সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
আয়াত – ২০১:
وَمِنۡهُمۡ (ওয়া মিনহুম → এবং তাদের মধ্যে কিছু লোক)
مَّنۡ يَّقُوۡلُ (মান ইয়াকূলু → যারা বলে)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
اٰتِنَا (আতিনা → আমাদের দাও)
فِى الدُّنۡيَا (ফিদ্দুনইয়া → দুনিয়াতে)
حَسَنَةً (হাসানাহ → কল্যাণ/ভাল কিছু)
وَّفِى الۡاٰخِرَةِ (ওয়া ফিল আখিরাহ → এবং আখিরাতেও)
حَسَنَةً (হাসানাহ → কল্যাণ/ভাল কিছু)
وَّقِنَا (ওয়া কিনা → এবং আমাদের রক্ষা করো)
عَذَابَ (‘আযাবা → শাস্তি থেকে)
النَّارِ (আন্নার → আগুন)
বাংলা অর্থ:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে— হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।
আয়াত – ২০২:
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই/তাদের জন্য)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য আছে)
نَصِیۡبٌ (নাসীবুন → অংশ/ফল/প্রাপ্য)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
كَسَبُوۡا (কাসাবূ → তারা অর্জন করেছে/কর্ম করেছে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
سَرِیۡعُ (সারীউ → দ্রুত/তৎপর)
الۡحِسَابِ (আল-হিসাব → হিসাব গ্রহণে)
বাংলা অর্থ:
তাদের জন্য রয়েছে তাদের কৃতকর্মের ফল/অংশ। আর আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
আয়াত – ২০৩:
وَاذۡکُرُوا اللّٰہَ (ওয়াযকুরুল্লাহ → আল্লাহকে স্মরণ করো)
فِیۡۤ اَیَّامٍ (ফী আইয়্যামিন → কয়েকটি দিনে)
مَّعۡدُوۡدٰتٍ (মা‘দূদাতিন → নির্দিষ্ট/গণনাযোগ্য দিনসমূহে)
فَمَنۡ تَعَجَّلَ (ফামান তা‘আজ্জালা → যে তাড়াহুড়া করল)
فِیۡ یَوۡمَیۡنِ (ফী ইয়াওমাইনি → দুই দিনের মধ্যে)
فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡہِ (ফালা ইছমা আলাইহি → তার কোনো গুনাহ নেই)
وَمَنۡ تَاَخَّرَ (ওয়ামান তা’আখখারা → আর যে দেরি করল)
فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡہِ (ফালা ইছমা আলাইহি → তারও কোনো গুনাহ নেই)
لِمَنِ اتَّقٰی (লিমানিত্তাকা → যে তাকওয়া অবলম্বন করে)
وَاتَّقُوا اللّٰہَ (ওয়াত্তাকুল্লাহ → আর আল্লাহকে ভয় করো/সতর্ক থাকো)
وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
اَنَّکُمۡ (আন্নাকুম → নিশ্চয় তোমরা)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁরই দিকে)
تُحۡشَرُوۡنَ (তুহশারূন → একত্রিত/হাশর করা হবে)
বাংলা অর্থ:
আর তোমরা নির্দিষ্ট কিছু দিনে আল্লাহকে স্মরণ করো। অতঃপর যে ব্যক্তি দুই দিনের মধ্যে তাড়াহুড়া করে চলে যায়, তার কোনো পাপ নেই; আর যে দেরি করে, তারও কোনো পাপ নেই—যদি সে তাকওয়া অবলম্বন/খোদাভীরুতা অর্জন করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমাদের সবাইকে তাঁরই কাছে একত্র করা হবে।”
য়াত – ২০৪:
وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং মধ্যে থেকে)
النَّاسِ (আন্নাসি → মানুষদের)
مَنۡ (মান → কেউ কেউ)
یُّعۡجِبُکَ (ইউ‘জিবুকা → তোমাকে বিস্মিত করে / আকৃষ্ট করে)
قَوۡلُہٗ (কাওলুহূ → তার কথা)
فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا (ফিল হায়াতিদ্দুনইয়া → দুনিয়ার জীবনে)
وَیُشۡہِدُ (ওয়া ইউশহিদু → এবং সে সাক্ষী বানায় )
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
عَلٰی (আলা → উপর)
مَا (মা → যা)
فِیۡ قَلۡبِہٖ (ফী কালবিহী → তার হৃদয়ে আছে)
وَہُوَ (ওয়া হুয়া → অথচ সে)
اَلَدُّ (আলাদ্দু → সবচেয়ে কঠিন / চরম)
الۡخِصَامِ (আলখিসামি → বিরোধী / ঝগড়াটে)
বাংলা অর্থ:
আর মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে যার কথা দুনিয়ার জীবনে তোমাকে মুগ্ধ করে এবং সে তার অন্তরে যা আছে তার উপর আল্লাহকে সাক্ষী বানায়, প্রকৃতপক্ষে সে ভীষণ কলহপ্রিয়।
আয়াত – ২০৫:
وَإِذَا (ওয়াইযা → আর যখন/যদি)
تَوَلَّى (তাওয়াল্লা → সে ফিরে যায়/চলে যায়)
سَعَى (সা‘আ → চেষ্টা করে)
فِي الْأَرْضِ (ফিল আরদি → পৃথিবীতে)
لِيُفْسِدَ فِيهَا (লিইউফসিদা ফীহা → সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করতে)
وَيُهْلِكَ (ওয়া ইউহলিকা → এবং ধ্বংস করে)
الْحَرْثَ (আল হারছা → ফসল/কৃষি)
