সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
আয়াত – ১৭৬:
ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
بِاَنَّ (বিআন্না → এ কারণে যে)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
نَزَّلَ (নায্যালা → নাযিল করেছেন)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতা-বা → কিতাব)
بِالۡحَقِّ (বিলহাক্কি → সত্যসহ)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اخۡتَلَفُوۡا (ইখতালাফূ → মতভেদ করেছে)
فِی الۡکِتٰبِ (ফিল কিতা-বি → কিতাব সম্পর্কে)
لَفِیۡ (লাফী → অবশ্যই রয়েছে)
شِقَاقٍ (শিকা-কিন → বিরোধ/বিভেদ)
بَعِیۡدٍ (বা‘ঈদিন → গভীর)
বাংলা অর্থ:
এটি এজন্য যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন। আর যারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই গভীর বিরোধে লিপ্ত রয়েছে।
আয়াত – ১৭৭:
لَیۡسَ (লাইসা → নয়)
الۡبِرَّ (আল-বিররা → নেকি/পূণ্য)
اَنۡ تُوَلُّوۡا (আন তুওয়াল্লূ → তোমরা ফিরাও)
وُجُوۡہَکُمۡ (উজূহাকুম → তোমাদের মুখ/চেহারা)
قِبَلَ (কিবালা → লক্ষ্যে)
الۡمَشۡرِقِ (আল-মাশরিক → পূর্ব)
وَالۡمَغۡرِبِ (ওয়াল-মাগরিব → পশ্চিম)
وَلٰکِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
الۡبِرَّ (আল-বিররা → নেকি/পূণ্য)
مَنۡ (মান → যে)
اٰمَنَ (আ-মানা → ঈমান এনেছে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহতে)
وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখির → আখিরাতের দিনে)
وَالۡمَلٰٓئِکَۃِ (ওয়াল মালাইকাহ → ফেরেশতাদের)
وَالۡکِتٰبِ (ওয়াল কিতাব → কিতাবসমূহে)
وَالنَّبِیّٖنَ (ওয়ান নাবিইয়ীন → নবীদের)
وَاٰتَی الۡمَالَ (ওয়া আ-তাল মালা → এবং সম্পদ দিয়েছে)
عَلٰی حُبِّہٖ (আলা হুব্বিহি → ভালোবাসা সত্ত্বেও)
ذَوِی الۡقُرۡبٰی (যাওয়িল কুরবা → আত্মীয়দের)
وَالۡیَتٰمٰی (ওয়াল ইয়াতামা → এতিমদের)
وَالۡمَسٰکِیۡنَ (ওয়াল মাসাকীন → দরিদ্রদের)
وَابۡنَ السَّبِیۡلِ (ওয়াবনাস সাবীল → পথিক/মুসাফিরদের)
وَالسَّآئِلِیۡنَ (ওয়াস সাইলীন → ভিক্ষুকদের)
وَفِی الرِّقَابِ (ওয়া ফির রিকা-ব → দাসমুক্তির জন্য)
وَاَقَامَ الصَّلٰوۃَ (ওয়া আকা-মাস সালাহ → যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে)
وَاٰتَی الزَّکٰوۃَ (ওয়া আ-তাযযাকাহ → যাকাত দেয়)
وَالۡمُوۡفُوۡنَ بِعَہۡدِہِمۡ (ওয়াল মুফূনা বি‘আহদিহিম → ওয়াদা পূর্ণ করে)
اِذَا عٰہَدُوۡا (ইযা আহাদূ → যখন প্রতিশ্রুতি দেয়)
وَالصّٰبِرِیۡنَ (ওয়াস সাবিরীন → ধৈর্যশীলরা)
فِی الۡبَاۡسَآءِ (ফিল বাসা → কষ্টে)
وَالضَّرَّآءِ (ওয়াদ দাররা → দুঃখে/বিপদে)
وَحِیۡنَ الۡبَاۡسِ (ওয়া হীনাল বাস → যুদ্ধের সময়)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → এরাই)
الَّذِیۡنَ صَدَقُوۡا (আল্লাযীনা সাদাকূ → যারা সত্য বলেছে)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → এবং এরাই)
ہُمُ الۡمُتَّقُوۡنَ (হুমুল মুত্তাকূন → খোদভীরু/পরহেজগার)
বাংলা অর্থ:
নেকি নাই শুধু পূর্ব বা পশ্চিমের লক্ষ্যে চেহারা ফিরানোতে; বরং নেকি হলো আল্লাহ, আখিরাতের দিন, ফেরেশতাদের প্রতি, কিতাবসমূহে ও নবীদের উপর ঈমান আনা এবং সম্পদে ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়, এতিম, দরিদ্র, পথিক, ভিক্ষুক ও দাসমুক্তির জন্য ব্যয় করা। আর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা, পরিশুদ্ধ হওয়া এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করা এবং কষ্ট ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করা। এরাই সত্যবাদী এবং এরাই মুত্তাকী/খোদাভীরু।
আয়াত – ১৭৮:
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছ)
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা হয়েছে)
عَلَیۡکُمُ (‘আলাইকুমু → তোমাদের উপর)
الۡقِصَاصُ (আল-কিসাসু → আইনানুগ বদলা/কিসাস)
فِی الۡقَتۡلٰی (ফিল কাতলা → নিহতদের ক্ষেত্রে)
اَلۡحُرُّ (আল-হুররু → স্বাধীন ব্যক্তি)
بِالۡحُرِّ (বিল হুররি → স্বাধীন ব্যক্তির বদলে)
وَالۡعَبۡدُ (ওয়াল আবদু → দাস)
بِالۡعَبۡدِ (বিল আবদি → দাসের বদলে)
وَالۡاُنۡثٰی (ওয়াল উনছা → নারী)
بِالۡاُنۡثٰی (বিল উনছা → নারীর বদলে)
فَمَنۡ (ফামান → তবে যে)
عُفِیَ (উফিয়া → ক্ষমা করা হয়)
لَہٗ (লাহু → তার জন্য)
مِنۡ اَخِیۡہِ (মিন আখীহি → তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে)
شَیۡءٌ (শাইউন → কিছু)
فَاتِّبَاعٌۢ (ফাত্তিবা‘উন → অনুসরণ করা হবে)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিল মা‘রূফ → সুন্দর/ন্যায়ভাবে)
وَاَدَآءٌ (ওয়া আদাউন → এবং আদায়)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তার কাছে)
بِاِحۡسَانٍ (বিইহসান → উত্তমভাবে)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
تَخۡفِیۡفٌ (তাখফীফ → হালকা করা)
مِّنۡ رَّبِّکُمۡ (মিন রাব্বিকুম → তোমাদের রবের পক্ষ থেকে)
وَرَحۡمَۃٌ (ওয়া রাহমাহ → এবং দয়া)
فَمَنِ (ফামানি → তবে যে)
اعۡتَدٰی (ই‘তাদা → সীমালঙ্ঘন করে)
بَعۡدَ ذٰلِکَ (বা‘দা যালিকা → এরপরও)
فَلَہٗ (ফালাহু → তার জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِیۡمٌ (আলীম → কষ্টদায়ক)
বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের উপর আইনানুগ বদলা লিখিত বিধান করা হয়েছে—স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের বদলে দাস, নারীর বদলে নারী। তবে যার পক্ষ থেকে তার ভাইয়ের দ্বারা কিছু ক্ষমা করা হয়, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং উত্তমভাবে তাকে পরিশোধ করতে হবে। এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সহজীকরণ ও দয়া। এরপরও যে সীমালঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আয়াত – ১৭৯:
وَلَکُمۡ (ওয়া লাকুম → এবং তোমাদের জন্য)
فِی الۡقِصَاصِ (ফিল কিসাসি → আইনানুগ বদলা/প্রতিশোধ আইনে)
حَیٰوۃٌ (হায়াতুন → জীবন)
یّٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ (ইয়া উলিল আলবা-ব → হে বুদ্ধিমানরা/জ্ঞানীরা)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَتَّقُوۡنَ (তাত্তাকূন → খোদাভীরুতা/তাকওয়া অর্জন কর)
বাংলা অর্থ:
হে বুদ্ধিমানরা! আইনানুগ বদলার মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারো।
