সূরা আল মায়িদাহ (المائدة) | খাদ্য পরিবেশিত দস্তরখান
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ১৭৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-৭৬ঃ
قُلۡ (কুল → বলো)
اَتَعۡبُدُوۡنَ (আতা’বুদূন → তোমরা কি দাসত্ব কর)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُوۡنِ (দূনি → ব্যতীত)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
مَا (মা → এমন কিছুকে, যা)
لَا (লা → না)
یَمۡلِکُ (ইয়ামলিকু → ক্ষমতা রাখে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
ضَرًّا (দাররান → ক্ষতি)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَفۡعًا (নাফ’আন → উপকার)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
ہُوَ (হুওয়া → তিনিই)
السَّمِیۡعُ (আস-সামীউ → সর্বশ্রোতা)
الۡعَلِیۡمُ (আল-‘আলীমু → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বলো, “তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর দাসত্ব (ইবাদত) কর, যা তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? আর আল্লাহই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
আয়াত-৭৭ঃ
قُلۡ (কুল → বলো)
یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহলা → হে অনুসারীরা)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাবি → কিতাবের)
لَا (লা → না)
تَغۡلُوۡا (তাগলূ → সীমা অতিক্রম করো)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
دِیۡنِکُمۡ (দীনিকুম → তোমাদের জীবনব্যবস্থায়)
غَیۡرَ (গাইর → ব্যতীত)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্য)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَتَّبِعُوۡۤا (তাত্তাবিউ → অনুসরণ করো)
اَہۡوَآءَ (আহওয়া’আ → প্রবৃত্তি/খেয়াল-খুশি)
قَوۡمٍ (কাওমিন → এক সম্প্রদায়ের)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
ضَلُّوۡا (দাল্লূ → পথভ্রষ্ট হয়েছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلُ (কাবলু → পূর্বেই)
وَاَضَلُّوۡا (ওয়া আদাল্লূ → এবং পথভ্রষ্ট করেছে)
کَثِیۡرًا (কাসীরান → অনেককে)
وَّضَلُّوۡا (ওয়া দাল্লূ → এবং তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে)
عَنۡ (আন → থেকে)
سَوَآءِ (সাওয়াই → সঠিক)
السَّبِیۡلِ (আস-সাবীলি → পথ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বলো, “হে কিতাবের অনুসারীরা! তোমরা তোমাদের জীবনব্যবস্থায় অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না। আর এমন এক সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বেই পথভ্রষ্ট হয়েছে, অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং নিজেরাও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।”
আয়াত-৭৮ঃ
لُعِنَ (লু’ইনা → অভিশপ্ত হয়েছে/দূরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَنِیۡۤ (বানী → সন্তানদের)
اِسۡرَآءِیۡلَ (ইসরাঈলা → ইসরাঈলের)
عَلٰی (আলা → মাধ্যমে)
لِسَانِ (লিসানি → জিহ্বা/বাণীর)
دَاوٗدَ (দাউদা → দাউদ)
وَعِیۡسَی (ওয়া ঈসা → এবং ঈসা)
ابۡنِ (ইবনি → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
بِمَا (বিমা → এ কারণে যে)
عَصَوۡا (আসাও → তারা অবাধ্য হয়েছিল)
وَّکَانُوۡا (ওয়া কানূ → এবং তারা ছিল)
یَعۡتَدُوۡنَ (ইয়া’তাদূন → সীমালঙ্ঘন করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
ইসরাঈলের সন্তানদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল, তাদের প্রতি দাউদ ও মারইয়ামের পুত্র ঈসার যবাণীতে অভিশপ্ত হয়েছিল। এটি এ কারণে যে তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত।
আয়াত-৭৯ঃ
کَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
لَا (লা → না)
یَتَنَاہَوۡنَ (ইয়াতানাহাওনা → পরস্পরকে বিরত রাখত)
