সূরা আল আ’রাফ (الأعراف) | উচু স্থানসমূহ
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ২০৬

رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-১৭৬ঃ

وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
شِئۡنَا (শি’না → আমরা ইচ্ছা করতাম)
لَرَفَعۡنَٰهُ (লারাফা‘না-হু → অবশ্যই আমরা তাকে উন্নত করতাম)
بِهَا (বিহা → তার দ্বারা)
وَلَٰكِنَّهُۥ (ওয়া লা-কিন্নাহূ → কিন্তু সে)
أَخۡلَدَ (আখলাদা → ঝুঁকে স্থির হয়ে থাকল)
إِلَى ٱلۡأَرۡضِ (ইলাল আরদি → দুনিয়ার প্রতি)
وَٱتَّبَعَ (ওয়াত্তাবা‘আ → এবং অনুসরণ করল)
هَوَىٰهُ (হাওয়া-হু → তার প্রবৃত্তিকে)
فَمَثَلُهُۥ (ফামাছালুহূ → অতএব তার দৃষ্টান্ত)
كَمَثَلِ (কামাছালি → মতো)
ٱلۡكَلۡبِ (আল-কালবি → কুকুরের)
إِن تَحۡمِلۡ (ইন তাহমিল → যদি তুমি বোঝা চাপাও)
عَلَيۡهِ (আলাইহি → তার ওপর)
يَلۡهَثۡ (ইয়ালহাছ → সে হাঁপাতে থাকে)
أَوۡ تَتۡرُكۡهُ (আও তাতরুকহু → অথবা তাকে ছেড়ে দাও)
يَلۡهَثۡ (ইয়ালহাছ → সে হাঁপাতে থাকে)
ذَٰلِكَ (যা-লিকা → এটাই)
مَثَلُ (মাছালু → দৃষ্টান্ত)
ٱلۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সেই সম্প্রদায়ের)
ٱلَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَذَّبُوا۟ (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِـَٔايَٰتِنَا (বিআ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
فَٱقۡصُصِ (ফাকসুস → অতএব বর্ণনা করো)
ٱلۡقَصَصَ (আল-কাসাস → ঘটনাবলি)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَتَفَكَّرُونَ (ইয়াতাফাক্কারূন → চিন্তা-ভাবনা করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আমরা ইচ্ছা করলে অবশ্যই তাকে আমার আয়াতসমূহের (নিদর্শনসমূহের) মাধ্যমে উন্নত মর্যাদা দিতাম; কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ল এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। ফলে তার দৃষ্টান্ত কুকুরের মতো—তুমি তার উপর বোঝা চাপালে সে হাঁপাতে থাকে, আর তাকে ছেড়ে দিলেও সে হাঁপাতে থাকে। এটাই সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত, যারা আমার আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) অস্বীকার করেছে। অতএব তুমি এসব ঘটনা বর্ণনা করো, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।


আয়াত-১৭৭ঃ

سَآءَ (ছা-আ → নিকৃষ্ট হয়েছে)
مَثَلًا (মাছালান → দৃষ্টান্ত হিসেবে)
الۡقَوۡمُ (আল-কাওমু → সেই সম্প্রদায়)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَذَّبُوا۟ (কাযযাবূ → অস্বীকার করেছে / মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِاٰیٰتِنَا (বিআ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَاَنۡفُسَہُمۡ (ওয়া আনফুছাহুম → এবং নিজেদেরকে)
کَانُوا۟ (কা-নূ → তারা ছিল)
یَظۡلِمُوۡنَ (ইয়াজলিমূন → অন্যায় করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কতই না নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত সেই সম্প্রদায়ের, যারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) অস্বীকার করেছে এবং তারা নিজেদের প্রতিই অন্যায় করেছে।


আয়াত-১৭৮ঃ

مَنۡ (মান → যে)
یَّہۡدِ (ইয়াহদি → পথনির্দেশ দেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَہُوَ (ফাহুওয়া → অতএব সে)
الۡمُہۡتَدِیۡ (আল-মুহতাদী → সঠিক পথপ্রাপ্ত)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یُّضۡلِلۡ (ইউদলিল → পথভ্রষ্ট করেন)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
ہُمُ (হুমু → তারা)
الۡخٰسِرُوۡنَ (আল-খা-ছিরূন → ক্ষতিগ্রস্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যাকে আল্লাহ পথনির্দেশ দেন, সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।


