সূরা আত তাওবাহ্ (التوبة) | পাপ থেকে ফিরে আসা
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১২৯



رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-১০১ঃ

‎وَمِمَّنۡ (ওয়া মিম্মান → এবং তাদের মধ্য থেকে যারা)
‎حَوۡلَکُمۡ (হাওলাকুম → তোমাদের চারপাশে)
‎مِّنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
‎الۡاَعۡرَابِ (আল-আ‘রাব → মরুবাসীদের)
‎مُنٰفِقُوۡنَ (মুনাফিকূন → দিমুখী আচারণকারীরা)
‎وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং মধ্য থেকে)
‎اَہۡلِ (আহলি → অধিবাসীদের)
‎الۡمَدِیۡنَۃِ (আল-মাদীনাহ → নগরের)
‎مَرَدُوۡا (মারাদূ → তারা দৃঢ়ভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে)
‎عَلَی (আলা → ওপর)
‎النِّفَاقِ (আন-নিফাক → দ্বিচারিতা)
‎لَا (লা → না)
‎تَعۡلَمُہُمۡ (তা‘লামুহুম → তুমি তাদের জানো)
‎نَحۡنُ (নাহনু → আমরা)
‎نَعۡلَمُہُمۡ (না‘লামুহুম → তাদের জানি)
‎سَنُعَذِّبُہُمۡ (সানু‘আযযিবুহুম → অচিরেই আমরা তাদের শাস্তি দেব)
‎مَّرَّتَیۡنِ (মাররাতাইনি → দুইবার)
‎ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
‎یُرَدُّوۡنَ (ইউরাদ্দূন → তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে)
‎اِلٰی (ইলা → দিকে)
‎عَذَابٍ (আযাব → শাস্তি)
‎عَظِیۡمٍ (আযীম → মহা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমাদের চারপাশের আরববাসীদের মধ্যেও দ্বিমুখী আচারণকারীরা রয়েছে এবং নগরের অধিবাসীদের মধ্যেও রয়েছে—তারা দ্বিচারিতায় দৃঢ়ভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তুমি তাদের জানো না; আমরা তাদের জানি। অচিরেই আমরা তাদের দুইবার শাস্তি দেব; তারপর তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে মহাশাস্তির দিকে।


আয়াত-১০২ঃ

‎وَاٰخَرُوۡنَ (ওয়া আখারূন → এবং অন্যরা)
‎اعۡتَرَفُوۡا (ই‘তারাফূ → স্বীকার করেছে)
‎بِذُنُوۡبِہِمۡ (বিযুনূবিহিম → তাদের অপরাধসমূহ)
‎خَلَطُوۡا (খালাতূ → তারা মিশ্রিত করেছে)
‎عَمَلًا (আমালান → কর্ম)
‎صَالِحًا (সালিহান → সৎ/সংশোধনকারী)
‎وَّاٰخَرَ (ওয়া আখারা → এবং অন্য)
‎سَیِّئًا (সাইয়িআন → মন্দ/অকল্যাণকর)
‎عَسَی (আসা → আশা করা যায়)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یَّتُوۡبَ (ইয়াতূব → তওবা গ্রহণ করবেন)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের প্রতি)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎غَفُوۡرٌ (গাফূর → পরম ক্ষমাশীল)
‎رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অন্যরা নিজেদের অপরাধসমূহ স্বীকার করেছে। তারা সৎ কর্মের সঙ্গে অন্য মন্দ কর্মকে মিশ্রিত করেছে। আশা করা যায়, আল্লাহ তাদের তওবা গ্রহণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।


আয়াত-১০৩ঃ

‎خُذۡ (খুয → গ্রহণ করো)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎اَمۡوَالِہِمۡ (আমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদসমূহ)
‎صَدَقَۃً (সাদাকাতান → স্বেচ্ছাদান)
‎تُطَہِّرُہُمۡ (তুতাহহিরুহুম → যা তাদের পরিশুদ্ধ করে)
‎وَتُزَکِّیۡہِمۡ (ওয়া তুযাক্কীহিম → এবং তাদের পবিত্র/পরিশুদ্ধ করে)
‎بِہَا (বিহা → তা দ্বারা)
‎وَصَلِّ (ওয়া সাল্লি → এবং যোগাযোগ স্থাপন করো)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের জন্য)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎صَلٰوتَکَ (সালাতাকা → তোমার যোগাযোগ)
‎سَکَنٌ (সাকান → প্রশান্তি)
‎لَّہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎سَمِیۡعٌ (সামী‘ → সর্বশ্রোতা)
‎عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের সম্পদ থেকে স্বেচ্ছাদান গ্রহণ করো, যা তাদের পরিশুদ্ধ করবে এবং এর মাধ্যমে তাদের পবিত্র করবে; আর তাদের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করো। নিশ্চয়ই তোমার যোগাযোগ তাদের জন্য প্রশান্তি। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


আয়াত-১০৪ঃ

‎اَلَمۡ (আলাম → কি না)
‎یَعۡلَمُوۡۤا (ইয়া‘লামূ → তারা জানে)
‎اَنَّ (আন্না → যে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎ہُوَ (হুওয়া → তিনিই)
‎یَقۡبَلُ (ইয়াকবালু → গ্রহণ করেন)
‎التَّوۡبَۃَ (আত-তাওবাহ → ফিরে আসা)
‎عَنۡ (‘আন → থেকে)
‎عِبَادِہٖ (‘ইবাদিহী → তাঁর বান্দাদের)
‎وَیَاۡخُذُ (ওয়া ইয়া’খুযু → এবং গ্রহণ করেন)
‎الصَّدَقٰتِ (আস-সাদাকাত → স্বেচ্ছাদানসমূহ)
‎وَاَنَّ (ওয়া আন্না → এবং যে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎ہُوَ (হুওয়া → তিনিই)
‎التَّوَّابُ (আত-তাওয়াব → বারবার ফিরে আসা/তওবা গ্রহণকারী)
‎الرَّحِیۡمُ (আর-রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কি জানে না যে, আল্লাহই তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে ফিরে আসা/তওবা গ্রহণ করেন এবং স্বেচ্ছাদানসমূহ গ্রহণ করেন? আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বারবার ফিরে আসা/তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।


