সূরা আল আ’রাফ (الأعراف) | উচু স্থানসমূহ
মাক্কী সুরা মোট আয়াতঃ ২০৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-০১ঃ
الٓـمّٓصٓ ( আলিফ লাম মীম সা দ )
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আলিফ-লাম-মীম-সাদ।
আয়াত-০২ঃ
كِتَابٌ (কিতাবুন → বিধান গ্রন্থ)
أُنزِلَ (উনযিলা → অবতীর্ণ করা হয়েছে)
إِلَيْكَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
يَكُنْ (ইয়াকুন → যেন না থাকে)
فِي (ফী → মধ্যে)
صَدْرِكَ (সাদরিকা → তোমার বক্ষ/অন্তর)
حَرَجٌ (হারাজুন → সংকোচ)
مِنْهُ (মিনহু → এ থেকে)
لِتُنذِرَ (লিতুনযিরা → যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো)
بِهِ (বিহী → এর মাধ্যমে)
وَذِكْرَى (ওয়া যিকরা → এবং স্মরণিকা)
لِلْمُؤْمِنِينَ (লিল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের জন্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটি একটি কিতাব (বিধানগ্রন্থ), যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে। তাই এ সম্পর্কে তোমার অন্তরে কোনো সংকোচ যেন না থাকে। যাতে তুমি এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারো এবং এটি একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের জন্য একটি স্মরণিকা (যিকির)।
আয়াত-০৩ঃ
اِتَّبِعُوۡا (ইত্তাবি‘ঊ → অনুসরণ করো)
مَا (মা → যা)
اُنزِلَ (উনযিলা → অবতীর্ণ করা হয়েছে)
اِلَيۡكُمۡ (ইলাইকুম → তোমাদের প্রতি)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَتَّبِعُوا (তাত্তাবি‘ঊ → অনুসরণ করো)
مِنۡ (মিন → ব্যতীত)
دُونِهِۦ (দূনিহী → তাঁকে বাদ দিয়ে)
أَوۡلِيَآءَ (আওলিয়াআ → অভিভাবক)
قَلِيلًا (কালীলান → অল্পই)
مَا (মা → কত সামান্য)
تَذَكَّرُونَ (তাযাক্কারূন → স্মরণ করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা-ই অনুসরণ করো। আর তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই শিক্ষা গ্রহণ করো / স্মরণ করো।
আয়াত-০৪ঃ
وَكَمۡ (ওয়া কাম → কতই না)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
قَرۡيَةٍ (কারইয়াতিন → জনপদ)
أَهۡلَكۡنَٰهَا (আহলাকনাহা → আমরা ধ্বংস করেছি)
فَجَآءَهَا (ফাজাআহা → অতঃপর এসে পৌঁছল তার কাছে)
بَأۡسُنَا (বা’ছুনা → আমাদের শাস্তি)
بَيَٰتًا (বাইয়াতান → রাতের বেলায়)
أَوۡ (আও → অথবা)
هُمۡ (হুম → তারা)
قَآئِلُونَ (কাইলূন → দুপুরের বিশ্রামে থাকা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কতই না জনপদ আমরা ধ্বংস করেছি! অতঃপর তাদের ওপর আমাদের শাস্তি এসে পৌঁছেছিল রাতের বেলায় অথবা যখন তারা দুপুরে বিশ্রাম করছিল।
আয়াত-০৫ঃ
فَمَا (ফামা → অতঃপর না)
كَانَ (কানা → ছিল)
دَعۡوَىٰهُمۡ (দা‘ওয়াহুম → তাদের আর্তনাদ)
إِذۡ (ইয → যখন)
جَآءَهُمۡ (জাআহুম → তাদের কাছে এসে পৌঁছল)
بَأۡسُنَا (বা’ছুনা → আমাদের শাস্তি)
إِلَّآ (ইল্লা → ব্যতীত)
أَنۡ (আন → যে)
قَالُوٓا (কালূ → তারা বলল)
إِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
كُنَّا (কুন্না → ছিলাম)
ظَٰلِمِينَ (জালিমীন → অত্যাচারী/ জালিম)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যখন তাদের ওপর আমাদের শাস্তি এসে পৌঁছল, তখন তাদের আর্তনাদ ছিল শুধু এই যে, “নিশ্চয়ই আমরা সীমালঙ্ঘনকারী (জালিম) ছিলাম।”
আয়াত-০৬ঃ
فَلَنَسۡـَٔلَنَّ (ফালানাসআলান্না → অবশ্যই আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
أُرۡسِلَ (উরসিলা → প্রেরিত হয়েছিল)
إِلَيۡهِمۡ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
