رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত – ১৭৬ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَحۡزُنۡكَ (ইয়াহযুনকা → তোমাকে দুঃখিত করে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يُسَارِعُونَ (ইউসা-রি‘ঊনা → দ্রুত এগিয়ে যায়)
فِي الۡكُفۡرِ (ফিল কুফরি → অবিশ্বাসের পথে)
إِنَّهُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয় তারা)
لَنۡ (লান → কখনো না)
يَضُرُّوا (ইয়াদুররূ → ক্ষতি করতে পারবে)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
شَيۡئًا (শাইআন → কিছুই)
يُرِيدُ (ইউরীদু → চান)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
أَلَّا (আল্লা → না)
يَجۡعَلَ (ইয়াজ‘আলা → রাখেন/দেন)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
حَظًّا (হাজ্জান → কোনো অংশ)
فِي الۡآخِرَةِ (ফিল আখিরাতি → পরকালে)
وَلَهُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
عَظِيمٌ (আজীম → মহা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা অবিশ্বাসের পথে দ্রুত এগিয়ে যায়, তারা যেন তোমাকে দুঃখিত না করে। নিশ্চয় তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ চান যে, তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ না থাকে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।


আয়াত – ১৭৭ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اشۡتَرَوُا (ইশতারাউ → কিনে নিয়েছে)
الۡكُفۡرَ (আল কুফরা → অবিশ্বাস)
بِالۡإِيمَانِ (বিল ঈমানি → বিশ্বাসের বিনিময়ে)
لَنۡ (লান → কখনো না)
يَضُرُّوا (ইয়াদুররূ → ক্ষতি করতে পারবে)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
شَيۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَلَهُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
أَلِيمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয় যারা বিশ্বাসের (ঈমানের) বিনিময়ে অবিশ্বাসকে (কুফরকে) গ্রহণ করেছে, তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


আয়াত – ১৭৮ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَحۡسَبَنَّ (ইয়াহসাবান্না → মনে করবে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
أَنَّمَا (আন্নামা → নিশ্চয়ই যা)
نُمۡلِي (নুমলী → আমরা অবকাশ দিই)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
خَيۡرٌ (খাইরুন → ভালো)
لِّأَنفُسِهِمۡ (লিআনফুসিহিম → তাদের নিজেদের জন্য)
إِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
نُمۡلِي (নুমলী → আমরা অবকাশ দিই)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
لِيَزۡدَادُوا (লিইয়াঝদাদূ → যাতে বেড়ে যায়)
إِثۡمًا (ইছমান → পাপ)
وَلَهُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
مُّهِينٌ (মুহীন → লাঞ্ছনাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবিশ্বাসীরা যেন মনে না করে যে, আমি তাদেরকে যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের নিজেদের জন্য ভালো। আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি শুধু এ জন্য যে, তারা যেন আরও অধিক পাপ করে। আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।


আয়াত – ১৭৯ঃ

مَا كَانَ (মা-কানা → নয় এমন)
اللّٰهُ لِيَذَرَ (আল্লাহু লিইয়াযারা → আল্লাহ ছেড়ে দেন)
الۡمُؤۡمِنِينَ (আল মু’মিনীনা → খাঁটি বিশ্বাসীদের)
عَلَىٰ مَا (আলামা → যে অবস্থায়)
أَنتُمۡ عَلَيۡهِ (আনতুম ‘আলাইহি → তোমরা আছ)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَمِيزَ (ইয়ামীঝা → পৃথক করেন)
الۡخَبِيثَ (আল খাবীছা → অপবিত্রকে)
مِنَ الطَّيِّبِ (মিনাত্তাইয়িবি → পবিত্র থেকে)
وَمَا كَانَ (ওয়া মা-কানা → এবং নয় এমন)
اللّٰهُ لِيُطۡلِعَكُمۡ (আল্লাহু লিইউতলি‘আকুম → আল্লাহ তোমাদের জানান)
عَلَى الۡغَيۡبِ (আলাল গাইবি → অদৃশ্য বিষয়)
وَلَٰكِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
اللّٰهَ يَجۡتَبِي (আল্লাহা ইয়াজতাবী → আল্লাহ মনোনীত করেন)
مِن رُّسُلِهِ (মির রুসুলিহী → তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে)
مَن يَشَاءُ (মাইঁ ইয়াশাউ → যাকে তিনি চান)
فَآمِنُوا (ফাআ-মিনূ → সুতরাং বিশ্বাস আনো)
بِاللّٰهِ وَرُسُلِهِ (বিল্লা-হি ওয়া রুসুলিহী → আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি)
وَإِن تُؤۡمِنُوا (ওয়া ইন তু’মিনূ → আর যদি তোমরা ঈমান আনো)
وَتَتَّقُوا (ওয়া তাত্তাকূ → এবং খোদাভীরুতা অর্জন করো)
فَلَكُمۡ (ফালাকুম → তবে তোমাদের জন্য)
أَجۡرٌ عَظِيمٌ (আজরুন ‘আজীম → মহা প্রতিদান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অপবিত্রকে পবিত্র হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় আছো, আল্লাহ্ খাঁটি বিশ্বাসীদেরকে সেই অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না। আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদেরকে অদৃশ্যের খবর জানিয়ে দেবেন। তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস আনো। আর যদি তোমরা বিশ্বাস আনো ও খোদাভীরুতা অর্জন করো, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান।


