সূরা আলে ইমরান (آل عمران) | ইমরানের পরিবার
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ২০০


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।

আয়াত -২৬ঃ

قُلِ — কুলি — বলো
اللّٰہُمَّ — আল্লাহুম্মা — হে আল্লাহ

مٰلِکَ — মা-লিকা — মালিক
الۡمُلۡکِ — আল-মুলকি — রাজত্বের

تُؤۡتِی — তু’তি — তুমি দান করো
الۡمُلۡکَ — আল-মুলকা — রাজত্ব
مَنۡ — মান — যাকে
تَشَآءُ — তাশাউ — তুমি ইচ্ছা করো

وَتَنۡزِعُ — ওয়া তানঝি‘উ — এবং তুমি কেড়ে নাও
الۡمُلۡکَ — আল-মুলকা — রাজত্ব
مِمَّنۡ — মিম্মান — যার থেকে
تَشَآءُ — তাশাউ — তুমি ইচ্ছা করো

وَتُعِزُّ — ওয়া তু‘ইঝঝু — এবং তুমি সম্মান দাও
مَنۡ — মান — যাকে
تَشَآءُ — তাশাউ — তুমি ইচ্ছা করো

وَتُذِلُّ — ওয়া তুযিল্লু — এবং তুমি অপমানিত করো
مَنۡ — মান — যাকে
تَشَآءُ — তাশাউ — তুমি ইচ্ছা করো

بِیَدِکَ — বিইয়াদিকা — তোমার হাতেই
الۡخَیۡرُ — আল-খাইরু — সমস্ত কল্যাণ

اِنَّکَ — ইন্নাকা — নিশ্চয়ই তুমি
عَلٰی — ‘আলা — উপর
كُلِّ — কুল্লি — সব
شَیۡءٍ — শাইইন — কিছুর
قَدِیۡرٌ — কাদীর — সর্বশক্তিমান

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “হে আল্লাহ! আপনি রাজত্বের মালিক। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন। আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। সমস্ত কল্যাণ আপনার হাতেই। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”


আয়াত -২৭ঃ

تُوۡلِجُ — তূলিজু — তুমি প্রবেশ করাও
الَّیۡلَ — আল্লাইলা — রাতকে
فِی — ফী — মধ্যে
النَّہَارِ — আন্নাহারি — দিনের

وَتُوۡلِجُ — ওয়া তূলিজু — এবং তুমি প্রবেশ করাও
النَّہَارَ — আন্নাহারা — দিনকে
فِی — ফী — মধ্যে
الَّیۡلِ — আল্লাইলি — রাতের

وَتُخۡرِجُ — ওয়া তুখরিজু — এবং তুমি বের করো
الۡحَیَّ — আল-হাইয়্যা — জীবিতকে
مِنَ — মিনাল — থেকে
الۡمَیِّتِ — আল-মাইয়্যিতি — মৃত

وَتُخۡرِجُ — ওয়া তুখরিজু — এবং তুমি বের করো
الۡمَیِّتَ — আল-মাইয়্যিতা — মৃতকে
مِنَ — মিনাল — থেকে
الۡحَیِّ — আল-হাইয়্যি — জীবিত

وَتَرۡزُقُ — ওয়া তারঝুকু — এবং তুমি রিযিক দাও
مَنۡ — মান — যাকে
تَشَآءُ — তাশাউ — তুমি ইচ্ছা করো
بِغَیۡرِ — বিগাইরি — ব্যতীত
حِسَابٍ — হিছাব — হিসাব

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আপনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। আর আপনি যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।


আয়াত -২৮ঃ

لَا یَتَّخِذِ (লা-ইয়াত্তাখিযি → গ্রহণ করা উচিত নয়)

الۡمُؤۡمِنُوۡنَ (আল মু’মিনূন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)

الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কা-ফিরীন → অবিশ্বাসীদের)

اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়া-আ → অভিভাবক)

مِنۡ دُوۡنِ (মিন দূনি → বাদ দিয়ে)

الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)

وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যে)

یَّفۡعَلۡ (ইয়াফ‘আল → করে)

ذٰلِکَ (যা-লিকা → এটা)

فَلَیۡسَ (ফালাইসা → তবে সে নয়)

مِنَ اللّٰہِ (মিনাল্লা-হি → আল্লাহর পক্ষ থেকে)

فِیۡ شَیۡءٍ (ফী শাইইন → কোনো কিছুর মধ্যে)