আয়াত-১৭৯ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → এবং অবশ্যই)
ذَرَأۡنَا (যারা’না → আমরা সৃষ্টি করেছি / ছড়িয়ে দিয়েছি)
لِجَهَنَّمَ (লিজাহান্নামা → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের জন্য)
كَثِيرًا (কাছীরান → অনেককে)
مِّنَ (মিন → মধ্য থেকে)
الۡجِنِّ (আল-জিন্নি → জিনদের)
وَالۡإِنسِ (ওয়াল-ইনসি → এবং মানুষদের)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের আছে)
قُلُوبٌ (কুলূব → অন্তরসমূহ)
لَّا (লা → না)
يَفۡقَهُونَ (ইয়াফকাহূন → তারা উপলব্ধি করে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
وَلَهُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের আছে)
أَعۡيُنٌ (আ‘ইউন → চোখসমূহ)
لَّا (লা → না)
يُبۡصِرُونَ (ইউবসিরূন → তারা দেখে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
وَلَهُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের আছে)
ءَاذَانٌ (আ-যান → কানসমূহ)
لَّا (লা → না)
يَسۡمَعُونَ (ইয়াছমা‘ূন → তারা শোনে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
أُولَٰٓئِكَ (উলাইকা → তারাই)
كَالۡأَنۡعَامِ (কাল-আন‘আম → চতুষ্পদ জন্তুর মতো)
بَلۡ (বাল → বরং)
هُمۡ (হুম → তারা)
أَضَلُّ (আদাল্লু → আরও বেশি পথভ্রষ্ট)
أُولَٰٓئِكَ (উলাইকা → তারাই)
هُمُ (হুমু → তারা)
الۡغَٰفِلُونَ (আল-গা-ফিলূন → উদাসীন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবশ্যই আমরা জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে উপলব্ধি করে না; তাদের চোখ আছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে দেখে না; তাদের কান আছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তারা তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট। তারাই হলো উদাসীন।


আয়াত-১৮০ঃ

وَلِلّٰهِ (ওয়ালিল্লা-হি → এবং আল্লাহর জন্য)
الۡأَسۡمَآءُ (আল-আছমা → নামসমূহ)
الۡحُسۡنَىٰ (আল-হুছনা → সুন্দরতম)
فَادۡعُوهُ (ফাদ‘ঊহু → অতএব তাঁকে ডাকো)
بِهَا (বিহা → সেসব নামের মাধ্যমে)
وَذَرُوا (ওয়াযারূ → এবং ছেড়ে দাও)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يُلۡحِدُونَ (ইউলহিদূন → বিকৃতি করে)
فِيٓ (ফী → মধ্যে)
أَسۡمَآئِهِ (আছমাইহি → তাঁর নামসমূহে)
سَيُجۡزَوۡنَ (ছাইউজঝাওনা → তাদের প্রতিফল দেওয়া হবে)
مَا (মা → যা)
كَانُوا (কা-নূ → তারা)
يَعۡمَلُونَ (ইয়া‘মালূন → করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আল্লাহরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। অতএব, তোমরা সেসব নামের মাধ্যমে তাঁকে ডাকো। আর যারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি করে, তাদের ছেড়ে দাও। তারা যা করত, তারই প্রতিফল তাদের দেওয়া হবে।


আয়াত-১৮১ঃ

وَمِمَّنۡ (ওয়া মিম্মান → এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের)
خَلَقۡنَا (খালাকনা → আমরা সৃষ্টি করেছি)
أُمَّةٌ (উম্মাতুন → একটি সম্প্রদায়)
يَهۡدُونَ (ইয়াহদূন → তারা পথনির্দেশ করে)
بِالۡحَقِّ (বিলহাক্কি → সত্যের মাধ্যমে)
وَبِهِۦ (ওয়া বিহী → এবং তা দ্বারা)
يَعۡدِلُونَ (ইয়া‘দিলূন → তারা ন্যায়বিচার করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একটি দল আছে, যারা সত্যের পথ দেখায় এবং সেই অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।


আয়াত-১৮২ঃ

وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে/প্রত্যাখ্যান করেছে)
بِآيَاتِنَا (বিআ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
سَنَسۡتَدۡرِجُهُمۡ (ছানাছতাদরিজুহুম → আমরা ধীরে ধীরে তাদের এমনভাবে পাকরাও করবো)
مِّنۡ (মিন → এমন দিক থেকে)
حَيۡثُ (হাইছু → যেখান থেকে)
لَا (লা → না)
يَعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → তারা জানতে পারে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, আমি তাদের এমনভাবে ধীরে ধীরে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেই পারবে না।


