সূরা আল মায়িদাহ (المائدة) | খাদ্য পরিবেশিত দস্তরখান
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৭৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-২৬ঃ

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
فَاِنَّہَا (ফাইন্নাহা → নিশ্চয়ই তা)
مُحَرَّمَۃٌ (মুহাররামাতুন → নিষিদ্ধ করা হয়েছে)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের জন্য)
اَرۡبَعِیۡنَ (আরবা‘ঈনা → চল্লিশ)
سَنَۃً (সানাতান → বছর)
یَتِیۡہُوۡنَ (ইয়াতীহূনা → উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে ফিরবে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → যমীনে)
فَلَا (ফালা → অতএব না)
تَاۡسَ (তা’সা → তুমি দুঃখ করো)
عَلَی (আলা → জন্য)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সেই সম্প্রদায়ের)
الۡفٰسِقِیۡنَ (আল-ফা-সিকীন → অবাধ্য লোকদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, নিশ্চয়ই এই ভূমি তাদের জন্য চল্লিশ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হলো। তারা এ সময় পৃথিবীতে পথহারা হয়ে ঘুরে ফিরবে। সুতরাং তুমি এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করো না।


আয়াত-২৭ঃ

وَاتۡلُ (ওয়াতলু → পাঠ করে শোনাও)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের কাছে)
نَبَاَ (নাবা’আ → ঘটনা)
ابۡنَیۡ (ইবনাই → দুই পুত্রের)
اٰدَمَ (আ-দামা → আদমের)
بِالۡحَقِّ (বিলহাক্কি → সত্যসহ)
اِذۡ (ইয → যখন)
قَرَّبَا (কাররাবা → তারা উভয়ে পেশ করল)
قُرۡبَانًا (কুরবা-নান → নৈকট্যের নিবেদন/ত্যাগের মাধ্যমে নৈকট্য লাভের আবেদন)
فَتُقُبِّلَ (ফাতুকুব্বিলা → অতঃপর গ্রহণ করা হলো)
مِنۡ (মিন → থেকে)
اَحَدِہِمَا (আহাদিহিমা → তাদের একজনের)
وَلَمۡ (ওয়া লাম → আর হয়নি)
یُتَقَبَّلۡ (ইউতাকাব্বাল → গ্রহণ করা)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡاٰخَرِ (আ-খারি → অন্যজনের)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
لَاَقۡتُلَنَّکَ (লা-আকতুলান্নাকা → আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
یَتَقَبَّلُ (ইয়াতাকাব্বালু → গ্রহণ করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡمُتَّقِیۡنَ (আল-মুত্তাকীন → আল্লাহভীরুদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তুমি তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের সত্য ঘটনা পাঠ করে শোনাও। যখন তারা উভয়ে একটি করে নৈকট্যের আবেদন (কুরবানি) পেশ করেছিল, তখন তাদের একজনের নৈকট্যের আবেদন গ্রহণ (কবুল) করা হয়েছিল এবং অন্যজনেরটি গ্রহণ করা হয়নি। সে বলল, “আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব।” অপরজন বলল, আল্লাহ তো কেবল খোদাভীরুদের (মুত্তাকীদের) কাছে থেকেই আবেদন গ্রহণ করেন।


আয়াত-২৮ঃ

لَئِنۡۢ (লাইন → যদি অবশ্যই)
بَسَطۡتَّ (বাসাত্তা → তুমি প্রসারিত করো)
اِلَیَّ (ইলাইইয়া → আমার প্রতি)
یَدَکَ (ইয়াদাকা → তোমার হাত/ক্ষমতা/ কর্তৃত্ব)
لِتَقۡتُلَنِیۡ (লিতাকতুলানী → আমাকে হত্যা করার জন্য)
مَاۤ (মা → তবে না)
اَنَا (আনা → আমি)
بِبَاسِطٍ (বিবা-সিতিন → প্রসারিতকারী)
یَّدِیَ (ইয়াদিয়া → আমার হাত/ক্ষমতা/ কর্তৃত্ব)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
لِاَقۡتُلَکَ (লিআকতুলাকা → তোমাকে হত্যা করার জন্য)
اِنِّیۡۤ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
اَخَافُ (আখা-ফু → ভয় করি)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
رَبَّ (রাব্বা → প্রতিপালক)
الۡعٰلَمِیۡنَ (আল-‘আলামীন → সমগ্র জগতের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি তুমি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার প্রতি তোমার ক্ষমতা প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য তোমার প্রতি আমার ক্ষমতা দেখাবোনা। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক।


আয়াত-২৯ঃ

اِنِّیۡۤ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
اُرِیۡدُ (উরীদু → ইচ্ছা করি)
اَنۡ (আন → যেন)
تَبُوۡٓاَ (তাবূআ → তুমি বহন করে ফিরে যাও)
بِاِثۡمِیۡ (বি ইছমী → আমার পাপসহ)
وَاِثۡمِکَ (ওয়া ইছমিকা → এবং তোমার নিজের পাপসহ)
فَتَکُوۡنَ (ফাতাকূনা → ফলে তুমি হবে)
مِنۡ (মিন → অন্তর্ভুক্ত)
اَصۡحٰبِ (আসহাবি → অধিবাসীদের)
النَّارِ (আন-নারি → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির)
وَذٰلِکَ (ওয়া যালিকা → আর সেটাই)
جَزٰٓؤُا (জাযাউ → প্রতিদান)
الظّٰلِمِیۡنَ (আয-যালিমীন → অত্যাচারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আমি চাই যে, তুমি আমার পাপ এবং তোমার নিজের পাপের বোঝা বহন করে ফিরে যাও। ফলে তুমি ভয়ংকর আগুনের শাস্তির অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটাই অত্যাচারীদের প্রতিদান।