وَلَنَسۡـَٔلَنَّ (ওয়া লানাসআলান্না → এবং অবশ্যই আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব)
الۡمُرۡسَلِينَ (আল-মুরসালীন → প্রেরিত রাসূলগণ / বার্তাবাহকগণ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর অবশ্যই আমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব, যাদের কাছে রাসূল (বার্তাবাহক) প্রেরিত হয়েছিল এবং অবশ্যই আমরা প্রেরিত রাসূলদেরও (বার্তাবাহকদেরও) জিজ্ঞাসাবাদ করব।
আয়াত-০৭ঃ
فَلَنَقُصَّنَّ (ফালানাকুসসান্না → অবশ্যই আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করব)
عَلَيۡهِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের কাছে)
بِعِلۡمٍ (বি‘ইলমিন → জ্ঞানের সঙ্গে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
كُنَّا (কুন্না → আমরা ছিলাম)
غَآئِبِينَ (গাইবীন → অনুপস্থিত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর অবশ্যই আমরা পূর্ণ জ্ঞানের সঙ্গে তাদের কাছে সবকিছু বিস্তারিত বর্ণনা করব। আর আমরা কখনোই অনুপস্থিত ছিলাম না।
আয়াত-০৮ঃ
وَالۡوَزۡنُ (ওয়াল-ওয়াজনু → ওজন / পরিমাপ)
يَوۡمَئِذٍ (ইয়াওমাইযিন → সেদিন)
الۡحَقُّ (আল-হাক্কু → ন্যায়সঙ্গত)
فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
ثَقُلَتۡ (ছাকুলাত → ভারী হবে)
مَوَازِينُهُ (মাওয়াযীনুহু → তার পাল্লাসমূহ)
فَأُوْلٰٓئِكَ (ফাউলাইকা → তারাই)
هُمُ (হুম → তারাই)
الۡمُفۡلِحُونَ (আল-মুফলিহূন → সফলকাম)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সেদিন ওজন (বিচারের পরিমাপ) হবে ন্যায়ের ভিত্তিতে। অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।
আয়াত-০৯ঃ
وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যে)
خَفَّتۡ (খাফফাত → হালকা হবে)
مَوَازِينُهُ (মাওয়াযীনুহু → তার পাল্লাসমূহ)
فَأُوْلٰٓئِكَ (ফাউলাইকা → তারাই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
خَسِرُوٓا (খাসিরূ → ক্ষতিগ্রস্ত করেছে)
أَنفُسَهُم (আনফুসাহুম → নিজেদের)
بِمَا (বিমা → কারণ)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
بِـَٔايَاتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহের প্রতি)
يَظۡلِمُونَ (ইয়াযলিমূন → অবিচার করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যার পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের (নিদর্শনসমূহের) প্রতি অবিচার করত।
আয়াত-১০ঃ
وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → এবং অবশ্যই)
مَكَّنّٰكُمۡ (মাক্কান্নাকুম → তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছি)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡأَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
وَجَعَلۡنَا (ওয়া জা‘আলনা → এবং আমরা তৈরি করেছি)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
مَعَايِشَ (মা‘আয়িশা → জীবনধারণের ব্যবস্থা)
قَلِيلًا (কালীলান → অল্পই)
مَا (মা → কতই না)
تَشۡكُرُونَ (তাশকুরূন → তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অবশ্যই আমরা তোমাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং সেখানে তোমাদের জন্য জীবনধারণের উপকরণ ব্যবস্থা করেছি। অথচ তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
আয়াত-১১ঃ
وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → এবং অবশ্যই)
خَلَقۡنٰكُمۡ (খালাকনাকুম → আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
