সূরা আত তাওবাহ্ (التوبة) | পাপ থেকে ফিরে আসা
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১২৯



رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-০১ঃ

بَرَاءَةٌ (বারা-আত → সম্পর্কমুক্তি/সম্পর্কচ্ছেদ)
مِّنَ (মিন → পক্ষ থেকে)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَرَسُولِهِ (ওয়া রাছূলিহী → এবং তাঁর বার্তাবাহকের)
إِلَى (ইলা → প্রতি)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
عَاهَدۡتُّمۡ (‘আ-হাদতুম → তোমরা অঙ্গিকার/ চুক্তি করেছিলে)
مِّنَ (মিন → মধ্য থেকে)
الۡمُشۡرِكِينَ (আল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহকের (রাসূলের) পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা, যাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গিকার করেছিলে—তাদের মধ্য থেকে যারা অংশীদার স্থাপন করে (মুশরিক)।


আয়াত-০২ঃ

فَسِيحُوا (ফাছীহূ → অতএব বিচরণ করো)
فِي الۡأَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে)
أَرۡبَعَةَ (আরবা‘আত → চার)
أَشۡهُرٍ (আশহুর → মাস)
وَاعۡلَمُوا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
أَنَّكُمۡ (আন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
غَيۡرُ (গাইর → হতে পারবে না)
مُعۡجِزِي (মু‘জিঝী → অক্ষম করে দিতে)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহ )
وَأَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مُخۡزِي (মুখঝী → লাঞ্ছিতকারী)
الۡكَافِرِينَ (আল-কাফিরীন → সত্য অস্বীকারকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতএব, তোমরা পৃথিবীতে চার মাস বিচরণ করো এবং জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করে দিতে পারবে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন।


আয়াত-০৩ঃ

وَأَذَانٌ (ওয়া আযা-ন → এবং ঘোষণা)
مِّنَ (মিন → পক্ষ থেকে)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَرَسُولِهِ (ওয়া রাছূলিহী → এবং তাঁর বার্তাবাহকের)
إِلَى (ইলা → প্রতি)
النَّاسِ (আন-না-ছ → মানবজাতীর প্রতি)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → দিনে)
الۡحَجِّ (আল-হাজ্জ → বাহাস/আলোচনা)
الۡأَكۡبَرِ (আল-আকবার → মহত্তম/বৃহত্তম)
أَنَّ (আন্না → যে)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
بَرِيۡٓءٌ (বারীউ → সম্পর্কমুক্ত)
مِّنَ (মিন → থেকে)
الۡمُشۡرِكِينَ (আল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে)
وَرَسُولُهُ (ওয়া রাছূলুহূ → এবং তাঁর বার্তাবাহকও)
فَإِنۡ (ফাই ইন → অতএব যদি)
تُبۡتُمۡ (তুবতুম → তোমরা ফিরে আসো)
فَهُوَ (ফাহুওয়া → তবে তা)
خَيۡرٌ (খাইর → কল্যাণকর)
لَّكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَوَلَّيۡتُمۡ (তাওয়াল্লাইতুম → তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও)
فَاعۡلَمُوا (ফা‘লামূ → তাহলে জেনে রাখো)
أَنَّكُمۡ (আন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
غَيۡرُ (গাইরু → নও)
مُعۡجِزِي (মু‘জিঝী → অক্ষমকারী/পরাস্তকারী)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَبَشِّرِ (ওয়া বাশশির → এবং সংবাদ দাও)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদেরকে যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → সত্য অস্বীকার করেছে)
بِعَذَابٍ (বি‘আযা-ব → শাস্তির)
أَلِيمٍ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর মহান বাহাসের দিনে মানবজাতীর প্রতি আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহকের পক্ষ থেকে ঘোষণা যে—নিশ্চয়ই আল্লাহ অংশীদার স্থাপনকারীদের থেকে সম্পর্কমুক্ত, এবং তাঁর বার্তাবাহকও। অতএব, তোমরা যদি ফিরে আসো, তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করে দিতে পারবে না। আর যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।


