সূরা আলে ইমরান (آل عمران) | ইমরানের পরিবার
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২০০
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত – ৫১ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
رَبِّیۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
وَرَبُّکُمۡ (ওয়া রাব্বুকুম → এবং তোমাদের প্রতিপালক)
فَاعۡبُدُوۡہُ (ফা‘বুদূহু → সুতরাং তোমরা তাঁর দাসত্ব করো)
ہٰذَا (হা-যা → এটি)
صِرَاطٌ (সিরা-তুম → পথ)
مُّسۡتَقِیۡمٌ (মুস্তাকীম → সরল/সঠিক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা তাঁরই দাসত্ব (ইবাদত) করো। এটাই সরল পথ।
আয়াত – ৫২ঃ
فَلَمَّاۤ (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
اَحَسَّ (আহাস্সা → অনুভব করলেন)
عِیۡسٰی (ঈসা → ঈসা)
مِنۡہُمُ (মিনহুমুল → তাদের থেকে)
الۡکُفۡرَ (আল-কুফরা → অবিশ্বাস)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
مَنۡ (মান → কে)
اَنۡصَارِیۡۤ (আনসারী → আমার সাহায্যকারী)
اِلَی اللّٰہِ (ইলাল্লা-হি → আল্লাহর পথে)
قَالَ (কা-লা → বলল)
الۡحَوَارِیُّوۡنَ (আল-হাওয়ারিইয়ূন → হাওয়ারীগণ/শিষ্যরা)
نَحۡنُ (নাহনু → আমরা)
اَنۡصَارُ (আনসারু → সাহায্যকারী)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اٰمَنَّا (আ-মান্না → আমরা বিশ্বাস এনেছি)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَاشۡہَدۡ (ওয়াশহাদ → এবং সাক্ষী থাকুন)
بِاَنَّا (বিআন্না → যে আমরা)
مُسۡلِمُوۡنَ (মুসলিমূন → আত্মসমর্পণকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যখন ঈসা তাদের মধ্যে অবিশ্বাস (কুফরি) অনুভব করলেন, তখন বললেন, কে আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী হবে? শিষ্যগণ বলল, আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এনেছি, আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা আত্মসমর্পনকারী (মুসলিম)।
আয়াত – ৫৩ঃ
رَبَّنَاۤ (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
اٰمَنَّا (আ-মান্না → আমরা বিশ্বাস এনেছি)
بِمَاۤ (বিমা → যা)
اَنۡزَلۡتَ (আনযালতা → তুমি নাযিল করেছ)
وَاتَّبَعۡنَا (ওয়াত্তাবা‘না → এবং আমরা অনুসরণ করেছি)
الرَّسُوۡلَ (আর-রাসূলা → রাসূলকে)
فَاکۡتُبۡنَا (ফাকতুবনা → অতএব আমাদের লিখে নাও)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الشّٰہِدِیۡنَ (আশ-শাহিদীন → সাক্ষ্যদানকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস এনেছি যা তুমি নাযিল করেছ এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। অতএব আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও।
আয়াত – ৫৪ঃ
وَمَکَرُوۡا (ওয়া মাকারূ → এবং তারা চক্রান্ত করল)
وَمَکَرَ (ওয়া মাকারা → আর পরিকল্পনা করলেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
خَیۡرُ (খাইরু → সর্বোত্তম)
الۡمٰکِرِیۡنَ (আল-মাকিরীন → পরিকল্পনাকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তারা চক্রান্ত করল, আর আল্লাহও পরিকল্পনা করলেন। আর আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।
আয়াত – ৫৫ঃ
اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
یٰعِیۡسٰۤی (ইয়া ‘ঈসা → হে ঈসা)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
مُتَوَفِّیۡکَ (মুতাওয়াফফীকা → মৃতভাবে গ্রহণ করব । (৩: ১৯৩। ৪:৯৭। ৬:৬০। ১৬:৩২। ৩৯: ৪২ = تَوَفَّ অর্থ মৃত্যু ঘটানো বা জান কবজ করা বুঝানো হয়েছে।)