صَوَّرۡنٰكُمۡ (সাওওয়ারনাকুম → তোমাদের আকৃতি দিয়েছি)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
قُلۡنَا (কুলনা → আমরা বললাম)
لِلۡمَلٰٓئِكَةِ (লিল-মালাইকাতি → ফেরেশতাদের)
اسۡجُدُوا (উসজুদূ → মান্য করো)
لِـَٔادَمَ (লি-আদামা → আদমকে)
فَسَجَدُوٓا (ফাসাজাদূ → অতঃপর তারা মান্য করল)
إِلَّآ (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
إِبۡلِيسَ (ইবলীসা → ইবলীস)
لَمۡ (লাম → না)
يَكُنۡ (ইয়াকুন → ছিল)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
السَّاجِدِينَ (আস-সাজিদীন → মান্যকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অবশ্যই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের আকৃতি দিয়েছি। অতঃপর আমরা ফেরেশতাদের বললাম, “আদমকে মান্য করো।” তখন তারা সবাই মান্য করল, কিন্তু ইবলীস ব্যতীত; সে মান্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
আয়াত-১২ঃ
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
مَا (মা → কী)
مَنَعَكَ (মানা‘আকা → তোমাকে বাধা দিল)
أَلَّا (আল্লা → যে না)
تَسۡجُدَ (তাসজুদা → মান্য করো)
إِذۡ (ইয → যখন)
أَمَرۡتُكَ (আমারতুকা → আমি তোমাকে আদেশ করেছিলাম)
قَالَ (ক্বালা → সে বলল)
أَنَا (আনা → আমি)
خَيۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
مِّنۡهُ (মিনহু → তার থেকে)
خَلَقۡتَنِي (খালাকতানী → আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন)
مِن (মিন → থেকে)
نَّارٍ (নারিন → আগুন)
وَّخَلَقۡتَهُ (ওয়া খালাকতাহু → আর আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন)
مِن (মিন → থেকে)
طِينٍ (ত্বীনিন → মাটি)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “আমি যখন তোমাকে আদেশ করলাম, তখন কী তোমাকে মান্য করতে বাধা দিল?” সে বলল, “আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”
আয়াত-১৩ঃ
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
فَاهۡبِطۡ (ফাহবিত → নেমে যাও/উচ্চ অবস্থান থেকে নিম্ন অবস্থায় নামা)
مِنۡهَا (মিনহা → এখান থেকে)
فَمَا (ফামা → সুতরাং না)
يَكُونُ (ইয়াকূনু → হতে পারে)
لَكَ (লাকা → তোমার জন্য)
أَن (আন → যে)
تَتَكَبَّرَ (তাতাকাব্বারা → অহংকার করো)
فِيهَا (ফীহা → এখানে)
فَاخۡرُجۡ (ফাখরুজ → অতএব বের হয়ে যাও)
إِنَّكَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই তুমি)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الصَّاغِرِينَ (আস-সাগিরীন → লাঞ্ছিতদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “এখান থেকে নেমে যাও। এখানে অহংকার করার কোনো অধিকার তোমার নেই। অতএব বের হয়ে যাও। নিশ্চয়ই তুমি লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।”
আয়াত-১৪ঃ
قَالَ (ক্বালা → সে বলল)
أَنظِرۡنِي (আনজিরনী → আমাকে অবকাশ দিন)
إِلَى (ইলা → পর্যন্ত)
يَوۡمِ (ইয়াওমি → দিন)
يُبۡعَثُونَ (ইউব‘আছূন → তাদের পুনরুত্থিত করা হবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সে বলল, “আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যেদিন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।”
আয়াত-১৫ঃ
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
إِنَّكَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই তুমি)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُنظَرِينَ (আল-মুনযারীন → অবকাশপ্রাপ্তদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।”
