সূরা আলে ইমরান (آل عمران) | ইমরানের পরিবার
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২০০
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত -১ঃ الٓمَّٓ
আলিফ লাম মীম।
আয়াত -২ঃ
اللّٰہُ — আল্লাহু — আল্লাহ
لَاۤ — লা — নেই
اِلٰہَ — ইলাহা — কোনো বিধানদাতা
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
ہُوَ — হুওয়া — তিনি
الۡحَیُّ — আল-হাইয়্যু — চিরঞ্জীব
الۡقَیُّوۡمُ — আল-কাইয়ূম — সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টিজগতের ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।
আয়াত -৩ঃ
نَزَّلَ — নাঝঝালা — নাযিল করেছেন
عَلَیۡکَ — আলাইকা — তোমার প্রতি
الۡکِتٰبَ — আল-কিতাবা — কিতাব
بِالۡحَقِّ — বিলহাক্কি — সত্যসহ
مُصَدِّقًا — মুসাদ্দিকান — সত্যায়নকারী
لِّمَا — লিমা — যা
بَیۡنَ — বাইনা — আগে/মধ্যে
یَدَیۡہِ — ইয়াদাইহি — এর পূর্বে রয়েছে
وَاَنۡزَلَ — ওয়া আনযালা — এবং নাযিল করেছেন
التَّوۡرٰىۃَ — আত-তাওরাতা — তাওরাত
وَالۡاِنۡجِیۡلَ — ওয়াল ইনজীল — এবং ইনজিল
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনি তাওরাত ও ইনজিলও নাযিল করেছেন।
আয়াত -৪ঃ
مِنۡ — মিন — থেকে
قَبۡلُ — কাবলু — পূর্বে
ہُدًی — হুদান — পথনির্দেশ
لِّلنَّاسِ — লিন্নাসি — মানুষের জন্য
وَاَنۡزَلَ — ওয়া আনযালা — এবং নাযিল করেছেন
الۡفُرۡقَانَ — আল-ফুরকান — সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়ই
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
کَفَرُوۡا — কাফারূ — অস্বীকার করেছে
بِاٰیٰتِ — বি-আয়াতি — আয়াতসমূহকে
اللّٰہِ — আল্লাহি — আল্লাহর
لَہُمۡ — লাহুম — তাদের জন্য
عَذَابٌ — আযাবুন — শাস্তি
شَدِیۡدٌ — শাদীদ — কঠিন
وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
عَزِیۡزٌ — আযীযুন — পরাক্রমশালী
ذُو — যূ — অধিকারী
انۡتِقَامٍ — ইনতিকাম — প্রতিশোধ
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এর পূর্বে তিনি মানুষের জন্য পথনির্দেশ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
আয়াত -৫ঃ
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়ই
اللّٰہَ — আল্লাহ — আল্লাহর কাছে
لَا — লা — না
یَخۡفٰی — ইয়াখফা — গোপন থাকে
عَلَیۡہِ — আলাইহি — তাঁর কাছে
شَیۡءٌ — শাইউন — কোনো কিছু
فِی — ফী — মধ্যে
الۡاَرۡضِ — আল-আরদ — পৃথিবী
وَلَا — ওয়া লা — এবং না
فِی — ফী — মধ্যে
السَّمَآءِ — আস-সামা — আসমান
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যমীন ও আসমানের কোনো কিছুই গোপন নয়।
আয়াত -৬ঃ
ہُوَ — হুওয়া — তিনি
الَّذِیۡ — আল্লাযী — যিনি
یُصَوِّرُکُمۡ — ইউসাওবিরুকুম — তোমাদের আকৃতি দান করেন
فِی — ফী — মধ্যে
الۡاَرۡحَامِ — আল-আরহাম — মাতৃগর্ভসমূহে
کَیۡفَ — কাইফা — যেভাবে
یَشَآءُ — ইয়াশা — তিনি ইচ্ছা করেন
لَاۤ — লা — নেই
اِلٰہَ — ইলাহা — কোনো বিধানদাতা
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
ہُوَ — হুওয়া — তিনি
الۡعَزِیۡزُ — আল-আযীযু — পরাক্রমশালী
الۡحَکِیۡمُ — আল-হাকীম — প্রজ্ঞাময়