আয়াত – ১৮০ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَحۡسَبَنَّ (ইয়াহসাবান্না → মনে করবে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَبۡخَلُونَ (ইয়াবখালূনা → কৃপণতা করে)
بِمَا (বিমা → যা কিছুতে)
آتَاهُمُ (আ-তা-হুমু → তাদের দিয়েছেন)
اللّٰهُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
مِن فَضۡلِهِ (মিন ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ থেকে)
هُوَ خَيۡرًا (হুয়া খাইরান → তা ভালো)
لَّهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
بَلۡ (বাল → বরং)
هُوَ شَرٌّ (হুয়া শাররুন → তা মন্দ)
لَّهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
سَيُطَوَّقُونَ (ছাইউতাওওয়াকূনা → তাদের গলায় পরানো হবে)
مَا بَخِلُوا (মা-বাখিলূ → যা নিয়ে কৃপণতা করেছে)
بِهِ (বিহী → তা)
يَوۡمَ الۡقِيَامَةِ (ইয়াওমাল কিয়া-মাতি → পরকালে নির্দিষ্ট সময়ে)
وَلِلّٰهِ (ওয়া লিল্লা-হি → এবং আল্লাহরই)
مِيرَاثُ (মীরা-ছু → উত্তরাধিকার)
السَّمَاوَاتِ (আসসামা-ওয়া-তি → আসমানসমূহের)
وَالۡأَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং জমিনের)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা)
تَعۡمَلُونَ (তা‘মালূনা → তোমরা কর)
خَبِيرٌ (খাবীর → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যাদেরকে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা দিয়েছেন, তা নিয়ে কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে যে, এটি তাদের জন্য ভালো। বরং এটি তাদের জন্য মন্দ। পরকালে নির্দিষ্ট সময়ে তারা যে বিষয়ে কৃপণতা করেছে, তা তাদের গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে। আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ১৮১ঃ

لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
سَمِعَ (ছামি‘আ → শুনেছেন)
اللّٰهُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
قَوۡلَ (কাওলা → কথা)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
قَالُوا (কা-লূ → বলেছিল)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
فَقِيرٌ (ফাকীরুন → অভাবগ্রস্ত)
وَّنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → আর আমরা)
أَغۡنِيَاءُ (আগনিয়া-উ → ধনী)
سَنَكۡتُبُ (ছানাকতুবু → আমরা লিখে রাখব)
مَا (মা → যা)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলেছে)
وَقَتۡلَهُمُ (ওয়া কাতলাহুমু → এবং তাদের হত্যা করা)
الۡأَنۢبِيَاءَ (আল আম্বিয়া-আ → আম্বিয়াদের)
بِغَيۡرِ حَقٍّ (বিগাইরি হাক্কিন → অন্যায়ভাবে)
وَنَقُولُ (ওয়া নাকূলু → এবং আমরা বলব)
ذُوقُوا (যূকূ → আস্বাদন কর)
عَذَابَ (আযাবা → শাস্তি)
الۡحَرِيقِ (আল হারীক → জ্বলন্ত আগুনের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা বলে, ‘আল্লাহ্ অবশ্যই অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত’, তাদের কথা আল্লাহ্ শুনেছেন। তারা যা বলেছে এবং আম্বিয়াদের অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিষয় আমি লিখে রাখব এবং আমি বলবো, ‘জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর।’


