সূরা আল আ’রাফ (الأعراف) | উচু স্থানসমূহ
মাক্কী সুরা মোট আয়াতঃ ২০৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-১২৬ঃ
وَمَا (ওয়া মা → এবং কী)
تَنقِمُ (তানকিমু → তুমি প্রতিশোধ নিচ্ছ)
مِنَّا (মিন্না → আমাদের ওপর)
إِلَّا (ইল্লা → শুধু এই কারণে)
أَنۡ (আন → যে)
ءَامَنَّا (আ-মান্না → আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি)
بِـَٔايَٰتِ (বি-আয়াতি → নিদর্শনসমূহের প্রতি)
رَبِّنَا (রাব্বিনা → আমাদের প্রতিপালকের)
لَمَّا (লাম্মা → যখন)
جَآءَتۡنَا (জা-আতনা → তা আমাদের কাছে এলো)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
أَفۡرِغۡ (আফরিগ → পূর্ণ করে দাও)
عَلَيۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
صَبۡرٗا (সাবরান → ধৈর্য)
وَتَوَفَّنَا (ওয়া তাওয়াফফানা → এবং আমাদের মৃত্যু দাও)
مُسۡلِمِينَ (মুসলিমীন → আত্মসমর্পণকারী অবস্থায়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
“আর তুমি আমাদের উপর শুধু এই কারণে প্রতিশোধ নিচ্ছ যে, আমাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) যখন আমাদের কাছে এসেছে, তখন আমরা সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দাও এবং আমাদেরকে আত্মসমর্পণকারী অবস্থায় মৃত্যু দাও।”
আয়াত-১২৭ঃ
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং বলল)
ٱلۡمَلَأُ (আল-মালাউ → নেতৃস্থানীয় সভাসদরা)
مِنۡ (মিন → মধ্য থেকে)
قَوۡمِ (কাওমি → সম্প্রদায়ের)
فِرۡعَوۡنَ (ফির‘আওন → ফির‘আউনের)
أَتَذَرُ (আতাযারু → তুমি কি ছেড়ে দেবে)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসাকে)
وَقَوۡمَهُۥ (ওয়া কাওমাহু → এবং তার সম্প্রদায়কে)
لِيُفۡسِدُوا (লিইউফসিদূ → যাতে তারা বিপর্যয় সৃষ্টি করে)
فِي (ফী → মধ্যে)
ٱلۡأَرۡضِ (আল-আরদ → পৃথিবী)
وَيَذَرَكَ (ওয়া ইয়াযারাকা → এবং তোমাকে ছেড়ে দেয়)
وَءَالِهَتَكَ (ওয়া আলিহাতাকা → এবং তোমার উপাস্যদের)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
سَنُقَتِّلُ (সানুকাত্তিলু → আমরা শীঘ্রই হত্যা করতে থাকব)
أَبۡنَآءَهُمۡ (আবনা-আহুম → তাদের পুত্রদের)
وَنَسۡتَحۡيِۦ (ওয়া নাস্তাহই → এবং জীবিত রাখব)
نِسَآءَهُمۡ (নিসা-আহুম → তাদের নারীদের)
وَإِنَّا (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই আমরা)
فَوۡقَهُمۡ (ফাওকাহুম → তাদের ওপর)
قَٰهِرُونَ (কাহিরূন → ক্ষমতাবান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় সভাসদরা বলল, “তুমি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে ছেড়ে দেবে, যাতে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং তোমাকে ও তোমার উপাস্যদের পরিত্যাগ করতে পারে?” সে বলল, “আমরা শীঘ্রই তাদের পুত্রদের হত্যা করতে থাকব এবং তাদের নারীদের জীবিত রাখব। আর নিশ্চয়ই আমরা তাদের উপর প্রবল ক্ষমতাবান।”
আয়াত-১২৮ঃ
قَالَ (কা-লা → বললেন)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لِقَوۡمِهِۦ (লিকাওমিহী → তার সম্প্রদায়কে)
ٱسۡتَعِينُوا (ইস্তা‘ঈনূ → সাহায্য চাও)
بِٱللَّهِ (বিল্লা-হি → আল্লাহর কাছে)
وَٱصۡبِرُوا (ওয়াসবিরূ → এবং ধৈর্য ধরো)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
ٱلۡأَرۡضَ (আল-আরদ → পৃথিবী)
لِلَّهِ (লিল্লা-হি → আল্লাহরই)
يُورِثُهَا (ইউরিছুহা → তিনি এর উত্তরাধিকারী করেন)
مَن (মান → যাকে)
يَشَآءُ (ইয়াশা → তিনি ইচ্ছা করেন)
مِنۡ (মিন → মধ্য থেকে)
عِبَادِهِۦ (ইবাদিহী → তাঁর বান্দাদের)
وَٱلۡعَٰقِبَةُ (ওয়াল-‘আকিবাতু → আর পরিণাম)
لِلۡمُتَّقِينَ (লিল-মুত্তাকীন → খোদাভীরুদের জন্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
মূসা তার সম্প্রদায়কে বললেন, “তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহরই; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করেন। আর শুভ পরিণাম আল্লাহভীরুদের জন্যই।”
আয়াত-১২৯ঃ
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলল)
أُوذِينَا (ঊযীনা → আমরা কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি)