আয়াত-৩০ঃ

فَطَوَّعَتۡ (ফাতাওওা‘আত → অতঃপর প্ররোচিত করল)
لَہٗ (লাহূ → তাকে)
نَفۡسُہٗ (নাফসুহূ → তার প্রবৃত্তি/নফস)
قَتۡلَ (কাতলা → হত্যা করতে)
اَخِیۡہِ (আখীহি → তার ভাইকে)
فَقَتَلَہٗ (ফাকাতালাহূ → অতঃপর সে তাকে হত্যা করল)
فَاَصۡبَحَ (ফাআসবাহা → ফলে সে হয়ে গেল)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡخٰسِرِیۡنَ (আল-খা-সিরীন → ক্ষতিগ্রস্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর তার প্রবৃত্তি (নফস), তার ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করল। ফলে সে তাকে হত্যা করল এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।


আয়াত-৩১ঃ

فَبَعَثَ (ফাবা‘আসা → অতঃপর পাঠালেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
غُرَابًا (গুরা-বান → একটি কাক)
یَّبۡحَثُ (ইয়াবহাছু → খুঁড়ছিল)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → যমীন)
لِیُرِیَہٗ (লিইউরিয়াহূ → যাতে তাকে দেখায়)
کَیۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
یُوَارِیۡ (ইউওয়া-রী → লুকাবে/আড়াল করবে)
سَوۡءَۃَ (সাওআতা → লাশ/লজ্জাস্থান)
اَخِیۡہِ (আখীহি → তার ভাইয়ের)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
یٰوَیۡلَتٰۤی (ইয়া ওয়াইলাতা → হায় আমার দুর্ভাগ্য!)
اَعَجَزۡتُ (আ‘আজাঝতু → আমি কি অক্ষম হয়ে গেলাম?)
اَنۡ (আন → যে)
اَکُوۡنَ (আকূনা → আমি হব)
مِثۡلَ (মিছলা → মতো)
ہٰذَا (হা-যা → এই)
الۡغُرَابِ (আল-গুরা-বি → কাকের)
فَاُوَارِیَ (ফাউওয়া-রিয়া → যাতে আমি আড়াল করতে পারি)
سَوۡءَۃَ (সাওআতা → লাশ/লজ্জাস্থান)
اَخِیۡ (আখী → আমার ভাইয়ের)
فَاَصۡبَحَ (ফাআসবাহা → অতঃপর সে হয়ে গেল)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
النّٰدِمِیۡنَ (আন-না-দিমীন → অনুতপ্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন। সে যমীন খুঁড়তে লাগল, যাতে তাকে দেখায় কীভাবে সে তার ভাইয়ের লাশ আড়াল করবে। সে বলল, “হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি কি এই কাকের মতোও হতে পারলাম না, যে আমার ভাইয়ের লাশ আড়াল করব?” অতঃপর সে অনুশোচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।


আয়াত-৩২ঃ

مِنۡ (মিন → কারণে)
اَجۡلِ (আজলি → জন্য)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → এ ঘটনার)
کَتَبۡنَا (কাতাবনা → আমরা লিখিত বিধান দিয়েছি)
عَلٰی (আলা → উপর)
بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (বানী ইসরাঈলা → বনী ইসরাঈলের)
اَنَّہٗ (আন্নাহূ → যে)
مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
قَتَلَ (কাতালা → হত্যা করে)
نَفۡسًۢا (নাফসান → একজন মানুষকে)
بِغَیۡرِ (বিগাইরি → বিনা)
نَفۡسٍ (নাফসিন → হত্যার প্রতিশোধে)
اَوۡ (আও → অথবা)
فَسَادٍ (ফাসা-দিন → বিপর্যয়)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদি → পৃথিবীতে)
فَکَاَنَّمَا (ফাকা-আন্নামা → তবে যেন সে)
قَتَلَ (কাতালা → হত্যা করেছে)
النَّاسَ (আন-নাসা → সমস্ত মানুষকে)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সবাইকে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
اَحۡیَاہَا (আহইয়া-হা → একজনকে জীবন দান করে)
فَکَاَنَّمَاۤ (ফাকা-আন্নামা → তবে যেন সে)
اَحۡیَا (আহইয়া → জীবন দান করেছে)
النَّاسَ (আন-নাসা → সমস্ত মানুষকে)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সবাইকে)
وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → আর অবশ্যই)
جَآءَتۡہُمۡ (জা-আতহুম → তাদের কাছে এসেছিল)
رُسُلُنَا (রুসুলুনা → আমাদের রাসূলগণ)
بِالۡبَیِّنٰتِ (বিল বাইয়্যিনাতি → সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপরও)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
کَثِیۡرًا (কাছীরান → অনেকেই)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → এর)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদি → পৃথিবীতে)
لَمُسۡرِفُوۡنَ (লামুসরিফূন → সীমালঙ্ঘনকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এ কারণেই আমরা ইসরাঈলের সন্তানদের জন্য এ লিখিত বিধান দিয়েছিলাম যে, কেউ যদি কোনো মানুষকে হত্যা করে—হত্যার প্রতিশোধ বা পৃথিবীতে অশান্তি/বিপর্যয় বিস্তারের কারনে নয়—তবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে একজন মানুষের জীবন রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল। অবশ্যই তাদের কাছে আমাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিলেন। তারপরও তাদের অনেকেই পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘন করতে থাকে।