আয়াত – ১৮২ঃ

ذَٰلِكَ (যা-লিকা → এটি)
بِمَا (বিমা → সে কারণে যা)
قَدَّمَتۡ (কাদ্দামাত → অগ্রে পাঠিয়েছে)
أَيۡدِيكُمۡ (আইদীকুম → তোমাদের হাত)
وَأَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়)
اللّٰهَ (ল্লা-হা → আল্লাহ)
لَيۡسَ (লাইসা → নন)
بِظَلَّامٍ (বিজাল্লা-মিন → অত্যাচারকারী)
لِّلۡعَبِيدِ (লিল‘আবীদ → বান্দাদের প্রতি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে এটি তারই ফল। আর নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নন।


আয়াত – ১৮৩ঃ

اَلَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
قَالُوا (কা-লূ → বলেছে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
عَهِدَ (আহিদা → অঙ্গীকার করেছেন)
إِلَيۡنَا (ইলাইনা → আমাদের সাথে)
أَلَّا (আল্লা → যে না)
نُؤۡمِنَ (নু’মিনা → আমরা বিশ্বাস করব)
لِرَسُولٍ (লিরাসূলিন → কোনো রাসূলের প্রতি)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَأۡتِيَنَا (ইয়া’তিইয়ানা → সে আমাদের কাছে আনে)
بِقُرۡبَانٍ (বিকুরবা-নিন → কুরবানী)
تَأۡكُلُهُ (তা’কুলুহু → যা গ্রাস করবে)
النَّارُ (আন্নারু → আগুন)
قُلۡ (কুল → বলো)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
جَاءَكُمۡ (জা-আকুম → এসেছে তোমাদের কাছে)
رُسُلٌ (রুসুলুন → রাসূলগণ)
مِّن قَبۡلِي (মিন কাবলী → আমার পূর্বে)
بِالۡبَيِّنَاتِ (বিল বাইয়িনা-তি → সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ)
وَبِالَّذِي (ওয়া বিল্লাযী → এবং তা-সহ যা)
قُلۡتُمۡ (কুলতুম → তোমরা বলেছিলে)
فَلِمَ (ফালিমা → তবে কেন)
قَتَلۡتُمُوهُمۡ (কাতালতুমূহুম → তোমরা তাদের হত্যা করেছিলে)
إِن كُنتُمۡ (ইন কুনতুম → যদি তোমরা হও)
صَادِقِينَ (সা-দিকীন → সত্যবাদী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা বলেছে—“নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে অঙ্গীকার করেছেন যে, আমরা কোনো রাসূলের প্রতি বিশ্বাস আনব না, যতক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন কুরবানী নিয়ে আসে যা আগুন গ্রাস করবে।” বলো—আমার পূর্বেও তোমাদের কাছে বহু রাসূল সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং তোমরা যা বলেছ তা নিয়ে এসেছিল। তবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে কেন তোমরা তাদের হত্যা করেছিলে?


আয়াত – ১৮৪ঃ

فَإِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
كَذَّبُوكَ (কাযযাবূকা → তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে অবশ্যই)
كُذِّبَ (কুযযিবা → মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে)
رُسُلٌ (রুসুলুন → রাসূলগণকে)
مِّن قَبۡلِكَ (মিন কাবলিকা → তোমার পূর্বে)
جَاءُوا (জাঊ → তারা এসেছিল)
بِالۡبَيِّنَاتِ (বিল বাইয়িনা-তি → সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ)
وَالزُّبُرِ (ওয়াঝ ঝুবুরি → এবং সহীফাসমূহসহ)
وَالۡكِتَابِ (ওয়াল কিতা-বি → এবং কিতাবসহ)
الۡمُنِيرِ (আল মুনীর → আলোকোজ্জ্বল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বেও বহু রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। তারা সুস্পষ্ট নিদর্শন, সহীফাসমূহ এবং আলোকোজ্জ্বল কিতাব নিয়ে এসেছিল।