مِنۡ قَبۡلِ (মিন কাবলি → এর আগে)
أَن (আন → যে)
تَأۡتِيَنَا (তা’তিয়ানা → তুমি আমাদের কাছে এসেছ)
وَمِنۡ بَعۡدِ (ওয়া মিন বা‘দি → এবং এর পরে)
مَا (মা → যখন)
جِئۡتَنَا (জি’তানা → তুমি আমাদের কাছে এসেছ)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
عَسَىٰ (আসা → আশা করা যায়)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
أَن (আন → যে)
يُهۡلِكَ (ইউহলিকা → ধ্বংস করবেন)
عَدُوَّكُمۡ (আদুওয়াকুম → তোমাদের শত্রুকে)
وَيَسۡتَخۡلِفَكُمۡ (ওয়া ইয়াস্তাখলিফাকুম → এবং তোমাদের উত্তরাধিকারী করবেন)
فِي (ফী → মধ্যে)
ٱلۡأَرۡضِ (আল-আরদ → পৃথিবী)
فَيَنظُرَ (ফাইয়ানজুর → অতঃপর তিনি দেখবেন)
كَيۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
تَعۡمَلُونَ (তা‘মালূন → তোমরা কাজ করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলল, “তুমি আমাদের কাছে আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তুমি আমাদের কাছে আসার পরও।” তিনি বললেন, “আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী করবেন। তারপর তিনি দেখবেন, তোমরা কীভাবে কর্ম করো।”
আয়াত-১৩০ঃ
وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → এবং অবশ্যই)
أَخَذۡنَآ (আখাযনা → আমরা পাকড়াও করেছি)
ءَالَ (আ-লা → পরিবার ও অনুসারীদের)
فِرۡعَوۡنَ (ফির‘আওন → ফির‘আউনের)
بِٱلسِّنِينَ (বিস-সিনীন → দুর্ভিক্ষের বছরগুলো দ্বারা)
وَنَقۡصٖ (ওয়া নাকস → এবং ঘাটতি)
مِّنَ (মিন → থেকে)
ٱلثَّمَرَٰتِ (আস-সামারাত → ফল-ফসলের)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَذَّكَّرُونَ (ইয়াযযাক্কারূন → শিক্ষা গ্রহণ করে / স্মরণ করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অবশ্যই আমরা ফির‘আউনের পরিবার ও অনুসারীদের দুর্ভিক্ষের বছর এবং ফল-ফসলের ঘাটতি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
আয়াত-১৩১ঃ
فَإِذَا (ফা-ইযা → অতঃপর যখন)
جَآءَتۡهُمُ (জা-আতহুম → তাদের কাছে এলো)
ٱلۡحَسَنَةُ (আল-হাসানাতু → কল্যাণ / ভালো অবস্থা)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলল)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
هَٰذِهِۦ (হা-যিহী → এটি)
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
تُصِبۡهُمۡ (তুসিবহুম → তাদের ওপর আসে)
سَيِّئَةٞ (সাইয়িআতুন → দুর্দশা)
يَطَّيَّرُوا (ইয়াত্তাইয়ারূ → অশুভ মনে করে)
بِمُوسَىٰ (বিমূসা → মূসার কারণে)
وَمَن (ওয়া মান → এবং যারা)
مَّعَهُۥ (মা‘আহু → তার সঙ্গে আছে)
أَلَآ (আলা → জেনে রাখো)
إِنَّمَا (ইন্নামা → কেবলমাত্র)
طَٰٓئِرُهُمۡ (তা-ইরুহুম → তাদের অমঙ্গলের পরিণতি)
عِندَ (ইনদা → নিকট)
ٱللَّهِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
وَلَٰكِنَّ (ওয়া লাকিন্না → কিন্তু)
أَكۡثَرَهُمۡ (আকছারাহুম → তাদের অধিকাংশ)
لَا (লা → না)
يَعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → তারা জানে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যখন তাদের কাছে কল্যাণ আসত, তারা বলত, “এটি আমাদের প্রাপ্য।” আর যখন তাদের উপর অকল্যাণ বা দুর্দশা আসত, তখন তারা মূসা ও তার সঙ্গীদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করত। জেনে রাখো, তাদের অমঙ্গলের পরিণতি কেবল আল্লাহর কাছেই নির্ধারিত; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
আয়াত-১৩২ঃ
وَقَالُوا (ওয়া কা-লূ → এবং তারা বলল)
مَهۡمَا (মাহমা → যা কিছুই)
تَأۡتِنَا (তা’তিনা → তুমি আমাদের কাছে আনো)
بِهِۦ (বিহী → তা দিয়ে)
مِنۡ (মিন → কোনো)
ءَايَةٖ (আ-য়াত → নিদর্শন)
لِّتَسۡحَرَنَا (লিতাসহারানা → যাতে তুমি আমাদের ওপর জাদুর প্রভাব সৃষ্টি করো)
بِهَا (বিহা → তা দ্বারা)
فَمَا (ফামা → অতএব আমরা নই)
نَحۡنُ (নাহনু → আমরা)
لَكَ (লাকা → তোমার প্রতি)
بِمُؤۡمِنِينَ (বিমু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তারা বলল, “তুমি আমাদের কাছে যে আয়াতই (নিদর্শনই) নিয়ে আসো না কেন, তা দিয়ে আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইলেও আমরা তোমার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।”