আয়াত – ১৮০:
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা হয়েছে)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)
اِذَا (ইযা → যখন)
حَضَرَ (হাদারা → উপস্থিত হয়)
اَحَدَکُمُ (আহাদাকুমু → তোমাদের কারও)
الۡمَوۡتُ (আল মাওতু → মৃত্যু)
اِنۡ تَرَکَ (ইন তারাকা → যদি সে রেখে যায়)
خَیۡرًا (খাইরান → উত্তম সম্পদ)
الۡوَصِیَّۃُ (আল-ওসিয়্যাহ → শেষ নির্দেশ/ওসিয়ত/উইল)
لِلۡوَالِدَیۡنِ (লিল ওয়ালিদাইনি → পিতামাতার জন্য)
وَالۡاَقۡرَبِیۡنَ (ওয়াল আকরাবীন → নিকট আত্মীয়দের জন্য)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিল মা‘রূফ → ন্যায়সঙ্গতভাবে)
حَقًّا (হাক্কান → সত্য কর্তব্য/নিশ্চিত প্রমাণিত)
عَلَی الۡمُتَّقِیۡنَ (আলাল মুত্তাকীন → মুত্তাকীদের উপর)
বাংলা অর্থ:
তোমাদের উপর লিখিত বিধান করা হয়েছে, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে যদি উত্তম সম্পদ রেখে যায়, তবে সে যেন পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে ওসিয়ত/শেষ নির্দেশ করে। এটি খোদাভীরুদের/মুত্তাকীদের জন্য সত্য কর্তব্য।
আয়াত – ১৮১:
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
بَدَّلَہٗ (বাদ্দালাহু → তা পরিবর্তন করে)
بَعۡدَمَا (বা‘দা মা → পরে যখন)
سَمِعَہٗ (সামি‘আহু → সে তা শুনে নেয়)
فَاِنَّمَا (ফাইন্নামা → তবে নিশ্চয়ই)
اِثۡمُہٗ (ইছমুহু → তার পাপ)
عَلَی الَّذِیۡنَ (আলাল্লাযীনা → তাদের উপর যারা)
یُبَدِّلُوۡنَہٗ (ইউবাদ্দিলূনাহু → তা পরিবর্তন করে)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
سَمِیۡعٌ (সামীউন → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)
বাংলা অর্থ:
অতএব যে ব্যক্তি তা শুনে নেওয়ার পর পরিবর্তন করে, তার পাপ তাদেরই উপর বর্তাবে যারা তা পরিবর্তন করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আয়াত – ১৮২:
فَمَنۡ (ফামান → তবে যে)
خَافَ (খাফা → ভয় করে)
مِنۡ مُّوۡصٍ (মিন মূসিন → যে ওসিয়ত করছে তার থেকে)
جَنَفًا (জানাফান → পক্ষপাত/অন্যায় ঝোঁক)
اَوۡ (আও → অথবা)
اِثۡمًا (ইছমান → পাপ)
فَاَصۡلَحَ (ফাআসলাহা → সে সংশোধন করে)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
فَلَاۤ (ফালা → তাহলে নেই)
اِثۡمَ (ইছমা → পাপ)
عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তার উপর)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
যে ব্যক্তি ওসিয়তকারীর পক্ষ থেকে কোনো অন্যায় বা পাপের আশঙ্কা করে এবং তাদের মধ্যে সংশোধন করে দেয়, তার উপর কোনো পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত – ১৮৩:
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছ)
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা হয়েছে)
عَلَیۡکُمُ (‘আলাইকুমু → তোমাদের উপর)
الصِّیَامُ (আস-সিয়ামু → বিরত থাকা/কোন কাজ থেকে নিজেকে আটকানো/রোজা =)
کَمَا (কামা → যেমনভাবে)
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা হয়েছিল)
عَلَی الَّذِیۡنَ (আলাল্লাযীনা → তাদের উপর যারা)
