সুরা আল মায়িদাহ: ১-২৫

সূরা আল মায়িদাহ (المائدة) | খাদ্য পরিবেশিত দস্তরখান
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৭৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-০১ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
اَوۡفُوۡا (আওফূ → পূর্ণ করো)
بِالۡعُقُوۡدِ (বিল ‘উকূদি → অঙ্গীকারসমূহ)
اُحِلَّتۡ (উহিল্লাত → বৈধ করা হয়েছে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
بَہِیۡمَۃُ (বাহীমাতু → পশু/প্রাণী)
الۡاَنۡعَامِ (আল আন‘আমি → গৃহপালিত চতুষ্পদ পশু/গবাদি পশু)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
مَا (মা → যা)
یُتۡلٰی (ইউতলা → পাঠ করা হবে)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের কাছে)
غَیۡرَ (গাইরা → নয়)
مُحِلِّی (মুহিল্লী → বৈধকারী)
الصَّیۡدِ (আস সাইদি → শিকার)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → যখন তোমরা)
حُرُمٌ (হুরুমুন → নিষিদ্ধ অবস্থায়/অবৈধ অবস্থায়)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
یَحۡکُمُ (ইয়াহকুমু → আদেশ দেন)
مَا (মা → যা)
یُرِیۡدُ (ইউরীদু → তিনি ইচ্ছা করেন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো। তোমাদের জন্য গবাদি/গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী বৈধ করা হয়েছে, তবে যা তোমাদের কাছে পাঠ করে শোনানো হবে তা ব্যতীত। আর নিষিদ্ধ অবস্থায় শিকারকে বৈধ মনে করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, সেই আদেশই দেন।


আয়াত-০২ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
لَا (লা → না)
تُحِلُّوۡا (তুহিল্লূ → লঙ্ঘন করো)
شَعَآئِرَ (শা‘আইরা → প্রতীকসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
الشَّہۡرَ (আশ শাহরা → মাসকে)
الۡحَرَامَ (আল হারামা → অবৈধ)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
الۡہَدۡیَ (আল হাদইয়া → উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়া বস্তু/নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো নিবেদিত বস্তু)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
الۡقَلَآئِدَ (আল কালাঈদা → চিহ্নিত উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়া নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো নিবেদিত বস্তু)
وَلَاۤ (ওয়ালা → এবং না)
آٰمِّیۡنَ (আম্মীনা → অভিমুখী ব্যক্তিদের)
الۡبَیۡتَ (আল বাইতা → ঘরের)
الۡحَرَامَ (আল হারামা → নিষিদ্ধ)
یَبۡتَغُوۡنَ (ইয়াবতাগূনা → যারা কামনা করে)
فَضۡلًا (ফাদলান → অনুগ্রহ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّہِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
وَرِضۡوَانًا (ওয়া রিদওয়ানান → এবং সন্তুষ্টি)
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
حَلَلۡتُمۡ (হালালতুম → তোমরা বৈধ হও)
فَاصۡطَادُوۡا (ফাস্তাদূ → তখন শিকার করো)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
یَجۡرِمَنَّکُمۡ (ইয়াজরিমান্নাকুম → যেন প্ররোচিত না করে তোমাদের)
شَنَاٰنُ (শানাআনু → বিদ্বেষ)
قَوۡمٍ (কাওমিন → কোনো সম্প্রদায়ের)
اَنۡ (আন → যে কারণে)
صَدُّوۡکُمۡ (সাদ্দূকুম → তারা তোমাদের বাধা দিয়েছিল)
عَنِ (আনিল → থেকে)
الۡمَسۡجِدِ (আল মাসজিদি → ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্থান)
الۡحَرَامِ (আল হারামি → অবৈধ)
اَنۡ (আন → যেন)
تَعۡتَدُوۡا (তা‘তাদূ → তোমরা সীমালঙ্ঘন করো)
وَتَعَاوَنُوۡا (ওয়া তা‘আওয়ানূ → এবং পারস্পরিক সহযোগিতা করো)
عَلَی (আলা → ক্ষেত্রে)
الۡبِرِّ (আল বির্রি → সৎকাজ)
وَالتَّقۡوٰی (ওয়াত তাকওয়া → এবং খোদাভীরুতা)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَعَاوَنُوۡا (তা‘আওয়ানূ → পারস্পরিক সহযোগিতা করো)
عَلَی (আলা → ক্ষেত্রে)
الۡاِثۡمِ (আল ইসমি → পাপ)
وَالۡعُدۡوَانِ (ওয়াল ‘উদওয়ানি → এবং সীমালঙ্ঘন)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং খোদাভীরু থাকো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ সম্পর্কে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
شَدِیۡدُ (শাদীদু → কঠোর)
الۡعِقَابِ (আল ‘ইকাবি → শাস্তিদানে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আল্লাহর প্রতীকসমূহ, হারাম মাস, উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়া বস্তু (হাদইয়া), চিহ্নকৃত উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়া বস্তু (কালাঈদা) এবং যারা তাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে নিষিদ্ধ ঘরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে—তাদের প্রতি অসম্মান করো না। আর যখন তোমরা বৈধ হবে, তখন শিকার করতে পারো। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ—যারা তোমাদের ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্থানে (মসজিদে) যেতে বাধা দিয়েছিল—সেই সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকাজ ও খোদাভীরুতার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহ সম্পর্কে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।