عَنۡ (আন → থেকে)
مُّنۡکَرٍ (মুনকারিন → মন্দ কাজ)
فَعَلُوۡہُ (ফা’আলূহু → যা তারা করত)
لَبِئۡسَ (লাবি’সা → কতই না নিকৃষ্ট)
مَا (মা → যা)
کَانُوۡا (কানূ → তারা)
یَفۡعَلُوۡنَ (ইয়াফ’আলূন → করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা যে মন্দ কাজ করত, তা থেকে একে অপরকে বিরত রাখত না। তারা যা করত, তা কতই না নিকৃষ্ট ছিল।
আয়াত-৮০ঃ
تَرٰی (তারা → তুমি দেখবে)
کَثِیۡرًا (কাসীরান → অনেককে)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
یَتَوَلَّوۡنَ (ইয়াতাওয়াল্লাওনা → তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
لَبِئۡسَ (লাবি’সা → কতই না নিকৃষ্ট)
مَا (মা → যা)
قَدَّمَتۡ (কাদ্দামাত → অগ্রিম পাঠিয়েছে)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
اَنۡفُسُہُمۡ (আনফুসুহুম → তাদের নিজেদের সত্তা)
اَنۡ (আন → যে কারণে)
سَخِطَ (সাখিতা → অসন্তুষ্ট হয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
وَفِی (ওয়া ফী → এবং মধ্যে)
الۡعَذَابِ (আল-‘আযাবি → শাস্তি)
ہُمۡ (হুম → তারা)
خٰلِدُوۡنَ (খালিদূন → স্থায়ীভাবে থাকবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তুমি তাদের মধ্যে অনেককে দেখবে, যারা অবিশ্বাসীদের ঘনিষ্ঠভাবে গ্রহণ করে। তাদের নিজেদের সত্তা তাদের জন্য কতই না নিকৃষ্ট পরিণাম অগ্রে পাঠিয়েছে—ফলে আল্লাহ তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারা শাস্তির মধ্যেই স্থায়ীভাবে থাকবে।
আয়াত-৮১ঃ
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
کَانُوۡا (কানূ → তারা হতো)
یُؤۡمِنُوۡنَ (ইউ’মিনূন → দৃঢ় বিশ্বাস করত)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَالنَّبِیِّ (ওয়ান-নাবিয়্যি → এবং নবীর প্রতি)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাযিল করা হয়েছে)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁর প্রতি)
مَا (মা → তবে না)
اتَّخَذُوۡہُمۡ (ইত্তাখাযূহুম → তারা তাদের ঘনিষ্ঠরূপে গ্রহণ করত)
اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়া’আ → অভিভাবক)
وَلٰکِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
کَثِیۡرًا (কাসীরান → অনেকেই)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
فٰسِقُوۡنَ (ফাসিকূন → অবাধ্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তারা আল্লাহ, নবী এবং তাঁর প্রতি নাযিলকৃত বার্তায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত, তবে তারা অবিশ্বাসীদের অভিভাবক বা ঘনিষ্ঠরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশই অবাধ্য।
আয়াত-৮২ঃ
لَتَجِدَنَّ (লাতাজিদান্না → অবশ্যই তুমি পাবে)
اَشَدَّ (আশাদ্দা → সবচেয়ে প্রবল)
النَّاسِ (আন-নাসি → মানুষের)
عَدَاوَۃً (আদাওয়াতান → শত্রুতা)
لِّلَّذِیۡنَ (লিল্লাযীনা → তাদের প্রতি যারা)
اٰمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
الۡیَہُوۡدَ (আল-ইয়াহূদা → ফিরে আসার দাবিদারদের)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اَشۡرَکُوۡا (আশরাকূ → অংশীদার স্থাপন করেছে)
وَلَتَجِدَنَّ (ওয়ালাতাজিদান্না → এবং অবশ্যই তুমি পাবে)
اَقۡرَبَہُمۡ (আকরাবাহুম → তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকট)
مَّوَدَّۃً (মাওয়াদ্দাতান → ভালোবাসায়)
لِّلَّذِیۡنَ (লিল্লাযীনা → তাদের প্রতি যারা)
اٰمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
قَالُوۡۤا (কালূ → বলে)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
نَصٰرٰی (নাসারা → সাহায্যকারী)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
بِاَنَّ (বি-আন্না → এ কারণে যে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
قِسِّیۡسِیۡنَ (কিস্সীসীনা → ধর্মশিক্ষক)
