সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ১৭৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-০১ঃ
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
النَّاسُ (আন্না-ছু → মানুষ)
اتَّقُوا (ইত্তাকূ → ভয় করো/তাকওয়া অবলম্বন করো)
رَبَّكُمُ (রাব্বাকুম → তোমাদের প্রতিপালককে)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
خَلَقَكُمۡ (খালাকাকুম → তোমাদের সৃষ্টি করেছেন)
مِّن نَّفۡسٍ (মিন নাফছিন → এক প্রাণ থেকে)
وَاحِدَةٍ (ওয়া-হিদাতিন → এক)
وَخَلَقَ (ওয়া খালাকা → এবং সৃষ্টি করেছেন)
مِنۡهَا (মিনহা → তা থেকে)
زَوۡجَهَا (ঝাওজাহা → তার সঙ্গিনীকে)
وَبَثَّ (ওয়া বাছছা → এবং ছড়িয়ে দিয়েছেন)
مِنۡهُمَا (মিনহুমা → তাদের দুজন থেকে)
رِجَالًا (রিজা-লান → বহু পুরুষ)
كَثِيرًا (কাছীরান → অনেক)
وَّنِسَاءً (ওয়া নিছাআন → এবং বহু নারী)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং ভয় করো)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
الَّذِي (আল্লাযী → যাঁর )
تَسَاءَلُونَ (তাছাআলূনা → তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো)
بِهِ (বিহী → তাঁর মাধ্যমে)
وَالۡأَرۡحَامَ (ওয়াল আরহা-মা → এবং আত্মীয়তার সম্পর্ককে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
اللّٰهَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
كَانَ (কা-না → আছেন/ছিলেন)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
رَقِيبًا (রাকীবান → সদা পর্যবেক্ষক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দুজন থেকে বহু পুরুষ ও নারী পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর জন্য তোমরা একে অপরের কাছে জিজ্ঞাসা করো, এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষক।
আয়াত-০২ঃ
وَآتُوا (ওয়া আ-তূ → প্রদান করো)
الۡيَتَامَىٰ (আল ইয়াতা-মা → অসহায়দের/এতিমদের)
أَمۡوَالَهُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَتَبَدَّلُوا (তাতাবাদ্দালূ → বদল করো)
الۡخَبِيثَ (আল খাবীছা → নিকৃষ্ট জিনিস)
بِالطَّيِّبِ (বিত্তাইয়িবি → উত্তম জিনিসের সাথে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَأۡكُلُوا (তা’কুলূ → গ্রাস করো)
أَمۡوَالَهُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
إِلَىٰ (ইলা → সাথে)
أَمۡوَالِكُمۡ (আমওয়া-লিকুম → তোমাদের সম্পদ)
إِنَّهُۥ (ইন্নাহূ → নিশ্চয় তা)
كَانَ (কা-না → হয়)
حُوبًا (হূবান → গুরুতর পাপ)
كَبِيرًا (কাবীরা → বড়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অসহায়দের (এতিমদের) তাদের সম্পদ প্রদান করো। নিকৃষ্ট জিনিসকে উত্তম জিনিসের পরিবর্তে গ্রহণ করো না। আর তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটি একটি গুরুতর পাপ।
আয়াত-০৩ঃ
وَإِنۡ (ওয়া ইন → এবং যদি)
خِفۡتُمۡ (খিফতুম → তোমরা ভয় করো)
أَلَّا (আল্লা → না)
تُقۡسِطُوا (তুকসিতূ → ন্যায়বিচার করো (প্রত্যেককে তার প্রাপ্য দেওয়া)
فِي الۡيَتَامَىٰ (ফিল ইয়াতা-মা → অসহায়দের/এতিমদের বিষয়ে)
فَانكِحُوا (ফানকিহূ → তাহলে বিয়ে করো)
مَا طَابَ لَكُمۡ (মা তা-বা লাকুম → যা তোমাদের জন্য পছন্দনীয়)
مِّنَ النِّسَاءِ (মিনান নিছা-ই → নারীদের মধ্যে থেকে)
مَثۡنَىٰ (মাছনা → দুইজন)
وَثُلَاثَ (ওয়া ছুলা-ছা → তিনজন)
وَرُبَاعَ (ওয়া রুবা‘আ → চারজন)
فَإِنۡ (ফাইন → তবে যদি)
خِفۡتُمۡ (খিফতুম → তোমরা ভয় করো)
أَلَّا تَعۡدِلُوا (আল্লা তা‘দিলূ → সমতা করতে পারবে না (সবাইকে সমান রাখা)
فَوَاحِدَةً (ফাওয়াহিদাতান → তবে একজন)
أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَانُكُمۡ (আও মা মালাকাত আইমানুকুম → অথবা যা তোমাদের অধিকারভুক্ত)
ذَٰلِكَ (যালিকা → এটি)
أَدۡنَىٰ (আদনা → বেশি নিকট)
أَلَّا تَعُولُوا (আল্লা তা‘ঊলূ → যেন তোমরা অন্যায় না করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে অসহায়দের (এতিমদের) বিষয়ে, প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অনুযায়ী ন্যায় করতে পারবে না, তাহলে তোমাদের জন্য যেসব নারীরা পছন্দনীয় তাদের মধ্য থেকে বিয়ে করো—দুই, তিন বা চারজন পর্যন্ত। তবে যদি তোমরা আশঙ্কা করো ন্যায় বিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনই যথেষ্ট, অথবা যা তোমাদের অধিকারভুক্ত। এটাই বেশি নিকট যে তোমরা অন্যায় করো না।
আয়াত-০৪ঃ
وَآتُوا (ওয়া আ-তূ → প্রদান করো)
النِّسَاءَ (আন্নিছা-আ → নারীদের)
صَدُقَاتِهِنَّ (সাদুকা-তিহিন্না → তাদের প্রাপ্য অধিকার)
نِحۡلَةً (নিহলাতান → স্বেচ্ছা উপহার হিসেবে)
فَإِنۡ (ফাইন → তবে যদি)
طِبۡنَ (তিবনা → তারা স্বেচ্ছায় সম্মত হয়)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَن شَيۡءٍ (আন শাইইন → কিছু বিষয়ে)
مِّنۡهُ (মিনহু → তা থেকে)
نَفۡسًا (নাফসান → মন থেকে)
فَكُلُوهُ (ফাকুলূহু → তাহলে তা গ্রহণ করো)
هَنِيئًا (হানীআন → আনন্দের সাথে)
مَّرِيئًا (মারীআন → তৃপ্তিকরভাবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নারীদের তাদের প্রাপ্য অধিকার, স্বেচ্ছা উপহার হিসেবে প্রদান করো। তবে যদি তারা নিজের ইচ্ছায় তা থেকে কিছু অংশ তোমাদের জন্য ছেড়ে দেয়, তাহলে তা আনন্দ ও তৃপ্তির সাথে তা গ্রহণ করো।
আয়াত-০৫ঃ
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُؤۡتُوا (তু’তূ → দাও)
السُّفَهَاءَ (আস সুফাহা-আ → অবুঝদের/ নির্বোধদের)