আয়াত-১০৫ঃ

‎وَقُلِ (ওয়া কুলি → এবং বলো)
‎اعۡمَلُوۡا (ই‘মালূ → তোমরা কর্ম করো)
‎فَسَیَرَی (ফাসাইয়ারা → অতঃপর অচিরেই দেখবেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎عَمَلَکُمۡ (‘আমালাকুম → তোমাদের কর্ম)
‎وَرَسُوۡلُہٗ (ওয়া রাসূলুহূ → এবং তাঁর বার্তাবাহক)
‎وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ (ওয়াল-মু’মিনূন → এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)
‎وَسَتُرَدُّوۡنَ (ওয়া সা-তুরাদ্দূন → এবং তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে)
‎اِلٰی (ইলা → দিকে)
‎عٰلِمِ (‘আলিম → জ্ঞানীর)
‎الۡغَیۡبِ (আল-গাইব → অদৃশ্য বিষয়সমূহের)
‎وَالشَّہَادَۃِ (ওয়াশ-শাহাদাহ → দৃশ্যমান বিষয়সমূহের)
‎فَیُنَبِّئُکُمۡ (ফাইউনাব্বি’উকুম → অতঃপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন)
‎بِمَا (বিমা → যা সম্পর্কে)
‎کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
‎تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কর্ম করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর বলো, “তোমরা কর্ম করো; অতঃপর অচিরেই আল্লাহ, তাঁর বার্তাবাহক এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা তোমাদের কর্ম দেখবেন। আর তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব বিষয়ের সম্যক জ্ঞানীর কাছে। অতঃপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন তোমরা যা কর্ম করতে।


আয়াত-১০৬ঃ

‎وَاٰخَرُوۡنَ (ওয়া আখারূন → এবং অন্যরা)
‎مُرۡجَوۡنَ (মুরজাওন → স্থগিত রাখা হয়েছে)
‎لِاَمۡرِ (লি-আমরি → নির্দেশের জন্য)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اِمَّا (ইম্মা → হয়তো)
‎یُعَذِّبُہُمۡ (ইউ‘আযযিবুহুম → তিনি তাদের শাস্তি দেবেন)
‎وَاِمَّا (ওয়া ইম্মা → অথবা হয়তো)
‎یَتُوۡبُ (ইয়াতূব → তিনি ফিরে আসবেন/তাদের তওবা গ্রহণ করবেন)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের প্রতি)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
‎حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অন্যদের আল্লাহর নির্দেশের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে; হয়তো তিনি তাদের শাস্তি দেবেন, অথবা তাদের প্রতি ফিরে আসবেন/তওবা গ্রহণ করবেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-১০৭ঃ

‎وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
‎اتَّخَذُوۡا (ইত্তাখাযূ → গ্রহণ করেছে)
‎مَسۡجِدًا (মাসজিদান → ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্থান)
‎ضِرَارًا (দিরারান → ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে)
‎وَّکُفۡرًا (ওয়া কুফরান → সত্য অস্বীকারের জন্য)
‎وَّتَفۡرِیۡقًۢا (ওয়া তাফরীকান → বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য)
‎بَیۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
‎الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
‎وَاِرۡصَادًا (ওয়া ইরসাদান → ওঁত পেতে থাকার জন্য)
‎لِّمَنۡ (লি-মান → যার জন্য)
‎حَارَبَ (হারাবা → বিরোধিতা করেছে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرَسُوۡلَہٗ (ওয়া রাসূলাহূ → এবং তাঁর বার্তাবাহকের)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎قَبۡلُ (কাবলু → পূর্বে)
‎وَلَیَحۡلِفُنَّ (ওয়া লায়াহলিফুন্না → এবং অবশ্যই তারা শপথ করবে)
‎اِنۡ (ইন → যদি)
‎اَرَدۡنَا (আরাদনা → আমরা চেয়েছিলাম)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎الۡحُسۡنٰی (আল-হুসনা → কল্যাণ)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎یَشۡہَدُ (ইয়াশহাদু → সাক্ষ্য দেন)
‎اِنَّہُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
‎لَکٰذِبُوۡنَ (লাকাযিবূন → অবশ্যই মিথ্যাবাদী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে, সত্য অস্বীকারের (কুফরির) জন্য, একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য এবং যে ব্যক্তি পূর্বে আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহকের বিরোধিতা করেছে তার জন্য ওঁত পেতে থাকার উদ্দেশ্যে একটি ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্থান/মসজিদ স্থাপন করেছে। তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে, “আমরা তো কেবল কল্যাণই চেয়েছিলাম।” আর আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।


আয়াত-১০৮ঃ

لَا (লা → না)
‎تَقُمۡ (তাকুম → দাঁড়াও/অবস্থান করো)
‎فِیۡہِ (ফীহি → তাতে)
‎اَبَدًا (আবাদান → কখনোই)
‎لَمَسۡجِدٌ (লামাসজিদ → ন্যায় প্রতিষ্ঠার উপাসনাস্থল)
‎اُسِّسَ (উস্সিসা → প্রতিষ্ঠিত হয়েছে)
‎عَلَی (আলা → ওপর)
‎التَّقۡوٰی (আত-তাকওয়া → আল্লাহভীরুতা)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎اَوَّلِ (আওয়ালি → প্রথম)
‎یَوۡمٍ (ইয়াওমিন → দিন)
‎اَحَقُّ (আহাক্কু → অধিক উপযুক্ত)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎تَقُوۡمَ (তাকূমা → তুমি দাঁড়াও/অবস্থান করো)
‎فِیۡہِ (ফীহি → তাতে)
‎فِیۡہِ (ফীহি → তাতে)
‎رِجَالٌ (রিজাল → ব্যক্তিরা)
‎یُّحِبُّوۡنَ (ইউহিব্বূন → ভালোবাসে)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یَّتَطَہَّرُوۡا (ইয়াতাতাহহারূ → তারা নিজেদের পরিশুদ্ধ করে)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
‎الۡمُطَّہِّرِیۡنَ (আল-মুতাতাহহিরীন → যারা পরিশুদ্ধ থাকে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাতে (মসজিদে) তুমি কখনোই দাঁড়াবে না। আর তাতে দাঁড়ানো অধিক উপযুক্ত, যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার উপাসনাস্থল/মসজিদ প্রথম দিন থেকেই আল্লাহভীরুতা উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাতে এমন ব্যক্তিরা রয়েছে, যারা নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পরিশুদ্ধকারীদের ভালোবাসেন।