وَرُہۡبَانًا (ওয়া রুহবানান → গভীর ভীতির উপাসক)
وَّاَنَّہُمۡ (ওয়া আন্নাহুম → এবং তারা)
لَا (লা → না)
یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ (ইয়াস্তাকবিরূন → অহংকার করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অবশ্যই তুমি বিশ্বাসীদের প্রতি মানুষের মধ্যে প্রবল শত্রুতা দেখতে পাবে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসাদের (ইয়াহুদীদের) এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে (শিরককারীদের) তাদের মধ্যে। আর অবশ্যই তুমি বিশ্বাসীদের প্রতি ভালোবাসায় সবচেয়ে নিকট পাবে তাদের, যারা বলে, “আমরা সাহায্যকারী (নাসারা)।” এটি এ কারণে যে, তাদের মধ্যে গভীর ভীতির উপাসক রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না।
আয়াত-৮৩ঃ
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
سَمِعُوۡا (সামি’উ → তারা শোনে)
مَاۤ (মা → যা)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাযিল করা হয়েছে)
اِلَی (ইলা → প্রতি)
الرَّسُوۡلِ (আর-রাসূলি → বার্তাবাহকের)
تَرٰۤی (তারা → তুমি দেখবে)
اَعۡیُنَہُمۡ (আ’ইউনাহুম → তাদের চোখ)
تَفِیۡضُ (তাফীদু → অশ্রুতে ভরে যায়)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الدَّمۡعِ (আদ-দাম’ই → অশ্রু)
مِمَّا (মিম্মা → কারণ তারা যা)
عَرَفُوۡا (আরাফূ → জেনেছে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্য)
یَقُوۡلُوۡنَ (ইয়াকূলূন → তারা বলে)
رَبَّنَاۤ (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
اٰمَنَّا (আমান্না → আমরা বিশ্বাস করেছি)
فَاکۡتُبۡنَا (ফাকতুবনা → অতএব আমাদের লিখে নাও/অন্তর্ভুক্ত করো)
مَعَ (মা’আ → সঙ্গে)
الشّٰہِدِیۡنَ (আশ-শাহিদীন → সাক্ষ্যদানকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তারা, বার্তাবাহকের প্রতি নাযিলকৃত বাণী শোনে, তখন তুমি দেখবে সত্যকে জানতে পারার কারণে তাদের চোখ অশ্রুতে ভরে যায়। তারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস করেছি; অতএব আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও।”
আয়াত-৮৪ঃ
وَمَا (ওয়া মা → আর কী)
لَنَا (লানা → আমাদের)
لَا (লা → না)
نُؤۡمِنُ (নু’মিনু → আমরা বিশ্বাস করি)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
جَآءَنَا (জা’আনা → আমাদের কাছে এসেছে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্য)
وَنَطۡمَعُ (ওয়া নাতমাউ → এবং আমরা আশা করি)
اَنۡ (আন → যে)
یُّدۡخِلَنَا (ইউদখিলানা → তিনি আমাদের প্রবেশ করাবেন)
رَبُّنَا (রাব্বুনা → আমাদের প্রতিপালক)
مَعَ (মা’আ → সঙ্গে)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সম্প্রদায়ের)
الصّٰلِحِیۡنَ (আস-সালিহীন → সৎকর্মপরায়ণদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আমাদের কী হয়েছে যে আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের কাছে আসা সত্যের প্রতি বিশ্বাস করব না? আমরা তো আশা করি, আমাদের প্রতিপালক আমাদের সৎকর্মপরায়ণ সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করবেন।
আয়াত-৮৫ঃ
فَاَثَابَہُمُ (ফা-আছাবাহুম → অতঃপর তিনি তাদের প্রতিদান দিলেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → এজন্য যে)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলেছিল)
جَنّٰتٍ (জান্নাতিন → উদ্যানসমূহ)
تَجۡرِیۡ (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تَحۡتِہَا (তাহতিহা → যার নিচ দিয়ে)
الۡاَنۡہٰرُ (আল-আনহারু → নদীসমূহ)
خٰلِدِیۡنَ (খালিদীনা → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
وَذٰلِکَ (ওয়া যালিকা → আর এটাই)
جَزَآءُ (জাযাউ → প্রতিদান)
الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল-মুহসিনীন → সৎকর্মশীলদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আল্লাহ তাদের এ কথার কারণে এমন উদ্যানসমূহের প্রতিদান দিলেন, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে। আর এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
আয়াত-৮৬ঃ
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
وَکَذَّبُوۡا (ওয়া কাযযাবূ → এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِاٰیٰتِنَاۤ (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
اَصۡحٰبُ (আসহাবু → অধিবাসী)
الۡجَحِیۡمِ (আল-জাহীমি →ভয়ংকর প্রজ্বলিত আগুনের স্থান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা অবিশ্বাস করেছে এবং আমাদের নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তারাই ভয়ংকর প্রজ্বলিত আগুনের স্থানের অধিবাসী।
আয়াত-৮৭ঃ
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
لَا (লা → না)
تُحَرِّمُوۡا (তুহাররিমূ → নিষিদ্ধ করো)
طَیِّبٰتِ (তাইয়্যিবাতি → পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ)
مَاۤ (মা → যা)
اَحَلَّ (আহাল্লা → বৈধ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَعۡتَدُوۡا (তা’তাদূ → সীমালঙ্ঘন করো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَا (লা → না)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُعۡتَدِیۡنَ (আল-মু’তাদীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ বৈধ করেছেন, সেগুলো তোমরা নিজেদের জন্য নিষিদ্ধ করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।
আয়াত-৮৮ঃ
وَکُلُوۡا (ওয়া কুলূ → এবং তোমরা আহার করো)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
رَزَقَکُمُ (রাযাকাকুম → তিনি তোমাদের রিযিক দিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
حَلٰلًا (হালালান → বৈধভাবে)
طَیِّبًا (তাইয়্যিবান → পবিত্র ও উত্তম)
وَّاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং খোদাভীরু হও)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যাঁর)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
بِہٖ (বিহি → তাঁর প্রতি)
مُؤۡمِنُوۡنَ (মু’মিনূন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আল্লাহ তোমাদের যে জীবিকা দিয়েছেন, তা থেকে বৈধ ও পবিত্র জিনিস আহার করো। আর সেই আল্লাহর প্রতি খোদাভীরু হও, যাঁর প্রতি তোমরা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী।
আয়াত-৮৯ঃ
لَا (লা → না)
یُؤَاخِذُکُمُ (ইউআখিযুকুম → তোমাদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِاللَّغۡوِ (বিল-লাগওি → অনর্থক/অসাবধানতাবশত উচ্চারিত)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
اَیۡمَانِکُمۡ (আইমানিকুম → তোমাদের শপথসমূহ)
وَلٰکِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
یُّؤَاخِذُکُمۡ (ইউআখিযুকুম → তোমাদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন)
بِمَا (বিমা → সে বিষয়ে যা)
عَقَّدۡتُّمُ (আক্কাদতুম → তোমরা দৃঢ়ভাবে বাঁধেছ)
الۡاَیۡمَانَ (আল-আইমানা → শপথসমূহকে)
فَکَفَّارَتُہٗ (ফাকাফফারাতুহু → অতএব তার কাফফারা/প্রায়শ্চিত্ত হলো)
اِطۡعَامُ (ইত’আমু → খাদ্য খাওয়ানো)
عَشَرَۃِ (আশারাতি → দশ)
مَسٰکِیۡنَ (মাসাকীনা → অভাবগ্রস্ত মানুষকে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
اَوۡسَطِ (আওসাতি → মধ্যম মানের)
مَا (মা → যা)
تُطۡعِمُوۡنَ (তুত’ইমূন → তোমরা খাওয়াও)
اَہۡلِیۡکُمۡ (আহলীকুম → তোমাদের পরিবারকে)
اَوۡ (আও → অথবা)
کِسۡوَتُہُمۡ (কিসওয়াতুহুম → তাদের পোশাক প্রদান)
اَوۡ (আও → অথবা)
تَحۡرِیۡرُ (তাহরীরু → মুক্ত করে দেওয়া)
رَقَبَۃٍ (রাকাবাতিন → ঘাড় / গ্রীবা/ দাস/দাসীকে)
فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