أَمۡوَالَكُمُ (আমওয়া-লাকুমু → তোমাদের সম্পদ)
الَّتِي (আল্লাতী → যাকে)
جَعَلَ اللّٰهُ (জা‘আলাল্লা-হু → আল্লাহ করেছেন)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
قِيَامًا (কিয়া-মা → পাশে দাড়াঁনো)
وَارۡزُقُوهُمۡ (ওয়ারঝুকূহুম → তাদের জীবিকা দাও)
فِيهَا (ফীহা → তা থেকে)
وَاكۡسُوهُمۡ (ওয়াকসূহুম → তাদের পোশাক দাও)
وَقُولُوا (ওয়া কূলূ → এবং বলো)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের)
قَوۡلًا (কাওলান → কথা)
مَّعۡرُوفًا (মা‘রূফা → ভদ্র)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমরা তোমাদের সম্পদ অবুঝদের হাতে দিও না—যাকে আল্লাহ তোমাদের পাশে দাড়াঁনোর মাধ্যমে করেছেন, তাদেরকে তা থেকে জীবিকা ও পোশাক পরিধান করাও এবং তাদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলো।
আয়াত-০৬ঃ
وَابۡتَلُوا (ওয়া ইবতালূ → পরীক্ষা করো)
الۡيَتَامَىٰ (আল ইয়াতা-মা → অসহায়দের/এতিমদের)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
إِذَا (ইযা → যখন)
بَلَغُوا (বালাগূ → পৌঁছে যায়)
النِّكَاحَ (আন নিকা-হ → বিবাহযোগ্য অবস্থা)
فَإِنۡ (ফাইন → তবে যদি)
آنَسۡتُمۡ (আ-নাস্তুম → তোমরা বুঝতে পারো)
مِّنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
رُشۡدًا (রুশদান → বুদ্ধিমত্তা ও পরিপক্বতা)
فَادۡفَعُوا (ফাদফা‘ঊ → তখন তাদের দিয়ে দাও)
إِلَيۡهِمۡ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
أَمۡوَالَهُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَأۡكُلُوهَا (তা’কুলূহা → তা খেও না)
إِسۡرَافًا (ইসরা-ফান → অপচয় করে)
وَبِدَارًا (ওয়া বিদা-রান → তাড়াহুড়া করে)
أَن يَّكۡبَرُوا (আইঁ ইয়াকবারূ → তারা বড় হয়ে যাবে বলে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
كَانَ (কা-না → হয়)
غَنِيًّا (গানিইয়ান → ধনী)
فَلۡيَسۡتَعۡفِفۡ (ফালইয়াস্তাফিফ → সে যেন বিরত থাকে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
كَانَ (কা-না → হয়)
فَقِيرًا (ফাকীরা → দরিদ্র)
فَلۡيَأۡكُلۡ (ফালইয়াকুল → সে যেন খায়)
بِالۡمَعۡرُوفِ (বিল মা‘রূফ → ন্যায়সঙ্গতভাবে)
فَإِذَا (ফাইযা → যখন)
دَفَعۡتُمۡ (দাফা‘তুম → তোমরা দিয়ে দাও)
إِلَيۡهِمۡ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
أَمۡوَالَهُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
فَأَشۡهِدُوا (ফাআশহিদূ → সাক্ষী রাখো)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
وَكَفَىٰ (ওয়া কাফা → আর যথেষ্ট)
بِاللّٰهِ (বিল্লা-হ → আল্লাহ)
حَسِيبًا (হাসীবা → হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অসহায়দের (এতিমদের) পরীক্ষা করো, যতক্ষণ না তারা বিবাহযোগ্য অবস্থায় । তারপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও পরিপক্বতা দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। আর অপচয় করে বা তাড়াহুড়া করে তা খেয়ো না—এই ভয়ে যে তারা বড় হয়ে যাবে। যে ধনী, সে যেন বিরত থাকে; আর যে দরিদ্র, সে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেতে পারে। যখন তোমরা তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দাও, তখন সাক্ষী রাখো। আর আল্লাহ হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে যথেষ্ট।
আয়াত-০৭ঃ
لِلرِّجَالِ (লির রিজা-লি → পুরুষদের জন্য)
نَصِيبٌ (নাসীবুন → অংশ)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
تَرَكَ (তারাকা → রেখে গেছে)
الۡوَالِدَانِ (আল ওয়া-লিদা-নি → পিতা-মাতা)
وَالۡأَقۡرَبُونَ (ওয়াল আকরাবূনা → এবং আত্মীয়স্বজন)
وَلِلنِّسَاءِ (ওয়া লিন্নিছা-ই → নারীদের জন্যও)
نَصِيبٌ (নাসীবুন → অংশ)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
تَرَكَ (তারাকা → রেখে গেছে)
الۡوَالِدَانِ (আল ওয়া-লিদা-নি → পিতা-মাতা)
وَالۡأَقۡرَبُونَ (ওয়াল আকরাবূনা → এবং আত্মীয়স্বজন)
مِمَّا قَلَّ مِنۡهُ أَوۡ كَثُرَ (মিম্মা কাল্লা মিনহু আও কাছুরা → কম হোক বা বেশি হোক)
نَصِيبًا مَّفۡرُوضًا (নাসীবাম মাফরূদা → নির্ধারিত অংশ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
পুরুষদের জন্য রয়েছে অংশ সেই সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছে এবং নারীদের জন্যও রয়েছে অংশ সেই সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছে—তা কম হোক বা বেশি হোক। এটি একটি নির্ধারিত অংশ।
আয়াত-০৮ঃ
وَإِذَا (ওয়া ইযা → যখন)
حَضَرَ (হাদারা → উপস্থিত হয়)
الۡقِسۡمَةَ (আল কিসমাহ → বণ্টন)
أُولُوا (ঊলূ → আত্মীয়রা/অধিকারীরা)
الۡقُرۡبَىٰ (আল কুরবা → নিকট আত্মীয়)
وَالۡيَتَامَىٰ (ওয়াল ইয়াতা-মা → অসহায়রা/এতিমরা)
وَالۡمَسَاكِينُ (ওয়াল মাসাকীন → দরিদ্ররা)
فَارۡزُقُوهُم (ফারঝুকূহুম → তাদের কিছু দাও)
مِّنۡهُ (মিনহু → তা থেকে)
وَقُولُوا (ওয়া কূলূ → আর বলো)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
قَوۡلًا (কাওলান → কথা)
مَّعۡرُوفًا (মা‘রূফা → সুন্দর/ভদ্র/ন্যায়সঙ্গত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন বণ্টনের সময় আত্মীয়, অসহায় (এতিম) ও দরিদ্ররা (মিসকিন) উপস্থিত হয়, তখন তোমরা তাদেরকে তা থেকে কিছু দাও এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো।
আয়াত-০৯ঃ
وَلْيَخْشَ (ওয়াল ইয়াখশা → ভয় করুক)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَوْ تَرَكُوا (লাও তারাকূ → যদি রেখে যেত)