আয়াত-১০৯ঃ

‎اَفَمَنۡ (আফামান → তবে কি সে ব্যক্তি)
‎اَسَّسَ (আস্সাসা → ভিত্তি স্থাপন করেছে/ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে)
‎بُنۡیَانَہٗ (বুনইয়ানাহূ → তার নির্মাণ)
‎عَلٰی (আলা → ওপর)
‎تَقۡوٰی (তাকওয়া → আল্লাহভীরুতা)
‎مِنَ (মিনা → থেকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَرِضۡوَانٍ (ওয়া রিদওয়ান → এবং সন্তুষ্টি)
‎خَیۡرٌ (খাইর → উত্তম)
‎اَمۡ (আম → নাকি)
‎مَّنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
‎اَسَّسَ (আস্সাসা → প্রতিষ্ঠা করেছে)
‎بُنۡیَانَہٗ (বুনইয়ানাহূ → তার নির্মাণ)
‎عَلٰی (আলা → ওপর)
‎شَفَا (শাফা → কিনারা)
‎جُرُفٍ (জুরুফ → গভীর খাদের)
‎ہَارٍ (হার → ধসে পড়ার উপক্রম)
‎فَانۡہَارَ (ফানহার → ফলে ধসে পড়ল)
‎بِہٖ (বিহী → তা নিয়ে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎نَارِ (নার → আগুন)
‎جَہَنَّمَ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎لَا (লা → না)
‎یَہۡدِی (ইয়াহদী → পথনির্দেশ করেন)
‎الۡقَوۡمَ (আল-কাওম → সম্প্রদায়কে)
‎الظّٰلِمِیۡنَ (আয-যালিমীন → যারা অন্যায় করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে কি সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর প্রতি আল্লাহভীরুতা ও তাঁর সন্তুষ্টির ভিত্তির উপর তার নির্মাণ প্রতিষ্ঠা করেছে, উত্তম—নাকি সে ব্যক্তি, যে তার নির্মাণকে ধসে পড়ার উপক্রম এমন এক গভীর খাদের কিনারায় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে? অতঃপর তা তাকে নিয়ে ভংয়কর আগুনের শাস্তির স্থানের আগুনে ধসে পড়ল। আর আল্লাহ অন্যায়কারী (যালিম) সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।


আয়াত-১১০ঃ

‎لَا (লা → না)
‎یَزَالُ (ইয়াযালু → অব্যাহত থাকে)
‎بُنۡیَانُہُمُ (বুনইয়ানুহুম → তাদের নির্মাণ)
‎الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
‎بَنَوۡا (বানাও → তারা নির্মাণ করেছে)
‎رِیۡبَۃً (রীবাতান → সন্দেহ)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহে)
‎اِلَّاۤ (ইল্লা → যতক্ষণ না/ব্যতীত)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎تَقَطَّعَ (তাকাত্তা‘আ → বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়)
‎قُلُوۡبُہُمۡ (কুলূবুহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
‎وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
‎عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
‎حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

না অব্যাহত থাকে তাদের নির্মাণ, যা তারা নির্মাণ করেছে, তাদের অন্তরে সর্বদা সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে—যতক্ষণ না তাদের অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-১১১ঃ

‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اشۡتَرٰی (ইশতারা → ক্রয় করেছেন)
‎مِنَ (মিনা → থেকে)
‎الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
‎اَنۡفُسَہُمۡ (আনফুসাহুম → তাদের সত্তাসমূহ)
‎وَاَمۡوَالَہُمۡ (ওয়া আমওয়ালাহুম → এবং তাদের সম্পদসমূহ)
‎بِاَنَّ (বিআন্না → বিনিময়ে যে)
‎لَہُمُ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎الۡجَنَّۃَ (আল-জান্নাহ → উদ্যান)
‎یُقَاتِلُوۡنَ (ইউকাতিলূন → তারা সংগ্রাম/প্রতিরোধ করে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎سَبِیۡلِ (সাবীল → পথে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎فَیَقۡتُلُوۡنَ (ফাইয়াকতুলূন → ফলে তারা হত্যা করে)
‎وَیُقۡتَلُوۡنَ (ওয়া ইউকতালূন → এবং তারা নিহত হয়)
‎وَعۡدًا (ওয়া‘দান → প্রতিশ্রুতি)
‎عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তাঁর ওপর)
‎حَقًّا (হাক্কান → অবশ্যই সত্য)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎التَّوۡرٰىۃِ (আত-তাওরাত → তাওরাত)
‎وَالۡاِنۡجِیۡلِ (ওয়াল-ইনজীল → ইনজীল)
‎وَالۡقُرۡاٰنِ (ওয়াল-কুরআন → কুরআন)
‎وَمَنۡ (ওয়া মান → আর কে)
‎اَوۡفٰی (আওফা → অধিক পূর্ণ করে)
‎بِعَہۡدِہٖ (বি‘আহদিহী → তাঁর অঙ্গীকার)
‎مِنَ (মিনা → থেকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎فَاسۡتَبۡشِرُوۡا (ফাসতাবশিরূ → অতএব আনন্দিত হও)
‎بِبَیۡعِکُمُ (বিবাই‘ইকুম → তোমাদের এই লেনদেন নিয়ে)
‎الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
‎بَایَعۡتُمۡ (বায়া‘তুম → তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ)
‎بِہٖ (বিহী → তার মাধ্যমে)
‎وَذٰلِکَ (ওয়া যালিকা → এবং সেটিই)
‎ہُوَ (হুওয়া → তা)
‎الۡفَوۡزُ (আল-ফাওয → সাফল্য)
‎الۡعَظِیۡمُ (আল-আযীম → মহা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের কাছ থেকে তাদের প্রাণসমূহ (নফসসমূহ) ও সম্পদ ক্রয় করেছেন তাদের জন্য জান্নাতের বিনিময়ে। তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে; ফলে তারা হত্যা করে এবং নিহতও হয়। এটি তাঁর পক্ষ থেকে সত্য প্রতিশ্রুতি—তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে। আর আল্লাহর চেয়ে কে তার অঙ্গীকার অধিক পূর্ণ করে? অতএব, তোমরা তোমাদের সেই লেনদেনের জন্য আনন্দিত হও, যার মাধ্যমে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ। আর সেটিই মহাসাফল্য।