لَّمۡ (লাম → না)
یَجِدۡ (ইয়াজিদ → সক্ষম হয়/পায়)
فَصِیَامُ (ফাসিয়ামু → তবে রোজা রাখা)
ثَلٰثَۃِ (সালাসাতি → তিন)
اَیَّامٍ (আইয়ামিন → দিন)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটাই)
کَفَّارَۃُ (কাফফারাতু → প্রায়শ্চিত্ত)
اَیۡمَانِکُمۡ (আইমানিকুম → তোমাদের শপথসমূহের)
اِذَا (ইযা → যখন)
حَلَفۡتُمۡ (হালাফতুম → তোমরা শপথ করো)
وَاحۡفَظُوۡۤا (ওয়াহফাযূ → এবং সংরক্ষণ করো)
اَیۡمَانَکُمۡ (আইমানাকুম → তোমাদের শপথসমূহ)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
یُبَیِّنُ (ইউবাইয়িনু → স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اٰیٰتِہٖ (আয়াতিহি → তাঁর নিদর্শনসমূহ)
لَعَلَّکُمۡ (লা’আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشۡکُرُوۡنَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞ হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তোমাদের অনর্থক বা অসাবধানতাবশত উচ্চারিত শপথের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনবেন না। তবে যে শপথ তোমরা দৃঢ়ভাবে করো, তার জন্য তিনি তোমাদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন। এর প্রায়শ্চিত্ত হলো—তোমরা তোমাদের পরিবারকে যে মানের খাবার খাওয়াও, তার মধ্যম মানের খাবার দশজন অভাবগ্রস্ত মানুষকে খাওয়ানো, অথবা তাদের পোশাক প্রদান, অথবা একজন দাসত্বে আবদ্ধ ব্যক্তিকে মুক্ত করে দেওয়া। আর যে তা করতে সক্ষম না হয়, সে তিন দিন সিয়াম (বিরত থাকা) পালন করবে। যখন তোমরা শপথ করো, তখন এটাই তোমাদের শপথের প্রায়শ্চিত্ত। আর তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
আয়াত-৯০ঃ
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
الۡخَمۡرُ (আল-খামরু → নেশাজাতীয় দ্রব্য/আচ্ছাদনকারী/)
وَالۡمَیۡسِرُ (ওয়াল-মাইসিরু → জুয়া)
وَالۡاَنۡصَابُ (ওয়াল-আনসাবু → উপাসনার জন্য স্থাপিত বস্তুসমূহ)
وَالۡاَزۡلَامُ (ওয়াল-আযলামু → ভাগ্যনির্ধারণের তীর)
رِجۡسٌ (রিজসুন → ঘৃণ্য বা কলুষকর বিষয়)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
عَمَلِ (আমালি → কাজ)
الشَّیۡطٰنِ (আশ-শাইতানি → কুমন্ত্রণাদাতার/ শয়তানের)
فَاجۡتَنِبُوۡہُ (ফাজতানিবূহু → সুতরাং তা থেকে দূরে থাকো)
لَعَلَّکُمۡ (লা’আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُوۡنَ (তুফলিহূন → সফল হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীরা! নিশ্চয়ই নেশাজাতীয় দ্রব্য, জুয়া, উপাসনার জন্য স্থাপিত বস্তুসমূহ এবং ভাগ্যনির্ধারণের তীর—এসব কুমন্ত্রণাদাতার (শয়তানের) কাজের ঘৃণ্য বা কলুষিত বিষয়। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।
আয়াত-৯১ঃ
اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
یُرِیۡدُ (ইউরীদু → চায়)
الشَّیۡطٰنُ (আশ-শাইতানু → কুমন্ত্রণাদাত/শয়তান)
اَنۡ (আন → যে)
یُّوۡقِعَ (ইউকি’আ → ঘটিয়ে দিতে)
بَیۡنَکُمُ (বাইনাকুমু → তোমাদের মধ্যে)
الۡعَدَاوَۃَ (আল-‘আদাওয়াতা → শত্রুতা)
وَالۡبَغۡضَآءَ (ওয়াল-বাগদা’আ → বিদ্বেষ)
فِی (ফী → মাধ্যমে)
الۡخَمۡرِ (আল-খামরি → নেশাজাতীয় দ্রব্য)
وَالۡمَیۡسِرِ (ওয়াল-মাইসিরি → জুয়া)
وَیَصُدَّکُمۡ (ওয়া ইয়াসুদ্দাকুম → এবং তোমাদের বিরত রাখতে)
عَنۡ (আন → থেকে)
ذِکۡرِ (যিকরি → স্মরণ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَعَنِ (ওয়া আন → এবং থেকে)
الصَّلٰوۃِ (আস-সালাতি → যোগাযোগ)
فَہَلۡ (ফাহাল → সুতরাং তবে কি)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
مُّنۡتَہُوۡنَ (মুনতাহূন → বিরত হবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) নেশাজাতীয় দ্রব্য ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও যোগাযোগ থেকে বিরত রাখতে চায়। সুতরাং এখন কি তোমরা বিরত হবে?
