সূরা আত তাওবাহ্ (التوبة) | পাপ থেকে ফিরে আসা
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ১২৯
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-৭৬ঃ
فَلَمَّاۤ (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
اٰتٰہُمۡ (আতাহুম → তিনি তাদের দিয়েছেন)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
فَضۡلِہٖ (ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ)
بَخِلُوۡا (বাখিলূ → তারা কৃপণতা করেছে)
بِہٖ (বিহী → তা নিয়ে)
وَتَوَلَّوۡا (ওয়া তাওয়াল্লাও → এবং তারা ফিরে গেছে)
وَّہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
مُّعۡرِضُوۡنَ (মু‘রিদূন → বিমুখ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যখন তিনি তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের দান করলেন, তখন তারা তা নিয়ে কৃপণতা করল এবং বিমুখ হয়ে ফিরে গেল।
আয়াত-৭৭ঃ
فَاَعۡقَبَہُمۡ (ফা-আ‘কাবাহুম → ফলে তাদের পরিণতিতে স্থাপন করলেন)
نِفَاقًا (নিফাকান → কপটতা/গোপনীয় পথ)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরে)
اِلٰی (ইলা → পর্যন্ত)
یَوۡمِ (ইয়াওমি → দিনের)
یَلۡقَوۡنَہٗ (ইয়ালকাওনাহূ → যেদিন তারা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে)
بِمَاۤ (বিমা → কারণে যে)
اَخۡلَفُوا (আখলাফূ → তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مَا (মা → যা)
وَعَدُوۡہُ (ওয়া‘আদূহু → তারা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল)
وَبِمَا (ওয়া বিমা → এবং কারণ যে)
کَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
یَکۡذِبُوۡنَ (ইয়াকযিবূন → মিথ্যা বলত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সুতরাং আল্লাহ শাস্তি হিসেবে তাদের অন্তরে কপটতা স্থির করে দিলেন সেই দিন পর্যন্ত, যে দিন তারা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে। কেননা, তারা আল্লাহর সঙ্গে যে ওয়াদা করেছিল, তা রক্ষা করল না এবং তারা মিথ্যা বলত।
আয়াত-৭৮ঃ
اَلَمۡ (আলাম → কি না)
یَعۡلَمُوۡۤا (ইয়া‘লামূ → তারা জানে)
اَنَّ (আন্না → যে)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
سِرَّہُمۡ (সিররাহুম → তাদের গোপন বিষয়)
وَنَجۡوٰىہُمۡ (ওয়া নাজওয়াহুম → এবং তাদের গোপন পরামর্শ)
وَاَنَّ (ওয়া আন্না → এবং যে)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَلَّامُ (আল্লাম → সম্যক জ্ঞাত)
الۡغُیُوۡبِ (আল-গুয়ূব → অদৃশ্য বিষয়সমূহ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাদের গোপন বিষয় ও তাদের গোপন পরামর্শ সম্পর্কে জানেন এবং আল্লাহ অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত?
আয়াত-৭৯ঃ
اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَلۡمِزُوۡنَ (ইয়ালমিযূন → দোষারোপ করে/নিন্দা করে)
الۡمُطَّوِّعِیۡنَ (আল-মুততাওয়্যি‘ঈন → স্বেচ্ছায় দানকারীদের)
مِنَ (মিন → মধ্য থেকে)
الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
فِی (ফী → বিষয়ে)
الصَّدَقٰتِ (আস-সাদাকাত → পরিশুদ্ধির দানসমূহ)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
لَا (লা → না)
یَجِدُوۡنَ (ইয়াজিদূন → তারা পায়)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
جُہۡدَہُمۡ (জুহদাহুম → সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা)
فَیَسۡخَرُوۡنَ (ফাইয়াসখারূন → অতঃপর তারা উপহাস করে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের)
سَخِرَ (সাখিরা → উপহাসের জবাব দিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের নিয়ে)
وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাব → শাস্তি)
اَلِیۡمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা দোষারোপ করে স্বেচ্ছাদানকারীদের একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাদানসমূহের বিষয়ে এবং তাদেরকে যারা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা (জিহাদ) ছাড়া আর কিছুই পায় না। অতপর যারা তাদের উপহাস করে; আল্লাহ তাদের পরিণতি উপহাসে পরিণত করেছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আয়াত-৮০ঃ
اِسۡتَغۡفِرۡ (ইস্তাগফির → ক্ষমা প্রার্থনা করো)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
اَوۡ (আও → অথবা)
لَا (লা → না)
تَسۡتَغۡفِرۡ (তাসতাগফির → ক্ষমা প্রার্থনা করো)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
اِنۡ (ইন → যদি)
تَسۡتَغۡفِرۡ (তাসতাগফির → তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
سَبۡعِیۡنَ (সাব‘ঈন → সত্তর)
مَرَّۃً (মাররাতান → বার)
فَلَنۡ (ফালান → তবে কখনোই না)
یَّغۡفِرَ (ইয়াগফির → ক্ষমা করবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের)
ذٰلِکَ (যালিকা → সেটি)
بِاَنَّہُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → সত্য অস্বীকার করেছে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রাসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলের প্রতি)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا (লা → না)
یَہۡدِی (ইয়াহদী → পথনির্দেশ করেন)
الۡقَوۡمَ (আল-কাওম → সম্প্রদায়কে)
الۡفٰسِقِیۡنَ (আল-ফাসিকীন → অবাধ্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করো—তুমি যদি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা করো, তবুও আল্লাহ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। এটি এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাস করেছে। আর আল্লাহ অবাধ্য (ফাসিক) সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ (হিদায়েত) করেন না।
আয়াত-৮১ঃ
فَرِحَ (ফারিহা → আনন্দিত হয়েছে)
الۡمُخَلَّفُوۡنَ (আল-মুখাল্লাফূন → যারা পিছনে রেখে দেওয়া হয়েছে)
بِمَقۡعَدِہِمۡ (বিমাক‘আদিহিম → তাদের বসে থাকার অবস্থানে)
خِلٰفَ (খিলাফা → বিরুদ্ধভাবে)
رَسُوۡلِ (রাসূল → রাসূলের)
اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَکَرِہُوۡۤا (ওয়া কারিহূ → এবং তারা অপছন্দ করেছে)
اَنۡ (আন → যে)
یُّجَاہِدُوۡا (ইউজাহিদূ → তারা একাগ্রতার সহিত সাধনা প্রচেষ্টা করবে)
بِاَمۡوَالِہِمۡ (বিআমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদ দ্বারা)
وَاَنۡفُسِہِمۡ (ওয়া আনফুসিহিম → এবং নিজেদের দ্বারা)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
سَبِیۡلِ (সাবীল → পথ)
اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَقَالُوۡا (ওয়া কালূ → এবং তারা বলেছে)
لَا (লা → না)
تَنۡفِرُوۡا (তানফিরূ → তোমরা বের হয়ে যেয়ো)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡحَرِّ (আল-হারর → প্রচণ্ড গরমে)
قُلۡ (কুল → বলো)
نَارُ (নার → আগুন)
جَہَنَّمَ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
اَشَدُّ (আশাদ্দু → অধিক তীব্র)
حَرًّا (হাররান → উত্তাপে)
لَوۡ (লাও → যদি)
کَانُوۡا (কানূ → তারা হতো)
یَفۡقَہُوۡنَ (ইয়াফকাহূন → তারা উপলব্ধি করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা পিছনে থেকে গিয়েছে, তারা আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে নিজেদের বসে থাকার অবস্থানে আনন্দিত হয়েছে। তারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের (নফসের) দ্বারা একাগ্রতার সহিত সাধনা (জিহাদ) করাকে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, ‘এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তোমরা বের হয়ো না।’ বলো, ‘ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের (জাহান্নামের) আগুনের উত্তাপ আরও তীব্র।’ যদি তারা উপলব্ধি করত!