আয়াত-১৮৩ঃ

وَأُمۡلِي (ওয়া উমলী → আর আমি অবকাশ দিই)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
كَيۡدِي (কাইদী → আমার কৌশল / পরিকল্পনা)
مَتِينٌ (মাতীন → সুদৃঢ় / অটুট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমি তাদের অবকাশ দিই। নিশ্চয়ই আমার কৌশল সুদৃঢ়।


আয়াত-১৮৪ঃ

أَوَلَمۡ (আওয়ালাম → তবে কি না)
يَتَفَكَّرُوا (ইয়াতাফাক্কারূ → তারা চিন্তা-ভাবনা করে)
مَا (মা → কোনো)
بِصَاحِبِهِمۡ (বিসা-হিবিহিম → তাদের সঙ্গীর মধ্যে)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
جِنَّةٍ (জিন্নাতিন → উন্মাদনা / বিকার)
إِنۡ (ইন → নয়)
هُوَ (হুওয়া → সে)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
نَذِيرٌ (নাযীর → সতর্ককারী)
مُّبِينٌ (মুবীন → সুস্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে কি তারা চিন্তা-ভাবনা করে না যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই? সে তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছুই নয়।


আয়াত-১৮৫ঃ

أَوَلَمۡ (আওয়ালাম → তবে কি না)
يَنۡظُرُوا (ইয়ানজুরূ → তারা লক্ষ্য করে)
فِي (ফী → মধ্যে)
مَلَكُوتِ (মালাকূত → কর্তৃত্ব / রাজত্ব)
السَّمَاوَاتِ (আছ-ছামা-ওয়াত → আকাশসমূহের)
وَالۡأَرۡضِ (ওয়াল-আরদ → এবং পৃথিবীর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
خَلَقَ (খালাক → সৃষ্টি করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِنۡ (মিন → কোনো)
شَيۡءٍ (শাই’ → কিছু)
وَأَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
عَسَىٰ (আসা → সম্ভবত)
أَنۡ (আন → যে)
يَكُونَ (ইয়াকূন → হবে)
قَدِ (কাদি → নিশ্চয়ই ইতোমধ্যে)
اقۡتَرَبَ (ইকতারাব → নিকটবর্তী হয়েছে)
أَجَلُهُمۡ (আজালুহুম → তাদের নির্ধারিত সময়)
فَبِأَيِّ (ফাবিআইয়ি → অতএব কোন)
حَدِيثٍ (হাদীছ → বক্তব্য / বাণী)
بَعۡدَهُ (বা‘দাহূ → এর পরে)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → তারা বিশ্বাস করবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে কি তারা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব এবং আল্লাহ যে সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলোর দিকে লক্ষ্য করে না? আর হয়তো তাদের নির্ধারিত সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে। অতএব, এরপরেও তারা আর কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?


আয়াত-১৮৬ঃ

مَنۡ (মান → যে)
يُّضۡلِلِ (ইউদলিল → পথভ্রষ্ট করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَلَا (ফালা → তাহলে নেই)
هَادِيَ (হাদী → পথনির্দেশকারী)
لَهُۥ (লাহূ → তার জন্য)
وَيَذَرُهُمۡ (ওয়া ইয়াযারুহুম → এবং তিনি তাদের ছেড়ে দেন)
فِي (ফী → মধ্যে)
طُغۡيَانِهِمۡ (তুগইয়ানিহিম → তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে)
يَعۡمَهُونَ (ইয়া‘মাহূন → তারা উদ্ভ্রান্তভাবে ঘুরে বেড়ায়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথনির্দেশকারী নেই। আর তিনি তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে ছেড়ে দেন, ফলে তারা দিশাহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।