اِلَّاۤ (ইল্লা → তবে ব্যতীত)

اَنۡ (আন → যে)

تَتَّقُوۡا (তাত্তাকূ → তোমরা আত্মরক্ষা করো)

مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের থেকে)

تُقٰىۃً (তুকা-তান → সতর্কতা আত্মরক্ষামূলকভাবে)

وَیُحَذِّرُکُمُ (ওয়া ইউহাযযিরুকুমু → এবং তিনি তোমাদের সতর্ক করছেন)

اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)

نَفۡسَہٗ (নাফছাহূ → নিজ সত্তা সম্পর্কে)

وَاِلَی (ওয়া ইলা → এবং দিকে)

اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)

الۡمَصِیۡرُ (আল মাসীর → প্রত্যাবর্তন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা (মুমিনরা) যেন একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) বাদ দিয়ে অবিশ্বাসীদের (কাফিরদের) অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ না করে। আর যে এমন করবে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না—তবে যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো। আর আল্লাহ তোমাদের নিজ সত্তা সম্পর্কে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন।


আয়াত -২৯ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اِنۡ (ইন → যদি)
تُخۡفُوۡا (তুখফূ → তোমরা গোপন করো)
مَا (মা → যা)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
صُدُوۡرِکُمۡ (সুদূরিকুম → তোমাদের অন্তরে/শরীরে)
اَوۡ (আও → অথবা)
تُبۡدُوۡہُ (তুবদূহু → তোমরা প্রকাশ করো)
یَعۡلَمۡہُ (ইয়া‘লামহু → তা জানেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
وَیَعۡلَمُ (ওয়া ইয়া‘লামু → এবং তিনি জানেন)
مَا (মা → যা)
فِی (ফী → মধ্যে)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডল)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল আরদি → পৃথিবীতে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
عَلٰی (আলা → উপর)
كُلِّ (কুল্লি → সব)
شَیۡءٍ (শাইইন → কিছুর)
قَدِیۡرٌ (কাদীর → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বলুন, তোমরা যা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখো বা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন। আর তিনি জানেন যা কিছু আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আছে। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।


আয়াত -৩০ঃ

یَوۡمَ (ইয়াওমা → যেদিন)
تَجِدُ (তাজিদু → দেখবে)
كُلُّ (কুল্লু → প্রত্যেক)
نَفۡسٍ (নাফসিন → প্রাণ/ব্যক্তি)
مَّا (মা → যা)
عَمِلَتۡ (আমিলাত → করেছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
خَیۡرٍ (খাইরিন → ভালো কাজ)
مُّحۡضَرًا (মুহদারান → উপস্থিত অবস্থায়)

وَّمَا (ওয়া মা → এবং যা)
عَمِلَتۡ (আমিলাত → করেছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
سُوۡٓءٍ (সূউইন → মন্দ কাজ)

تَوَدُّ (তাওয়াদ্দু → সে কামনা করবে)
لَوۡ (লাও → যদি)
اَنَّ (আন্না → যে)
بَیۡنَہَا (বাইনাহা → তার ও তার মধ্যে)
وَبَیۡنَہٗۤ (ওয়া বাইনাহু → এবং তার মধ্যে)
اَمَدًۢا (আমাদান → দূরত্ব)
بَعِیۡدًا (বা‘ঈদান → অনেক দূরের)

وَیُحَذِّرُکُمُ (ওয়া ইউহাযযিরুকুমু → এবং তোমাদের সতর্ক করেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
نَفۡسَہٗ (নাফছাহু → তাঁর নিজের ব্যাপারে)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
رَءُوۡفٌۢ (রাঊফুন → অত্যন্ত দয়ালু)
بِالۡعِبَادِ (বিল ইবা-দ → বান্দাদের প্রতি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার করা ভালো কাজগুলো উপস্থিত অবস্থায় পাবে এবং যা মন্দ কাজ সে করেছে তাও পাবে, তখন সে কামনা করবে—তার ও সেই মন্দ কাজের মাঝে যদি অনেক দূরের ব্যবধান থাকত! আর আল্লাহ তোমাদের তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করেন। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।


