সূরা আত তাওবাহ্ (التوبة) | পাপ থেকে ফিরে আসা
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১২৯



رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-৫১ঃ

‎قُلۡ (কুল → বলো)
‎لَّنۡ (লান → কখনোই না)
‎یُّصِیۡبَنَاۤ (ইউসীবানা → আমাদের স্পর্শ করবে)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎مَا (মা → যা)
‎کَتَبَ (কাতাবা → লিখেছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
‎ہُوَ (হুওয়া → তিনি)
‎مَوۡلٰىنَا (মাওলানা → আমাদের রক্ষাকারী সত্তা/ প্রভূ)
‎وَعَلَی (ওয়া ‘আলা → এবং ওপর)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎فَلۡیَتَوَکَّلِ (ফালইয়াতাওয়াক্কাল → অতএব নির্ভর করুক)
‎الۡمُؤۡمِنُوۡنَ (আল-মু’মিনূন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, ‘আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা ছাড়া কোনো কিছুই আমাদের উপর আসবে না। তিনিই আমাদের রক্ষাকারী সত্তা/প্রভু (মাওলানা)। আর আল্লাহর উপরই একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের নির্ভর করা উচিত।’


আয়াত-৫২ঃ

‎قُلۡ (কুল → বলো)
‎ہَلۡ (হাল → কি)
‎تَرَبَّصُوۡنَ (তারাব্বাসূন → তোমরা অপেক্ষা করছো)
‎بِنَاۤ (বিনা → আমাদের ব্যাপারে)
‎اِلَّاۤ (ইল্লা → ছাড়া)
‎اِحۡدَی (ইহদা → একটি)
‎الۡحُسۡنَیَیۡنِ (আল-হুসনাইয়াইন → দুই কল্যাণের)
‎وَنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → আর আমরা)
‎نَتَرَبَّصُ (নাতারাব্বাসু → অপেক্ষা করছি)
‎بِکُمۡ (বিকুম → তোমাদের ব্যাপারে)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یُّصِیۡبَکُمُ (ইউসীবাকুম → তোমাদের স্পর্শ করে)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎بِعَذَابٍ (বি‘আযাব → শাস্তি দ্বারা)
‎مِّنۡ (মিন → থেকে)
‎عِنۡدِہٖۤ (‘ইনদিহী → তাঁর পক্ষ থেকে)
‎اَوۡ (আও → অথবা)
‎بِاَیۡدِیۡنَا (বিআইদীনা → আমাদের হাত দ্বারা)
‎فَتَرَبَّصُوۡۤا (ফাতারাব্বাসূ → অতএব তোমরাও অপেক্ষা করো)
‎اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
‎مَعَکُمۡ (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
‎مُّتَرَبِّصُوۡنَ (মুতারাব্বিসূন → অপেক্ষমাণ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, ‘তোমরা কি আমাদের ব্যাপারে দুইটি কল্যাণকর ফলের একটি ছাড়া অন্য কিছুর অপেক্ষা করছো? আর আমরা তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করছি—আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি তোমাদের উপর আনেন অথবা আমাদের হাতের মাধ্যমে তা আসে। অতএব, তোমরাও অপেক্ষা করো; নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষমাণ।’


আয়াত-৫৩ঃ

‎قُلۡ (কুল → বলো)
‎اَنۡفِقُوۡا (আনফিকূ → তোমরা ব্যয় করো)
‎طَوۡعًا (তাও‘আন → স্বেচ্ছায়)
‎اَوۡ (আও → অথবা)
‎کَرۡہًا (কারহান → অনিচ্ছায়)
‎لَّنۡ (লান → কখনোই না)
‎یُّتَقَبَّلَ (ইউতাকাব্বালা → গ্রহণ করা হবে)
‎مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের কাছ থেকে)
‎اِنَّکُمۡ (ইন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
‎کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
‎قَوۡمًا (কাওমান → এক সম্প্রদায়)
‎فٰسِقِیۡنَ (ফাসিকীন → অবাধ্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, ‘তোমরা স্বেচ্ছায় ব্যয় করো অথবা অনিচ্ছায়—তোমাদের কাছ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না। নিশ্চয়ই তোমরা ছিলে এক অবাধ্য সম্প্রদায়।’


আয়াত-৫৪ঃ

‎وَمَا (ওয়া মা → এবং কী)
‎مَنَعَہُمۡ (মানা‘আহুম → তাদের বাধা দিয়েছে)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎تُقۡبَلَ (তুকবালা → গ্রহণ করা হবে)
‎مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের কাছ থেকে)
‎نَفَقٰتُہُمۡ (নাফাকাতুহুম → তাদের ব্যয়সমূহ)
‎اِلَّاۤ (ইল্লা → ছাড়া)
‎اَنَّہُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
‎کَفَرُوۡا (কাফারূ → সত্য অস্বীকার করেছে)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
‎وَبِرَسُوۡلِہٖ (ওয়া বিরাসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলের প্রতি)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یَاۡتُوۡنَ (ইয়া’তূন → তারা আসে)
‎الصَّلٰوۃَ (আস-সালাত → যোগাযোগ)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
‎کُسَالٰی (কুসালা → অলস/অনাগ্রহী)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূন → তারা ব্যয় করে)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
‎کٰرِہُوۡنَ (কারিহূন → অনিচ্ছুক/অসন্তোষ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের ব্যয়সমূহ তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা না হওয়ার কারণ আর কিছু নয়—তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সত্য অস্বীকার করেছে; তারা যোগাযোগ করতে আসে না, এবং তারা অলস/অনাগ্রহী; আর তারা ব্যয় করে অসন্তোষজনক ভাবে ।”