আয়াত-১৮৭ঃ

يَسۡأَلُونَكَ (ইয়াছআলূনাকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে)
عَنِ (আনি → সম্পর্কে)
السَّاعَةِ (আছ-ছা‘আতি → সেই সময় / কিয়ামতের সময়)
أَيَّانَ (আইয়ানা → কখন)
مُرۡسَاهَا (মুরছা-হা → তার সংঘটন)
قُلۡ (কুল → বলো)
إِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
عِلۡمُهَا (ইলমুহা → তার জ্ঞান)
عِندَ (ইনদা → কাছে)
رَبِّي (রাব্বী → আমার প্রতিপালকের)
لَا (লা → না)
يُجَلِّيَهَا (ইউজাল্লীহা → তিনি তা প্রকাশ করেন)
لِوَقۡتِهَا (লিওয়াকতিহা → তার নির্ধারিত সময়ে)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
هُوَ (হুওয়া → তিনি)
ثَقُلَتۡ (ছাকুলাত → তা ভারী / কঠিন হয়ে এসেছে)
فِي (ফী → মধ্যে)
السَّمَاوَاتِ (আছ-ছামা-ওয়াত → আকাশসমূহের)
وَالۡأَرۡضِ (ওয়াল-আরদ → এবং পৃথিবীর)
لَا (লা → না)
تَأۡتِيكُمۡ (তা’তীকুম → তা তোমাদের কাছে আসবে)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
بَغۡتَةً (বাগতাতান → আকস্মিকভাবে)
يَسۡأَلُونَكَ (ইয়াছআলূনাকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে)
كَأَنَّكَ (কাআন্নাকা → যেন তুমি)
حَفِيٌّ (হাফিইউন → বিশেষভাবে অবগত)
عَنۡهَا (আনহা → সে সম্পর্কে)
قُلۡ (কুল → বলো)
إِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
عِلۡمُهَا (ইলমুহা → তার জ্ঞান)
عِندَ (ইনদা → কাছে)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
وَلَٰكِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
أَكۡثَرَ (আকছারা → অধিকাংশ)
النَّاسِ (আন-নাছ → মানুষের)
لَا (লা → না)
يَعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → তারা জানে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা তোমাকে সেদিনের (কিয়ামতের) সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে—কখন তা সংঘটিত হবে? বলো, এর জ্ঞান কেবল আমার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। তিনি তা নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করবেন, অন্য সময় নয়। তা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর জন্য এক কঠিন বিষয়। তা তোমাদের কাছে আকস্মিকভাবেই আসবে। তারা তোমাকে এমনভাবে জিজ্ঞাসা করে, যেন তুমি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। বলো, এর জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।


আয়াত-১৮৮ঃ

قُلۡ (কুল → বলো)
لَّآ (লা → না)
أَمۡلِكُ (আমলিকু → আমি ক্ষমতা রাখি)
لِنَفۡسِي (লিনাফছী → নিজের জন্য)
نَفۡعًا (নাফ‘আন → উপকার)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
ضَرًّا (দাররান → ক্ষতি)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
مَا (মা → যা)
شَاءَ (শা-আ → ইচ্ছা করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
كُنتُ (কুনতু → আমি হতাম)
أَعۡلَمُ (আ‘লামু → জানি)
الۡغَيۡبَ (আল-গাইব → অদৃশ্য বিষয়)
لَاسۡتَكۡثَرۡتُ (লাছতাকছারতু → আমি অবশ্যই অধিক পরিমাণে সংগ্রহ করতাম)
مِنَ (মিন → থেকে)
الۡخَيۡرِ (আল-খাইর → কল্যাণ)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
مَسَّنِيَ (মাছছানিয়া → আমাকে স্পর্শ করত)
السُّوۡءُ (আছ-ছূ’ → অকল্যাণ)
إِنۡ (ইন → নয়)
أَنَا (আনা → আমি)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
نَذِيرٌ (নাযীর → সতর্ককারী)
وَبَشِيرٌ (ওয়া বাশীর → এবং সুসংবাদদাতা)
لِّقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন সম্প্রদায়ের জন্য)
يُّؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → যারা দৃঢ় বিশ্বাস করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলো, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ইচ্ছা না করেন, আমি আমার নিজেরও কোন উপকার ও অপকার করার ক্ষমতা রাখি না। আমার যদি গায়েব সম্পর্কে জ্ঞান থাকত, তবে ভালো-ভালো জিনিস প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করে নিতাম এবং কোনও রকম কষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা সেই সকল লোকের জন্য, যারা দৃঢ় বিশ্বাসী।