وَالنَّسْلَ (ওয়ান্নাসলা → এবং বংশধর/প্রজন্ম)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا يُحِبُّ (লা ইউহিব্বু → পছন্দ করেন না/ভালবাসেন না)
الْفَسَادَ (আল ফাসাদা → অশান্তি/দুর্নীতি/ধ্বংস)
বাংলা অর্থ:
আর যখন সে ফিরে যায়, তখন সে পৃথিবীতে চেষ্টা করে অশান্তি সৃষ্টি করতে এবং শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তুর বংশধর ধ্বংস করতে। আর আল্লাহ অশান্তি/দূর্নীতি ভালোবাসেন না।
আয়াত – ২০৬:
وَإِذَا (ওয়াইযা → এবং যখন)
قِیۡلَ (কীলা → বলা হয়)
لَہُ (লাহু → তাকে)
اتَّقِ اللّٰہَ (ইত্তাকিল্লাহা → আল্লাহকে ভয় করো)
اَخَذَتۡہُ (আখাযাতহু → তাকে গ্রাস করে নেয়)
الۡعِزَّۃُ (আল-ইঝঝাহ → অহংকার)
بِالۡاِثۡمِ (বিল-ইছম → পাপসহ/গুনাহের কারণে)
فَحَسۡبُہٗ (ফাহাসবুহু → তার জন্য যথেষ্ট)
جَہَنَّمُ (জাহান্নামু → জাহান্নাম)
وَلَبِئۡسَ (ওয়া লাবি’ছা → আর কতই না নিকৃষ্ট)
الۡمِہَادُ (আল-মিহাদ → আশ্রয়/বাসস্থান)
বাংলা অর্থ:
আর যখন তাকে বলা হয়—“আল্লাহকে ভয় করো”, তখন তার অহংকার তাকে পাপে ঠেলে দেয়। তার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট। আর তা কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়!
আয়াত – ২০৭:
وَمِنَ النَّاسِ (ওয়া মিনান্নাসি → আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ)
مَنۡ (মান → যে/যারা)
یَّشۡرِیۡ (ইয়াশরী → বিক্রি করে/উৎসর্গ করে)
نَفۡسَہُ (নাফসাহু → নিজের জীবন/নিজেকে)
ابۡتِغَآءَ (ইবতিগা’আ → কামনা করে/অন্বেষণ করে)
مَرۡضَاتِ اللّٰہِ (মারদাতিল্লাহি → আল্লাহর সন্তুষ্টি)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
رَءُوۡفٌۢ (রাঊফুন → পরম স্নেহশীল/দয়ালু)
بِالۡعِبَادِ (বিল ‘ইবাদ → বান্দাদের প্রতি)
বাংলা অর্থ:
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি পরম দয়ালু ও স্নেহশীল।
আয়াত – ২০৮:
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا (ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ → হে ঈমানদারগণ/বিশ্বাসীগণ)
ادۡخُلُوۡا (উদখুলূ → তোমরা প্রবেশ করো)
فِی السِّلۡمِ (ফিছছিলম → শান্তি/ইসলামে)
کَآفَّۃً (কা-ফফাতান → সম্পূর্ণভাবে)
وَلَا تَتَّبِعُوۡا (ওয়া লা তাত্তাবি‘উ → এবং অনুসরণ করো না)
خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ (খুতুওয়াতিশ শাইতান → শয়তানের পদাঙ্ক/পথসমূহ)
اِنَّہٗ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই সে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَدُوٌّ (আদুউন → শত্রু)
مُّبِیۡنٌ (মুবীন → স্পষ্ট/প্রকাশ্য)
বাংলা অর্থ:
হে ঈমানদারগণ/বিশ্বাসীগণ! তোমরা সম্পূর্ণভাবে ইসলামের/শান্তির মধ্যে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পথসমূহ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আয়াত – ২০৯:
فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
زَلَلۡتُمۡ (ঝালালতুম → তোমরা বিচ্যুত হও/ভুল করো)
مِّنۡۢ بَعۡدِ (মিম বা‘দি → পরবর্তীতে)
مَا جَآءَتۡکُمُ (মা জাআতকুমু → যখন তোমাদের কাছে এসেছে)
الۡبَیِّنٰتُ (আল বাইয়িনাতু → স্পষ্ট প্রমাণসমূহ)
فَاعۡلَمُوۡۤا (ফা‘লামূ → জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰہَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
عَزِیۡزٌ (আযীযুন → পরাক্রমশালী)
حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
বাংলা অর্থ:
অতএব যদি তোমরা সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও বিচ্যুত হও, তাহলে জেনে রাখো—নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
আয়াত – ২১০:
هَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ (হাল ইয়ানজুরূন → তারা কি অপেক্ষা করছে)
اِلَّا (ইল্লা → শুধু)
اَنۡ یَّاۡتِیَہُمُ اللّٰہُ (আইঁ ইয়াতিয়াহুমুল্লাহু → আল্লাহ তাদের কাছে আসবেন)
فِیۡ ظُلَلٍ مِّنَ الۡغَمَامِ (ফী জুলালিম মিনাল গামাম → মেঘের ছায়ার মধ্যে)
وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ (ওয়াল মালাইকাতু → এবং ফেরেশতাগণ)
وَقُضِیَ الۡاَمۡرُ (ওয়া কুদিয়াল আমরু → এবং সিদ্ধান্ত/আদেশ সম্পন্ন হবে)
وَإِلَی اللّٰہِ (ওয়া ইলাল্লাহি → এবং আল্লাহর কাছেই)
تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ (তুরজা‘উল উমূর → সব বিষয়/কর্ম ফিরে যাবে)