আয়াত-১১২ঃ

‎اَلتَّآئِبُوۡنَ (আত-তাইবূন → যারা ফিরে আসে)
‎الۡعٰبِدُوۡنَ (আল-‘আবিদূন → যারা দাসত্ব গ্রহণ করে)
‎الۡحٰمِدُوۡنَ (আল-হামিদূন → যারা প্রশংসা করে)
‎السَّآئِحُوۡنَ (আস-সাইহূন → যারা বিচরণ করে)
‎الرّٰکِعُوۡنَ (আর-রাকি‘ঊন → যারা বিনম্র হয়)
‎السّٰجِدُوۡنَ (আস-সাজিদূন → যারা মান্য করে)
‎الۡاٰمِرُوۡنَ (আল-আমিরূন → যারা নির্দেশ দেয়)
‎بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিল-মা‘রূফ → সৎ কাজের)
‎وَالنَّاہُوۡنَ (ওয়ান-নাহূন → এবং যারা নিষেধ করে)
‎عَنِ (‘আন → থেকে)
‎الۡمُنۡکَرِ (আল-মুনকার → অন্যায় কাজের)
‎وَالۡحٰفِظُوۡنَ (ওয়াল-হাফিযূন → এবং যারা সংরক্ষণ করে)
‎لِحُدُوۡدِ (লিহুদূদ → সীমারেখাসমূহ)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎وَبَشِّرِ (ওয়া বাশশির → এবং সুসংবাদ দাও)
‎الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা ফিরে আসে, যারা দাসত্ব গ্রহণ করে, যারা প্রশংসা প্রকাশ করে, যারা সফর/বিচরণ করে, যারা বিনম্র হয়, যারা মান্য করে, যারা সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে এবং যারা আল্লাহর সীমারেখাসমূহ সংরক্ষণ করে—আর একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দাও।


আয়াত-১১৩ঃ

‎مَا (মা → নয়)
‎کَانَ (কানা → ছিল)
‎لِلنَّبِیِّ (লিন্নাবিয়্যি → নবীর জন্য)
‎وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
‎اٰمَنُوۡۤا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یَّسۡتَغۡفِرُوۡا (ইয়াস্তাগফিরূ → ক্ষমা প্রার্থনা করে)
‎لِلۡمُشۡرِکِیۡنَ (লিল-মুশরিকীন → যারা অংশীদার স্থাপন করে তাদের জন্য)
‎وَلَوۡ (ওয়ালাও → যদিও)
‎کَانُوۡۤا (কানূ → তারা ছিল)
‎اُولِیۡ (উলী → অধিকারী)
‎قُرۡبٰی (কুরবা → নিকট আত্মীয়তার)
‎مِنۡۢ (মিন → পরে)
‎بَعۡدِ (বা‘দি → পরবর্তী)
‎مَا (মা → যখন)
‎تَبَیَّنَ (তাবাইয়ানা → স্পষ্ট হয়েছে)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের কাছে)
‎اَنَّہُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
‎اَصۡحٰبُ (আসহাব → অধিবাসী)
‎الۡجَحِیۡمِ (আল-জাহীম → ভয়ংকর প্রজ্বলিত আগুন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নবী ও যারা বিশ্বাস করেছে, তাদের জন্য এমন নয় যে, তারা যারা অংশীদার স্থাপন করে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে—যদিও তারা নিকট আত্মীয় হয়। যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের অধিবাসী।


আয়াত-১১৪ঃ

‎وَمَا (ওয়া মা → এবং নয়)
‎کَانَ (কানা → ছিল)
‎اسۡتِغۡفَارُ (ইস্তিগফার → ক্ষমা প্রার্থনা)
‎اِبۡرٰہِیۡمَ (ইব্রাহীম → ইব্রাহীমের)
‎لِاَبِیۡہِ (লি-আবীহি → তাঁর পিতার জন্য)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎عَنۡ (‘আন → কারণে)
‎مَّوۡعِدَۃٍ (মাও‘ইদাহ → প্রতিশ্রুতি)
‎وَّعَدَہَا (ওয়া‘আদাহা → তিনি তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন)
‎اِیَّاہُ (ইয়্যাহু → তাঁকে)
‎فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
‎تَبَیَّنَ (তাবাইয়ানা → স্পষ্ট হয়ে গেল)
‎لَہٗ (লাহূ → তাঁর কাছে)
‎اَنَّہٗ (আন্নাহূ → যে তিনি)
‎عَدُوٌّ (‘আদুও → শত্রু)
‎لِّلّٰہِ (লিল্লাহ → আল্লাহর)
‎تَبَرَّاَ (তাবাররা → সম্পর্কমুক্ত হলেন)
‎مِنۡہُ (মিনহু → তাঁর থেকে)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اِبۡرٰہِیۡمَ (ইব্রাহীম → ইব্রাহীম)
‎لَاَوَّاہٌ (লা-আওয়াহ → অত্যন্ত কোমলহৃদয়)
‎حَلِیۡمٌ (হালীম → সহনশীল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর ইব্রাহীম তাঁর পিতার জন্য যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, তা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তাঁকে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তিনি (ইব্রাহীমের পিতা) আল্লাহর শত্রু , তখন তিনি (ইব্রাহিম) তাঁর (পিতার) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। নিশ্চয়ই ইব্রাহীম ছিলেন অত্যন্ত কোমলহৃদয় ও সহনশীল।