আয়াত-১৮৯ঃ

هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
خَلَقَكُم (খালাকাকুম → তোমাদের সৃষ্টি করেছেন)
مِّن (মিন → থেকে)
نَّفۡسٍ (নাফস → সত্তা)
وَاحِدَةٍ (ওয়া-হিদাহ → এক)
وَجَعَلَ (ওয়া জা‘আলা → এবং বানিয়েছেন)
مِنۡهَا (মিনহা → তা থেকে)
زَوۡجَهَا (ঝাওজাহা → তার সঙ্গীকে)
لِيَسۡكُنَ (লিয়াছকুনা → যাতে সে স্বস্তি পায়)
إِلَيۡهَا (ইলাইহা → তার কাছে)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
تَغَشَّاهَا (তাগাশশা-হা → সে তাকে আচ্ছাদিত করল/ঢেকে দিল)
حَمَلَتۡ (হামালাত → সে বহন করল/গর্ভধারণ করল)
حَمۡلًا (হামলান → একটি বোঝা/গর্ভ)
خَفِيفًا (খাফীফান → হালকা)
فَمَرَّتۡ (ফামাররাত → অতঃপর সে তা নিয়ে চলতে থাকল)
بِهِۦ (বিহী → তা নিয়ে)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
أَثۡقَلَتۡ (আছকালাত → তা ভারী হয়ে গেল)
دَّعَوَا (দা‘আওয়া → তারা দুজন ডাকল)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
رَبَّهُمَا (রাব্বাহুমা → তাদের উভয়ের প্রতিপালককে)
لَئِنۡ (লাঈন → যদি অবশ্যই)
آتَيۡتَنَا (আ-তাইতানা → তুমি আমাদের দাও)
صَالِحًا (সা-লিহান → কল্যাণকর)
لَّنَكُونَنَّ (লানাকূনান্না → আমরা অবশ্যই হব)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الشَّاكِرِينَ (আশ-শা-কিরীন → কৃতজ্ঞদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনিই তোমাদেরকে একক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকেই তার সঙ্গীকে বানিয়েছেন, যাতে সে তার কাছে স্বস্তি পায়। অতঃপর যখন সে তাকে ঢেকে দিল, তখন সে হালকা বোঝা বহন (গর্ভধারণ) করল এবং তা নিয়ে চলতে থাকল। অতঃপর যখন বোঝা ভারী হয়ে গেল, তখন তারা উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ডাকল—“যদি তুমি আমাদের কল্যাণকর কিছু দাও, তাহলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব।”


আয়াত-১৯০ঃ

فَلَمَّآ (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
آتَاهُمَا (আ-তাহুমা → তিনি তাদের উভয়কে দিলেন)
صَالِحًا (সা-লিহান → সৎ / কল্যাণকর)
جَعَلَا (জা‘আলা → তারা স্থাপন করল)
لَهُۥ (লাহূ → তার জন্য)
شُرَكَآءَ (শুরাকা-আ → অংশীদারসমূহ)
فِيمَآ (ফীমা → যে বিষয়ে)
آتَاهُمَا (আ-তাহুমা → তিনি তাদের উভয়কে দিয়েছেন)
فَتَعَالَى (ফাতা‘আলা → অতএব মহান ও ঊর্ধ্বে)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَمَّا (আম্মা → তা থেকে, যা)
يُشۡرِكُونَ (ইউশরিকূন → তারা অংশীদার স্থাপন করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কিন্তু আল্লাহ যখন তাদেরকে কল্যাণকর কিছু দান করলেন, তখন তারা আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতে আল্লাহর সঙ্গে অন্যদেরকে শরীক করল, অথচ আল্লাহ তাদের অংশীবাদীসুলভ বিষয়াদি হতে বহু ঊর্ধ্বে।


আয়াত-১৯১ঃ

أَيُشۡرِكُونَ (আ-ইউশরিকূন → তারা কি অংশীদার স্থাপন করে)
مَا (মা → যা)
لَا (লা → না)
يَخۡلُقُ (ইয়াখলুকু → সৃষ্টি করে)
شَيۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
يُخۡلَقُونَ (ইউখলাকূন → সৃষ্টি করা হয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কি এমন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করে, যা কোনো কিছু সৃষ্টি করে না, অথচ তাদেরই সৃষ্টি করা হয়?


আয়াত-১৯২ঃ

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَسۡتَطِيعُونَ (ইয়াছতাতী‘ঊন → তারা সক্ষম হয়)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
نَصۡرًا (নাসরান → সাহায্য)
وَلَآ (ওয়া লা → এবং না)
أَنفُسَهُمۡ (আনফুছাহুম → তাদের নিজেদেরকে)
يَنصُرُونَ (ইয়ানসুরূন → তারা সাহায্য করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা তাদের জন্য কোনো সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা নিজেদেরও সাহায্য করতে পারে না।


আয়াত-১৯৩ঃ

وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَدۡعُوهُمۡ (তাদ‘ঊহুম → তোমরা তাদের ডাকো)
إِلَى (ইলা → দিকে)
الۡهُدَىٰ (আল-হুদা → পথনির্দেশ)
لَا (লা → না)
يَتَّبِعُوكُمۡ (ইয়াত্তাবি‘ঊকুম → তারা তোমাদের অনুসরণ করবে)
سَوَاءٌ (সাওয়াউন → সমান)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের জন্য)
أَدَعَوۡتُمُوهُمۡ (আদা‘আওতুমূহুম → তোমরা তাদের ডাকো)
أَمۡ (আম → অথবা)
أَنتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
صَامِتُونَ (সা-মিতূন → নীরব থাকো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তোমরা তাদের সঠিক পথের দিকে ডাকো, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদের ডাকো অথবা নীরব থাকো—তোমাদের জন্য উভয়ই সমান।