আয়াত-৫৫ঃ

‎فَلَا (ফালা → অতএব না)
‎تُعۡجِبۡکَ (তু‘জিবকা → তোমাকে মুগ্ধ করে/আকর্ষণ করে)
‎اَمۡوَالُہُمۡ (আমওয়ালুহুম → তাদের সম্পদসমূহ)
‎وَلَاۤ (ওয়া লা → এবং না)
‎اَوۡلَادُہُمۡ (আওলাদুহুম → তাদের সন্তানসমূহ)
‎اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
‎یُرِیۡدُ (ইউরীদ → ইচ্ছা করেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لِیُعَذِّبَہُمۡ (লিইউ‘আযযিবাহুম → যাতে তাদের শাস্তি দেন)
‎بِہَا (বিহা → তা দ্বারা)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الۡحَیٰوۃِ (আল-হায়াত → জীবন)
‎الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব)
‎وَتَزۡہَقَ (ওয়া তাযহাক → এবং বেরিয়ে যায়/নিঃশেষ হয়ে যায়)
‎اَنۡفُسُہُمۡ (আনফুসুহুম → তাদের প্রাণসমূহ)
‎وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
‎کٰفِرُوۡنَ (কাফিরূন → সত্য অস্বীকারকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতএব, তাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাকে মুগ্ধ না করে। আল্লাহ তো কেবল চান, এর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে তাদের শাস্তি দিতে এবং তাদের প্রাণ যেন বেরিয়ে যায়, এবং তারা সত্য অস্বীকারকারী (কাফের)।


আয়াত-৫৬ঃ

‎وَیَحۡلِفُوۡنَ (ওয়া ইয়াহলিফূন → এবং তারা শপথ করে)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর নামে)
‎اِنَّہُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
‎لَمِنۡکُمۡ (লামিনকুম → তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত)
‎وَمَا (ওয়া মা → অথচ নয়)
‎ہُمۡ (হুম → তারা)
‎مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের অন্তর্ভুক্ত)
‎وَلٰکِنَّہُمۡ (ওয়া লাকিন্নাহুম → কিন্তু তারা)
‎قَوۡمٌ (কাওম → এক সম্প্রদায়)
‎یَّفۡرَقُوۡنَ (ইয়াফরাকূন → তারা ভয় পায়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, ‘নিশ্চয়ই তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা ভয় পায়।


আয়াত-৫৭ঃ

‎لَوۡ (লাও → যদি)
‎یَجِدُوۡنَ (ইয়াজিদূন → তারা পায়)
‎مَلۡجَاً (মালজাআন → আশ্রয়স্থল)
‎اَوۡ (আও → অথবা)
‎مَغٰرٰتٍ (মাগারাত → গুহাসমূহ)
‎اَوۡ (আও → অথবা)
‎مُدَّخَلًا (মুদ্দাখালান → প্রবেশের স্থান/গোপন আশ্রয়)
‎لَّوَلَّوۡا (লাওয়াল্লাও → অবশ্যই তারা ফিরে যেত)
‎اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তার দিকে)
‎وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
‎یَجۡمَحُوۡنَ (ইয়াজমাহূন → তারা দ্রুত ছুটে চলে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি তারা কোনো আশ্রয়স্থল, কোনো গুহা অথবা কোনো গোপন আশ্রয়স্থল পেত, তবে তারা অবশ্যই সেদিকে ফিরে যেত এবং দ্রুত ছুটে চলে যেত।


আয়াত-৫৮ঃ

‎وَمِنۡہُمۡ (ওয়া মিনহুম → এবং তাদের মধ্য থেকে)
‎مَّنۡ (মান → যে)
‎یَّلۡمِزُکَ (ইয়ালমিযুকা → তোমার প্রতি দোষারোপ করে)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الصَّدَقٰتِ (আস-সাদাকাত → স্বেচ্ছাদানসমূহ)
‎فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
‎اُعۡطُوۡا (উ‘তূ → তাদের দেওয়া হয়)
‎مِنۡہَا (মিনহা → তা থেকে)
‎رَضُوۡا (রাদূ → তারা সন্তুষ্ট হয়)
‎وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
‎لَّمۡ (লাম → না)
‎یُعۡطَوۡا (ইউ‘তাও → তাদের দেওয়া হয়)
‎مِنۡہَاۤ (মিনহা → তা থেকে)
‎اِذَا (ইযা → তখন)
‎ہُمۡ (হুম → তারা)
‎یَسۡخَطُوۡنَ (ইয়াসখাতূন → তারা অসন্তুষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ স্বেচ্ছাদানের বিষয়ে তোমার প্রতি দোষারোপ করে। অতঃপর তা থেকে (স্বেচ্ছাদান থেকে) তাদের দেওয়া হলে তারা সন্তুষ্ট হয়; আর তা থেকে তাদের দেওয়া না হলে তখনই তারা অসন্তুষ্ট/ক্ষুদ্ধ হয়ে যায়।