আয়াত-৩৩ঃ

اِنَّمَا (ইন্নামা → এটাই)
جَزٰٓؤُا (জাযাউ → প্রতিদান/বিনিময়)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُحَارِبُوۡنَ (ইউহারিবূনা → যুদ্ধ করে)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহর বিরুদ্ধে)
وَرَسُوۡلَہٗ (ওয়া রাসূলাহূ → এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে)
وَیَسۡعَوۡنَ (ওয়া ইয়াস‘আওনা → এবং প্রচেষ্টা করে)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদি → পৃথিবীতে)
فَسَادًا (ফাসা-দান → অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে/ফাসাদ সৃষ্টি)
اَنۡ (আন → যে)
یُّقَتَّلُوۡۤا (ইউকাত্তালূ → তাদের হত্যা করা হবে)
اَوۡ (আও → অথবা)
یُصَلَّبُوۡۤا (ইউসাল্লাবূ → তাদের শূলবিদ্ধ করা হবে)
اَوۡ (আও → অথবা)
تُقَطَّعَ (তুকাত্তা‘আ → কেটে ফেলা হবে)
اَیۡدِیۡہِمۡ (আইদীহিম → তাদের হাত)
وَاَرۡجُلُہُمۡ (ওয়া আরজুলুহুম → এবং তাদের পা)
مِّنۡ خِلَافٍ (মিন খিলা-ফিন → বিপরীত দিক থেকে)
اَوۡ (আও → অথবা)
یُنۡفَوۡا (ইউনফাও → তাদের নির্বাসিত করা হবে)
مِنَ الۡاَرۡضِ (মিনাল আরদি → পৃথিবী থেকে)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → এটাই)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
خِزۡیٌ (খিযইউন → লাঞ্ছনা)
فِی الدُّنۡیَا (ফিদ্-দুনইয়া → দুনিয়াতে)
وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
فِی الۡاٰخِرَۃِ (ফিল আ-খিরাতি → আখিরাতে)
عَذَابٌ (আযা-বুন → শাস্তি)
عَظِیۡمٌ (আযীম → মহা/ভয়াবহ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি ও বিপর্যয় (যেমন: ধর্ষণ, হত্যা, গুম, আত্নঘাতী হামলা ইত্যাদি) সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা করে, তাদের বিনিময় হলো—তাদের হত্যা করতে হবে অথবা শূলবিদ্ধ করতে হবে অথবা তাদের বিপরীত দিকের হাত ও পা কেটে ফেলতে হবে, অথবা তাদের পৃথিবী থেকে নির্বাসিত করতে হবে। এটি দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা; আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।


আয়াত-৩৪ঃ

اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
تَابُوۡا (তা-বূ → তারা ফিরে এসেছে)
مِنۡ قَبۡلِ (মিন কাবলি → আগে)
اَنۡ (আন → যখন)
تَقۡدِرُوۡا (তাকদিরূ → তোমরা সক্ষম হও)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
فَاعۡلَمُوۡۤا (ফা‘লামূ → তাহলে জেনে রাখো)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা তোমাদের আয়ত্তাধীন আসার আগেই তারা ফিরে এসেছে (তাওবা করেছে)। অতএব জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-৩৫ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
اتَّقُوا (ইত্তাকূ → ভয় করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَابۡتَغُوۡۤا (ওয়াবতাগূ → এবং অনুসন্ধান করো)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁর দিকে)
الۡوَسِیۡلَۃَ (আল-ওয়াসীলাতা → নৈকট্যের উপায়/মাধ্যম)
وَجَاہِدُوۡا (ওয়া জাহিদূ → এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করো)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
سَبِیۡلِہٖ (সাবীলিহী → তাঁর পথে)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُوۡنَ (তুফলিহূন → সফল হতে পারো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ করো এবং তাঁর পথে সর্বশক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালাও, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।


আয়াত-৩৬ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে)
لَوۡ (লাও → যদি)
اَنَّ (আন্না → যে)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مَّا (মা → যা কিছু)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদি → পৃথিবীতে আছে)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সবই)
وَّمِثۡلَہٗ (ওয়া মিছলাহু → এবং তার সমপরিমাণ)
مَعَہٗ (মা‘আহু → তার সঙ্গে)
لِیَفۡتَدُوۡا (লিইয়াফতাদূ → যাতে তারা মুক্তিপণ দিতে পারে)
بِہٖ (বিহী → তা দিয়ে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
عَذَابِ (আযাবি → শাস্তি)
یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমিল কিয়ামাহ → পুনরুত্থানের দিনের)
مَا (মা → কখনোই না)
تُقُبِّلَ (তুকুব্বিলা → গ্রহণ করা হবে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের কাছ থেকে)
وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِیۡمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাসী হয়েছে, পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই যদি তাদের থাকত এবং তার সমপরিমাণ আরও থাকত, যাতে পুনরুত্থান দিবসে শাস্তি হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে তা পেশ করতে পারে, তবুও তাদের থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