আয়াত-১১৫ঃ

‎وَمَا (ওয়া মা → এবং নয়)
‎کَانَ (কানা → ছিল)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لِیُضِلَّ (লিইউদিল্লা → পথভ্রষ্ট করেন)
‎قَوۡمًۢا (কাওমান → কোনো সম্প্রদায়কে)
‎بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
‎اِذۡ (ইয → যখন)
‎ہَدٰىہُمۡ (হাদাহুম → তিনি তাদের পথনির্দেশ দিয়েছেন)
‎حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
‎یُبَیِّنَ (ইউবাইয়্যিনা → তিনি স্পষ্ট করে দেন)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের কাছে)
‎مَّا (মা → যা)
‎یَتَّقُوۡنَ (ইয়াত্তাকূন → তারা এড়িয়ে চলে)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎بِکُلِّ (বিকুল্লি → প্রত্যেক)
‎شَیۡءٍ (শাই → বিষয়/বস্তু)
‎عَلِیۡمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করবেন না, তাদের পথনির্দেশ দেওয়ার পর, যতক্ষণ না তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেন—কী কী বিষয় থেকে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।


আয়াত-১১৬ঃ

‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لَہٗ (লাহূ → তাঁরই)
‎مُلۡکُ (মুলকু → কর্তৃত্ব/রাজত্ব)
‎السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াত → আকাশসমূহ)
‎وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল-আরদ → এবং পৃথিবী)
‎یُحۡیٖ (ইউহয়ী → জীবন দান করেন)
‎وَیُمِیۡتُ (ওয়া ইউমীতু → এবং মৃত্যু ঘটান)
‎وَمَا (ওয়া মা → এবং নেই)
‎لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
‎مِّنۡ (মিন → কোনো)
‎دُوۡنِ (দূন → ছাড়া)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎مِنۡ (মিন → কোনো)
‎وَّلِیٍّ (ওয়ালিয়্য → অভিভাবক)
‎وَّلَا (ওয়া লা → এবং কোনো নয়)
‎نَصِیۡرٍ (নাসীর → সাহায্যকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব/রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।


আয়াত-১১৭ঃ

‎لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
‎تَّابَ (তাবা → ফিরে এসেছেন/তওবা গ্রহণ করেছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎عَلَی (‘আলা → প্রতি)
‎النَّبِیِّ (আন-নাবিয়্যি → নবীর)
‎وَالۡمُہٰجِرِیۡنَ (ওয়াল-মুহাজিরীন → এবং যারা স্থানান্তরিত হয়েছে)
‎وَالۡاَنۡصَارِ (ওয়াল-আনসার → এবং সাহায্যকারীদের)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎اتَّبَعُوۡہُ (ইত্তাবা‘উহু → তাঁর অনুসরণ করেছে)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎سَاعَۃِ (সা‘আত → সময়/ক্ষণ)
‎الۡعُسۡرَۃِ (আল-‘উসরাহ → সংকট)
‎مِنۡۢ (মিন → পরে)
‎بَعۡدِ (বা‘দি → পর)
‎مَا (মা → যখন/যে)
‎کَادَ (কাদা → প্রায়)
‎یَزِیۡغُ (ইয়াযীগু → বিচ্যুত হয়ে যায়)
‎قُلُوۡبُ (কুলূব → অন্তরসমূহ)
‎فَرِیۡقٍ (ফারীক → একটি দলের)
‎مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
‎ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
‎تَابَ (তাবা → ফিরে এসেছেন/তওবা গ্রহণ করেছেন)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের প্রতি)
‎اِنَّہٗ (ইন্নাহূ → নিশ্চয়ই তিনি)
‎بِہِمۡ (বিহিম → তাদের প্রতি)
‎رَءُوۡفٌ (রাঊফ → পরম স্নেহশীল)
‎رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি, যারা স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সাহায্যকারীদের প্রতি ফিরে এসেছেন (তওবা গ্রহণ করেছেন)—যারা সংকটের সময়ে তাঁর অনুসরণ করেছিল। এরপর যখন তাদের একটি দলের অন্তর প্রায় বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছিল। তারপর তিনি তাদের প্রতি ফিরে এসেছেন (তওবা গ্রহণ করেছেন)। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি পরম স্নেহশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-১১৮ঃ

‎وَّعَلَی (ওয়া ‘আলা → এবং প্রতি)
‎الثَّلٰثَۃِ (আছ-ছালাছাত → তিনজনের)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎خُلِّفُوۡا (খুল্লিফূ → পিছনে রাখা হয়েছিল)
‎حَتّٰۤی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
‎اِذَا (ইযা → যখন)
‎ضَاقَتۡ (দাকাত → সংকীর্ণ হয়ে গেল)
‎عَلَیۡہِمُ (‘আলাইহিম → তাদের জন্য)
‎الۡاَرۡضُ (আল-আরদ → পৃথিবী)
‎بِمَا (বিমা → যা সত্ত্বেও)
‎رَحُبَتۡ (রাহুবাত → প্রশস্ত ছিল)
‎وَضَاقَتۡ (ওয়া দাকাত → এবং সংকীর্ণ হয়ে গেল)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের জন্য)
‎اَنۡفُسُہُمۡ (আনফুসুহুম → তাদের নিজেদের সত্তাসমূহ)
‎وَظَنُّوۡۤا (ওয়া যন্নূ → এবং তারা মনে করল)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎لَّا (লা → নেই)
‎مَلۡجَاَ (মালজা → আশ্রয়স্থল)
‎مِنَ (মিনা → থেকে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اِلَّاۤ (ইল্লা → ছাড়া)
‎اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁরই দিকে)
‎ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
‎تَابَ (তাবা → ফিরে এসেছেন/তওবা গ্রহণ করেছেন)
‎عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের প্রতি)
‎لِیَتُوۡبُوۡا (লিইয়াতূবূ → যাতে তারা ফিরে আসে/তওবা করে)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎ہُوَ (হুওয়া → তিনিই)
‎التَّوَّابُ (আত-তাওয়াব → বারবার ফিরে আসা গ্রহণকারী)
‎الرَّحِیۡمُ (আর-রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এবং সেই তিনজনের প্রতিও, যাদের পিছনে রাখা হয়েছিল। অবশেষে যখন পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল, তাদের নিজেদের সত্তাও (নফস) তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল এবং তারা মনে করল যে, আল্লাহর কাছে তাঁরই দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তারপর তিনি তাদের প্রতি ফিরে এলেন, যাতে তারা ফিরে আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ বারবার ফিরে আসা/তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।