আয়াত-০৪ঃ

إِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
عَاهَدۡتُّمۡ (‘আ-হাদতুম → তোমরা অঙ্গিকার/চুক্তি করেছিলে)
مِّنَ (মিন → মধ্য থেকে)
الۡمُشۡرِكِينَ (আল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
لَمۡ (লাম → না)
يَنقُصُوكُمۡ (ইয়ানকুসূকুম → তারা তোমাদের অধিকার কমায়/ক্ষতি করে)
شَيۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَلَمۡ (ওয়া লাম → এবং না)
يُظَاهِرُوا (ইউযা-হিরূ → তারা কারও সঙ্গে মিলে দাঁড়ায়)
عَلَيۡكُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের বিরুদ্ধে)
أَحَدًا (আহাদান → কাউকে)
فَأَتِمُّوا (ফাআতিম্মূ → অতএব পূর্ণ করো)
إِلَيۡهِمۡ (ইলাইহিম → তাদের সঙ্গে)
عَهۡدَهُمۡ (‘আহদাহুম → তাদের অঙ্গিকার/চুক্তি)
إِلَىٰ (ইলা → পর্যন্ত)
مُدَّتِهِمۡ (মুদ্দাতিহিম → তাদের নির্ধারিত সময়সীমা)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
يُحِبُّ (ইউহিব্ব → ভালোবাসেন)
الۡمُتَّقِينَ (আল-মুত্তাকীন → খোদাভীরুদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে তাদের মধ্যে যারা অংশীদার স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছিলে, অতঃপর তারা তোমাদের চুক্তির কোনো কিছু কমায়নি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কারও সঙ্গে সহযোগিতা করেনি—তোমরা তাদের সঙ্গে তাদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ খোদাভীরুদের ভালোবাসেন।


আয়াত-০৫ঃ

فَإِذَا (ফাইযা → অতঃপর যখন)
انْسَلَخَ (ইনছালাখা → বেরিয়ে গেল/সময়সীমা শেষ হলো)
الْأَشْهُرُ (আশহুর → মাসসমূহ)
الْحُرُمُ (হুরুম → সম্মানিত/নিষিদ্ধ মাসসমূহ)
فَاقْتُلُوا (ফাকতুলূ → তখন হত্যা করো)
الْمُشْرِكِينَ (আল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে)
حَيْثُ (হাইছু → যেখানে)
وَجَدْتُّمُوهُمْ (ওয়াজাদতুমূহুম → তোমরা তাদেরকে পেয়েছ)
وَخُذُوهُمْ (ওয়া খুযূহুম → এবং তাদেরকে ধরো)
وَاحْصُرُوهُمْ (ওয়াহসুরূহুম → এবং তাদেরকে অবরুদ্ধ করো)
وَاقْعُدُوا (ওয়াক‘উদূ → এবং অবস্থান করো/অপেক্ষা করো)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের বিরুদ্ধে)
كُلَّ (কুল্লা → প্রত্যেক)
مَرْصَدٍ (মারসাদ → পর্যবেক্ষণস্থল/অপেক্ষার স্থান)
فَإِنْ (ফাই ইন → অতঃপর যদি)
تَابُوا (তাবূ → তারা অনুতপ্ত হয়)
وَأَقَامُوا (ওয়া আকামূ → এবং প্রতিষ্ঠা করে)
الصَّلَاةَ (আস-সালাত → যোগাযোগ/সংযোগ)
وَآتَوُا (ওয়া আতাও → এবং প্রদান করে)
الزَّكَاةَ (আয-যাকাত → পরিশুদ্ধকরণ)
فَخَلُّوا (ফাখাল্লূ → তাহলে ছেড়ে দাও)
سَبِيلَهُمْ (সাবীলাহুম → তাদের পথ)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
غَفُورٌ (গাফূর → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَحِيمٌ (রাহীম → পরম দয়াশীল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা অংশীদার স্থাপনকারীদের যেখানে পাও, তাদেরকে হত্যা করো; তাদেরকে গ্রেফতার করো এবং প্রত্যেক ঘাটিতে ওত পেতে তাদের জন্য অপেক্ষা করো। তবে তারা যদি ফিরে আসে, যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে এবং পরিশুদ্ধ হয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়াশীল। (বি:দ্র: এখানে চুক্তি/অঙ্গিকার ভঙ্গকারী মুশরিকদের কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ তাদের কেউ চুক্তি ভঙ্গ করলে তার সাথে সংগ্রাম/যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যাবে। পূর্বের আয়াত কয়েকটি ভালো করে দেখতে হবে, নয়তো ভুল অর্থ দাঁড়াবে)


আয়াত-০৬ঃ

وَاِنۡ (ওয়া ইন → এবং যদি)
اَحَدٌ (আহাদুন → কোনো একজন)
مِّنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
الۡمُشۡرِکِیۡنَ (আল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে)
اسۡتَجَارَکَ (ইস্তাজারাকা → তোমার কাছে আশ্রয় চায়)
فَاَجِرۡہُ (ফাআজিরহু → তবে তাকে আশ্রয় দাও)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ পর্যন্ত)
یَسۡمَعَ (ইয়াসমা‘আ → সে শোনে)
کَلٰمَ (কালাম → বাণী)
اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
ثُمَّ (ছুম্মা → অতঃপর)
اَبۡلِغۡہُ (আব্লিগহু → তাকে পৌঁছে দাও)
مَاۡمَنَہٗ (মা’মানাহূ → তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল)
ذٰلِکَ (যালিকা → সেটি)
بِاَنَّہُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
قَوۡمٌ (কাওমুন → এক সম্প্রদায়)
لَّا (লা → না)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূন → তারা জানে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অংশীদার স্থাপনকারীদের (শিরককারীদের) মধ্য থেকে যদি কোনো একজন তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর বাণী শোনে। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পৌঁছে দাও। এটি এজন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা জানে না।