আয়াত -৩১ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اِنۡ (ইন → যদি)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
تُحِبُّوۡنَ (তুহিব্বূন → ভালোবাসো)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
فَاتَّبِعُوۡنِیۡ (ফাত্তাবি‘ঊনী → তবে আমার অনুসরণ করো)
یُحۡبِبۡکُمُ (ইউহব্বিকুমু → তোমাদের ভালোবাসবেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
وَیَغۡفِرۡ (ওয়া ইয়াগফির → এবং ক্ষমা করবেন)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
ذُنُوۡبَکُمۡ (যুনূবাকুম → তোমাদের অপরাধসমূহ)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূর → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো—তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত -৩২ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اَطِیۡعُوا (আতী‘ঊ → অনুসরণ করো)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
وَالرَّسُوۡلَ (ওয়ার রাছূলা → এবং রাসূলকে)

فَاِنۡ (ফাইন → যদি)
تَوَلَّوۼ (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
لَا (লা → না)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কাফিরীন → অবিশ্বাসীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের অনুসরণ করো। কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের ভালোবাসেন না।


আয়াত -৩৩ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
اصۡطَفٰۤی (ইসতাফা → মনোনীত করেছেন)
اٰدَمَ (আ-দামা → আদম)
وَنُوۡحًا (ওয়া নূহান → এবং নূহ)
وَّاٰلَ (ওয়া আ-লা → এবং বংশ/পরিবার)
اِبۡرٰہِیۡمَ (ইবরা-হীমা → ইব্রাহিম)
وَاٰلَ (ওয়া আ-লা → এবং বংশ/পরিবার)
عِمۡرٰنَ (ইমরা-না → ইমরান)
عَلَی (আলা → ওপর)
الۡعٰلَمِیۡنَ (আল ‘আ-লামীন → বিশ্ববাসীর মধ্যে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইব্রাহিমের পরিবার এবং ইমরানের পরিবারকে সমগ্র বিশ্ববাসীর ওপর মনোনীত করেছেন।


আয়াত -৩৪ঃ

ذُرِّیَّۃًۢ (যুররিয়্যাহ → বংশধর/সন্তান-সন্ততি)
بَعۡضُہَا (বা‘দুহা → তাদের এক অংশ)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَعۡضٍ (বা‘দিন → অন্য অংশ)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
سَمِیۡعٌ (ছামী‘উন → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের একাংশ অন্য অংশের বংশধর থেকে এসেছে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত -৩৫ঃ

اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَتِ (কালাতি → বলেছিল)
امۡرَاَتُ (ইমরাআতু → স্ত্রী)
عِمۡرٰنَ (ইমরান → ইমরান)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয় আমি)
نَذَرۡتُ (নাযারতু → আমি অঙ্গীকার করেছি)
لَکَ (লাকা → তোমার জন্য)
مَا (মা → যা)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
بَطۡنِیۡ (বাতনী → আমার গর্ভে)
مُحَرَّرًا (মুহাররারান → মুক্ত/স্বাধীন)
فَتَقَبَّلۡ (ফাতাকাব্বাল → তুমি গ্রহণ করো)
مِنِّیۡ (মিন্নী → আমার পক্ষ থেকে)
اِنَّکَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়)
اَنۡتَ (আন্তা → তুমি)
السَّمِیۡعُ (আস-ছামী‘উ → সর্বশ্রোতা)
الۡعَلِیۡمُ (আল-‘আলীম → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি আমার গর্ভে যা আছে তা তোমার জন্য অঙ্গিকার করেছি স্বাধীনভাবে, তাই তুমি তা আমার পক্ষ থেকে গ্রহণ করো। নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


আয়াত -৩৬ঃ

فَلَمَّا (ফালাম্মা → যখনই)
وَضَعَتۡہَا (ওয়াদা‘আতহা → তাকে প্রসব করল)
قَالَتۡ (কালাত → সে বলল)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার রব)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয় আমি)
وَضَعۡتُہَا (ওয়াদা‘তুহা → আমি তাকে প্রসব করেছি)
اُنۡثٰی (উনছা → কন্যা)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → ভালো জানেন)
بِمَا (বিমা → যা)
وَضَعَتۡ (ওয়াদা‘আত → সে প্রসব করেছে)
وَلَیۡسَ (ওয়ালাইছা → অথচ নয়)
الذَّکَرُ (আয-যাকারু → পুরুষ সন্তান)
کَالۡاُنۡثٰی (কাল উনছা → কন্যার মতো সমান)
وَاِنِّیۡ (ওয়া ইন্নী → আর নিশ্চয় আমি)
سَمَّیۡتُہَا (ছাম্মাইতুহা → তার নাম রেখেছি)
مَرۡیَمَ (মারইয়াম → মারিয়াম)
وَاِنِّیۡ (ওয়া ইন্নী → আর নিশ্চয় আমি)
اُعِیۡذُہَا (উ‘ঈযুহা → তাকে আশ্রয় দিচ্ছি)
بِکَ (বিকা → তোমার কাছে)
وَذُرِّیَّتَہَا (ওয়া যুররিয়্যাতাহা → এবং তার সন্তানদের)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الشَّیۡطٰنِ (আশ-শাইতান → কুমন্ত্রণাদাতা)
الرَّجِیۡمِ (আর-রজীম → বিতাড়িত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন সে তাকে প্রসব করল, সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি। আর আল্লাহ ভালো জানেন সে কী প্রসব করেছে—আর পুরুষ সন্তান তো কন্যার মতো নয়। আমি তার নাম রেখেছি মারিয়াম, এবং আমি তাকে ও তার সন্তানদের বিতাড়িত কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি(সন্তান হওয়ার পর করণীয় দোয়া, আযান দেয়া নয়)