আয়াত-৫৯ঃ

‎وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
‎اَنَّہُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
‎رَضُوۡا (রাদূ → সন্তুষ্ট হতো)
‎مَاۤ (মা → যা)
‎اٰتٰىہُمُ (আতাহুম → তাদের দিয়েছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلُہٗ (ওয়া রাসূলুহূ → এবং তাঁর রাসূল)
‎وَقَالُوۡا (ওয়া কালূ → এবং তারা বলত)
‎حَسۡبُنَا (হাসবুনা → আমাদের জন্য যথেষ্ট)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎سَیُؤۡتِیۡنَا (সাইউ’তীনা → তিনি আমাদের দেবেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎فَضۡلِہٖ (ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ)
‎وَرَسُوۡلُہٗ (ওয়া রাসূলুহূ → এবং তাঁর রাসূল)
‎اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
‎اِلَی (ইলা → দিকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎رٰغِبُوۡنَ (রাগিবূন → আগ্রহী/আকাঙ্ক্ষী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তারা সন্তুষ্ট হতো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের যা দিয়েছেন তাতে এবং বলত, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দেবেন এবং তাঁর রাসূলও; নিশ্চয়ই আমরা তো আল্লাহর কাছেই আকাঙ্ক্ষী।’


আয়াত-৬০ঃ

‎اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
‎الصَّدَقٰتُ (আস-সাদাকাত → স্বেচ্ছাদানসমূহ)
‎لِلۡفُقَرَآءِ (লিল-ফুকারাআ → অভাবগ্রস্তদের জন্য)
‎وَالۡمَسٰکِیۡنِ (ওয়াল-মাসাকীন → এবং অসহায়দের জন্য)
‎وَالۡعٰمِلِیۡنَ (ওয়াল-‘আমিলীন → এবং যারা এর কাজে নিয়োজিত)
‎عَلَیۡہَا (আলাইহা → এর ওপর)
‎وَالۡمُؤَلَّفَۃِ (ওয়াল-মুআল্লাফাতি → এবং একত্রিত/সংযুক্ত করা হয়)
‎قُلُوۡبُہُمۡ (কুলূবুহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
‎وَفِی (ওয়া ফী → এবং মধ্যে)
‎الرِّقَابِ (আর-রিকাব → দাসমুক্তির জন্য)
‎وَالۡغٰرِمِیۡنَ (ওয়াল-গারিমীন → এবং ঋণগ্রস্তদের জন্য)
‎وَفِیۡ (ওয়া ফী → এবং মধ্যে)
‎سَبِیۡلِ (সাবীল → পথ)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَابۡنِ (ওয়াবনি → এবং সন্তান)
‎السَّبِیۡلِ (আস-সাবীল → পথ)
فَرِیۡضَۃً (ফারীদাতান → অবশ্যকর্তব্য বিধান/ফরজ)
‎مِّنَ (মিনা → পক্ষ থেকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
‎حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কেবলমাত্র স্বেচ্ছাদানসমূহ অভাবগ্রস্তদের জন্য (ফকির), অসহায়দের জন্য (ইয়াতিম), এর কাজে নিয়োজিতদের জন্য (দানের কাজে), যাদের অন্তরকে একত্রিত করা প্রয়োজন তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং এই মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ (অবশ্য পালনীয় বিধান)। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-৬১ঃ

‎وَمِنۡہُمُ (ওয়া মিনহুমু → এবং তাদের মধ্য থেকে)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎یُؤۡذُوۡنَ (ইউ’যূন → কষ্ট দেয়)
‎النَّبِیَّ (আন-নাবী → নবীকে)
‎وَیَقُوۡلُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূলূন → এবং তারা বলে)
‎ہُوَ (হুওয়া → তিনি)
‎اُذُنٌ (উযুন → শ্রবণশীল/যে সব কথা শুনে নেয়)
‎قُلۡ (কুল → বলো)
‎اُذُنُ (উযুন → শ্রবণশীল হওয়া)
‎خَیۡرٍ (খাইর → উত্তম)
‎لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
‎یُؤۡمِنُ (ইউ’মিনু → বিশ্বাস করেন)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
‎وَیُؤۡمِنُ (ওয়া ইউ’মিনু → এবং বিশ্বাস করেন)
‎لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ (লিল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের প্রতি)
‎وَرَحۡمَۃٌ (ওয়া রাহমাতুন → এবং দয়া)
‎لِّلَّذِیۡنَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য যারা)
‎اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
‎وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
‎یُؤۡذُوۡنَ (ইউ’যূন → কষ্ট দেয়)
‎رَسُوۡلَ (রাসূল → রাসূলকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎عَذَابٌ (আযাব → শাস্তি)
‎اَلِیۡمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি তো সব কথা শুনে নেন।’ বলো, ‘তিনি তোমাদের জন্য উত্তম শ্রবণশীল; তিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেন, একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের প্রতি আস্থা রাখেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের জন্য দয়াস্বরূপ।’ আর যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