আয়াত-১৩৩ঃ
فَأَرۡسَلۡنَا (ফা-আরসালনা → অতঃপর আমরা পাঠালাম)
عَلَيۡهِمُ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
ٱلطُّوفَانَ (আত-তূফান → প্রবল বন্যা)
وَٱلۡجَرَادَ (ওয়াল-জারাদ → এবং পঙ্গপাল)
وَٱلۡقُمَّلَ (ওয়াল-কুম্মাল → এবং ক্ষতিকর ক্ষুদ্র পোকামাকড়)
وَٱلضَّفَادِعَ (ওয়াদ-দাফাদি‘ → এবং ব্যাঙসমূহ)
وَٱلدَّمَ (ওয়াদ-দাম → এবং রক্ত)
ءَايَٰتٖ (আয়াত → নিদর্শনসমূহ)
مُّفَصَّلَٰتٍ (মুফাসসালাত → বিস্তারিতভাবে পৃথক করা)
فَٱسۡتَكۡبَرُوا (ফাসতাকবারূ → অতঃপর তারা অহংকার করল)
وَكَانُوا (ওয়া কা-নূ → এবং তারা ছিল)
قَوۡمٗا (কাওমান → এক সম্প্রদায়)
مُّجۡرِمِينَ (মুজরিমীন → অপরাধী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আমরা তাদের উপর প্রবল বন্যা, পঙ্গপাল, ক্ষতিকর ক্ষুদ্র পোকামাকড়, ব্যাঙ এবং রক্ত—এগুলো পৃথক পৃথক সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) পাঠালাম। কিন্তু তারা অহংকার করল; আর তারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়।
আয়াত-১৩৪ঃ
وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → আর যখন)
وَقَعَ (ওয়াকা‘আ → আপতিত হলো / নেমে এলো)
عَلَيۡهِمُ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
ٱلرِّجۡزُ (আর-রিজয → কঠিন দুর্যোগ)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলল)
يَٰمُوسَىٰ (ইয়া-মূসা → হে মূসা)
ٱدۡعُ (উদ‘উ → ডাকো)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালকের কাছে)
بِمَا (বিমা → সেই কারণে)
عَهِدَ (আহিদা → তিনি অঙ্গীকার করেছেন)
عِندَكَ (ইনদাকা → তোমার সঙ্গে)
لَئِن (লাইইন → যদি অবশ্যই)
كَشَفۡتَ (কাশাফতা → তুমি দূর করে দাও)
عَنَّا (আন্না → আমাদের থেকে)
ٱلرِّجۡزَ (আর-রিজয → শাস্তি)
لَنُؤۡمِنَنَّ (লানু’মিনান্না → অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করব)
لَكَ (লাকা → তোমার প্রতি)
وَلَنُرۡسِلَنَّ (ওয়ালানুরসিলান্না → এবং অবশ্যই আমরা ছেড়ে দেব)
مَعَكَ (মা‘আকা → তোমার সঙ্গে)
بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ (বানী ইসরাঈল → ইসরাঈলের সন্তানদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসত, তারা বলত, “হে মূসা! তোমার প্রতিপালকে আমাদের জন্য ডাকো, তোমার সঙ্গে তাঁর যে অঙ্গীকার রয়েছে তার ভিত্তিতে। তুমি যদি আমাদের উপর থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব এবং অবশ্যই তোমার সঙ্গে বনী ইসরাঈলকে ছেড়ে দেব।”
আয়াত-১৩৫ঃ
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
كَشَفۡنَا (কাশাফনা → আমরা দূর করে দিলাম)
عَنۡهُمُ (আনহুম → তাদের থেকে)
ٱلرِّجۡزَ (আর-রিজয → কঠিন দুর্যোগ)
إِلَىٰ (ইলা → পর্যন্ত)
أَجَلٍ (আজাল → নির্ধারিত সময়)
هُمۡ (হুম → তারা)
بَٰلِغُوهُ (বালিগূহু → যা তারা পৌঁছবে)
إِذَا (ইযা → তখন হঠাৎ)
هُمۡ (হুম → তারা)
يَنكُثُونَ (ইয়ানকুছূন → তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আমরা তাদের থেকে কঠিন দুর্যোগ দূর করে দিলাম নির্ধারিত এক সময় পর্যন্ত, যে পর্যন্ত তাদের পৌঁছা অবধারিত ছিল; তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করল।
আয়াত-১৩৬ঃ
فَٱنتَقَمۡنَا (ফানতাকামনা → অতঃপর আমরা প্রতিফল দিলাম)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের থেকে)
فَأَغۡرَقۡنَٰهُمۡ (ফা-আগরাকনা-হুম → অতঃপর আমরা তাদের ডুবিয়ে দিলাম)
فِي (ফী → মধ্যে)
ٱلۡيَمِّ (আল-ইয়াম্মি → গভীর জলরাশি)
بِأَنَّهُمۡ (বি-আন্নাহুম → কারণ তারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল)
بِـَٔايَٰتِنَا (বি-আ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَكَانُوا (ওয়া কা-নূ → এবং তারা ছিল)
عَنۡهَا (আনহা → সেগুলো থেকে)
غَٰفِلِينَ (গা-ফিলীন → উদাসীন)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আমরা তাদের শাস্তি দিলাম এবং তাদেরকে গভীর জলরাশিতে ডুবিয়ে দিলাম, কারণ তারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) অস্বীকার করেছিল এবং সেগুলো সম্পর্কে তারা ছিল উদাসীন।