আয়াত-৩৭ঃ

یُرِیۡدُوۡنَ (ইউরীদূনা → তারা চাইবে)
اَنۡ (আন → যে)
یَّخۡرُجُوۡا (ইয়াখরুজূ → বের হয়ে আসতে)
مِنَ النَّارِ (মিনান্নার → আগুন থেকে)
وَمَا (ওয়া মা → কিন্তু কখনোই না)
ہُمۡ (হুম → তারা)
بِخٰرِجِیۡنَ (বিখারিজীনা → বের হতে পারবে)
مِنۡہَا (মিনহা → তা থেকে)
وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
مُّقِیۡمٌ (মুকীম → চিরস্থায়ী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা আগুন থেকে বের হয়ে আসতে চাইবে, কিন্তু তারা কখনোই সেখান থেকে বের হতে পারবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।


আয়াত-৩৮ঃ

وَالسَّارِقُ (ওয়াস্-সারিকু → চোর পুরুষ)
وَالسَّارِقَۃُ (ওয়াস্-সারিকাতু → চোর নারী)
فَاقۡطَعُوۡۤا (ফাক্তা‘উ → তোমরা কেটে দাও)
اَیۡدِیَہُمَا (আইদিয়াহুমা → তাদের উভয়ের হাত)
جَزَآءًۢ (জাযাআন → প্রতিফলস্বরূপ)
بِمَا (বিমা → যা)
كَسَبَا (কাসাবা → তারা অর্জন করেছে)
نَكَالًا (নাকালান → দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি)
مِّنَ اللّٰهِ (মিনাল্লাহি → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَزِيۡزٌ (আযীযুন → পরাক্রমশালী)
حَكِيۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
চোর পুরুষ ও চোর নারী—তারা যা করেছে তার প্রতিফলস্বরূপ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-৩৯ঃ

فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
تَابَ (তা-বা → ক্ষমা প্রার্থনা করে)
مِنۡۢ بَعۡدِ (মিম বা‘দি → পরে)
ظُلۡمِہٖ (জুলমিহী → তার অন্যায়ের)
وَاَصۡلَحَ (ওয়া আসলাহা → এবং সংশোধন করে)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
یَتُوۡبُ (ইয়াতূবু → ক্ষমা গ্রহণকারী)
عَلَیۡہِ (আলাইহি → তার প্রতি)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → অত্যন্ত ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যে ব্যক্তি নিজের অন্যায়ের পর ক্ষমা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, তবে অবশ্যই আল্লাহ তার ক্ষমার প্রার্থনা গ্রহণ করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-৪০ঃ

اَلَمۡ تَعۡلَمۡ (আলাম তা‘লাম → তুমি কি জানো না?)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَہٗ (লাহূ → তাঁরই)
مُلۡكُ (মুলকু → সার্বভৌম কর্তৃত্ব/রাজত্ব)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
یُعَذِّبُ (ইউ‘আযযিবু → তিনি শাস্তি দেন)
مَنۡ (মাইঁ → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَیَغۡفِرُ (ওয়া ইয়াগফিরু → এবং তিনি ক্ষমা করেন)
لِمَنۡ (লিমাইঁ → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلٰی (আলা → উপর/ব্যাপারে)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → বস্তুর/বিষয়ের)
قَدِیۡرٌ (কাদীর → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তুমি কি জানো না যে, আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সকল কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহরই? তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।