আয়াত-১১৯ঃ

‎یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎اٰمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎اتَّقُوا (ইত্তাকূ → তোমরা আল্লাহভীরু হও)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
‎وَکُوۡنُوۡا (ওয়া কূনূ → এবং তোমরা হও)
‎مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
‎الصّٰدِقِیۡنَ (আস-সাদিকীন → সত্যনিষ্ঠদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসগণ, তোমরা আল্লাহভীরু হও এবং সত্যনিষ্ঠদের সঙ্গে থাকো।


আয়াত-১২০ঃ

‎مَا (মা → নয়)
‎کَانَ (কানা → ছিল)
‎لِاَہۡلِ (লি-আহলি → অধিবাসীদের জন্য)
‎الۡمَدِیۡنَۃِ (আল-মাদীনাহ → নগরের)
‎وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যারা)
‎حَوۡلَہُمۡ (হাওলাহুম → তাদের চারপাশে)
‎مِّنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
‎الۡاَعۡرَابِ (আল-আ‘রাব → মরুবাসীদের)
‎اَنۡ (আন → যে)
‎یَّتَخَلَّفُوۡا (ইয়াতাখাল্লাফূ → পিছনে থেকে যায়)
‎عَنۡ (‘আন → থেকে)
‎رَّسُوۡلِ (রাসূল → বার্তাবাহকের)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یَرۡغَبُوۡا (ইয়ারগাবূ → তারা আগ্রহী হয়/প্রিয় মনে করে)
‎بِاَنۡفُسِہِمۡ (বিআনফুসিহিম → নিজেদের সত্তাকে)
‎عَنۡ (‘আন → থেকে)
‎نَّفۡسِہٖ (নাফসিহী → তাঁর সত্তাকে)
‎ذٰلِکَ (যালিকা → সেটি)
‎بِاَنَّہُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
‎لَا (লা → না)
‎یُصِیۡبُہُمۡ (ইউসীবুহুম → তাদের আক্রান্ত করে)
‎ظَمَاٌ (যামা → তৃষ্ণা)
‎وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎نَصَبٌ (নাসাব → ক্লান্তি)
‎وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎مَخۡمَصَۃٌ (মাখমাসাহ → ক্ষুধার কষ্ট)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎سَبِیۡلِ (সাবীল → পথে)
‎اللّٰہِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یَطَـُٔوۡنَ (ইয়াতাউনা → তারা পদার্পণ করে)
‎مَوۡطِئًا (মাওতি’আন → এমন স্থানে)
‎یَّغِیۡظُ (ইয়াগীযু → যা ক্ষুদ্ধ করে)
‎الۡکُفَّارَ (আল-কুফফার → সত্য অস্বীকারকারীদের)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یَنَالُوۡنَ (ইয়ানালূন → তারা অর্জন করে)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎عَدُوٍّ (‘আদুও → শত্রু)
‎نَّیۡلًا (নাইলান → কোনো প্রাপ্তি)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎کُتِبَ (কুতিবা → লিখে দেওয়া হয়)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎بِہٖ (বিহী → তার কারণে)
‎عَمَلٌ (আমাল → কর্ম)
‎صَالِحٌ (সালিহ → সৎ/সংশোধনকারী)
‎اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لَا (লা → না)
‎یُضِیۡعُ (ইউদী‘ → বিনষ্ট করেন)
‎اَجۡرَ (আজর → প্রতিদান)
‎الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল-মুহসিনীন → যারা উত্তম কাজ করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নগরের অধিবাসী এবং তাদের চারপাশের আরববাসীদের জন্য উচিত ছিল না যে, তারা আল্লাহর বার্তাবাহকের কাছ থেকে পিছনে রয়ে যায় এবং জীবণ সম্পর্কে তাঁরা নিজেদের জীবণকে (নফসকে) প্রিয় মনে করে। এটা এ কারণে যে, আল্লাহর পথে তাদের (অর্থাৎ স্থানান্তরিতদের) যে পিপাসা, ক্লান্তি ও ক্ষুধার কষ্ট দেখা দেয় অথবা তারা অবিশ্বাসীদের (কাফেরদের) ক্রোধ সঞ্চার করে এমন যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিংবা শত্রুর বিরুদ্ধে তারা যে সফলতা অর্জন করে, তাতে তাদের জন্য অবশ্যই সৎকর্ম লিখিত হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।