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি সেই, যিনি মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা আকৃতি দান করেন। তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত -৭ঃ
ہُوَ — হুওয়া — তিনি
الَّذِیۡۤ — আল্লাযী — যিনি
اَنۡزَلَ — আনযালা — নাযিল করেছেন
عَلَیۡکَ — আলাইকা — তোমার প্রতি
الۡکِتٰبَ — আল-কিতাব — কিতাব
مِنۡہُ — মিনহু — এর মধ্যে
اٰیٰتٌ — আয়াতুন — কিছু আয়াত
مُّحۡکَمٰتٌ — মুহকামাতুন — সুস্পষ্ট/সুদৃঢ়ভাবে নির্ধারিত বিষয়সমূহ
ہُنَّ — হুন্না — সেগুলোই
اُمُّ — উম্মু — মূল/ভিত্তি/জননী
الۡکِتٰبِ — আল-কিতাব — কিতাবের
وَاُخَرُ — ওয়া উখারু — এবং অন্যান্য
مُتَشٰبِہٰتٌ — মুতাশাবিহাতুন — সাদৃশ্যপূর্ণ /পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এমন
فَاَمَّا — ফা-আম্মা — অতঃপর যারা
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — তারা
فِیۡ — ফী — মধ্যে
قُلُوۡبِہِمۡ — কুলূবিহিম — তাদের অন্তরে
زَیۡغٌ — যায়গুন — বক্রতা/বিচ্যুতি
فَیَتَّبِعُوۡنَ — ফাইয়াত্তাবি‘ঊনা — তারা অনুসরণ করে
مَا — মা — যা
تَشَابَہَ — তাশাবাহা — সাদৃশ্যপূর্ণ
مِنۡہُ — মিনহু — তার মধ্যে থেকে
ابۡتِغَآءَ — ইবতিগা’আ — অন্বেষণে
الۡفِتۡنَۃِ — আল-ফিতনাহ — ফিতনা/বিভ্রান্তি
وَابۡتِغَآءَ — ওয়া ইবতিগা’আ — এবং অনুসন্ধানে
تَاۡوِیۡلِہٖ — তা’বীলিহী — এর ব্যাখ্যা
وَمَا — ওয়া মা — এবং না
یَعۡلَمُ — ইয়া‘লামু — জানে
تَاۡوِیۡلَہٗۤ — তা’বীলাহু — এর প্রকৃত ব্যাখ্যা
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
اللّٰہُ — আল্লাহ — আল্লাহ
وَالرّٰسِخُوۡنَ — ওয়ার রাসিখূনা — আর সুদৃঢ় জ্ঞানসম্পন্নরা
فِی — ফিল — মধ্যে
الۡعِلۡمِ — আল-ইলম — জ্ঞান
یَقُوۡلُوۡنَ — ইয়াকূলূনা — তারা বলে
اٰمَنَّا — আমান্না — আমরা ঈমান এনেছি
بِہٖ — বিহী — এর প্রতি
کُلٌّ — কুল্লুন — সবই
مِّنۡ — মিন — থেকে
عِنۡدِ — ইন্দি — নিকট হতে
رَبِّنَا — রাব্বিনা — আমাদের প্রতিপালকের
وَمَا — ওয়া মা — এবং না
یَذَّکَّرُ — ইয়াযযাক্কারু — উপদেশ গ্রহণ করে
اِلَّاۤ — ইল্লা — ছাড়া
اُولُوا — উলূ — অধিকারীরা
الۡاَلۡبَابِ — আল-আলবাব — বোধশক্তি/বিবেক
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি সেই সত্তা যিনি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। এর কিছু আয়াত সুস্পষ্ট, এগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি। আর অন্য কিছু আয়াত সাদৃশ্যপূর্ণ/পুরাপুরি প্রকাশিত নয়। যাদের অন্তরে বক্রতা আছে তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর জ্ঞানে সুদৃঢ় ব্যক্তিরা বলে, “আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি; সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে।” আর বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
আয়াত -৮ঃ
رَبَّنَا — রাব্বানা — হে আমাদের প্রতিপালক
لَا تُزِغۡ — লা তুঝিঘ — বক্র করো না
قُلُوۡبَنَا — কুলূবানা — আমাদের হৃদয়গুলো
بَعۡدَ — বা‘দা — পরে
اِذۡ — ইয — যখন
ہَدَیۡتَنَا — হাদাইতানা — তুমি আমাদের পথ নির্দেশ দিয়েছ
وَہَبۡ — ওয়া হাব — দান করো
لَنَا — লানা — আমাদের জন্য
مِنۡ — মিন — থেকে