আয়াত -৩৭ঃ

ফَتَقَبَّلَہَا (ফাতাকাব্বালাহা → তাকে গ্রহণ করলেন)
رَبُّہَا (রাব্বুহা → তার প্রতিপালক)
بِقَبُوۡلٍ (বিকাবূলিন → সম্মতিসহ)
حَسَنٍ (হাসানিন → সুন্দর)
وَّاَنۡۢبَتَہَا (ওয়া আম্বাতাহা → এবং তাকে বৃদ্ধি করালেন)
نَبَاتًا (নাবাতান → বৃদ্ধি/লালন)
حَسَنًا (হাসানান → সুন্দরভাবে)
وَّکَفَّلَہَا (ওয়া কাফফালাহা → তাকে তত্ত্বাবধানে দিলেন)
زَکَرِیَّا (যাকারিয়া → যাকারিয়া)
کُلَّمَا (কুল্লামা → যখনই)
دَخَلَ (দাখালা → প্রবেশ করতেন)
عَلَیۡہَا (আলাইহা → তার কাছে)
زَکَرِیَّا (যাকারিয়া → যাকারিয়া)
الۡمِحۡرَابَ (আল মিহরাব → নির্দিষ্ট প্রার্থনা কক্ষ)
وَجَدَ (ওয়াজাদা → পেলেন)
عِنۡدَہَا (ইনদাহা → তার কাছে)
رِزۡقًا (রিজকান → রিযিক)
قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
یٰمَرۡیَمُ (ইয়া মারইয়ামু → হে মারিয়াম)
اَنّٰی (আন্না → কোথা থেকে)
لَکِ (লাকি → তোমার জন্য)
ہٰذَا (হাযা → এটি)
قَالَتۡ (কালাত → সে বলল)
ہُوَ (হুয়া → এটি)
مِنۡ (মিন → থেকে)
عِنۡدِ اللّٰہِ (ইনদিল্লাহ → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লা-হা → নিশ্চয় আল্লাহ)
یَرۡزُقُ (ইয়ারঝুকু → রিযিক দেন)
مَنۡ (মান → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)
بِغَیۡرِ (বিগাইরি → ছাড়া)
حِسَابٍ (হিসাব → হিসাব)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করলেন এবং যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে দিলেন। যখনই যাকারিয়া তার কাছে নির্দিষ্ট প্রার্থনা কক্ষে প্রবেশ করতেন, তার কাছে জীবিকা (খাবার) পেতেন। তিনি বলতেন, হে মারিয়াম! এটি তোমার কাছে কোথা থেকে আসে? সে বলল, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে বেহিসাব জীবিকা দান করেন।


আয়াত -৩৮ঃ

هُنَالِکَ (হুনালিকা → সেখানে)
دَعَا (দা‘আ → প্রার্থনা করল)
زَکَرِیَّا (যাকারিয়া → যাকারিয়া)
رَبَّہٗ (রাব্বাহু → তার প্রতিপালককে)
قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
ہَبۡ (হাব → দান করো)
لِیۡ (লী → আমাকে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
لَّدُنۡکَ (লাদুনকা → তোমার পক্ষ থেকে)
ذُرِّیَّۃً (যুররিয়্যাতান → সন্তান)
طَیِّبَۃً (তাইয়্যিবাহ → পবিত্র)
اِنَّکَ (ইন্নাকা → নিশ্চয় তুমি)
سَمِیۡعُ (ছামী‘উ → সর্বশ্রোতা)
الدُّعَآءِ (আদ-দু‘আ → প্রার্থনা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