আয়াত-১৩৭ঃ
وَأَوۡرَثۡنَا (ওয়া আওরাছনা → এবং আমরা উত্তরাধিকারী করলাম)
الۡقَوۡمَ (আল-কাওমা → সম্প্রদায়কে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَانُوا (কা-নূ → ছিল)
يُسۡتَضۡعَفُونَ (ইউস্তাদ‘আফূন → দুর্বল ও নিপীড়িত করা হতো)
مَشَارِقَ (মাশা-রিক → পূর্বাঞ্চলসমূহ)
الۡأَرۡضِ (আল-আরদ → ভূমির)
وَمَغَارِبَهَا (ওয়া মাগা-রিবাহা → এবং তার পশ্চিমাঞ্চলসমূহ)
الَّتِي (আল্লাতী → যেটি)
بَارَكۡنَا (বা-রাকনা → আমরা কল্যাণকর করেছিলাম)
فِيهَا (ফীহা → তাতে)
وَتَمَّتۡ (ওয়া তাম্মাত → এবং পূর্ণ হলো)
كَلِمَتُ (কালিমাতু → বাণী)
رَبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালকের)
الۡحُسۡنَىٰ (আল-হুসনা → সুন্দরতম)
عَلَىٰ (আলা → প্রতি)
بَنِيٓ (বানী → সন্তানগণ)
إِسۡرَٰٓءِيلَ (ইসরাঈল → ইসরাঈল)
بِمَا (বিমা → যে কারণে)
صَبَرُوا (সাবারূ → তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল)
وَدَمَّرۡنَا (ওয়া দাম্মারনা → এবং আমরা ধ্বংস করে দিলাম)
مَا (মা → যা কিছু)
كَانَ (কা-না → ছিল)
يَصۡنَعُ (ইয়াসনা‘উ → তৈরি করত)
فِرۡعَوۡنُ (ফির‘আওন → ফির‘আউন)
وَقَوۡمُهُ (ওয়া কাওমুহূ → এবং তার সম্প্রদায়)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা কিছু)
كَانُوا (কা-নূ → তারা ছিল)
يَعۡرِشُونَ (ইয়া‘রিশূন → তারা উঁচু কাঠামো নির্মাণ করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যাদেরকে নিপীড়িত ও দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, আমরা তাদের সেই ভূমির পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের উত্তরাধিকারী করলাম, যেখানে আমরা কল্যাণ স্থাপন করেছিলাম। আর তোমার প্রতিপালকের উত্তম বাণী (কালিমা) ইসরাঈলের সন্তানদের উপর পূর্ণ হলো, কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল। এবং ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় যা কিছু নির্মাণ করত এবং যে উঁচু কাঠামোগুলো তারা তৈরি করত, আমরা তা ধ্বংস করে দিলাম।
আয়াত-১৩৮ঃ
وَجَٰوَزۡنَا (ওয়া জাওয়াঝনা → এবং আমরা পার করিয়ে দিলাম)
بِبَنِيٓ (বিবানী → সন্তানদের নিয়ে)
إِسۡرَٰٓءِيلَ (ইসরাঈল → ইসরাঈল)
ٱلۡبَحۡرَ (আল-বাহর → সমুদ্র)
فَأَتَوۡا (ফা-আতাও → অতঃপর তারা পৌঁছল)
عَلَىٰ (আলা → ওপর)
قَوۡمٖ (কাওমিন → এক সম্প্রদায়ের)
يَعۡكُفُونَ (ইয়া‘কুফূন → তারা একাগ্রভাবে নিবিষ্ট থাকত)
عَلَىٰٓ (আলা → ওপর)
أَصۡنَامٖ (আসনা-ম → প্রতিমা)
لَّهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলল)
يَٰمُوسَىٰ (ইয়া-মূসা → হে মূসা)
ٱجۡعَل (ইজ‘আল → নির্ধারণ করো)
لَّنَآ (লানা → আমাদের জন্য)
إِلَٰهٗا (ইলা-হান → বিধানদাতার কেন্দ্র)
كَمَا (কামা → যেমন)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
ءَالِهَةٞ (আ-লিহাতুন → কর্তৃত্বের প্রতীকসমূহ)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
إِنَّكُمۡ (ইন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
قَوۡمٞ (কাওমুন → এক সম্প্রদায়)
تَجۡهَلُونَ (তাজহালূন → তোমরা অজ্ঞতা অবলম্বন করছ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আমরা ইসরাঈলের সন্তানদেরকে সমুদ্র পার করে দিলাম। অতঃপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছল, যারা তাদের প্রতিমাগুলোর সামনে একাগ্রভাবে নিবিষ্ট থাকত। তারা বলল, “হে মূসা! তাদের যেমন বিধানদাতা রয়েছে, আমাদের জন্যও তেমন একটি বিধানদাতা নির্ধারণ করে দাও।” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক সম্প্রদায়, যারা মূর্খতাসুলভ কথা বলছ।”
আয়াত-১৩৯ঃ
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
هَٰٓؤُلَاءِ (হা-উলা-ই → এরা)
مُتَبَّرٞ (মুতাব্বার → ধ্বংসপ্রাপ্ত)
مَّا (মা → যা কিছু)
هُمۡ (হুম → তারা)
فِيهِ (ফীহি → তাতে)
وَبَٰطِلٞ (ওয়া বাতিল → এবং অসার / নিষ্ফল)
مَّا (মা → যা কিছু)
كَانُوا (কা-নূ → তারা ছিল)