আয়াত-৮২ঃ
فَلۡیَضۡحَکُوۡا (ফালইয়াদহাকূ → অতএব তারা হাসুক)
قَلِیۡلًا (কালীলান → অল্প)
وَّلۡیَبۡکُوۡا (ওয়ালইয়াবকূ → এবং তারা কাঁদুক)
کَثِیۡرًا (কাছীরান → অধিক)
جَزَآءًۢ (জাযাআন → প্রতিফল হিসেবে)
بِمَا (বিমা → যার কারণে)
کَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
یَکۡسِبُوۡنَ (ইয়াকসিবূন → তারা অর্জন করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব তারা কিঞ্চিৎ হেসে নিক অতপর তারা অনেক কাঁদবে—তারা যা কিছু অর্জন করেছে তার প্রতিফলস্বরূপ।
আয়াত-৮৩ঃ
فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
رَّجَعَکَ (রাজা‘আকা → তোমাকে ফিরিয়ে দেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
طَآئِفَۃٍ (তাআইফাত → একটি দল)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
فَاسۡتَاۡذَنُوۡکَ (ফাস্তা’যানূকা → অতঃপর তারা তোমার কাছে অনুমতি চায়)
لِلۡخُرُوۡجِ (লিল-খুরূজ → বের হওয়ার জন্য)
فَقُلۡ (ফাকুল → অতএব বলো)
لَّنۡ (লান → কখনোই না)
تَخۡرُجُوۡا (তাখরুজূ → তোমরা বের হবে)
مَعِیَ (মা‘ইয়া → আমার সঙ্গে)
اَبَدًا (আবাদান → কখনোই)
وَّلَنۡ (ওয়া লান → এবং কখনোই না)
تُقَاتِلُوۡا (তুকাতিলূ → তোমরা প্রতিরোধ করবে)
مَعِیَ (মা‘ইয়া → আমার সঙ্গে)
عَدُوًّا (‘আদুও → কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে)
اِنَّکُمۡ (ইন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
رَضِیۡتُمۡ (রাদীতুম → সন্তুষ্ট হয়েছিলে)
بِالۡقُعُوۡدِ (বিল-কু‘ঊদ → বসে থাকা)
اَوَّلَ (আওয়ালা → প্রথম)
مَرَّۃٍ (মাররাত → বার)
فَاقۡعُدُوۡا (ফাক‘উদূ → অতএব তোমরা বসে থাকো)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الۡخٰلِفِیۡنَ (আল-খালিফীন → যারা পিছনে থেকে যায়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আল্লাহ যদি তোমাকে তাদের কোনো একটি দলের কাছে ফিরিয়ে আনেন এবং তারা বের হওয়ার জন্য তোমার কাছে অনুমতি চায়, তবে বলো, ‘তোমরা কখনোই আমার সঙ্গে বের হবে না এবং আমার সঙ্গে কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ/লড়াই করবে না। তোমরা প্রথমবার পিছনে বসে থাকাকেই মেনে নিয়েছিলে। অতএব, যারা পিছনে থেকে যায়, তাদের সঙ্গেই বসে থাকো।’
আয়াত-৮৪ঃ
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُصَلِّ (তুসাল্লি → যোগাযোগ)
عَلٰۤی (‘আলা → ওপর)
اَحَدٍ (আহাদ → কোনো একজনের)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
مَّاتَ (মাতা → মারা গেছে)
اَبَدًا (আবাদান → কখনোই)
وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقُمۡ (তাকুম → দাঁড়াও)
عَلٰی (‘আলা → ওপর)
قَبۡرِہٖ (কাবরিহী → তার কবর)
اِنَّہُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → সত্য অস্বীকার করেছে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রাসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলের প্রতি)
وَمَاتُوۡا (ওয়া মাতূ → এবং তারা মারা গেছে)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
فٰسِقُوۡنَ (ফাসিকূন → অবাধ্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের মধ্য থেকে যে কেউ মারা গেলে তার জন্য কখনোই যোগাযোগ (সালাত) করো না এবং তার কবরের কাছে দাঁড়িও না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সত্য অস্বীকার করেছে এবং তারা মারা গেছে এমন অবস্থায় যে, তারা ছিল অবাধ্য।”
আয়াত-৮৫ঃ
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُعۡجِبۡکَ (তু‘জিবকা → তোমাকে মুগ্ধ করে)
اَمۡوَالُہُمۡ (আমওয়ালুহুম → তাদের সম্পদসমূহ)
وَاَوۡلَادُہُمۡ (ওয়া আওলাদুহুম → এবং তাদের সন্তান-সন্ততি)
اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
یُرِیۡدُ (ইউরীদ → ইচ্ছা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
اَنۡ (আন → যে)
یُّعَذِّبَہُمۡ (ইউ‘আযযিবাহুম → তাদের শাস্তি দেন)
بِہَا (বিহা → তা দ্বারা)