আয়াত-০৭ঃ

کَیۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
یَکُوۡنُ (ইয়াকূনু → হয়)
لِلۡمُشۡرِکِیۡنَ (লিল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে তাদের জন্য)
عَہۡدٌ (‘আহদুন → চুক্তি/অঙ্গীকার)
عِنۡدَ (‘ইনদা → নিকট)
اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَعِنۡدَ (ওয়া ‘ইনদা → এবং কাছে)
رَسُوۡلِہٖ (রাসূলিহী → তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহকের)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
عٰہَدۡتُّمۡ (‘আ-হাদতুম → তোমরা চুক্তি করেছিলে)
عِنۡدَ (‘ইনদা → নিকট)
الۡمَسۡجِدِ (আল-মাসজিদ → ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রার্থনাস্থল/ সমাবেশস্থল)
الۡحَرَامِ (আল-হারাম → সম্মানিত/নিষিদ্ধ)
فَمَا (ফামা → অতএব যতক্ষণ)
اسۡتَقَامُوۡا (ইস্তাকামূ → তারা অবিচল থাকে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
فَاسۡتَقِیۡمُوۡا (ফাস্তাকীমূ → তোমরাও অবিচল থাকো)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُتَّقِیۡنَ (আল-মুত্তাকীন → খোদাভীরু ব্যক্তিদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা অংশীদার (শিরক) স্থাপন করে, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে এবং তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহকের কাছে কীভাবে কোনো চুক্তি থাকতে পারে? তবে তারা ব্যতীত, যাদের সঙ্গে তোমরা সম্মানিত মসজিদের ( ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রার্থনাস্থলের) কাছে চুক্তি করেছিলে। অতএব, যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য অবিচল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ খোদাভীরু ব্যক্তিদের (মুত্তাকীদের) ভালোবাসেন।


আয়াত-০৮ঃ

کَیۡفَ (কাইফা → কীভাবে/কেমন করে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → এবং যদি)
یَّظۡہَرُوۡا (ইয়াযহারূ → তারা প্রাধান্য লাভ করে)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
لَا (লা → না)
یَرۡقُبُوۡا (ইয়ারকুবূ → তারা রক্ষা করে/সম্মান করে)
فِیۡکُمۡ (ফীকুম → তোমাদের বিষয়ে)
اِلًّا (ইল্লান → আত্মীয়তার বন্ধন/সম্পর্ক)
وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
ذِمَّۃً (যিম্মাতান → দায়বদ্ধতা)
یُرۡضُوۡنَکُمۡ (ইউরদূনাকুম → তারা তোমাদের সন্তুষ্ট করতে চায়)
بِاَفۡوَاہِہِمۡ (বিআফওয়াহিহিম → তাদের মুখের কথায়)
وَتَاۡبٰی (ওয়া তা’বা → অথচ অস্বীকার করে)
قُلُوۡبُہُمۡ (কুলূবুহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
وَاَکۡثَرُہُمۡ (ওয়া আকছারুহুম → আর তাদের অধিকাংশ)
فٰسِقُوۡنَ (ফাসিকূন → অবাধ্য/সীমালঙ্ঘনকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কেমন করে/কীভাবে? আর যদি তারা তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করে, তবে তারা তোমাদের বিষয়ে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন ও দায়বদ্ধতা রক্ষা করবে না। তারা মুখের কথায় তোমাদের সন্তুষ্ট করতে চায়, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। আর তাদের অধিকাংশই অবাধ্য (ফাসিক)।


আয়াত-০৯ঃ

اِشۡتَرَوۡا (ইশতারাও → তারা বিনিময়ে গ্রহণ করেছে)
‎بِاٰیٰتِ (বি-আয়াতি → নিদর্শনের বিনিময়ে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক)
‎ثَمَنًا (ছামানান → মূল্য)
‎قَلِیۡلًا (কালীলান → অল্প)
‎فَصَدُّوۡا (ফাসাদ্দূ → অতঃপর তারা বাধা দিয়েছে)
‎عَنۡ (‘আন → থেকে)
‎سَبِیۡلِہٖ (সাবীলিহী → তাঁর পথ)
‎اِنَّہُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
‎سَآءَ (সাআ → মন্দ হয়েছে)
‎مَا (মা → যা)
‎کَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
‎یَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া‘মালূন → তারা কাজ করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা আল্লাহর আয়াতের (নিদর্শনের) বিনিময়ে অল্প মূল্য গ্রহণ করেছে, অতঃপর তাঁর পথে বাধা দিয়েছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে, তা কতই না নিকৃষ্ট।