وَرَافِعُکَ (ওয়া রাফি‘উকা → এবং তোমাকে উন্নীতকারী/উঠিয়ে নেয়া)
اِلَیَّ (ইলাইইয়া → আমার দিকে)
وَمُطَہِّرُکَ (ওয়া মুতাহহিরুকা → এবং তোমাকে পবিত্রকারী)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
وَجَاعِلُ (ওয়া জা-‘ইলু → এবং স্থাপনকারী)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّبَعُوۡکَ (ইত্তাবা‘ঊকা → তোমার অনুসরণ করেছে)
فَوۡقَ (ফাওকা → উপরে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡۤا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
اِلٰی (ইলা → পর্যন্ত)
یَوۡمِ (ইয়াওমি → দিন)
الۡقِیٰمَۃِ (আল-কিয়ামাতি → কিয়ামত)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اِلَیَّ (ইলাইইয়া → আমার দিকেই)
مَرۡجِعُکُمۡ (মারজি‘উকুম → তোমাদের প্রত্যাবর্তন)
فَاَحۡکُمُ (ফা আহকুমু → তখন আমি ফয়সালা করব)
بَیۡنَکُمۡ (বাইনাকুম → তোমাদের মধ্যে)
فِیۡمَا (ফীমা → যে বিষয়ে)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
فِیۡہِ (ফীহি → তাতে)
تَخۡتَلِفُوۡنَ (তাখতালিফূন → মতভেদ করতে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দেব এবং আমার দিকে উঠিয়ে নেব, আর তোমাকে অবিশ্বাসীদের থেকে পবিত্র রাখব। আর যারা তোমার অনুসরণ করেছে, তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের (কাফিরদের) ওপর প্রাধান্য দান করব। তারপর তোমাদের আমার কাছেই ফিরানো হবে। যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে, তখন আমি তোমাদের মধ্যে সে বিষয়ে ফয়সালা করব।
আয়াত – ৫৬ঃ
فَاَمَّا (ফা-আম্মা → অতঃপর যারা)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
فَاُعَذِّبُہُمۡ (ফা উ‘আযযিবুহুম → আমি তাদের দেব)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
شَدِیۡدًا (শাদীদান → ভয়ংকর/কঠিন)
فِی الدُّنۡیَا (ফিদ্দুনইয়া → দুনিয়াতে)
وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল আখিরাতি → এবং পরকালে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং নেই)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ (মিন নাসিরীন → কোনো সাহায্যকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব যারা অবিশ্বাস করেছে, আমি তাদেরকে দুনিয়া ও পরকালে কঠিন শাস্তি দেব। আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
আয়াত – ৫৭ঃ
وَاَمَّا (ওয়া আম্মা → আর )
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছে)
وَعَمِلُوا (ওয়া ‘আমিলূ → এবং করেছে)
الصّٰلِحٰتِ (আস-সা-লিহাতি → সৎকাজসমূহ)
فَیُوَفِّیۡہِمۡ (ফা ইউওয়াফফীহিম → তাদের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন)
اُجُوۡرَہُمۡ (উজূরাহুম → তাদের পুরস্কার)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
لَا یُحِبُّ (লা-ইউহিব্বু → ভালোবাসেন না)
الظّٰلِمِیۡنَ (আয-যা-লিমীন → অত্যাচারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা বিশ্বাস (ঈমান) এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আল্লাহ তাদের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন। আর আল্লাহ অত্যাচারীদের (যালিমদের) ভালোবাসেন না।
আয়াত – ৫৮ঃ
ذٰلِکَ (যা-লিকা → সেই)
نَتۡلُوۡہُ (নাতলূহু → আমরা পাঠ করি)
عَلَیۡکَ (আলাইকা → তোমার ওপর)
مِنَ (মিন → থেকে)
الۡاٰیٰتِ (আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