বাংলা অর্থ:
তারা কি শুধু এটাই অপেক্ষা করছে যে আল্লাহ মেঘের ছায়ায় তাদের কাছে আসবেন, আর ফেরেশতাগণও এবং সিদ্ধান্ত সম্পন্ন হয়ে যাবে? আর সমস্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
আয়াত – ২১১:
سَلۡ (সাল → জিজ্ঞেস করো)
بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (বানী ইসরাঈল → ইসরাইলের সন্তানদের)
کَمۡ (কাম → কত)
اٰتَیۡنٰہُمۡ (আ-তাইনা-হুম → আমরা দিয়েছি তাদের)
مِّنۡ اٰیَۃٍۭ (মিন আ-য়াতিন → কত নিদর্শন)
بَیِّنَۃٍ (বাইয়িনা → স্পষ্ট)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
یُّبَدِّلۡ (ইউবাদ্দিল → পরিবর্তন করে)
نِعۡمَۃَ اللّٰہِ (নি‘মাতাল্লাহ → আল্লাহর নেয়ামত)
مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡہُ (মিন বা‘দি মা জাআতহু → তার কাছে আসার পর)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ (শাদীদুল ‘ইকাব → কঠিন শাস্তিদাতা)
বাংলা অর্থ:
ইসরাইলের সন্তানদের জিজ্ঞেস করো—আমি তাদের কত স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছি। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহ আসার পর তা পরিবর্তন করে, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।
আয়াত – ২১২:
زُیِّنَ (ঝুয়্যিনা → শোভিত করা হয়েছে)
لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوا (লিল্লাযীনা কাফারূ → যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য)
الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا (আল হায়াতুদ্দুনইয়া → দুনিয়ার জীবন)
وَیَسۡخَرُوۡنَ (ওয়া ইয়াসখারূন → তারা উপহাস করে)
مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا (মিনাল্লাযীনা আ-মানূ → বিশ্বাসীদের থেকে)
وَالَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا (ওয়াল্লাযীনা ইত্তাকাও → আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে)
فَوۡقَہُمۡ (ফাওকাহুম → তাদের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব)
یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমাল কিয়ামাহ → কিয়ামতের দিন)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَرۡزُقُ (ইয়ারযুকু → রিজিক দেন)
مَنۡ یَّشَآءُ (মান ইয়াশা → যাকে ইচ্ছা করেন)
بِغَیۡرِ حِسَابٍ (বিগাইরি হিসাব → হিসাব ছাড়াই)
বাংলা অর্থ:
যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর করে দেওয়া হয়েছে, আর তারা বিশ্বাসীদের উপহাস করে। অথচ যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তারা কিয়ামতের দিনে তাদের চেয়ে অনেক উঁচু মর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে অসীমভাবে রিজিক দান করেন।
আয়াত – ২১৩:
کَانَ النَّاسُ (কা-নান্নাসু → মানুষ ছিল)
اُمَّۃً وَّاحِدَۃً (উম্মাতান ওয়াহিদা → এক জাতি/এক সম্প্রদায়)
فَبَعَثَ اللّٰہُ (ফাবা‘আছাল্লাহু → অতঃপর আল্লাহ প্রেরণ করলেন)
النَّبِیّٖنَ (আন-নাবিইয়ীনা → নবীদের)
مُبَشِّرِیۡنَ (মুবাশশিরীন → সুসংবাদদাতা)
وَمُنۡذِرِیۡنَ (ওয়া মুনযিরীন → সতর্ককারী)
وَاَنۡزَلَ مَعَہُمُ الۡکِتٰبَ (ওয়া আনজালা মা‘আহুমুল কিতাব → তাদের সাথে কিতাব অবতীর্ণ করলেন)
بِالۡحَقِّ (বিল হাক্ক → সত্যসহ)
لِیَحۡکُمَ بَیۡنَ النَّاسِ (লিইয়াহকুমা বাইনান্নাস → মানুষের মাঝে বিচার করার জন্য)
فِیۡمَا اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ (ফীমা খতালাফূ ফীহি → যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল)
وَمَا اخۡتَلَفَ فِیۡہِ (ওয়া মা খতালাফা ফীহি → আর মতভেদ করেনি এতে)
اِلَّا الَّذِیۡنَ اُوۡتُوۡہُ (ইল্লাল্লাযীনা উতূহু → শুধু তারাই যাদেরকে তা দেওয়া হয়েছিল)
مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡہُمُ الۡبَیِّنٰتُ (মিন বা‘দি মা জাআতহুমুল বাইয়িনা-ত → স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও)
بَغۡیًۢا بَیۡنَہُمۡ (বাগইয়ান বাইনাহুম → নিজেদের মধ্যে জিদবশত)
فَہَدَی اللّٰہُ (ফাহাদা-ল্লাহু → অতঃপর আল্লাহ হেদায়াত দিলেন)
الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا (আল্লাযীনা আ-মানূ → যারা ঈমান এনেছে)