আয়াত-১০ঃ

‎لَا (লা → না)
‎یَرۡقُبُوۡنَ (ইয়ারকুবূনা → তারা রক্ষা করে/সম্মান করে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে/উক্ত বিষয়ের মধ্যে)
‎مُؤۡمِنٍ (মু’মিন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)
‎اِلًّا (ইল্লান → আত্মীয়তার বন্ধন)
‎وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎ذِمَّۃً (যিম্মাতান → দায়বদ্ধতা)
‎وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
‎ہُمُ (হুমু → তারা)
‎الۡمُعۡتَدُوۡنَ (আল-মু‘তাদূন → সীমালঙ্ঘনকারীরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কোনো একনিষ্ঠ বিশ্বাসীর (মুমিনদের) বিষয়েও আত্মীয়তার বন্ধন ও দায়বদ্ধতার সম্মান করে না। আর তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।


আয়াত-১১ঃ

‎فَاِنۡ (ফাই ইন → অতঃপর যদি)
‎تَابُوۡا (তাবূ → তারা ফিরে আসে/অনুতপ্ত হয়)
‎وَاَقَامُوا (ওয়া আকামূ → এবং তারা প্রতিষ্ঠা করে)
‎الصَّلٰوۃَ (আস-সালাত → যোগাযোগ)
‎وَاٰتَوُا (ওয়া আতাও → এবং তারা প্রদান করে)
‎الزَّکٰوۃَ (আয-যাকাত → পরিশুদ্ধির দান)
‎فَاِخۡوَانُکُمۡ (ফাইখওয়ানুকুম → তবে তারা তোমাদের ভাই/সহচর)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الدِّیۡنِ (আদ-দীন → জীবনব্যবস্থা)
‎وَنُفَصِّلُ (ওয়া নুফাসসিলু → এবং আমরা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করি)
‎الۡاٰیٰتِ (আল-আয়াত → নিদর্শনসমূহ)
‎لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এক সম্প্রদায়ের জন্য)
‎یَّعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূন → যারা জ্ঞান রাখে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর তারা যদি ফিরে আসে, যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে এবং পরিশুদ্ধ হয়, তবে তারা জীবনব্যবস্থার (দ্বীনের) ক্ষেত্রে তোমাদের ভাই। আর যারা জ্ঞান রাখে, এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য আমরা আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করি।


আয়াত-১২ঃ

‎وَاِنۡ (ওয়া ইন → এবং যদি)
‎نَّکَثُوۡۤا (নাকাছূ → তারা ভঙ্গ করে)
‎اَیۡمَانَہُمۡ (আইমানাহুম → তাদের অঙ্গীকারসমূহ)
‎مِّنۡۢ (মিন → থেকে)
‎بَعۡدِ (বা‘দি → পরে)
‎عَہۡدِہِمۡ (‘আহদিহিম → তাদের চুক্তি)
‎وَطَعَنُوۡا (ওয়া তা‘আনূ → এবং তারা আঘাত করে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎دِیۡنِکُمۡ (দীনিকুম → তোমাদের জীবনব্যবস্থা)
‎فَقَاتِلُوۡۤا (ফাকাতিলূ → অতএব তোমরা লড়াই করো)
‎اَئِمَّۃَ (আইম্মাতা → নেতৃবৃন্দকে)
‎الۡکُفۡرِ (আল-কুফর → সত্য অস্বীকারের)
‎اِنَّہُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
‎لَاۤ (লা → নেই)
‎اَیۡمَانَ (আইমানা → অঙ্গীকার)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎لَعَلَّہُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
‎یَنۡتَہُوۡنَ (ইয়ানতাহূন → বিরত হয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তারা তাদের চুক্তির পর তাদের অঙ্গীকারসমূহ ভঙ্গ করে এবং তোমাদের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে আপত্তি তোলে, তবে তোমরা সত্য অস্বীকারের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করো। নিশ্চয়ই তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই, যাতে তারা বিরত হয়।