আয়াত-০৩ঃ

حُرِّمَتۡ (হুররিমাত → নিষিদ্ধ করা হয়েছে)
عَلَیۡکُمُ (‘আলাইকুমু → তোমাদের জন্য)
الۡمَیۡتَۃُ (আল মাইতাতু → মৃত প্রাণী)
وَالدَّمُ (ওয়াদ দামু → এবং রক্ত)
وَلَحۡمُ (ওয়া লাহমু → এবং গোশত)
الۡخِنۡزِیۡرِ (আল খিনযীরি → শূকরের)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
اُہِلَّ (উহিল্লা → যার উপর অন্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে)
لِغَیۡرِ (লিগাইরি → ছাড়া)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
بِہٖ (বিহী → তার ওপর)
وَالۡمُنۡخَنِقَۃُ (ওয়াল মুনখানিকাতু → শ্বাসরোধে মৃত প্রাণী)
وَالۡمَوۡقُوۡذَۃُ (ওয়াল মাওকূযাতু → আঘাতে মৃত প্রাণী)
وَالۡمُتَرَدِّیَۃُ (ওয়াল মুতারাদ্দিয়াতু → উপর থেকে পড়ে মৃত প্রাণী)
وَالنَّطِیۡحَۃُ (ওয়ান নাতীহাতু → শিংয়ের আঘাতে মৃত প্রাণী)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
اَکَلَ (আকালা → খেয়েছে)
السَّبُعُ (আস সাবু‘উ → হিংস্র জন্তু)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
مَا (মা → যা)
ذَکَّیۡتُمۡ (যাক্কাইতুম → পরিশুদ্ধ করা / পূর্ণতা দেওয়া / যথাযথভাবে সম্পন্ন করা)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
ذُبِحَ (যুবিহা → যবেহ করা হয়েছে)
عَلَی (আলা → ওপর)
النُّصُبِ (আন নুসুবি → পাথরের স্তম্ভ)
وَاَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
تَسۡتَقۡسِمُوۡا (তাস্তাকসিমূ → ভাগ্য নির্ণয় করবে)
بِالۡاَزۡلَامِ (বিল আযলামী → ভাগ্য-তির দ্বারা)
ذٰلِکُمۡ (যালিকুম → এগুলো)
فِسۡقٌ (ফিসকুন → পাপাচার)
اَلۡیَوۡمَ (আল ইয়াওমা → আজ)
یَئِسَ (ইয়াইসা → নিরাশ হয়েছে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
دِیۡنِکُمۡ (দীনিকুম → তোমাদের জীবণব্যবস্থা)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَخۡشَوۡہُمۡ (তাখশাওহুম → তাদের ভয় করো)
وَاخۡشَوۡنِ (ওয়াখশাওনি → বরং আমাকে ভয় করো)
اَلۡیَوۡمَ (আল ইয়াওমা → আজ)
اَکۡمَلۡتُ (আকমালতু → আমি পূর্ণাঙ্গ করলাম)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
دِیۡنَکُمۡ (দীনাকুম → তোমাদের জীবণব্যবস্থা)
وَاَتۡمَمۡتُ (ওয়া আতমামতু → এবং পূর্ণ করলাম)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
نِعۡمَتِیۡ (নি‘মাতী → আমার অনুগ্রহ)
وَرَضِیۡتُ (ওয়া রাদীতু → এবং আমি মনোনীত করেছি)
لَکُمُ (লাকুমু → তোমাদের জন্য)
الۡاِسۡلَامَ (আল ইসলামা → শান্তিকে)
دِیۡنًا (দীনান → জীবণব্যবস্থা হিসেবে)
فَمَنِ (ফামানি → অতঃপর যে)
اضۡطُرَّ (ইদতুররা → বাধ্য হয়)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
مَخۡمَصَۃٍ (মাখমাসাতিন → চরম ক্ষুধা)
غَیۡرَ (গাইরা → তবে নয়)
مُتَجَانِفٍ (মুতাজানিফিন → পাপের দিকে ঝোঁকপ্রবণ)
لِّاِثۡمٍ (লিইসমিন → পাপের উদ্দেশ্যে)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীমুন → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ/হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে ঘোষণা করা পশু, শ্বাসরোধে মৃত প্রাণী, আঘাতে মৃত প্রাণী, উপর থেকে পড়ে মৃত প্রাণী, শিংয়ের আঘাতে মৃত প্রাণী এবং হিংস্র জন্তুর খাওয়া প্রাণী—তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ব্যতীত। আর যা পাথরের ওপর বলি/যবেহ দেওয়া হয়েছে এবং ভাগ্য নির্ধারণের জন্য তীর ব্যবহার করা—এসবই পাপাচার। আজ অবিশ্বাসীরা তোমাদের জীবণব্যবস্থা (দ্বীন) সম্পর্কে নিরাশ হয়েছে। তাই তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের জীবণব্যবস্থাকে (দ্বীনকে) পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং শান্তিকে (ইসলামকে) তোমাদের জন্য জীবণব্যবস্থা (দ্বীন) হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যে ব্যক্তি চরম ক্ষুধায় বাধ্য হয়, পাপের দিকে না ঝুকে পড়ে, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-০৪ঃ

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ইয়াসআলূনাকা → তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে)
مَاذَا (মাযা → কী)
اُحِلَّ (উহিল্লা → বৈধ করা হয়েছে)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
قُلۡ (কুল → বলুন)
اُحِلَّ (উহিল্লা → বৈধ করা হয়েছে)
لَکُمُ (লাকুমু → তোমাদের জন্য)
الطَّیِّبٰتُ (আত-তাইয়্যিবাতু → পবিত্র/ উত্তম বস্তুসমূহ)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
عَلَّمۡتُمۡ (‘আল্লামতুম → তোমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছ)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الۡجَوَارِحِ (আল জাওয়ারিহি → শিকারি প্রাণীসমূহকে)
مُکَلِّبِیۡنَ (মুকাল্লিবীনা → কুকুর দিয়ে শিকারকারী)
تُعَلِّمُوۡنَہُنَّ (তু‘আল্লিমূনাহুন্না → তোমরা তাদের শিক্ষা দাও)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
عَلَّمَکُمُ (‘আল্লামাকুমু → তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَکُلُوۡا (ফাকুলূ → অতঃপর খাও)
مِمَّا (মিম্মা → যা)
اَمۡسَکۡنَ (আমসাকনা → তারা ধরে এনেছে)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের জন্য)
وَاذۡکُرُوا (ওয়াযকুরূ → এবং স্মরণ করো)
اسۡمَ (ইসমা → নাম)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তার ওপর)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং খোদাভীরুতা অবলম্বন করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
سَرِیۡعُ (সারী‘উ → দ্রুত)
الۡحِسَابِ (আল হিসাবি → হিসাব গ্রহণকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তাদের জন্য কী বৈধ করা হয়েছে। বলুন, তোমাদের জন্য সব পবিত্র বস্তু বৈধ করা হয়েছে। আর তোমরা যে শিকারি প্রাণীগুলোকে, আল্লাহ তোমাদের যে জ্ঞান দিয়েছেন, তা দিয়ে প্রশিক্ষণ দাও—তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে, তা থেকে খাও এবং তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ খুব দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