لَّدُنۡکَ — লাদুনকা — তোমার পক্ষ থেকে
رَحۡمَۃً — রাহমাহ — দয়া
اِنَّکَ — ইন্নাকা — নিশ্চয়
اَنۡتَ — আন্তা — তুমি
الۡوَہَّابُ — আল-ওয়াহহাব — সর্বশ্রেষ্ঠ দানকারী
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের হৃদয়গুলোকে তুমি পথনির্দেশ দেওয়ার পর আর বক্র করে দিও না এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে দয়া দান করো। নিশ্চয়ই তুমি-ই সর্বশ্রেষ্ঠ দানকারী।
আয়াত -৯ঃ
رَبَّنَاۤ — রাব্বানা — হে আমাদের প্রতিপালক
اِنَّکَ — ইন্নাকা — নিশ্চয় তুমি
جَامِعُ — জামি‘উ — একত্রকারী
النَّاسِ — আন-নাস — মানুষদের
لِیَوۡمٍ — লিইয়াওমিন — এমন দিনের জন্য
لَّا رَیۡبَ فِیۡہِ — লা রাইবা ফীহি — যাতে কোনো সন্দেহ নেই
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়
اللّٰہَ — আল্লাহ — আল্লাহ
لَا — লা — না
یُخۡلِفُ — ইউখলিফু — ভঙ্গ করেন
الۡمِیۡعَادَ — আল-মী‘আদ — প্রতিশ্রুতি
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় তুমি সেই দিন মানুষদের সবাইকে একত্রকারী, যে দিনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
আয়াত -১০ঃ
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়ই
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
کَفَرُوۡا — কাফারূ — অস্বীকার করেছে
لَنۡ — লান — কখনোই না
تُغۡنِیَ — তুগনীয়া — কাজে আসবে
عَنۡہُمۡ — ‘আনহুম — তাদের থেকে
اَمۡوَالُہُمۡ — আমওয়ালুহুম — তাদের সম্পদ
وَلَاۤ — ওয়া লা — এবং না
اَوۡلَادُہُمۡ — আওলাদুহুম — তাদের সন্তানরা
مِّنَ — মিন — থেকে
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহ
شَیۡئًا — শাইআ — কোনো কিছুই
وَاُولٰٓئِکَ ہُمۡ — ওয়া উলাইকা হুম — আর তারাই
وَقُوۡدُ — ওয়াকূদু — জ্বালানি
النَّارِ — আন-নার — আগুন
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস (কুফরী) করেছে, তাদের সম্পদ ও সন্তানরা আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আর তারাই আগুনের জ্বালানি।
আয়াত -১১ঃ
کَدَاۡبِ — কাদা’বি — মতো অবস্থা
اٰلِ — আ-লি — পরিবার/বংশ
فِرۡعَوۡنَ — ফির‘আওনা — ফেরাউনের
وَالَّذِیۡنَ — ওয়াল্লাযীনা — এবং যারা
مِنۡ — মিন — থেকে
قَبۡلِہِمۡ — কাবলিহিম — তাদের পূর্বে
کَذَّبُوۡا — কাযযাবূ — অস্বীকার করেছে
بِاٰیٰتِنَا — বি-আয়াতিনা — আমাদের নিদর্শনসমূহকে
فَاَخَذَہُمُ — ফাআখাযাহুমু — অতঃপর পাকড়াও করেছেন তাদের
اللّٰہُ — আল্লাহ — আল্লাহ
بِذُنُوۡبِہِمۡ — বিযুনূবিহিম — তাদের পাপের কারণে
وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
شَدِیۡدُ — শাদীদু — কঠোর
الۡعِقَابِ — আল-ইকাব — শাস্তিদানে
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
ফেরাউনের বংশধর এবং তাদের পূর্ববর্তী লোকদের মতোই তারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের পাপের কারণে তাদের পাকড়াও করেছেন। আর আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।
আয়াত -১২ঃ
قُلۡ — কুল — বলো
لِّلَّذِیۡنَ — লিল্লাযীনা — যারা
کَفَرُوۡا — কাফারূ — অবিশ্বাস করেছে
سَتُغۡلَبُوۡنَ — ছাতুগলাবূনা — তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে
وَتُحۡشَرُوۡنَ — ওয়া তুহশারূনা — এবং তোমাদের একত্র করা হবে
اِلٰی — ইলা — দিকে
جَہَنَّمَ — জাহান্নাম — জাহান্নাম
وَبِئۡسَ — ওয়া বি’ছা — কতই না নিকৃষ্ট
الۡمِہَادُ — আল-মিহাদ — আশ্রয়স্থান
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তুমি অবিশ্বাসীদের (কাফিরদের) বলো, তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং তোমাদের জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল।
আয়াত -১৩ঃ
قَدۡ — কাদ — নিশ্চয়ই
کَانَ — কানা — ছিল
لَکُمۡ — লাকুম — তোমাদের জন্য
اٰیَۃٌ — আয়াতুন — একটি নিদর্শন
فِیۡ — ফী — মধ্যে
فِئَتَیۡنِ — ফিআতাইন — দুই দলের
الۡتَقَتَا — আলতাকাতা — যারা মুখোমুখি হয়েছিল
فِئَۃٌ — ফিআতুন — একটি দল
تُقَاتِلُ — তুকাতিলু — যুদ্ধ করে
فِیۡ — ফী — মধ্যে
سَبِیۡلِ — সাবীল — পথে
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহর
وَاُخۡرٰی — ওয়া উখরা — আরেকটি দল
کَافِرَۃٌ — কাফিরাহ — অবিশ্বাসী
یَّرَوۡنَہُمۡ — ইয়ারা-উনাহুম — তারা তাদেরকে দেখে
مِّثۡلَیۡہِمۡ — মিসলাইহিম — তাদের দ্বিগুণ
رَاۡیَ — রা’ইয়া — দৃষ্টিতে
الۡعَیۡنِ — আল-আইন — চোখের
وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
یُؤَیِّدُ — ইউয়াইয়িদু — সাহায্য করেন
بِنَصۡرِہٖ — বিনাসরিহী — তাঁর সাহায্য দ্বারা
مَنۡ — মান — যাকে
یَّشَآءُ — ইয়াশা — ইচ্ছা করেন
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়ই
فِیۡ — ফী — মধ্যে
ذٰلِکَ — যা-লিকা — এতে
لَعِبۡرَۃً — লা‘ইবরাতান — শিক্ষা
لِّاُولِی — লি-উলি — জ্ঞানীদের
الۡاَبۡصَارِ — আল-আবসার — দৃষ্টিশক্তি
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য দুটি দলের মধ্যে একটি আয়াত (নিদর্শন) রয়েছে, যারা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল, আর অন্য দলটি ছিল অবিশ্বাসী (কাফির)। তারা তাদেরকে নিজেদের দ্বিগুণ হিসেবে চোখে দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তাঁর সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।
আয়াত -১৪ঃ
زُیِّنَ — ঝুয়্যিনা — শোভিত করা হয়েছে
لِلنَّاسِ — লিন্নাস — মানুষের জন্য
حُبُّ — হুব্বু — ভালোবাসা
الشَّہَوٰتِ — আশ-শাহাওয়াত — কামনা-বাসনা
مِنَ — মিন — থেকে
النِّسَآءِ — আন-নিসা — নারীরা
وَالۡبَنِیۡنَ — ওয়াল বানীন — সন্তানরা
وَالۡقَنَاطِیۡرِ — ওয়াল কানাতীর — বিপুল সম্পদ
الۡمُقَنۡطَرَۃِ — আল-মুকানতারাহ — সঞ্চিত
مِنَ — মিন — থেকে
الذَّہَبِ — আয-যাহাব — স্বর্ণ
وَالۡفِضَّۃِ — ওয়াল ফিদ্দাহ — রৌপ্য
وَالۡخَیۡلِ — ওয়াল খাইল — ঘোড়া
الۡمُسَوَّمَۃِ — আল-মুসাওওয়ামাহ — চিহ্নিত
وَالۡاَنۡعَامِ — ওয়াল আন‘আম — গবাদি পশু
وَالۡحَرۡثِ — ওয়াল হারছ — কৃষিক্ষেত্র
ذٰلِکَ — যা-লিকা — এগুলো
مَتَاعُ — মাতা‘উ — ভোগ্য সামগ্রী
الۡحَیٰوۃِ — আল-হায়াত — জীবন
الدُّنۡیَا — আদ-দুনিয়া — দুনিয়ার
وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
عِنۡدَہٗ — ‘ইনদাহু — তাঁর কাছে
حُسۡنُ — হুসনু — সুন্দর
الۡمَاٰبِ — আল-মা‘আব — ফিরে যাওয়ার স্থান
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