সেখানেই যাকারিয়া তার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করলেন এবং বললেন, হে আমার প্রতিপালক! তোমার পক্ষ থেকে আমাকে এক পবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয় তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।


আয়াত -৩৯ঃ

فَنَادَتۡہُ (ফানা-দাতহু → তাকে ডাকল)
الۡمَلٰٓئِکَۃُ (আল-মালা’ইকাতু → ফেরেশতারা)
وَہُوَ (ওয়া হুয়া → আর তিনি)
قَآئِمٌ (কা-ইমুন → দাঁড়িয়ে)
یُّصَلِّیۡ (ইউসাল্লী → সংযোগ স্থাপন করা)
فِی الۡمِحۡرَابِ (ফিল মিহরাব → নির্দিষ্ট প্রার্থনার কক্ষে)
اَنَّ اللّٰہَ (আন্নাল্লা-হা → নিশ্চয় আল্লাহ)
یُبَشِّرُکَ (ইউবাশশিরুকা → তোমাকে সুসংবাদ দেন)
بِیَحۡیٰی (বিইয়াহইয়া → ইয়াহইয়া)
مُصَدِّقًۢا (মুসাদ্দিকান → সত্যায়নকারী)
بِکَلِمَۃٍ (বিকালিমাতিন → এক বাণীর)
مِّنَ اللّٰہِ (মিনাল্লা-হি → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَسَیِّدًا (ওয়া সাইয়্যিদান → এবং সম্মানিত ব্যক্তি / এবং কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি)
وَّحَصُوۡرًا (ওয়া হাসূরান → সংযমী)
وَّنَبِیًّا (ওয়া নাবিয়্যান → নবী)
مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ (মিনাস সালিহীন → সৎকর্মশীলদের মধ্যে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডাক দিল, যখন তিনি নির্দিষ্ট প্রার্থনার কক্ষে দাঁড়িয়ে সংযোগ স্থাপন করছিলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন—যিনি আল্লাহর এক বাণীর সত্যায়নকারী, কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি, সংযমী এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে একজন নবী।


আয়াত -৪০ঃ

قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اَنّٰی (আন্না → কীভাবে)
یَکُوۡنُ (ইয়াকূনু → হবে)
لِیۡ (লী → আমার জন্য)
غُلٰمٌ (গুলামুন → ছেলে সন্তান)
وَّقَدۡ (ওয়া কাদ → অথচ ইতিমধ্যে)
بَلَغَنِیَ (বালাগানিয়া → আমাকে পৌঁছেছে)
الۡکِبَرُ (আল-কিবারু → বার্ধক্য)
وَامۡرَاَتِیۡ (ওয়া ইমরাআতী → এবং আমার স্ত্রী)
عَاقِرٌ (আকিরুন → বন্ধ্যা)
قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
یَفۡعَلُ (ইয়াফ‘আলু → করেন)
مَا (মা → যা)
یَشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমার কীভাবে পুত্র সন্তান হবে, অথচ আমি বার্ধক্যে পৌঁছে গেছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা? তিনি বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।


আয়াত -৪১ঃ

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اجۡعَلۡ (ইজ‘আল → নির্ধারণ করো/স্থির করো)
لِّیۡۤ (লী → আমার জন্য)
اٰیَۃً (আয়াতান → একটি নিদর্শন)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
اٰیَتُکَ (আয়াতুকা → তোমার নিদর্শন)
اَلَّا (আল্লা → এই যে না)
تُکَلِّمَ (তুকাল্লিমা → কথা বলবে)
النَّاسَ (আন্-নাসা → মানুষের সাথে)
ثَلٰثَۃَ (ছালাছাতা → তিন)
اَیَّامٍ (আইইয়ামিন → ২৪ ঘন্টা দিন-রাতের পর্যায়)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ছাড়া)
رَمۡزًا (রামযান → ইশারা-ইঙ্গিত)
وَاذۡکُرۡ (ওয়াযকুর → এবং স্মরণ করো)
رَّبَّکَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালক)
کَثِیۡرًا (কাছীরান → অধিক পরিমাণে)
وَّسَبِّحۡ (ওয়া সাব্বিহ → এবং পবিত্রতা ঘোষণা করো।
بِالۡعَشِیِّ (বিল‘আশিয়্যি → সন্ধ্যায়)
وَالۡاِبۡکَارِ (ওয়াল ইবকার → এবং সকালে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য একটি আয়াত (নিদর্শন) স্থির করে দিন। তিনি বললেন, তোমার আয়াত (নিদর্শন) হলো—তুমি তিন রাতদিন মানুষের সাথে কথা বলতে পারবে না, তবে ইশারায় পারবে। আর তুমি তোমার প্রতিপালকে অধিক স্মরণ করো এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।