আয়াত-১৯৪ঃ

الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
تَدۡعُونَ (তাদ‘ঊন → তোমরা ডাকো)
مِن دُونِ (মিন দূনি → পরিবর্তে)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
عِبَادٌ (‘ইবা-দ → দাস)
أَمۡثَالُكُمۡ (আমছা-লুকুম → তোমাদের মতো)
فَادۡعُوهُمۡ (ফাদ‘ঊহুম → অতএব তাদের ডাকো)
فَلۡيَسۡتَجِيبُوا (ফালইয়াছতাজীবূ → তাহলে তারা সাড়া দিক)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদেরকে)
إِن (ইন → যদি)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
صَادِقِينَ (সা-দিকীন → সত্যবাদী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকো, তারা তোমাদের মতোই বান্দা। অতএব, তোমরা তাদের ডাকো, তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়—যদি তোমরা সত্যবাদী হও।


আয়াত-১৯৫ঃ

أَلَهُمۡ (আলাহুম → তাদের কি আছে)
أَرۡجُلٌ (আরজুলুন → পা)
يَمۡشُونَ (ইয়ামশূন → তারা চলে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
أَمۡ (আম → অথবা)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের কি আছে)
أَيۡدٍ (আইদিন → হাত)
يَبۡطِشُونَ (ইয়াবতিশূন → তারা ধরে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
أَمۡ (আম → অথবা)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের কি আছে)
أَعۡيُنٌ (আ‘ইউন → চোখ)
يُبۡصِرُونَ (ইউবসিরূন → তারা দেখে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
أَمۡ (আম → অথবা)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের কি আছে)
آذَانٌ (আযান → কান)
يَسۡمَعُونَ (ইয়াছমা‘ঊন → তারা শোনে)
بِهَا (বিহা → তা দিয়ে)
قُلِ (কুল → বলো)
ادۡعُوا (উদ‘ঊ → ডাকো)
شُرَكَاءَكُمۡ (শুরাকাআকুম → তোমাদের অংশীদারদের)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
كِيدُونِ (কীদূনী → আমার বিরুদ্ধে কৌশল করো)
فَلَا (ফালা → অতএব না)
تُنظِرُونِ (তুনজিরূনী → আমাকে অবকাশ দিও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের কি এমন পা আছে, যা দিয়ে তারা চলে? অথবা তাদের কি এমন হাত আছে, যা দিয়ে তারা শক্তি প্রয়োগ করে? অথবা তাদের কি এমন চোখ আছে, যা দিয়ে তারা দেখে? অথবা তাদের কি এমন কান আছে, যা দিয়ে তারা শোনে? বলো, তোমাদের অংশীদারদের ডাকো, তারপর আমার বিরুদ্ধে কৌশল করো এবং আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।


আয়াত-১৯৬ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
وَلِيِّيَ (ওয়ালিইয়্যি → আমার অভিভাবক)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
نَزَّلَ (নাঝঝালা → অবতীর্ণ করেছেন)
الۡكِتَابَ (আল-কিতা-ব → কিতাব)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং তিনি)
يَتَوَلَّى (ইয়াতাওয়াল্লা → রক্ষণাবেক্ষণ করেন)
الصَّالِحِينَ (আস-সা-লিহীন → সৎকর্মশীলদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক আল্লাহ, যিনি কিতাব (বিধানগ্রন্থ) অবতীর্ণ করেছেন; আর তিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করেন।


আয়াত-১৯৭ঃ

وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
تَدۡعُونَ (তাদ‘ঊন → তোমরা ডাকো)
مِن دُونِهِۦ (মিন দূনিহী → তাঁকে বাদ দিয়ে)
لَا (লা → না)
يَسۡتَطِيعُونَ (ইয়াছতাতী‘ঊন → তারা সক্ষম)
نَصۡرَكُمۡ (নাসরাকুম → তোমাদের সাহায্য করতে)
وَلَآ (ওয়া লা → এবং না)
أَنفُسَهُمۡ (আনফুছাহুম → তাদের নিজেদেরকে)
يَنصُرُونَ (ইয়ানসুরূন → তারা সাহায্য করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা নিজেদেরও সাহায্য করতে পারে না।