মানুষের জন্য সুন্দরভাবে আকর্ষণীয় করে দেওয়া হয়েছে নারীদের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা, সন্তানেরা, জমাকৃত বিপুল সম্পদ থেকে স্বর্ণ-রৌপ্য, প্রশিক্ষিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত্র। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগ্য সামগ্রী মাত্র। আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থল।
আয়াত -১৫ঃ
قُلۡ — কুল — বলো
اَؤُنَبِّئُکُمۡ — আউনাব্বিউকুম — আমি কি তোমাদের জানাবো
بِخَیۡرٍ — বিখাইর — উত্তম কিছু
مِّنۡ — মিন — থেকে
ذٰلِکُمۡ — যা-লিকুম — এসবের
لِلَّذِیۡنَ — লিল্লাযীনা — যারা
اتَّقَوۡا — ইত্তাকাও — খোদাভীরুতা অবলম্বন করেছে
عِنۡدَ — ‘ইনদা — কাছে
رَبِّہِمۡ — রাব্বিহিম — তাদের প্রতিপালকের
جَنّٰتٌ — জান্নাতুন — বাগানসমূহ
تَجۡرِیۡ — তাজরী — প্রবাহিত হয়
مِنۡ — মিন — থেকে
تَحۡتِہَا — তাহতিহা — যার নিচে
الۡاَنۡہٰرُ — আল-আনহার — নদীগুলো
خٰلِدِیۡنَ — খালিদীন — চিরস্থায়ীভাবে
فِیۡہَا — ফীহা — তাতে
وَاَزۡوَاجٌ — ওয়া আজওয়াজুন — এবং দম্পতিরা
مُّطَہَّرَۃٌ — মুতাহহারাহ — পরিশুদ্ধ
وَّرِضۡوَانٌ — ওয়া রিদওয়ান — এবং সন্তুষ্টি
مِّنَ — মিন — থেকে
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহর
وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
بَصِیۡرٌ — বাসীর — সর্বদ্রষ্টা
بِالۡعِبَادِ — বিল ইবাদ — বান্দাদের প্রতি
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বলো, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম কিছু সম্পর্কে জানাবো? যারা খোদাভীরুতা (তাকওয়া) অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে উদ্যাণসমূহ, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় এবং পবিত্র দম্পতিরা সেখানে চিরকাল থাকবে আর থাকবে আল্লাহর নিকট হতে সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সর্বদ্রষ্টা।
আয়াত -১৬ঃ
اَلَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
یَقُوۡلُوۡنَ — ইয়াকূলূনা — বলে
رَبَّنَاۤ — রাব্বানা — হে আমাদের প্রতিপালক
اِنَّنَاۤ — ইন্নানা — নিশ্চয়ই আমরা
اٰمَنَّا — আ-মান্না — বিশ্বাস করেছি
فَاغۡفِرۡ — ফাগফির — ক্ষমা করো
لَنَا — লানা — জন্য
ذُنُوۡبَنَا — যুনূবানা — আমাদের গুনাহসমূহ
وَقِنَا — ওয়া কিনা — এবং আমাদের রক্ষা করো
عَذَابَ — আযাবা — শাস্তি
النَّارِ — আন-নার — আগুনের
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস এনেছি, তাই আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।
আয়াত -১৭ঃ
اَلصّٰبِرِیۡنَ — আস-সাবিরীন — ধৈর্যশীলরা
وَالصّٰدِقِیۡنَ — ওয়াস-সাদিকীন — সত্যবাদীরা
وَالۡقٰنِتِیۡنَ — ওয়াল-কানিতীন — বিনয়ীভাবে অনুগতরা
وَالۡمُنۡفِقِیۡنَ — ওয়াল-মুনফিকীন — দানশীলরা
وَالۡمُسۡتَغۡفِرِیۡنَ — ওয়াল-মুস্তাগফিরীন — ক্ষমা প্রার্থনাকারীরা
بِالۡاَسۡحَارِ — বিল-আসহার — শেষ রাতের সময়ে
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা ধৈর্যশীল এবং সত্যবাদী ও বিনয়ীভাবে অনুগত ও দানশীল এবং শেষ রাতের সময় ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
আয়াত -১৮ঃ