وَالذِّکۡرِ (ওয়াযযিকর → স্মরণবাণী/স্মরণনিকা)
الۡحَکِیۡمِ (আল-হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সেই আমি তোমার প্রতি আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) পাঠ করছি ও প্রজ্ঞাময় স্মরণনিকা (যিকর) থেকে।
আয়াত – ৫৯ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
مَثَلَ (মাছালা → উদাহরণ)
عِیۡسٰی (ঈসা → ঈসা)
عِنۡدَ (ইনদা → কাছে)
اللّٰہِ (আল্লা-হ → আল্লাহ)
کَمَثَلِ (কামাছালি → এর মতো)
اٰدَمَ (আদামা → আদম)
خَلَقَہٗ (খালাকাহু → তাকে সৃষ্টি করেছেন)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تُرَابٍ (তুরাবিন → মাটি)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
لَہٗ (লাহু → তাকে)
کُنۡ (কুন → হয়ে যাও)
فَیَکُوۡنُ (ফাইয়াকূন → তখন সে হয়ে যায়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার উদাহরণ (মাছালা) আদমের মতো। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর বলেছেন ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেছে।
আয়াত – ৬০ঃ
اَلۡحَقُّ (আল-হাক্কু → সত্য)
مِنۡ (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّکَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালকের)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَکُنۡ (তাকুন → তুমি হয়ো)
مِّنَ (মিনা → মধ্যে)
الۡمُمۡتَرِیۡنَ (আল-মুমতারীন → সন্দেহকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তুমি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আয়াত – ৬১ঃ
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে কেউ)
حَآجَّکَ (হাজ্জাকা → তোমার সঙ্গে বিতর্ক করে। (এখানেও হজ্জ শব্দের অর্থ বির্তক)
فِیۡہِ (ফীহি → এ বিষয়ে)
مِنۡ (মিন → হতে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পরে)
مَا (মা → যা)
جَآءَکَ (জাআকা → তোমার কাছে এসেছে)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الۡعِلۡمِ (আল-‘ইলমি → জ্ঞান)
فَقُلۡ (ফাকুল → তখন বল)
تَعَالَوۡا (তা‘আলাও → আসো)
نَدۡعُ (নাদ‘উ → আমরা আহ্বান করি)
اَبۡنَآءَنَا (আবনা-আনা → আমাদের সন্তানদের)
وَاَبۡنَآءَکُمۡ (ওয়া আবনা-আকুম → এবং তোমাদের সন্তানদের)
وَنِسَآءَنَا (ওয়া নিসা-আনা → আমাদের নারীদের)
وَنِسَآءَکُمۡ (ওয়া নিসা-আকুম → এবং তোমাদের নারীদের)
وَاَنۡفُسَنَا (ওয়া আনফুসা-না → এবং আমাদের নিজেদের)
وَاَنۡفُسَکُمۡ (ওয়া আনফুসা-কুম → এবং তোমাদের নিজেদের)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
نَبۡتَہِلۡ (নাবতাহিল → আমরা বিনয়ের সাথে আহ্বান করি)
فَنَجۡعَلۡ (ফানাজ‘আল → আমরা স্থাপন করি)
لَّعۡنَتَ (লা‘নাতা → অভিশাপ)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
عَلَی (আলা → ওপর)
الۡکٰذِبِیۡنَ (আল-কাযিবীন → মিথ্যাবাদীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব তোমার কাছে জ্ঞান আসার পরও যদি তারা তোমার সঙ্গে বিতর্ক করে, তবে বলো: আসো, আমরা ডাকি আমাদের সন্তানদের এবং তোমাদের সন্তানদের, আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজেদের এবং তোমাদের নিজেদের। তারপর আমরা আমরা বিনয়ের সাথে আহ্বান করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষণ করি।
আয়াত – ৬২ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
هٰذَا (হা-যা → এটি)
لَہُوَ (লাহুওয়া → অবশ্যই)
الۡقَصَصُ (আল-কাসাসু → বর্ণনা/কাহিনি)
الۡحَقُّ (আল-হাক্কু → সত্য)