আয়াত – ১৮৫ঃ

كُلُّ (কুল্লু → প্রত্যেক)
نَفۡسٍ (নাফসিন → প্রাণ)
ذَائِقَةُ (যাইকাতু → আস্বাদনকারী)
الۡمَوۡتِ (আল মাউতি → মৃত্যুর)
وَإِنَّمَا (ওয়া ইন্নামা → আর নিশ্চয়ই)
تُوَفَّوۡنَ (তুওয়াফফাওনা → তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে)
أُجُورَكُمۡ (উজূরাকুম → তোমাদের পুরস্কার)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → নির্দিষ্ট সময়ের পর্যায়ে/দিনে)
الۡقِيَامَةِ (আল কিয়ামাতি → পরকালে)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
زُحۡزِحَ (যুহঝিহা → দূরে সরানো হয়)
عَنِ النَّارِ (আনিন্না-রি → আগুন থেকে)
وَأُدۡخِلَ (ওয়া উদখিলা → এবং প্রবেশ করানো হয়)
الۡجَنَّةَ (আল জান্নাতা → বাগানে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে নিশ্চয়ই)
فَازَ (ফা-ঝা → সফল হয়েছে)
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
الۡحَيَاةُ الدُّنۡيَا (আল হায়াতুদ্দুনইয়া → দুনিয়ার জীবন)
إِلَّا (ইল্লা → শুধু)
مَتَاعُ (মাতা‘উ → ভোগ্য বস্তু)
الۡغُرُورِ (আল গুরূর → ধোঁকা/প্রতারণা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর পরকালের নির্দিষ্ট সময়ের পর্যায়ে তোমাদেরকে তোমাদের পুরস্কার সম্পূর্ণভাবে দেওয়া হবে। অতএব, যে ব্যক্তিকে আগুন থেকে দূরে সরিয়ে বাগানে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম। আর দুনিয়ার জীবন কেবল ধোঁকার সামগ্রী।


আয়াত – ১৮৬ঃ

لَتُبۡلَوُنَّ (লাতুবলাউন্না → অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করা হবে)
فِيۡ أَمۡوَالِكُمۡ (ফী আমওয়ালিকুম → তোমাদের সম্পদে)
وَأَنفُسِكُمۡ (ওয়া আনফুসিকুম → এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে)
وَلَتَسۡمَعُنَّ (ওয়া লাতাসমা‘উন্না → আর অবশ্যই তোমরা শুনবে)
مِنَ الَّذِينَ (মিনাল্লাযীনা → তাদের থেকে যারা)
أُوتُوا الۡكِتَابَ (ঊতুল কিতা-বা → কিতাবপ্রাপ্ত)
مِن قَبۡلِكُمۡ (মিন কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
وَمِنَ الَّذِينَ (ওয়া মিনাল্লাযীনা → এবং তাদের থেকে যারা)
أَشۡرَكُوا (আশরাকূ → শিরক করেছে)
أَذًى كَثِيرًا (আযান কাছীরা → অনেক কষ্টদায়ক কথা)
وَإِن تَصۡبِرُوا (ওয়া ইন তাসবিরূ → আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো)
وَتَتَّقُوا (ওয়া তাত্তাকূ → এবং খোদাভীরুতা অবলম্বন করো)
فَإِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়)
ذَٰلِكَ (যা-লিকা → এটি)
مِنۡ عَزۡمِ (মিন ‘আজমি → দৃঢ় সংকল্পের)
الۡأُمُورِ (আল উমূরি → বিষয়সমূহের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করা হবে তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের নফসের মাধ্যমে। আর তোমরা অবশ্যই শুনবে তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং যারা শিরক করেছে তাদের থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং খোদাভীরুতা অর্জন করো, তবে নিশ্চয় এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ।