আয়াত-০৫ঃ

اَلۡیَوۡمَ (আল ইয়াওমা → আজ)
اُحِلَّ (উহিল্লা → বৈধ করা হয়েছে)
لَکُمُ (লাকুমু → তোমাদের জন্য)
الطَّیِّبٰتُ (আত-তাইয়্যিবাতু → পবিত্র/ উত্তম বস্তুসমূহ)
وَطَعَامُ (ওয়া তা‘আমু → এবং খাদ্য)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اُوۡتُوا (ঊতূ → প্রাপ্ত হয়েছে)
الۡکِتٰبَ (আল কিতাবা → কিতাব)
حِلٌّ (হিল্লুন → বৈধ)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَطَعَامُکُمۡ (ওয়া তা‘আমুকুম → এবং তোমাদের খাদ্য)
حِلٌّ (হিল্লুন → বৈধ)
لَّہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
وَالۡمُحۡصَنٰتُ (ওয়াল মুহসানাতু → এবং সচ্চরিত্রা নারীরা)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡمُؤۡمِنٰتِ (আল মু’মিনাতি → দৃঢ় বিশ্বাসী নারীদের)
وَالۡمُحۡصَنٰتُ (ওয়াল মুহসানাতু → এবং সচ্চরিত্রা নারীরা)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اُوۡتُوا (ঊতূ → প্রাপ্ত হয়েছে)
الۡکِتٰبَ (আল কিতাবা → কিতাব)
مِنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلِکُمۡ (কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
اِذَا (ইযা → যখন)
اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ (আতাইতুমূহুন্না → তোমরা তাদের প্রদান করবে)
اُجُوۡرَہُنَّ (উজূরাহুন্না → তাদের প্রাপ্য প্রতিদান)
مُحۡصِنِیۡنَ (মুহসিনীনা → বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে)
غَیۡرَ (গাইরা → না হয়ে)
مُسٰفِحِیۡنَ (মুসাফিহীনা → ব্যভিচারকারী)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
مُتَّخِذِیۡ (মুত্তাখিযী → গ্রহণকারী)
اَخۡدَانٍ (আখদানিন → গোপন সঙ্গী/গোপন সম্পর্কের সঙ্গী)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یَّکۡفُرۡ (ইয়াকফুর → অস্বীকার করে)
بِالۡاِیۡمَانِ (বিল ঈমানি → বিশ্বাসকি)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে অবশ্যই)
حَبِطَ (হাবিতা → নিষ্ফল হয়েছে)
عَمَلُہٗ (‘আমালুহু → তার আমল)
وَہُوَ (ওয়া হুয়া → এবং সে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاٰخِرَۃِ (আল আখিরাতি → পরকালে)
مِنَ (মিন → অন্তর্ভুক্ত)
الۡخٰسِرِیۡنَ (আল খাসিরীনা → ক্ষতিগ্রস্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আজ তোমাদের জন্য সব পবিত্র বস্তু বৈধ করা হয়েছে। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য বৈধ এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য বৈধ। আর দৃঢ় বিশ্বাসী (মুমিন) সচ্চরিত্রা নারীরা এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীরাও তোমাদের জন্য বৈধ, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা তাদের প্রাপ্য প্রতিদান প্রদান করবে, কিন্তু ব্যভিচারী বা গোপন সম্পর্কের সঙ্গী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। আর যে বিশ্বাসকে অস্বীকার করে, তার সব আমল নিষ্ফল হয়ে যায় এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


আয়াত-০৬ঃ

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا (ইয়া আইয়্যুহা আল্লাযীনা আ-মানূ → হে যারা বিশ্বাস এনেছে)
اِذَا (ইযা → যখন)
قُمۡتُمۡ (কুমতুম → তোমরা দাঁড়াও/উদ্যোগী হওয়া)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الصَّلٰوۃِ (আস-সালাতি → যোগাযোগের)
فَاغۡسِلُوۡا (ফাগসিলূ → অতপর: ধুয়ে নাও)
وُجُوۡہَکُمۡ (উজূহাকুম → তোমাদের মুখমণ্ডল/তোমাদের উদ্দেশ্য)
وَاَیۡدِیَکُمۡ (ওয়া আইদিয়াকুম → এবং তোমাদের হাত/শক্তি ও ক্ষমতার মাধ্যম (যথা: আইনের হাত)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الۡمَرَافِقِ (আল মারাফিকি → কনুই/পাশে থাকা /সহায়তা দেওয়া)
وَامۡسَحُوۡا (ওয়ামসাহূ → এবং মুছে দাও/সমতল করো)
بِرُءُوۡسِکُمۡ (বিরুঊসিকুম → তোমাদের মাথা/নেতা/নেতৃত্ব)
وَاَرۡجُلَکُمۡ (ওয়া আরজুলাকুম → এবং তোমাদের পা/নিম্ন শ্রেণী)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الۡکَعۡبَیۡنِ (আল কা‘বাইনি → টাখনু/উঁচু হওয়া)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
جُنُبًا (জুনুবান → অপবিত্র/ উৎকন্ঠা)
فَاطَّہَّرُوۡا (ফাত্তাহ্হারূ → তবে পবিত্রতা অর্জন করো/দূর করো)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
مَّرۡضٰۤی (মারদা → অসুস্থ)
اَوۡ (আও → অথবা)
عَلٰی (আলা → উপর)
سَفَرٍ (সাফারিন → ভ্রমণ)
اَوۡ (আও → অথবা)
جَآءَ (জা-আ → এসেছে)
اَحَدٌ (আহাদুন → কেউ)
مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الۡغَآئِطِ (আল গাইতি → পায়খানা/নিম্নভূমি / নিচু স্থান)
اَوۡ (আও → অথবা)
لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ (লামাসতুম আন নিসা-আ → তোমরা স্পর্শ করেছ নারীদের/পিছিয়ে পড়াদের)
فَلَمۡ (ফালাম → অতঃপর না)
تَجِدُوۡا (তাজিদূ → পাও)
مَآءً (মা-আন → পানি)
فَتَیَمَّمُوۡا (ফাতাইয়াম্মামূ → তোমরা লক্ষ্য করে যাও/তবে তায়াম্মুম করো)
صَعِیۡدًا (সাঈদান → পবিত্র মাটি/ উচুভূমি)
طَیِّبًا (তাইয়্যিবান → পরিষ্কার)
فَامۡسَحُوۡا (ফামসাহূ → অতঃপর মুছে ফেল)
بِوُجُوۡہِکُمۡ (বিউজূহিকুম → তোমাদের মুখমণ্ডল)
وَاَیۡدِیۡکُمۡ (ওয়া আইদীকুম → এবং তোমাদের হাত)
مِّنۡہُ (মিনহু → তা দ্বারা)
مَا (মা → না)
یُرِیۡدُ (ইউরীদু → চান)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لِیَجۡعَلَ (লিয়াজ‘আলা → আরোপ করতে)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
حَرَجٍ (হারাজিন → কষ্ট)
وَّلٰکِنۡ (ওয়ালাকিন → বরং)
یُّرِیۡدُ (ইউরীদু → চান)
لِیُطَہِّرَکُمۡ (লিইউতাহ্হিরাকুম → তোমাদের পবিত্র করতে)
وَلِیُتِمَّ (ওয়ালিইউতিম্মা → এবং পূর্ণ করতে)
نِعۡمَتَہٗ (নি‘মাতাহূ → তাঁর অনুগ্রহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشۡکُرُوۡنَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা যোগাযোগের দিকে দাঁড়াবে, অতপর: তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা এবং টাখনু পর্যন্ত পা মুছে নাও (মাসেহ করে নাও)। আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ শৌচকার্য থেকে আসে, অথবা তোমাদের নারীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো; তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো কষ্ট আরোপ করতে চান না; বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।