وَمَا (ওয়া মা → এবং নেই)
مِنۡ (মিন → কোনো)
اِلٰہٍ (ইলাহিন → বিধানদাতা)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَہُوَ (লাহুওয়া → তিনি-ই)
الۡعَزِیۡزُ (আল-আযীযু → পরাক্রমশালী)
الۡحَکِیۡمُ (আল-হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই এটাই সত্য বর্ণনা। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
আয়াত – ৬৩ঃ
فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
عَلِیۡمٌۢ (আলীমুন → ভালোভাবে জানেন)
بِالۡمُفۡسِدِیۡنَ (বিল-মুফসিদীন → অশান্তি সৃষ্টিকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন।
আয়াত – ৬৪ঃ
قُلۡ (কুল → বল)
یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ (ইয়া আহলাল কিতাব → হে কিতাবধারী পরিবার)
تَعَالَوۡا (তা‘আলাও → আসো)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
کَلِمَۃٍ (কালিমাতিন → একটি কথা)
سَوَآءٍۢ (সাওয়া → সমান)
بَیۡنَنَا (বাইনানা → আমাদের মাঝে)
وَبَیۡنَکُمۡ (ওয়া বাইনাকুম → এবং তোমাদের মাঝে)
اَلَّا نَعۡبُدَ (আল্লা না‘বুদা → যেন আমরা দাসত্ব না করি)
اِلَّا اللّٰہَ (ইল্লাল্লাহা → আল্লাহ ছাড়া)
وَلَا نُشۡرِکَ بِہٖ شَیۡئًا (ওয়া লা নুশরিকা বিহী শাইআন → এবং তাঁর সাথে কিছু শরিক না করি)
وَّلَا یَتَّخِذَ بَعۡضُنَا بَعۡضًا (ওয়া লা ইয়াত্তাখিযা বা‘দুনা বা‘দান → এবং আমরা যেন একে অপরকে)
اَرۡبَابًا (আরবা-বান → কর্তৃত্বশীল হিসেবে না নেই)
مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ (মিন দূনিল্লাহ → আল্লাহ ছাড়া)
فَاِنۡ (ফাইন → যদি)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَقُوۡلُوا (ফাকূলূ → তাহলে বলো)
اشۡہَدُوۡا (ইশহাদূ → সাক্ষী থাকো)
بِاَنَّا (বিআন্না → যে আমরা)
مُسۡلِمُوۡنَ (মুসলিমূন → আত্মসমর্পণকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বল, হে কিতাবধারী পরিবার! এমন একটি ন্যায়ের কথায় আসো, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান। যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও দাসত্ব না করি, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করি, এবং আমরা একে অপরকে আল্লাহ ছাড়া কাউকে কর্তৃত্বশীল হিসেবে গ্রহণ না করি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো: তোমরা সাক্ষী থাকো, নিশ্চয়ই আমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম )।
আয়াত – ৬৫ঃ
یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহল → হে পরিবার)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাব → কিতাবধারীরা)
لِمَ (লিমা → কেন)
تُحَآجُّوۡنَ (তুহাজ্জুনা → তোমরা বিতর্ক কর। (হজ্জ মানে বির্তক)
فِیۡۤ (ফী → সম্পর্কে)
اِبۡرٰہِیۡمَ (ইব্রাহীমা → ইব্রাহীম)
وَمَاۤ (ওয়া মা → অথচ না)
اُنۡزِلَتِ (উনযিলাতি → অবতীর্ণ হয়েছে)
التَّوۡرٰىۃُ (আত-তাওরাতু → তাওরাত)
وَالۡاِنۡجِیۡلُ (ওয়াল-ইনজীলু → ইঞ্জিল)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
مِنۡۢ بَعۡدِہٖ (মিন বা‘দিহী → তার পরে)
اَفَلَا (আফালা → তাহলে কি না)
تَعۡقِلُوۡنَ (তা‘কিলূন → তোমরা বোঝ না/বুদ্ধি ব্যবহার কর না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে কিতাবধারী পরিবার! তোমরা কেন ইব্রাহীম সম্পর্কে বিতর্ক (হজ্জ) কর, অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল তো তার পরে অবতীর্ণ হয়েছে? তাহলে কি তোমরা বুদ্ধি ব্যবহার কর না?