আয়াত-৯২ঃ
وَ (ওয়া → এবং)
اَطِیۡعُوا (আতী‘উ → আনুগত্য করো)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
وَ (ওয়া → এবং)
اَطِیۡعُوا (আতী‘উ → আনুগত্য করো)
الرَّسُوۡلَ (আর-রাসূলা → বার্তাবাহককে)
وَ (ওয়া → এবং)
احۡذَرُوۡا (ইহযারূ → সতর্ক থাকো)
فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
تَوَلَّیۡتُمۡ (তাওয়াল্লাইতুম → তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও)
فَاعۡلَمُوۡۤا (ফা‘লামূ → তবে জেনে রাখো)
اَنَّمَا (আন্নামা → নিশ্চয়ই কেবল)
عَلٰی (আলা → উপর)
رَسُوۡلِنَا (রাসূলিনা → আমাদের বার্তাবাহকের)
الۡبَلٰغُ (আল-বালাগু → বার্তা পৌঁছে দেওয়া)
الۡمُبِیۡنُ (আল-মুবীন → সুস্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আল্লাহর আনুগত্য করো, এবং বার্তাবাহকের আনুগত্য করো, আর সতর্ক থাকো। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো—আমাদের বার্তাবাহকের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
আয়াত-৯৩ঃ
لَیۡسَ (লাইসা → নেই)
عَلَی (আলা → উপর)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَ (ওয়া → এবং)
عَمِلُوا (আমিলূ → কাজ করেছে)
الصّٰلِحٰتِ (আস-সালিহাতি → সৎকর্মসমূহ)
جُنَاحٌ (জুনাহুন → অপরাধ)
فِیۡمَا (ফীমা → যা বিষয়ে)
طَعِمُوۡا (তা‘ইমূ → তারা খেয়েছে)
اِذَا (ইযা → যখন)
مَا (মা → যদি)
اتَّقَوۡا (ইত্তাকাও → খোদাভীরু হয়েছে)
وَّ (ওয়া → এবং)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَ (ওয়া → এবং)
عَمِلُوا (আমিলূ → কাজ করেছে)
الصّٰلِحٰتِ (আস-সালিহাতি → সৎকর্মসমূহ)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اتَّقَوۡا (ইত্তাকাও → খোদাভীরু হয়েছে)
وَّ (ওয়া → এবং)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اتَّقَوۡا (ইত্তাকাও → খোদাভীরু হয়েছে)
وَّ (ওয়া → এবং)
اَحۡسَنُوۡا (আহসানূ → উৎকৃষ্ট কাজ করেছে)
وَ (ওয়া → এবং)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল-মুহসিনীন → সৎকর্মশীলদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা পূর্বে যা আহার করেছে সে বিষয়ে তাদের কোনো অপরাধ নেই—যদি তারা খোদাভীরু হয়, বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে। তারপরও খোদাভীরু থাকে ও বিশ্বাসে অবিচল থাকে, অতঃপর আরও খোদাভীরু হয়ে সৎকাজ করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
আয়াত-৯৪ঃ
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
لَیَبۡلُوَنَّکُمُ (লায়াবলুওয়ান্নাকুম → অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
بِشَیۡءٍ (বিশাইয়িন → কোনো একটি বিষয় দ্বারা)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الصَّیۡدِ (আস-সাইদি → শিকার)
تَنَالُہٗ (তানালুহু → যা পৌঁছে যাবে)
اَیۡدِیۡکُمۡ (আইদীকুম → তোমাদের হাতসমূহ)
وَ (ওয়া → এবং)
رِمَاحُکُمۡ (রিমাহুকুম → তোমাদের বর্শাসমূহ)
لِیَعۡلَمَ (লিয়ালামা → যাতে প্রকাশ করেন/জানিয়ে দেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مَنۡ (মান → কে)
یَّخَافُہٗ (ইয়াখাফুহু → তাঁকে ভয় করে)
بِالۡغَیۡبِ (বিল-গাইবি → অদৃশ্যে/অপ্রকাশ্যে)
فَمَنِ (ফামানি → অতঃপর যে)
اعۡتَدٰی (ই‘তাদা → সীমালঙ্ঘন করে)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
ذٰلِکَ (যালিকা → এর)
فَلَہٗ (ফালাহু → তবে তার জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِیۡمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের এমন কিছু শিকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন, যা তোমাদের ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব (হাত) ও অস্ত্রের (বর্শার) নাগালে থাকবে, যাতে তিনি প্রকাশ করেন কে তাঁকে না দেখেও ভয় করে। এরপরেও যে সীমালঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আয়াত-৯৫ঃ
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