আয়াত-১২১ঃ

‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূন → তারা ব্যয় করে)
‎نَفَقَۃً (নাফাকাতান → খরচ / ব্যয়িত সম্পদ)
‎صَغِیۡرَۃً (সাগীরাতান → ছোট)
‎وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎کَبِیۡرَۃً (কাবীরাতান → বড়)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎یَقۡطَعُوۡنَ (ইয়াকতা‘ঊন → তারা অতিক্রম করে)
‎وَادِیًا (ওয়াদিয়ান → উপত্যকা)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎کُتِبَ (কুতিবা → লিখে দেওয়া হয়)
‎لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
‎لِیَجۡزِیَہُمُ (লিইয়াজযিয়াহুম → যাতে তিনি তাদের প্রতিদান দেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎اَحۡسَنَ (আহসান → সর্বোত্তম)
‎مَا (মা → যা)
‎کَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
‎یَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া‘মালূন → তারা কর্ম করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাছাড়া তারা যা কিছু ব্যয় করে, সে ব্যয় অল্প হোক বা বেশি এবং তারা যেকোন উপত্যকাই অতিক্রম করে, তা সবই লিখিত হয়, যাতে আল্লাহ তাদের সেই কর্মের সর্বোত্তম প্রতিদান দেন, যা তারা কর্ম করত।


আয়াত-১২২ঃ

‎وَمَا (ওয়া মা → এবং যা না)
‎کَانَ (কানা → ছিল/ অবস্থায় ছিল)
‎الۡمُؤۡمِنُوۡنَ (আল-মু’মিনূন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীগণ)
‎لِیَنۡفِرُوۡا (লিইয়ানফিরূ → তারা বেরিয়ে যায়)
‎کَآفَّۃً (কাফফাতান → সবাই একসঙ্গে)
‎فَلَوۡلَا (ফালাওলা → তবে কেন নয়)
‎نَفَرَ (নাফারা → বের হলো)
‎مِنۡ (মিন → থেকে)
‎کُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
‎فِرۡقَۃٍ (ফিরকাহ → দল)
‎مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
‎طَآئِفَۃٌ (তাইফাহ → একটি দল)
‎لِّیَتَفَقَّہُوۡا (লিইয়াতাফাক্কাহূ → যাতে তারা গভীরভাবে বুঝতে শেখে)
‎فِی (ফী → মধ্যে)
‎الدِّیۡنِ (আদ-দীন → জীবনব্যবস্থার)
‎وَلِیُنۡذِرُوۡا (ওয়ালিইউনযিরূ → এবং যাতে তারা সতর্ক করে)
‎قَوۡمَہُمۡ (কাওমাহুম → তাদের সম্প্রদায়কে)
‎اِذَا (ইযা → যখন)
‎رَجَعُوۡۤا (রাজা‘উ → তারা ফিরে আসে)
‎اِلَیۡہِمۡ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
‎لَعَلَّہُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা হয়তো)
‎یَحۡذَرُوۡنَ (ইয়াহযারূন → সতর্ক থাকে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর একনিষ্ঠ বিশ্বাসীগণ (মুমিনগণ) যে অবস্থায় থাকে না তারা সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের মধ্য থেকে একটি অংশ বেরিয়ে যাবে না? যাতে তারা জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝতে শেখে এবং তাদের সম্প্রদায় তাদের কাছে ফিরে এলে তাদের সতর্ক করে, যাতে তারা সতর্ক থাকে।


আয়াত-১২৩ঃ

‎یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎قَاتِلُوا (কাতিলূ → সংগ্রাম করো/প্রতিরোধ করো)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎یَلُوۡنَکُمۡ (ইয়ালূনাকুম → তোমাদের নিকটবর্তী)
‎مِّنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
‎الۡکُفَّارِ (আল-কুফফার → সত্য অস্বীকারকারীদের)
‎وَلۡیَجِدُوۡا (ওয়াল-ইয়াজিদূ → এবং তারা যেন পায়)
‎فِیۡکُمۡ (ফীকুম → তোমাদের মধ্যে)
‎غِلۡظَۃً (গিলযাহ → দৃঢ়তা/কঠোরতা)
‎وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
‎اَنَّ (আন্না → যে)
‎اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
‎الۡمُتَّقِیۡنَ (আল-মুত্তাকীন → আল্লাহভীরু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের নিকটবর্তী অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম/প্রতিরোধ করো এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা/কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ আল্লাহভীরুদের সঙ্গে আছেন।


আয়াত-১২৪ঃ

‎وَاِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
‎مَاۤ (মা → কোনো)
‎اُنۡزِلَتۡ (উনযিলাত → অবতীর্ণ করা হয়)
‎سُوۡرَۃٌ (সূরাতুন → একটি অধ্যায়)
‎فَمِنۡہُمۡ (ফামিনহুম → তখন তাদের মধ্য থেকে)
‎مَّنۡ (মান → কেউ কেউ)
‎یَّقُوۡلُ (ইয়াকূলু → বলে)
‎اَیُّکُمۡ (আইয়ুকুম → তোমাদের মধ্যে কে)
‎زَادَتۡہُ (যাদাতহু → তাকে বৃদ্ধি করেছে)
‎ہٰذِہٖۤ (হাযিহী → এটি)
‎اِیۡمَانًا (ঈমানান → বিশ্বাস)
‎فَاَمَّا (ফা-আম্মা → অতঃপর যারা)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
‎فَزَادَتۡہُمۡ (ফাযাদাতহুম → তখন তা তাদের বৃদ্ধি করেছে)
‎اِیۡمَانًا (ঈমানান → বিশ্বাস)
‎وَّہُمۡ (ওয়াহুম → এবং তারা)
‎یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ (ইয়াসতাবশিরূন → আনন্দিত হয়/সুসংবাদে উৎফুল্ল হয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন কোনো অধ্যায় (সূরা) অবতীর্ণ করা হয়, তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলে, “এটি তোমাদের মধ্যে কার বিশ্বাস (ঈমাণ) বৃদ্ধি করেছে?” অতঃপর যারা বিশ্বাস করেছে, এটি তাদের বিশ্বাস (ঈমাণ) বৃদ্ধি করে এবং তারা আনন্দিত হয়।


