সূরা আলে ইমরান (آل عمران) | ইমরানের পরিবার
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ২০০


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত – ৭৬ঃ

بَلٰی (বালা → অবশ্যই/হ্যাঁ)
مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
اَوۡفٰی (আওফা → সর্বাধিক বিশ্বস্তভাবে পালন করে)
بِعَہۡدِہٖ (বিআহদিহী → তার প্রতিশ্রুতি)
وَاتَّقٰی (ওয়াত্তাকা → খোদাভীরুতা অবলম্বন করে)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُتَّقِیۡنَ (আল-মুত্তাকীন → খোদাভীরুদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার প্রতিশ্রুতি সর্বাধিক বিশ্বস্তভাবে পালন করে এবং খোদাভীরুতা (তাকওয়া) অবলম্বন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ খোদাভীরুদের (তাকওয়াবানদের) ভালোবাসেন।


আয়াত – ৭৭ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَشۡتَرُوۡنَ (ইয়াশতারূনা → বিনিময় করে/ক্রয় করে)
بِعَہۡدِ اللّٰہِ (বিআহদিল্লাহি → আল্লাহর অঙ্গীকারের)
وَاَیۡمَانِہِمۡ (ওয়া আইমানিহিম → তাদের শপথসমূহের)
ثَمَنًا قَلِیۡلًا (ছামানান কালীলা → সামান্য মূল্যের বিনিময়ে)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
لَا خَلَاقَ لَہُمۡ (লা খালা-কা লাহুম → তাদের জন্য কোনো অংশ নেই)
فِی الۡاٰخِرَۃِ (ফিল আখিরাহ → পরকালে)
وَلَا یُکَلِّمُہُمُ اللّٰہُ (ওয়া লা ইউকাল্লিমুহুমুল্লাহু → আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না)
وَلَا یَنۡظُرُ اِلَیۡہِمۡ (ওয়া লা ইয়ানযুরু ইলাইহিম → তাদের দিকে তাকাবেন না)
یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমাল কিয়ামাহ → বিচারদিবসের সময়)
وَلَا یُزَکِّیۡہِمۡ (ওয়া লা ইউযাক্কীহিম → তাদের পবিত্র করবেন না)
وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ اَلِیۡمٌ (আযাবুন আলীম → কষ্টদায়ক শাস্তি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথসমূহ সামান্য মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে, তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই এবং শেষ বিচারদিবসের সময় আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


আয়াত – ৭৮ঃ

وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → আর নিশ্চয়ই)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
لَفَرِیۡقًا (লাফারীকান → একটি দল)
یَّلۡوٗنَ (ইয়ালউনা → তারা বাঁকিয়ে/বিকৃত করে)
اَلۡسِنَتَہُمۡ (আলসিনাতাহুম → তাদের জিহ্বার ভাষা)
بِالۡکِتٰبِ (বিলকিতাব → কিতাবের বিষয়ে)
لِتَحۡسَبُوۡہُ (লিতাহসাবূহু → যাতে তোমরা মনে করো এটি)
مِنَ الۡکِتٰبِ (মিনাল কিতাব → কিতাবের অংশ)
وَمَا ہُوَ (ওয়া মা হুওয়া → অথচ তা নয়)
مِنَ الۡکِتٰبِ (মিনাল কিতাব → কিতাবের অংশ)
وَیَقُوۡلُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূলূন → এবং তারা বলে)
ہُوَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ (হুওয়া মিন ‘ইনদিল্লাহ → এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَمَا ہُوَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ (ওয়া মা হুওয়া মিন ‘ইনদিল্লাহ → অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়)
وَیَقُوۡلُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূলূন → এবং তারা বলে)
عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ (আলাল্লাহিল কাযিব → আল্লাহর উপর মিথ্যা)
وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ (ওয়া হুম ইয়া‘লামূন → অথচ তারা জানে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে একটি দল আছে যারা তাদের জিহ্বার ভাষা কিতাবের ক্ষেত্রে বিকৃত করে, যাতে তোমরা মনে করো এটি কিতাবের অংশ, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে, “এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে,” অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা বলে।