আয়াত-০৭ঃ

وَاذۡکُرُوۡا (ওয়াযকুরূ → স্মরণ করো)
نِعۡمَۃَ (নি‘মাতা → অনুগ্রহ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
وَمِیۡثَاقَہُ (ওয়া মীছাকাহু → এবং তাঁর অঙ্গীকার)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
وَاثَقَکُمۡ (ওয়াছাকাকুম → তিনি তোমাদের থেকে গ্রহণ করেছিলেন)
بِہٖۤ (বিহী → তার মাধ্যমে)
اِذۡ (ইয → যখন)
قُلۡتُمۡ (কুলতুম → তোমরা বলেছিলে)
سَمِعۡنَا (সামি‘না → আমরা শুনেছি)
وَاَطَعۡنَا (ওয়া আত‘আনা → এবং আমরা মেনে চলেছি)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং আল্লাহকে ভয় করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
عَلِیۡمٌۢ (‘আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
بِذَاتِ (বিধাতি → যার মধ্যে আছে)
الصُّدُوۡرِ (আস-সুদূরি → অন্তরের ভেতরের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সেই অঙ্গীকার স্মরণ করো, যা তিনি তোমাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন, যখন তোমরা বলেছিলে—আমরা শুনেছি এবং আমরা মান্য করেছি। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।


আয়াত-০৮ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
کُوۡنُوۡا (কূনূ → হও)
قَوّٰمِیۡنَ (কাওওয়ামীন → দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
شُہَدَآءَ (শুহাদা-আ → সাক্ষী)
بِالۡقِسۡطِ (বিল কিসতি → ন্যায়বিচারের সাথে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
یَجۡرِمَنَّکُمۡ (ইয়াজরিমান্নাকুম → যেন তোমাদের প্ররোচিত করে)
شَنَاٰنُ (শানাআনু → শত্রুতা/বিদ্বেষ)
قَوۡمٍ (কাওমিন → কোনো সম্প্রদায়ের)
عَلٰۤی (আলা → যে কারণে)
اَلَّا (আল্লা → যাতে না)
تَعۡدِلُوۡا (তা‘দিলূ → তোমরা ন্যায়বিচার করো না)
اِعۡدِلُوۡا (ই‘দিলূ → ন্যায়বিচার করো)
ہُوَ (হুয়া → সেটাই)
اَقۡرَبُ (আকরাবু → সবচেয়ে নিকটবর্তী)
لِلتَّقۡوٰی (লিত তাকওয়া → খোদাভীরুতার)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং আল্লাহকে ভয় করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
خَبِیۡرٌۢ (খাবীরুন → সর্বজ্ঞ)
بِمَا (বিমা → যা)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য দৃঢ়ভাবে ন্যায়বিচারের সাক্ষ্যদাতা হও। কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। ন্যায়বিচার করো—এটাই খোদাভীরুতার (তাকওয়ার) সবচেয়ে নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কাজ সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবগত।


আয়াত-০৯ঃ

وَعَدَ (ওয়া‘আদা → প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছে)
وَعَمِلُوا (ওয়া ‘আমিলূ → এবং কর্ম করেছে)
الصّٰلِحٰتِ (আস-সা-লিহাত → সৎকর্মসমূহ)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مَّغۡفِرَۃٌ (মাগফিরাহ → ক্ষমা)
وَّاَجۡرٌ (ওয়া আজরুন → এবং পুরস্কার)
عَظِیۡمٌ (আজীম → মহান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদেরকে, যারা বিশ্বাস এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং মহা পুরস্কার।


আয়াত-১০ঃ

وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
وَکَذَّبُوۡا (ওয়া কাযযাবূ → এবং মিথ্যা বলেছে)
بِاٰیٰتِنَاۤ (বিআ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহের প্রতি)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
اَصۡحٰبُ (আসহাব → অধিবাসী)
الۡجَحِیۡمِ (আল জাহীম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা অবিশ্বাস করেছে এবং আমাদের নিদর্শনসমূহকে (আয়াতসমূহকে) মিথ্যা বলেছে, তারাই ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের অধিবাসী।


আয়াত-১১ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
اذۡکُرُوۡا (উযকুরূ → স্মরণ করো)
نِعۡمَتَ (নি‘মাতা → দয়া)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
اِذۡ (ইয → যখন)
ہَمَّ (হাম্মা → সংকল্প করেছিল)
قَوۡمٌ (কাওমুন → এক সম্প্রদায়)
اَنۡ (আন → যে)
یَّبۡسُطُوۡۤا (ইয়াবসুতূ → প্রসারিত করবে)
اِلَیۡکُمۡ (ইলাইকুম → তোমাদের দিকে)
اَیۡدِیَہُمۡ (আইদিয়াহুম → তাদের হাতসমূহ/ক্ষমতা/ কর্তৃত্ব)
فَکَفَّ (ফাকাফ্ফা → অতঃপর তিনি ফিরিয়ে দিলেন/রোধ করলেন)
اَیۡدِیَہُمۡ (আইদিয়াহুম → তাদের হাতসমূহ/ক্ষমতা/ কর্তৃত্ব)
عَنۡکُمۡ (আনকুম → তোমাদের থেকে)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং খোদাভীরুতা অবলম্বন করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَعَلَی (ওয়া ‘আলা → এবং উপরই)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
فَلۡیَتَوَكَّلِ (ফালইয়াতাওয়াক্কাল → ভরসা করা উচিত)
الۡمُؤۡمِنُوۡنَ (আল মু’মিনূন → দৃঢ় বিশ্বাসীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া স্মরণ করো, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের ওপর তাদের হাত (ক্ষমতা/ কর্তৃত্ব) প্রসারিত করার সংকল্প করেছিল; তখন তিনি তাদের হাত (ক্ষমতা/ কর্তৃত্ব) তোমাদের থেকে প্রতিহত করেছিলেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, এবং মুমিনদের উচিত একমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা করা।