আয়াত-৬২ঃ

‎یَحۡلِفُوۡنَ (ইয়াহলিফূন → তারা শপথ করে)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর নামে)
‎لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
‎لِیُرۡضُوۡکُمۡ (লিইউরদূকুম → তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্য)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → অথচ আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلُہٗۤ (ওয়া রাসূলুহূ → এবং তাঁর রাসূল)
‎اَحَقُّ (আহাক্ক → অধিকতর উপযুক্ত)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یُّرۡضُوۡہُ (ইউরদূহু → তাঁকে সন্তুষ্ট করা উচিত)
‎اِنۡ (ইন → যদি)
‎کَانُوۡا (কানূ → তারা হয়)
‎مُؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহর নামে শপথ করে। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিকতর হকদার যে, তাদেরকে সন্তুষ্ট করা উচিত—যদি তারা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হয়ে থাকে।


আয়াত-৬৩ঃ

اَلَمۡ (আলাম → কি না)
‎یَعۡلَمُوۡۤا (ইয়া‘লামূ → তারা জানে)
‎اَنَّہٗ (আন্নাহূ → যে)
‎مَنۡ (মান → কেউ)
‎یُّحَادِدِ (ইউহাদিদ → বিরোধিতা করে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلَہٗ (ওয়া রাসূলাহূ → এবং তাঁর রাসূলের)
‎فَاَنَّ (ফা-আন্না → তবে নিশ্চয়ই)
‎لَہٗ (লাহূ → তার জন্য)
‎نَارَ (নার → আগুন)
‎جَہَنَّمَ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
‎خَالِدًا (খালিদান → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
‎فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
‎ذٰلِکَ (যালিকা → সেটিই)
‎الۡخِزۡیُ (আল-খিযই → লাঞ্ছনা)
‎الۡعَظِیۡمُ (আল-‘আযীম → মহা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কি জানে না যে, যেকেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তার জন্য ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের আগুন রয়েছে; সে তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। সেটিই মহা লাঞ্ছনা।


আয়াত-৬৪ঃ

‎یَحۡذَرُ (ইয়াহযারু → সতর্ক থাকে)
‎الۡمُنٰفِقُوۡنَ (আল-মুনাফিকূন → দ্বিমুখী আচরণকারী / একরূপ দেখিয়ে অন্যরূপ ধারণকারী)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎تُنَزَّلَ (তুনাযযালা → অবতীর্ণ করা হয়)
‎عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
‎سُوۡرَۃٌ (সূরাতুন → একটি সূরা)
‎تُنَبِّئُہُمۡ (তুনাব্বি’উহুম → তাদের অবহিত করে)
‎بِمَا (বিমা → যা সম্পর্কে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহ)
‎قُلِ (কুল → বলো)
‎اسۡتَہۡزِءُوۡا (ইস্তাহযিঊ → তোমরা উপহাস করো)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎مُخۡرِجٌ (মুখরিজ → প্রকাশকারী)
‎مَّا (মা → যা)
‎تَحۡذَرُوۡنَ (তাহযারূন → তোমরা আশঙ্কা করছো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

দ্বিমুখী আচরণকারীরা আশঙ্কা করে যে, তাদের উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হবে, যা তাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করবে। বলো, ‘তোমরা উপহাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেবেন, যা তোমরা আশঙ্কা করছো।


আয়াত-৬৫ঃ

وَلَئِنۡ (ওয়া লাইন → আর যদি)
‎سَاَلۡتَہُمۡ (সা’আলতাহুম → তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো)
‎لَیَقُوۡلُنَّ (লাইয়াকূলুন্না → তারা অবশ্যই বলবে)
‎اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
‎کُنَّا (কুন্না → আমরা ছিলাম)
‎نَخُوۡضُ (নাখূদু → আমরা কথাবার্তায়/আলোচনায় নিমগ্ন ছিলাম)
‎وَنَلۡعَبُ (ওয়া নাল‘আবু → এবং আমরা খেলছিলাম/পরিহাস করছিলাম)
‎قُلۡ (কুল → বলো)
‎اَبِاللّٰہِ (আ-বিল্লাহ → আল্লাহকে নিয়ে কি)
‎وَاٰیٰتِہٖ (ওয়া আয়াতিহী → এবং তাঁর নিদর্শনসমূহকে)
‎وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রাসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলকে)
‎کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
‎تَسۡتَہۡزِءُوۡنَ (তাসতাহযিঊন → তোমরা উপহাস করছিলে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, তারা অবশ্যই বলবে, ‘আমরা তো কেবল কথাবার্তায় নিমগ্ন ছিলাম এবং পরিহাস করছিলাম।’ বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে?’