আয়াত – ৬৬ঃ
ہٰۤاَنۡتُمۡ (হা-আনতুম → তোমরাই)
ہٰۤؤُلَآءِ (হাউলাই → এইসব লোক)
حَاجَجۡتُمۡ (হাজাজতুম → তোমরা বিতর্ক করেছ। (হজ্জ অর্থ বির্তক)
فِیۡمَا (ফীমা → এমন বিষয়ে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
بِہٖ (বিহী → যার সম্পর্কে)
عِلۡمٌ (ইলমুন → জ্ঞান আছে)
فَلِمَ (ফালিমা → তাহলে কেন)
تُحَآجُّوۡنَ (তুহাজ্জুনা → তোমরা বিতর্ক কর । (হজ্জ অর্থ বির্তক)
فِیۡمَا (ফীমা → এমন বিষয়ে)
لَیۡسَ (লাইসা → নেই)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
بِہٖ (বিহী → যার সম্পর্কে)
عِلۡمٌ (ইলমুন → জ্ঞান)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → আর তোমরা)
لَا تَعۡلَمُوۡنَ (লা তা‘লামূন → জানো না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমরাই তো তারা, যারা এমন বিষয়ে বিতর্ক (হজ্জ) করেছ যা সম্পর্কে তোমাদের জ্ঞান আছে। তাহলে কেন তোমরা এমন বিষয়ে বিতর্ক (হজ্জ) করছ যা সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই? আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা তা জানো না।
আয়াত – ৬৭ঃ
مَاکَانَ (মাকানা → ছিল না)
اِبۡرٰہِیۡمُ (ইব্রাহীমু → ইব্রাহীম)
یَہُوۡدِیًّا (ইয়াহূদিয়্যন → অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তি (ইহুদি)
وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
نَصۡرَانِیًّا (নাসরানিয়্যন → সাহায্যকারী (খ্রিস্টান)
وَّلٰکِنۡ (ওয়া লাকিন → বরং)
کَانَ (কানা → ছিল)
حَنِیۡفًا (হানীফান → সত্যের দিকে দৃঢ়ভাবে মুখ ফিরানো ব্যক্তি)
مُّسۡلِمًا (মুসলিমান → আত্মসমর্পণকারী)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
کَانَ (কানা → ছিল)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُشۡرِکِیۡنَ (আল-মুশরিকীন → শিরককারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
ইব্রাহীম অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তি (ইহুদি) ছিলেন না এবং সাহায্যকারীও (খ্রিস্টানও) ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন সত্যের দিকে দৃঢ়ভাবে মুখ ফিরানো ব্যক্তি (হানীফান) ও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিমান)। আর তিনি কখনো শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
আয়াত – ৬৮ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اَوۡلَی (আওলা → সবচেয়ে নিকটবর্তী)
النَّاسِ (আন্নাস → মানুষদের মধ্যে)
بِاِبۡرٰہِیۡمَ (বিইব্রাহীমা → ইব্রাহীমের সাথে)
لَلَّذِیۡنَ (লাল্লাযীনা → তারা যারা)
اتَّبَعُوۡہُ (ইত্তাবা‘ঊহু → তার অনুসরণ করেছে)
وَہٰذَا (ওয়া হা-যা → এবং এই)
النَّبِیُّ (আন-নাবিয়্যু → নবী)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস এনেছে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
وَلِیُّ (ওয়ালিয়্যু → অভিভাবক)
الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইব্রাহীমের সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো তারা, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে, এবং এই নবী ও যারা বিশ্বাস এনেছে। আর আল্লাহ একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) অভিভাবক (ওয়ালি/ওলি)।
আয়াত – ৬৯ঃ
وَدَّتۡ (ওয়াদ্দাত → ইচ্ছা করেছিল)
طَّآئِفَۃٌ (তায়িফাতুন → একটি দল)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
اَہۡلِ الۡکِتٰبِ (আহলিল কিতাব → কিতাবধারী পরিবার)
لَوۡ (লাও → যদি)
یُضِلُّوۡنَکُمۡ (ইউদিল্লূনাকুম → তোমাদের বিভ্রান্ত করত)
وَمَا (ওয়া মা → অথচ তারা)
یُضِلُّوۡنَ (ইউদিল্লূনা → বিভ্রান্ত করে না)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
اَنۡفُسَہُمۡ (আনফুসাহুম → নিজেদের)
وَمَا (ওয়া মা → এবং তারা না)
یَشۡعُرُوۡنَ (ইয়াশ‘উরূন → অনুভব করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিতাবধারী একটি দল চেয়েছিল যে তারা তোমাদের বিভ্রান্ত করবে। কিন্তু তারা নিজেদের ছাড়া কাউকে বিভ্রান্ত করে না, অথচ তারা তা বুঝতেও পারে না।
আয়াত – ৭০ঃ
یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহল → হে পরিবার)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাব → কিতাবধারীরা)
لِمَ (লিমা → কেন)
تَکۡفُرُوۡنَ (তাকফুরূন → তোমরা অস্বীকার কর/কুফরি কর)
بِاٰیٰتِ (বিআয়াতি → আল্লাহর নিদর্শনসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লা-হ → আল্লাহর)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → অথচ তোমরা)
تَشۡہَدُوۡنَ (তাশহাদূন → সাক্ষ্য দাও/জানো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে কিতাবধারী পরিবার! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) অস্বীকার কর, অথচ তোমরা নিজেরাই তা সম্পর্কে সাক্ষ্য দাও?