আয়াত-১৩ঃ

‎اَلَا (আলা → কী নয়)
‎تُقَاتِلُوۡنَ (তুকাতিলূন → তোমরা লড়াই করো)
‎قَوۡمًا (কাওমান → এক সম্প্রদায়কে)
‎نَّکَثُوۡۤا (নাকাছূ → তারা ভঙ্গ করেছে)
‎اَیۡمَانَہُمۡ (আইমানাহুম → তাদের অঙ্গীকারসমূহ)
‎وَہَمُّوۡا (ওয়া হাম্মূ → এবং তারা সংকল্প করেছে)
‎بِاِخۡرَاجِ (বিইখরাজ → বের করে দেওয়ার)
‎الرَّسُوۡلِ (আর-রাসূল → প্রেরিত বার্তাবাহককে)
‎وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
‎بَدَءُوۡکُمۡ (বাদাঊকুম → তোমাদের বিরুদ্ধে প্রথমে শুরু করেছে)
‎اَوَّلَ (আওয়ালা → প্রথম)
‎مَرَّۃٍ (মাররাতিন → বারের)
‎اَتَخۡشَوۡنَہُمۡ (আতাখশাওনাহুম → তোমরা কি তাদের ভয় করো)
‎فَاللّٰہُ (ফাল্লাহু → অতএব আল্লাহ)
‎اَحَقُّ (আহাক্কু → অধিক উপযুক্ত)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎تَخۡشَوۡہُ (তাখশাওহু → তোমরা তাঁকে ভয় করো)
‎اِنۡ (ইন → যদি)
‎کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
‎مُّؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা কি এমন এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ/লড়াই করবে না, যারা তাদের অঙ্গীকারসমূহ ভঙ্গ করেছে, রাসূলকে বের করে দেওয়ার সংকল্প করেছে এবং তারাই প্রথমবার তোমাদের বিরুদ্ধে শুরু করেছে? তোমরা কি তাদের ভয় করো? অথচ আল্লাহই অধিক যোগ্য যে, তোমরা তাঁকেই ভয় করবে, যদি তোমরা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হও।


আয়াত-১৪ঃ

‎قَاتِلُوۡہُمۡ (কাতিলূহুম → তোমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ/লড়াই করো)
‎یُعَذِّبۡہُمُ (ইউ‘আযযিবহুম → তিনি তাদের শাস্তি দেবেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক)
‎بِاَیۡدِیۡکُمۡ (বিআইদীকুম → তোমাদের হাতের মাধ্যমে)
‎وَیُخۡزِہِمۡ (ওয়া ইউখযিহিম → এবং তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন)
‎وَیَنۡصُرۡکُمۡ (ওয়া ইয়ানসুরকুম → এবং তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের বিরুদ্ধে)
‎وَیَشۡفِ (ওয়া ইয়াশফি → এবং তিনি প্রশমিত করবেন)
‎صُدُوۡرَ (সুদূর → অন্তরসমূহ)
‎قَوۡمٍ (কাওমিন → এক সম্প্রদায়ের)
‎مُّؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো; আল্লাহ তোমাদের হাতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের অন্তরসমূহ প্রশমিত করবেন।


আয়াত-১৫ঃ

‎وَیُذۡہِبۡ (ওয়া ইউযহিব → এবং তিনি দূর করবেন)
‎غَیۡظَ (গাইয → ক্রোধ)
‎قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহের)
‎وَیَتُوۡبُ (ওয়া ইয়াতূবু → এবং তিনি ক্ষমার দিকে ফিরেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎عَلٰی (‘আলা → প্রতি)
‎مَنۡ (মান → যাকে)
‎یَّشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
‎حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এবং তিনি তাদের অন্তরের ক্রোধ দূর করবেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তার প্রতি ক্ষমার দিকে ফিরে আসেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-১৬ঃ

‎اَمۡ (আম → নাকি)
‎حَسِبۡتُمۡ (হাসিবতুম → তোমরা কি মনে করেছিলে)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎تُتۡرَکُوۡا (তুতরাকূ → তোমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে)
‎وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → অথচ এখনো না)
‎یَعۡلَمِ (ইয়া‘লাম → জানেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎جٰہَدُوۡا (জাহাদূ → তারা সাধনা/প্রচেষ্টা করেছে)
‎مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
‎وَلَمۡ (ওয়া লাম → এবং না)
‎یَتَّخِذُوۡا (ইয়াত্তাখিযূ → তারা গ্রহণ করেছে)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎دُوۡنِ (দূন → ব্যতীত)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎رَسُوۡلِہٖ (রাসূলিহী → তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহক)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
‎وَلِیۡجَۃً (ওয়ালীজাতান → গোপন অন্তরঙ্গ সহযোগী/বিশ্বস্ত সঙ্গী)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎خَبِیۡرٌ (খাবীর → সম্যক অবগত)
‎بِمَا (বিমা → যা কিছু)
‎تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কাজ করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা কি মনে করেছ, তোমাদেরকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে, অথচ আল্লাহ এখনও দেখে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ (সাধনা/সর্ব্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা) করে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানায় না? ১৫ তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ তা পরিপূর্ণরূপে জানেন।