আয়াত-৬৬ঃ

‎لَا (লা → না)
‎تَعۡتَذِرُوۡا (তা‘তাযিরূ → তোমরা অজুহাত দিও)
‎قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
‎کَفَرۡتُمۡ (কাফারতুম → তোমরা সত্য অস্বীকার করেছ)
‎بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
‎اِیۡمَانِکُمۡ (ঈমানিকুম → তোমাদের বিশ্বাসের)
‎اِنۡ (ইন → যদি)
‎نَّعۡفُ (না‘ফু → আমরা ক্ষমা করি)
‎عَنۡ (আন → থেকে)
‎طَآئِفَۃٍ (তাআিফাতান → একটি দলের)
‎مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
‎نُعَذِّبۡ (নু‘আযযিব → আমরা শাস্তি দিই)
‎طَآئِفَۃً (তাআিফাতান → একটি দলকে)
‎بِاَنَّہُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
‎کَانُوۡا (কানূ → ছিল)
‎مُجۡرِمِیۡنَ (মুজরিমীন → অপরাধী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা অজুহাত দিও না। তোমরা বিশ্বাস স্থাপনের পর সত্য অস্বীকার করেছ। তোমাদের মধ্য থেকে যদি আমরা একটি দলকে ক্ষমা করি, তবে আরেকটি দলকে শাস্তি দেব—কারণ তারা অপরাধী ছিল।


আয়াত-৬৭ঃ

اَلۡمُنٰفِقُوۡنَ (আল-মুনাফিকূন → দ্বিমুখী আচরণকারী)
‎وَالۡمُنٰفِقٰتُ (ওয়াল-মুনাফিকাত → এবং দ্বিমুখী আচরণকারীনিরা)
‎بَعۡضُہُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের কেউ কেউ)
‎مِّنۡۢ (মিন → থেকে)
‎بَعۡضٍ (বা‘দ → একে অপরের)
‎یَاۡمُرُوۡنَ (ইয়া’মুরূন → তারা নির্দেশ দেয়)
‎بِالۡمُنۡکَرِ (বিল-মুনকার → অস্বীকৃত)
‎وَیَنۡہَوۡنَ (ওয়া ইয়ানহাওন → এবং তারা নিষেধ করে)
‎عَنِ (আন → থেকে)
‎الۡمَعۡرُوۡفِ (আল-মা‘রূফ → স্বীকৃত)
‎وَیَقۡبِضُوۡنَ (ওয়া ইয়াকবিদূন → এবং তারা সংকুচিত করে রাখে)
‎اَیۡدِیَہُمۡ (আইদিয়াহুম → তাদের হাতসমূহ)
‎نَسُوا (নাসূ → তারা ভুলে গেছে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎فَنَسِیَہُمۡ (ফানাসিয়াহুম → ফলে তিনি তাদের উপেক্ষা করেছেন)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল-মুনাফিকীন → দ্বিমুখী আচরণকারীরা)
‎ہُمُ (হুমু → তারাই)
‎الۡفٰسِقُوۡنَ (আল-ফাসিকূন → অবাধ্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

দ্বিমুখী আচরণকারী পুরুষ ও দ্বিমুখী আচরণকারী নারীরা একে অপরেরই অনুরূপ। তারা অন্যায় কাজের নির্দেশ দেয়, সৎ ও স্বীকৃত কাজ থেকে নিষেধ করে এবং তাদের হাত সংকুচিত করে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদের উপেক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই দ্বিমুখী আচরণকারীরা অবাধ্য (ফাসিক)।


আয়াত-৬৮ঃ

‎وَعَدَ (ওয়া‘আদা → প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল-মুনাফিকীন → দ্বিমুখী আচরণকারী)
‎وَالۡمُنٰفِقٰتِ (ওয়াল-মুনাফিকাত → এবং দ্বিমুখী আচরণকারীনীদের)
‎وَالۡکُفَّارَ (ওয়াল-কুফফার → এবং সত্য অস্বীকারকারীদের)
‎نَارَ (নার → আগুন)
‎جَہَنَّمَ (জাহান্নাম → জাহান্নামের)
‎خٰلِدِیۡنَ (খালিদীন → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
‎فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
‎ہِیَ (হিয়া → সেটিই)
‎حَسۡبُہُمۡ (হাসবুহুম → তাদের জন্য যথেষ্ট)
‎وَلَعَنَہُمُ (ওয়া লা‘আনাহুম → এবং তাদের থেকে দয়া দূর করেছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
‎عَذَابٌ (আযাব → শাস্তি)
‎مُّقِیۡمٌ (মুকীম → স্থায়ী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ দ্বিমুখী আচরণকারী পুরুষ, দ্বিমুখী আচরণকারী নারী এবং সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; তারা তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। সেটিই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের থেকে দয়া দূর করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।