لَا (লা → না)
تَقۡتُلُوا (তাকতুলূ → হত্যা করো)
الصَّیۡدَ (আস-সাইদা → শিকার)
وَ (ওয়া → এবং)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
حُرُمٌ (হুরুমুন → নিষিদ্ধ অবস্থায়)
وَمَنۡ (ওয়ামান → এবং যে)
قَتَلَہٗ (কাতালাহু → সেটিকে হত্যা করেছে)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে থেকে)
مُّتَعَمِّدًا (মুতা‘আম্মিদান → ইচ্ছাকৃতভাবে)
فَجَزَآءٌ (ফাজাযাউন → তবে প্রতিদান)
مِّثۡلُ (মিছলু → সমতুল্য)
مَا (মা → যা)
قَتَلَ (কাতালা → সে হত্যা করেছে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
النَّعَمِ (আন্-নাআমি → গৃহপালিত পশু)
یَحۡکُمُ (ইয়াহকুমু → সিদ্ধান্ত দেবে)
بِہٖ (বিহি → এর বিষয়ে)
ذَوَا (যাওয়া → দুজন অধিকারী)
عَدۡلٍ (আদলিন → ন্যায়পরায়ণ)
مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
ہَدۡیًۢا (হাদইয়ান → প্রতিদান হিসেবে)
بٰلِغَ (বালিগা → পৌঁছানো)
الۡکَعۡبَۃِ (আল-কা‘বাতি → ঐক্য ও দিকনির্দেশের কেন্দ্র/ উচু হওয়া স্থান পর্যন্ত)
اَوۡ (আও → অথবা)
کَفَّارَۃٌ (কাফফারাতুন → প্রায়শ্চিত্ত)
طَعَامُ (তা‘আমু → খাদ্য প্রদান)
مَسٰکِیۡنَ (মাসাকীনা → অভাবগ্রস্তদের)
اَوۡ (আও → অথবা)
عَدۡلُ (আদলু → সমপরিমাণ)
ذٰلِکَ (যালিকা → তার)
صِیَامًا (সিয়ামান → সিয়াম/রোজা)
لِّیَذُوۡقَ (লিয়াযূকা → যাতে সে আস্বাদন করে)
وَبَالَ (ওয়াবালা → পরিণামের বোঝা)
اَمۡرِہٖ (আমরিহি → তার কাজের)
عَفَا (আফা → ক্ষমা করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَمَّا (আম্মা → যা)
سَلَفَ (সালাফা → পূর্বে ঘটে গেছে)
وَمَنۡ (ওয়ামান → এবং যে)
عَادَ (আদা → পুনরায় করে)
فَیَنۡتَقِمُ (ফাইয়ানতাকিমু → তবে প্রতিফল দেবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مِنۡہُ (মিনহু → তার থেকে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَزِیۡزٌ (আজীযুন → পরাক্রমশালী)
ذُو (যূ → অধিকারী)
انۡتِقَامٍ (ইনতিকামিন → প্রতিফল)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিষিদ্ধ অবস্থায় শিকার হত্যা করো না। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করে, তবে তার প্রতিদান হবে সে যে গৃহপালিত পশুর সমতুল্য প্রাণী হত্যা করেছে, তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যার সিদ্ধান্ত দেবে। সেটি ঐক্য ও দিকনির্দেশের কেন্দ্রস্থল (কাবায়) পৌঁছানোর জন্য প্রতিদান (হাদিয়া) হবে। অথবা এর প্রায়শ্চিত্ত হলো অভাবগ্রস্তদের খাদ্যদান, অথবা তার সমপরিমাণ সিয়াম পালন (বিরত থাকা), যাতে সে নিজের কাজের পরিণাম আস্বাদন করে। আল্লাহ অতীতে যা হয়ে গেছে তা ক্ষমা করেছেন। কিন্তু যে পুনরায় এমন করবে, আল্লাহ তার প্রতিফল দেবেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিফলদানে সক্ষম।
আয়াত-৯৬ঃ
اُحِلَّ (উহিল্লা → বৈধ করা হয়েছে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
صَیۡدُ (সাইদু → শিকার)
الۡبَحۡرِ (আল-বাহরি → সমুদ্রের)
وَ (ওয়া → এবং)
طَعَامُہٗ (তা‘আমুহু → তার খাদ্য)
مَتَاعًا (মাতা‘আন → উপভোগের সামগ্রী)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَ (ওয়া → এবং)
لِلسَّیَّارَۃِ (লিস-সাইয়ারাতি → পথিকদের জন্য)
وَ (ওয়া → এবং)
حُرِّمَ (হুররিমা → নিষিদ্ধ করা হয়েছে)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের জন্য)
صَیۡدُ (সাইদু → শিকার)
الۡبَرِّ (আল-বাররি → স্থলের)
مَا (মা → যতক্ষণ)
دُمۡتُمۡ (দুমতুম → তোমরা থাকো)
حُرُمًا (হুরুমান → নিষিদ্ধ অবস্থায়)
وَ (ওয়া → এবং)
اتَّقُوا (ইত্তাকূ → খোদাভীরু হও)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যাঁর)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁর কাছেই)