আয়াত-১৬ঃ
قَالَ (ক্বালা → সে বলল)
فَبِمَا (ফাবিমা → অতঃপর যেহেতু)
أَغۡوَيۡتَنِي (আগওয়াইতানী → আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট হতে দিলেন)
لَأَقۡعُدَنَّ (লা-আক‘উদান্না → আমি অবশ্যই বসে থাকব / ওত পেতে থাকব)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
صِرَاطَكَ (সিরাতাকা → আপনার পথ)
الۡمُسۡتَقِيمَ (আল-মুস্তাকীম → সরল)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সে বলল, “যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট হতে দিলেন, আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব।”
আয়াত-১৭ঃ
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
لَأٓتِيَنَّهُمۡ (লা-আতিয়ান্নাহুম → আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসব)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
بَيۡنِ (বাইনি → মাঝখানে)
أَيۡدِيهِمۡ (আইদীহিম → তাদের সম্মুখে)
وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং থেকে)
خَلۡفِهِمۡ (খালফিহিম → তাদের পেছনে)
وَعَنۡ (ওয়া ‘আন → এবং দিক থেকে)
أَيۡمَانِهِمۡ (আইমানিহিম → তাদের ডান দিক)
وَعَنۡ (ওয়া ‘আন → এবং দিক থেকে)
شَمَآئِلِهِمۡ (শামা’ইলিহিম → তাদের বাম দিক)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَجِدُ (তাজিদু → আপনি পাবেন)
أَكۡثَرَهُمۡ (আকছারাহুম → তাদের অধিকাংশকে)
شَاكِرِينَ (শাকিরীন → কৃতজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের মধ্য হতে, তাদের সামনে, তাদের পেছনে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে এসে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করব। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে শুকরিয়াকারী (কৃতজ্ঞ) পাবেন না।
আয়াত-১৮ঃ
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اخۡرُجۡ (উখরুজ → বের হয়ে যাও)
مِنۡهَا (মিনহা → এখান থেকে)
مَذۡءُومًا (মাযঊমান → নিন্দিত অবস্থায়)
مَّدۡحُورًا (মাদহূরান → বিতাড়িত অবস্থায়)
لَمَنۡ (লামান → অবশ্যই যে)
تَبِعَكَ (তাবি‘আকা → তোমাকে অনুসরণ করবে)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
لَأَمۡلَأَنَّ (লা-আমলাআন্না → আমি অবশ্যই পূর্ণ করব)
جَهَنَّمَ (জাহান্নামা → জাহান্নাম)
مِنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের দ্বারা)
أَجۡمَعِينَ (আজমা‘ঈন → সবাইকে / সকলকে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “এখান থেকে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও। তাদের মধ্য থেকে যে-ই তোমাকে অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।”
আয়াত-১৯ঃ
وَ (ওয়া → এবং)
يَٰٓـَٔادَمُ (ইয়া-আদামু → হে আদম)
اسۡكُنۡ (উসকুন → বসবাস করো)
أَنتَ (আনতা → তুমি)
وَزَوۡجُكَ (ওয়া যাওজুকা → এবং তোমার সঙ্গিনী)
الۡجَنَّةَ (আল-জান্নাতা → উদ্যান / বাগান)
فَكُلَا (ফাকুলা → অতঃপর তোমরা উভয়ে খাও)
مِنۡ (মিন → থেকে)
حَيۡثُ (হাইসু → যেখান থেকে)
شِئۡتُمَا (শি’তুমা → তোমরা উভয়ে ইচ্ছা করো)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقۡرَبَا (তাকরাবা → তোমরা উভয়ে কাছে যেও)
هَٰذِهِ (হাযিহি → এই)
الشَّجَرَةَ (আশ-শাজারাতা → বৃক্ষ)