مِنْ خَلْفِهِمْ (মিন খালফিহিম → তাদের পেছনে)
ذُرِّيَّةً (যুররিয়্যাহ → সন্তান-সন্ততি)
ضِعَافًا (দিআফান → দ্বিগুন/বহুগুন)
خَافُوا عَلَيْهِمْ (খা-ফূ আলাইহিম → তাদের জন্য ভয় করত)
فَلْيَتَّقُوا (ফাল ইয়াত্তাকূ → তারা আল্লাহকে ভয় করুক)
اللَّهَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
وَلْيَقُولُوا (ওয়া ল ইয়াকূলূ → এবং তারা বলুক)
قَوْلًا (কাওলান → কথা)
سَدِيدًا (সাদীদা → সঠিক/ন্যায়সঙ্গত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা এমন আশঙ্কা করে যে, তারা যদি তাদের পেছনে দ্বিগুন সন্তান রেখে যেত, তবে তাদের জন্য তারা চিন্তিত হতো—তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত কথা বলা।
আয়াত-১০ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَأْكُلُونَ (ইয়া’কুলূনা → খায়)
أَمْوَالَ (আমওয়া-লা → সম্পদ)
الۡيَتَامَىٰ (আল ইয়াতা-মা → অসহায়দের/এতিমদের)
ظُلْمًا (জুলমান → অন্যায়ভাবে)
اِنَّمَا (ইন্নামা → আসলে)
يَأْكُلُونَ (ইয়া’কুলূনা → তারা খাচ্ছে)
فِي بُطُونِهِمْ (ফী বুতূনিহিম → তাদের পেটে)
نَارًا (না-রা → আগুন)
وَسَيَصْلَوْنَ (ওয়া সাইয়াসলাওনা → তারা শীঘ্রই প্রবেশ করবে)
سَعِيرًا (সা‘ঈরা → জ্বলন্ত আগুনে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা অসহায়দের (এতিমদের) সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা আসলে তাদের পেটের মধ্যে আগুনই খাচ্ছে। অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
আয়াত-১১ঃ
يُوصِيكُمُ اللَّهُ (ইউসীকুমুল্লাহু → আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন)
فِي أَوْلَادِكُمْ (ফী আওলাদিকুম → তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে)
لِلذَّكَرِ (লিযযাকারি → পুত্রের জন্য)
مِثْلُ حَظِّ (মিছলুহাজ্জি → নির্ধারিত ভাগের অনুরূপ অংশ)
الْأُنْثَيَيْنِ (আল উনছাইয়াইনি → দুই কন্যার)
فَإِنْ كُنَّ (ফাইন কুন্না → যদি তারা হয়)
نِسَاءً (নিছাআন → কন্যাসন্তান)
فَوْقَ اثْنَتَيْنِ (ফাওকা ইছনাতাইনি → দুইয়ের অধিক)
فَلَهُنَّ (ফালাহুন্না → তবে তাদের জন্য)
ثُلُثَا مَا تَرَكَ (ছুলুছা মা তারাকা → পরিত্যক্ত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ)
وَإِنْ كَانَتْ (ওয়া ইন কানাত → আর যদি হয়)
وَاحِدَةً (ওয়াহিদাতান → একজন মাত্র)
فَلَهَا النِّصْفُ (ফালাহান নিসফু → তবে তার জন্য অর্ধেক)
وَلِأَبَوَيْهِ (ওয়ালিআবাওয়াইহি → আর তার পিতা-মাতার জন্য)
لِكُلِّ وَاحِدٍ (লিকুল্লি ওয়াহিদিন → প্রত্যেকের জন্য)
مِنْهُمَا السُّدُسُ (মিনহুমাছ ছুদুসু → এক-ষষ্ঠাংশ)
مِمَّا تَرَكَ (মিম্মা তারাকা → সে যা রেখে গেছে)
إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ (ইন কানা লাহু ওয়ালাদুন → যদি তার সন্তান থাকে)
فَإِنْ لَمْ يَكُنْ (ফাইল্লাম ইয়াকুন → আর যদি না থাকে)
لَّهُ وَلَدٌ (লাহু ওয়ালাদুন → তার কোনো সন্তান)
وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ (ওয়া ওয়ারিছাহু আবাওয়াহু → এবং পিতা-মাতা তার উত্তরাধিকারী হয়)
فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ (ফালিউম্মিহিছ ছুলুছু → তবে মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ)
فَإِنْ كَانَ (ফাইন কানা → আর যদি থাকে)
لَهُ إِخْوَةٌ (লাহু ইখওয়াতুন → তার ভাই-বোন)
فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ (ফালিউম্মিহিছ ছুদুসু → তবে মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ)
مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ (মিম বা‘দি ওয়াসিয়্যাতিন → অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত) পূরণের পরে)
يُوصِي بِهَا (ইউসী বিহা → যা করা হয়েছে)
أَوْ دَيْنٍ (আও দাইনিন → অথবা ঋণ পরিশোধের পরে)
آبَاؤُكُمْ (আবাউকুম → তোমাদের পিতৃগণ)
وَأَبْنَاؤُكُمْ (ওয়া আবনাউকুম → এবং তোমাদের সন্তানগণ)
لَا تَدْرُونَ (লা তাদরূনা → তোমরা জানো না)
أَيُّهُمْ أَقْرَبُ (আইয়ুহুম আকরাবু → তাদের মধ্যে কে অধিক নিকট)
لَكُمْ نَفْعًا (লাকুম নাফ‘আন → তোমাদের উপকারে)
فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ (ফারীদাতাম মিনাল্লাহ → আল্লাহর নির্ধারিত বিধান)
إِنَّ اللَّهَ (ইন্নাল্লা-হা → নিশ্চয়ই আল্লাহ)
كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (কানা আলীমান হাকীমা → সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: পুত্রের জন্য দুই কন্যার অংশ নির্ধারিত ভাগের অনুরূপ। যদি কেবল দুইয়ের অধিক কন্যা থাকে, তবে তারা মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি একজন কন্যা থাকে, তবে সে অর্ধেক পাবে। মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার পিতা ও মাতার প্রত্যেকে তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। আর যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার মা এক-তৃতীয়াংশ পাবে। কিন্তু যদি তার ভাই-বোন থাকে, তবে তার মা এক-ষষ্ঠাংশ পাবে—এ সবই তার করা অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত) কার্যকর ও ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের জন্য অধিক উপকারী, তা তোমরা জানো না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(অসিয়তকারীর ঋণ ও আল্লাহর বিধান অনুযায়ী (৪:৮) দান করার পর উত্তম/বৈধ সম্পদ সমূহ (২:১৮০) যেমন: অর্থ, গহণা, জমি, শষ্য ইত্যাদি) এর অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টন)