فِی (ফী → মধ্যে)
الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব জীবন)
وَتَزۡہَقَ (ওয়া তাযহাক → এবং বেরিয়ে যায়)
اَنۡفُسُہُمۡ (আনফুসুহুম → তাদের প্রাণসমূহ)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
کٰفِرُوۡنَ (কাফিরূন → সত্য অস্বীকারকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে মুগ্ধ না করে। আল্লাহ তো কেবল চান, এর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে তাদের শাস্তি দিতে এবং সত্য অস্বীকারকারী (কাফির) অবস্থায় তাদের প্রাণ যেন বেরিয়ে যায়।
আয়াত-৮৬ঃ
وَاِذَاۤ (ওয়া ইযা → এবং যখন)
اُنۡزِلَتۡ (উনযিলাত → অবতীর্ণ করা হয়)
سُوۡرَۃٌ (সূরাতুন → একটি সূরা)
اَنۡ (আন → যে)
اٰمِنُوۡا (আ-মনূ → তোমরা বিশ্বাস করো)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَجَاہِدُوۡا (ওয়া জাহিদূ → এবং তোমরা সাধনা/প্রচেষ্টা করো)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
رَسُوۡلِہِ (রাসূলিহী → তাঁর রাসূলের)
اسۡتَاۡذَنَکَ (ইস্তা’যানাকা → তোমার কাছে অনুমতি চায়)
اُولُوا (উলূ → অধিকারী)
الطَّوۡلِ (আত-তাওল → সামর্থ্য)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
وَقَالُوۡا (ওয়া কালূ → এবং তারা বলে)
ذَرۡنَا (যারনা → আমাদের ছেড়ে দাও)
نَکُنۡ (নাকুন → আমরা থাকি)
مَّعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الۡقٰعِدِیۡنَ (আল-কায়িদীন → যারা বসে থাকে/পিছনে থাকে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন এমন একটি সূরা অবতীর্ণ করা হয়—‘তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করো এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে সর্বাত্নক সাধনার প্রচেষ্টা করো (জিহাদ করো)’—তখন তাদের মধ্যকার সামর্থ্যবানরা তোমার কাছে অনুমতি চায় এবং বলে, ‘আমাদের ছেড়ে দাও, যারা বসে থাকে বা পিছনে থাকে আমরা তাদের সঙ্গে থাকি।’
আয়াত-৮৭ঃ
رَضُوۡا (রাদূ → তারা সন্তুষ্ট হয়েছে)
بِاَنۡ (বিআইন → যে)
یَّکُوۡنُوۡا (ইয়াকূনূ → তারা থাকে)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الۡخَوَالِفِ (আল-খাওয়ালিফ → যারা পিছনে থেকে যায়)
وَطُبِعَ (ওয়া তুবি‘আ → এবং মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে)
عَلٰی (‘আলা → ওপর)
قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহে)
فَہُمۡ (ফাহুম → ফলে তারা)
لَا (লা → না)
یَفۡقَہُوۡنَ (ইয়াফকাহূন → তারা উপলব্ধি/অনুধাবন করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা সন্তুষ্ট হয়েছে যে, যারা পিছনে থেকে যায় তারা তাদের সঙ্গে থাকবে। আর তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে; ফলে তারা উপলব্ধি করে না।
আয়াত-৮৮ঃ
لٰکِنِ (লাকিনি → কিন্তু)
الرَّسُوۡلُ (আর-রাসূল → রাসূল)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
مَعَہٗ (মা‘আহূ → তাঁর সঙ্গে)
جٰہَدُوۡا (জাহাদূ → সাধনা/প্রচেষ্টা করেছে)
بِاَمۡوَالِہِمۡ (বিআমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদ দ্বারা)
وَاَنۡفُسِہِمۡ (ওয়া আনফুসিহিম → এবং নিজেদের দ্বারা)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
لَہُمُ (লাহুম → তাদের জন্য)
الۡخَیۡرٰتُ (আল-খাইরাত → কল্যাণসমূহ)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → আর তারাই)
ہُمُ (হুম → তারা)
الۡمُفۡلِحُوۡنَ (আল-মুফলিহূন → সফলকাম)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিন্তু রাসূল এবং যারা তাঁর সঙ্গে বিশ্বাস করেছে, তারা তাদের সম্পদ ও নিজেদের (নফসের) দ্বারা সর্বাত্নক সাধনার প্রচেষ্টা (জিহাদ) করেছে। আর তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণসমূহ। আর তারাই সফলকাম।
আয়াত-৮৯ঃ
اَعَدَّ (আ‘আদ্দা → প্রস্তুত করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
جَنّٰتٍ (জান্নাত → উদ্যানসমূহ)