আয়াত-৪১ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الرَّسُوۡلُ (আর-রাসূলু → বার্তাবাহক)
لَا (লা → না)
یَحۡزُنۡکَ (ইয়াহযুনকা → তোমাকে দুঃখিত করুক)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُسَارِعُوۡنَ (ইউসারিউনা → দ্রুত এগিয়ে যায়)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡکُفۡرِ (আল-কুফরি → অবিশ্বাসে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলেছে)
اٰمَنَّا (আমান্না → আমরা বিশ্বাস করেছি)
بِاَفۡوَاہِہِمۡ (বি-আফওয়াহিহিম → তাদের মুখ দ্বারা)
وَلَمۡ (ওয়ালাম → কিন্তু না)
تُؤۡمِنۡ (তু’মিন → বিশ্বাস করেছে)
قُلُوۡبُہُمۡ (কুলূবুহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
ہَادُوۡا (হাদূ → ফিরে এসেছে/ইহুদি হয়েছে)
سَمّٰعُوۡنَ (সাম্মাঊনা → খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে)
لِلۡکَذِبِ (লিল-কাযিবি → মিথ্যার জন্য)
سَمّٰعُوۡنَ (সাম্মাঊনা → খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এক সম্প্রদায়ের জন্য)
اٰخَرِیۡنَ (আখারীনা → অন্যদের)
لَمۡ (লাম → না)
یَاۡتُوۡکَ (ইয়াতূকা → তারা তোমার কাছে এসেছে)
یُحَرِّفُوۡنَ (ইউহাররিফূনা → বিকৃত করে)
الۡکَلِمَ (আল-কালিমা → কথাসমূহ)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَعۡدِ (বা’দি → পরে)
مَوَاضِعِہٖ (মাওয়াদিইহি → তার যথাস্থানসমূহ)
یَقُوۡلُوۡنَ (ইয়াকূলূনা → তারা বলে)
اِنۡ (ইন → যদি)
اُوۡتِیۡتُمۡ (ঊতীতুম → তোমাদের দেওয়া হয়)
ہٰذَا (হাযা → এটি)
فَخُذُوۡہُ (ফাখুযূহু → তবে গ্রহণ করো)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
لَّمۡ (লাম → না)
تُؤۡتَوۡہُ (তু’তাওহু → তোমাদের দেওয়া হয়)
فَاحۡذَرُوۡا (ফাহযারূ → তবে সতর্ক থাকো)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یُّرِدِ (ইউরিদি → ইচ্ছা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
فِتۡنَتَہٗ (ফিতনাতাহু → তার বিপথগামিতা)
فَلَنۡ (ফালান → কখনোই না)
تَمۡلِکَ (তামলিকা → তুমি ক্ষমতা রাখবে)
لَہٗ (লাহু → তার জন্য)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَمۡ (লাম → না)
یُرِدِ (ইউরিদি → ইচ্ছা করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
اَنۡ (আন → যে)
یُّطَہِّرَ (ইউতাহহিরা → পরিশুদ্ধ করবেন)
قُلُوۡبَہُمۡ (কুলূবাহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
فِی (ফী → মধ্যে)
الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব জীবন)
خِزۡیٌ (খিযইয়ুন → লাঞ্ছনা)
وَّلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاٰخِرَۃِ (আল-আখিরাহ → পরবর্তী জীবন)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
عَظِیۡمٌ (আযীম → মহান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বার্তাবাহক (রাসূল)! যারা অবিশ্বাসের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়, তারা যেন তোমাকে দুঃখিত না করে। তাদের মধ্যে একদল মুখে বলে, “আমরা বিশ্বাস করেছি”, অথচ তাদের অন্তর বিশ্বাস করেনি। আর যারা ফিরে এসেছে (ইহুদি), তাদের মধ্যেও এমন লোক আছে যারা মিথ্যা শোনার জন্য সদা প্রস্তুত এবং এমন অন্য এক সম্প্রদায়ের জন্য কান পাতে, যারা তোমার কাছে আসেনি। তারা কথাগুলোকে তাদের যথাস্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে, “যদি তোমাদের এটি দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণ করো; আর যদি এটি না দেওয়া হয়, তবে সতর্ক থেকো।” আল্লাহ যাকে বিপথগামী করতে ইচ্ছা করেন, তার জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমার কোনোই ক্ষমতা নেই। এরাই তারা, যাদের অন্তর পরিশুদ্ধ করার ইচ্ছা আল্লাহ করেননি। তাদের জন্য পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা রয়েছে এবং পরবর্তী জীবনে রয়েছে মহাশাস্তি।


আয়াত-৪২ঃ

سَمّٰعُوۡنَ (সাম্মাঊনা → খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে)
لِلۡکَذِبِ (লিল-কাযিবি → মিথ্যার জন্য)
اَکّٰلُوۡنَ (আক্কালূনা → লোভে গ্রহণকারী)
لِلسُّحۡتِ (লিস-সুহতি → অবৈধ উপার্জন)
فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
جَآءُوۡکَ (জাঊকা → তারা তোমার কাছে আসে)
فَاحۡکُمۡ (ফাহকুম → তবে বিচার করো)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
اَوۡ (আও → অথবা)
اَعۡرِضۡ (আ’রিদ → মুখ ফিরিয়ে নাও)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদের থেকে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تُعۡرِضۡ (তু’রিদ → তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদের থেকে)
فَلَنۡ (ফালান → তবে কখনোই না)
یَّضُرُّوۡکَ (ইয়াদুররূকা → তারা তোমার ক্ষতি করতে পারবে)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছুই)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
حَکَمۡتَ (হাকামতা → তুমি বিচার করো)
فَاحۡکُمۡ (ফাহকুম → তবে সিদ্ধান্ত দিয়েছ)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
بِالۡقِسۡطِ (বিল-কিস্তি → ন্যায়বিচারের সাথে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُقۡسِطِیۡنَ (আল-মুকসিতীন → ন্যায়পরায়ণদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা মিথ্যা শুনতে খুব আগ্রহী এবং অবৈধ উপার্জন ভোগে অভ্যস্ত। অতঃপর তারা যদি তোমার কাছে আসে, তবে তাদের মধ্যে বিচার করো অথবা তাদের উপেক্ষা করো। আর যদি তাদের উপেক্ষা করো, তবে তারা তোমার কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। আর যদি বিচার করো, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।


আয়াত-৪৩ঃ

وَکَیۡفَ (ওয়া কাইফা → আর কীভাবে)
یُحَکِّمُوۡنَکَ (ইউহাক্কিমূনাকা → তারা তোমাকে বিচারক বানায়)
وَعِنۡدَہُمُ (ওয়া ইন্দাহুমু → অথচ তাদের কাছে রয়েছে)
التَّوۡرٰىۃُ (আত-তাওরাহ → তাওরাত/দিকনির্দেশনার কিতাব)
فِیۡہَا (ফীহা → যার মধ্যে)
حُکۡمُ (হুকমু → বিধান/ফয়সালা)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
ثُمَّ (ছুম্মা → এরপর)
یَتَوَلَّوۡنَ (ইয়াতাওয়াল্লাওনা → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَعۡدِ (বা’দি → পরে)
ذٰلِکَ (যালিকা → তার)
وَمَا (ওয়া মা → আর নয়)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ (বিল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর কীভাবে তারা তোমাকে বিচারক বানায়, অথচ তাদের কাছেই তাওরাত রয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহর বিধান আছে? এরপরও তারা সেই বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরা কখনোই একনিষ্ঠ বিশ্বাসী নয়।