আয়াত – ১৮৭ঃ

وَإِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
أَخَذَ (আখাযা → গ্রহণ করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
مِيثَاقَ (মীছাকা → অঙ্গীকার)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
أُوتُوا الۡكِتَابَ (ঊতুল কিতা-বা → কিতাবপ্রাপ্ত)
لَتُبَيِّنُنَّهُ (লাতুবাইয়িনুন্নাহু → অবশ্যই তোমরা তা প্রকাশ করবে)
لِلنَّاسِ (লিন্না-ছি → মানুষের জন্য)
وَلَا تَكۡتُمُونَهُ (ওয়া লা তাকতুমূনাহু → এবং তা গোপন করবে না)
فَنَبَذُوهُ (ফানাবাযূহু → কিন্তু তারা তা ছুঁড়ে ফেলে দিল)
وَرَاءَ (ওয়ারাআ → পিছনে)
ظُهُورِهِمۡ (যুহূরিহিম → তাদের পিঠের পেছনে)
وَاشۡتَرَوۡا (ওয়াশতারাও → এবং তারা কিনেছে)
بِهِ (বিহী → এর বিনিময়ে)
ثَمَنًا قَلِيلًا (ছামানান কালীলা → অল্প মূল্য)
فَبِئۡسَ (ফাবি’ছা → কতই না নিকৃষ্ট)
مَا يَشۡتَرُونَ (মা-ইয়াশতারূন → যা তারা ক্রয় করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না, তখন তারা তা তাদের পেছনে ফেলে দিল এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করল। কতই না নিকৃষ্ট যা তারা ক্রয় করেছে।


আয়াত – ১৮৮ঃ

لَا (লা → না)
تَحۡسَبَنَّ (তাহসাবান্না → তুমি কখনো মনে করো না)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَفۡرَحُونَ (ইয়াফরাহূনা → আনন্দ করে)
بِمَا (বিমা → যা নিয়ে)
آتَوۡا (আ-তাও → তারা করেছে)
وَيُحِبُّونَ (ওয়া ইউহিব্বূনা → এবং ভালোবাসে)
أَن (আন → যে)
يُحۡمَدُوا (ইউহমাদূ → প্রশংসিত হোক তারা)
بِمَا (বিমা → যা নিয়ে)
لَمۡ يَفۡعَلُوا (লাম ইয়াফ‘আলূ → তারা করেনি)
فَلَا (ফালা → অতএব না)
تَحۡسَبَنَّهُمۡ (তাহসাবান্নাহুম → তুমি তাদের মনে করো না)
بِمَفَازَةٍ (বিমাফা-যাতিন → মুক্তির অবস্থায়)
مِّنَ الۡعَذَابِ (মিনাল আযাব → শাস্তি থেকে)
وَلَهُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
أَلِيمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা নিজেদের কৃতকর্ম নিয়ে আনন্দ করে এবং যা তারা করেনি সে বিষয়ে প্রশংসিত হতে ভালোবাসে—তাদেরকে তুমি কখনো মনে করো না যে তারা শাস্তি থেকে মুক্ত থাকবে। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


আয়াত – ১৮৯ঃ

وَلِلّٰهِ (ওয়া লিল্লা-হি → আর আল্লাহরই জন্য)
مُلۡكُ (মুল্কু → রাজত্ব)
السَّمَاوَاتِ (আসসামা-ওয়া-তি → আসমানসমূহের)
وَالۡأَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
كُلِّ شَيۡءٍ (কুল্লি শাইইন → সব কিছুর)
قَدِيرٌ (কাদীর → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আসমানসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই। আর আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।


আয়াত – ১৯০ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
فِيۡ (ফী → মধ্যে)
خَلۡقِ (খালকি → সৃষ্টি)
السَّمَاوَاتِ (আসসামা-ওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡأَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
وَاخۡتِلَافِ (ওয়াখতিলা-ফি → পরিবর্তনে/আবর্তনে)
اللَّيۡلِ (আল্লাইলি → রাতের)
وَالنَّهَارِ (ওয়ান্নাহা-রি → এবং দিনের)
لَآيَاتٍ (লা-আয়া-তিন → নিদর্শনসমূহ)
لِّأُولِي (লিঊলি → বুদ্ধিমানদের জন্য)
الۡأَلۡبَابِ (আল আলবা-ব → জ্ঞানীদের/বিবেকবানদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয় আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন।


আয়াত – ১৯১ঃ

الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَذۡكُرُونَ (ইয়াযকুরূনা → স্মরণ করে)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
قِيَامًا (কিয়া-মান → দাঁড়িয়ে)
وَقُعُودًا (ওয়া কু‘ঊদান → বসে)
وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ (ওয়া আলা জুনূবিহিম → এবং শুয়ে)
وَيَتَفَكَّرُونَ (ওয়া ইয়াতাফাক্কারূনা → এবং চিন্তা করে)
فِي خَلۡقِ (ফী খালকি → সৃষ্টিতে)
السَّمَاوَاتِ (আসসামা-ওয়া-তি → আসমানসমূহের)
وَالۡأَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
مَا (মা → না)
خَلَقۡتَ (খালাকতা → তুমি সৃষ্টি করেছ)
هَٰذَا (হাযা → এটি)
بَاطِلًا (বা-তিলান → অনর্থক)
سُبۡحَانَكَ (সুবহা-নাকা → তুমি পবিত্র)
فَقِنَا (ফাকিনা → অতএব আমাদের রক্ষা করো)
عَذَابَ (আযাবা → শাস্তি)
النَّارِ (আন্না-র → আগুনের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে, তারা বলে—“হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র। অতএব আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।”