আয়াত – ৭৯ঃ

مَا (মা → নয়)
کَانَ (কানা → হতে পারে)
لِبَشَرٍ (লিবাশারিন → কোনো মানুষের জন্য)
اَنۡ (আন → যে)
یُّؤۡتِیَہُ (ইউ’তিয়াহু → তাকে দেওয়া হয়)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
وَالۡحُکۡمَ (ওয়াল হুকমা → বিচারবুদ্ধি/ফয়সালা
وَالنُّبُوَّۃَ (ওয়ান-নুবুওওয়াহ → নবুয়ত)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
یَقُوۡلَ (ইয়াকূলা → সে বলে)
لِلنَّاسِ (লিন্নাস → মানুষের কাছে)
کُوۡنُوۡا (কূনূ → তোমরা হও)
عِبَادًا (ইবাদান → বান্দা/দাস)
لِّیۡ (লী → আমার)
مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ (মিন দূনিল্লাহ → আল্লাহ ছাড়া)
وَلٰکِنۡ (ওয়ালাকিন → বরং)
کُوۡنُوۡا (কূনূ → তোমরা হও)
رَبّٰنِیّٖنَ (রাব্বানিয়্যীন → আল্লাহর বান্দা বা দাস)
بِمَا (বিমা → কারণ যা)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تُعَلِّمُوۡنَ (তু‘আল্লিমূনা → শিক্ষা দাও)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
وَبِمَا (ওয়া বিমা → এবং কারণ যা)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَدۡرُسُوۡنَ (তাদরুসূন → অধ্যয়ন করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কোনো মানুষের জন্য সম্ভব নয় যে আল্লাহ তাকে কিতাব, বিচারবুদ্ধি ও নবুয়ত দান করার পর সে মানুষের কাছে বলবে: “তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমার বান্দা/দাস হয়ে যাও।” বরং সে বলবে: “তোমরা আল্লাহর বান্দা/দাস (রববানী) হও, কারণ তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও এবং অধ্যয়ন করো।”


আয়াত – ৮০ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
یَاۡمُرَکُمۡ (ইয়া’মুরাকুম → তিনি তোমাদের আদেশ করেন)
اَنۡ (আন → যে)
تَتَّخِذُوا (তাত্তাখিযূ → তোমরা গ্রহণ করো)
الۡمَلٰٓئِکَۃَ (আল-মালাইকাহ → ফেরেশতাদের)
وَالنَّبِیّٖنَ (ওয়ান-নাবিয়্যীন → নবীদের)
اَرۡبَابًا (আরবা-বান → কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি)
اَیَاۡمُرُکُمۡ (আয়া’মুরুকুম → সে কি তোমাদের আদেশ করে)
بِالۡکُفۡرِ (বিল-কুফর → অবিশ্বাস)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
اِذۡ (ইয → যখন)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
مُّسۡلِمُوۡنَ (মুসলিমূন → আত্মসমর্পনকারী

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনি তোমাদের এই আদেশ করতে পারেন না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদেরকে কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি বানিয়ে নাও। তিনি কি তোমাদের অবিশ্বাসের (কুফরির) আদেশ করবেন, অথচ তোমরা আত্মসমর্পনকারী?