আয়াত-৪৪ঃ

اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اَنۡزَلۡنَا (আনযালনা → আমরা অবতীর্ণ করেছি)
التَّوۡرٰىۃَ (আত-তাওরাতা → তাওরাত/দিকনির্দেশনার কিতাব)
فِیۡہَا (ফীহা → এতে)
ہُدًی (হুদান → সঠিক পথনির্দেশ)
وَّنُوۡرٌ (ওয়া নূরুন → এবং আলো)
یَحۡکُمُ (ইয়াহকুমু → বিচার করেন/ফয়সালা করেন)
بِہَا (বিহা → এর দ্বারা)
النَّبِیُّوۡنَ (আন-নাবিয়্যূনা → নবীগণ)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اَسۡلَمُوۡا (আসলামূ → আত্মসমর্পণ করেছে)
لِلَّذِیۡنَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য যারা)
ہَادُوۡا (হাদূ → ফিরে এসেছে/ইহুদি হয়েছে)
وَ (ওয়া → এবং)
الرَّبّٰنِیُّوۡنَ (আর-রাব্বানিয়্যূনা → প্রতিপালকমুখী জ্ঞানীজন)
وَ (ওয়া → এবং)
الۡاَحۡبَارُ (আল-আহবারু → বিদ্বানগণ)
بِمَا (বিমা → যা দ্বারা)
اسۡتُحۡفِظُوۡا (ইসতুহফিযূ → সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল)
مِنۡ (মিন → থেকে)
کِتٰبِ (কিতাবি → কিতাব)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَکَانُوۡا (ওয়া কানূ → এবং তারা ছিল)
عَلَیۡہِ (আলাইহি → এর উপর)
شُہَدَآءَ (শুহাদা’আ → সাক্ষী)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَخۡشَوُا (তাখশাও → তোমরা ভয় করো)
النَّاسَ (আন-নাসা → মানুষকে)
وَاخۡشَوۡنِ (ওয়াখশাওনি → বরং আমাকে ভয় করো)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَشۡتَرُوۡا (তাশতারূ → বিনিময় করো/বিক্রি করো)
بِاٰیٰتِیۡ (বি-আয়াতী → আমার নিদর্শনের বিনিময়ে)
ثَمَنًا (ছামানান → মূল্য)
قَلِیۡلًا (কালীলান → সামান্য)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
لَّمۡ (লাম → না)
یَحۡکُمۡ (ইয়াহকুম → বিচার করে)
بِمَاۤ (বিমা → যা দ্বারা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
ہُمُ (হুম → তারাই)
الۡکٰفِرُوۡنَ (আল-কাফিরূন → অবিশ্বাসীরা/সত্য গোপনকারীরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আমরা তাওরাত অবতীর্ণ করেছি। এতে রয়েছে সঠিক পথনির্দেশ এবং আলো। এর দ্বারা বিচার করতেন সেই নবীগণ, যারা আত্মসমর্পণকারী ছিলেন—তাদের জন্য যারা ফিরে এসেছিল (ইহুদি)। আর প্রতিপালকমুখী জ্ঞানীজন আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের যে দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতে বিচার করতেন; এবং তারা এর সাক্ষী ছিলেন। সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না; বরং আমাকে ভয় করো। আর আমার আয়াতের (নিদর্শনের) বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই অবিশ্বাসী (সত্য গোপনকারী/কাফের)।


আয়াত-৪৫ঃ

وَکَتَبۡنَا (ওয়া কাতাবনা → এবং আমরা বিধিবদ্ধ করেছি)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
فِیۡہَا (ফীহা → এতে)
اَنَّ (আন্না → যে)
النَّفۡسَ (আন-নাফসা → প্রাণ/ব্যক্তিসত্তা)
بِالنَّفۡسِ (বিন-নাফসি → প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ)
وَالۡعَیۡنَ (ওয়াল-আইনা → এবং চোখ)
بِالۡعَیۡنِ (বিল-আইনি → চোখের বিনিময়ে চোখ)
وَالۡاَنۡفَ (ওয়াল-আনফা → এবং নাক)
بِالۡاَنۡفِ (বিল-আনফি → নাকের বিনিময়ে নাক)
وَالۡاُذُنَ (ওয়াল-উযুনা → এবং কান)
بِالۡاُذُنِ (বিল-উযুনি → কানের বিনিময়ে কান)
وَالسِّنَّ (ওয়াস-সিন্না → এবং দাঁত)
بِالسِّنِّ (বিস-সিন্নি → দাঁতের বিনিময়ে দাঁত)
وَالۡجُرُوۡحَ (ওয়াল-জুরূহা → এবং ক্ষতসমূহ)
قِصَاصٌ (কিসাসুন → সমপরিমাণ প্রতিদান)
فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
تَصَدَّقَ (তাসাদ্দাকা → ক্ষমা করে দেয়/স্বেচ্ছাদান করে)
بِہٖ (বিহি → তা)
فَہُوَ (ফাহুয়া → তবে )
کَفَّارَۃٌ (কাফ্ফারাতুন → পাপ মোচনের মাধ্যম)
لَّہٗ (লাহু → তার জন্য)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
لَّمۡ (লাম → না)
یَحۡکُمۡ (ইয়াহকুম → বিচার করে)
بِمَاۤ (বিমা → যা দ্বারা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
ہُمُ (হুম → তারাই)
الظّٰلِمُوۡنَ (আয-যালিমূন → সীমালঙ্ঘনকারী/অন্যায়কারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা তাদের জন্য তাতে বিধিবদ্ধ করেছিলাম যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চোখের বিনিময়ে চোখ, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং ক্ষতের জন্য সমপরিমাণ প্রতিদান। তবে যে তা ক্ষমা করে দেয় (সাদকা করে দেয়), তা তার জন্য পাপ মোচনের মাধ্যমসরূপ। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী (অন্যায়কারী/যালিম)।