لِمَا اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ (লিমা খতালাফূ ফীহি → যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল)
مِنَ الۡحَقِّ (মিনাল হাক্ক → সত্যের দিকে)
بِاِذۡنِہٖ (বিইযনিহি → তাঁর অনুমতিতে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ (ইয়াহদী মান ইয়াশা → যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়াত দেন)
اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ (ইলা সিরাতিম মুস্তাকীম → সরল পথের দিকে)
বাংলা অর্থ:
মানুষ ছিল এক উম্মত। অতঃপর আল্লাহ নবীদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করলেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন, যাতে তারা মানুষের মাঝে তাদের মতভেদের বিষয়ে বিচার করতে পারে। আর স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও পারস্পরিক হিংসা ও জিদবশত মতভেদ করেনি শুধু তারাই যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল তাদেরকে সত্যের দিকে হেদায়াত দিলেন, তাঁর অনুমতিতে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
আয়াত – ২১৪:
اَمۡ (আম → তবে/অথবা)
حَسِبۡتُمۡ (হাসিবতুম → তোমরা কি ধারণা করেছ)
اَنۡ (আন → যে)
تَدۡخُلُوا (তাদখুলূ → তোমরা প্রবেশ করবে)
الۡجَنَّۃَ (আল জান্নাতা → জান্নাতে)
وَلَمَّا (ওয়ালাম্মা → অথচ এখনও না)
یَاۡتِکُمۡ (ইয়া’তিকুম → তোমাদের কাছে আসবে)
مَّثَلُ (মাছালু → উদাহরণ/অবস্থা)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
خَلَوۡا (খালাও → অতীত হয়ে গেছে)
مِنۡ قَبۡلِکُمۡ (মিন কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
مَسَّتۡہُمُ (মাসসাতহুমু → তাদের স্পর্শ করেছিল)
الۡبَاۡسَآءُ (আল বাসাআউ → দুঃখ-কষ্ট)
وَالضَّرَّآءُ (ওয়াদ্দাররাউ → বিপদ)
وَزُلۡزِلُوۡا (ওয়াঝুলজিলূ → তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল)
حَتّٰی (হাত্তা → এমনকি)
یَقُوۡلَ (ইয়াকূলা → বলেছিল)
الرَّسُوۡلُ (আর রাসূলু → রাসূল)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → বিশ্বাস এনেছিল)
مَعَہٗ (মা‘আহু → তার সাথে)
مَتٰی (মাতা → কখন)
نَصۡرُ اللّٰہِ (নাসরুল্লাহি → আল্লাহর সাহায্য)
اَلَاۤ (আলা → জেনে রাখো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
نَصۡرَ اللّٰہِ (নাসরাল্লাহি → আল্লাহর সাহায্য)
قَرِیۡبٌ (কারীবুন → নিকটবর্তী)
বাংলা অর্থ:
তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনও তোমাদের কাছে তাদের মতো অবস্থা আসেনি যারা তোমাদের পূর্বে চলে গেছে? তাদের ওপর দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ এসেছিল এবং তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল, এমনকি রাসূল ও তার সাথে ঈমানদাররা বলেছিল—আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটবর্তী।
আয়াত – ২১৫:
یَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ইয়াসআলূনাকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে)
مَاذَا (মা-যা → কী)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূনা → তারা কী ব্যয় করবে/দান করবে)
قُلۡ (কুল → বলো)
مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ (মা আনফাকতুম → যা কিছু তোমরা ব্যয় করো)
مِّنۡ خَیۡرٍ (মিন খাইরিন → কল্যাণ/উত্তম কিছু থেকে)
فَلِلۡوَالِدَیۡنِ (ফালিলওয়ালিদাইনি → মা-বাবার জন্য)
وَالۡاَقۡرَبِیۡنَ (ওয়াল আকরাবীনা → নিকট আত্মীয়দের জন্য)
وَالۡیَتٰمٰی (ওয়াল ইয়াতামা → এতিমদের জন্য)
وَالۡمَسٰکِیۡنِ (ওয়াল মাসাকীন → দরিদ্রদের জন্য)
وَابۡنِ السَّبِیۡلِ (ওয়াবনিস সাবীল → মুসাফির/পথিকের জন্য)
وَمَا (ওয়া মা → আর যা কিছু)
تَفۡعَلُوۡا (তাফ‘আলূ → তোমরা করো)
مِنۡ خَیۡرٍ (মিন খাইরিন → কোনো উত্তম কাজ)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
بِہٖ (বিহী → তা সম্পর্কে)
عَلِیۡمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
বাংলা অর্থ:
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে—তারা কী ব্যয় করবে? বলো: তোমরা যা কিছু কল্যাণের পথে ব্যয় করো, তা হবে পিতা-মাতা, নিকট আত্মীয়, এতিম, দরিদ্র এবং পথিকের জন্য। আর তোমরা যে কোনো উত্তম কাজই করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