আয়াত-১২৫ঃ

‎وَاَمَّا (ওয়া আম্মা → আর যা)
‎الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎قُلُوۡبِہِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহে)
‎مَّرَضٌ (মারাদ → রোগ/ব্যাধি)
‎فَزَادَتۡہُمۡ (ফাযাদাতহুম → ফলে তা তাদের বৃদ্ধি করেছে)
‎رِجۡسًا (রিজসান → অপবিত্রতা/কলুষতা)
‎اِلٰی (ইলা → দিকে)
‎رِجۡسِہِمۡ (রিজসিহিম → তাদের কলুষতার)
‎وَمَاتُوۡا (ওয়া মাতূ → এবং তারা মারা গেল)
‎وَہُمۡ (ওয়াহুম → আর তারা)
‎کٰفِرُوۡنَ (কাফিরূন → সত্য অস্বীকারকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যাদের অন্তরসমূহের মধ্যে রোগ রয়েছে—ফলে তা তাদের কলুষতার সঙ্গে আরও কলুষতা বৃদ্ধি করেছে এবং তারা মারা যায় অবিশ্বাসী (কাফের) অবস্থায়।


আয়াত-১২৬ঃ

‎اَوَلَا (আওয়ালা → তবে কি না)
‎یَرَوۡنَ (ইয়ারাওনা → তারা দেখে)
‎اَنَّہُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
‎یُفۡتَنُوۡنَ (ইউফতানূন → পরীক্ষিত হয়)
‎فِیۡ (ফী → মধ্যে)
‎کُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
‎عَامٍ (‘আম → বছর)
‎مَّرَّۃً (মাররাতান → একবার)
‎اَوۡ (আও → অথবা)
‎مَرَّتَیۡنِ (মাররাতাইনি → দুইবার)
‎ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
‎لَا (লা → না)
‎یَتُوۡبُوۡنَ (ইয়াতূবূন → তারা ফিরে আসে/তওবা করে)
‎وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
‎ہُمۡ (হুম → তারা)
‎یَذَّکَّرُوۡنَ (ইয়াযযাক্কারূন → তারা স্মরণ করে/উপদেশ গ্রহণ করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে কি তারা দেখে না যে, প্রতি বছর একবার বা দুইবার তারা পরীক্ষিত হয়? তারপরও তারা ফিরে আসে না (তওবা করে না) এবং তারা স্মরণও (যিকির) করে না।


আয়াত-১২৭ঃ

‎وَاِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
‎مَاۤ (মা → কোনো)
‎اُنۡزِلَتۡ (উনযিলাত → অবতীর্ণ করা হয়)
‎سُوۡرَۃٌ (সূরাহ → একটি অধ্যায়)
‎نَّظَرَ (নাযারা → তাকায়)
‎بَعۡضُہُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের কেউ কেউ)
‎اِلٰی (ইলা → দিকে)
‎بَعۡضٍ (বা‘দ → একে অপরের)
‎ہَلۡ (হাল → কি)
‎یَرٰىکُمۡ (ইয়ারাকুম → তোমাদের দেখে)
‎مِّنۡ (মিন → কোনো)
‎اَحَدٍ (আহাদ → একজন)
‎ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
‎انۡصَرَفُوۡا (ইনসারাফূ → তারা সরে যায়)
‎صَرَفَ (সারাফা → বিমুখ করেছেন)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎قُلُوۡبَہُمۡ (কুলূবাহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
‎بِاَنَّہُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
‎قَوۡمٌ (কাওম → সম্প্রদায়)
‎لَّا (লা → না)
‎یَفۡقَہُوۡنَ (ইয়াফকাহূন → তারা গভীরভাবে বোঝে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন কোনো অধ্যায় (সূরা) অবতীর্ণ করা হয়, তখন তাদের কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকায়—“কেউ কি তোমাদের দেখছে?” তারপর তারা সরে যায়। আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে বিমুখ করে দিয়েছেন, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা গভীরভাবে বিষয়টি অনুধাবন করে না।


আয়াত-১২৮ঃ

‎لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
‎جَآءَکُمۡ (জাআকুম → তোমাদের কাছে এসেছেন)
‎رَسُوۡلٌ (রাসূল → একজন বার্তাবাহক)
‎مِّنۡ (মিন → থেকে)
‎اَنۡفُسِکُمۡ (আনফুসিকুম → তোমাদেরই নিজেদের/সত্তাসমূহের মধ্য থেকে)
‎عَزِیۡزٌ (‘আযীয → কষ্টদায়ক/গুরুতর)
‎عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তাঁর কাছে)
‎مَا (মা → যা)
‎عَنِتُّمۡ (‘আনতুম → তোমরা কষ্টে পড়ো)
‎حَرِیۡصٌ (হারীস → অত্যন্ত আগ্রহী/আকাঙ্ক্ষী)
‎عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ব্যাপারে)
‎بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ (বিল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের প্রতি)
‎رَءُوۡفٌ (রাঊফ → পরম স্নেহশীল)
‎رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অবশ্যই তোমাদের কাছে তোমাদেরই নিজেদের (নফসের) মধ্য থেকে একজন বার্তাবাহক (রাসূল) এসেছেন। তোমরা যে কষ্টে পড়ো, তা তাঁর কাছে কষ্টদায়ক; তিনি তোমাদের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-১২৯ঃ

‎فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
‎تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা ফিরে যায়/বিমুখ হয়)
‎فَقُلۡ (ফাকুল → তবে বলো)
‎حَسۡبِیَ (হাসবিয়া → আমার জন্য যথেষ্ট)
‎اللّٰہُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
‎لَاۤ (লা → নেই)
‎اِلٰہَ (ইলাহ → বিধানদাতা)
‎اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
‎ہُوَ (হুওয়া → তিনি)
‎عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তাঁর ওপর)
‎تَوَکَّلۡتُ (তাওয়াক্কালতু → আমি নির্ভর করেছি)
‎وَہُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং তিনিই)
‎رَبُّ (রব্বু → প্রতিপালক/পরিচালক)
‎الۡعَرۡشِ (আল-‘আরশ → পরিকল্পণা/ সিংহাসন)
‎الۡعَظِیۡمِ (আল-‘আযীম → মহা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে বলো, “আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তিনিই মহা পরিকল্পণার পরিচালক।”