আয়াত-৪৬ঃ

وَقَفَّیۡنَا (ওয়া কাফ্ফাইনা → এবং আমরা অনুসরণে পাঠালাম)
عَلٰۤی (আলা → তাদের উপর)
اٰثَارِہِمۡ (আসারিহিম → তাদের পদচিহ্নসমূহ)
بِعِیۡسَی (বি’ঈসা → ঈসাকে)
ابۡنِ (ইবনি → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
مُصَدِّقًا (মুসাদ্দিকান → সত্যায়নকারী)
لِّمَا (লিমা → যা)
بَیۡنَ (বাইনা → পূর্বে)
یَدَیۡہِ (ইয়াদাইহি → তার দুই হাত/ক্ষমতা/কর্তৃত্ব)
مِنَ (মিনা → থেকে)
التَّوۡرٰىۃِ (আত-তাওরাতি → তাওরাত)
وَاٰتَیۡنٰہُ (ওয়া আতাইনাহু → এবং আমরা তাকে দিয়েছিলাম)
الۡاِنۡجِیۡلَ (আল-ইঞ্জীলা → ইঞ্জিল/সুসংবাদের গ্রন্থ)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
ہُدًی (হুদান → সঠিক পথনির্দেশ)
وَّنُوۡرٌ (ওয়া নূরুন → এবং আলো)
وَّمُصَدِّقًا (ওয়া মুসাদ্দিকান → এবং সত্যায়নকারী)
لِّمَا (লিমা → যা)
بَیۡنَ (বাইনা → পূর্বে)
یَدَیۡہِ (ইয়াদাইহি → তার দুই হাত/ক্ষমতা/কর্তৃত্ব)
مِنَ (মিনা → থেকে)
التَّوۡرٰىۃِ (আত-তাওরাতি → তাওরাত)
وَہُدًی (ওয়া হুদান → এবং পথনির্দেশ)
وَّمَوۡعِظَۃً (ওয়া মাওইযাতান → উপদেশ)
لِّلۡمُتَّقِیۡنَ (লিল-মুত্তাকীন → খোদাভীরুদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা তাদের অনুসরণে মারইয়ামের পুত্র ঈসাকে কর্তৃত্বসরূপ প্রেরণ করেছিলাম। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আর আমরা তাকে ইঞ্জিল দিয়েছিলাম, যাতে ছিল সঠিক পথনির্দেশ (হুদা) ও আলো। আর এটি তার পূর্ববর্তী কর্তৃত্ব তাওরাতকেও সত্যায়নকারী ছিল এবং খোদাভীরুদের জন্য ছিল পথনির্দেশ ও উপদেশ।


আয়াত-৪৭ঃ

وَلۡیَحۡکُمۡ (ওয়াল-ইয়াহকুম → এবং বিচার করা উচিত)
اَہۡلُ (আহলু → অনুসারীরা/অধিবাসীরা)
الۡاِنۡجِیۡلِ (আল-ইঞ্জীলি → ইঞ্জিলের)
بِمَاۤ (বিমা → যা দ্বারা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
لَّمۡ (লাম → না)
یَحۡکُمۡ (ইয়াহকুম → বিচার করে)
بِمَاۤ (বিমা → যা দ্বারা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
ہُمُ (হুম → তারাই)
الۡفٰسِقُوۡنَ (আল-ফাসিকূন → অবাধ্যরা/সীমালঙ্ঘনকারীরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর ইঞ্জিলের অনুসারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করা। আর যে আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই অবাধ্য (ফাসেক)।