تُحۡشَرُوۡنَ (তুহশারূন → তোমাদের সমবেত করা হবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদের জন্য সমুদ্রে শিকার ও তার খাদ্য বৈধ করা হয়েছে—তোমাদের এবং পথিকদের উপভোগের জন্য। আর যতক্ষণ তোমরা নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকবে, ততক্ষণ তোমাদের জন্য স্থলের শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর আল্লাহর প্রতি খোদাভীরু হও, যাঁর কাছেই তোমাদের সমবেত করা হবে।
আয়াত-৯৭ঃ
جَعَلَ (জা‘আলা → স্থাপন করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
الۡکَعۡبَۃَ (আল-কা‘বাতা → ঐক্য ও দিকনির্দেশের কেন্দ্র/ উচু হওয়া স্থান পর্যন্ত)
الۡبَیۡتَ (আল-বাইতা → গৃহ)
الۡحَرَامَ (আল-হারামা → নিষিদ্ধ)
قِیٰمًا (কিয়ামান → প্রতিষ্ঠার মাধ্যম)
لِّلنَّاسِ (লিন্নাসি → মানুষের জন্য)
وَ (ওয়া → এবং)
الشَّہۡرَ (আশ-শাহরা → মাস)
الۡحَرَامَ (আল-হারামা → নিষিদ্ধ)
وَ (ওয়া → এবং)
الۡہَدۡیَ (আল-হাদইয়া → নিবেদিত উপহার)
وَ (ওয়া → এবং)
الۡقَلَآئِدَ (আল-কালায়িদা → চিহ্নিত মালাযুক্ত উপহারসমূহ)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
لِتَعۡلَمُوۡۤا (লিতা‘লামূ → যাতে তোমরা জানতে পারো)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
مَا (মা → যা কিছু)
فِی (ফী → মধ্যে)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডলসমূহে)
وَ (ওয়া → এবং)
مَا (মা → যা কিছু)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবীতে)
وَ (ওয়া → এবং)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
بِکُلِّ (বিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়)
عَلِیۡمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ ঐক্য ও দিকনির্দেশের কেন্দ্রকে, নিষিদ্ধ ঘরকে—মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠার ভিত্তি করেছেন; আর নিষিদ্ধ মাস, নিবেদিত উপহার (হাদিয়া) এবং চিহ্নিত উপহারকেও (কালায়িদা)। এটি এজন্য, যাতে তোমরা জানতে পারো যে আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই জানেন, এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
আয়াত-৯৮ঃ
اِعۡلَمُوۡۤا (ই‘লামূ → জেনে রাখো)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
شَدِیۡدُ (শাদীদু → অত্যন্ত কঠোর)
الۡعِقَابِ (আল-‘ইকাবি → শাস্তিদানে)
وَاَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীমুন → অতি দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-৯৯ঃ
مَا (মা → নয় )
عَلَی (আলা → ওপর )
الرَّسُوۡلِ (আর-রাসূলি → রাসূলের)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
الۡبَلٰغُ (আল-বালাগু → বার্তা পৌঁছে দেওয়া)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
مَا (মা → যা)
تُبۡدُوۡنَ (তুবদূনা → তোমরা প্রকাশ করো)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
تَکۡتُمُوۡنَ (তাকতুমূন → তোমরা গোপন করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আর আল্লাহ জানেন যা তোমরা প্রকাশ করো এবং যা তোমরা গোপন করো।
আয়াত-১০০ঃ
قُلۡ (কুল → বলো)
لَّا (লা → না)
یَسۡتَوِی (ইয়াস্তাওয়ী → সমান হয়)
الۡخَبِیۡثُ (আল-খাবীছু → অপবিত্র বস্তু)
وَ (ওয়া → এবং)
الطَّیِّبُ (আত-তাইয়্যিবু → পবিত্র বস্তু)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → যদিও)
اَعۡجَبَکَ (আ‘জাবাকা → তোমাকে মুগ্ধ করে)
کَثۡرَۃُ (কাছরাতু → প্রাচুর্য)
الۡخَبِیۡثِ (আল-খাবীছি → অপবিত্র বস্তুর)
فَ (ফা → সুতরাং)
اتَّقُوا (ইত্তাকূ → তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
یٰۤاُولِی (ইয়া উলীল → হে অধিকারীরা)
الۡاَلۡبَابِ (আল-আলবাবি → বোধশক্তি/বিবেক)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُوۡنَ (তুফলিহূন → সফল হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বলো, অপবিত্র ও পবিত্র কখনো সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। সুতরাং হে বিবেকবানরা! আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।