আয়াত – ২১৬:
كُتِبَ عَلَیۡکُمُ (কুতিবা ‘আলাইকুম → তোমাদের উপর বিধান করা হয়েছে)
الۡقِتَالُ (আল কিতা-লু → যুদ্ধ/সংগ্রাম)
وَہُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তা)
کُرۡہٌ (কুরহুন → অপছন্দনীয়/কঠিন বিষয়)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَعَسٰۤی (ওয়া ‘আসা → হতে পারে)
اَنۡ تَکۡرَہُوۡا (আন তাকরাহূ → তোমরা অপছন্দ করো)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَّہُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তা)
خَیۡرٌ (খাইরুন → কল্যাণকর)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَعَسٰۤی (ওয়া ‘আসা → আর হতে পারে)
اَنۡ تُحِبُّوۡا (আন তুহিব্বূ → তোমরা ভালোবাসো)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَّہُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তা)
شَرٌّ (শাররুন → অকল্যাণকর)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → আর তোমরা)
لَا تَعۡلَمُوۡنَ (লা তা‘লামূন → জানো না)
বাংলা অর্থ:
তোমাদের উপর যুদ্ধের বিধান করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। আর হতে পারে তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হতে পারে তোমরা কোনো বিষয় ভালোবাসো অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা তা জানো না।
আয়াত – ২১৭:
یَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ইয়াসআলূনাকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
عَنِالشَّہۡرِ الۡحَرَامِ (আনিশশাহরিল হারা-মি → নিষিদ্ধ মাস সম্পর্কে)
قِتَالٍ فِیۡہِ قُلۡ قِتَالٌ (কিতা-লিন ফীহি কুল কিতা-লুন → যুদ্ধ এতে বলো যুদ্ধ)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
کَبِیۡرٌ (কাবীরুন → বড়/গুরুতর)
وَصَدٌّ (ওয়া সাদ্দুন → এবং বাধা দেওয়া)
عَنۡ سَبِیۡلِ(আন সাবীলি → পথ থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَکُفۡرٌۢ (ওয়া কুফরুন → এবং অস্বীকার)
بِہٖ (বিহী → তাঁর প্রতি)
وَالۡمَسۡجِدِ (ওয়াল-মাসজিদি → এবং প্রার্থনার স্থানে)
الۡحَرَامِ (আল-হারামি → নিষিদ্ধ/বাধাগ্রস্থ প্রার্থনার স্থানে)
وَاِخۡرَاجُ (ওয়া ইখরাজু → বের করে দেওয়া)
اَہۡلِہٖ (আহলিহী → তার অধিবাসীদের)
مِنۡہُ (মিনহু → সেখান থেকে)
اَکۡبَرُ (আকবারু → আরও বড়)
عِنۡدَ (ইনদা → নিকট)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর কাছে)
وَالۡفِتۡنَۃُ (ওয়াল ফিতনাতু → বিভ্রান্তি/দমনপীড়ন)
اَکۡبَرُ (আকবারু → আরও বড়)
مِنَ الۡقَتۡلِ(মিনাল কাতলি→ হত্যা থেকে)
وَلَا یَزَالُوۡنَ (ওয়ালা ইয়াজালূনা → তারা সবসময় থাকবে)
یُقَاتِلُوۡنَکُمۡ (ইউকাতিলূনাকুম → তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَرُدُّوۡکُمۡ (ইয়ারুদ্দূকুম → ফিরিয়ে দেয় তোমাদের)
عَنۡ (আন → থেকে)
دِیۡنِکُمۡ (দীনিকুম → তোমাদের ধর্ম/জীবণব্যবস্থা)
اِنِ (ইনি → যদি)
اسۡتَطَاعُوۡا (ইস্তাতা‘ঊ → তারা সক্ষম হয়)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یَّرۡتَدِدۡ (ইয়ারতাদিদ → ফিরে যায়/জীবণব্যবস্থা ত্যাগ করে)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
عَنۡ (আন → থেকে)
دِیۡنِہٖ (দীনিহী → তার জীবণব্যবস্থা)
فَیَمُتۡ (ফাইয়ামুত → সে মারা যায়)
وَہُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং সে)
کَافِرٌ (কা-ফিরুন → অবিশ্বাসী)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
حَبِطَتۡ (হাবিতাত → নষ্ট হয়ে গেছে)
اَعۡمَالُہُمۡ (আ‘মালুহুম → তাদের কর্মসমূহ)
فِی الدُّنۡیَا (ফিদ-দুনইয়া → দুনিয়াতে)
وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল আখিরাতি → এবং আখিরাতে)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়াউলাইকা → আর তারাই)
اَصۡحٰبُ (আসহাবু → অধিবাসী/সাথী)
النَّارِ (আন-নারি → আগুনের)
ہُمۡ (হুম → তারা)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
خٰلِدُوۡنَ (খালিদূন → চিরস্থায়ী)
বাংলা অর্থ:
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে। বলো, এতে যুদ্ধ করা বড় অপরাধ। আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, তাঁর প্রতি অবিশ্বাস করা এবং বাধাগ্রস্থ প্রার্থনার স্থান (মসজিদুল হারাম) থেকে মানুষকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও বড় অপরাধ। দমনপীড়ন (ফিতনা) হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না পারে তোমাদেরকে তোমাদের জীবণব্যবস্থা (দ্বীন) থেকে ফিরিয়ে দিতে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ জীবণব্যবস্থা থেকে ফিরে গিয়ে কাফের অবস্থায় মারা যায়, তার সব আমল দুনিয়া ও আখিরাতে নষ্ট হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের অধিবাসী—সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।
আয়াত – ২১৮:
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
ہَاجَرُوۡا (হাজারূ → হিজরত করা / স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র যাওয়া / বিচ্ছিন্ন হওয়া)
وَجٰہَدُوۡا (ওয়া জাহাদূ → এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে/জিহাদ করেছে)
فِیۡ (ফী → মধ্যে/পথে)
سَبِیۡلِ (সাবীলি → পথ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
یَرۡجُوۡنَ (ইয়ারজূনা → আশা করে)
رَحۡمَتَ (রাহমাতা → দয়া)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস এনেছে, যারা হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছে—তারাই আল্লাহর দয়ার আশা রাখে। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত – ২১৯:
یَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ইয়াছআলূনাকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
عَنِ (আনিল → সম্পর্কে)
الۡخَمۡرِ (খামরি → নেশাজাতীয় দ্রব্য/যা বুদ্ধি ঢেকে ফেলে)
وَالۡمَیۡسِرِ (ওয়াল মাইছিরি → এবং জুয়া/ভাগ্যনির্ভর লাভ)
قُلۡ (কুল → বলো)
فِیۡہِمَاۤ (ফীহিমা → এ দু’টির মধ্যে)
اِثۡمٌ (ইছমুন → পাপ)
کَبِیۡرٌ (কাবীরুন → বড়)
وَّمَنَافِعُ (ওয়া মানাফি‘উ → এবং কিছু উপকার)
لِلنَّاسِ (লিন্না-ছি → মানুষের জন্য)
وَاِثۡمُہُمَاۤ (ওয়া ইছমুহুমা → কিন্তু এ দু’টির পাপ)
اَکۡبَرُ (আকবারু → বেশি বড়)
مِنۡ (মিন → থেকে)
نَّفۡعِہِمَا (নাফ‘ইহিমা → তাদের উপকারের চেয়ে)
وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ওয়া ইয়াছআলূনাকা → এবং তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
مَاذَا (মা-যা → কী)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূনা → তারা ব্যয় করবে)
قُلِ (কুল → বলো)
الۡعَفۡوَ (আফওয়া → উদ্বৃত্ত/অতিরিক্ত যা থাকে)
کَذٰلِکَ (কাযা-লিকা → এভাবেই)
یُبَیِّنُ (ইউবাইয়িনু → স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَکُمُ (লাকুমু → তোমাদের জন্য)
الۡاٰیٰتِ (আয়াতি → আয়াতসমূহ)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَتَفَکَّرُوۡنَ (তাতাফাক্কারূন → চিন্তা-ভাবনা করো)
বাংলা অর্থ:
তারা তোমাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, এ দু’টিতে বড় পাপ রয়েছে, আর মানুষের জন্য কিছু উপকারও আছে; কিন্তু এ দু’টির পাপ তাদের উপকারের চেয়ে বেশি। আর তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে তারা কী ব্যয় করবে? বলো, যা উদ্বৃত্ত/প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো।
আয়াত – ২২০:
فِی الدُّنۡیَا (ফীদ্দুনইয়া →দুনিয়ার মধ্যে)
وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল আ-খিরাতি → এবং শেষদিবসে)
وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ওয়া ইয়াছআলূনাকা → এবং তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
عَنِ (আনিল → সম্পর্কে)
الۡیَتٰمٰی (ইয়াতা-মা → এতিমদের/সহায়হীনদের/একা হয়ে যাওয়াদের)
قُلۡ (কুল → বলো)
اِصۡلَاحٌ (ইসলাহুন → সংশোধন করা)
لَّہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
خَیۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تُخَالِطُوۡہُمۡ (তুখা-লিতূহুম → তোমরা তাদের সাথে মিশো)
فَاِخۡوَانُکُمۡ (ফাইখওয়া-নুকুম → তবে তারা তোমাদের ভাই)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
الۡمُفۡسِدَ (মুফছিদা → অনিষ্টকারীকে)
مِنَ (মিন → থেকে)
الۡمُصۡلِحِ (মুসলিহি → সংশোধনকারীকে)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