আয়াত-৪৮ঃ

وَاَنۡزَلۡنَاۤ (ওয়া আনযালনা → এবং আমরা অবতীর্ণ করেছি)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
بِالۡحَقِّ (বিল-হাক্কি → সত্যসহ)
مُصَدِّقًا (মুসাদ্দিকান → সত্যায়নকারী)
لِّمَا (লিমা → যা)
بَیۡنَ (বাইনা → পূর্বে)
یَدَیۡہِ (ইয়াদাইহি → তার দুহাত/ক্ষমতা/কর্তৃত্ব)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাবি → কিতাবের)
وَمُہَیۡمِنًا (ওয়া মুহাইমিনান → পর্যবেক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক)
عَلَیۡہِ (আলাইহি → তার উপর)
فَاحۡکُمۡ (ফাহকুম → অতএব বিচার করো)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
بِمَاۤ (বিমা → যা দ্বারা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَتَّبِعۡ (তাত্তাবি’ → অনুসরণ করো)
اَہۡوَآءَہُمۡ (আহওয়াআহুম → তাদের প্রবৃত্তি/খেয়াল-খুশি)
عَمَّا (আম্মা → তা থেকে যা)
جَآءَکَ (জাআকা → তোমার কাছে এসেছে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্য)
لِکُلٍّ (লিকুল্লিন → প্রত্যেকের জন্য)
جَعَلۡنَا (জা’আলনা → আমরা নির্ধারণ করেছি)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে থেকে)
شِرۡعَۃً (শিরআতান → বিধিবদ্ধ পথ)
وَّمِنۡہَاجًا (ওয়া মিনহাজান → সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
شَآءَ (শাআ → ইচ্ছা করতেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَجَعَلَکُمۡ (লাজা’আলাকুম → তবে তিনি তোমাদের বানাতেন)
اُمَّۃً (উম্মাতান → এক সম্প্রদায়)
وَّاحِدَۃً (ওয়াহিদাতান → একক)
وَّلٰکِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لِّیَبۡلُوَکُمۡ (লিয়াবলুওয়াকুম → যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
مَاۤ (মা → যা)
اٰتٰىکُمۡ (আতাকুম → তিনি তোমাদের দিয়েছেন)
فَاسۡتَبِقُوا (ফাস্তাবিকূ → তাই প্রতিযোগিতা করো)
الۡخَیۡرٰتِ (আল-খাইরাতি → কল্যাণকর কাজে)
اِلَی (ইলা → দিকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مَرۡجِعُکُمۡ (মারজি’উকুম → তোমাদের প্রত্যাবর্তন)
جَمِیۡعًا (জামি’আন → সকলের)
فَیُنَبِّئُکُمۡ (ফাইউনাব্বিউকুম → তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → সে বিষয়ে যা)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
تَخۡتَلِفُوۡنَ (তাখতালিফূন → মতভেদ করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা তোমার প্রতি সত্যসহ এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি। এটি পূর্ববর্তী কর্তৃত্বপূর্ণ কিতাবসমূহকে সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর পর্যবেক্ষক। অতএব আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী তাদের মধ্যে বিচার ফয়সালা করো এবং তোমার কাছে যে সত্য এসেছে, তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমরা একটি বিধিবদ্ধ পথ (সিরাত) ও সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি (মিনহাজ) নির্ধারণ করেছি। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে এক সম্প্রদায় বানাতে পারতেন; কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন, তা দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। তাই তোমরা কল্যাণকর কাজে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কর। তোমাদের সকলকে আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন, যে বিষয়গুলো নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে।


আয়াত-৪৯ঃ

وَاَنِ (ওয়া আনি → এবং যে)
احۡکُمۡ (ইহকুম → বিচার করো)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
بِمَاۤ (বিমা → যা দ্বারা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَتَّبِعۡ (তাত্তাবি’ → অনুসরণ করো)
اَہۡوَآءَہُمۡ (আহওয়াআহুম → তাদের প্রবৃত্তি/খেয়াল-খুশি)
وَاحۡذَرۡہُمۡ (ওয়াহযারহুম → এবং তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকো)
اَنۡ (আন → যেন)
یَّفۡتِنُوۡکَ (ইয়াফতিনূকা → তারা তোমাকে বিচ্যুত করতে না পারে)
عَنۡۢ (আন → থেকে)
بَعۡضِ (বা’দি → কিছু অংশ)
مَاۤ (মা → যা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَاعۡلَمۡ (ফা’লাম → তবে জেনে রাখো)
اَنَّمَا (আন্নামা → নিশ্চয়ই কেবল)
یُرِیۡدُ (ইউরিদু → ইচ্ছা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اَنۡ (আন → যে)
یُّصِیۡبَہُمۡ (ইউসীবাহুম → তাদের ওপর আপতিত করেন/ফলাফল/বিনিময়)
بِبَعۡضِ (বিবা’দি → তাদের কিছু)
ذُنُوۡبِہِمۡ (যুনূবিহিম → অপরাধ/গুনাহের কারণে)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → আর নিশ্চয়ই)
کَثِیۡرًا (কাসীরান → অনেক)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
النَّاسِ (আন-নাসি → মানুষের)
لَفٰسِقُوۡنَ (লাফাসিকূন → অবশ্যই অবাধ্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করো। তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না এবং তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকো, যেন তারা আল্লাহ তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তার কোনো অংশ থেকে তোমাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখো—আল্লাহ কেবল তাদের কিছু অপরাধের কারণে তাদের বিনিময় দিতে চান। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ অবাধ্য (ফাসিক)।


আয়াত-৫০ঃ

اَفَ (আফা → তবে কি)
حُکۡمَ (হুকমা → বিচার-ফয়সালা)
الۡجَاہِلِیَّۃِ (আল-জাহিলিয়্যাহ → অজ্ঞতার যুগ)
یَبۡغُوۡنَ (ইয়াবগূনা → তারা কামনা করে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর কে)
اَحۡسَنُ (আহসানু → অধিক উত্তম)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
حُکۡمًا (হুকমান → বিচারে)
لِّقَوۡمٍ (লিকাওমিন → সেই সম্প্রদায়ের জন্য)
یُّوۡقِنُوۡنَ (ইউকিনূন → যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে কি তারা অজ্ঞতার যুগের বিচার-ফয়সালাই কামনা করে? অথচ দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিচার-ফয়সালায় আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে?