সূরা আল মায়িদাহ (المائدة) | খাদ্য পরিবেশিত দস্তরখান
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৭৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-১০১ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস এনেছে)
لَا (লা → না)
تَسۡـَٔلُوۡا (তাসআলূ → তোমরা জিজ্ঞাসা করো)
عَنۡ (আন → সম্পর্কে)
اَشۡیَآءَ (আশইয়াআ → এমন বিষয়সমূহ)
اِنۡ (ইন → যদি)
تُبۡدَ (তুবদা → প্রকাশ করা হয়)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
تَسُؤۡکُمۡ (তাসুউকুম → তা তোমাদের কষ্ট দেবে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَسۡـَٔلُوۡا (তাসআলূ → তোমরা জিজ্ঞাসা করো)
عَنۡہَا (আনহা → সে সম্পর্কে)
حِیۡنَ (হীনা → যখন)
یُنَزَّلُ (ইউনাযযালু → নাযিল করা হয়)
الۡقُرۡاٰنُ (আল-কুরআনু → কুরআন)
تُبۡدَ (তুবদা → প্রকাশ করা হবে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَفَا (আফা → ক্ষমা করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَنۡہَا (আনহা → সেসবকে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → অতিশয় ক্ষমাশীল)
حَلِیۡمٌ (হালীমুন → পরম সহনশীল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীরা! তোমরা এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তা তোমাদের কষ্ট দেবে। আর কুরআন নাযিল হওয়ার সময় যদি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সেসব বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম সহনশীল।


আয়াত-১০২ঃ

قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
سَاَلَہَا (সাআলাহা → সে সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল)
قَوۡمٌ (কাওমুন → এক সম্প্রদায়)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلِکُمۡ (কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اَصۡبَحُوۡا (আসবাহূ → তারা হয়ে গেল)
بِہَا (বিহা → তার কারণে)
کٰفِرِیۡنَ (কাফিরীন → অবিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমাদের পূর্বে এক সম্প্রদায় এ ধরনের প্রশ্ন করেছিল। অতঃপর তারা সে কারণেই অবিশ্বাসী (কাফের) হয়ে গিয়েছিল।


আয়াত-১০৩ঃ

مَا (মা → না)
جَعَلَ (জা‘আলা → বিধান করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِنۡ (মিন → কোনো)
بَحِیۡرَۃٍ (বাহীরাতিন → উন্মুক্ত করা/বাহীরা)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
سَآئِبَۃٍ (সাঈবাতিন → অবাধে ছেড়ে দেওয়া/সায়িবা)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
وَصِیۡلَۃٍ (ওয়াসীলাতিন → সংযুক্ত করা/ওয়াসীলা)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
حَامٍ (হামিন → প্রতিরক্ষা করা/হাম)
وَّلٰکِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
یَفۡتَرُوۡنَ (ইয়াফতারূনা → মিথ্যা রচনা করে)
عَلَی (আলা → আল্লাহর প্রতি)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
الۡکَذِبَ (আল-কাযিবা → মিথ্যা)
وَاَکۡثَرُہُمۡ (ওয়া আকছারুহুম → আর তাদের অধিকাংশ)
لَا (লা → না)
یَعۡقِلُوۡنَ (ইয়া‘কিলূন → তারা বুঝে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ ‘উন্মুক্ত করা’, ‘অবাধে ছেড়ে দেওয়া’, ‘সংযুক্ত করা’ ও ‘প্রতিরক্ষা করা’ নামে কোনো বিধান দেননি। কিন্তু যারা অবিশ্বাস করেছে, তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা রচনা করে। আর তাদের অধিকাংশই অবুঝ।

[ বি:দ্র: আল্লাহর বিধান স্পষ্ট, বিস্তারিত, পরিপূর্ণ ও সন্দেহমুক্ত। তাই জোড়াতালির কোন সুযোগ নাই।]


আয়াত-১০৪ঃ

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
قِیۡلَ (কীলা → বলা হয়)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
تَعَالَوۡا (তা‘আলাও → এসো)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
مَاۤ (মা → যা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → নাযিল করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَاِلَی (ওয়া ইলার → এবং দিকে)
الرَّسُوۡلِ (আর-রাসূলি → রাসূল)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলে)
حَسۡبُنَا (হাসবুনা → আমাদের জন্য যথেষ্ট)
مَا (মা → যা)
وَجَدۡنَا (ওয়াজাদনা → আমরা পেয়েছি)
عَلَیۡہِ (আলাইহি → যার ওপর)
اٰبَآءَنَا (আবাআনা → আমাদের পিতৃপুরুষদের)
اَوَلَوۡ (আওয়ালাও → যদিও কি)
کَانَ (কানা → ছিল)
اٰبَآؤُہُمۡ (আবাউহুম → তাদের পিতৃপুরুষরা)
لَا (লা → না)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূনা → জানত)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
یَہۡتَدُوۡنَ (ইয়াহতাদূন → সৎপথ পেত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “আল্লাহ যা নাযিল করেছেনক তার দিকে এবং বার্তাবাহকের দিকে এসো,” তখন তারা বলে, “আমাদের জন্য তো যথেষ্ট, যার ওপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি।” যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং সৎপথপ্রাপ্তও ছিলনা!


আয়াত-১০৫ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস এনেছে)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের কর্তব্য)
اَنۡفُسَکُمۡ (আনফুসাকুম → নিজেদের)
لَا (লা → না)
یَضُرُّکُمۡ (ইয়াদুররুকুম → তোমাদের ক্ষতি করবে)
مَّنۡ (মান → যে)
ضَلَّ (দাল্লা → পথভ্রষ্ট হয়েছে)
اِذَا (ইযা → যখন)
اہۡتَدَیۡتُمۡ (ইহতাদাইতুম → তোমরা সৎপথে চলবে)
اِلَی (ইলা → দিকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مَرۡجِعُکُمۡ (মারজি‘উকুম → তোমাদের প্রত্যাবর্তন)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সকলের)
فَیُنَبِّئُکُمۡ (ফাইউনাব্বিউকুম → তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → যা)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা করতে)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → কর্ম করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীরা! তোমাদের কর্তব্য নিজেদেরকে বা নফসকে সংশোধন করা। যদি তোমরা সৎপথে থাকো, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর কাছেই। অতঃপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন, তোমরা যে সমস্ত কর্ম করতে।


আয়াত-১০৬ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস এনেছে)
شَہَادَۃُ (শাহাদাতু → সাক্ষ্য)
بَیۡنِکُمۡ (বাইনিকুম → তোমাদের মধ্যে)
اِذَا (ইযা → যখন)
حَضَرَ (হাদারা → উপস্থিত হয়)
اَحَدَکُمُ (আহাদাকুমু → তোমাদের কারো)
الۡمَوۡتُ (আল-মাওতু → মৃত্যু)
حِیۡنَ (হীনা → সময়)
الۡوَصِیَّۃِ (আল-ওয়াসিয়্যাহ → অসিয়ত (উইল বা শেষ নির্দেশ/প্রাপ্য প্রদান করা)
اثۡنٰنِ (ইছনানি → দুজন)
ذَوَا (যাওয়া → অধিকারী)
عَدۡلٍ (আদলিন → ন্যায়পরায়ণ)
مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
اَوۡ (আও → অথবা)
اٰخَرٰنِ (আখারানি → অন্য দুজন)
مِنۡ (মিন → থেকে)
غَیۡرِکُمۡ (গাইরিকুম → তোমাদের বাইরে)
اِنۡ (ইন → যদি)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
ضَرَبۡتُمۡ (দারাবতুম → সফরে বের হও)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
فَاَصَابَتۡکُمۡ (ফা-আসাবাতকুম → অতঃপর তোমাদের ওপর আসে)
مُّصِیۡبَۃُ (মুসীবাতু → বিপদ)
الۡمَوۡتِ (আল-মাওতি → মৃত্যুর)
تَحۡبِسُوۡنَہُمَا (তাহবিসূনাহুমা → তোমরা তাদের দুজনকে আটকে রাখবে)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পরে)
الصَّلٰوۃِ (আস-সালাতি → যোগাযোগ)
فَیُقۡسِمٰنِ (ফাইউকসিমানি → তখন তারা উভয়ে শপথ করবে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর নামে)
اِنِ (ইন → যদি)
ارۡتَبۡتُمۡ (ইরতাবতুম → তোমরা সন্দেহ কর)
لَا (লা → না)
نَشۡتَرِیۡ (নাশতারী → আমরা বিক্রি করব)
بِہٖ (বিহী → এর বিনিময়ে)
ثَمَنًا (ছামানান → কোনো মূল্য)
وَّلَوۡ (ওয়ালাও → যদিও)
کَانَ (কানা → হয়)
ذَا (যা → অধিকারী)
قُرۡبٰی (কুরবা → নিকটাত্মীয়)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَکۡتُمُ (নাকতুমু → আমরা গোপন করব)
شَہَادَۃَ (শাহাদাতা → সাক্ষ্য)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
اِذًا (ইযান → তাহলে)
لَّمِنَ (লামিনা → অবশ্যই হব)
الۡاٰثِمِیۡنَ (আছিমীন → পাপীদের অন্তর্ভুক্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীরা! যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় এবং সে তার অসিয়ত (উইল বা শেষ নির্দেশ) করতে চায়, তখন তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী করো। আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং মৃত্যুর বিপদ এসে পড়ে, তবে তোমাদের বাইরের দুজনকেও সাক্ষী করতে পারো। যদি তোমরা তাদের সম্পর্কে সন্দেহ কর, তবে যোগাযোগের পর তাদের দুজনকে ধরে রাখবে। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, “আমরা এর বিনিময়ে কোনো মূল্য গ্রহণ করব না, যদিও সে আমাদের নিকটাত্মীয় হয়। আর আমরা আল্লাহর জন্য প্রদত্ত সাক্ষ্য গোপন করব না। যদি তা করি, তবে নিশ্চয়ই আমরা পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব।”


আয়াত-১০৭ঃ

فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
عُثِرَ (উছিরা → জানা যায়)
عَلٰۤی (আলা → যে)
اَنَّہُمَا (আন্নাহুমা → তারা দুজন)
اسۡتَحَقَّاۤ (ইস্তাহাক্কা → অপরাধ করেছে / দোষী হয়েছে)
اِثۡمًا (ইছমান → পাপ)
فَاٰخَرٰنِ (ফা-আখারানি → তবে অন্য দুজন)
یَقُوۡمٰنِ (ইয়াকূমানি → দাঁড়াবে)
مَقَامَہُمَا (মাকামাহুমা → তাদের স্থানে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اسۡتَحَقَّ (ইস্তাহাক্কা → ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে )
عَلَیۡہِمُ (আলাইহিমু → তাদের দ্বারা)
الۡاَوۡلَیٰنِ (আওলায়ানি → নিকটতম অধিকারী দুজন)
فَیُقۡسِمٰنِ (ফাইউকসিমানি → তখন তারা উভয়ে শপথ করবে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর নামে)
لَشَہَادَتُنَاۤ (লাশাহাদাতুনা → আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই)
اَحَقُّ (আহাক্কু → অধিক সত্য)
مِنۡ (মিন → অপেক্ষা)
شَہَادَتِہِمَا (শাহাদাতিহিমা → তাদের দুজনের সাক্ষ্যের)
وَمَا (ওয়া মা → এবং আমরা না)
اعۡتَدَیۡنَاۤ (ই‘তাদাইনা → সীমালঙ্ঘন করেছি)
اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
اِذًا (ইযান → তাহলে)
لَّمِنَ (লামিনা → অবশ্যই হব)
الظّٰلِمِیۡنَ (আয-যালিমীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যদি জানা যায় যে, প্রথম সাক্ষীর দুজনই অপরাধ করেছে, তবে যাদের অধিকার খর্ব হয়েছে তাদের নিকটতম জনদের মধ্য থেকে অন্য দুজন তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, “আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যের চেয়ে অধিক সত্য, এবং আমরা কোনো সীমালঙ্ঘন করিনি। যদি করি, তবে নিশ্চয়ই আমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব।”


আয়াত-১০৮ঃ

ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
اَدۡنٰۤی (আদনা → অধিক উপযুক্ত)
اَنۡ (আন → যে)
یَّاۡتُوۡا (ইয়া’তূ → তারা উপস্থিত করবে)
بِالشَّہَادَۃِ (বিশ-শাহাদাতি → সাক্ষ্য)
عَلٰی (আলা → অনুযায়ী)
وَجۡہِہَاۤ (ওয়াজহিহা → তার সঠিক রূপে)
اَوۡ (আও → অথবা)
یَخَافُوۡۤا (ইয়াখাফূ → তারা ভয় করবে)
اَنۡ (আন → যে)
تُرَدَّ (তুরাদ্দা → ফিরিয়ে দেওয়া হবে)
اَیۡمَانٌۢ (আইমানুন → শপথসমূহ)
بَعۡدَ (বা’দা → পরে)
اَیۡمَانِہِمۡ (আইমানিহিম → তাদের শপথের)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → আর তোমরা খোদাভীরুতা অবলম্বন করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَاسۡمَعُوۡا (ওয়াসমা’ঊ → এবং শোনো)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا (লা → না)
یَہۡدِی (ইয়াহদী → সৎপথ প্রদান করেন)
الۡقَوۡمَ (আল-কাওমা → সম্প্রদায়কে)
الۡفٰسِقِیۡنَ (আল-ফাসিকীন → অবাধ্যদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এটি অধিক উপযুক্ত যে তারা যথাযথভাবে সাক্ষ্য দেবে, অথবা তারা ভয় করবে যে তাদের শপথের পর অন্যদের শপথ গ্রহণ করা হবে। আর তোমরা খোদাভীরুতা অবলম্বন করো এবং আল্লাহকে শোনো। আল্লাহ অবাধ্য সম্প্রদায়কে (ফাসিক) সৎপথ প্রদান করেন না।


আয়াত-১০৯ঃ

یَوۡمَ (ইয়াওমা → যেদিন)
یَجۡمَعُ (ইয়াজমা’উ → একত্র করবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
الرُّسُلَ (আর-রুসুলা → বার্তাবাহকগণকে)
فَیَقُوۡلُ (ফাইয়াকূলু → তখন তিনি বলবেন)
مَاذَاۤ (মাযা → কী)
اُجِبۡتُمۡ (উজিবতুম → তোমরা উত্তর পেয়েছিলে)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলবে)
لَا (লা → নেই)
عِلۡمَ (ইলমা → জ্ঞান)
لَنَا (লানা → আমাদের)
اِنَّکَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই আপনি)
اَنۡتَ (আনতা → আপনিই)
عَلَّامُ (আল্লামু → সর্বজ্ঞ)
الۡغُیُوۡبِ (আল-গুয়ূবি → অদৃশ্য বিষয়সমূহের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যেদিন আল্লাহ সকল বার্তাবাহকগণকে একত্র করবেন, তারপর জিজ্ঞাসা করবেন, “তোমাদেরকে কী জবাব দেওয়া হয়েছিল?” তারা বলবেন, “আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনিই সকল অদৃশ্য বিষয়ের পরম জ্ঞানী।”


আয়াত-১১০ঃ

اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَ (ক্বালা → বললেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
یٰعِیۡسَی (ইয়া ঈসা → হে ঈসা)
ابۡنَ (ইবনা → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
اذۡکُرۡ (উযকুর → স্মরণ করো)
نِعۡمَتِیۡ (নি’মাতী → আমার অনুগ্রহ)
عَلَیۡکَ (আলাইকা → তোমার ওপর)
وَعَلٰی (ওয়া আলা → এবং ওপর)
وَالِدَتِکَ (ওয়ালিদাতিকা → তোমার মাতার)
اِذۡ (ইয → যখন)
اَیَّدۡتُّکَ (আয়্যাদতুকা → আমি তোমাকে শক্তিশালী করেছিলাম)
بِرُوۡحِ (বিরূহি → রূহ দ্বারা)
الۡقُدُسِ (আল-কুদুসি → পবিত্র)
تُکَلِّمُ (তুকাল্লিমু → তুমি কথা বলতে)
النَّاسَ (আন-নাসা → মানুষের সঙ্গে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡمَہۡدِ (আল-মাহদি → দোলনায়)
وَکَہۡلًا (ওয়া কাহলান → এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়)
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
عَلَّمۡتُکَ (আল্লামতুকা → আমি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
وَالۡحِکۡمَۃَ (ওয়াল-হিকমাতা → প্রজ্ঞা)
وَالتَّوۡرٰىۃَ (ওয়াত-তাওরাতা → তাওরাত)
وَالۡاِنۡجِیۡلَ (ওয়াল-ইঞ্জীলা → ইনজিল)
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
تَخۡلُقُ (তাখলুকু → তুমি তৈরি করতে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الطِّیۡنِ (আত-ত্বীনি → মাটি)
کَہَیۡـَٔۃِ (কাহাইয়াতি → আকৃতির মতো)
الطَّیۡرِ (আত-ত্বাইরি → পাখি)
بِاِذۡنِیۡ (বি-ইযনী → আমার অনুমতিতে)
فَتَنۡفُخُ (ফাতানফুখু → তারপর তুমি ফুঁ দিতে)
فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
فَتَکُوۡنُ (ফাতাকূনু → তখন তা হয়ে যেত)
طَیۡرًۢا (ত্বাইরান → পাখি)
بِاِذۡنِیۡ (বি-ইযনী → আমার অনুমতিতে)
وَتُبۡرِیٴُ (ওয়া তুবরিউ → এবং তুমি আরোগ্য করতে)
الۡاَکۡمَہَ (আল-আকমাহা → জন্মান্ধকে)
وَالۡاَبۡرَصَ (ওয়াল-আবরাসা → কুষ্ঠরোগীকে)
بِاِذۡنِیۡ (বি-ইযনী → আমার অনুমতিতে)
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
تُخۡرِجُ (তুখরিজু → তুমি বের করতে)
الۡمَوۡتٰی (আল-মাওতা → মৃতদের)
بِاِذۡنِیۡ (বি-ইযনী → আমার অনুমতিতে)
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
کَفَفۡتُ (কাফাফতু → আমি প্রতিহত করেছিলাম)
بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (বানী ইসরাঈলা → ইসরাঈলের সন্তান)
عَنۡکَ (আনকা → তোমার থেকে)
اِذۡ (ইয → যখন)
جِئۡتَہُمۡ (জি’তাহুম → তুমি তাদের কাছে এনেছিলে)
بِالۡبَیِّنٰتِ (বিল-বাইয়িনাতি → সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ)
فَقَالَ (ফাক্বালা → তখন বলল)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছিল)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
اِنۡ (ইন → এটি)
ہٰذَاۤ (হাযা → এ)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া আর কিছু নয়)
سِحۡرٌ (সিহরুন → জাদু)
مُّبِیۡنٌ (মুবীনুন → সুস্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যখন আল্লাহ বলবেন, “হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! তোমার প্রতি এবং তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ করো। যখন আমি পবিত্র রূহের (আল্লাহর আদেশের) মাধ্যমে তোমাকে শক্তিশালী করেছিলাম; তুমি দোলনায় এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে। আর যখন আমি তোমাকে কিতাব, প্রজ্ঞা, তাওরাত ও ইনজিল শিক্ষা দিয়েছিলাম। আর যখন তুমি আমার অনুমতিতে মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করতে, তারপর তাতে ফুঁ দিতে, ফলে তা আমার অনুমতিতে পাখি হয়ে যেত। আর তুমি আমার অনুমতিতে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতে এবং আমার অনুমতিতে মৃতদের জীবিত করে বের করতে। আর যখন আমি ইসরাঈলের সন্তানদেরকে তোমার ক্ষতি করা থেকে বিরত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াত (নিদর্শন) নিয়ে এসেছিলে। তখন তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল তারা বলেছিল, ‘এ তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।”


আয়াত-১১১ঃ

وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
اَوۡحَیۡتُ (আওহাইতু → আমি প্রত্যাদেশ করেছিলাম)
اِلَی (ইলা → প্রতি)
الۡحَوَارِیّٖنَ (আল-হাওয়ারিয়্যীনা → শিষ্যদের)
اَنۡ (আন → যে)
اٰمِنُوۡا (আমিনূ → বিশ্বাস করো)
بِیۡ (বী → আমার প্রতি)
وَبِرَسُوۡلِیۡ (ওয়া বিরাসূলী → এবং আমার বার্তাবাহকের প্রতি)
قَالُوۡۤا (কালূ → তারা বলল)
اٰمَنَّا (আমান্না → আমরা বিশ্বাস করেছি)
وَاشۡہَدۡ (ওয়াশহাদ → এবং আপনি সাক্ষী থাকুন)
بِاَنَّنَا (বি-আন্নানা → যে আমরা)
مُسۡلِمُوۡنَ (মুসলিমূন → আত্নসমর্পনকারী / আল্লাহর অনুগত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন আমি শিষ্যদের প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম, “আমার প্রতি এবং আমার বার্তাবাহকের (রাসূলের) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।” তারা বলল, “আমরা বিশ্বাস করেছি। আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা আল্লাহর অনুগত/আত্নসমর্পনকারী।”


আয়াত-১১২ঃ

اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَ (ক্বালা → বলল)
الۡحَوَارِیُّوۡنَ (আল-হাওয়ারিয়্যূনা → শিষ্যরা)
یٰعِیۡسَی (ইয়া ঈসা → হে ঈসা)
ابۡنَ (ইবনা → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
ہَلۡ (হাল → কী)
یَسۡتَطِیۡعُ (ইয়াস্তাতী’উ → সক্ষম)
رَبُّکَ (রাব্বুকা → আপনার প্রতিপালক)
اَنۡ (আন → যে)
یُّنَزِّلَ (ইউনাযযিলা → নাযিল করবেন)
عَلَیۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
مَآئِدَۃً (মায়িদাতান → খাদ্যভর্তি দস্তরখান)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
السَّمَآءِ (আস-সামা’ই → আকাশ)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اتَّقُوا (ইত্তাকূ → তোমরা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
اِنۡ (ইন → যদি)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হয়ে থাকো)
مُّؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যখন শিষ্যরা বলল, “হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! আপনার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে একটি খাদ্যভর্তি দস্তরখান অবতীর্ণ করতে সক্ষম?” তিনি বললেন, “তোমরা যদি সত্যিই দৃঢ় বিশ্বাসী (মুমিন) হও, তবে আল্লাহকে ভয় করো।”


আয়াত-১১৩ঃ

قَالُوۡا (কালূ → তারা বলল)
نُرِیۡدُ (নুরীদু → আমরা চাই)
اَنۡ (আন → যে)
نَّاۡکُلَ (না’কুলা → আমরা খাই)
مِنۡہَا (মিনহা → তা থেকে)
وَتَطۡمَئِنَّ (ওয়া তাতমাইন্না → এবং প্রশান্ত হোক)
قُلُوۡبُنَا (কুলূবুনা → আমাদের অন্তরসমূহ)
وَنَعۡلَمَ (ওয়া না’লামা → এবং আমরা জেনে নিই)
اَنۡ (আন → যে)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
صَدَقۡتَنَا (সাদাকতানা → আপনি আমাদের কাছে সত্য বলেছেন)
وَنَکُوۡنَ (ওয়া নাকূনা → এবং আমরা হয়ে যাই)
عَلَیۡہَا (আলাইহা → এর ওপর)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الشّٰہِدِیۡنَ (আশ-শাহিদীন → সাক্ষ্যদানকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা বলল, “আমরা চাই যে, তা থেকে আহার করি, আমাদের অন্তর প্রশান্ত হোক, আমরা নিশ্চিতভাবে জেনে নিই যে আপনি আমাদের কাছে সত্য বলেছেন এবং আমরা এ বিষয়ে সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।”


আয়াত-১১৪ঃ

قَالَ (ক্বালা → বললেন)
عِیۡسَی (ঈসা → ঈসা)
ابۡنُ (ইবনু → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
اللّٰہُمَّ (আল্লাহুম্মা → হে আল্লাহ)
رَبَّنَاۤ (রাব্বানা → আমাদের প্রতিপালক)
اَنۡزِلۡ (আনযিল → অবতীর্ণ করুন)
عَلَیۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
مَآئِدَۃً (মায়িদাতান → খাদ্যভর্তি দস্তরখান)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
السَّمَآءِ (আস-সামা’ই → আকাশ)
تَکُوۡنُ (তাকূনু → তা হবে)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
عِیۡدًا (ঈদান → আনন্দের দিন / উৎসব)
لِّاَوَّلِنَا (লি-আওয়ালিনা → আমাদের প্রথমদের জন্য)
وَاٰخِرِنَا (ওয়া আখিরিনা → এবং আমাদের পরবর্তীদের জন্য)
وَاٰیَۃً (ওয়া আয়াতান → এবং একটি নিদর্শন)
مِّنۡکَ (মিনকা → আপনার পক্ষ থেকে)
وَارۡزُقۡنَا (ওয়ারযুকনা → এবং আমাদের জীবিকা দিন)
وَاَنۡتَ (ওয়া আনতা → আর আপনিই)
خَیۡرُ (খাইরু → সর্বোত্তম)
الرّٰزِقِیۡنَ (আর-রাযিকীন → রিযিকদাতাদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

মারইয়ামের পুত্র ঈসা বললেন, “হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর আকাশ থেকে একটি খাদ্যভর্তি দস্তরখান অবতীর্ণ করুন। এটি আমাদের প্রথম ও শেষ জনের জন্য (পরবর্তীদের জন্য) আনন্দের দিন/উৎসব (ঈদ) এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি আয়াত (নিদর্শন) হোক। আর আমাদের জীবিকা দান করুন। আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।”


আয়াত-১১৫ঃ

قَالَ (ক্বালা → বললেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
مُنَزِّلُہَا (মুনাযযিলুহা → তা অবতীর্ণ করব)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
یَّکۡفُرۡ (ইয়াকফুর → অবিশ্বাস করবে)
بَعۡدُ (বা’দু → এরপর)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
فَاِنِّیۡ (ফাইন্নী → তবে নিশ্চয়ই আমি)
اُعَذِّبُہٗ (উ’আযযিবুহু → তাকে শাস্তি দেব)
عَذَابًا (আযাবান → এমন শাস্তি)
لَّاۤ (লা → না)
اُعَذِّبُہٗۤ (উ’আযযিবুহু → আমি শাস্তি দেব)
اَحَدًا (আহাদান → কাউকে)
مِّنَ (মিনা → মধ্যে)
الۡعٰلَمِیۡنَ (আল-‘আলামীন → সৃষ্টিজগতের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ বললেন, “নিশ্চয়ই আমি তা তোমাদের ওপর অবতীর্ণ করব। কিন্তু এরপরও তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অবিশ্বাস করে, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি সৃষ্টিজগতের আর কাউকেই দেব না।”


আয়াত-১১৬ঃ

وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
قَالَ (ক্বালা → বলবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
یٰعِیۡسَی (ইয়া ঈসা → হে ঈসা)
ابۡنَ (ইবনা → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
ءَاَنۡتَ (আআনতা → তুমি কি)
قُلۡتَ (কুলতা → বলেছিলে)
لِلنَّاسِ (লিন্নাসি → মানুষকে)
اتَّخِذُوۡنِیۡ (ইত্তাখিযূনী → আমাকে গ্রহণ করো)
وَاُمِّیَ (ওয়া উম্মিয়া → এবং আমার মাতাকে)
اِلٰہَیۡنِ (ইলাহাইনি → দুই উপাস্য)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُوۡنِ (দূনি → পরিবর্তে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বলবেন)
سُبۡحٰنَکَ (সুবহানাকা → আপনি পবিত্র)
مَا (মা → নয়)
یَکُوۡنُ (ইয়াকূনু → হতে পারে)
لِیۡ (লী → আমার জন্য)
اَنۡ (আন → যে)
اَقُوۡلَ (আকূলা → আমি বলি)
مَا (মা → যা)
لَیۡسَ (লাইসা → নয়)
لِیۡ (লী → আমার)
بِحَقٍّ (বিহাক্কিন → ন্যায্য অধিকার)
اِنۡ (ইন → যদি)
كُنۡتُ (কুনতু → আমি হয়ে থাকি)
قُلۡتُہٗ (কুলতুহু → তা বলে থাকি)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে অবশ্যই)
عَلِمۡتَہٗ (আলিমতাহু → আপনি তা জানতেন)
تَعۡلَمُ (তা’লামু → আপনি জানেন)
مَا (মা → যা)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
نَفۡسِیۡ (নাফসী → আমার অন্তরে)
وَلَاۤ (ওয়ালা → আর না)
اَعۡلَمُ (আ’লামু → আমি জানি)
مَا (মা → যা)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
نَفۡسِکَ (নাফসিকা → আপনার সত্তায়)
اِنَّکَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই আপনি)
اَنۡتَ (আনতা → আপনিই)
عَلَّامُ (আল্লামু → সর্বজ্ঞ)
الۡغُیُوۡبِ (আল-গুয়ূবি → সকল অদৃশ্য বিষয়ের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন আল্লাহ বলবেন, “হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাতাকে দুই উপাস্য (বিধানদাতা) হিসেবে গ্রহণ করো’?” তিনি বলবেন, “আপনি পবিত্র। আমার পক্ষে এমন কথা বলা কখনোই সমীচীন নয়, যার কোনো অধিকার আমার নেই। যদি আমি তা বলে থাকতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আপনি জানেন যা আমার অন্তরে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার সত্তায় আছে। নিশ্চয়ই আপনিই সকল অদৃশ্য বিষয়ের পরম জ্ঞানী।”


আয়াত-১১৭ঃ

مَا (মা → না)
قُلۡتُ (কুলতু → আমি বলেছি)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে শুধু)
مَاۤ (মা → যা)
اَمَرۡتَنِیۡ (আমারতানী → আপনি আমাকে আদেশ করেছিলেন)
بِہٖۤ (বিহী → তা)
اَنِ (আনি → যে)
اعۡبُدُوا (ই’বুদূ → দাসত্ব করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
رَبِّیۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
وَرَبَّکُمۡ (ওয়া রাব্বাকুম → এবং তোমাদের প্রতিপালক)
وَکُنۡتُ (ওয়া কুনতু → আর আমি ছিলাম)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
شَہِیۡدًا (শাহীদান → সাক্ষী)
مَّا (মা → যতদিন)
دُمۡتُ (দুমতু → আমি ছিলাম)
فِیۡہِمۡ (ফীহিম → তাদের মধ্যে)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
تَوَفَّیۡتَنِیۡ (তাওয়াফ্ফাইতানী → আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন/মৃত্যু ঘটালেন। ( ৬:৬১, ১২:১০১, ৩৯:৪২ = تَوَفَّ শব্দ দ্বারা জান কবয বা মৃত্যু ঘটানো বুঝানো হয়েছে।)
كُنۡتَ (কুনতা → আপনি ছিলেন)
اَنۡتَ (আনতা → আপনিই)
الرَّقِیۡبَ (আর-রাকীবা → তত্ত্বাবধায়ক)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
وَاَنۡتَ (ওয়া আনতা → এবং আপনিই)
عَلٰی (আলা → ওপর)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইইন → বিষয়ের)
شَہِیۡدٌ (শাহীদুন → সাক্ষী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আপনি আমাকে যে বিষয়ের আদেশ করেছিলেন, তা ছাড়া অন্য কিছু আমি তাদেরকে বলিনি। তা এই যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব (ইবাদত) কর, যিনি আমারও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং যত দিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, তত দিন আমি তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। তারপর আপনি যখন আমার মৃত্যু ঘটালেন তখন আপনি স্বয়ং তাদের তত্ত্বাবধায়ক থেকেছেন। বস্তুত আপনি সব কিছুর সাক্ষী।


আয়াত-১১৮ঃ

اِنۡ (ইন → যদি)
تُعَذِّبۡہُمۡ (তু‘আযযিবহুম → আপনি তাদের শাস্তি দেন)
فَاِنَّہُمۡ (ফাইন্নাহুম → তবে নিশ্চয়ই তারা)
عِبَادُکَ (ইবাদুকা → আপনার বান্দা)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَغۡفِرۡ (তাগফির → আপনি ক্ষমা করেন)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
فَاِنَّکَ (ফাইন্নাকা → তবে নিশ্চয়ই আপনি)
اَنۡتَ (আনতা → আপনিই)
الۡعَزِیۡزُ (আল-‘আযীযু → পরাক্রমশালী)
الۡحَکِیۡمُ (আল-হাকীমু → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-১১৯ঃ

قَالَ (ক্বালা → বলবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
ہٰذَا (হাযা → এ)
یَوۡمُ (ইয়াওমু → দিন)
یَنۡفَعُ (ইয়ানফাউ → উপকার করবে)
الصّٰدِقِیۡنَ (আস-সাদিকীনা → সত্যবাদীদের)
صِدۡقُہُمۡ (সিদকুহুম → তাদের সত্যবাদিতা)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
جَنّٰتٌ (জান্নাতুন → উদ্যাণসমূহ)
تَجۡرِیۡ (তাজরী → প্রবাহিত হবে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تَحۡتِہَا (তাহতিহা → যার তলদেশে)
الۡاَنۡہٰرُ (আল-আনহারু → নদীসমূহ)
خٰلِدِیۡنَ (খালিদীনা → চিরস্থায়ী অবস্থানকারী)
فِیۡہَاۤ (ফীহা → সেখানে)
اَبَدًا (আবাদান → চিরকাল)
رَضِیَ (রাদিয়া → সন্তুষ্ট হয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদের প্রতি)
وَرَضُوۡا (ওয়া রাদূ → এবং তারা সন্তুষ্ট হয়েছে)
عَنۡہُ (আনহু → তাঁর প্রতি)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটিই)
الۡفَوۡزُ (আল-ফাওযু → সফলতা)
الۡعَظِیۡمُ (আল-‘আযীমু → মহাসাফল্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ বলবেন, “সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকার করবে। তাদের জন্য রয়েছে উদ্যাণসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। এটিই মহাসাফল্য।”


আয়াত-১২০ঃ

لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহরই)
مُلۡكُ (মুলকু → সার্বভৌম কর্তৃত্ব)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল-আরদি → এবং পৃথিবীর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা কিছু)
فِیۡہِنَّ (ফীহিন্না → এগুলোর মধ্যে আছে)
وَہُوَ (ওয়া হুয়া → আর তিনিই)
عَلٰی (আলা → ওপর)
كُلِّ (কুল্লি → সকল)
شَیۡءٍ (শাইইন → বিষয়ের)
قَدِیۡرٌ (কাদীরুন → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যে যা কিছু রয়েছে—সবকিছুর সার্বভৌম কর্তৃত্ব আল্লাহরই। আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।