উত্তরাধিকার বণ্টন (মোট সম্পদ = ১০০ টাকা / ভরি-আনা / শতক / কেজি)
| অংশীদার | মা (১/৬ অংশ) |
বাবা (১/৬ অংশ) |
ছেলে | মেয়ে | মোট সন্তানদের অংশ |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ ছেলে + ১ মেয়ে | ১৬.৬৭ | ১৬.৬৭ | ৩৩.৩৩ ১ মেয়ের |
৩৩.৩৩ ১ ছেলের |
৬৬.৬৬ + ৩৩.৩৪ (পিতা,মাতার অংশ) = ১০০ |
| ১ ছেলে + ২ মেয়ে | ১৬.৬৭ | ১৬.৬৭ | ২২.২২ | ৪৪.৪৪ (২ বা অধিক মেয়ে থাকলে: ২/৩ অংশ) |
৬৬.৬৬ + ৩৩.৩৪ (পিতা,মাতার অংশ) = ১০০ |
| ২ ছেলে + ৩ মেয়ে | ১৬.৬৭ | ১৬.৬৭ | ১৯.০৪ (প্রতি ছেলে) |
৯.৫২ (প্রতি মেয়ে) |
৬৬.৬৬ + ৩৩.৩৪ (পিতা,মাতার অংশ) = ১০০ |
| শুধু মা–বাবা | ৩৩.৩৩ | ৬৬.৬৭ | — | — | ১০০ |
| মা–বাবা + ভাই/বোন | ১৬.৬৬ | ১৬.৬৬ | ৬৬.৬৮ ভাই/বোন |
— | ১০০ |
আয়াত-১২ঃ
وَلَكُمْ (ওয়ালাকুম → আর তোমাদের জন্য)
نِصْفُ (নিসফু → অর্ধেক)
مَا تَرَكَ (মা তারাকা → যা রেখে গেছে)
أَزْوَاجُكُمْ (আজওয়াজুকুম → তোমাদের স্ত্রীগণ)
إِنْ لَمْ يَكُنْ (ইন লাম ইয়াকুন → যদি না থাকে)
لَهُنَّ وَلَدٌ (লাহুন্না ওয়ালাদুন → তাদের কোনো সন্তান)
فَإِنْ كَانَ (ফাইন কানা → যদি থাকে)
لَهُنَّ وَلَدٌ (লাহুন্না ওয়ালাদুন → তাদের সন্তান)
فَلَكُمُ الرُّبُعُ (ফালাকুমুর রুবু‘উ → তবে তোমাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ)
مِمَّا تَرَكْنَ (মিম্মা তারাকনা → তারা যা রেখে গেছে)
مِنْ بَعْدِ (মিন বা‘দি → পরে)
وَصِيَّةٍ (ওয়াসিয়্যাতিন → অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত)
يُوصِينَ بِهَا (ইউসীনা বিহা → তারা যা করে যায়)
أَوْ دَيْنٍ (আও দাইনিন → অথবা ঋণ)
وَلَهُنَّ (ওয়ালাহুন্না → আর তাদের জন্য)
الرُّبُعُ (আর রুবু‘উ → এক-চতুর্থাংশ)
مِمَّا تَرَكْتُمْ (মিম্মা তারাকতুম → যা তোমরা রেখে গেছ)
إِنْ لَمْ يَكُنْ (ইন লাম ইয়াকুন → যদি না থাকে)
لَكُمْ وَلَدٌ (লাকুম ওয়ালাদুন → তোমাদের সন্তান)
فَإِنْ كَانَ (ফাইন কানা → যদি থাকে)
لَكُمْ وَلَدٌ (লাকুম ওয়ালাদুন → তোমাদের সন্তান)
فَلَهُنَّ (ফালাহুন্না → তবে তাদের জন্য)
الثُّمُنُ (আছ-ছুমুনু → এক-অষ্টমাংশ)
مِمَّا تَرَكْتُمْ (মিম্মা তারাকতুম → যা তোমরা রেখে গেছ)
مِنْ بَعْدِ (মিন বা‘দি → পরে)
وَصِيَّةٍ (ওয়াসিয়্যাতিন → অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত)
تُوصُونَ بِهَا (তূসূনা বিহা → তোমরা যা করো)
أَوْ دَيْنٍ (আও দাইনিন → অথবা ঋণ)
وَإِنْ كَانَ (ওয়া ইন কানা → আর যদি হয়)
رَجُلٌ يُورَثُ (রাজুলুন ইউরাসু → কোনো পুরুষ যার উত্তরাধিকারী হয়)
كَلَالَةً (কালালাতান → সন্তান ও পিতা ছাড়া)
أَوِ امْرَأَةٌ (আও ইমরাআতুন → অথবা নারী)
وَلَهُ أَخٌ (ওয়া লাহু আখুন → এবং তার ভাই থাকে)
أَوْ أُخْتٌ (আও উখতুন → অথবা বোন)
فَلِكُلِّ وَاحِدٍ (ফালিকুল্লি ওয়াহিদিন → প্রত্যেকের জন্য)
مِنْهُمَا (মিনহুমা → তাদের মধ্যে)
السُّدُسُ (আস-সুদুসু → এক-ষষ্ঠাংশ)
فَإِنْ كَانُوا (ফাইন কানূ → যদি তারা বেশি হয়)
أَكْثَرَ مِنْ ذَٰلِكَ (আকছারা মিন যালিকা → এর চেয়ে বেশি)
فَهُمْ شُرَكَاءُ (ফাহুম শুরাকা’উ → তারা অংশীদার)
فِي الثُّلُثِ (ফিছ ছুলুছি → এক-তৃতীয়াংশে)
مِنْ بَعْدِ (মিন বা‘দি → পরে)
وَصِيَّةٍ (ওয়াসিয়্যাতিন → অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত)
يُوصَىٰ بِهَا (ইউসা বিহা → যা করা হয়)
أَوْ دَيْنٍ (আও দাইনিন → অথবা ঋণ)
غَيْرَ مُضَارٍّ (গাইরা মুদাররিন → কোনো ক্ষতি না করে)
وَصِيَّةً (ওয়াসিয়্যাতান → এটি অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত)
مِنَ اللَّهِ (মিনাল্লাহ → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِيمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
حَلِيمٌ (হালীমুন → সহনশীল)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত) ও ঋণ পরিশোধের পর তোমাদের জন্য থাকবে এক-চতুর্থাংশ। আর যদি তোমরা (পুরুষ) কোনো সন্তান না রেখে যাও, তবে তাদের জন্য থাকবে এক-চতুর্থাংশ। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্য থাকবে এক-অষ্টমাংশ—অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত) ও ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি কোনো পুরুষ বা নারী “সন্তান ও পিতা ছাড়া” অবস্থায় উত্তরাধিকার রেখে যায় এবং তার ভাই বা বোন থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। আর যদি তারা এর বেশি হয়, তবে তারা এক-তৃতীয়াংশে অংশীদার হবে—অর্পিত নির্দেশনা (অসিয়ত) ও ঋণ পরিশোধের পর, কোনো ক্ষতি না করা শর্তে। এটি আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
(অসিয়তকারীর ঋণ ও আল্লাহর বিধান অনুযায়ী (৪:৮) দান করার পর উত্তম/বৈধ সম্পদ সমূহ (২:১৮০) যেমন: অর্থ, গহণা, জমি, শষ্য ইত্যাদি) এর অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টন)
উত্তরাধিকার বণ্টন (মোট সম্পদ = ১০০ টাকা / ভরি-আনা / শতক / কেজি)
| অংশীদার | স্বামী | স্ত্রী | ভাই/বোন (কালালা) | মোট অংশ (ঋণ পরিশোধের পর) |
|---|---|---|---|---|
| স্ত্রী মারা গেছে, সন্তান নেই | ৫০ (১/২ অংশ) |
— | — | ৫০ (অন্য ওয়ারিশদের, ৪:৮, ১০ অনুযায়ী) |
| স্ত্রী মারা গেছে, সন্তান আছে | ২৫ (১/৪) |
— | — | ৭৫ (অন্য ওয়ারিশদের, ৪:৮, ১০ অনুযায়ী) |
| স্বামী মারা গেছে, সন্তান নেই | — | ২৫ (১/৪ অংশ) |