আয়াত-৬৯ঃ

‎کَالَّذِیۡنَ (কাল্লাযীনা → তাদের মতো, যারা)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎قَبۡلِکُمۡ (কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
‎کَانُوۡۤا (কানূ → তারা ছিল)
‎اَشَدَّ (আশাদ্দা → অধিক শক্তিশালী)
‎مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের চেয়ে)
‎قُوَّۃً (কুওয়াতান → শক্তিতে)
‎وَّاَکۡثَرَ (ওয়া আকছারা → এবং অধিক)
‎اَمۡوَالًا (আমওয়ালান → সম্পদে)
‎وَّاَوۡلَادًا (ওয়া আওলাদান → এবং সন্তান-সন্ততিতে)
‎فَاسۡتَمۡتَعُوۡا (ফাস্তামতা‘ঊ → অতঃপর তারা উপভোগ করেছে)
‎بِخَلَاقِہِمۡ (বিখালাকিহিম → তাদের প্রাপ্য অংশ)
‎فَاسۡتَمۡتَعۡتُمۡ (ফাস্তামতা‘তুম → অতঃপর তোমরাও উপভোগ করেছ)
‎بِخَلَاقِکُمۡ (বিখালাকিকুম → তোমাদের প্রাপ্য অংশ)
‎کَمَا (কামা → যেমন)
‎اسۡتَمۡتَعَ (ইস্তামতা‘আ → উপভোগ করেছে)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎قَبۡلِکُمۡ (কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
‎بِخَلَاقِہِمۡ (বিখালাকিহিম → তাদের প্রাপ্য অংশ)
‎وَخُضۡتُمۡ (ওয়া খুদতুম → এবং তোমরা নিমগ্ন হয়েছিলে)
‎کَالَّذِیۡ (কাল্লাযী → তাদের মতো যারা)
‎خَاضُوۡا (খাদূ → নিমগ্ন হয়েছিল)
‎اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
‎حَبِطَتۡ (হাবিতাত → নিষ্ফল হয়ে গেছে)
‎اَعۡمَالُہُمۡ (আ‘মালুহুম → তাদের কর্মসমূহ)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব জীবন)
‎وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল-আখিরাহ → এবং পরকাল)
‎وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
‎ہُمُ (হুমু → তারা)
‎الۡخٰسِرُوۡنَ (আল-খাসিরূন → ক্ষতিগ্রস্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো—তারা তোমাদের চেয়ে শক্তিতে অধিক শক্তিশালী ছিল, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতেও অধিক ছিল। অতঃপর তারা তাদের প্রাপ্য অংশ উপভোগ করেছে; তোমরাও তোমাদের প্রাপ্য অংশ উপভোগ করেছ, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের প্রাপ্য অংশ উপভোগ করেছিল। আর তোমরাও তেমন কথাবার্তায় নিমগ্ন হয়েছিলে, যেমন তারা নিমগ্ন হয়েছিল। তারাই এমন, যাদের কর্মসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ফল হয়ে গেছে; আর তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।


আয়াত-৭০ঃ

‎اَلَمۡ (আলাম → কি না)
‎یَاۡتِہِمۡ (ইয়া’তিহিম → তাদের কাছে এসেছে)
‎نَبَاُ (নাবা → সংবাদ)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎قَبۡلِہِمۡ (কাবলিহিম → তাদের পূর্বে)
‎قَوۡمِ (কাওমি → সম্প্রদায়ের)
‎نُوۡحٍ (নূহ → নূহের)
‎وَّعَادٍ (ওয়া ‘আদ → এবং ‘আদের)
‎وَّثَمُوۡدَ (ওয়া ছামূদ → এবং ছামূদের)
‎وَقَوۡمِ (ওয়া কাওমি → এবং সম্প্রদায়ের)
‎اِبۡرٰہِیۡمَ (ইব্রাহীম → ইব্রাহীমের)
‎وَاَصۡحٰبِ (ওয়া আসহাবি → এবং অধিবাসীদের)
‎مَدۡیَنَ (মাদইয়ান → মাদইয়ানের)
‎وَالۡمُؤۡتَفِکٰتِ (ওয়াল-মু’তাফিকাত → এবং উল্টে দেওয়া জনপদসমূহের)
‎اَتَتۡہُمۡ (আতাতহুম → তাদের কাছে এসেছিল)
‎رُسُلُہُمۡ (রুসুলুহুম → তাদের রাসূলগণ)
‎بِالۡبَیِّنٰتِ (বিল-বাইয়িনাত → সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে)
‎فَمَا (ফামা → অতএব নয়)
‎کَانَ (কানা → ছিলেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لِیَظۡلِمَہُمۡ (লিইয়াজলিমাহুম → তাদের প্রতি অন্যায় করবেন)
‎وَلٰکِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
‎کَانُوۡۤا (কানূ → তারা ছিল)
‎اَنۡفُسَہُمۡ (আনফুসাহুম → নিজেদের প্রতি)
‎یَظۡلِمُوۡنَ (ইয়াজলিমূন → অন্যায় করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ পৌঁছেনি—নূহের সম্প্রদায়, ‘আদ, ছামূদ, ইব্রাহীমের সম্প্রদায়, মাদইয়ানের অধিবাসী এবং উল্টে দেওয়া জনপদসমূহের? তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) নিয়ে এসেছিলেন। অতএব, আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করেননি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছিল।