আয়াত-১২ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → এবং অবশ্যই)
اَخَذَ (আখাযা → গ্রহণ করেছিলেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِیۡثَاقَ (মীছাকা → অঙ্গীকার)
بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (বানী ইসরাঈল → ইসরাঈলের সন্তানদের)
وَبَعَثۡنَا (ওয়া বা‘আছনা → এবং আমরা প্রেরণ করেছিলাম)
مِنۡہُمُ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
اثۡنَیۡ عَشَرَ (ইছনাই ‘আশারা → বারো জন)
نَقِیۡبًا (নাকীবা → প্রতিনিধি/প্রধান)
وَقَالَ (ওয়া ক্বালা → এবং বললেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
مَعَکُمۡ (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
لَئِنۡ (লাইন → যদি অবশ্যই)
اَقَمۡتُمُ (আকামতুম → তোমরা প্রতিষ্ঠা করো)
الصَّلٰوۃَ (আস-সালাতা → যোগাযোগ)
وَاٰتَیۡتُمُ (ওয়া আ-তাইতুম → এবং তোমরা হও)
الزَّکٰوۃَ (আয-যাকাতা → পরিশুদ্ধ)
وَاٰمَنۡتُمۡ (ওয়া আ-মানতুম → এবং তোমরা বিশ্বাস আনো)
بِرُسُلِیۡ (বিরুসুলী → আমার রাসূলদের প্রতি)
وَعَزَّرۡتُمُوۡہُمۡ (ওয়া আঝঝারতুমূহুম → এবং তাদের সাহায্য ও সম্মান করো)
وَاَقۡرَضۡتُمُ (ওয়া আকরাদতুম → এবং তোমরা ঋণ দাও)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
قَرۡضًا (কারদান → ঋণ)
حَسَنًا (হাসানা → উত্তম)
لَّاُکَفِّرَنَّ (লা-উকাফফিরান্না → অবশ্যই আমি মুছে দেব)
عَنۡکُمۡ (আনকুম → তোমাদের থেকে)
سَیِّاٰتِکُمۡ (ছাইয়িআতিকুম → তোমাদের পাপসমূহ)
وَلَاُدۡخِلَنَّکُمۡ (ওয়া লা-উদখিলান্নাকুম → এবং অবশ্যই তোমাদের প্রবেশ করাব)
جَنّٰتٍ (জান্নাতিন → উদ্যাণসমূহে)
تَجۡرِیۡ (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تَحۡتِہَا (তাহতিহা → যার তলদেশ দিয়ে)
الۡاَنۡہٰرُ (আল আনহার → নদীসমূহ)
فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
كَفَرَ (কাফারা → অস্বীকার করবে)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
ذٰلِكَ (যা-লিকা → এর)
مِنۡكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে অবশ্যই)
ضَلَّ (দাল্লা → পথভ্রষ্ট হয়েছে)
سَوَآءَ (সাওয়া-আ → সঠিক)
السَّبِیۡلِ (আস-সাবীল → পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবশ্যই আল্লাহ ইসরাঈলের সন্তানদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে বারো জন প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন। আল্লাহ বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। যদি তোমরা যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা কর, পরিশুদ্ধ হও, আমার রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস আনো, তাদের সাহায্য ও সম্মান কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের পাপসমূহ মুছে দেব এবং তোমাদের এমন উদ্যাণসমূহে প্রবেশ করাব যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। এরপরও তোমাদের মধ্যে যে অবিশ্বাস করবে, সে অবশ্যই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে।”


আয়াত-১৩ঃ

فَبِمَا (ফাবিমা → অতঃপর তাদের কারণে)
نَقۡضِہِمۡ (নাকদিহিম → তারা ভঙ্গ করেছিল)
مِّیۡثَاقَہُمۡ (মীছাকাহুম → তাদের অঙ্গীকার)
لَعَنّٰہُمۡ (লা‘আন্নাহুম → আমরা তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছি)
وَجَعَلۡنَا (ওয়া জা‘আলনা → এবং আমরা করেছি)
قُلُوۡبَہُمۡ (কুলূবাহুম → তাদের অন্তরসমূহকে)
قٰسِیَۃً (কাসিয়াহ → কঠোর)
یُحَرِّفُوۡنَ (ইউহাররিফূনা → তারা বিকৃত করে)
الۡکَلِمَ (আল কালিমা → কথাগুলো/বাণী)
عَنۡ (আন → থেকে)
مَّوَاضِعِہٖ (মাওয়াদি‘ইহী → তার যথাস্থান)
وَنَسُوۡا (ওয়া নাসূ → এবং তারা উপেক্ষা করেছে)
حَظًّا (হাযযান → একটি অংশ)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
ذُكِّرُوۡا (যুক্কিরূ → তাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছিল)
بِہٖ (বিহী → তা দ্বারা)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَزَالُ (তাযালু → তুমি সর্বদা)
تَطَّلِعُ (তাত্তালি‘উ → অবগত হও)
عَلٰی (আলা → উপর)
خَآئِنَۃٍ (খাইনাতিন → বিশ্বাসঘাতকতা)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
قَلِیۡلًا (কালীলান → অল্প কয়েকজন)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
فَاعۡفُ (ফা‘ফু → অতএব ক্ষমা করো)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদেরকে)
وَاصۡفَحۡ (ওয়াসফাহ → এবং উপেক্ষা করো/ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল মুহসিনীন → সৎকর্মপরায়ণদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করার কারণে আমরা তাদেরকে অভিশপ্ত করেছি এবং তাদের অন্তরগুলো কঠোর করে দিয়েছি। তারা কথাগুলোকে (কালিমাগুলো) তাদের যথাস্থান থেকে বিকৃত করে এবং যে উপদেশ তাদের দেওয়া হয়েছিল তার একটি অংশ তারা উপেক্ষা করেছে। আর তুমি সর্বদা তাদের অধিকাংশের কোনো না কোনো বিশ্বাসঘাতকতার খবর পাবে, তবে তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।