يَعۡمَلُونَ (ইয়া‘মালূন → তারা কাজ করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই এরা যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে, তা ধ্বংসপ্রাপ্ত; আর তারা যে কাজ করে আসছিল, তাও অসার ও নিষ্ফল।
আয়াত-১৪০ঃ
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
أَغَيۡرَ (আগাইরা → অন্য কোনো)
ٱللَّهِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
أَبۡغِيكُمۡ (আবগীকুম → আমি কি তোমাদের জন্য চাইব)
إِلَٰهٗا (ইলা-হান → বিধানদাতার)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তিনিই)
فَضَّلَكُمۡ (ফাদ্দালাকুম → তোমাদেরকে মর্যাদা ও বিশেষ অনুগ্রহ দিয়েছেন)
عَلَى (আলা → উপর)
ٱلۡعَٰلَمِينَ (আল-‘আলামীন → সকল জগত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমি কি তোমাদের জন্য অন্য কোনো বিধানদাতা চাইব? অথচ তিনিই তোমাদেরকে সকল জগতের উপর বিশেষ মর্যাদা ও অনুগ্রহ দিয়েছেন।”
আয়াত-১৪১ঃ
وَإِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
أَنجَيۡنَٰكُم (আনজাইনা-কুম → আমরা তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
ءَالِ (আ-লি → পরিবার ও অনুসারীদের)
فِرۡعَوۡنَ (ফির‘আওন → ফির‘আউনের)
يَسُومُونَكُمۡ (ইয়াসূমূনাকুম → তারা তোমাদের ওপর চাপিয়ে দিত)
سُوٓءَ (সূআ → নিকৃষ্ট)
ٱلۡعَذَابِ (আল-‘আযাব → শাস্তি)
يُقَتِّلُونَ (ইউকাত্তিলূন → তারা হত্যা করত)
أَبۡنَآءَكُمۡ (আবনা-আ-কুম → তোমাদের পুত্রদের)
وَيَسۡتَحۡيُونَ (ওয়া ইয়াস্তাহইউন → এবং তারা জীবিত রাখত)
نِسَآءَكُمۡ (নিসা-আ-কুম → তোমাদের নারীদের)
وَفِي (ওয়া ফী → এবং এতে)
ذَٰلِكُمۡ (যা-লিকুম → সেই বিষয়ে)
بَلَآءٞ (বালা-উন → কঠিন পরীক্ষা)
مِّنۡ (মিন → পক্ষ থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
عَظِيمٞ (আযীম → মহা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন আমরা তোমাদেরকে ফির‘আউনের পরিবার ও অনুসারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলাম। তারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিত; তারা তোমাদের পুত্রদের হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত। এ বিষয়ের মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ছিল এক মহা পরীক্ষা।
আয়াত-১৪২ঃ
وَوَٰعَدۡنَا (ওয়া ওয়া-‘আদনা → এবং আমরা প্রতিশ্রুতি দিলাম)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
ثَلَٰثِينَ (ছালা-ছীন → ত্রিশ)
لَيۡلَةٗ (লাইলাতান → রাত)
وَأَتۡمَمۡنَٰهَا (ওয়া আতমামনা-হা → এবং আমরা তা পূর্ণ করলাম)
بِعَشۡرٖ (বি‘আশর → আরও দশ দিয়ে)
فَتَمَّ (ফাতাম্মা → ফলে পূর্ণ হলো)
مِيقَٰتُ (মীকা-তু → নির্ধারিত সময়)
رَبِّهِۦ (রাব্বিহী → তার প্রতিপালকের)
أَرۡبَعِينَ (আরবা‘ঈন → চল্লিশ)
لَيۡلَةٗ (লাইলাতান → রাত)
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং বললেন)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لِأَخِيهِ (লিআখীহি → তার ভাইকে)
هَٰرُونَ (হা-রূন → হারূন)
ٱخۡلُفۡنِي (ইখলুফনী → তুমি আমার স্থলাভিষিক্ত হও)
فِي (ফী → মধ্যে)
قَوۡمِي (কাওমী → আমার সম্প্রদায়ের)
وَأَصۡلِحۡ (ওয়া আসলিহ → এবং সংশোধন করো)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَتَّبِعۡ (তাত্তাবি‘ → অনুসরণ করো)
سَبِيلَ (সাবীল → পথ)
ٱلۡمُفۡسِدِينَ (আল-মুফসিদীন → বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আমরা মূসার সঙ্গে ত্রিশ রাতের প্রতিশ্রুতি করেছিলাম এবং আরও দশ রাত দিয়ে তা পূর্ণ করেছিলাম। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত পূর্ণ হয়ে গেল। আর মূসা তার ভাই হারূনকে বললেন, “আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করো, সংশোধন করো এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না।”
আয়াত-১৪৩ঃ
وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → আর যখন)
جَآءَ (জা-আ → উপস্থিত হলো)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لِمِيقَٰتِنَا (লিমীকা-তিনা → আমাদের নির্ধারিত সময়ে)
وَكَلَّمَهُۥ (ওয়া কাল্লামাহূ → এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন)