مِنۡ قَبۡلِکُمۡ (মিন কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে ছিল)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَتَّقُوۡنَ (তাত্তাকূন → খোদাভীরুতা অর্জন কর)
বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ/ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর বিরত থাকা লিখিত বিধান করা হয়েছে, যেমনভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর (১৯:২৬) লিখিত বিধান করা হয়েছিল, যাতে তোমরা খোদাভীরুতা/তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
সিয়ামে/রোজা/বিরত থাকার আয়াতগুলো:
২: ১৮৩,১৮৫,১৮৭,১৯৬। ৪: ৯২। ৫: ৮৯, ৯৫। ১৯: ২৬, ৫৮: ৪ (যিহার পাপের বর্ণনা -সুরা আল আহযাব- ৩৩: ৪, ৫।
আয়াত – ১৮৪:
اَیَّامًا (আইয়্যামান →সময়ের একটি পর্যায়/সময়কাল = (ইয়্যাম =দিন/রাতের পর্যায় =২৪ ঘন্টা)
مَّعۡدُوۡدٰتٍ (মা‘দূদাতিন → গণনাযোগ্য ) : গণনাকৃত সিয়ামের সংখ্যার আয়াতসমূহ:
২:১৯৬= ১০টি, ৪:৯২= ২মাস/৬০টি, ৫:৮৯= ৩টি, ৫:৯৫= যতগুলি পশু হত্যা ততগুলি সিয়াম করতে হবে, ১৯:২৬=১টি, ৫৮: ৪= ২মাস/৬০টি )
فَمَنۡ (ফামান → তবে যে)
کَانَ (কানা → হয়)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
مَّرِیۡضًا (মারীদান → অসুস্থ)
اَوۡ (আও → অথবা)
عَلٰی سَفَرٍ (‘আলা সাফারিন → ভ্রমণে)
فَعِدَّۃٌ (ফা‘ইদ্দাতুন → নির্ধারিত সংখ্যা)
مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ (মিন আইয়ামিন উখারা → অন্য দিনগুলোর)
وَعَلَی الَّذِیۡنَ (ওয়া ‘আলাল্লাযীনা → আর যারা)
یُطِیۡقُوۡنَہٗ (ইউতীকূনাহু → করার ক্ষমতা রাখে/কষ্ট করে পারতে সক্ষম)
فِدۡیَۃٌ (ফিদইয়াতুন → ক্ষতিপূরণ/প্রতিদান)
طَعَامُ مِسۡکِیۡنٍ (তা‘আমু মিসকীন → একজন মিসকীনকে খাবার)
فَمَنۡ (ফামান → তবে যে)
تَطَوَّعَ (তাতাওওয়া‘আ → স্বেচ্ছায় বেশি করে)
خَیۡرًا (খাইরান → কল্যাণ)
فَہُوَ خَیۡرٌ لَّہٗ (ফাহুয়া খাইরুল্লাহু → তার জন্য ভালো)
وَاَنۡ تَصُوۡمُوۡا (ওয়া আন তাসূমূ → আর তোমরা বিরত থাকো)
خَیۡرٌ لَّکُمۡ (খাইরুল্লাকুম → তোমাদের জন্য উত্তম)
اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ (ইন কুনতুম তা‘লামূন → যদি তোমরা জানো)
বাংলা অর্থ:
গণনাযোগ্য সময়ের একটি পর্যায়। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে, সে অন্য দিনে সিয়াম (বিরত) পালন করবে, আর যারা কষ্ট করে সিয়াম রাখতে সক্ষম, তাদের জন্য ফিদিয়া/ক্ষতিপূরণ—একজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান। তবে যে স্বেচ্ছায় বেশি ভালো কাজ করে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা জানতে, তবে সিয়াম পালন তোমাদের জন্য উত্তম।
আয়াত – ১৮৫:
شَہۡرُرَمَضَانَ (শাহরু রমাদান → তীব্র উত্তপ্ত মাস/সময়। ( উদা: কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ, এক মাঘ মাসে শীত যায়না, চৈত্র মাসে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়)
তীব্র উত্তপ্ত পরিস্থিতিসমূহ: ২:১৯৬= হজ্জ/ওমরায় বাধাগ্রস্থ/অসুস্থ/মাথার সমস্যা, ৪:৯২= মুমিন বান্দা হত্যা, ৫:৮৯= জেনেবুঝে শপথ ভঙ্গ, ৫:৯৫= অন্যের পশু হত্যা, ১৯:২৬= নিজের জীবণ নিয়ে অতিষ্ঠ বা মৃত্যু কামনা করলে, ৫৮: ৪= অন্য নারীকে মায়ের জাতের সাথে তুলনা করে কামনা করলে বা অন্য পুরুষকে পিতার জাতের সাথে তুলনা করে কামনা করলে )
