুগনিয়া ‘আনহুম → তাদের কোনো কাজে আসবে না)
أَمۡوَالُهُمۡ (আমওয়ালুহুম → তাদের সম্পদ)
وَلَا أَوۡلَادُهُمۡ (ওয়া লা আওলাদুহুম → এবং তাদের সন্তান-সন্ততি)
مِنَ اللّٰهِ شَيْئًا (মিনাল্লাহি শাইআন → আল্লাহর শাস্তি থেকে কিছুই রক্ষা করতে পারবে না)

وَأُولٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ (ওয়া উলাইকা আসহাবুন্নার → তারাই আগুনের অধিবাসী)
هُمۡ فِيهَا خَالِدُونَ (হুম ফীহা খালিদূন → তারা সেখানে চিরস্থায়ী থাকবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা অবিশ্বাস (কুফরি) করেছে, তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদের কোনো উপকারে আসবে না। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরস্থায়ী থাকবে।


আয়াত – ১১৭ঃ

مَثَلُ (মাছালু → উদাহরণ)
مَا يُنۡفِقُونَ (মা ইউনফিকূনা → তারা যা ব্যয় করে)
فِي هٰذِهِ الْحَيٰوۃِ الدُّنْيَا (ফী হাযিহিল হায়াতিদ দুনিয়া → এই দুনিয়ার জীবনে)
كَمَثَلِ رِيحٍ (কামাছালি রীহ → যেমন এক ঝড়ো বাতাসের উদাহরণ)
فِيهَا صِرٌّ (ফীহা সির্র → যার মধ্যে প্রচণ্ড বিনাশকারী প্রভাব আছে/ধ্বংসাত্মক শীতলতা)
أَصَابَتۡ حَرۡثَ قَوْمٍ (আসাবাত হারছা কাওম → এক জাতির ফসলকে আঘাত করল)
ظَلَمُوا أَنفُسَهُمۡ (জালামু আনফুসাহুম → যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছিল)
فَأَهۡلَكَتۡهُ (ফাআহলাকাতহু → ফলে তা ধ্বংস করে দিল)

وَمَا ظَلَمَهُمُ اللّٰهُ (ওয়া মা জালামাহুমুল্লাহ → আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করেননি)
وَلَٰكِنۡ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ (ওয়া লাকিন আনফুসাহুম ইয়াজলিমূন → বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অন্যায় করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা এই দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে তার উদাহরণ হলো—যেন এক প্রবল ঠান্ডা ঝড়, যা এক জাতির ফসলকে আঘাত করে, যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছিল; ফলে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছে।


আয়াত – ১১৮ঃ

یٰۤاَیُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا (ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ → হে বিশ্বাসীগণ)
لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِّن دُونِكُمۡ (লা তাত্তাখিযূ বিটানাতাম মিন দুনিকুম → নিজেদের বাইরে অন্যদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু/বিশ্বস্ত লোক বানিও না)
لَا يَأۡلُونَكُمۡ خَبَالًا (লা ইয়ালূনাকুম খাবাল → তারা তোমাদের ক্ষতি করতে কোনো ‍দ্বিধা করবে না)
وَدُّوا مَا عَنِتُّمۡ (ওয়াদ্দূ মা ‘আনিত্তুম → তারা চায় তোমরা কষ্টে পড়ো)
قَدۡ بَدَتِ الْبَغۡضَاءُ مِنۡ أَفۡوَاهِهِمۡ (কাদ বাদাতিল বাগদা মিন আফওয়াহিহিম → তাদের মুখ থেকেই বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়ে গেছে)
وَمَا تُخۡفِي صُدُورُهُمۡ أَكۡبَرُ (ওয়া মা তুখফী সুদূরুহুম আকবার → আর তাদের অন্তরে যা লুকানো আছে তা আরও ভয়ংকর)
قَدۡ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ (কাদ বাইয়ান্না লাকুমুল আয়াত → আমরা তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছি)
إِن كُنتُمۡ تَعۡقِلُونَ (ইন কুনতুম তা‘কিলূন → যদি তোমরা বুঝে থাকো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের বাইরে অন্যদের ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য লোক হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের ক্ষতি করতে কোনো দ্বিধা করবে না এবং তারা চায় তোমরা কষ্টে পড়ো। তাদের মুখ থেকেই বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে, আর তাদের অন্তরে যা লুকানো আছে তা আরও ভয়ংকর। আমি তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছি, যদি তোমরা বোঝ।