আয়াত – ১৯২ঃ

رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
إِنَّكَ (ইন্নাকা → নিশ্চয় তুমি)
مَن (মান → যাকে)
تُدۡخِلِ (তুদখিলি → তুমি প্রবেশ করাও)
النَّارَ (আন্না-র → আগুনে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে নিশ্চয়)
أَخۡزَيۡتَهُ (আখঝাইতাহু → তুমি তাকে লাঞ্ছিত করেছ)
وَمَا (ওয়া মা → আর নেই)
لِلظَّالِمِينَ (লিজ্জা-লিমীনা → জালিমদের জন্য)
مِنۡ أَنصَارٍ (মিন আনসা-র → কোনো সাহায্যকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাও, তাকে তুমি অপমানিত করো। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।


আয়াত – ১৯৩ঃ

রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
إِنَّنَا (ইন্নানা → নিশ্চয় আমরা)
سَمِعۡنَا (ছামি‘না → আমরা শুনেছি)
مُنَادِيًا (মুনা-দিয়ান → একজন আহ্বানকারীকে)
يُنَادِي (ইউনা-দী → আহ্বান করছিলেন)
لِلۡإِيمَانِ (লিল ঈমান → বিশ্বাসের দিকে)
أَنۡ (আন → যে)
آمِنُوا (আ-মিনূ → তোমরা বিশ্বাস আনো)
بِرَبِّكُمۡ (বিরাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি)
فَآمَنَّا (ফাআমান্না → অতএব আমরা বিশ্বাস এনেছি)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
فَاغۡفِرۡ لَنَا (ফাগফিরলানা → আমাদের ক্ষমা করো)
ذُنُوبَنَا (যুনূবানা → আমাদের গুনাহসমূহ)
وَكَفِّرۡ عَنَّا (ওয়া কাফফির ‘আন্না → আমাদের পাপ মোচন করো)
سَيِّئَاتِنَا (সাইয়িআতিনা → আমাদের মন্দ কাজসমূহ)
وَتَوَفَّنَا (ওয়া তাওয়াফফানা → এবং আমাদের মৃত্যু দাও)
مَعَ (মা‘আ → সাথে)
الۡأَبۡرَارِ (আল আবরা-র → নেককারদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা শুনেছি একজন আহ্বানকারী বিশ্বাসের (ঈমানের) দিকে আহ্বান করছে—“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস আনো।” অতএব আমরা বিশ্বাস এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করো, আমাদের পাপসমূহ দূর করে দাও এবং আমাদের নেককারদের সাথে মৃত্যু দাও।


আয়াত – ১৯৪ঃ

رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
وَآتِنَا (ওয়া আ-তিনা → আমাদের দাও)
مَا (মা → যা)
وَعَدْتَّنَا (ওয়া‘আত্তানা → তুমি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ)
عَلَىٰ رُسُلِكَ (আলা রুসুলিকা → তোমার রাসূলদের মাধ্যমে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُخۡزِنَا (তুখঝিনা → আমাদের অপমান করো)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → দিনে)
الۡقِيَامَةِ (আল কিয়ামাতি → পরকালের)
إِنَّكَ (ইন্নাকা → নিশ্চয় তুমি)
لَا تُخۡلِفُ (লা তুখলিফু → কখনো ভঙ্গ করো না)
الۡمِيعَادَ (আল মী‘আদা → প্রতিশ্রুতি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে দাও যা তুমি তোমার রাসূলদের মাধ্যমে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ এবং পরকালে আমাদের অপমান করো না। নিশ্চয় তুমি কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না।