আয়াত-১৭ঃ

‎مَا (মা → না)
‎کَانَ (কানা → ছিল)
‎لِلۡمُشۡرِکِیۡنَ (লিল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে তাদের জন্য)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یَّعۡمُرُوۡا (ইয়া‘মুরূ → তারা আবাদ)
‎مَسٰجِدَ (মাসাজিদ → সমাবেশস্থলসমূহ)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎شٰہِدِیۡنَ (শাহিদীন → সাক্ষ্যদানকারী)
‎عَلٰۤی (আলা → উপর)
‎اَنۡفُسِہِمۡ (আনফুসিহিম → নিজেদের)
‎بِالۡکُفۡرِ (বিল-কুফর → সত্য অস্বীকারের মাধ্যমে)
‎اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
‎حَبِطَتۡ (হাবিতাত → নিষ্ফল হয়ে গেছে)
‎اَعۡمَالُہُمۡ (আ‘মালুহুম → তাদের কর্মসমূহ)
‎وَفِی (ওয়া ফী → এবং মধ্যে)
‎النَّارِ (আন-নার → আগুন)
‎ہُمۡ (হুম → তারা)
‎خٰلِدُوۡنَ (খালিদূন → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা অংশীদার স্থাপন করে, তাদের জন্য আল্লাহর মসজিদসমূহ (ন্যায় প্রতিষ্ঠার সমাবেশস্থলসমূহ) আবাদ করা সংগত নয়, যখন তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই সত্য অস্বীকারের সাক্ষ্য দেয়। তারাই—যাদের কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে; আর তারা আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।


আয়াত-১৮ঃ

‎اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
‎یَعۡمُرُ (ইয়া‘মুর → আবাদ/পরিচর্যা করে)
‎مَسٰجِدَ (মাসাজিদ → সমাবেশস্থলসমূহ)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
‎اٰمَنَ (আ-মানা → বিশ্বাস করেছে)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
‎وَالۡیَوۡمِ (ওয়াল-ইয়াওম → এবং দিনের)
‎الۡاٰخِرِ (আল-আখির → শেষ)
‎وَاَقَامَ (ওয়া আকামা → এবং প্রতিষ্ঠা করেছে)
‎الصَّلٰوۃَ (আস-সালাত → যোগাযোগ)
‎وَاٰتَی (ওয়া আতাই → এবং প্রদান করেছে)
‎الزَّکٰوۃَ (আয-যাকাত → পরিশুদ্ধির দান)
‎وَلَمۡ (ওয়া লাম → এবং না)
‎یَخۡشَ (ইয়াখশা → ভয় করে)
‎اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎فَعَسٰۤی (ফা‘আসা → অতএব আশা করা যায়)
‎اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یَّکُوۡنُوۡا (ইয়াকূনূ → তারা হবে)
‎مِنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
‎الۡمُہۡتَدِیۡنَ (আল-মুহতাদীন → সঠিকপথপ্রাপ্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কেবলমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ (ন্যায় প্রতিষ্ঠার সমাবেশস্থলসমূহ) আবাদ/পরিচর্যা করে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস করেছে, যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছে, পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করেনি। অতএব, আশা করা যায় তারাই সঠিকপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


আয়াত-১৯ঃ

‎اَجَعَلۡتُمۡ (আজাআ‘আলতুম → তোমরা কি স্থির করেছ)
‎سِقَایَۃَ (সিকায়াত → পান করানোর ব্যবস্থা)
‎الۡحَآجِّ (আল-হাজ্জ → আলোচনাকারী)
‎وَعِمَارَۃَ (ওয়া ‘ইমারাত → আবাদ/পরিচর্যা)
‎الۡمَسۡجِدِ (আল-মাসজিদ → সমাবেশস্থল)
‎الۡحَرَامِ (আল-হারাম → সম্মানিত/নিষিদ্ধ)
‎کَمَنۡ (কামান → তার মতো)
‎اٰمَنَ (আ-মানা → বিশ্বাস করেছে)
‎بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
‎وَالۡیَوۡمِ (ওয়াল-ইয়াওম → এবং দিনের)
‎الۡاٰخِرِ (আল-আখির → শেষ/পরবর্তী)
‎وَجٰہَدَ (ওয়া জাহাদা → এবং সাধনা/প্রচেষ্টা করেছে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে/পথে)
‎سَبِیۡلِ (সাবীল → পথ)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক)
‎لَا (লা → না)
‎یَسۡتَوٗنَ (ইয়াস্তাওন → তারা সমান হয়)
‎عِنۡدَ (ইনদা → কাছে/নিকট)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎لَا (লা → না)
‎یَہۡدِی (ইয়াহদী → পথনির্দেশ করেন)
‎الۡقَوۡمَ (আল-কাওম → সম্প্রদায়কে)
‎الظّٰلِمِیۡنَ (আয-যালিমীন → যারা অন্যায় করে/অত্যাচারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা কি বাহাসকারীদের (হাজ্জকারীদের) পান করানোর ব্যবস্থা এবং সম্মানিত মসজিদের আবাদ/পরিচর্যাকে সেই ব্যক্তির সমতুল্য করেছ, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ (সাধনা ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা) করেছে? আল্লাহর কাছে তারা সমান নয়। আর আল্লাহ অন্যায়কারী সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।