تَجۡرِیۡ (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تَحۡتِہَا (তাহতিহা → তার নিচ দিয়ে)
الۡاَنۡہٰرُ (আল-আনহার → নদীসমূহ)
خٰلِدِیۡنَ (খালিদীন → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
ذٰلِکَ (যালিকা → সেটিই)
الۡفَوۡزُ (আল-ফাওয → সাফল্য)
الۡعَظِیۡمُ (আল-‘আযীম → মহা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করেছেন, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; তারা তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। সেটিই মহাসাফল্য।
আয়াত-৯০ঃ
وَجَآءَ (ওয়া জা-আ → এবং এলো)
الۡمُعَذِّرُوۡنَ (আল-মু‘আযযিরূন → অজুহাতকারীরা)
مِنَ (মিন → থেকে)
الۡاَعۡرَابِ (আল-আ‘রাব → স্পষ্টভাবে প্রকাশকারী/মরুবাসী/আরববাসী)
لِیُؤۡذَنَ (লিইউ’যানা → যাতে অনুমতি দেওয়া হয়)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের)
وَقَعَدَ (ওয়া কা‘আদা → এবং বসে রইল)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَذَبُوا (কাযাবূ → মিথ্যা বলেছে)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَرَسُوۡلَہٗ (ওয়া রাসূলাহূ → এবং তাঁর রাসূলকে)
سَیُصِیۡبُ (সাইউসীবু → অচিরেই আক্রান্ত করবে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → সত্য অস্বীকার করেছে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِیۡمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর স্পষ্টভাবে প্রকাশকারীদের/মরুবাসীদের মধ্য থেকে অজুহাতকারীরা এলো, যাতে তাদের অনুমতি দেওয়া হয় এবং যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ব্যাপারে মিথ্যা বলেছে, তারা বসে রইল। তাদের মধ্যকার যারা সত্য অস্বীকার করেছে, অচিরেই তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।
আয়াত-৯১ঃ
لَیۡسَ (লাইসা → নেই)
عَلَی (‘আলা → ওপর)
الضُّعَفَآءِ (আদ-দু‘আফা → দুর্বলদের)
وَلَا (ওয়া লা → এবং নেই)
عَلَی (‘আলা → ওপর)
الۡمَرۡضٰی (আল-মারদা → অসুস্থদের)
وَلَا (ওয়া লা → এবং নেই)
عَلَی (‘আলা → ওপর)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَا (লা → না)
یَجِدُوۡنَ (ইয়াজিদূন → তারা পায়)
مَا (মা → যা)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূন → তারা ব্যয় করে)
حَرَجٌ (হারাজ → কোনো সংকীর্ণতা/চাপ/দায়)
اِذَا (ইযা → যখন)
نَصَحُوۡا (নাসাহূ → তারা আন্তরিক থাকে)
لِلّٰہِ (লিল্লাহ → আল্লাহর জন্য)
وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রাসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলের প্রতি)
مَا (মা → নেই)
عَلَی (‘আলা → ওপর)
الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল-মুহসিনীন → সৎকর্মশীলদের)
مِنۡ (মিন → কোনো)
سَبِیۡلٍ (সাবীল → পথ)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূর → ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
দুর্বলদের জন্য, অসুস্থদের জন্য এবং যারা ব্যয় করার মতো কিছুই পায় না—তাদের জন্য কোনো অপরাধের দায় নেই, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আন্তরিক থাকে। সৎকর্মশীলদের জন্য কোনো পথ নেই। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-৯২ঃ
وَّلَا (ওয়া লা → এবং নেই)
عَلَی (‘আলা → ওপর)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اِذَا (ইযা → যখন)
مَاۤ (মা → তখন)
اَتَوۡکَ (আতাওকা → তারা তোমার কাছে আসে)
لِتَحۡمِلَہُمۡ (লিতাহমিলাহুম → যাতে তুমি তাদের বহন করো)
قُلۡتَ (কুলতা → তুমি বলেছ)
لَاۤ (লা → নেই)
اَجِدُ (আজিদু → আমি পাই)
مَاۤ (মা → যা)
اَحۡمِلُکُمۡ (আহমিলুকুম → আমি তোমাদের বহন করাতে পারি)
عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তার ওপর)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা ফিরে গেছে/বিমুখ হয়েছে)
وَّاَعۡیُنُہُمۡ (ওয়া আ‘ইউনুহুম → এবং তাদের চোখসমূহ)
تَفِیۡضُ (তাফীদু → অশ্রু প্রবাহিত হয়)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الدَّمۡعِ (আদ-দাম‘ → অশ্রু)