আয়াত – ১৯৫ঃ

فَاسۡتَجَابَ (ফাছতাজাবা → সাড়া দিলেন)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের)
رَبُّهُمۡ (রাব্বুহুম → তাদের প্রতিপালক)
أَنِّيۡ (আন্নী → নিশ্চয় আমি)
لَاۤ أُضِيعُ (লা উদী‘উ → আমি নষ্ট করি না)
عَمَلَ (আমালা → কাজ)
عَامِلٍ (আমিলিন → কর্মকারীর)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
مِّن ذَكَرٍ (মিন যাকারিন → পুরুষ)
أَوۡ أُنثَىٰ (আও উনছা → নারী)
بَعۡضُكُمۡ (বা‘দুকুম → তোমাদের একে অপর)
مِّنۢ بَعۡضٍ (মিন বা‘দিন → একজন অন্যজন থেকে)
فَالَّذِينَ (ফাল্লাযীনা → অতএব যারা)
هَاجَرُوا (হা-জারু → হিজরত করেছে)
وَأُخۡرِجُوا (ওয়া উখরিজু → এবং বের করে দেওয়া হয়েছে)
مِن دِيَارِهِمۡ (মিন দিয়ারিহিম → তাদের ঘর থেকে)
وَأُوذُوا (ওয়া ঊযূ → এবং কষ্ট দেওয়া হয়েছে)
فِي سَبِيلِيۡ (ফী ছাবীলী → আমার পথে)
وَقَاتَلُوا (ওয়া কাতালু → এবং যুদ্ধ করেছে)
وَقُتِلُوا (ওয়া কুতিলু → এবং নিহত হয়েছে)
لَأُكَفِّرَنَّ (লাউকাফফিরান্না → আমি অবশ্যই মাফ করব)
عَنۡهُمۡ (আনহুম → তাদের থেকে)
سَيِّئَاتِهِمۡ (সাইয়িআতিহিম → তাদের পাপসমূহ)
وَلَأُدۡخِلَنَّهُمۡ (ওয়া লাউদখিলান্নাহুম → এবং আমি অবশ্যই প্রবেশ করাব)
جَنَّاتٍ (জান্নাতিন → বাগানে)
تَجۡرِي (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِن تَحۡتِهَا (মিন তাহতিহা → যার নিচ দিয়ে)
الۡأَنۡهَارُ (আল আনহারু → নদীসমূহ)
ثَوَابًا (ছাওয়া-বান → প্রতিদান হিসেবে)
مِّنۡ عِندِ اللّٰهِ (মিন ‘ইনদিল্লা-হ → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
عِندَهُ (ইনদাহু → তাঁর কাছে)
حُسۡنُ (হুসনু → সুন্দর)
الثَّوَابِ (আছ-ছাওয়াব → পুরস্কার)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তখন তাদের প্রতিপালক, তাদের ডাকে সাড়া দিলেন—“আমি তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষ বা নারী কারো কাজই নষ্ট করি না। তোমরা একে অপরের অংশ।” অতএব যারা হিজরত করেছে, তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, আমার পথে কষ্ট পেয়েছে, যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে—আমি অবশ্যই তাদের পাপসমূহ মুছে দেব এবং তাদের এমন বাগানে প্রবেশ করাব যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান। আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে ‍সুন্দরতম প্রতিদান।


আয়াত – ১৯৬ঃ

لَا (লা → না)
يَغُرَّنَّكَ (ইয়াগুররান্নাকা → যেন তোমাকে প্রতারিত না করে)
تَقَلُّبُ (তাকাল্লুবু → চলাফেরা)
الَّذِينَ (ল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারু → অবিশ্বাস করেছে)
فِي الۡبِلَادِ (ফিল বিলাদ → দেশে দেশে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

দেশে দেশে অবিশ্বাসীদের (কাফিরদের) অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।


আয়াত – ১৯৭ঃ

مَتَاعٌ (মাতা‘উন → সামান্য ভোগ/সামগ্রী)
قَلِيلٌ (কালীলুন → অল্প)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
مَأۡوَىٰهُمۡ (মা’ওয়া-হুম → তাদের আশ্রয়স্থল)
جَهَنَّمُ (জাহান্নামু → ভয়ংকর শাস্তির আবাস)
وَبِئۡسَ (ওয়া বি’ছা → আর কতই না নিকৃষ্ট)
الۡمِهَادُ (আল মিহাদ → শয্যা/বাসস্থান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এটি অল্প ভোগ্যসামগ্রী মাত্র। এরপর তাদের আশ্রয়স্থল হবে ভয়ংকর শাস্তির আবাস, আর তা কতই না নিকৃষ্ট শয্যা।