(৬৪:০১ – এ দেয়া আছে কিভাবে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে হয় = যা কিছু আকাশমণ্ডলীতে ও যা-কিছু যমীনেতে আছে, তা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে: রাজত্ব তাঁরই এবং তাঁরই সমস্ত প্রশংসা। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।)


আয়াত -৪২ঃ

وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
قَالَتِ (কা-লাতি → বললেন)
الۡمَلٰٓئِکَۃُ (আল-মালাইকাতু → ফেরেশতাগণ)
یٰمَرۡیَمُ (ইয়া মারইয়ামু → হে মারইয়াম)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
اصۡطَفٰکِ (ইসতাফা-কি → তোমাকে মনোনীত করেছেন)
وَطَہَّرَکِ (ওয়া তাহহারাকি → এবং তোমাকে পবিত্র করেছেন)
وَاصۡطَفٰکِ (ওয়াসতাফা-কি → এবং তোমাকে নির্বাচিত করেছেন)
عَلٰی (আলা → ওপর)
نِسَآءِ (নিছাই → নারীদের)
الۡعٰلَمِیۡنَ (আল-আলামীন → সমগ্র জগতের

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এবং যখন ফেরেশতাগণ বললেন, হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, তোমাকে পবিত্র করেছেন এবং সমগ্র জগতের নারীদের ওপর তোমাকে নির্বাচিত করেছেন।


আয়াত -৪৩ঃ

یٰمَرۡیَمُ (ইয়া মারইয়ামু → হে মারইয়াম)
اقۡنُتِیۡ (উকনুতী → বিনীতভাবে অনুগত হও)
لِرَبِّکِ (লিরাব্বিকি → তোমার প্রতিপালকের প্রতি)
وَاسۡجُدِیۡ (ওয়াসজুদী → এবং আনুগত্য করো)
وَارۡکَعِیۡ (ওয়ারকা‘ঈ → এবং বিনম্র হওয়া)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الرّٰکِعِیۡنَ (আর-রাকি‘ঈন → বিনম্রদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে মারইয়াম! তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রতি বিনীতভাবে অনুগত হও, আনুগত্য করো এবং বিনম্রদের সাথে বিনম্র হও।


আয়াত -৪৪ঃ

ذٰلِکَ (যালিকা → এটা)
مِنۡ (মিন → থেকে)
اَنۡۢبَآءِ (আম্বাই → সংবাদসমূহ)
الۡغَیۡبِ (আল-গাইবি → অদৃশ্যের)
نُوۡحِیۡہِ (নূহীহি → আমরা বার্তা পৌছে দিই)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
کُنۡتَ (কুনতা → তুমি ছিলে)
لَدَیۡہِمۡ (লাদাইহিম → তাদের কাছে)
اِذۡ (ইয → যখন)
یُلۡقُوۡنَ (ইউলকূনা → তারা নিক্ষেপ করছিল)
اَقۡلَامَہُمۡ (আকলা-মাহুম → তাদের কলমসমূহ)
اَیُّہُمۡ (আইয়ুহুম → তাদের মধ্যে কে)
یَکۡفُلُ (ইয়াকফুলু → দায়িত্ব নেবে)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
کُنۡتَ (কুনতা → তুমি ছিলে)
لَدَیۡہِمۡ (লাদাইহিম → তাদের কাছে)
اِذۡ (ইয → যখন)
یَخۡتَصِمُوۡنَ (ইয়াখতাসিমূন → তারা বিবাদে লিপ্ত ছিল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আমি তোমার কাছে বার্তা পাঠাই। তুমি তাদের কাছে উপস্থিত ছিলে না, যখন তারা মারইয়ামের দায়িত্ব কে নেবে তা নির্ধারণের জন্য তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল; আর তুমি তখনও তাদের কাছে ছিলে না, যখন তারা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত ছিল।