আয়াত – ৮১ঃ

وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
اَخَذَ اللّٰہُ (আখাযাল্লাহু → আল্লাহ গ্রহণ করলেন)
مِیۡثَاقَ (মীছাক → অঙ্গীকার)
النَّبِیّٖنَ (আন-নাবিয়্যীন → নবীদের)
لَمَاۤ (লামা → যে)
اٰتَیۡتُکُمۡ (আ-তাইতুকুম → আমি তোমাদের দিয়েছি)
مِّنۡ کِتٰبٍ (মিন কিতাবিন → কিতাব থেকে)
وَّحِکۡمَۃٍ (ওয়া হিকমাহ → এবং প্রজ্ঞা)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
جَآءَکُمۡ (জাআকুম → তোমাদের কাছে আসে)
رَسُوۡلٌ (রাসূলুন → একজন রাসূল)
مُّصَدِّقٌ (মুসাদ্দিকুন → সত্যায়নকারী)
لِّمَا مَعَکُمۡ (লিমা মা‘আকুম → যা তোমাদের কাছে আছে)
لَتُؤۡمِنُنَّ بِہٖ (লাতু’মিনুন্না বিহী → অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে)
وَلَتَنۡصُرُنَّہٗ (ওয়া লাতানসুরুন্নাহু → এবং তাকে সমর্থন করবে)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
ءَاَقۡرَرۡتُمۡ (আ আকরারতুম → তোমরা কি স্বীকার করলে?)
وَاَخَذۡتُمۡ (ওয়া আখাযতুম → এবং তোমরা গ্রহণ করলে)
عَلٰی ذٰلِکُمۡ (আলা যা-লিকুম → এ বিষয়ে)
اِصۡرِیۡ (ইসরি → আমার অঙ্গীকার)
قَالُوۡۤا (কা-লূ → তারা বলল)
اَقۡرَرۡنَا (আকরারনা → আমরা স্বীকার করলাম)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
فَاشۡہَدُوۡا (ফাশহাদূ → তোমরা সাক্ষী থাকো)
وَاَنَا مَعَکُمۡ (ওয়া আনা মা‘আকুম → আর আমি তোমাদের সাথে)
مِّنَ الشّٰہِدِیۡنَ (মিনাশ শা-হিদীন → সাক্ষীদের মধ্যে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন—“আমি তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা দান করার পর যখন কোনো রাসূল আসবে, যে তোমাদের কাছে যা আছে তা সত্যায়ন করবে, তখন অবশ্যই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সমর্থন করবে।” তিনি বললেন, “তোমরা কি স্বীকার করলে এবং আমার এই অঙ্গীকার গ্রহণ করলে?” তারা বলল, “আমরা স্বীকার করলাম।” তিনি বললেন, “তোমরা সাক্ষী থাকো, আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের মধ্যে আছি।”


আয়াত – ৮২ঃ

فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে ব্যক্তি)
تَوَلّٰی (তাওয়াল্লা → মুখ ফিরিয়ে নেয়)
بَعۡدَ ذٰلِکَ (বা‘দা যালিকা → এর পরেও)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → অতএব তারাই)
ہُمُ (হুম → তারা)
الۡفٰسِقُوۡنَ (আল-ফাসিকূন → অবাধ্য/পাপাচারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতএব যে ব্যক্তি এর পরেও মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারাই প্রকৃত অবাধ্য (ফাসিক)।


আয়াত – ৮৩ঃ

اَفَغَیۡرَ (আফা-গাইরা → তবে কি অন্য)
دِیۡنِ اللّٰہِ (দীনিল্লাহ → আল্লাহর ধর্ম)
یَبۡغُوۡنَ (ইয়াবগূন → তারা চায়/অনুসন্ধান করে)
وَلَہٗۤ (ওয়ালাহু → অথচ তাঁরই জন্য)
اَسۡلَمَ (আসলামা → আত্মসমর্পণ করেছে)
مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ (মান ফিস সামাওয়াত → আসমানসমূহে যারা আছে)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদ → এবং পৃথিবীতে যারা আছে)
طَوۡعًا (তাও‘আন → স্বেচ্ছায়)
وَّکَرۡہًا (ওয়া কারহান → বা অনিচ্ছায়)
وَّاِلَیۡہِ (ওয়া ইলাইহি → এবং তাঁরই দিকে)
یُرۡجَعُوۡنَ (ইউরজা‘ূন → তারা প্রত্যাবর্তিত হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তবে কি তারা আল্লাহর জীবণব্যবস্থা (দীন) ছাড়া অন্য কোনো জীবণব্যবস্থা (দীন) অনুসন্ধান করে? অথচ আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করেছে—স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়। আর তাঁরই কাছেই সবাইকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।