شَہِدَ — শাহিদা — সাক্ষ্য দিল
اللّٰہُ — আল্লাহ — আল্লাহ
اَنَّہٗ — আন্নাহু — নিশ্চয় তিনি
لَاۤ — লা — নেই
اِلٰہَ — ইলাহা — কোনো বিধানদাতা
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
ہُوَ — হুওয়া — তিনি
وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ — ওয়াল মালাইকাতু — ফেরেশতারা
وَاُولُوا — ওয়া উলু — এবং জ্ঞানীরা
الۡعِلۡمِ — আল ‘ইলম — জ্ঞান
قَآئِمًۢا — কা-ইমান — প্রতিষ্ঠিতভাবে
بِالۡقِسۡطِ — বিল কিসত — ন্যায়বিচারে
لَاۤ — লা — নেই
اِلٰہَ — ইলাহা — কোনো বিধানদাতা
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
ہُوَ — হুওয়া — তিনি
الۡعَزِیۡزُ — আল-আযীয — পরাক্রমশালী
الۡحَکِیۡمُ — আল-হাকীম — প্রজ্ঞাময়
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। আর ফেরেশতা ও জ্ঞানীরাও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত -১৯ঃ
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়ই
الدِّیۡنَ — আদ-দীন — জীবনব্যবস্থা
عِنۡدَ — ‘ইনদা — নিকট
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহ
الۡاِسۡلَامُ — আল-ইসলাম — শান্তিময় আনুগত্য
وَمَا — ওয়া মা — এবং না
اخۡتَلَفَ — ইখতালাফা — মতভেদ করেছে
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
اُوۡتُوا — উতূ — প্রদান করা হয়েছে
الۡکِتٰبَ — আল-কিতাব — কিতাব
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
مِنۡۢ بَعۡدِ — মিম বা‘দি — পরে
مَا — মা — যখন
جَآءَہُمُ — জাআহুমু — তাদের কাছে এসেছে
الۡعِلۡمُ — আল ‘ইলম — জ্ঞান
بَغۡیًۢا — বাগইয়ান — অন্যায়ভাবে/বিদ্বেশবশত
بَیۡنَہُمۡ — বাইনাহুম — তাদের মধ্যে
وَمَنۡ — ওয়া মান — আর যে
یَّکۡفُرۡ — ইয়াকফুর — অস্বীকার করে
بِاٰیٰتِ — বিআয়াতি — আয়াতসমূহকে
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহর
فَاِنَّ — ফা-ইন্না — তাহলে নিশ্চয়ই
اللّٰہَ — আল্লাহ — আল্লাহ
سَرِیۡعُ — সারীউ — দ্রুত
الۡحِسَابِ — আল-হিসাব — হিসাব গ্রহণকারী
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবণব্যবস্থা/ধর্ম/দীন হলো শান্তিময় আনুগত্য (ইসলাম)। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা জ্ঞান আসার পরও নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষের কারণে মতভেদ করেছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
আয়াত -২০ঃ
فَاِنۡ — ফা-ইন — অতঃপর যদি
حَآجُّوۡکَ — হাজ্জুকা — তারা তোমার সাথে বিতর্ক করে (এখানে হজের অর্থ সকল অনুবাদক বাহাস বা বিতর্ক লিখেছেন। কারণ হজ অর্থ হজ লিখলে এখানে বাক্য অর্থপূর্ণ হয়না।)
فَقُلۡ — ফাকুল — তবে বলো
اَسۡلَمۡتُ — আসলামতু — আমি আত্মসমর্পণ করেছি
وَجۡہِیَ — ওয়াজহিয়া — আমার চেহারা/সত্তা
لِلّٰہِ — লিল্লাহ — আল্লাহর কাছে
وَمَنِ — ওয়া মানি — এবং যে
اتَّبَعَنِ — ইত্তাবা‘আনি — আমাকে অনুসরণ করেছে
وَقُلۡ — ওয়া কুল — এবং বলো
لِّلَّذِیۡنَ — লিল্লাযীনা — তাদেরকে যারা
اُوۡتُوا — উতূ — দেওয়া হয়েছে
الۡکِتٰبَ — আল-কিতাব — কিতাব
وَالۡاُمِّیّٖنَ — ওয়াল উম্মিয়্যীন — এবং অজ্ঞদের
ءَاَسۡلَمۡتُمۡ — আ-আসলামতুম — তোমরা কি আত্মসমর্পণ করেছো?
فَاِنۡ — ফা-ইন — অতঃপর যদি
اَسۡلَمُوۡا — আসলামূ — তারা আত্মসমর্পণ করে
فَقَدِ — ফাকাদ — তবে অবশ্যই
اہۡتَدَوۡا — ইহতাদাও — তারা সৎপথ পেয়েছে
وَاِنۡ — ওয়া ইন — আর যদি
تَوَلَّوۡا — তাওয়াল্লাও — তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়
فَاِنَّمَا — ফা-ইন্নামা — তবে তোমার দায়িত্ব শুধু
عَلَیۡکَ — ‘আলাইকা — তোমার উপর
الۡبَلٰغُ — আল-বালাগ — পৌঁছে দেওয়া
وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহ — আর আল্লাহ
بَصِیۡرٌۢ — বাসীরুন — সম্যক দ্রষ্টা/সকল কিছু জানা
بِالۡعِبَادِ — বিল ‘ইবাদ — বান্দাদের সম্পর্কে
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যদি তারা তোমার সাথে বিতর্ক (হজ্জ) করে, তবে বলো—আমি এবং আমার অনুসারীরা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞদের বলো—তোমরাও কি আত্মসমর্পণ করেছো? যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে তারা সৎপথ পেয়েছে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সবকিছুই অবগত।
আয়াত -২১ঃ
اِنَّ — ইন্না — নিশ্চয়ই
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
یَکۡفُرُوۡنَ — ইয়াকফুরূনা — অস্বীকার করে
بِاٰیٰتِ — বিআয়াতি — আয়াতসমূহকে
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহর
وَیَقۡتُلُوۡنَ — ওয়া ইয়াকতুলূনা — এবং হত্যা করে
النَّبِیّٖنَ — আন-নাবিয়্যীনা — নবীগণকে
بِغَیۡرِ — বিগাইরি — ব্যতীত
حَقٍّ — হাক্কিন — ন্যায্য কারণ
وَّیَقۡتُلُوۡنَ — ওয়া ইয়াকতুলূনা — এবং হত্যা করে
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — তাদেরকে যারা
یَاۡمُرُوۡنَ — ইয়া’মুরূনা — নির্দেশ দেয়
بِالۡقِسۡطِ — বিল-কিস্তি — ন্যায়ের
مِنَ — মিনান — মধ্য থেকে
النَّاسِ — আন-নাস — মানুষের
فَبَشِّرۡہُمۡ — ফাবাশশিরহুম — তাই তাদের সুসংবাদ দাও
بِعَذَابٍ — বি‘আযাবিন — শাস্তির
اَلِیۡمٍ — আলীম — যন্ত্রণাদায়ক
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করে এবং মানুষের মধ্য থেকে যারা ন্যায়ের নির্দেশ দেয় তাদেরও হত্যা করে—তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
আয়াত -২২ঃ
اُولٰٓئِکَ — উলাইকা — তারাই
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
حَبِطَتۡ — হাবিতাত — বিনষ্ট হয়েছে
اَعۡمَالُہُمۡ — আ‘মা-লুহুম — তাদের কর্মসমূহ
فِی — ফি — মধ্যে
الدُّنۡیَا — আদ-দুনইয়া — দুনিয়াতে
وَالۡاٰخِرَۃِ — ওয়াল আ-খিরাতি — এবং আখিরাতে
وَمَا — ওয়া মা — এবং নেই
لَہُمۡ — লাহুম — তাদের জন্য
مِّنۡ — মিন — কোনো
نّٰصِرِیۡنَ — নাসিরীন — সাহায্যকারী
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারাই সেই, যাদের কর্মসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে বিনষ্ট হয়ে গেছে। আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।
আয়াত -২৩ঃ
اَلَمۡ تَرَ — আলামতারা — তুমি কি দেখোনা