الَّذِیۡۤ (আল্লাযী → যে)
اُنۡزِلَ (উনঝিলা → নাযিল করা হয়েছে)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
الۡقُرۡاٰنُ (আল কুরআন)
ہُدًی (হুদান → পথনির্দেশ)
لِّلنَّاسِ (লিন্নাস → মানুষের জন্য)
وَبَیِّنٰتٍ (ওয়া বাইয়িনাতিন → স্পষ্ট প্রমাণসমূহ)
مِّنَ الۡہُدٰی (মিনাল হুদা → হেদায়েত/পথনির্দেশ থেকে)
وَالۡفُرۡقَانِ (ওয়াল ফুরকান → সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
شَہِدَ (শাহিদা → সাক্ষ্যি হয়)
مِنۡکُمُ (মিনকুমু → তোমাদের মধ্যে)
الشَّہۡرَ (আশ-শাহরা → মাসটির)
فَلۡیَصُمۡہُ (ফালইয়াসুমহু → সে বিরত থাকুক)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
کَانَ (কানা → হয়)
مَرِیۡضًا (মারীদান → অসুস্থ)
اَوۡ (আও → অথবা)
عَلٰی سَفَرٍ (‘আলা সাফারিন → ভ্রমণে)
فَعِدَّۃٌ (ফা‘ইদ্দাতুন → তবে সংখ্যা)
مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ (মিন আইয়ামিন উখারা → অন্য দিনগুলোতে)
یُرِیۡدُ اللّٰہُ (ইউরীদুল্লাহু → আল্লাহ চান)
بِکُمُ الۡیُسۡرَ (বিকুমুল ইউসরা → তোমাদের জন্য সহজতা)
وَلَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ (ওয়ালা ইউরীদু বিকুমুল উসরা → কষ্ট চান না)
وَلِتُکۡمِلُوا (ওয়া লিতুকমিলূ → যাতে তোমরা পূর্ণ করো)
الۡعِدَّۃَ (আল ‘ইদ্দাহ → সংখ্যা)
وَلِتُکَبِّرُوا اللّٰہَ (ওয়া লিতুকাব্বিরুল্লাহা → আল্লাহকে মহিমান্বিত করো)
عَلٰی مَا ہَدٰىکُمۡ (আলা মা হাদা-কুম → যে পথে তিনি তোমাদের হেদায়েত দিয়েছেন)
وَلَعَلَّکُمۡ (ওয়া লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشۡکُرُوۡنَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞ হও)
বাংলা অর্থ:
তীব্র উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময়/মাস, যে মাসে (আইয়ামে জাহিলিয়াতের সময়) কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন সিয়াম রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে থাকে, সে অন্য দিনে সিয়াম পূর্ণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কষ্ট চান না, যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো ও কৃতজ্ঞ হও।
আয়াত – ১৮৬:
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
سَاَلَکَ (সা’আলাকা → তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
عِبَادِیۡ (‘ইবাদী → আমার বান্দারা)
عَنِّیۡ (‘আন্নী → আমার সম্পর্কে)
فَاِنِّیۡ (ফাইন্নী → তবে নিশ্চয়ই আমি)
قَرِیۡبٌ (কারীবুন → নিকটবর্তী)
اُجِیۡبُ (উজীবু → সাড়া দেই)
دَعۡوَۃَ (দা‘ওয়াতা → আহ্বান)
الدَّاعِ (আদ্-দা‘ই → আহ্বানকারী)
اِذَا (ইযা → যখন)
دَعَانِ (দা‘আনি → সে আমাকে ডাকে)
فَلۡیَسۡتَجِیۡبُوۡا (ফালইয়াস্তাজীবূ → তাই তাদের উচিত সাড়া দেওয়া)
لِیۡ (লী → আমার প্রতি)
وَلۡیُؤۡمِنُوۡا (ওয়াল ইউ’মিনূ → এবং তারা যেন ঈমান আনে)
بِیۡ (বী → আমার প্রতি)
لَعَلَّہُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