আয়াত-১৯৮ঃ

وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
تَدۡعُوهُمۡ (তাদ‘ঊহুম → তোমরা তাদের ডাকো)
إِلَى (ইলা → দিকে)
الۡهُدَىٰ (আল-হুদা → সঠিক পথ / পথনির্দেশ)
لَا (লা → না)
يَسۡمَعُوا (ইয়াছমা‘ঊ → তারা শোনে)
وَتَرَىٰهُمۡ (ওয়া তারা-হুম → এবং তুমি তাদের দেখো)
يَنظُرُونَ (ইয়ানজুরূন → তারা তাকিয়ে থাকে)
إِلَيۡكَ (ইলাইকা → তোমার দিকে)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
لَا (লা → না)
يُبۡصِرُونَ (ইউবসিরূন → তারা দেখতে পায়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তোমরা তাদের সঠিক পথের দিকে ডাকো, তারা শোনে না। তুমি তাদের তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখো, অথচ তারা দেখতে পায় না।


আয়াত-১৯৯ঃ

خُذِ (খুয → গ্রহণ করো)
الۡعَفۡوَ (আল-‘আফও → ক্ষমাশীলতা)
وَأۡمُرۡ (ওয়া’মুর → এবং নির্দেশ দাও)
بِالۡعُرۡفِ (বিল‘উরফ → প্রচলিত সৎকর্ম / ন্যায়সংগত আচরণ)
وَأَعۡرِضۡ (ওয়া আ‘রিদ → এবং এড়িয়ে চলো)
عَنِ (আনি → থেকে)
الۡجَاهِلِينَ (আল-জা-হিলীন → অজ্ঞদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

ক্ষমাপরায়ণতা গ্রহণ করো, সৎ ও ন্যায়সংগত আচরণের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদের থেকে দূরে সরে থাকো।


আয়াত-২০০ঃ

وَإِمَّا (ওয়া ইম্মা → আর যদি)
يَنزَغَنَّكَ (ইয়ানঝাগান্নাকা → তোমাকে প্ররোচিত করে / উসকে দেয়)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الشَّيۡطَانِ (আশ-শাইতান → বিচ্যুতকারী / কুমন্ত্রণাদাতা)
نَزۡغٌ (নাঝগ → প্ররোচনা / উসকানি)
فَاسۡتَعِذۡ (ফাছতা‘ইয → আশ্রয় প্রার্থনা করো)
بِاللّٰهِ (বিল্লা-হ → আল্লাহর কাছে)
إِنَّهُۥ (ইন্নাহূ → নিশ্চয়ই তিনি)
سَمِيعٌ (ছামী‘ → শ্রবণকারী)
عَلِيمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি কুমন্ত্রণাদাতার (শয়তানের) পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে উসকে দেয়, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।


আয়াত-২০১ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّقَوۡا (ইত্তাকাও → খোদাভীরু হয়েছে)
إِذَا (ইযা → যখন)
مَسَّهُمۡ (মাছছাহুম → তাদের স্পর্শ করে)
طَائِفٌ (তাইফ → একটি প্ররোচনা )
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الشَّيۡطَانِ (আশ-শাইতান → বিচ্যুতকারী)
تَذَكَّرُوا (তাযাক্কারূ → তারা সচেতন হয়)
فَإِذَا (ফাইযা → তখনই)
هُم (হুম → তারা)
مُّبۡصِرُونَ (মুবসিরূন → তারা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহভীরু, তাদেরকে যখন কুমন্ত্রণাদাতার (শয়তানের) কোনো প্ররোচনা স্পর্শ করে, তখন তারা সচেতন হয়ে যায়; আর তখনই তারা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে।


আয়াত-২০২ঃ

وَإِخۡوَانُهُمۡ (ওয়া ইখওয়ানুহুম → আর তাদের সঙ্গীরা)
يَمُدُّونَهُمۡ (ইয়ামুদ্দূনাহুম → তাদেরকে টেনে নেয়)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡغَيِّ (আল-গাইয়ি → বিপথগামিতা)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
لَا (লা → না)
يُقۡصِرُونَ (ইউকসিরূন → তারা বিরত হয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের সঙ্গীরা তাদেরকে বিপথগামিতার মধ্যে টেনে নিয়ে যায়; তারপর তারা বিরত হয় না।