আয়াত-১৪ঃ

وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
قَالُوۡۤا (ক্বা-লূ → বলেছিল)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
نَصٰرٰۤی (নাসারা → সাহায্যকারী /খ্রিস্টান)
اَخَذۡنَا (আখাযনা → আমরা গ্রহণ করেছিলাম)
مِیۡثَاقَہُمۡ (মীছাকাহুম → তাদের অঙ্গীকার)
فَنَسُوۡا (ফানাসূ → অতঃপর তারা ভুলে গেল)
حَظًّا (হাযযান → একটি অংশ)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
ذُکِّرُوۡا (যুক্কিরূ → তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল)
بِہٖ (বিহী → তা দ্বারা)
فَاَغۡرَیۡنَا (ফা-আগরাইনা → ফলে আমরা সৃষ্টি করে দিলাম)
بَیۡنَہُمُ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
الۡعَدَاوَۃَ (আল-‘আদাওয়াতা → শত্রুতা)
وَالۡبَغۡضَآءَ (ওয়াল বাগদা-আ → এবং বিদ্বেষ)
اِلٰی (ইলা → পর্যন্ত)
یَوۡمِ (ইয়াওমি → দিন)
الۡقِیٰمَۃِ (আল-কিয়ামাহ → পরকালের)
وَسَوۡفَ (ওয়া সাওফা → এবং অচিরেই)
یُنَبِّئُہُمُ (ইউনাব্বিউহুম → তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → সে সম্পর্কে যা)
کَانُوۡا (কা-নূ → তারা করত)
یَصۡنَعُوۡنَ (ইয়াসনা’ঊন → তারা সম্পাদন করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা বলেছিল, “আমরা সাহায্যকারী (খ্রিস্টান)”, তাদের থেকেও আমরা অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একটি অংশ তারা ভুলে গেল। ফলে আমরা তাদের মধ্যে পরকাল পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিলাম। আর তারা যা সম্পাদন করে, অচিরেই আল্লাহ তাদের সে সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।


আয়াত-১৫ঃ

یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহল → হে অনুসারীরা)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাবি → কিতাবের)
قَدۡ (ক্বাদ → অবশ্যই)
جَآءَکُمۡ (জা-আকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
رَسُوۡلُنَا (রাসূলুনা → আমাদের রাসূল)
یُبَیِّنُ (ইউবাইয়্যিনু → স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
کَثِیۡرًا (কাছীরান → অনেক কিছু)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تُخۡفُوۡنَ (তুখফূনা → গোপন করতে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাবি → কিতাব)
وَیَعۡفُوۡا (ওয়া ইয়াআ’ফূ → এবং উপেক্ষা করেন)
عَنۡ (আন → থেকে)
کَثِیۡرٍ (কাছীরিন → অনেক বিষয়)
قَدۡ (ক্বাদ → অবশ্যই)
جَآءَکُمۡ (জা-আকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
مِّنَ (মিনা → পক্ষ থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
نُوۡرٌ (নূরুন → আলোকবর্তীকা)
وَّکِتٰبٌ (ওয়া কিতাবুন → এবং এক কিতাব)
مُّبِیۡنٌ (মুবীনুন → সুস্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে কিতাবধারীরা! অবশ্যই তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, যিনি কিতাবের এমন অনেক বিষয় তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যা তোমরা গোপন করতে। আর অনেক বিষয় তিনি উপেক্ষাও করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক আলো/জ্যোতি  এবং এক সুস্পষ্ট লিখিত গ্রন্থ (কিতাব) এসেছে।


আয়াত-১৬ঃ

یَّہۡدِیۡ (ইয়াহদী → পথ প্রদর্শন করেন)
بِہِ (বিহী → এর মাধ্যমে)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مَنِ (মানি → যে ব্যক্তিকে)
اتَّبَعَ (ইত্তাবা‘আ → অনুসরণ করে)
رِضۡوَانَہٗ (রিদওয়ানাহু → তাঁর সন্তুষ্টি)
سُبُلَ (সুবুলা → পথসমূহ)
السَّلٰمِ (আস-সালামি → শান্তির)
وَیُخۡرِجُہُمۡ (ওয়া ইউখরিজুহুম → এবং তিনি তাদের বের করে আনেন)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الظُّلُمٰتِ (আয-যুলুমাতি → অন্ধকারসমূহ)
اِلَی (ইলা → দিকে)
النُّوۡرِ (আন-নূরি → আলোর)
بِاِذۡنِہٖ (বি-ইযনিহী → তাঁর অনুমতিতে)
وَیَہۡدِیۡہِمۡ (ওয়া ইয়াহদীহিম → এবং তিনি তাদের পথ দেখান)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
صِرَاطٍ (সিরাতিন → পথ)
مُّسۡتَقِیۡمٍ (মুস্তাকীমিন → সরল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ এর মাধ্যমে তাদেরকে শান্তির পথসমূহে পরিচালিত করেন, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে। তিনি নিজ অনুমতিতে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।


আয়াত-১৭ঃ

لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
کَفَرَ (কাফারা → অবিশ্বাস করেছে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
قَالُوۡۤا (ক্বা-লূ → বলেছে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
ہُوَ (হুওয়া → তিনিই)
الۡمَسِیۡحُ (আল-মাসীহু → মনোনিত ব্যক্তি)
ابۡنُ (ইবনু → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
قُلۡ (কুল → বলুন)
فَمَنۡ (ফামান → তবে কে)
یَّمۡلِکُ (ইয়ামলিকু → ক্ষমতা রাখে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
اِنۡ (ইন → যদি)
اَرَادَ (আরা-দা → তিনি ইচ্ছা করেন)
اَنۡ (আন → যে)
یُّہۡلِکَ (ইউহলিকা → ধ্বংস করতে)
الۡمَسِیۡحَ (আল-মাসীহা → মনোনিত ব্যক্তিকে)
ابۡنَ (ইবনা → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
وَاُمَّہٗ (ওয়া উম্মাহু → এবং তাঁর মাতাকে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যারা)
فِی (ফী → আছে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবীতে)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সবাইকে)
وَلِلّٰہِ (ওয়া লিল্লাহি → আর আল্লাহরই)
مُلۡکُ (মুলকু → সার্বভৌম কর্তৃত্ব)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা কিছু)
بَیۡنَہُمَا (বাইনাহুমা → এ দুটির মাঝখানে)
یَخۡلُقُ (ইয়াখলুকু → তিনি সৃষ্টি করেন)
مَا (মা → যা)
یَشَآءُ (ইয়াশা-উ → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلٰی (আলা → উপর)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইইন → বস্তুর)
قَدِیۡرٌ (ক্বাদীরুন → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করেছে, তারা বলেছে, “আল্লাহই হলেন মারইয়ামের পুত্র মনোনিত ব্যক্তি (মসীহ)।” বলে দাও, মারইয়ামের পুত্র মনোনিত ব্যক্তি (মসীহ), তার মা এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের সকলকে যদি আল্লাহ ধ্বংস করতে চান, তবে কে আছে, যে আল্লাহর বিপরীতে কিছুমাত্র করার ক্ষমতা রাখে? আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এ দুটির মধ্যবর্তী সবকিছুর সার্বভৌম কর্তৃত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।


আয়াত-১৮ঃ

وَقَالَتِ (ওয়া কা-লাতি → এবং বলল)
الۡیَہُوۡدُ (আল-ইয়াহূদু → অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা/ ইয়াহুদিরা)
وَالنَّصٰرٰی (ওয়ান-নাসারা → এবং সাহায্যকারীরা/খ্রিস্টানরা)
نَحۡنُ (নাহনু → আমরা)
اَبۡنٰٓؤُا (আবনা-উ → সন্তান)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَاَحِبَّآؤُہٗ (ওয়া আহিব্বা-উহু → এবং তাঁর প্রিয়জন)
قُلۡ (কুল → বলুন)
فَلِمَ (ফালিমা → তবে কেন)
یُعَذِّبُکُمۡ (ইউ‘আযযিবুকুম → তিনি তোমাদের শাস্তি দেন)
بِذُنُوۡبِکُمۡ (বিযুনূবিকুম → তোমাদের পাপের কারণে)
بَلۡ (বাল → বরং)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
بَشَرٌ (বাশারুন → মানুষ)
مِّمَّنۡ (মিম্মান → তাদের মধ্য থেকে যাদের)
خَلَقَ (খালাকা → তিনি সৃষ্টি করেছেন)
یَغۡفِرُ (ইয়াগফিরু → তিনি ক্ষমা করেন)
لِمَنۡ (লিমান → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশা-উ → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَیُعَذِّبُ (ওয়া ইউ‘আযযিবু → এবং তিনি শাস্তি দেন)
مَنۡ (মান → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশা-উ → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَلِلّٰہِ (ওয়া লিল্লাহি → আর আল্লাহরই)
مُلۡکُ (মুলকু → সার্বভৌম কর্তৃত্ব)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা কিছু)
بَیۡنَہُمَا (বাইনাহুমা → এ দুটির মধ্যবর্তী)
وَاِلَیۡہِ (ওয়া ইলাইহি → এবং তাঁরই দিকে)
الۡمَصِیۡرُ (আল-মাসীরু → প্রত্যাবর্তন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিবর্গরা (ইয়াহুদিরা) ও সাহায্যকারীরা (নাসারারা) বলে, “আমরা আল্লাহর সন্তান এবং তাঁর প্রিয়জন।” বলুন, “তবে তিনি তোমাদের পাপের কারণে কেন তোমাদের শাস্তি দেন?” বরং তোমরা তাঁর সৃষ্ট মানুষেরই অন্তর্ভুক্ত। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এ দুটির মধ্যবর্তী সবকিছুর সার্বভৌম কর্তৃত্ব আল্লাহরই। আর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন।


আয়াত-১৯ঃ

یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহলা → হে অনুসারীরা)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাবি → কিতাবের)
قَدۡ (ক্বাদ → অবশ্যই)
جَآءَکُمۡ (জা-আকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
رَسُوۡلُنَا (রাসূলুনা → আমাদের রাসূল)
یُبَیِّنُ (ইউবাইয়্যিনু → স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَلٰی (আলা → পরে)
فَتۡرَۃٍ (ফাতরাতিন → বিরতি)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الرُّسُلِ (আর-রুসুলি → রাসূলদের)
اَنۡ (আন → যাতে)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → তোমরা বলতে না পারো)
مَا (মা → যে)
جَآءَنَا (জা-আনা → আমাদের কাছে এসেছে)
مِنۡۢ (মিন → কোনো)
بَشِیۡرٍ (বাশীরিন → সুসংবাদদাতা)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَذِیۡرٍ (নাযীরিন → সতর্ককারী)
فَقَدۡ (ফাকাদ → অতএব অবশ্যই)
جَآءَکُمۡ (জা-আকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
بَشِیۡرٌ (বাশীরুন → একজন সুসংবাদদাতা)
وَّنَذِیۡرٌ (ওয়া নাযীরুন → এবং একজন সতর্ককারী)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلٰی (আলা → উপর)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইইন → বস্তুর)
قَدِیۡرٌ (ক্বাদীরুন → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে কিতাবধারীরা! রাসূলদের আগমনের বিরতির পর তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, যিনি তোমাদের জন্য সত্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা বলতে না পারো, “আমাদের কাছে কোনো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসেনি।” অতএব, নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসেছেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।


আয়াত-২০ঃ

وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
قَالَ (কা-লা → বলেছিলেন)
مُوۡسٰی (মূসা → মূসা)
لِقَوۡمِہٖ (লিকাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়কে)
یٰقَوۡمِ (ইয়া কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়!)
اذۡکُرُوۡا (ইযকুরূ → স্মরণ করো)
نِعۡمَۃَ (নি‘মাতা → অনুগ্রহ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
اِذۡ (ইয → যখন)
جَعَلَ (জা‘আলা → তিনি বানিয়েছিলেন)
فِیۡکُمۡ (ফীকুম → তোমাদের মধ্যে)
اَنۡۢبِیَآءَ (আম্বিয়া-আ → নবীগণ)
وَجَعَلَکُمۡ (ওয়া জা‘আলাকুম → এবং তোমাদের বানিয়েছিলেন)
مُّلُوۡکًا (মুলূকান → স্বাধীন অধিপতি)
وَّاٰتٰىکُمۡ (ওয়া আ-তা-কুম → এবং তোমাদের দিয়েছিলেন)
مَّا (মা → যা)
لَمۡ (লাম → না)
یُؤۡتِ (ইউ’তি → দিয়েছেন)
اَحَدًا (আহাদান → কাউকে)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الۡعٰلَمِیۡنَ (আল-‘আলামীন → সৃষ্টিজগতের লোকদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবীগণকে প্রেরণ করেছিলেন, তোমাদেরকে স্বাধীন অধিপতি বানিয়েছিলেন এবং তোমাদের এমন কিছু দিয়েছিলেন, যা সৃষ্টিজগতের আর কাউকেই দেননি।”