رَبُّهُۥ (রাব্বুহূ → তার প্রতিপালক)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
أَرِنِيٓ (আরিনী → আমাকে দেখাও)
أَنظُرۡ (আনজুর → আমি যেন দেখি)
إِلَيۡكَ (ইলাইকা → তোমার দিকে)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
لَن (লান → কখনোই না)
تَرَىٰنِي (তারা-নী → তুমি আমাকে দেখতে পারবে)
وَلَٰكِنِ (ওয়া লা-কিন → কিন্তু)
ٱنظُرۡ (উনজুর → তুমি দেখো)
إِلَى (ইলা → দিকে)
ٱلۡجَبَلِ (আল-জাবাল → পাহাড়ের)
فَإِنِ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
ٱسۡتَقَرَّ (ইস্তাকার → স্থির থাকে)
مَكَانَهُۥ (মাকা-নাহূ → তার স্থানে)
فَسَوۡفَ (ফাসাওফা → তবে শীঘ্রই)
تَرَىٰنِي (তারা-নী → তুমি আমাকে দেখতে পাবে)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
تَجَلَّىٰ (তাজাল্লা → প্রকাশিত হলেন)
رَبُّهُۥ (রাব্বুহূ → তার প্রতিপালক)
لِلۡجَبَلِ (লিল-জাবাল → পাহাড়ের ওপর)
جَعَلَهُۥ (জা‘আলাহূ → তিনি সেটিকে করে দিলেন)
دَكّٗا (দাক্কান → চূর্ণ-বিচূর্ণ)
وَخَرَّ (ওয়া খার্রা → এবং পড়ে গেল)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
صَعِقٗا (সা‘ইকা → অচেতন হয়ে)
فَلَمَّآ (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
أَفَاقَ (আফা-ক → জ্ঞান ফিরে পেল)
قَالَ (কা-লা → বলল)
سُبۡحَٰنَكَ (সুবহা-নাকা → তুমি পবিত্র)
تُبۡتُ (তুবতু → আমি ফিরে এলাম)
إِلَيۡكَ (ইলাইকা → তোমার দিকে)
وَأَنَا (ওয়া আনা → এবং আমি)
أَوَّلُ (আওওয়াল → অগ্রগামী)
ٱلۡمُؤۡمِنِينَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন মূসা আমাদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলো এবং তার প্রতিপালক তার সঙ্গে কথা বললেন, তখন সে বলল, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে তাকিয়ে দেখতে চাই।” তিনি বললেন, “তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পারবে না; তবে পাহাড়ের দিকে তাকাও। যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকে, তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।” অতঃপর যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ের উপর প্রকাশ পেলেন, তখন তিনি পাহাড়টিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন এবং মূসা অচেতন হয়ে পড়ে গেল। পরে যখন তার জ্ঞান ফিরে এলো, সে বলল, “তুমি মহাপবিত্র। আমি তোমার দিকেই ফিরে এলাম এবং আমি একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের মধ্যে অগ্রগামী।”
আয়াত-১৪৪ঃ
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
يَٰمُوسَىٰ (ইয়া-মূসা → হে মূসা)
إِنِّي (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
ٱصۡطَفَيۡتُكَ (ইসতাফাইতুকা → তোমাকে মনোনীত করেছি)
عَلَى (আলা → উপর)
ٱلنَّاسِ (আন-না-স → মানুষের)
بِرِسَٰلَٰتِي (বিরিসা-লা-তী → আমার বার্তাসমূহের মাধ্যমে)
وَبِكَلَٰمِي (ওয়া বিকালা-মী → এবং আমার কালিমার মাধ্যমে)
فَخُذۡ (ফাখুয → অতএব গ্রহণ করো)
مَآ (মা → যা)
ءَاتَيۡتُكَ (আ-তাইতুকা → আমি তোমাকে দিয়েছি)
وَكُن (ওয়া কুন → এবং হও)
مِّنَ (মিন → মধ্যে)
ٱلشَّٰكِرِينَ (আশ-শা-কিরীন → কৃতজ্ঞদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “হে মূসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের মধ্যে আমার বার্তাসমূহের (রিসালতের) জন্য এবং আমার বাণীসমূহের (কালিমাসমূহের) জন্য মনোনীত করেছি। অতএব, আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞদের (শুকরিয়াকারীদের) অন্তর্ভুক্ত হও।”
আয়াত-১৪৫ঃ
وَكَتَبۡنَا (ওয়া কাতাবনা → এবং আমরা লিখে দিলাম)
لَهُۥ (লাহূ → তার জন্য)
فِي (ফী → মধ্যে)
ٱلۡأَلۡوَاحِ (আল-আলওয়াহ → ফলকসমূহে)
مِن (মিন → থেকে)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَيۡءٖ (শাই → বিষয়)
مَّوۡعِظَةٗ (মাও‘ইজাতান → উপদেশ)
وَتَفۡصِيلٗا (ওয়া তাফসীলান → এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা)
لِّكُلِّ (লিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَيۡءٖ (শাই → বিষয়)