فَتَكُونَا (ফাতাকূনা → তাহলে তোমরা উভয়ে হয়ে যাবে)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الظَّالِمِينَ (আয-যালিমীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের / জালিমদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী এই উদ্যানে বসবাস করো। অতঃপর যেখান থেকে ইচ্ছা তোমরা উভয়ে আহার করো। কিন্তু এই বৃক্ষের কাছে যেও না; তাহলে তোমরা উভয়ে জালিমদের (সীমালঙ্ঘনকারীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আয়াত-২০ঃ
فَوَسۡوَسَ (ফাওয়াসওয়াসা → অতঃপর কুমন্ত্রণা দিল)
لَهُمَا (লাহুমা → তাদের উভয়কে)
الشَّيۡطَانُ (আশ-শাইতানু → কুমন্ত্রণাদাতা/ বিপথগামী প্ররোচনাকারী)
لِيُبۡدِيَ (লিইউবদিয়া → যেন প্রকাশ করে)
لَهُمَا (লাহুমা → তাদের উভয়ের কাছে)
مَا (মা → যা)
وُورِيَ (ঊরিয়া → গোপন রাখা হয়েছিল)
عَنۡهُمَا (আনহুমা → তাদের উভয়ের থেকে)
مِن (মিন → থেকে)
سَوۡءَاتِهِمَا (সাওআতিহিমা → তাদের লজ্জাস্থান / গোপন অঙ্গসমূহ)
وَقَالَ (ওয়া ক্বালা → এবং সে বলল)
مَا (মা → কিছুই না)
نَهَىٰكُمَا (নাহাকুমা → নিষেধ করেছেন তোমাদের উভয়কে)
رَبُّكُمَا (রাব্বুকুমা → তোমাদের উভয়ের প্রতিপালক)
عَنۡ (আন → থেকে)
هَٰذِهِ (হাযিহি → এই)
الشَّجَرَةِ (আশ-শাজারাতি → বৃক্ষ)
إِلَّا (ইল্লা → কেবল এই কারণে যে)
أَن (আন → যাতে)
تَكُونَا (তাকূনা → তোমরা উভয়ে হয়ে যাও)
مَلَكَيۡنِ (মালাকাইনি → দুই ফেরেশতা)
أَوۡ (আও → অথবা)
تَكُونَا (তাকূনা → তোমরা উভয়ে হয়ে যাও)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡخَٰلِدِينَ (আল-খালিদীন → চিরস্থায়ী অবস্থানকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) তাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের উভয়ের কাছে তাদের যে লজ্জাস্থান গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ পেয়ে যায়। আর সে বলল, “তোমাদের প্রতিপালক এই বৃক্ষের কাছে যেতে তোমাদের উভয়কে কেবল এ কারণেই নিষেধ করেছেন যে, তোমরা যেন দুই ফেরেশতা না হয়ে যাও অথবা চিরস্থায়ী অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাও।”
আয়াত-২১ঃ
وَقَاسَمَهُمَا (ওয়া কাসামাহুমা → এবং সে তাদের উভয়ের কাছে শপথ করল)
إِنِّي (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
لَكُمَا (লাকুমা → তোমাদের উভয়ের জন্য)
لَمِنَ (লামিনা → অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত)
النَّاصِحِينَ (আন-নাসিহীন → আন্তরিক শুভাকাঙ্ক্ষীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর সে তাদের উভয়ের কাছে শপথ করে বলল, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের আন্তরিক শুভাকাঙ্ক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত।”
আয়াত-২২ঃ
فَدَلَّىٰهُمَا (ফাদাল্লাহুমা → অতঃপর সে তাদের উভয়কে প্রলুব্ধ করল)
بِغُرُورٍ (বিগুরূরিন → প্রতারণার মাধ্যমে)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
ذَاقَا (যাকা → তারা উভয়ে আস্বাদন করল)
الشَّجَرَةَ (আশ-শাজারাতা → বৃক্ষ)
بَدَتۡ (বাদাত → প্রকাশ পেল)
لَهُمَا (লাহুমা → তাদের উভয়ের কাছে)
سَوۡءَاتُهُمَا (সাওআতুহুমা → তাদের উভয়ের লজ্জাস্থান / গোপন অঙ্গসমূহ)
وَطَفِقَا (ওয়া তাফিকা → এবং তারা উভয়ে শুরু করল)
يَخۡصِفَانِ (ইয়াখসিফানি → জোড়া লাগাতে / ঢাকতে)
عَلَيۡهِمَا (আলাইহিমা → নিজেদের ওপর)
مِن (মিন → থেকে)
وَرَقِ (ওয়ারাকি → পাতা)
الۡجَنَّةِ (আল-জান্নাতি → উদ্যানের)
وَنَادَىٰهُمَا (ওয়া নাদাহুমা → এবং তিনি তাদের উভয়কে আহ্বান করলেন)
رَبُّهُمَا (রাব্বুহুমা → তাদের উভয়ের প্রতিপালক)
أَلَمۡ (আলাম → আমি কি না?)