আয়াত-২১ঃ

یٰقَوۡمِ (ইয়া কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়!)
ادۡخُلُوا (উদখুলূ → তোমরা প্রবেশ করো)
الۡاَرۡضَ (আল-আরদা → ভূমিতে)
الۡمُقَدَّسَۃَ (আল-মুকাদ্দাসাতা → পবিত্র)
الَّتِیۡ (আল্লাতী → যা)
کَتَبَ (কাতাবা → নির্ধারণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَرۡتَدُّوۡا (তারতাদ্দূ → তোমরা ফিরে যেও)
عَلٰۤی (আলা → উপর)
اَدۡبَارِکُمۡ (আদবারিকুম → তোমাদের পেছনের দিকে)
فَتَنۡقَلِبُوۡا (ফাতানকালিবূ → তাহলে তোমরা ফিরে যাবে)
خٰسِرِیۡنَ (খাসিরীন → ক্ষতিগ্রস্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
“হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর তোমরা পেছনের দিকে ফিরে যেও না; তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে।”


আয়াত-২২ঃ

قَالُوۡا (কা-লূ → তারা বলল)
یٰمُوۡسٰۤی (ইয়া মূসা → হে মূসা!)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
قَوۡمًا (কাওমান → এক সম্প্রদায়)
جَبَّارِیۡنَ (জাব্বারীনা → অত্যন্ত শক্তিশালী)
وَاِنَّا (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই আমরা)
لَنۡ (লান → কখনোই না)
نَّدۡخُلَہَا (নাদখুলাহা → সেখানে প্রবেশ করব)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَخۡرُجُوۡا (ইয়াখরুজূ → তারা বের হয়ে যায়)
مِنۡہَا (মিনহা → সেখান থেকে)
فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
یَّخۡرُجُوۡا (ইয়াখরুজূ → তারা বের হয়ে যায়)
مِنۡہَا (মিনহা → সেখান থেকে)
فَاِنَّا (ফা-ইন্না → তবে নিশ্চয়ই আমরা)
دٰخِلُوۡنَ (দাখিলূন → প্রবেশ করব)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলল, “হে মূসা! সেখানে এক দুর্ধর্ষ/শক্তিশালী জাতি রয়েছে। তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না। তবে যদি তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই আমরা সেখানে প্রবেশ করব।”


আয়াত-২৩ঃ

قَالَ (কা-লা → বলল)
رَجُلٰنِ (রাজুলা-নি → দুইজন ব্যক্তি)
مِنَ الَّذِیۡنَ (মিনাল্লাযীনা → তাদের মধ্য থেকে যারা)
یَخَافُوۡنَ (ইয়াখা-ফূনা → ভয় করত)
اَنۡعَمَ اللّٰہُ (আন‘আমাল্লা-হু → আল্লাহ কল্যাণ দান করেছিলেন)
عَلَیۡہِمَا (আলাইহিমা → তাদের উভয়ের প্রতি)
ادۡخُلُوۡا (উদখুলূ → তোমরা প্রবেশ করো)
عَلَیۡہِمُ (আলাইহিমু → তাদের দিকে)
الۡبَابَ (আল-বা-বা → প্রবেশদ্বার)
فَاِذَا (ফাইযা → অতঃপর যখন)
دَخَلۡتُمُوۡہُ (দাখালতুমূহু → তোমরা তাতে প্রবেশ করবে)
فَاِنَّکُمۡ (ফাইন্নাকুম → তবে নিশ্চয়ই তোমরা)
غٰلِبُوۡنَ (গা-লিবূন → বিজয়ী হবে)
وَعَلَی اللّٰہِ (ওয়া ‘আলাল্লা-হি → আর আল্লাহর ওপরই)
فَتَوَکَّلُوۡۤا (ফাতাওয়াক্কালূ → তোমরা ভরসা করো)
اِنۡ (ইন → যদি)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হয়ে থাকো)
مُّؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাদের প্রতি কল্যাণ দান করেছিলেন এবং যারা আল্লাহকে ভয় করত—এমন দুই ব্যক্তি বলল, “তোমরা তাদের দিকে প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করো। যখন তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে, তখন অবশ্যই তোমরা বিজয়ী হবে। আর যদি তোমরা সত্যিই দৃঢ় বিশ্বাসী (মুমিন) হও, তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা করো।”


আয়াত-২৪ঃ

قَالُوۡا (কা-লূ → তারা বলল)
یٰمُوۡسٰۤی (ইয়া মূসা → হে মূসা)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
لَنۡ (লান → কখনোই না)
نَّدۡخُلَہَاۤ (নাদখুলাহা → সেখানে প্রবেশ করব)
اَبَدًا (আবাদান → কখনোই)
مَّا (মা → যতক্ষণ)
دَامُوۡا (দা-মূ → তারা অবস্থান করবে)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
فَاذۡہَبۡ (ফাযহাব → সুতরাং তুমি যাও)
اَنۡتَ (আনতা → তুমি)
وَرَبُّکَ (ওয়া রাব্বুকা → এবং তোমার প্রতিপালক)
فَقَاتِلَاۤ (ফাকা-তিলা → অতঃপর তোমরা দুজন যুদ্ধ করো)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
ہٰہُنَا (হা-হুনা → এখানেই)
قٰعِدُوۡنَ (কা-‘ইদূন → বসে থাকব)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলল, “হে মূসা! যতক্ষণ তারা সেখানে অবস্থান করছে, ততক্ষণ আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না। সুতরাং তুমি ও তোমার প্রতিপালক সেখানে যাও এবং তোমরা দুজনে যুদ্ধ করো। আমরা তো এখানেই বসে থাকব।”


আয়াত-২৫ঃ

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
لَاۤ اَمۡلِکُ (লা আমলিকু → কোনো ক্ষমতা রাখি না)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
نَفۡسِیۡ (নাফসী → আমার নিজের)
وَاَخِیۡ (ওয়া আখী → এবং আমার ভাইয়ের)
فَافۡرُقۡ (ফাফরুক → অতএব পৃথক করে দিন)
بَیۡنَنَا (বাইনানা → আমাদের মধ্যে)
وَبَیۡنَ (ওয়া বাইনা → এবং)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সেই সম্প্রদায়ের)
الۡفٰسِقِیۡنَ (আল-ফা-সিকীন → অবাধ্য লোকদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের এবং আমার ভাই ছাড়া আর কারও উপর কোনো ক্ষমতা রাখি না। অতএব, আমাদের এবং এই অবাধ্য সম্প্রদায়কে পৃথক করে দিন।”