আয়াত – ১১৯ঃ

هٰۤأَنتُمۡ أُولَاءِ (হাআনতুম উলাই → তোমরাই তারা)
تُحِبُّونَهُمۡ (তুহিব্বূনাহুম → তোমরা তাদের ভালোবাসো)
وَلَا يُحِبُّونَكُمۡ (ওয়া লা ইউহিব্বূনাকুম → অথচ তারা তোমাদের ভালোবাসে না)
وَتُؤۡمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ (ওয়া তু’মিনূনা বিল কিতাবি কুল্লিহি → তোমরা সব কিতাবেই বিশ্বাস রাখো)

وَإِذَا لَقُوكُمۡ قَالُوا آمَنَّا (ওয়া ইযা লাকূকুম কালূ আ-মান্না → যখন তারা তোমাদের সাথে দেখা করে বলে “আমরা বিশ্বাসী”)
وَإِذَا خَلَوۡا (ওয়া ইযা খালাও → আর যখন তারা একা হয়)
عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ (আদ্দূ ‘আলাইকুমুল আনামিল মিনাল গাইয → রাগে আঙুল কামড়ায়)

قُلۡ مُوتُوا بِغَيْظِكُمۡ (কুল মূতূ বিগাইযিকুম → বলো, “তোমাদের ক্রোধে তোমরা ধ্বংস হও”)
إِنَّ اللّٰهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُورِ (ইন্নাল্লাহা আলীমুম বিযাতিস সুদূর → নিশ্চয় আল্লাহ অন্তরের সবকিছু জানেন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরাই এমন যে, তোমরা তাদের ভালোবাসো অথচ তারা তোমাদের ভালোবাসে না। তোমরা সব কিতাবে বিশ্বাস রাখো। তারা যখন তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে বলে ‘আমরা বিশ্বাসী’, আর যখন একা হয় তখন তোমাদের প্রতি রাগে আঙুল কামড়ায়। বলো, “তোমাদের ক্রোধে তোমরা ধ্বংস হও।” নিশ্চয় আল্লাহ অন্তরের সবকিছু জানেন।


আয়াত – ১২০ঃ

إِن تَمۡسَسۡكُمۡ حَسَنَةٌ (ইন তামসাসকুম হাসানাহ → যদি তোমাদের কোনো ভালো কিছু ঘটে)
تَسُؤۡهُمۡ (তাসু’হুম → তা তাদের কষ্ট দেয়)
وَإِن تُصِبۡكُمۡ سَيِّئَةٌ (ওয়া ইন তুসিবকুম সাইয়িয়াহ → আর যদি তোমাদের কোনো বিপদ ঘটে)
يَفۡرَحُوا بِهَا (ইয়াফরাহূ বিহা → তারা তাতে খুশি হয়)

وَإِن تَصۡبِرُوا وَتَتَّقُوا (ওয়া ইন তাসবিরূ ওয়া তাত্তাকূ → যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং খোদাভীরুতা অবলম্বন করো)
لَا يَضُرُّكُمۡ كَيۡدُهُمۡ شَيۡـًٔا (লা ইয়াদুররুকুম কাইদুহুম শাইআন → তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না)
إِنَّ اللّٰهَ بِمَا يَعۡمَلُونَ مُحِيطٌ (ইন্নাল্লাহা বিমা ইয়ামালূনা মুহীত → নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সব কাজ ঘিরে আছেন/জানেন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি তোমাদের কোনো ভালো কিছু ঘটে, তারা কষ্ট পায়। আর যদি তোমাদের কোনো বিপদ আসে, তারা তাতে আনন্দিত হয়। কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং খোদাভীরুতা (তাকওয়া) অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সব কাজকে পরিবেষ্টন করে আছেন।