আয়াত – ৮৪ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
اٰمَنَّا (আমান্না → আমরা ঈমান এনেছি)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর ওপর)
وَمَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا (ওয়া মা উনযিলা আলাইনা → এবং যা আমাদের ওপর নাযিল হয়েছে)
وَمَاۤ اُنۡزِلَ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ (ওয়া মা উনযিলা আলা ইবরাহীম → এবং যা ইবরাহীমের ওপর নাযিল হয়েছে)
وَاِسۡمٰعِیۡلَ (ওয়া ইসমাঈল → ইসমাঈলের ওপর)
وَاِسۡحٰقَ (ওয়া ইসহাক → ইসহাকের ওপর)
وَیَعۡقُوۡبَ (ওয়া ইয়া‘কূব → ইয়াকুবের ওপর)
وَالۡاَسۡبَاطِ (ওয়াল আসবাত → বংশধরদের ওপর)
وَمَاۤ اُوۡتِیَ مُوۡسٰی (ওয়া মা উতিয়া মূসা → এবং যা মূসাকে দেওয়া হয়েছে)
وَعِیۡسٰی (ওয়া ঈসা → এবং ঈসাকে দেওয়া হয়েছে)
وَالنَّبِیُّوۡنَ (ওয়ান-নাবিয়্যূন → এবং অন্যান্য নবীদের)
مِنۡ رَّبِّہِمۡ (মিন রাব্বিহিম → তাদের রবের পক্ষ থেকে)
لَا نُفَرِّقُ (লা নুফাররিকু → আমরা পার্থক্য করি না)
بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ (বাইনা আহাদিম মিনহুম → তাদের কারো মধ্যে)
وَنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → এবং আমরা)
لَہٗ مُسۡلِمُوۡنَ (লাহু মুসলিমূন → তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বল, আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস (ঈমান) এনেছি এবং যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে, এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের বংশধরদের উপর নাযিল করা হয়েছে, এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদেরকে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে—আমরা তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী (মুসলিমুন)।


আয়াত – ৮৫ঃ

وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
یَّبۡتَغِ (ইয়াবতাগি → অনুসন্ধান করে/চায়)
غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ (গাইরাল ইসলাম → শান্তি ছাড়া অন্য)
دِیۡنًا (দীনান → জীবণব্যবস্থা)
فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ (ফালান ইউকবালা মিনহু → তা কখনো গ্রহণ করা হবে না তার থেকে)
وَہُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং সে)
فِی الۡاٰخِرَۃِ (ফিল আখিরাহ → পরকালে)
مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ (মিনাল খাসিরীন → ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যে ব্যক্তি শান্তি (ইসলাম) ছাড়া অন্য কোনো জীবণব্যবস্থা (দ্বীন) অনুসন্ধান করে, তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না। আর সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


আয়াত – ৮৬ঃ

کَیۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
یَہۡدِی (ইয়াহদী → পথনির্দেশ/ হিদায়াত দেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
قَوۡمًا (কাওমান → কোনো জাতিকে)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → যারা অবিশ্বাস/কুফরি করেছে)
بَعۡدَ اِیۡمَانِہِمۡ (বা‘দা ঈমানিহিম → তাদের বিশ্বাসের/ঈমানের পর)
وَشَہِدُوۡۤا (ওয়া শাহিদূ → এবং তারা সাক্ষ্য দিয়েছে)
اَنَّ الرَّسُوۡلَ (আন্নার রাসূলা → যে রাসূল)
حَقٌّ (হাক্কুন → সত্য)
وَّجَآءَہُمُ الۡبَیِّنٰتُ (ওয়া জাআহুমুল বাইয়িনাত → এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا یَہۡدِی (লা ইয়াহদী → পথনির্দেশ/হিদায়াত দেন না)
الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ (আল-কাওমাজ জালিমীন → অত্যাচারী/জালিম সম্প্রদায়কে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কীভাবে আল্লাহ এমন একটি জাতিকে পথনির্দেশ (হিদায়াত) দেবেন, যারা বিশ্বাস (ঈমান) আনার পর অবিশ্বাস (কুফরি) করেছে, অথচ তারা সাক্ষ্য দিয়েছিল যে রাসূল সত্য এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনও এসেছিল? আর আল্লাহ অত্যাচারী (জালিম) সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ (হিদায়াত) দেন না।


আয়াত – ৮৭ঃ

اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
جَزَآؤُہُمۡ (জাঝাউহুম → তাদের প্রতিদান)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
لَعۡنَۃَ اللّٰہِ (লা‘নাতাল্লাহ → আল্লাহর অভিশাপ)
وَالۡمَلٰٓئِکَۃِ (ওয়াল মালাইকাহ → ফেরেশতাদের)
وَالنَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ (ওয়ান-নাসি আজমা‘ঈন → এবং সমস্ত মানুষের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এরাই তারা যাদের প্রতিদান—তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ।


আয়াত – ৮৮ঃ

خٰلِدِیۡنَ (খালিদীন → চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
لَا یُخَفَّفُ (লা ইউখাফফাফু → হালকা করা হবে না)
عَنۡہُمُ الۡعَذَابُ (আনহুমুল আযাব → তাদের শাস্তি)
وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ (ওয়া লা হুম ইউনযারূন → এবং তাদের অবকাশ দেওয়া হবে না)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। তাদের শাস্তি কখনো হালকা করা হবে না এবং তাদের কোনো অবকাশও দেওয়া হবে না।