আয়াত-২০ঃ

‎اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎وَہَاجَرُوۡا (ওয়া হাজারূ → এবং হিজরত করেছে)
‎وَجٰہَدُوۡا (ওয়া জাহাদূ → এবং সাধনা/প্রচেষ্টা করেছে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎سَبِیۡلِ (সাবীল → পথ)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎بِاَمۡوَالِہِمۡ (বিআমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদ দ্বারা)
‎وَاَنۡفُسِہِمۡ (ওয়া আনফুসিহিম → এবং নিজেদের দ্বারা)
‎اَعۡظَمُ (আ‘যামু → অধিক মহান/বৃহত্তর)
‎دَرَجَۃً (দারাজাতান → মর্যাদায়/স্তরে)
‎عِنۡدَ (ইনদা → কাছে/নিকট)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক)
‎وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
‎ہُمُ (হুমু → তারা)
‎الۡفَآئِزُوۡنَ (আল-ফায়িযূন → সফলকাম/অর্জনকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা বিশ্বাস করেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ও নিজেদের দ্বারা জিহাদ (সাধনা ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছে), আল্লাহর কাছে মর্যাদায় তারাই অধিক মহান। আর তারাই সফলকাম।


আয়াত-২১ঃ

‎یُبَشِّرُہُمۡ (ইউবাশশিরুহুম → তিনি তাদের সুসংবাদ দেন)
‎رَبُّہُمۡ (রাব্বুহুম → তাদের প্রতিপালক)
‎بِرَحۡمَۃٍ (বিরাহমাতিন → অনুগ্রহের মাধ্যমে)
‎مِّنۡہُ (মিনহু → তাঁর পক্ষ থেকে)
‎وَرِضۡوَانٍ (ওয়া রিদওয়ান → সন্তুষ্টি)
‎وَّجَنّٰتٍ (ওয়া জান্নাত → উদ্যানসমূহ)
‎لَّہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
‎نَعِیۡمٌ (না‘ঈম → সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য)
‎مُّقِیۡمٌ (মুকীম → অবিচ্ছিন্ন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের প্রতিপালক তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, সন্তুষ্টি এবং এমন উদ্যানসমূহের সুসংবাদ দেন, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে অবিচ্ছিন্ন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য।


আয়াত-২২ঃ

‎خٰلِدِیۡنَ (খালিদীনা → তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে)
‎فِیۡہَاۤ (ফীহা → তাতে)
‎اَبَدًا (আবাদান → চিরকাল)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎عِنۡدَہٗۤ (ইনদাহূ → তাঁর কাছে)
‎اَجۡرٌ (আজরুন → প্রতিদান)
‎عَظِیۡمٌ (আযীম → মহান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা তাতে চিরকাল স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা প্রতিদান।


আয়াত-২৩ঃ

‎یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎لَا (লা → না)
‎تَتَّخِذُوۡۤا (তাত্তাখিযূ → তোমরা গ্রহণ করো)
‎اٰبَآءَکُمۡ (আবাআকুম → তোমাদের পিতাদের)
‎وَاِخۡوَانَکُمۡ (ওয়া ইখওয়ানাকুম → এবং তোমাদের ভাইদের)
‎اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়াআ → অভিভাবক)
‎اِنِ (ইনি → যদি)
‎اسۡتَحَبُّوا (ইস্তাহাব্বূ → তারা পছন্দ করে)
‎الۡکُفۡرَ (আল-কুফর → সত্য অস্বীকারকে)
‎عَلَی (আলা → উপর)
‎الۡاِیۡمَانِ (আল-ঈমান → বিশ্বাসকে)
‎وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
‎یَّتَوَلَّہُمۡ (ইয়াতাওয়াল্লাহুম → তাদেরকে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করে)
‎مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
‎فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তবে তারাই)
‎ہُمُ (হুমু → তারা)
‎الظّٰلِمُوۡنَ (আয-যালিমূন → অন্যায়কারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা তোমাদের পিতা ও ভাইদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো না, যদি তারা বিশ্বাসের চেয়ে সত্য অস্বীকারকে বেশি পছন্দ করে। আর তোমাদের মধ্য থেকে যে তাদেরকে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করে, তারাই অন্যায়কারী (যালিম)।