شَآءَ (শাআ → ইচ্ছা করতেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
لَاَعۡنَتَکُمۡ (লাআ‘নাতাকুম → তবে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতেন)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
عَزِیۡزٌ (‘আঝীঝুন → পরাক্রমশালী)
حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়
বাংলা অর্থ:
দুনিয়াতে ও আখিরাতে। আর তারা তোমাকে এতিমদের/অসহায়দের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, তাদের কল্যাণ করা উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিশো, তবে তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী আর কে সংশোধনকারী। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত – ২২১:
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَنۡکِحُوا (তানকিহু → তোমরা বিয়ে করো)
الۡمُشۡرِکٰتِ (মুশরিকা-তি → শরিক করা নারীদের/মুশরিক নারীদের)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یُؤۡمِنَّ (ইউ’মিন্না → তারা ঈমান আনে)
وَلَاَمَۃٌ (ওয়া লাআমাতুম → আর একজন দাসী নারী)
مُّؤۡمِنَۃٌ (মু’মিনাতুন → মুমিনাদের/একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
خَیۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
مِّنۡ (মিম → অপেক্ষা)
مُّشۡرِکَۃٍ (মুশরিকাতিওঁ → শরিক করা নারী/মুশরিক নারী)
وَّلَوۡ (ওয়ালাও → যদিও)
اَعۡجَبَتۡکُمۡ (আ‘জাবাতকুম → সে তোমাদের ভালো লাগে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُنۡکِحُوا (তুনকিহু → তোমরা বিয়ে দাও)
الۡمُشۡرِکِیۡنَ (মুশরিকীনা → মুশরিক পুরুষদের)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یُؤۡمِنُوۡا (ইউমিনূ → তারা ঈমান আনে)
وَلَعَبۡدٌ (ওয়া ‘আবদুম → আর একজন দাস পুরুষ)
مُّؤۡمِنٌ (মু’মিনুন → মুমিনদের/একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
خَیۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
مِّنۡ (মিম → অপেক্ষা)
مُّشۡرِکٍ (মুশরিকিওঁ → শরিক করা পুরুষ/মুশরিক পুরুষ)
وَّلَوۡ (ওয়ালাও → যদিও)
اَعۡجَبَکُمۡ (আ‘জাবাকুম → সে তোমাদের ভালো লাগে)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারা)
یَدۡعُوۡنَ (ইয়াদ‘ঊনা → ডাকে)
اِلَی (ইলা → দিকে)
النَّارِ (আন্না-রি → আগুনের দিকে)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
یَدۡعُوۡۤا (ইয়াদ‘ঊ → ডাকেন)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الۡجَنَّۃِ (জান্নাতি → জান্নাতের)
وَالۡمَغۡفِرَۃِ (ওয়াল মাগফিরাতি → এবং ক্ষমার)
بِاِذۡنِہٖ (বিইযনিহী → তাঁর অনুমতিতে)
وَیُبَیِّنُ (ওয়া ইউবাইয়িনু → এবং তিনি স্পষ্ট করে দেন)
اٰیٰتِہٖ (আয়াতিহী → তাঁর আয়াতসমূহ)
لِلنَّاسِ (লিন্নাছি → মানুষের জন্য)
لَعَلَّہُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
یَتَذَکَّرُوۡنَ (ইয়াতাযাক্কারূন → উপদেশ গ্রহণ করে)
বাংলা অর্থ:
আর তোমরা শরিক করা নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিনা দাসী নারী শরিক করা নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের ভালো লাগে। আর তোমরা শরিক করা পুরুষদের বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস পুরুষ শরিক করা পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের ভালো লাগে। তারা আগুনের দিকে ডাকে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে ডাকেন। আর তিনি তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আয়াত – ২২২:
وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ওয়া ইয়াছআলূনাকা → এবং তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
عَنِ (আনিল → সম্পর্কে)
الۡمَحِیۡضِ (আল মাহীদ → ঋতুস্রাব)
قُلۡ ہُوَ (কুল হুওয়া → বলো এটি)
اَذًی (আযান → কষ্ট/অস্বস্তি)
فَاعۡتَزِلُوا (ফা‘তাঝিলু → সরে থাকো)
النِّسَآءَ (নিসা-আ → নারীদের থেকে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡمَحِیۡضِ (আল মাহীদ → ঋতুস্রাবের সময়)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقۡرَبُوۡہُنَّ (তাকরাবূহুন্না → তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়া/সংস্পর্শে আসা)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَطۡہُرۡنَ (ইয়াতহুরনা → তারা পরিস্কার/পবিত্র হয় ।