— | ৭৫ (অন্য ওয়ারিশদের, ৪:৮, ১০ অনুযায়ী) |
| স্বামী মারা গেছে, সন্তান আছে | — | ১২.৫ (১/৮ অংশ) |
— | ৮৭.৫ (অন্য ওয়ারিশদের, ৪:৮, ১০ অনুযায়ী) |
| সন্তান ও পিতা নেই, ১ ভাই/বোন | — | — | ১৬.৬৭ (১/৬) | ৮৩.৩৩ অন্য ওয়ারিশ, ৪:৮, ১০ অনুযায়ী) |
| সন্তান ও পিতা নেই, একাধিক ভাই/বোন | — | — | ৩৩.৩৩ (১/৩ মোট) | ৬৬.৬৭ অন্য ওয়ারিশ, ৪:৮, ১০ অনুযায়ী) |
আয়াত-১৩ঃ
تِلْكَ (তিলকা → এগুলো)
حُدُودُ (হুদূদু → সীমাসমূহ)
اللَّهِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
يُطِعِ (ইউতি‘ই → আনুগত্য করে)
اللَّهَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
وَرَسُولَهُ (ওয়া রাসূলাহু → এবং তাঁর রাসূলকে)
يُدْخِلْهُ (ইউদখিলহু → তিনি তাকে প্রবেশ করাবেন)
جَنَّاتٍ (জান্নাতিন → উদ্যানসমূহ)
تَجْرِي (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِنْ تَحْتِهَا (মিন তাহতিহা → যার নিচ দিয়ে)
الْأَنْهَارُ (আল-আনহারু → নদীগুলো)
خَالِدِينَ (খালিদীনা → চিরস্থায়ীভাবে)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
وَذَٰلِكَ (ওয়া যা-লিকা → এবং এটি)
الْفَوْزُ (আল-ফাওযু → সফলতা)
الْعَظِيمُ (আল-আজীমু → মহা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন উদ্যাণসমূহে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়, যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই হলো মহা সাফল্য।
আয়াত-১৪ঃ
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
يَعْصِ (ইয়া‘সি → অবাধ্য হয়)
اللَّهَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
وَرَسُولَهُ (ওয়া রাসূলাহু → এবং তাঁর রাসূলকে)
وَيَتَعَدَّ (ওয়া ইয়াতাআদ্দা → লঙ্ঘন করে)
حُدُودَهُ (হুদূদাহু → তাঁর সীমারেখা)
يُدْخِلْهُ (ইউদখিলহু → তিনি তাকে প্রবেশ করাবেন)
نَارًا (না-রান → আগুনে)
خَالِدًا (খালিদান → চিরস্থায়ীভাবে)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
وَلَهُ (ওয়া লাহু → এবং তার জন্য)
عَذَابٌ (আজাবুন → শাস্তি)
مُهِينٌ (মুহীন → অপমানজনক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
আয়াত-১৫ঃ
وَاللَّاتِي (ওয়াল্লাতী → আর যেসব)
يَأْتِينَ (ইয়া’তীনা → করে থাকে)
الْفَاحِشَةَ (আল ফাহিশাতা → অশ্লীল কাজ)
مِنْ نِسَائِكُمْ (মিন নিসাইকুম → তোমাদের নারীদের মধ্যে)
فَاسْتَشْهِدُوا (ফাছতাশহিদূ → সাক্ষী রাখো)
عَلَيْهِنَّ (আলাইহিন্না → তাদের বিরুদ্ধে)
أَرْبَعَةً (আরবা‘আতান → চারজন)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
فَإِنْ (ফাইন → যদি)
شَهِدُوا (শাহিদূ → তারা সাক্ষ্য দেয়)
فَأَمْسِكُوهُنَّ (ফাআমসিকূহুন্না → তবে তাদের আটক রাখো)
فِي الْبُيُوتِ (ফিল বুয়ূতি → ঘরে)
حَتَّى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَتَوَفَّاهُنَّ (ইয়াতাওয়াফফাহুন্না → তাদের আসে)
الْمَوْتُ (আল মাউতু → মৃত্যু)
أَوْ (আও → অথবা)
يَجْعَلَ (ইয়াজ‘আলা → করে দেন)
اللَّهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَهُنَّ (লাহুন্না → তাদের জন্য)
سَبِيلًا (সাবীলা → সমাধানের পথ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা অশ্লীল কাজ করে (সমকামিতা), তাদের বিরুদ্ধে তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করো। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদেরকে ঘরের মধ্যে রাখো যতক্ষণ না মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো সমাধানের পথ নির্ধারণ করেন।
আয়াত-১৬ঃ
وَاللَّذَانِ (ওয়াল্লাযানি → আর দুইজন)
يَأْتِيَانِهَا (ইয়া’তিইয়ানিহা → যারা তা করে)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
فَآذُوهُمَا (ফাআযূহুমা → তাদেরকে শাস্তি দাও)
فَإِنْ (ফাইন → যদি)
تَابَا (তা-বা → তারা ক্ষমা চায়)
وَأَصْلَحَا (ওয়া আসলাহা → এবং নিজেদের সংশোধন করে)
فَأَعْرِضُوا (ফাআ‘রিদূ → তবে বিরত থাকো/ছেড়ে দাও)
عَنْهُمَا (আনহুমা → তাদের থেকে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → আছেন)
تَوَّابًا (তাওওয়াবা → ক্ষমা গ্রহণকারী)
رَحِيمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমাদের মধ্যে যারা এই কাজ করে, তাদের উভয়কে শাস্তি দাও। কিন্তু যদি তারা তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদেরকে ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।
আয়াত-১৭ঃ
إِنَّمَا (ইন্নামা → নিঃসন্দেহে)
التَّوْبَةُ (আত-তাওবাতু → ক্ষমা)
عَلَى اللَّهِ (আলাল্লাহি → আল্লাহর দায়িত্বে)
لِلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য)
يَعْمَلُونَ (ইয়া‘মালূনা → যারা কাজ করে)
السُّوءَ (আস-সূআ → খারাপ কাজ)
بِجَهَالَةٍ (বিজাহালাতিন → অজ্ঞতাবশত)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
يَتُوبُونَ (ইয়াতূবূনা → তারা ক্ষমা করে)
مِنْ قَرِيبٍ (মিন কারীব → নিকট সময়ের মধ্যে)
فَأُولَٰئِكَ (ফাউলাইকা → তারাই)
يَتُوبُ اللَّهُ (ইয়াতূবুল্লাহু → আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের উপর)
وَكَانَ اللَّهُ (ওয়া কানাল্লাহু → আর আল্লাহ আছেন)
عَلِيمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)
حَكِيمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহর দায়িত্ব হলো তাদের ক্ষমা করা, যারা অজ্ঞতাবশত কোনো পাপ কাজ করে, তারপর অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমা চায়। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-১৮ঃ