আয়াত-২৪ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
‎اِنۡ (ইন → যদি)
‎کَانَ (কানা → হয়/থাকে)
‎اٰبَآؤُکُمۡ (আবাঊকুম → তোমাদের পিতারা)
‎وَاَبۡنَآؤُکُمۡ (ওয়া আবনাউকুম → এবং তোমাদের সন্তানরা)
‎وَاِخۡوَانُکُمۡ (ওয়া ইখওয়ানুকুম → এবং তোমাদের ভাইয়েরা)
‎وَاَزۡوَاجُکُمۡ (ওয়া আযওয়াজুকুম → এবং তোমাদের জীবনসঙ্গীরা)
‎وَعَشِیۡرَتُکُمۡ (ওয়া ‘আশীরাতুকুম → এবং তোমাদের নিকট আত্মীয়স্বজন)
‎وَاَمۡوَالُۨ (ওয়া আমওয়াল → এবং সম্পদসমূহ)
‎اقۡتَرَفۡتُمُوۡہَا (ইকতারাফতুমূহা → যা তোমরা অর্জন করেছ)
‎وَتِجَارَۃٌ (ওয়া তিজারাতুন → এবং ব্যবসা)
‎تَخۡشَوۡنَ (তাখশাওন → তোমরা আশঙ্কা করো)
‎کَسَادَہَا (কাসাদাহা → তার মন্দা/অচলাবস্থার)
‎وَمَسٰکِنُ (ওয়া মাসাকিন → এবং বাসস্থানসমূহ)
‎تَرۡضَوۡنَہَاۤ (তারদাওনাহা → যেগুলোতে তোমরা সন্তুষ্ট)
‎اَحَبَّ (আহাব্বা → অধিক প্রিয়)
‎اِلَیۡکُمۡ (ইলাইকুম → তোমাদের কাছে)
‎مِّنَ (মিনা → থেকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রাসূলিহী → এবং তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহক)
‎وَجِہَادٍ (ওয়া জিহাদ → এবং সাধনা/একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎سَبِیۡلِہٖ (সাবীলিহী → তাঁর পথে)
‎فَتَرَبَّصُوۡا (ফাতারাব্বাসূ → অতএব তোমরা অপেক্ষা করো)
‎حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
‎یَاۡتِیَ (ইয়া‘তিয়া → আসে)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎بِاَمۡرِہٖ (বিআমরিহী → তাঁর নির্দেশ নিয়ে)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎لَا (লা → না)
‎یَہۡدِی (ইয়াহদী → পথনির্দেশ করেন)
‎الۡقَوۡمَ (আল-কাওম → সম্প্রদায়কে)
‎الۡفٰسِقِیۡنَ (আল-ফাসিকীন → অবাধ্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, যদি তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, জীবনসঙ্গী, নিকট আত্মীয়স্বজন, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, যে ব্যবসার মন্দা বা অচলাবস্থার তোমরা আশঙ্কা করো, এবং যে বাসস্থানগুলোতে তোমরা সন্তুষ্ট—এসব তোমাদের কাছে আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহক (রাসূলগণ) এবং তাঁর পথে একাগ্র প্রচেষ্টার (জিহাদ) চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ অবাধ্য (ফাসিক) সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ (হিদায়েত) করেন না।


আয়াত-২৫ঃ

‎لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
نَصَرَکُمُ (নাসারাকুম → তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎مَوَاطِنَ (মাওয়াতিন → অবস্থানস্থলসমূহ)
‎کَثِیۡرَۃٍ (কাছীরাতিন → অনেক)
‎وَّیَوۡمَ (ওয়া ইয়াওমা → এবং দিনে)
‎حُنَیۡنٍ (হুনাইন → আকুলতা / ব্যাকুলতা/অস্থির আকাঙ্ক্ষা)
‎اِذۡ (ইয → যখন)
‎اَعۡجَبَتۡکُمۡ (আ‘জাবাতকুম → অস্বাভাবিক/আশ্চর্যজনক মনে হয়েছিল)
‎کَثۡرَتُکُمۡ (কাছরাতুকুম → তোমাদের সংখ্যাধিক্য)
‎فَلَمۡ (ফালাম → ফলে না)
‎تُغۡنِ (তুগনী → উপকারে আসে)
‎عَنۡکُمۡ (‘আনকুম → তোমাদের)
‎شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছুই)
‎وَّضَاقَتۡ (ওয়া দাকাত → এবং সংকীর্ণ হয়ে গেল)
‎عَلَیۡکُمُ (‘আলাইকুম → তোমাদের জন্য)
‎الۡاَرۡضُ (আল-আরদ → পৃথিবী)
‎بِمَا (বিমা → যদিও)
‎رَحُبَتۡ (রাহুবাত → প্রশস্ত ছিল)
‎ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
‎وَلَّیۡتُمۡ (ওয়াল্লাইতুম → তোমরা ফিরে গেলে)
‎مُّدۡبِرِیۡنَ (মুদবিরীন → উল্টোপথে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অবশ্যই আল্লাহ অনেক অবস্থানস্থলে তোমাদের সাহায্য করেছেন এবং অস্থির আকাঙ্ক্ষার দিনেও—যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য অস্বাভাবিক/আশ্চর্যজনক মনে হয়েছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। আর পৃথিবী, তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও, তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তারপর তোমরা উল্টোপথে ফিরে গিয়েছিলে।