আয়াত -৪৫ঃ

اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَتِ (কা-লাতি → বললেন)
الۡمَلٰٓئِکَۃُ (আল-মালাইকাতু → ফেরেশতাগণ)
یٰمَرۡیَمُ (ইয়া মারইয়ামু → হে মারইয়াম)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
یُبَشِّرُکِ (ইউবাশশিরুকি → তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন)
بِکَلِمَۃٍ (বিকালিমাতিন → এক বাণীর)
مِّنۡہُ (মিনহু → তাঁর পক্ষ থেকে)
اسۡمُہُ (ইসমুহু → তার নাম)
الۡمَسِیۡحُ (আল-মাসীহু → মসীহ)
عِیۡسَی (ঈসা → ঈসা)
ابۡنُ (ইবনু → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
وَجِیۡہًا (ওয়াজীহান → সম্মানিত)
فِی (ফী → মধ্যে)
الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → দুনিয়া)
وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল আ-খিরাতি → এবং আখিরাত)
وَمِنَ (ওয়া মিনাল → এবং অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُقَرَّبِیۡنَ (আল-মুকাররাবীন → নৈকট্যপ্রাপ্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যখন ফেরেশতাগণ বললেন, হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর সুসংবাদ দিচ্ছেন। তাঁর নাম মসীহ ঈসা মারইয়ামের পুত্র। তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।


আয়াত -৪৬ঃ

وَیُکَلِّمُ (ওয়া ইউকাল্লিমু → এবং তিনি কথা বলবেন)
النَّاسَ (আন-নাসা → মানুষের সাথে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡمَہۡدِ (আল-মাহদী → দোলনাতে)
وَکَہۡلًا (ওয়া কাহলান → এবং পরিণত বয়সে)
وَّمِنَ (ওয়া মিনাল → এবং অন্তর্ভুক্ত)
الصّٰلِحِیۡنَ (আস-সালিহীন → সৎকর্মশীলদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় এবং পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।


আয়াত -৪৭ঃ

قَالَتۡ (কালাত → তিনি বললেন)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اَنّٰی (আন্না → কীভাবে)
یَکُوۡنُ (ইয়াকূনু → হবে)
لِیۡ (লী → আমার জন্য)
وَلَدٌ (ওয়ালাদুন → সন্তান)
وَّلَمۡ (ওয়া লাম → অথচ না)
یَمۡسَسۡنِیۡ (ইয়ামসাসনী → আমাকে স্পর্শ করেছে)
بَشَرٌ (বাশারুন → কোনো মানুষ)
قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
کَذٰلِکِ (কাযালিকি → এভাবেই)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
یَخۡلُقُ (ইয়াখলুকু → সৃষ্টি করেন)
مَا (মা → যা)
یَشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)
اِذَا (ইযা → যখন)
قَضٰۤی (কাদা → সিদ্ধান্ত নেন)
اَمۡرًا (আমরান → কোনো কাজ)
فَاِنَّمَا (ফাইন্নামা → তখন কেবল)
یَقُوۡلُ (ইয়াকূলু → বলেন)
لَہٗ (লাহু → সেটিকে)
کُنۡ (কুন → হও)
فَیَکُوۡنُ (ফাইয়াকূন → তখন তা হয়ে যায়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! কীভাবে আমার সন্তান হবে, অথচ আমাকে কোনো মানুষ স্পর্শ করেনি? তিনি বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা তা সৃষ্টি করেন। যখন তিনি কোনো কাজের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি শুধু বলেন—“হও”, আর তা হয়ে যায়।


আয়াত -৪৮ঃ

وَیُعَلِّمُہُ (ওয়া ইউ‘আল্লিমুহু → এবং তাকে শিক্ষা দেবেন)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
وَالۡحِکۡمَۃَ (ওয়াল হিকমাতা → প্রজ্ঞা)
وَالتَّوۡرٰىۃَ (ওয়াত-তাওরাতা → তাওরাত)
وَالۡاِنۡجِیۡلَ (ওয়াল ইনজীল → ইনজীল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনি তাকে কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দেবেন।