وَلَيْسَتِ (ওয়ালাইসাতি → নয়)
التَّوْبَةُ (আত-তাওবাতু → ক্ষমা)
لِلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য)
يَعْمَلُونَ (ইয়া‘মালূনা → যারা করে)
السَّيِّئَاتِ (আস-সাইয়িআতি → পাপসমূহ)
حَتَّى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
إِذَا (ইযা → যখন)
حَضَرَ (হাদারা → উপস্থিত হয়)
أَحَدَهُمُ (আহাদাহুমু → তাদের কারও কাছে)
الْمَوْتُ (আল মাউতু → মৃত্যু)
قَالَ (কালা → সে বলে)
إِنِّي تُبْتُ الْآنَ (ইন্নী তুবতুল আ-না → আমি এখন ক্ষমা করলাম)
وَلَا (ওয়ালা → আর না)
الَّذِينَ (ল্লাযীনা → যারা)
يَمُوتُونَ (ইয়ামূতূনা → মারা যায়)
وَهُمْ (ওয়াহুম → অথচ তারা)
كُفَّارٌ (কুফফারুন → অবিশ্বাসী)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
أَعْتَدْنَا (আ‘তাদনা → আমরা প্রস্তুত করেছি)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
عَذَابًا (আজাবান → শাস্তি)
أَلِيمًا (আলীমা → যন্ত্রণাদায়ক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর ক্ষমা তাদের জন্য নয় যারা সারাজীবন পাপ কাজ করে, এমনকি যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলে—আমি এখন তওবা করলাম। আর না তাদের জন্য, যারা অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়। এদের জন্য আমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
আয়াত-১৯ঃ
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِينَ (ল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
لَا يَحِلُّ (লা ইয়াহিল্লু → বৈধ নয়)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
أَنْ (আন → যে)
تَرِثُوا (তারিছূ → তোমরা উত্তরাধিকার গ্রহণ করো)
النِّسَاءَ (আন-নিসাআ → নারীদের)
كَرْهًا (কারহান → জোরপূর্বক)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَعْضُلُوهُنَّ (তা‘দুলূহুন্না → তাদের বাধা দাও)
لِتَذْهَبُوا (লিতাযহাবূ → যাতে তোমরা নিয়ে নাও)
بِبَعْضِ (বিবা‘দি → কিছু অংশ)
مَا (মা → যা)
آتَيْتُمُوهُنَّ (আতাইতুমূহুন্না → তোমরা তাদের দিয়েছ)
إِلَّا (ইল্লা → তবে)
أَنْ (আন → যদি)
يَأْتِينَ (ইয়া’তীনা → তারা করে)
بِفَاحِشَةٍ (বিফাহিশাতিন → অশ্লীল কাজ)
مُبَيِّنَةٍ (মুবাইয়িনা → স্পষ্ট)
وَعَاشِرُوهُنَّ (ওয়া ‘আশিরূহুন্না → তাদের সাথে ভালোভাবে জীবনযাপন করো)
بِالْمَعْرُوفِ (বিল মা‘রূফ → ন্যায়সঙ্গতভাবে)
فَإِنْ (ফাইন → যদি)
كَرِهْتُمُوهُنَّ (কারিহতুমূহুন্না → তোমরা তাদের অপছন্দ করো)
فَعَسَىٰ (ফা‘আসা → হতে পারে)
أَنْ (আন → যে)
تَكْرَهُوا (তাকরাহূ → তোমরা অপছন্দ করো)
شَيْئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَيَجْعَلَ (ওয়া ইয়াজ‘আলা → আর আল্লাহ করেন)
اللَّهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
فِيهِ (ফীহি → তাতে)
خَيْرًا كَثِيرًا (খাইরান কাছীরা → অনেক কল্যাণ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! নারীদেরকে জোরপূর্বক উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয় এবং তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তা হতে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখ না,—তবে যদি তারা স্পষ্ট অশ্লীল কাজ করে। তাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবন যাপন করবে ; তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ কর তবে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ্ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন তোমরা তাকেই অপছন্দ করছো।
আয়াত-২০ঃ
وَإِنْ (ওয়া ইন → আর যদি)
أَرَدْتُّمُ (আরাত্তুমু → তোমরা ইচ্ছা করো)
اسْتِبْدَالَ (ইস্তিবদালা → পরিবর্তন)
زَوْجٍ (জাওজিন → স্বামী বা স্ত্রী)
مَكَانَ (মাকা-না → পরিবর্তে)
زَوْجٍ (জাওজিন → অন্য সঙ্গী)
وَآتَيْتُمْ (ওয়া আতাইতুম → এবং তোমরা দিয়ে থাকো)
إِحْدَاهُنَّ (ইহদাহুন্না → তাদের একজনকে)
قِنْطَارًا (কিনতারান → বিপুল সম্পদ)
فَلَا (ফালা → তবে না)
تَأْخُذُوا (তা’খুযূ → তোমরা ফিরিয়ে নাও)
مِنْهُ (মিনহু → তা থেকে)
شَيْئًا (শাইআন → কিছুই)
أَتَأْخُذُونَهُ (আতা’খুযূনাহু → তোমরা কি তা ফিরিয়ে নেবে)
بُهْتَانًا (বুহতা-নান → অপবাদ হিসেবে)
وَإِثْمًا (ওয়া ইছমান → এবং পাপ হিসেবে)
مُبِينًا (মুবীনা → স্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তোমরা একজন স্বামী বা স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য সঙ্গী গ্রহণ করতে চাও এবং তাদের একজনকে বিপুল সম্পদও দিয়ে থাকো, তবুও তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিও না। তোমরা কি তা অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেবে?
আয়াত-২১ঃ
وَكَيْفَ (ওয়া কাইফা → কীভাবে)
تَأْخُذُونَهُ (তা’খুযূনাহু → তোমরা তা ফিরিয়ে নেবে)
وَقَدْ (ওয়া কাদ → অথচ)
أَفْضَىٰ (আফদা → ঘনিষ্ঠ হয়েছে)
بَعْضُكُمْ (বা‘দুকুম → তোমাদের কেউ)
إِلَىٰ (ইলা → সাথে)
بَعْضٍ (বা‘দিন → অন্যজন)
وَأَخَذْنَ (ওয়া আখাযনা → তারা গ্রহণ করেছে)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের কাছ থেকে)
مِيثَاقًا (মীছাকান → অঙ্গীকার)
غَلِيظًا (গালীজা → দৃঢ়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমরা কীভাবে তা ফিরিয়ে নেবে, অথচ তোমাদের একজন আরেকজনের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে?