حَزَنًا (হাযানান → দুঃখে)
اَلَّا (আল্লা → যে না)
یَجِدُوۡا (ইয়াজিদূ → তারা পায়)
مَاۤ (মা → যা)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূন → তারা ব্যয় করতে পারে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের জন্যও কোনো দায় নেই, যখন তারা তোমার কাছে আসে—যাতে তুমি তাদের বহন (যাতায়াত) করাতে পারো। তখন তুমি বলো, ‘তোমাদের বহন/যাতায়াত করানোর মতো কোনো ব্যবস্থা আমার নেই।’ তখন তারা ফিরে যায়, আর তাদের চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয় দুঃখে—কারণ তারা এমন কিছু পায় না, যা তারা ব্যয় করতে পারে।
আয়াত-৯৩ঃ
اِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
السَّبِیۡلُ (আস-সাবীল → দায়বদ্ধতার পথ)
عَلَی (‘আলা → ওপর)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَسۡتَاۡذِنُوۡنَکَ (ইয়াস্তা’যিনূনাকা → তোমার কাছে অনুমতি চায়)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
اَغۡنِیَآءُ (আগনিয়া → অভাবমুক্ত/সচ্ছল)
رَضُوۡا (রাদূ → তারা সন্তুষ্ট হয়েছে)
بِاَنۡ (বিআন → যে)
یَّکُوۡنُوۡا (ইয়াকূনূ → তারা থাকে)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الۡخَوَالِفِ (আল-খাওয়ালিফ → যারা পিছনে থেকে যায়)
وَطَبَعَ (ওয়া তাবা‘আ → এবং মোহর মেরে দিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَلٰی (‘আলা → ওপর)
قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহে)
فَہُمۡ (ফাহুম → ফলে তারা)
لَا (লা → না)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূন → তারা জানে/অজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কেবলমাত্র তাদের উপরই দায় রয়েছে, যারা তোমার কাছে অনুমতি চায় অথচ তারা সচ্ছল। তারা সন্তুষ্ট হয়েছে যে, যারা পিছনে থেকে যায় তারা তাদের সঙ্গে থাকবে। আর আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন; ফলে তারা অজ্ঞ।
আয়াত-৯৪ঃ
یَعۡتَذِرُوۡنَ (ইয়া‘তাযিরূন → তারা অজুহাত পেশ করে)
اِلَیۡکُمۡ (ইলাইকম → তোমাদের কাছে)
اِذَا (ইযা → যখন)
رَجَعۡتُمۡ (রাজা‘তুম → তোমরা ফিরে আসো)
اِلَیۡہِمۡ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
قُلۡ (কুল → বলো)
لَّا (লা → না)
تَعۡتَذِرُوۡا (তা‘তাযিরূ → তোমরা অজুহাত পেশ করো)
لَنۡ (লান → কখনোই না)
نُّؤۡمِنَ (নু’মিন → আমরা আস্থা রাখব)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
نَبَّاَنَا (নাব্বা’ানা → আমাদের অবহিত করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مِنۡ (মিন → থেকে)
اَخۡبَارِکُمۡ (আখবারিকুম → তোমাদের খবরসমূহ)
وَسَیَرَی (ওয়া সাইয়ারা → এবং অচিরেই দেখবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَمَلَکُمۡ (‘আমালাকুম → তোমাদের কর্ম)
وَرَسُوۡلُہٗ (ওয়া রাসূলুহূ → এবং তাঁর রাসূল)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
تُرَدُّوۡنَ (তুরাদ্দূন → তোমরা ফিরিয়ে নেওয়া হবে)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
عٰلِمِ (‘আলিম → জ্ঞানী)
الۡغَیۡبِ (আল-গাইব → অদৃশ্য বিষয়সমূহের)
وَالشَّہَادَۃِ (ওয়াশ-শাহাদাহ → এবং দৃশ্যমান বিষয়সমূহের)
فَیُنَبِّئُکُمۡ (ফাইউনাব্বি’উকুম → অতঃপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → যা সম্পর্কে)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কর্ম করতে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমরা যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের কাছে অজুহাত পেশ করবে। বলো, ‘তোমরা অজুহাত পেশ করো না; আমরা কখনোই তোমাদের কথায় আস্থা রাখবো না। আল্লাহ তোমাদের সংবাদসমূহ সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন। আর অচিরেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের কর্ম দেখবেন। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব বিষয়ের সম্যক জ্ঞানীর কাছে। অতঃপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন তোমরা যা করতে।