আয়াত -৪৯ঃ

وَرَسُوۡلًا (ওয়া রাসূলান → এবং রাসূল হিসেবে)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (বানী ইসরাঈল → বনী ইসরাঈল)
اَنِّیۡ قَدۡ (আন্নী কাদ → নিশ্চয় আমি)
جِئۡتُکُمۡ (জি’তুকুম → আমি তোমাদের কাছে এসেছি)
بِاٰیَۃٍ (বিআয়াতিন → একটি নিদর্শনসহ)
مِّنۡ رَّبِّکُمۡ (মিন রাব্বিকুম → তোমাদের রবের পক্ষ থেকে)
اَنِّیۡ (আন্নী → নিশ্চয় আমি)
اَخۡلُقُ (আখলুকু → তৈরি করি)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مِّنَ الطِّیۡنِ (মিনাত তীন → কাদা থেকে)
کَہَیۡـَٔۃِ (কাহাইয়াতি → আকৃতির মতো)
الطَّیۡرِ (আত-তাইরি → পাখি)
فَاَنۡفُخُ (ফা আনফুখু → আমি ফুঁ দিই)
فِیۡہِ (ফীহি → তাতে)
فَیَکُوۡنُ (ফাইয়াকূনু → তখন হয়ে যায়)
طَیۡرًۢا (তাইরান → পাখি)
بِاِذۡنِ اللّٰہِ (বিইযনিল্লাহ → আল্লাহর অনুমতিতে)
وَاُبۡرِیٴُ (ওয়া উব্রি’উ → এবং আমি আরোগ্য দিই)
الۡاَکۡمَہَ (আল-আকমাহা → জন্মান্ধকে)
وَالۡاَبۡرَصَ (ওয়াল-আবরাসা → কুষ্ঠরোগীকে)
وَاُحۡیِ (ওয়া উহ্যি → এবং আমি জীবিত করি)
الۡمَوۡتٰی (আল-মাওতা → মৃতদের)
بِاِذۡنِ اللّٰہِ (বিইযনিল্লাহ → আল্লাহর অনুমতিতে)
وَاُنَبِّئُکُمۡ (ওয়া উনাব্বিউকুম → এবং আমি তোমাদের জানাই)
بِمَا (বিমা → যা)
تَاۡکُلُوۡنَ (তা’কুলূনা → তোমরা খাও)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
تَدَّخِرُوۡنَ (তাদ্দাখিরূনা → তোমরা জমা রাখো)
فِیۡ بُیُوۡتِکُمۡ (ফী বুয়ূতিকুম → তোমাদের ঘরে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
فِیۡ ذٰلِکَ (ফী যালিকা → এতে)
لَاٰیَۃً (লাআয়াতান → নিদর্শন)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اِنۡ کُنۡتُمۡ (ইন কুনতুম → যদি তোমরা হও)
مُّؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনি ইসরাঈলের সন্তানদের কাছে রাসূল হিসেবে বললেন—আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি আয়তসহ (নিদর্শনসহ) এসেছি। আমি তোমাদের জন্য কাদা থেকে পাখির আকৃতি তৈরি করি, তারপর তাতে ফুঁ দিই, ফলে আল্লাহর অনুমতিতে তা পাখি হয়ে যায়। আমি আল্লাহর অনুমতিতে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করি এবং মৃতকে জীবিত করি। আর আমি তোমাদের জানিয়ে দিই তোমরা কী খাও এবং কী তোমরা তোমাদের ঘরে জমা রাখো। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য আয়াত (নিদর্শন) রয়েছে যদি তোমরা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হও।


আয়াত -৫০ঃ

وَمُصَدِّقًا (ওয়া মুসাদ্দিকান → এবং সত্যায়নকারী হিসেবে)
لِّمَا (লিমা → যা)
بَیۡنَ یَدَیَّ (বাইনা ইয়াদাইয়া → আমার সামনে ছিল)
مِنَ التَّوۡرٰىۃِ (মিনাত তাওরাত → তাওরাত থেকে)
وَلِاُحِلَّ (ওয়া লি উহিল্লা → এবং বৈধ করার জন্য)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
بَعۡضَ (বা‘দা → কিছু অংশ)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
حُرِّمَ (হুররিমা → নিষিদ্ধ করা হয়েছিল)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَجِئۡتُکُمۡ (ওয়া জি’তুকুম → এবং আমি তোমাদের কাছে এসেছি)
بِاٰیَۃٍ (বিআয়াতিন → একটি নিদর্শনসহ)
مِّنۡ رَّبِّکُمۡ (মিন রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে)
فَاتَّقُوا (ফাত্তাকু → তাই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَاَطِیۡعُوۡنِ (ওয়া আতী‘ঊনি → এবং আমার অনুসরন করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমি আমার পূর্বে থাকা তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে এসেছি এবং তোমাদের জন্য কিছু বিষয় বৈধ করার জন্য এসেছি, যা তোমাদের ওপর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি আয়াতসহ (নিদর্শনসহ) এসেছি। তাই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার অনুসরন করো।