আয়াত – ৮৯ঃ

اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
تَابُوۡا (তা-বূ → পাপ থেকে ফিরে আসার প্রার্থনা/তওবা করা)
مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ (মিন বা‘দি যা-লিকা → এর পরে)
وَاَصۡلَحُوۡا (ওয়া আসলাহূ → এবং নিজেদের সংশোধন করেছে)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূর → ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে যারা এরপর পাপ থেকে ফিরে আসার প্রার্থনা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত – ৯০ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
بَعۡدَ اِیۡمَانِہِمۡ (বা‘দা ঈমানিহিম → তাদের বিশ্বাসের পর)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
ازۡدَادُوۡا (ইযদা-দূ → বৃদ্ধি করেছে)
کُفۡرًا (কুফরান → অবিশ্বাস)
لَّنۡ تُقۡبَلَ (লান তুকবালা → কখনো গ্রহণ করা হবে না)
تَوۡبَتُہُمۡ (তাওবাতুহুম → তাদের পাপ থেকে ফিরে আসা)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
ہُمُ (হুম → তারাই)
الضَّآلُّوۡنَ (আদ-দাল্লূন → পথভ্রষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস (ঈমান) আনার পর অবিশ্বাস (কুফরি) করেছে, তারপর আরও অবিশ্বাস (কুফরি) বৃদ্ধি করেছে—তাদের পাপ থেকে ফিরে আসার প্রার্থনা (তওবা) কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর তারাই হলো পথভ্রষ্ট।


আয়াত – ৯১ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
وَمَاتُوۡا (ওয়া মাতূ → এবং মারা গেছে)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → আর তারা)
کُفَّارٌ (কুফফার → অবিশ্বাস অবস্থায়)
فَلَنۡ یُّقۡبَلَ (ফালান ইউকবালা → কখনো গ্রহণ করা হবে না)
مِنۡ اَحَدِہِمۡ (মিন আহাদিহিম → তাদের কারো কাছ থেকে)
مِّلۡءُ الۡاَرۡضِ (মিলউল আরদ → পৃথিবীসম পরিমাণ)
ذَہَبًا (যাহাবান → স্বর্ণ)
وَّلَوِ افۡتَدٰی بِہٖ (ওয়া লাও ইফতাদা বিহী → যদিও তা দিয়ে মুক্তিপণ দিতে চায়)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
عَذَابٌ اَلِیۡمٌ (আজাবুন আলীম → যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি)
وَّمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ (ওয়া মা লাহুম মিন নাসিরীন → এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস (কুফরি) করেছে এবং অবিশ্বাসী (কাফির) অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো কাছ থেকে পৃথিবীসম পরিমাণ স্বর্ণও গ্রহণ করা হবে না—যদি তারা তা দিয়ে মুক্তিপণ দিতে চায় তবুও না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।


আয়াত – ৯২ঃ

لَنۡ (লান → কখনোই না)
تَنَالُوا (তানা-লূ → তোমরা অর্জন করবে)
الۡبِرَّ (আল বির → পূর্ণ নেকি)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
تُنۡفِقُوۡا (তুনফিকূ → তোমরা ব্যয় করো/দান করো)
مِمَّا تُحِبُّوۡنَ (মিম্মা তুহিব্বূন → যা তোমরা ভালোবাসো তা থেকে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
تُنۡفِقُوۡا (তুনফিকূ → তোমরা ব্যয় করো)
مِنۡ شَیۡءٍ (মিন শাইয়িন → কোনো কিছু)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
بِہٖ عَلِیۡمٌ (বিহী ‘আলীম → তা সম্পর্কে সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা কখনো পূর্ণ নেকি অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা সেই জিনিস থেকে ব্যয় করো যা তোমরা ভালোবাসো। আর তোমরা যা-ই ব্যয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।