আয়াত-৯৫ঃ
سَیَحۡلِفُوۡنَ (সাইয়াহলিফূন → তারা শপথ করবে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর নামে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের কাছে)
اِذَا (ইযা → যখন)
انۡقَلَبۡتُمۡ (ইনকালাবতুম → তোমরা ফিরে আসো)
اِلَیۡہِمۡ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
لِتُعۡرِضُوۡا (লিতু‘রিদূ → যাতে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও)
عَنۡہُمۡ (‘আনহুম → তাদের থেকে)
فَاَعۡرِضُوۡا (ফা‘রিদূ → অতএব তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও)
عَنۡہُمۡ (‘আনহুম → তাদের থেকে)
اِنَّہُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
رِجۡسٌ (রিজস → অপবিত্রতা)
وَّمَاۡوٰىہُمۡ (ওয়া মা’ওয়াহুম → এবং তাদের আশ্রয়স্থল)
جَہَنَّمُ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
جَزَآءً (জাযাআন → প্রতিফল হিসেবে)
بِمَا (বিমা → যার কারণে)
کَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
یَکۡسِبُوۡنَ (ইয়াকসিবূন → তারা অর্জন করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমরা যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। অতএব, তোমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয়ই তারা কলুষিত। আর তাদের আশ্রয়স্থল ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান—তারা যা অর্জন করত তার প্রতিফল হিসেবে।
আয়াত-৯৬ঃ
یَحۡلِفُوۡنَ (ইয়াহলিফূন → তারা শপথ করে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের কাছে)
لِتَرۡضَوۡا (লিতারদাও → যাতে তোমরা সন্তুষ্ট হও)
عَنۡہُمۡ (‘আনহুম → তাদের প্রতি)
فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
تَرۡضَوۡا (তারদাও → তোমরা সন্তুষ্ট হও)
عَنۡہُمۡ (‘আনহুম → তাদের প্রতি)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَا (লা → না)
یَرۡضٰی (ইয়ারদা → সন্তুষ্ট হন)
عَنِ (‘আন → থেকে)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওম → সম্প্রদায়ের)
الۡفٰسِقِیۡنَ (আল-ফাসিকীন → অবাধ্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা তোমাদের কাছে শপথ করে, যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। অতএব, যদি তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অবাধ্য সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন না।
আয়াত-৯৭ঃ
اَلۡاَعۡرَابُ (আল-আ‘রাব → আরববাসীরা)
اَشَدُّ (আশাদ্দু → অধিক তীব্র/কঠোর)
کُفۡرًا (কুফরান → সত্য অস্বীকারে)
وَّنِفَاقًا (ওয়া নিফাকান → এবং কপটতায়/দ্বিমুখী আচরণ)
وَّاَجۡدَرُ (ওয়া আজদারু → এবং অধিক উপযুক্ত)
اَلَّا (আল্লা → যে না)
یَعۡلَمُوۡا (ইয়া‘লামূ → তারা জানে)
حُدُوۡدَ (হুদূদ → সীমারেখা)
مَاۤ (মা → যা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَلٰی (‘আলা → ওপর)
رَسُوۡلِہٖ (রাসূলিহী → তাঁর রাসূলের ওপর)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আরববাসীরা সত্য অস্বীকার (কুফরিতে) ও দ্বিমুখী আচরণে অধিক তীব্র এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তার সীমারেখা না জানার অধিক উপযুক্ত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-৯৮ঃ
وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং তাদের মধ্য থেকে)
الۡاَعۡرَابِ (আল-আ‘রাব → মরুবাসীদের)
مَنۡ (মান → যে/ কেউ কেউ)
یَّتَّخِذُ (ইয়াত্তাখিযু → গ্রহণ করে)
مَا (মা → যা)
یُنۡفِقُ (ইউনফিকু → সে ব্যয় করে)
مَغۡرَمًا (মাগরামান → ক্ষতি/দায় হিসেবে)
وَّیَتَرَبَّصُ (ওয়া ইয়াতারাব্বাসু → এবং অপেক্ষা করে)
بِکُمُ (বিকুম → তোমাদের ব্যাপারে)
الدَّوَآئِرَ (আদ-দাওয়াইর → বিপর্যয়ের আবর্তন)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের ওপর)