আয়াত-২০৩ঃ

وَإِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
لَمۡ (লাম → না)
تَأۡتِهِمۡ (তা’তিহিম → তাদের কাছে আসে)
بِآيَةٍ (বিআ-য়াতিন → কোনো নিদর্শন)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলে)
لَوۡلَا (লাওলা → কেন নয়)
اجۡتَبَيۡتَهَا (ইজতাবাইতাহা → তুমি তা সংগ্রহ করেছ)
قُلۡ (কুল → বলো)
إِنَّمَا (ইন্নামা → কেবল)
أَتَّبِعُ (আত্তাবি‘উ → আমি অনুসরণ করি)
مَا (মা → যা)
يُوحَىٰ (ইউহা → প্রত্যাদেশ করা হয়)
إِلَيَّ (ইলাইয়্যা → আমার প্রতি)
مِن رَّبِّي (মির রাব্বী → আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে)
هَٰذَا (হা-যা → এটি)
بَصَائِرُ (বাসা-ইর → অন্তর্দৃষ্টির উপায়)
مِن رَّبِّكُمۡ (মির রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে)
وَهُدًى (ওয়া হুদা → এবং পথনির্দেশ)
وَرَحۡمَةٌ (ওয়া রাহমাহ → এবং দয়া)
لِّقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন সম্প্রদায়ের জন্য)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → যারা বিশ্বাস করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন তাদের কাছে কোনো আয়াত (নিদর্শন) আসে না, তখন তারা বলে, “তুমি কেন তা নির্বাচন করে আনলে না?” বলো, “আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার প্রতি যে ওহী করা হয়, সেটিই অনুসরণ করি।” এটি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অন্তর্দৃষ্টির উপায়, পথনির্দেশ (হুদা) এবং দয়া (রহমত)—বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য।


আয়াত-২০৪ঃ

وَإِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
قُرِئَ (কুরিআ → পাঠ করা হয়)
الۡقُرۡآنُ (আল-কুরআন → কুরআন)
فَاسۡتَمِعُوا (ফাছতামি‘ঊ → মনোযোগ দিয়ে শোনো)
لَهُۥ (লাহূ → তার প্রতি)
وَأَنصِتُوا (ওয়া আনসিতূ → এবং নীরব থাকো)
لَعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُرۡحَمُونَ (তুরহামূন → দয়া লাভ করো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে তা শোনো এবং নীরব থাকো, যাতে তোমরা দয়া (রহমত) লাভ করো।


আয়াত-২০৫ঃ

وَاذۡكُرۡ (ওয়াযকুর → এবং স্মরণ করো)
رَّبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালককে)
فِي (ফী → মধ্যে)
نَفۡسِكَ (নাফসিকা → নিজের মধ্যে)
تَضَرُّعًا (তাদাররু‘আন → বিনীত অবস্থায়)
وَخِيفَةً (ওয়া খীফাতান → এবং ভীত-সচেতনভাবে)
وَدُونَ (ওয়া দূনা → এবং নিম্নস্বরে)
الۡجَهۡرِ (আল-জাহর → প্রকাশ্য)
مِنَ (মিন → থেকে)
الۡقَوۡلِ (আল-কাওল → কথা)
بِالۡغُدُوِّ (বিল-গুদুও → প্রভাতকালে)
وَالۡآصَالِ (ওয়াল-আসা-ল → সন্ধ্যাকালে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَكُنۡ (তাকুন → তুমি হও)
مِّنَ (মিন → অন্তর্ভুক্ত)
الۡغَافِلِينَ (আল-গা-ফিলীন → উদাসীনদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এবং সকালে ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালককে স্মরণ কর নিজের মধ্যে (মনে মনে) বিনয় ও ভীতির সাথে এবং নিম্নস্বরে প্রকাশ্যেও (মুখেও)। যারা উদাসীনতায় নিমজ্জিত, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।


আয়াত-২০৬ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
عِندَ (ইন্দা → নিকট)
رَبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালকের)
لَا (লা → না)
يَسۡتَكۡبِرُونَ (ইয়াছতাকবিরূন → অহংকার করে)
عَنۡ (আন → থেকে)
عِبَادَتِهِۦ (‘ইবাদাতিহী → তাঁর দাসত্ব)
وَيُسَبِّحُونَهُۥ (ওয়া ইউছাব্বিহূনাহূ → এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর যেকোন আদেশ/মিশন প্রতিষ্ঠা করে)
وَلَهُۥ (ওয়া লাহূ → এবং তাঁরই)
يَسۡجُدُونَ (ইয়াছজুদূন → মান্যতা স্বীকার করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা তাঁর দাসত্ব করতে অহংকার করে না ও তারা একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর যেকোন আদেশ প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁরই মান্যতাকারী (সিজদাকারী)।