আয়াত-২২ঃ
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَنْكِحُوا (তানকিহূ → তোমরা বিয়ে করো)
مَا (মা → যাদেরকে)
نَكَحَ (নাকাহা → বিয়ে করেছে)
آبَاؤُكُمْ (আবাউকুম → তোমাদের পিতারা)
مِنَ النِّسَاءِ (মিনান নিসাআ → নারীদের মধ্যে)
إِلَّا (ইল্লা → তবে)
مَا (মা → যা)
قَدْ (কাদ → ইতিপূর্বে)
سَلَفَ (সালাফা → হয়ে গেছে)
إِنَّهُ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই এটি)
كَانَ (কানা → ছিল)
فَاحِشَةً (ফাহিশাতান → অশ্লীল কাজ)
وَمَقْتًا (ওয়া মাকতান → ঘৃণ্য)
وَسَاءَ (ওয়া সাআ → এবং খুবই খারাপ)
سَبِيلًا (সাবীলা → উপায়/আচরণ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদের পিতারা যাদেরকে বিয়ে করেছে, তোমরা তাদেরকে বিয়ে করো না—তবে যা ইতিপূর্বে হয়ে গেছে তা ভিন্ন। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল, ঘৃণ্য এবং অত্যন্ত খারাপ আচরণ।
আয়াত-২৩ঃ
حُرِّمَتْ (হুররিমাত → নিষিদ্ধ করা হয়েছে)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের জন্য)
أُمَّهَاتُكُمْ (উম্মাহাতুকুম → তোমাদের মায়েরা)
وَبَنَاتُكُمْ (ওয়া বানাতুকুম → তোমাদের মেয়েরা)
وَأَخَوَاتُكُمْ (ওয়া আখাওয়াতুকুম → তোমাদের বোনেরা)
وَعَمَّاتُكُمْ (ওয়া ‘আম্মাতুকুম → তোমাদের ফুফুরা)
وَخَالَاتُكُمْ (ওয়া খালাতুকুম → তোমাদের খালারা)
وَبَنَاتُ الْأَخِ (ওয়া বানাতুল আখি → ভাইয়ের মেয়েরা)
وَبَنَاتُ الْأُخْتِ (ওয়া বানাতুল উখতি → বোনের মেয়েরা)
وَأُمَّهَاتُكُمُ (ওয়া উম্মাহাতুকুমু → তোমাদের দুধমায়েরা)
اللَّاتِي (আল্লাতী → যারা)
أَرْضَعْنَكُمْ (আরদা‘নাকুম → তোমাদের দুধ খাওয়ায়)
وَأَخَوَاتُكُمْ (ওয়া আখাওয়াতুকুম → দুধ বোনেরা)
مِنَ الرَّضَاعَةِ (মিনার রাদা‘আহ → দুধ সম্পর্কের)
وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ (ওয়া উম্মাহাতু নিসাইকুম → স্ত্রীদের মায়েরা)
وَرَبَائِبُكُمُ (ওয়া রাবাইবুকুমু → তোমাদের সৎকন্যারা)
اللَّاتِي (আল্লাতী → যারা)
فِي حُجُورِكُمْ (ফী হুজূরিকুম → তোমাদের তত্ত্বাবধানে)
مِنْ نِسَائِكُمُ (মিন নিসাইকুমু → তোমাদের নারীদের মাধ্যমে)
اللَّاتِي (আল্লাতী → যারা)
دَخَلْتُمْ بِهِنَّ (দাখালতুম বিহিন্না → দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেছ)
فَإِنْ (ফাইন → যদি)
لَمْ (লাম → না)
تَكُونُوا (তাকূনূ → তোমরা হও)
دَخَلْتُمْ بِهِنَّ (দাখালতুম বিহিন্না → দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করো)
فَلَا (ফালা → তবে না)
جُنَاحَ (জুনাহা → কোনো গুনাহ)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَحَلَائِلُ (ওয়া হালাইলু → এবং বৈধ সহধর্মিণী)
أَبْنَائِكُمُ (আবনাইকুমু → তোমাদের পুত্রদের)
الَّذِينَ (ল্লাযীনা → যারা)
مِنْ أَصْلَابِكُمْ (মিন আসলাবিকুম → তোমাদের ঔরসজাত)
وَأَنْ (ওয়া আন → এবং)
تَجْمَعُوا (তাজমা‘ঊ → একসাথে রাখা)
بَيْنَ (বাইনা → মধ্যে)
الْأُخْتَيْنِ (আল উখতাইনি → দুই বোন)
إِلَّا (ইল্লা → তবে যা)
مَا (মা → পূর্বে)
قَدْ (কাদ → হয়ে গেছে)
سَلَفَ (সালাফা → হয়ে গেছে)
إِنَّ اللَّهَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
كَانَ (কানা → আছেন)
غَفُورًا (গাফূরা → ক্ষমাশীল)
رَحِيمًا (রাহীমা → দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ (হারাম) করা হয়েছে—তোমাদের মাতা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধ মাতা যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছে, দুধ বোন, স্ত্রীদের মাতা, এবং সৎকন্যা যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, তোমাদের নারীদের মধ্যে—যারা দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেছ। কিন্তু যদি দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করো তবে কোনো গুনাহ নেই। আর তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণ এবং দুই বোনকে একসাথে রাখা—তবে যা পূর্বে হয়ে গেছে তা ভিন্ন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-২৪ঃ
وَّالۡمُحۡصَنٰتُ (ওয়াল মুহসানা-তু → এবং সুরক্ষিত)
مِنَ النِّسَآءِ (মিনান নিসাআ → নারীদের মধ্যে)
إِلَّا (ইল্লা → তবে)
مَا (মা → যারা)
مَلَكَتْ (মালাকাত → অধিকারভুক্ত হয়েছে)
أَيْمَانُكُمْ (আইমানুকুম → তোমাদের অধিকার)
كِتَابَ اللَّهِ (কিতাবাল্লাহি → আল্লাহর বিধান)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَأُحِلَّ (ওয়া উহিল্লা → এবং বৈধ করা হয়েছে)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مَا (মা → যা কিছু)
وَرَاءَ (ওয়ারাআ → এর বাইরে)
ذَٰلِكُمْ (যালিকুম → এগুলো)
أَنْ (আন → যে)
تَبْتَغُوا (তাবতাগূ → তোমরা অনুসন্ধান করবে)
بِأَمْوَالِكُمْ (বিআমওয়ালিকুম → তোমাদের সম্পদের মাধ্যমে)
مُحْصِنِينَ (মুহসিনীনা → সুরক্ষাকারী)
غَيْرَ (গাইরা → নয়)
مُسَافِحِينَ (মুসাফিহীনা → অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনকারী/ব্যভিচারকারী হিসেবে)