আয়াত – ৯৩ঃ

کُلُّ الطَّعَامِ (কুল্লু আত-তা‘আম→ সব খাবার)
کَانَ (কানা → ছিল)
حِلًّا (হিল্লান → বৈধ/হালাল)
لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (লিবানী ইসরাঈল → ইসরাঈলের সন্তানের জন্য)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
مَا (মা → যা)
حَرَّمَ (হাররামা → নিষিদ্ধ/হারাম করেছিল)
اِسۡرَآءِیۡلُ (ইসরাঈল → ইসরাঈল/ইয়াকুব)
عَلٰی نَفۡسِہٖ (আলা নাফসিহী → নিজের ওপর)
مِنۡ قَبۡلِ (মিন কাবল → আগে)
اَنۡ تُنَزَّلَ التَّوۡرٰىۃُ (আনতুনাযযালাত তাওরাত → তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে)
قُلۡ (কুল → বলো)
فَاۡتُوۡا (ফাতূ → তোমরা নিয়ে আসো)
بِالتَّوۡرٰىۃِ (বিত-তাওরাত → তাওরাত)
فَاتۡلُوۡہَا (ফাতলূহা → তা তিলাওয়াত করো)
اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ (ইন কুনতুম সাদিকীন → যদি তোমরা সত্যবাদী হও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

সব ধরনের খাবারই ইসরাঈলের সন্তাদের জন্য বৈধ (হালাল) ছিল, শুধু যা ইসরাঈল (ইয়াকুব) নিজেই তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে নিজের উপর নিষিদ্ধ (হারাম) করেছিল তা ছাড়া। বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা তিলাওয়াত করো।


আয়াত – ৯৪ঃ

فَمَنِ (ফামানি → অতএব যে ব্যক্তি)
افۡتَرٰی (ইফতারা → মিথ্যা রচনা করে)
عَلَی اللّٰہِ (আলাল্লাহ → আল্লাহর উপর)
الۡکَذِبَ (আল কিযিব → মিথ্যা)
مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ (মিন বা‘দি যা-লিকা → এর পরে)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
ہُمُ (হুম → তারা)
الظّٰلِمُوۡنَ (আজ-জালিমূন → জালিম/অন্যায়কারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতএব যে ব্যক্তি এরপরে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, তারাই হলো অন্যায়কারী (জালিম)।


আয়াত – ৯৫ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
صَدَقَ اللّٰہُ (সাদাকাল্লাহ → আল্লাহ সত্য বলেছেন)
فَاتَّبِعُوۡا (ফাত্তাবি‘ঊ → অনুসরণ করো)
مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ (মিল্লাতা ইব্রাহীম → ইব্রাহীমের ধর্মপথ/জীবনাদর্শ)
حَنِیۡفًا (হানীফান → সত্যের দিকে দৃঢ়ভাবে মুখ ফিরানো ব্যক্তি)
وَمَا کَانَ (ওয়া মা কানা → এবং তিনি ছিলেন না)
مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ (মিনাল মুশরিকীন → শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, আল্লাহ সত্য বলেছেন। অতএব, তোমরা সত্যের দিকে একনিষ্ঠভাবে মুখ ফিরানো ইব্রাহীমের জীবন আদর্শ অনুসরণ করো। আর তিনি কখনো শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।


আয়াত – ৯৬ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اَوَّلَ بَیۡتٍ (আওয়ালা বাইত → প্রথম ঘর)
وُّضِعَ (উদি‘আ → স্থাপন করা হয়েছে)
لِلنَّاسِ (লিন্নাস → মানুষের জন্য)
لَلَّذِیۡ (লাল্লাযী → সেটি যা)
بِبَکَّۃَ (বিবাক্কাহ → চোখের জল। (৪৪:৩৯ = রুট ওয়ার্ড)
مُبٰرَکًا (মুবারাকান → কল্যাণপূর্ণ)
وَّہُدًی (ওয়া হুদান → এবং পথনির্দেশ
لِّلۡعٰلَمِیۡنَ (লিল ‘আলামীন → সারা জগতের জন্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই মানুষের জন্য প্রথম ঘর স্থাপন করা হয়েছে চোখের জলে, যা কল্যাণপূর্ণ ও সারা বিশ্বের জন্য পথনির্দেশের (হিদায়াতের) কেন্দ্র।