আয়াত – ৭১ঃ
یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহল → হে পরিবার)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাব → কিতাবধারীরা)
لِمَ (লিমা → কেন)
تَلۡبِسُوۡنَ (তালবিসূন → তোমরা মিশিয়ে দাও)
الۡحَقَّ (আল-হাক্কা → সত্যকে)
بِالۡبَاطِلِ (বিল-বা-তিলি → মিথ্যার সাথে)
وَتَکۡتُمُوۡنَ (ওয়া তাকতুমূন → এবং গোপন কর)
الۡحَقَّ (আল-হাক্কা → সত্যকে)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → অথচ তোমরা)
تَعۡلَمُوۡنَ (তা‘লামূন → জানো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে কিতাবধারী পরিবার! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দাও এবং জেনে শুনে সত্যকে গোপন করছ?
আয়াত – ৭২ঃ
وَقَالَتۡ (ওয়া কা-লাত → এবং বলল)
طَّآئِفَۃٌ (তায়িফাতুন → একটি দল)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
اَہۡلِ الۡکِتٰبِ (আহলিল কিতাব → কিতাবধারীদের পরিবার)
اٰمِنُوۡا (আমিনূ → তোমরা বিশ্বাস আনো)
بِالَّذِیۡۤ (বিল্লাযী → সেই কিতাবের প্রতি যা)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাযিল করা হয়েছে)
عَلَی (আলা → উপর)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
وَجۡہَ (ওয়াজহা → শুরুতে/প্রথম ভাগে)
النَّہَارِ (আন-নাহারি → দিনের)
وَاکۡفُرُوۡۤا (ওয়াকফুরূ → আর অস্বীকার করো)
اٰخِرَہٗ (আখিরাহু → শেষাংশে)
لَعَلَّہُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
یَرۡجِعُوۡنَ (ইয়ারজি‘ঊন → ফিরে যায়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিতাবধারীদের একটি দল বলল, “যা বিশ্বাসীদের উপর নাযিল হয়েছে, দিনের শুরুতে তা বিশ্বাস করো এবং দিনের শেষে তা অস্বীকার করো, সম্ভাবত তারা ফিরবে।”
আয়াত – ৭৩ঃ
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُؤۡمِنُوۡۤا (তু’মিনূ → তোমরা বিশ্বাস করো)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
لِمَنۡ (লিমান → তাকে যে)
تَبِعَ (তাবি‘আ → অনুসরণ করে)
دِیۡنَکُمۡ (দীনাকুম → তোমাদের জীবণব্যবস্থা/ধর্ম)
قُلۡ (কুল → বলো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الۡہُدٰی (আল-হুদা → সঠিক পথ/হিদায়াত)
ہُدَی اللّٰہِ (হুদাল্লাহি → আল্লাহর হিদায়াত)
اَنۡ (আন → যে)
یُّؤۡتٰۤی (ইউ’তা → দেওয়া হয়)
اَحَدٌ (আহাদুন → কাউকে)
مِّثۡلَ (মিসলা → সমান)
مَاۤ اُوۡتِیۡتُمۡ (মা উতীতুম → যা তোমাদের দেওয়া হয়েছে)
اَوۡ (আও → অথবা)
یُحَآجُّوۡکُمۡ (ইউহাজ্জূকুম → তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে (হজ্জ অর্থ=বিতর্ক)
عِنۡدَ (ইনদা → কাছে)
رَبِّکُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
قُلۡ (কুল → বলো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الۡفَضۡلَ (আল-ফাদল → অনুগ্রহ)
بِیَدِ اللّٰہِ (বিইয়াদি-ল্লাহি → আল্লাহর হাতে)
یُؤۡتِیۡہِ (ইউ’তীহি → তিনি দেন)
مَنۡ یَّشَآءُ (মান ইয়াশা → যাকে ইচ্ছা)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
وَاسِعٌ (ওয়াসি‘উন → অসীম/প্রশস্ত)
عَلِیۡمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তারা বলে, “তোমরা শুধু তাকেই বিশ্বাস করো যে তোমাদের জীবণব্যবস্থা (ধর্ম) অনুসরণ করে।” বলো: নিশ্চয়ই পথ নির্দেশ (হিদায়াত) হলো আল্লাহর পথনির্দেশ (হিদায়াত)। যে কাউকে তোমাদের মতো যা দেওয়া হয়েছে, অথবা তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের সাথে বিতর্ক (হজ্জ) করছ? বলো: নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।
আয়াত – ৭৪ঃ
یَّخۡتَصُّ (ইয়াখতাসসু → তিনি বিশেষভাবে নির্বাচন করেন)
بِرَحۡمَتِہٖ (বিরাহমাতিহী → তাঁর দয়া দ্বারা)
مَنۡ (মান → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশা → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
ذُو (যু → অধিকারী)
الۡفَضۡلِ (আল-ফাদল → অনুগ্রহ)
الۡعَظِیۡمِ (আল-আজীম → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি যাকে ইচ্ছা, তাঁর দয়ার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচন করেন। আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।
আয়াত – ৭৫ঃ
وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং মধ্যে)
اَہۡلِ الۡکِتٰبِ (আহলিল কিতাব → কিতাবধারী পরিবারের মধ্যে)
مَنۡ (মান → কেউ কেউ)
اِنۡ (ইন → যদি)
تَاۡمَنۡہُ (তা’মানহু → তুমি তাকে আমানত দাও)
بِقِنۡطَارٍ (বিকিনতার → অনেক বড় সম্পদ)
یُّؤَدِّہٖۤ (ইউআদ্দিহী → সে তা ফিরিয়ে দেয়)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার কাছে)
وَمِنۡہُمۡ (ওয়া মিনহুম → আর তাদের মধ্যে)
مَّنۡ (মান → কেউ কেউ)
اِنۡ (ইন → যদি)
تَاۡمَنۡہُ (তা’মানহু → তুমি তাকে আমানত দাও)
بِدِیۡنَارٍ (বিদীনার → অল্প সম্পদ)
لَّا یُؤَدِّہٖۤ (লা ইউআদ্দিহী → সে তা ফিরিয়ে দেয় না)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার কাছে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
مَا (মা → যতক্ষণ না)
دُمۡتَ (দুমতা → তুমি থাক)
عَلَیۡہِ (আলাইহি → তার ওপর)
قَآئِمًا (কাইমান → তদারককারী)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → এটি)
بِاَنَّہُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
قَالُوۡا (কা-লূ → বলেছে)
لَیۡسَ (লাইসা → নেই)
عَلَیۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
فِی الۡاُمِّیّٖنَ (ফিল উম্মিয়্যীন → অজ্ঞদের বিষয়ে (আমানত এর স্বাক্ষী না রাখা বা লিখে না রাখা)
سَبِیۡلٌ (সবীলুন → কোনো দায়)
وَیَقُوۡلُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূলূন → এবং তারা বলে)
عَلَی اللّٰہِ (আলাল্লাহ → আল্লাহর ওপর)
الۡکَذِبَ (আল-কাযিবা → মিথ্যা)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূন → জানে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিতাবধারী পরিবারের মধ্যে এমন লোকও আছে, যাকে তুমি বিপুল সম্পদও আমানত দিলে সে তা ফিরিয়ে দেবে। আবার তাদের মধ্যে এমনও আছে, যাকে তুমি সামান্য সম্পদও আমানত দিলে সে তা ফিরিয়ে দেবে না, যতক্ষণ না তুমি তার উপর তদারকি কর। এটা এজন্য যে তারা বলে, “অজ্ঞদের ব্যাপারে আমাদের কোনো দায় নেই।” এবং তারা জেনে-শুনে আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।