আয়াত – ১৯৮ঃ

لٰكِنِ (লা-কিনি → কিন্তু)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّقَوۡا (ইত্তাকাও → খোদাভীরুতা অবলম্বন করেছে)
رَبَّهُمۡ (রাব্বাহুম → তাদের প্রতিপালকে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
جَنَّاتٌ (জান্নাতুন → বাগানসমূহ)
تَجۡرِي (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِن تَحۡتِهَا (মিন তাহতিহা → যার নিচ দিয়ে)
الۡأَنۡهَارُ (আল আনহার → নদীসমূহ)
خَالِدِينَ (খালিদীনা → চিরস্থায়ীভাবে)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
نُزُلًا (নুঝুলান → আপ্যায়ন হিসেবে)
مِّنۡ عِندِ اللّٰهِ (মিন ‘ইনদিল্লা-হ → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَمَا (ওয়া মা → আর যা)
عِندَ اللّٰهِ (ইনদাল্লা-হ → আল্লাহর কাছে)
خَيْرٌ (খাইরুন → উত্তম)
لِّلۡأَبۡرَارِ (লিল আবরা-র → নেককারদের জন্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিন্তু যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে খোদাভীরুতা অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে বাগানসমূহ—যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। তারা সেখানে চিরস্থায়ী থাকবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা নেককারদের জন্যই উত্তম।


আয়াত – ১৯৯ঃ

وَإِنَّ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়)
مِنۡ أَهۡلِ (মিন আহলি → পরিবারের)
الۡكِتَابِ (আল কিতা-ব → কিতাবধারীদের মধ্যে)
لَمَنۡ (লামান → এমন কেউ যে)
يُؤۡمِنُ (ইউ’মিনু → বিশ্বাস আনে)
بِاللّٰهِ (বিল্লা-হ → আল্লাহর প্রতি)
وَمَاۤ أُنزِلَ (ওয়া মা উনঝিলা → এবং যা নাযিল হয়েছে)
إِلَيۡكُمۡ (ইলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَمَاۤ أُنزِلَ (ওয়া মা উনঝিলা → এবং যা নাযিল হয়েছে)
إِلَيۡهِمۡ (ইলাইহিম → তাদের উপর)
خَاشِعِينَ (খা-শি‘ঈনা → বিনয়ীভাবে)
لِلّٰهِ (লিল্লা-হ → আল্লাহর জন্য)
لَا يَشۡتَرُونَ (লা ইয়াশতারূনা → তারা ক্রয় করে না)
بِآيَاتِ اللّٰهِ (বিআ-য়া-তিল্লা-হ → আল্লাহর আয়াতসমূহ)
ثَمَنًا قَلِيلًا (ছামানান কালীলা → অল্প মূল্য)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
أَجۡرُهُمۡ (আজরুহুম → তাদের প্রতিদান)
عِندَ رَبِّهِمۡ (ইনদা রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের কাছে)
إِنَّ اللّٰهَ (ইন্নাল্লা-হা → নিশ্চয় আল্লাহ)
سَرِيعُ الۡحِسَابِ (সারী‘উল হিসাব → দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয় কিতাবধারী পরিবারের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আনে এবং তোমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে—সবকিছুর উপরই বিশ্বাস আনে। আল্লাহর প্রতি বিনয়ী থাকে। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অল্প মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে না। তারাই তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরুস্কার পাবে। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


আয়াত – ২০০ঃ

يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছো)
اصۡبِرُوا (ইসবিরূ → ধৈর্য ধরো)
وَصَابِرُوا (ওয়া সাবিরূ → পরস্পর ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো)
وَرَابِطُوا (ওয়া রা-বিতূ → দৃঢ়ভাবে অবস্থান করো)
وَاتَّقُوا (ওয়া তাত্তাকূ → ভয় করো)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُونَ (তুফলিহূন → সফল হও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধরো, একে অপরকে ধৈর্যের প্রতিযোগিতা কর ও দৃঢ়ভাবে অবস্থান করো এবং আল্লাহকে ভয় করো—যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পারো।