فَمَا (ফামা → অতঃপর যা)
اسْتَمْتَعْتُمْ (ইস্তামতা‘তুম → তোমরা আনন্দ বা সুবিধা গ্রহণ করেছ)
بِهِ (বিহী → তাদের দ্বারা)
مِنْهُنَّ (মিনহুন্না → তাদের মধ্য থেকে)
فَآتُوهُنَّ (ফা-আতূহুন্না → তবে তাদের প্রদান করো)
أُجُورَهُنَّ (উজূরাহুন্না → তাদের নির্ধারিত প্রতিদান)
فَرِيضَةً (ফারীদাতান → নির্ধারিত কর্তব্য হিসেবে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
جُنَاحَ (জুনাহা → কোনো গুনাহ)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
فِيمَا (ফীমা → সে বিষয়ে যা)
تَرَاضَيْتُمْ (তারাদাইতুম → তোমরা পারস্পরিক সম্মত হয়েছ)
بِهِ (বিহী → তা নিয়ে)
مِنْ (মিন → থেকে)
بَعْدِ (বা‘দি → পরে)
الْفَرِيضَةِ (আল-ফারীদাতি → নির্ধারিত কর্তব্যের)
إِنَّ اللَّهَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয়ই আল্লাহ)
كَانَ (কানা → তিনি)
عَلِيمًا (আলীমান → সর্বজ্ঞ)
حَكِيمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর রক্ষিত/সধবা নারীগণও, তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত নারীগণ ব্যতীত। এটি তোমাদের জন্য আল্লাহর বিধান। এদের বাইরে অন্যান্য নারীদের তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যাতে তোমরা নিজেদের সম্পদের মাধ্যমে তাদেরকে সুরক্ষার জন্য অনুসন্ধান করতে পারো, অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য নয়। অতঃপর যাদের দ্বারা তোমরা আনন্দিত হবে, তাদের নির্ধারিত প্রতিদান প্রদান করো কর্তব্য হিসবে। নির্ধারিত কর্তব্য স্থির হওয়ার পর পারস্পরিক সম্মতিতে যা কিছু নির্ধারণ করবে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-২৫ঃ
وَمَن (ওয়া মান → আর যে)
لَّمْ (লাম → না)
يَسْتَطِعْ (ইয়াস্তাতি‘ → সক্ষম হয়)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
طَوْلًا (তাওলান → সামর্থ্য/সচ্ছলতা)
أَنْ (আন → যে)
يَنْكِحَ (ইয়ানকিহা → বিয়ে করতে পারে)
الْمُحْصَنَاتِ (আল মুহসানাতি → সতী/সধবা)
الْمُؤْمِنَاتِ (আল মু’মিনা-তি → খাটি বিশ্বাসী নারীগণ)
فَمِنْ (ফামিন → তবে)
مَا (মা → যা)
مَلَكَتْ (মালাকাত → অধিকারভুক্ত)
أَيْمَانُكُمْ (আইমানুকুম → তোমাদের অধিনস্থ)
مِنْ (মিন → থেকে)
فَتَيَاتِكُمُ (ফাতায়াতিকুমু → তোমাদের প্রাপ্তবয়স্ক নারী)
الْمُؤْمِنَاتِ (আল মু’মিনা-তি → খাটি বিশ্বাসী নারীগণ)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → এবং আল্লাহ)
أَعْلَمُ (আ‘লামু → সর্বাধিক জানেন)
بِإِيمَانِكُمْ (বিইমানিকুম → তোমাদের বিশ্বাস সম্পর্কে)
بَعْضُكُمْ (বা‘দুকুম → তোমাদের একে অপর)
مِنْ بَعْضٍ (মিন বা‘দিন → পরস্পর থেকে)
فَانْكِحُوهُنَّ (ফানকিহূহুন্না → তাদের বিয়ে করো)
بِإِذْنِ (বিইযনি → অনুমতিতে)
أَهْلِهِنَّ (আহলিহিন্না → তাদের অভিভাবকদের)
وَآتُوهُنَّ (ওয়া আ-তূহুন্না → এবং তাদের দাও)
أُجُورَهُنَّ (উজূরাহুন্না → তাদের নির্ধারিত প্রতিদান)
بِالْمَعْرُوفِ (বিলমা‘রূফ → ন্যায়সঙ্গতভাবে)
مُحْصَنَاتٍ (মুহসানা-তি → সতী অবস্থায়)
غَيْرَ (গাইরা → নয়)
مُسَافِحَاتٍ (মুসাফিহাতিন → ব্যভিচারিণী)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
مُتَّخِذَاتِ (মুত্তাখিযা-তি → গ্রহণকারিণী)
أَخْدَانٍ (আখদান → গোপন সম্পর্ক)
فَإِذَا (ফাইযা → অতঃপর যখন)
أُحْصِنَّ (উহসিন্না → তারা সুরক্ষিত হয়)
فَإِنْ (ফাইন → তাহলে যদি)
أَتَيْنَ (আতায়না → তারা করে)
بِفَاحِشَةٍ (বিফাহিশাতিন → অশ্লীল কাজ)
فَعَلَيْهِنَّ (ফাআলাইহিন্না → তাদের উপর)
نِصْفُ (নিসফু → অর্ধেক)
مَا (মা → যা)
عَلَى (আলা → উপর)
الْمُحْصَنَاتِ (আল মুহসানা-তি → সতী নারীদের)
مِنَ (মিন → থেকে)
الْعَذَابِ (আল-আযাব → শাস্তি)
ذَٰلِكَ (যালিকা → এটি)
لِمَنْ (লিমান → তার জন্য যে)
خَشِيَ (খাশিয়া → ভয় করে)
الْعَنَتَ (আল ‘আনাত → কষ্টের)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
وَأَنْ (ওয়া আন → এবং যে)
تَصْبِرُوا (তাসবিরূ → তোমরা ধৈর্য ধরো)
خَيْرٌ (খাইরুন → উত্তম)
لَّكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → এবং আল্লাহ)
غَفُورٌ (গাফূরুন → ক্ষমাশীল)
رَّحِيمٌ (রাহীম → দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমাদের মধ্যে যারা সতী খাটি বিশ্বাসী (মুমিনা) নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত খাটি বিশ্বাসী (মুমিনা) দাসী নারীদের থেকে বিয়ে করে। আল্লাহ তোমাদের বিশ্বাস (ঈমান) সম্পর্কে ভালো জানেন। তোমরা একে অপরের অংশ। তাদের অভিভাবকদের অনুমতিতে তাদের বিয়ে করো এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের প্রাপ্য প্রতিদান প্রদান করো—তারা যেন সতী অবস্থায় থাকে, ব্যভিচারিণী বা গোপন সম্পর্ক গ্রহণকারী না হয়। অতঃপর তারা যদি সুরক্ষিত (বিবাহিত) অবস্থায় অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদের শাস্তি সতী নারীদের অর্ধেক হবে। এটি তাদের জন্য, যারা পাপে পতিত হওয়ার ভয় করে। আর ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