فَخُذۡهَا (ফাখুযহা → অতএব তা গ্রহণ করো)
بِقُوَّةٖ (বিকুওওয়াতিন → দৃঢ়তার সঙ্গে)
وَأۡمُرۡ (ওয়া’মুর → এবং নির্দেশ দাও)
قَوۡمَكَ (কাওমাকা → তোমার সম্প্রদায়কে)
يَأۡخُذُواْ (ইয়া’খুযূ → তারা গ্রহণ করুক)
بِأَحۡسَنِهَا (বিআহসানিহা → তার উত্তম বিষয়গুলো)
سَأُوْرِيكُمۡ (সা-উরীকুম → আমি তোমাদের দেখাব)
دَارَ (দা-র → আবাস)
ٱلۡفَٰسِقِينَ (আল-ফা-সিকীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আমরা তার জন্য ফলকসমূহে প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ ও প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছিলাম। অতএব, তুমি তা দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ করো এবং তোমার সম্প্রদায়কে নির্দেশ দাও, তারা যেন তার উত্তম বিষয়গুলো গ্রহণ করে। অচিরেই আমি তোমাদের সীমালঙ্ঘনকারীদের পরিণতির আবাস দেখাব।
আয়াত-১৪৬ঃ
سَأَصۡرِفُ (সা-আসরিফু → অচিরেই আমি ফিরিয়ে দেব)
عَنۡ (আন → থেকে)
ءَايَٰتِيَ (আ-য়া-তিয়া → আমার নিদর্শনসমূহ)
ٱلَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَتَكَبَّرُونَ (ইয়াতাকাব্বারূন → অহংকার করে)
فِي (ফী → মধ্যে)
ٱلۡأَرۡضِ (আল-আরদ → পৃথিবীতে)
بِغَيۡرِ (বিগাইরি → ব্যতীত)
ٱلۡحَقِّ (আল-হাক্ক → সত্য)
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
يَرَوۡا (ইয়ারাও → তারা দেখে)
كُلَّ (কুল্লা → প্রত্যেক)
ءَايَةٖ (আ-য়াত → নিদর্শন)
لَّا (লা → না)
يُؤۡمِنُواْ (ইউ’মিনূ → তারা বিশ্বাস করবে)
بِهَا (বিহা → তাতে)
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
يَرَوۡا (ইয়ারাও → তারা দেখে)
سَبِيلَ (সাবীল → পথ)
ٱلرُّشۡدِ (আর-রুশদ → সঠিকতা)
لَا (লা → না)
يَتَّخِذُوهُ (ইয়াত্তাখিযূহু → তারা তাকে গ্রহণ করবে)
سَبِيلٗا (সাবীলান → পথ হিসেবে)
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
يَرَوۡا (ইয়ারাও → তারা দেখে)
سَبِيلَ (সাবীল → পথ)
ٱلۡغَيِّ (আল-গাইয়ি → ভ্রষ্টতার)
يَتَّخِذُوهُ (ইয়াত্তাখিযূহু → তারা তাকে গ্রহণ করবে)
سَبِيلٗا (সাবীলান → পথ হিসেবে)
ذَٰلِكَ (যা-লিকা → এটি)
بِأَنَّهُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
كَذَّبُواْ (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِـَٔايَٰتِنَا (বিআ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَكَانُواْ (ওয়া কা-নূ → এবং তারা ছিল)
عَنۡهَا (আনহা → সেগুলো সম্পর্কে)
غَٰفِلِينَ (গা-ফিলীন → উদাসীন)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অচিরেই আমি আমার আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেব, যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করে বেড়ায়। তারা সমস্ত আয়াত (নিদর্শন) দেখলেও তাতে বিশ্বাস করবে না। তারা সঠিকতার পথ দেখলেও সেটিকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে না; আর তারা ভ্রষ্টতার পথ দেখলে সেটিকেই পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এর কারণ হলো, তারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা বলেছে এবং তারা সেগুলো সম্পর্কে উদাসীন ছিল।
আয়াত-১৪৭ঃ
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِـَٔايَٰتِنَا (বিআ-য়া-তিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
وَلِقَآءِ (ওয়া লিকা-ই → এবং সাক্ষাৎকে)
ٱلۡأٓخِرَةِ (আল-আ-খিরাতি → আখিরাতের)
حَبِطَتۡ (হাবিতাত → বিনষ্ট হয়ে গেছে)
أَعۡمَٰلُهُمۡ (আ‘মা-লুহুম → তাদের আমলসমূহ)
هَلۡ (হাল → তবে কি)
يُجۡزَوۡنَ (ইউজঝাওনা → তাদের প্রতিফল দেওয়া হবে)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
مَا (মা → যা)
كَانُوا (কা-নূ → তারা)
يَعۡمَلُونَ (ইয়া‘মালূন → করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা আমার আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) এবং পরকালের সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলেছে, তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট হয়ে গেছে। তারা যা করত, তাদের কি তারই প্রতিফল দেওয়া হবে না?