أَنۡهَكُمَا (আনহাকুমা → নিষেধ করেছিলাম তোমাদের উভয়কে)
عَن (আন → থেকে)
تِلۡكُمَا (তিলকুমা → সেই)
الشَّجَرَةِ (আশ-শাজারাতি → বৃক্ষ)
وَأَقُل (ওয়া আকুল → এবং বলিনি কি)
لَّكُمَا (লাকুমা → তোমাদের উভয়কে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الشَّيۡطَانَ (আশ-শাইতানা → কুমন্ত্রণাদাতা / বিপথগামী প্ররোচনাকারী)
لَكُمَا (লাকুমা → তোমাদের উভয়ের জন্য)
عَدُوٌّ (আদুওউন → প্রকাশ্য শত্রু)
مُّبِينٌ (মুবীন → সুস্পষ্ট / স্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর সে তাদের উভয়কে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করল। যখন তারা উভয়ে সেই বৃক্ষের স্বাদ আস্বাদন করল, তখন তাদের উভয়ের লজ্জাস্থান/গোপন অঙ্গসমূহ প্রকাশ পেল এবং তারা উদ্যানের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢাকতে শুরু করল। তখন তাদের উভয়ের প্রতিপালক তাদের আহ্বান করে বললেন, “আমি কি তোমাদের উভয়কে সেই বৃক্ষের স্বাদ আস্বাদন করতে নিষেধ করিনি? আর বলিনি যে, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু?”
আয়াত-২৩ঃ
قَالَا (ক্বালা → তারা বলল)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
ظَلَمۡنَا (যালামনা → নিজের প্রতি জুলুম করেছি)
أَنفُسَنَا (আনফুসানা → আমাদের নিজেদের)
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
لَّمۡ (লাম → না)
تَغۡفِرۡ (তাগফির → আপনি ক্ষমা করেন)
لَنَا (লানা → আমাদের)
وَتَرۡحَمۡنَا (ওয়া তারহামনা → এবং আমাদের প্রতি দয়া করেন)
لَنَكُونَنَّ (লানাকূনান্না → তবে আমরা অবশ্যই হয়ে যাব)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡخَاسِرِينَ (আল-খাসিরীন → ক্ষতিগ্রস্তদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা উভয়ে বলল, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় (যুলুম) করেছি। আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।”
আয়াত-২৪ঃ
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اهۡبِطُوا (ইহবিতূ → তোমরা নেমে যাও/উচ্চ অবস্থা থেকে নিম্ন অবস্থায় নামা)
بَعۡضُكُمۡ (বা‘দুকুম → তোমাদের একে অপর)
لِبَعۡضٍ (লিবা‘দিন → একে অপরের জন্য)
عَدُوٌّ (আদুওউন → শত্রু)
وَلَكُمۡ (ওয়া লাকুম → এবং তোমাদের জন্য)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡأَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
مُسۡتَقَرٌّ (মুস্তাকাররুন → অবস্থানের স্থান)
وَمَتَاعٌ (ওয়া মাতাউন → এবং ভোগ-উপকরণ)
إِلَىٰ (ইলা → পর্যন্ত)
حِينٍ (হীনিন → নির্ধারিত সময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “তোমরা নেমে যাও (উচ্চ অবস্থা থেকে নিম্ন অবস্থায় নামা)। তোমাদের একে অপরের শত্রু হবে। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থানের স্থান ও ভোগ-উপকরণ থাকবে।”
আয়াত-২৫ঃ
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
فِيهَا (ফীহা → এতে / পৃথিবীতে)
تَحۡيَوۡنَ (তাহইয়াওনা → তোমরা জীবনযাপন করবে)
وَفِيهَا (ওয়া ফীহা → এবং এতে)
تَمُوتُونَ (তামূতূনা → তোমরা মৃত্যুবরণ করবে)
وَمِنۡهَا (ওয়া মিনহা → এবং তা থেকে)
تُخۡرَجُونَ (তুখরাজূন → তোমাদের বের করে আনা হবে / পুনরুত্থিত করা হবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “এতেই (পৃথিবীতে) তোমরা জীবনযাপন করবে, এতেই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং এ থেকেই তোমাদের পুনরুত্থিত করে বের করে আনা হবে।”