یَرۡشُدُوۡنَ (ইয়ারশুদূন → সঠিক পথ পায়)
বাংলা অর্থ:
আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও—আমি তো নিকটেই আছি। আমি আহ্বানে সারা দেই যখন কেউ আমাকে ডাকে। তাই তাদের উচিত আমার ডাকে সাড়া দেওয়া এবং আমার উপর ঈমান আনা, যাতে তারা সঠিক পথ পেতে পারে।
আয়াত – ১৮৭:
اُحِلَّ (উহিল্লা → হালাল করা হয়েছে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
لَیۡلَۃَ الصِّیَامِ (লায়লাতাস সিয়াম → বিরত থাকার রাত/রোজার রাত)
الرَّفَثُ (আর-রাফাছ → দাম্পত্য সম্পর্ক)
اِلٰی نِسَآئِکُمۡ (ইলা নিসাইকুম → তোমাদের স্ত্রীর সাথে)
هُنَّ (হুন্না → তারা)
لِبَاسٌ لَّکُمۡ (লিবাসুল্লাকুম → তোমাদের জন্য পোশাক/আবরন)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → আর তোমরা)
لِبَاسٌ لَّہُنَّ (লিবাসুল্লাহুন্না → তাদের জন্য পোশাক/আবরন)
عَلِمَ اللّٰہُ (‘আলিমাল্লাহু → আল্লাহ জানেন)
اَنَّکُمۡ (আন্নাকুম → যে তোমরা)
کُنۡتُمۡ تَخۡتَانُوۡنَ (কুনতুম তাখতানূন → নিজেদের প্রতি খিয়ানত করছিলে)
اَنۡفُسَکُمۡ (আনফুসাকুম → নিজেদের সাথে)
فَتَابَ عَلَیۡکُمۡ (ফাতাবা ‘আলাইকুম → তাই তিনি তোমাদের তওবা কবুল করেছেন)
وَعَفَا عَنۡکُمۡ (ওয়া ‘আফা ‘আনকুম → এবং ক্ষমা করেছেন)
فَالۡـٰٔنَ (ফালআন → এখন)
بَاشِرُوۡہُنَّ (বা-শিরূহুন্না → তাদের সাথে মিলিত হও)
وَابۡتَغُوۡا (ওয়াবতাগূ → এবং অনুসন্ধান করো)
مَا کَتَبَ اللّٰہُ لَکُمۡ (মা কাতাবাল্লাহু লাকুম → যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন)
وَکُلُوۡا (ওয়া কুলূ → খাও)
وَاشۡرَبُوۡا (ওয়া শারাবূ → পান করো)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ পর্যন্ত)
یَتَبَیَّنَ لَکُمُ (ইয়াতাবাইয়ানা লাকুম → স্পষ্ট হয় তোমাদের কাছে)
الۡخَیۡطُ الۡاَبۡیَضُ (আল খাইতুল আবইয়াদ → উজ্জল রেখা/সাদা রেখা)
مِنَ الۡخَیۡطِ الۡاَسۡوَدِ (মিনাল খাইতিল আসওয়াদ → কালো রেখা/ থেকে)
مِنَ الۡفَجۡرِ (মিনাল ফাজর → ফজরের সময়)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اَتِمُّوا (আতিম্মূ → পূর্ণ করো)
الصِّیَامَ (আস-সিয়াম → বিরত থাকা/রোজা)
اِلَی الَّیۡلِ (ইলাল লাইল → রাত পর্যন্ত)
وَلَا تُبَاشِرُوۡہُنَّ (ওয়ালা তুবা-শিরূহুন্না → আর মিলিত হয়ো না তাদের সাথে)
وَاَنۡتُمۡ عٰکِفُوۡنَ (ওয়া আনতুম ‘আকিফূন → যখন তোমরা ই‘তিকাফে থাকো/একনিষ্ঠভাবে অবস্থান নেয়া)
فِی الۡمَسٰجِدِ (ফিল মাসাজিদ → মসজিদে/প্রার্থনার স্থান)
تِلۡکَ (তিলকা → এগুলো)
حُدُوۡدُ اللّٰہِ (হুদূদুল্লাহ → আল্লাহর সীমা)
فَلَا تَقۡرَبُوۡہَا (ফালা তাকরাবূহা → এগুলোর কাছে যেয়ো না)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
یُبَیِّنُ اللّٰہُ (ইউবাইয়িনুল্লাহু → আল্লাহ বর্ণনা করেন)
اٰیٰتِہٖ (আয়াতিহী → তাঁর আয়াতসমূহ)
لِلنَّاسِ (লিন্নাস → মানুষের জন্য)
لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ (লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন → যাতে তারা তাকওয়া অর্জন করে)
বাংলা অর্থ:
বিরত থাকার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানেন তোমরা নিজেদের প্রতি খিয়ানত করছিলে, তাই তিনি তোমাদের ক্ষমা চাওয়া কবুল করেছেন ও ক্ষমা করেছেন। এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন তা অনুসন্ধান করো। আর খাও ও পান করো, যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। তারপর রাত পর্যন্ত বিরত থাকা পূর্ণ করো। আর প্রার্থনার স্থানে ইতকাফে থাকা/একনিষ্ঠভাবে অবস্থান নেয়া অবস্থায় তাদের সাথে মিলিত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য বর্ণনা করেন, যাতে তারা খোদাভীরুতা (তাকওয়া) অর্জন করতে পারে।
আয়াত – ১৮৮:
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَاۡکُلُوۡۤا (তা’কুলূ → তোমরা গ্রাস করোনা)
اَمۡوَالَکُمۡ (আমওয়ালাকুম → তোমাদের সম্পদ)
بَیۡنَکُمۡ (বাইনাকুম → নিজেদের মধ্যে)
بِالۡبَاطِلِ (বিল বাতিল → অন্যায়ভাবে)
وَتُدۡلُوۡا (ওয়া তুদলূ → এবং পেশ করো/দেও)
بِہَاۤ (বিহা → তা দ্বারা)
اِلَی الۡحُکَّامِ (ইলাল হুক্কাম → বিচারকদের/শাসকদের কাছে)
لِتَاۡکُلُوۡا (লিতা’কুলূ → যাতে তোমরা গ্রাস করতে পারো)
فَرِیۡقًا (ফারীকান → একটি অংশ)
مِّنۡ اَمۡوَالِ النَّاسِ (মিন আমওয়ালিন্নাস → মানুষের সম্পদের)
بِالۡاِثۡمِ (বিল ইছম → পাপের মাধ্যমে)
وَاَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ (ওয়া আনতুম তা‘লামূন → অথচ তোমরা জানো)
বাংলা অর্থ:
তোমরা নিজেদের মধ্যে অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করো না এবং তা অন্যায়ভাবে বিচারকদের কাছে পেশ করো না, যাতে তোমরা জেনে শুনে মানুষের সম্পদের একটি অংশ পাপের মাধ্যমে ভোগ করতে পারো।
আয়াত – ১৮৯:
یَسۡـَٔلُوۡنَکَ (ইয়াসআলূনাকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে)
عَنِ الۡاَہِلَّۃِ (‘আনিল আহিল্লাহ → নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে)
قُلۡ (কুল → বল)
ہِیَ (হিয়া → এগুলো)
مَوَاقِیۡتُ (মাওয়াকীতু → সময় নির্ধারণের উপায়)
لِلنَّاسِ (লিন্নাস → মানুষের জন্য)
وَالۡحَجِّ (ওয়াল হাজ্জ → এবং বাহাসের জন্য)
وَلَیۡسَ (ওয়া লাইসা → আর নয়)
الۡبِرُّ (আল বিররু → নেকি)
بِاَنۡ (বি-আন → যে)
تَاۡتُوا (তা’তূ → তোমরা প্রবেশ করো)
الۡبُیُوۡتَ (আল বুয়ূত → ঘরসমূহে)
مِنۡ ظُہُوۡرِہَا (মিন জুহূরিহা → তাদের পেছন দিক দিয়ে (অর্থাৎ গোপনে বা চুরি/লুকিয়ে)
وَلٰکِنَّ (ওয়া লাকিন্না → বরং)
الۡبِرَّ (আল বিরর → নেকি)
مَنِ اتَّقٰی (মানিত্তাকা → যে খোদাভীরুতা অবলম্বন করে)
وَاۡتُوا (ওয়া’তূ → এবং প্রবেশ করো)
الۡبُیُوۡتَ (আল বুয়ূত → ঘরগুলোতে)
مِنۡ اَبۡوَابِہَا (মিন আবওয়াবিহা → তাদের দরজা দিয়ে অর্থাৎ প্রকাশ্যে সামনে দিয়ে)
وَاتَّقُوا اللّٰہَ (ওয়াত্তাকুল্লাহ → আল্লাহকে ভয় করো)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُوۡنَ (তুফলিহূন → সফল হও)
বাংলা অর্থ:
তারা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল—এগুলো মানুষের জন্য এবং বাহাসের সময় নির্ধারণের মাধ্যম। আর নেকি এ নয় যে তোমরা ঘরে পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করো; বরং নেকি হলো তাকওয়া অবলম্বন করা। তোমরা ঘরে প্রবেশ করো তাদের দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।