دَآئِرَۃُ (দাইরাতু → আবর্তন/পরিণতি)
السَّوۡءِ (আস-সাও → অকল্যাণের)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
سَمِیۡعٌ (সামী‘ → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আরববাসীদের মধ্যে কেউ কেউ এমন যে, তারা যা ব্যয় করে তা ক্ষতি বা দায় হিসেবে গণ্য করে এবং তোমাদের ব্যাপারে বিপর্যয়ের পালাবদলের অপেক্ষায় থাকে। অকল্যাণের পরিণতি তাদের উপরই। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আয়াত-৯৯ঃ
وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং তাদের মধ্য থেকে)
الۡاَعۡرَابِ (আল-আ‘রাব → মরুবাসীদের)
مَنۡ (মান → কেউ কেউ/যে)
یُّؤۡمِنُ (ইউ’মিনু → বিশ্বাস করে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَالۡیَوۡمِ (ওয়াল-ইয়াওমি → এবং দিনের)
الۡاٰخِرِ (আল-আখির → শেষ)
وَیَتَّخِذُ (ওয়া ইয়াত্তাখিযু → এবং গ্রহণ করে)
مَا (মা → যা)
یُنۡفِقُ (ইউনফিকু → সে ব্যয় করে)
قُرُبٰتٍ (কুরুবাত → নৈকট্য লাভের উপায়সমূহ)
عِنۡدَ (‘ইন্দা → কাছে)
اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَصَلَوٰتِ (ওয়া সালাওয়াতি → এবং যোগাযোগ)
الرَّسُوۡلِ (আর-রাসূল → বার্তাবাহকের)
اَلَاۤ (আলা → জেনে রাখো)
اِنَّہَا (ইন্নাহা → নিশ্চয়ই তা)
قُرۡبَۃٌ (কুরবাতুন → নৈকট্য লাভের উপায়)
لَّہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
سَیُدۡخِلُہُمُ (সাইউদখিলুহুম → অচিরেই তাদের প্রবেশ করাবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
رَحۡمَتِہٖ (রাহমাতিহী → তাঁর দয়া)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূর → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আরববাসীদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ও পরবর্তী দিনের প্রতি বিশ্বাস করে এবং তারা যা ব্যয় করে তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় এবং বার্তাবাহকের যোগাযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই তা তাদের জন্য নৈকট্য লাভের উপায়। অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে তাঁর দয়ার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-১০০ঃ
وَالسّٰبِقُوۡنَ (ওয়াস-সাবিকূন → অগ্রগামী ব্যক্তিরা)
الۡاَوَّلُوۡنَ (আল-আওয়ালূন → প্রথম দিকের)
مِنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
الۡمُہٰجِرِیۡنَ (আল-মুহাজিরীন → যারা ত্যাগ করে স্থানান্তরিত হয়েছে)
وَالۡاَنۡصَارِ (ওয়াল-আনসার → সাহায্যকারীদের)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اتَّبَعُوۡہُمۡ (ইত্তাবা‘ূহুম → তাদের অনুসরণ করেছে)
بِاِحۡسَانٍ (বিইহসান → সুন্দর কর্মের মাধ্যমে)
رَّضِیَ (রাদিয়া → সন্তুষ্ট হয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَنۡہُمۡ (‘আনহুম → তাদের প্রতি)
وَرَضُوۡا (ওয়া রাদূ → এবং তারা সন্তুষ্ট হয়েছে)
عَنۡہُ (‘আনহু → তাঁর প্রতি)
وَاَعَدَّ (ওয়া আ‘আদ্দা → এবং প্রস্তুত করেছেন)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
جَنّٰتٍ (জান্নাত → উদ্যানসমূহ)
تَجۡرِیۡ (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
تَحۡتَہَا (তাহতাহা → তার নিচ দিয়ে)
الۡاَنۡہٰرُ (আল-আনহার → নদীসমূহ)
خٰلِدِیۡنَ (খালিদীন → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
فِیۡہَاۤ (ফীহা → তাতে)
اَبَدًا (আবাদান → চিরকাল)
ذٰلِکَ (যালিকা → সেটিই)
الۡفَوۡزُ (আল-ফাওয → সাফল্য)
الۡعَظِیۡمُ (আল-আযীম → মহা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অগ্রগামী ব্যক্তিরা—যারা স্থানান্তরিত হয়েছে এবং যারা সাহায্য করেছে—এবং যারা সুন্দরভাবে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করেছেন, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; তারা তাতে চিরকাল স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। সেটিই মহাসাফল্য।