আয়াত – ৯৭ঃ

فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ (আয়াতুম বাইয়িনাত → স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ)
مَّقَامُ اِبۡرٰہِیۡمَ (মাকামু ইবরাহীম → ইবরাহীমের মর্যাদার/নিরাপদ স্থান। (মাকাম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ/নিরাপদ স্থান) ১৯:৭৩। ২৬:৫৮। ৩৭:১৬৪। ৪৪: ২৬, ৫১)
وَمَنۡ دَخَلَہٗ (ওয়া মান দাখালাহু → যে এতে প্রবেশ করল)
کَانَ اٰمِنًا (কানা আমিনান → সে নিরাপদ হলো)
وَلِلّٰہِ (ওয়ালিল্লাহি → আর আল্লাহর জন্য)
عَلَی النَّاسِ (আলান্নাস → মানুষের ওপর)
حِجُّ الۡبَیۡتِ (হিজ্জুল বাইত → ঘরে বাহাস/বিতর্ক করা)
مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا (মানিসতাতা‘আ ইলাইহি সাবীলান → যে সক্ষম হয় তার জন্য)
وَمَنۡ کَفَرَ (ওয়া মান কাফারা → আর যে অস্বীকার করে)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ (গানিয়্যুন ‘আনিল ‘আলামীন → বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এতে রয়েছে স্পষ্ট আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ)—ইবরাহীমের মর্যাদার/নিরাপদ স্থান। যে এতে প্রবেশ করে সে নিরাপদ হয় এবং যার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে মানুষের প্রতি এই ঘরে সে যেন বাহাস করে। আর যে অস্বীকার করে, নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বজগতের অভাবমুক্ত/ধনী।


আয়াত – ৯৮ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ (ইয়াআহলাল কিতাব → হে কিতাবধারী পরিবার)
لِمَ (লিমা → কেন)
تَکۡفُرُوۡنَ (তাকফুরূন → তোমরা অস্বীকার করো/অবিশ্বাস করো)
بِاٰیٰتِ اللّٰہِ (বিআয়াতিল্লাহ → আল্লাহর আয়াতসমূহকে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
شَہِیۡدٌ (শাহীদুন → সাক্ষী)
عَلٰی مَا تَعۡمَلُوۡنَ (আলা মা তা‘মালূন → তোমরা যা করো তার উপর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, হে কিতাবধারী পরিবার! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছো? আর আল্লাহ তোমাদের সব কাজের সাক্ষী।


আয়াত – ৯৯ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ (ইয়াআহলাল কিতাব → হে কিতাবধারী সম্প্রদায়)
لِمَ (লিমা → কেন)
تَصُدُّوۡنَ (তাসুদ্দূন → বাধা দাও)
عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (আন সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথ থেকে)
مَنۡ اٰمَنَ (মান আ-মানা → যারা বিশ্বাস এনেছে)
تَبۡغُوۡنَہَا (তাবগূনাহা → তোমরা সেটিকে চাও)
عِوَجًا (ইওয়াজান → বক্রতা/বিকৃতি)
وَّاَنۡتُمۡ شُہَدَآءُ (ওয়া আনতুম শুহাদা → অথচ তোমরা সাক্ষী)
وَمَا اللّٰہُ (ওয়া মাল্লাহু → আর আল্লাহ)
بِغَافِلٍ (বিগাফিলিন → অসচেতন নন)
عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ (আম্মা তা‘মালূন → তোমাদের কাজ সম্পর্কে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, হে কিতাবধারীরা! কেন তোমরা বিশ্বাসীদের আল্লাহর পথ থেকে বাধা দাও এবং সেই পথকে বাঁকা করতে চাও, অথচ তোমরাই এর সত্যতার সাক্ষী? আর আল্লাহ তোমাদের কাজ থেকে কখনোই অসচেতন নন।


আয়াত – ১০০ঃ

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا (ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আমানূ → হে বিশ্বাসীগণ)
اِنۡ تُطِیۡعُوۡا (ইন তুতী‘ঊ → যদি তোমরা অনুসরণ করো)
فَرِیۡقًا (ফারীকান → একটি দলকে)
مِّنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ (মিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতাব → যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্য থেকে)
یَرُدُّوۡکُمۡ (ইয়ারুদ্দূকুম → তারা তোমাদের ফিরিয়ে দেবে)
بَعۡدَ اِیۡمَانِکُمۡ (বা‘দা ঈমানিকুম → তোমাদের বিশ্বাস আনার পর)
کٰفِرِیۡنَ (কা-ফিরীন → অবিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা কিতাবপ্রাপ্তদের একটি দলের অনুসরণ করো, তবে তারা তোমাদের বিশ্বাস আনার পর আবার অবিশ্বাসীতে পরিণত করবে।