اِلَی — ইলা — প্রতি
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যাদের
اُوۡتُوۡا — উতূ — দেওয়া হয়েছে
نَصِیۡبًا — নাসীবান — একটি অংশ
مِّنَ — মিনাল — থেকে
الۡکِتٰبِ — আল-কিতাব — কিতাবের
یُدۡعَوۡنَ — ইউদ‘আওনা — ডাকা হয়
اِلٰی — ইলা — দিকে
کِتٰبِ — কিতাবি — কিতাবের
اللّٰہِ — আল্লাহ — আল্লাহর
لِیَحۡکُمَ — লিইয়াহকুমা — যাতে ফয়সালা করে
بَیۡنَہُمۡ — বাইনাহুম — তাদের মধ্যে
ثُمَّ — ছুম্মা — তারপর
یَتَوَلّٰی — ইয়াতাওয়াল্লা — মুখ ফিরিয়ে নেয়
فَرِیۡقٌ — ফারীকুন — একটি দল
مِّنۡہُمۡ — মিনহুম — তাদের মধ্য থেকে
وَہُمۡ — ওয়া হুম — অথচ তারা
مُّعۡرِضُوۡنَ — মু‘রিদূন — বিমুখ/উপেক্ষাকারী
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়েছিল? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হয় যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে। তারপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর তারা তো উপেক্ষাকারী।
আয়াত -২৪ঃ
ذٰلِکَ — যালিকা — এটা
بِاَنَّہُمۡ — বিআন্নাহুম — কারণ তারা
قَالُوۡا — কালূ — বলেছে
لَنۡ — লান — কখনো না
تَمَسَّنَا — তামাস্সানা — স্পর্শ করবে আমাদেরকে
النَّارُ — আন-নারু — আগুন
اِلَّاۤ — ইল্লা — ছাড়া
اَیَّامًا — আইয়্যামান — সময়ের একটি পর্যায়/সময়কাল
مَّعۡدُوۡدٰتٍ — মা‘দূদাতিন — গণনাকৃত/নির্দিষ্ট
وَغَرَّہُمۡ — ওয়া গাররাহুম — এবং তাদেরকে প্রতারিত করেছে
فِیۡ — ফি — মধ্যে
دِیۡنِہِمۡ — দীনিহিম — তাদের ধর্মে/জীবণব্যবস্থা
مَّا — মা — যা
کَانُوۡا — কা-নূ — তারা ছিল
یَفۡتَرُوۡنَ — ইয়াফতারূন — মিথ্যা রচনা করত
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটা এ কারণে যে, তারা বলে—“নির্দিষ্ট সময়ের একটি পর্যায় ছাড়া আগুন কখনো আমাদের স্পর্শ করবে না।” আর তারা নিজেদের ধর্ম (জীবণব্যবস্থা) সম্পর্কে যে মিথ্যা রচনা করছে, তা তাদেরকে ধোকায় ফেলেছে।
আয়াত -২৫ঃ
فَکَیۡفَ — ফাকাইফা — তাহলে কেমন হবে
اِذَا — ইযা — যখন
جَمَعۡنٰہُمۡ — জামা‘না-হুম — আমরা তাদের একত্র করব
لِیَوۡمٍ — লিইয়াওমিন — সেই নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য
لَّا — লা — না
رَیۡبَ — রাইবা — কোনো সন্দেহ
فِیۡہِ — ফীহি — এতে
وَوُفِّیَتۡ — ওয়া উফফিয়াত — এবং পূর্ণভাবে দেওয়া হবে
کُلُّ — কুল্লু — প্রত্যেক
نَفۡسٍ — নাফসিন — ব্যক্তি/প্রাণকে
مَّا — মা — যা
کَسَبَتۡ — কাছাবাত — সে অর্জন করেছে
وَہُمۡ — ওয়া হুম — আর তারা
لَا — লা — না
یُظۡلَمُوۡنَ — ইউজলামূন — অত্যাচারিত হবে
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাহলে কেমন হবে, যখন আমরা তাদেরকে এমন এক নির্দিষ্ট সময়কালে একত্র করব, যে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জিত কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে? আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।