আয়াত-৭১ঃ

‎وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ (ওয়াল-মু’মিনূন → এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)
‎وَالۡمُؤۡمِنٰتُ (ওয়াল-মু’মিনাত → এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসিনীরা)
‎بَعۡضُہُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের কেউ কেউ
‎اَوۡلِیَآءُ (আওলিয়া → সহযোগী/অভিভাবক)
‎بَعۡضٍ (বা‘দ → একে অপরের)
‎یَاۡمُرُوۡنَ (ইয়া’মুরূন → তারা নির্দেশ দেয়)
‎بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিল-মা‘রূফ → স্বীকৃত/সৎ কাজের)
‎وَیَنۡہَوۡنَ (ওয়া ইয়ানহাওন → এবং তারা নিষেধ করে)
‎عَنِ (আন → থেকে)
‎الۡمُنۡکَرِ (আল-মুনকার → অস্বীকৃত/অন্যায় কাজের)
‎وَیُقِیۡمُوۡنَ (ওয়া ইউকীমূন → এবং তারা প্রতিষ্ঠিত রাখে)
‎الصَّلٰوۃَ (আস-সালাত → যোগাযোগ)
‎وَیُؤۡتُوۡنَ (ওয়া ইউ’তূন → এবং তারা প্রদান করে)
‎الزَّکٰوۃَ (আয-যাকাত → পরিশুদ্ধির দান)
‎وَیُطِیۡعُوۡنَ (ওয়া ইউতী‘ঊন → এবং তারা আনুগত্য করে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلَہٗ (ওয়া রাসূলাহূ → এবং তাঁর রাসূলের)
‎اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
‎سَیَرۡحَمُہُمُ (সাইয়ারহামুহুম → অচিরেই তাদের প্রতি রহমত করবেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎عَزِیۡزٌ (‘আযীয → পরাক্রমশালী)
‎حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর একনিষ্ঠ বিশ্বাসী পুরুষ ও একনিষ্ঠ বিশ্বাসী নারীরা একে অপরের সহযোগী। তারা সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে; তারা যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত রাখে, পরিশুদ্ধ হয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। তারাই—আল্লাহ অচিরেই যাদের প্রতি দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-৭২ঃ

‎وَعَدَ (ওয়া‘আদা → প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
‎وَالۡمُؤۡمِنٰتِ (ওয়াল-মু’মিনাত → এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসিনীদের)
‎جَنّٰتٍ (জান্নাত → উদ্যানসমূহ)
‎تَجۡرِیۡ (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎تَحۡتِہَا (তাহতিহা → তার নিচ দিয়ে)
‎الۡاَنۡہٰرُ (আল-আনহার → নদীসমূহ)
‎خٰلِدِیۡنَ (খালিদীন → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
‎فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
‎وَمَسٰکِنَ (ওয়া মাসাকিন → এবং আবাসসমূহ)
‎طَیِّبَۃً (তাইয়িবাতান → পবিত্র)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎جَنّٰتِ (জান্নাতি → উদ্যানসমূহের)
‎عَدۡنٍ (‘আদন → স্থায়ী অবস্থানের)
‎وَرِضۡوَانٌ (ওয়া রিদওয়ান → এবং সন্তুষ্টি)
‎مِّنَ (মিনা → পক্ষ থেকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اَکۡبَرُ (আকবার → সর্বাধিক মহান)
‎ذٰلِکَ (যালিকা → সেটিই)
‎ہُوَ (হুওয়া → তা)
‎الۡفَوۡزُ (আল-ফাওয → সাফল্য)
‎الۡعَظِیۡمُ (আল-‘আযীম → মহান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ একনিষ্ঠ বিশ্বাসী পুরুষ ও একনিষ্ঠ বিশ্বাসী নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমন উদ্যানসমূহের, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; তারা তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর স্থায়ী অবস্থানের উদ্যানসমূহে পবিত্র আবাস সমূহেরও। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সর্বাধিক মহান। সেটিই মহাসাফল্য।


আয়াত-৭৩ঃ

‎یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
‎النَّبِیُّ (আন-নাবী → নবী)
‎جَاہِدِ (জাহিদ → সাধনা/ একাগ্রতার সহিত প্রচেষ্টা করো)
‎الۡکُفَّارَ (আল-কুফফার → সত্য অস্বীকারকারীদের)
‎وَالۡمُنٰفِقِیۡنَ (ওয়াল-মুনাফিকীন → এবং দ্বিমুখী আচারনকারী)
‎وَاغۡلُظۡ (ওয়াগলুয → কঠোর হও)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের প্রতি)
‎وَمَاۡوٰىہُمۡ (ওয়া মা’ওয়াহুম → এবং তাদের আশ্রয়স্থল)
‎جَہَنَّمُ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
‎وَبِئۡسَ (ওয়া বি’সা → এবং কতই না নিকৃষ্ট)
‎الۡمَصِیۡرُ (আল-মাসীর → প্রত্যাবর্তনস্থল/পরিণতি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে নবী! সত্য অস্বীকারকারীদের (কাফিরদের) ও দ্বিমুখী আচারণকারীদের (মুনাফিকদের) বিরুদ্ধে একাগ্রতার সহিত প্রচেষ্টা (জিহাদ) করো এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের আশ্রয়স্থল ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান; আর কতই না নিকৃষ্ট সেই আবাসস্থল।