فَاِذَا (ফাইযা → যখন)
تَطَہَّرۡنَ (তাতাহহারনা → তারা সম্পূর্ণ পরিস্কার/পবিত্র হয়)
فَاۡتُوۡہُنَّ (ফা’তূহুন্না → তাদের কাছে যাও)
مِنۡ (মিন → থেকে)
حَیۡثُ (হাইছু → যেখানে)
اَمَرَکُمُ (আমারাকুমু → তোমাদেরকে আদেশ করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
التَّوَّابِیۡنَ (তাওওয়া-বীন → ক্ষমাপ্রার্থনাকারী)
وَیُحِبُّ (ওয়া ইউহিব্বু → এবং ভালোবাসেন)
الۡمُتَطَہِّرِیۡنَ (মুতাতাহহিরীন → পবিত্রতা/পরিচ্ছন্নতা অর্জনকারীদের)
বাংলা অর্থ:
আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, এটি কষ্টদায়ক অবস্থা। তাই তোমরা ঋতুস্রাবের সময় নারীদের ঘনিষ্ঠ হওনা এবং যতক্ষণ না তারা পরিচ্ছন্ন/পবিত্র হয়, তাদের ঘনিষ্ঠ হওনা। আর যখন তারা সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন/পবিত্র হয়, তখন আল্লাহ যেভাবে তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে তাদের কাছে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ভালোবাসেন এবং পরিচ্ছন্নতা/পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।
আয়াত – ২২৩:
حَرۡثٌ (হারছুন → বীজ বপনের স্থানে)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
فَاۡتُوۡا (ফা’তূ → তোমরা যাও/সম্পর্ক করো)
حَرۡثَکُمۡ (হারছাকুম → তোমাদের বীজ বপনের স্থানে)
اَنّٰی (আন্না → যেভাবে)
شِئۡتُمۡ (শি’তুম → তোমরা ইচ্ছা কর)
وَقَدِّمُوۡا (ওয়া কাদ্দিমূ → এবং অগ্রিম প্রেরণ করা)
لِاَنۡفُسِکُمۡ (লিআনফুসিকুম → নিজেদের জন্য)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → আল্লাহকে ভয় করো)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → আর জেনে রাখো)
اَنَّکُمۡ (আন্নাকুম → নিশ্চয় তোমরা)
مُّلٰقُوۡہُ (মুলাকূহু → তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে)
وَبَشِّرِ (ওয়া বাশশির → সুসংবাদ দাও)
الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
বাংলা অর্থ:
তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য বীজ বপনের ক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের ক্ষেত্রের কাছে যেভাবে ইচ্ছা যাও এবং তোমাদের নিজেদের জন্য অগ্রিম প্রেরণ করো। আল্লাহকে ভয় করো এবং নিশ্চয় তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
আয়াত – ২২৪:
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَجۡعَلُوا (তাজ‘আলূ → তোমরা করো/স্থির করো)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
عُرۡضَۃً (উরদাতান → ঢাল/অজুহাত/বাধা)
لِّاَیۡمَانِکُمۡ (লিআইমানিকুম → তোমাদের শপথগুলোর জন্য)
اَنۡ (আন → যেন)
تَبَرُّوۡا (তাবাররূ → তোমরা নেক কাজ করো)
وَتَتَّقُوۡا (ওয়া তাত্তাকূ → আল্লাহভীতি অবলম্বন করো)
وَتُصۡلِحُوۡا (ওয়া তুসলিহূ → এবং তোমরা সংশোধন করো)
بَیۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
النَّاسِ (নাস → মানুষের)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
سَمِیۡعٌ (সামী‘উন → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)
বাংলা অর্থ:
তোমরা পূণ্যের কাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন হতে বিরত থাকবে-এ শপথের জন্যে আল্লাহর নামকে অজুহাত করোনা। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আয়াত – ২২৫:
لَا (লা → না)
یُؤَاخِذُکُمُ (ইউআ-খিযুকুমু → তোমাদের ধরবেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
بِاللَّغۡوِ (বিল্লাগ্ব → অনর্থক)
فِیۡۤ (ফী → মধ্যে)
اَیۡمَانِکُمۡ (আইমানিকুম → তোমাদের শপথসমূহে)
وَلٰکِنۡ (ওয়া লা-কিন → কিন্তু)
یُّؤَاخِذُکُمۡ (ইউআ-খিযুকুম → তোমাদের ধরবেন)
بِمَا (বিমা → যা)
کَسَبَتۡ (কাসাবাত → অর্জন করেছে)
قُلُوۡبُکُمۡ (কুলূবুকুম → তোমাদের অন্তর)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূর → অতিশয় ক্ষমাশীল)
حَلِیۡمٌ (হালীম → সহনশীল)
বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তোমাদের অযথা শপথের কারণে ধরবেন না, কিন্তু তোমাদের অন্তর যা অর্জন করেছে তার কারণে তিনি তোমাদের ধরবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, সহনশীল।