আয়াত-১৪৮ঃ
وَٱتَّخَذَ (ওয়াত্তাখাযা → এবং গ্রহণ করল)
قَوۡمُ (কাওমু → সম্প্রদায়)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসার)
مِنۢ بَعۡدِهِۦ (মিম বা‘দিহী → তার পরে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
حُلِيِّهِمۡ (হুলিইয়িহিম → তাদের অলংকারসমূহ)
عِجۡلٗا (ইজলান → বাছুর)
جَسَدٗا (জাসাদান → অবয়ব)
لَّهُۥ (লাহূ → যার)
خُوَارٞ (খুওয়ার → হাম্বা করার শব্দ)
أَلَمۡ (আলাম → তবে কি না)
يَرَوۡا (ইয়ারাও → তারা দেখে)
أَنَّهُۥ (আন্নাহূ → যে এটি)
لَا (লা → না)
يُكَلِّمُهُمۡ (ইউকাল্লিমুহুম → তাদের সঙ্গে কথা বলে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَهۡدِيهِمۡ (ইয়াহদীহিম → তাদের পথ দেখায়)
سَبِيلًا (সাবীলান → কোনো পথ)
ٱتَّخَذُوهُ (ইত্তাখাযূহু → তারা তাকে গ্রহণ করল)
وَكَانُوا (ওয়া কা-নূ → এবং তারা ছিল)
ظَٰلِمِينَ (জা-লিমীন → অন্যায়কারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে তাদের অলংকার দিয়ে একটি বাছুরের অবয়ব বানিয়ে নিল, যা হাম্বা শব্দ করত। তারা কি দেখেনি যে, সেটি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে না এবং তাদের কোনো পথও দেখাতে পারে না? তবুও তারা সেটিকে গ্রহণ করল এবং তারা ছিল অন্যায়কারী।
আয়াত-১৪৯ঃ
وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → আর যখন)
سُقِطَ (সুকিতা → তারা অনুতপ্ত হলো)
فِيٓ (ফী → মধ্যে)
أَيۡدِيهِمۡ (আইদীহিম → তাদের হাতসমূহ)
وَرَأَوۡا (ওয়া রাআও → এবং তারা দেখল)
أَنَّهُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
قَدۡ (কাদ → ইতিমধ্যে)
ضَلُّوا (দাল্লূ → পথভ্রষ্ট হয়েছে)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলল)
لَئِن (লাইইন → যদি অবশ্যই)
لَّمۡ (লাম → না)
يَرۡحَمۡنَا (ইয়ারহামনা → আমাদের প্রতি দয়া করেন)
رَبُّنَا (রাব্বুনা → আমাদের প্রতিপালক)
وَيَغۡفِرۡ (ওয়া ইয়াগফির → এবং ক্ষমা না করেন)
لَنَا (লানা → আমাদের)
لَنَكُونَنَّ (লানাকূনান্না → তবে আমরা অবশ্যই হয়ে যাব)
مِنَ (মিন → মধ্যে)
ٱلۡخَٰسِرِينَ (আল-খা-ছিরীন → ক্ষতিগ্রস্তদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং দেখল যে, তারা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তারা বলল, “আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের প্রতি দয়া না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।”
আয়াত-১৫০ঃ
وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → আর যখন)
رَجَعَ (রাজা‘আ → ফিরে এলেন)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
إِلَىٰ (ইলা → কাছে)
قَوۡمِهِۦ (কাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়ের)
غَضۡبَٰنَ (গাদবা-না → ক্ষুদ্ধ হয়ে)
أَسِفٗا (আসিফান → অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
بِئۡسَمَا (বি’ছামা → কতই না নিকৃষ্ট)
خَلَفۡتُمُونِي (খালাফতুমূনী → তোমরা আমার প্রতিনিধিত্ব করেছ)
مِنۢ بَعۡدِي (মিম বা‘দী → আমার পরে)
أَعَجِلۡتُمۡ (আ‘আজিলতুম → তোমরা কি তাড়াহুড়া করেছ)
أَمۡرَ (আমর → ব্যাপারে)
رَبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
وَأَلۡقَى (ওয়া আলকা → এবং তিনি নিক্ষেপ করলেন)
ٱلۡأَلۡوَاحَ (আল-আলওয়াহ → ফলকসমূহ)
وَأَخَذَ (ওয়া আখাযা → এবং ধরলেন)
بِرَأۡسِ (বিরা’ছি → মাথা ধরে)
أَخِيهِ (আখীহি → তাঁর ভাইয়ের)
يَجُرُّهُۥ (ইয়াজুররুহূ → তাঁকে টেনে)
إِلَيۡهِ (ইলাইহি → নিজের দিকে)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
ٱبۡنَ أُمَّ (ইবনা উম্মা → হে আমার ভাই)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
ٱلۡقَوۡمَ (আল-কাওম → লোকেরা)
ٱسۡتَضۡعَفُونِي (ইসতাদ‘আফূনী → আমাকে দুর্বল মনে করেছে)
وَكَادُوا (ওয়া কা-দূ → এবং তারা প্রায়)
يَقۡتُلُونَنِي (ইয়াকতুলূনী → আমাকে হত্যা করছিল)
فَلَا (ফালা → অতএব না)
تُشۡمِتۡ (তুশমিত → হাসির পাত্র করো)
بِيَ (বিয়া → আমাকে নিয়ে)
ٱلۡأَعۡدَآءَ (আল-আ‘দা → শত্রুদের)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَجۡعَلۡنِي (তাজ‘আলনী → আমাকে রেখো)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
ٱلۡقَوۡمِ (আল-কাওম → সম্প্রদায়ের)
ٱلظَّٰلِمِينَ (আয-যা-লিমীন → অত্যাচারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষুদ্ধ ও অত্যন্ত দুঃখিত অবস্থায় ফিরে এলেন, তখন তিনি বললেন, “আমার পরে তোমরা আমার যে প্রতিনিধিত্ব করেছ, তা কতই না নিকৃষ্ট! তোমরা কি তোমাদের প্রতিপালকের আদেশের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করেছ?” তিনি ফলকসমূহ নিক্ষেপ করলেন এবং তাঁর ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। সে বলল, “হে আমার ভাই. নিশ্চয়ই লোকেরা আমাকে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করেই ফেলেছিল। অতএব, তুমি আমার কারণে শত্রুদের আনন্দিত করো না এবং আমাকে জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।”