আয়াত – ১২১ঃ

وَإِذۡ غَدَوۡتَ (ওয়া ইয গাদাওতা → যখন তুমি সকালে বের হলে)
مِنۡ أَهۡلِكَ (মিন আহলিকা → তোমার পরিবার থেকে)
تُبَوِّئُ الْمُؤۡمِنِينَ (তুবাওয়িউল মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের অবস্থান নির্ধারণ করছিলে)
مَقَاعِدَ لِلۡقِتَالِ (মাকা‘ইদা লিল কিতাল → যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট অবস্থান)
وَاللّٰهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ (ওয়াল্লাহু সামী‘উন ‘আলীম → আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তুমি সকালে তোমার পরিবার থেকে বের হয়ে একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট অবস্থানে বিন্যস্ত করছিলে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ১২২ঃ

إِذۡ هَمَّتۡ (ইয হাম্মাত → যখন ইচ্ছা করল)
طَّائِفَتَانِ (তাইফাতানি → দুই দল)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
أَن تَفۡشَلَا (আন তাফশালা → দুর্বল হতে)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
وَلِيُّهُمَا (ওয়ালিইয়ুহুমা → তাদের অভিভাবক)
وَعَلَى اللّٰهِ (ওয়া ‘আলাল্লাহি → আর আল্লাহর ওপর)
فَلۡيَتَوَكَّلِ (ফালইয়াতাওয়াক্কালি → ভরসা করুক)
الْمُؤۡمِنُونَ (আল মু’মিনূন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যখন তোমাদের দুই দল দুর্বল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, আর আল্লাহ ছিলেন তাদের অভিভাবক। এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা যেন আল্লাহর ওপরই ভরসা করে।


আয়াত – ১২৩ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → আর নিশ্চয়ই )

نَصَرَكُمُ (নাসারাকুমু → তোমাদের সাহায্য করেছেন (নাসারা অর্থ সাহায্যকারী এই আয়াত তার প্রমাণ)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِبَدۡرٍ (বিবাদরিন → বদরের প্রান্তে)
وَأَنتُمۡ (ওয়া আনতুম → অথচ তোমরা)
أَذِلَّةٌ (আযিল্লাতুন → দুর্বল/অসহায়)

فَاتَّقُوا (ফাত্তাকূ → তাই ভয় করো)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشۡكُرُونَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞ হও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বদরের প্রান্তরে সাহায্য (নাসারা) করেছিলেন, যখন তোমরা দুর্বল ছিলে। তাই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।


আয়াত – ১২৪ঃ

اِذۡ تَقُولُ (ইয তাকূলু → যখন তুমি বলছিলে)
لِلْمُؤۡمِنِينَ (লিল মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
أَلَن يَكۡفِيَكُمۡ (আলান ইয়াকফিয়াকুম → তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয়)
أَن يُمِدَّكُمۡ (আন ইউমিদ্দাকুম → যে তিনি তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)

بِثَلَاثَةِ (বিছালাছাতি → তিনের)
آلَافٍ (আলাফিন → হাজারসমূহ / বহু হাজার সংখ্যা)
مِّنَ الْمَلَائِكَةِ (মিনাল মালাইকাহ → ফেরেশতাদের মধ্যে)
مُنْزَلِينَ (মুনযালীন → প্রেরিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যখন তুমি একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের বলছিলে, ‘এটা কি তোমাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের তিন হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করে তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন ?’


আয়াত – ১২৫ঃ

بَلَىٰ (বালা → হ্যাঁ)
إِن تَصۡبِرُوا (ইন তাসবিরূ → যদি ধৈর্য ধরো)
وَتَتَّقُوا (ওয়া তাত্তাকূ → খোদাভীরুতা রাখো)
وَيَأۡتُوكُم (ওয়া ইয়াতূকুম → তারা আসবে)
مِّن فَوۡرِهِمۡ (মিন ফাওরিহিম → এই মুহূর্তে)
هَٰذَا (হাযা → এটা)
يُمۡدِدۡكُمۡ (ইউমদিদকুম → শক্তি বৃদ্ধি করবেন)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
بِخَمۡسَةِ (বিখামসাতি → পাঁচ)
آلَافٍ (আলাফিন → হাজার)
مِّنَ الْمَلَائِكَةِ (মিনাল মালাইকাহ → ফেরেশতা)
مُسَوِّمِينَ (মুসাওয়িমীন → চিহ্নিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি তোমরা ধৈর্য ধরো ও খোদাভীরুতা (তাকওয়া) অর্জন করো, আর তারা হঠাৎ তোমাদের উপর আসে, তাহলে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করবেন।