আয়াত-৭৪ঃ

یَحۡلِفُوۡنَ (ইয়াহলিফূন → তারা শপথ করে)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর নামে)
‎مَا (মা → যা নয়)
‎قَالُوۡا (কালূ → তারা বলেছে)
‎وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → অথচ অবশ্যই)
‎قَالُوۡا (কালূ → তারা বলেছে)
‎کَلِمَۃَ (কালিমাত → বাণী)
‎الۡکُفۡرِ (আল-কুফর → সত্য অস্বীকারের)
‎وَکَفَرُوۡا (ওয়া কাফারূ → এবং তারা সত্য অস্বীকার করেছে)
‎بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
‎اِسۡلَامِہِمۡ (ইসলামিহিম → তাদের আত্মসমর্পণের)
‎وَہَمُّوۡا (ওয়া হাম্মূ → এবং তারা সংকল্প করেছিল)
‎بِمَا (বিমা → এমন বিষয়ে, যা)
‎لَمۡ (লাম → না)
‎یَنَالُوۡا (ইয়ানালূ → তারা অর্জন করতে পেরেছে)
‎وَمَا (ওয়া মা → এবং নয়)
‎نَقَمُوۡۤا (নাকামূ → তারা অসন্তুষ্ট)
‎اِلَّاۤ (ইল্লা → ছাড়া)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎اَغۡنٰہُمُ (আগনাহুম → তিনি তাদের অভাবমুক্ত করেছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلُہٗ (ওয়া রাসূলুহূ → এবং তাঁর রাসূল)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎فَضۡلِہٖ (ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ)
‎فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
‎یَّتُوۡبُوۡا (ইয়াতূবূ → তারা ফিরে আসে/তওবা করে)
‎یَکُ (ইয়াকু → হবে)
‎خَیۡرًا (খাইরান → উত্তম)
‎لَّہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
‎یَّتَوَلَّوۡا (ইয়াতাওয়াল্লাও → তারা ফিরে যায়/বিমুখ হয়)
‎یُعَذِّبۡہُمُ (ইউ‘আযযিবহুম → তিনি তাদের শাস্তি দেবেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
‎اَلِیۡمًا (আলীমা → যন্ত্রণাদায়ক)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব জীবন)
‎وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল-আখিরাহ → এবং পরকাল)
‎وَمَا (ওয়া মা → এবং নেই)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الۡاَرۡضِ (আল-আরদ → পৃথিবীতে)
‎مِنۡ (মিন → কোনো)
‎وَّلِیٍّ (ওয়ালিয়্য → অভিভাবক)
‎وَّلَا (ওয়া লা → এবং নেই)
‎نَصِیۡرٍ (নাসীর → সাহায্যকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা অবশ্যই সত্য অস্বীকারের বাণী (কালিমা) বলেছে এবং তারা আত্মসমর্পণের (ইসলাম গ্রহণের) পর সত্য অস্বীকার করেছে। আর তারা এমন কাজ করার ইচ্ছা করেছিল, যা তারা অর্জন করতে পারেনি। তারা শুধু এ কারণে অসন্তুষ্ট হয়েছিল যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাঁদের নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের অভাবমুক্ত করেছিলেন। অতএব, তারা যদি ফিরে আসে/তওবা করে, তবে তা তাদের জন্য উত্তম। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন। আর পৃথিবীতে তাদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই।


আয়াত-৭৫ঃ

وَمِنۡہُمۡ (ওয়া মিনহুম → এবং তাদের মধ্য থেকে)
‎مَّنۡ (মান → যে)
‎عٰہَدَ (আহাদা → অঙ্গীকার করেছে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لَئِنۡ (লাইইন → যদি অবশ্যই)
‎اٰتٰىنَا (আতানা → আমাদের দেন)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎فَضۡلِہٖ (ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ)
‎لَنَصَّدَّقَنَّ (লানাসসাদ্দাকান্না → অবশ্যই আমরা স্বেচ্ছাদান করব)
‎وَلَنَکُوۡنَنَّ (ওয়া লানাকূনান্না → এবং অবশ্যই আমরা হব)
‎مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
‎الصّٰلِحِیۡنَ (আস-সালিহীন → সৎকর্মশীলদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল—‘তিনি যদি আমাদের নিজ অনুগ্রহ থেকে দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা স্বেচ্ছাদান করব এবং অবশ্যই আমরা সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব।’