আয়াত – ১৯০:
وَقَاتِلُوۡا (ওয়া কাতিলূ → যুদ্ধ করো)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُقَاتِلُوۡنَکُمۡ (ইউকাতিলূনাকুম → তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে)
وَلَا تَعۡتَدُوۡا (ওয়া লা তা‘তাদূ → আর সীমালঙ্ঘন করো না)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয়ই আল্লাহ)
لَا یُحِبُّ (লা ইউহিব্বু → ভালোবাসেন না)
الۡمُعۡتَدِیۡنَ (আল মু‘তাদীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের)
বাংলা অর্থ:
আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।
আয়াত – ১৯১:
وَاقۡتُلُوۡہُمۡ (ওয়া কুতুলূহুম → তাদের হত্যা করো)
حَیۡثُ (হাইছু → যেখানে)
ثَقِفۡتُمُوۡہُمۡ (সাকিফতুমূহুম → তোমরা তাদের পাও)
وَاَخۡرِجُوۡہُمۡ (ওয়া আখরিজূহুম → তাদের বের করে দাও)
مِّنۡ حَیۡثُ (মিন হাইছু → সেখান থেকে)
اَخۡرَجُوۡکُمۡ (আখরাজূকুম → তারা তোমাদের বের করেছিল)
وَالۡفِتۡنَۃُ (ওয়াল ফিতনা → নির্যাতন)
اَشَدُّ (আশাদ্দু → বেশি কঠিন)
مِنَ الۡقَتۡلِ (মিনাল কাতল → হত্যার চেয়েও)
وَلَا تُقٰتِلُوۡہُمۡ (ওয়া লা তুকাতিলূহুম → তাদের সাথে যুদ্ধ করো না)
عِنۡدَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ (ইনদাল মাসজিদিল হারাম → পবিত্র মসজিদের কাছে)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یُقٰتِلُوۡکُمۡ (ইউকাতিলূকুম → তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে)
فِیۡہِ (ফীহি → সেখানে)
فَاِنۡ (ফাইন → যদি)
قٰتَلُوۡکُمۡ (কাতালূকুম → তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে)
فَاقۡتُلُوۡہُمۡ (ফাকতুলূহুম → তবে তাদের হত্যা করো)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
جَزَآءُ (জাযা → প্রতিদান)
الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কাফিরীন → অবিশ্বাসীদের)
বাংলা অর্থ:
তাদেরকে হত্যা করো যেখানে তাদের পাও, এবং তাদেরকে বের করে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদের বের করেছিল। ফিতনা (নির্যাতন) হত্যা থেকেও ভয়াবহ। আর মাসজিদে/পবিত্র প্রার্থনার স্থানের কাছে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যদি তারা যুদ্ধ করে, তবে তাদের হত্যা করো—এটাই কাফিরদের/অবিশ্বাসীদের প্রতিদান।
আয়াত – ১৯২:
فَاِنِ (ফাইন → যদি)
انۡتَہَوۡا (ইন্তাহাও → তারা বিরত হয়)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → তবে নিশ্চয় আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
যদি তারা বিরত হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
আয়াত – ১৯৩:
وَقٰتِلُوۡہُمۡ (ওয়া কাতিলূহুম → তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
لَا تَکُوۡنَ (লা তাকূনা → না থাকে)
فِتۡنَۃٌ (ফিতনা → ফিতনা/নির্যাতন)
وَّیَکُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূনা → এবং হয়ে যায়)
الدِّیۡنُ (আদ-দীন → জীবণব্যবস্থা/ধর্ম)
لِلّٰہِ (লিল্লাহ → আল্লাহর জন্য)
فَاِنِ (ফাইন → যদি)
انۡتَہَوۡا (ইন্তাহাও → তারা বিরত হয়)
فَلَا عُدۡوَانَ (ফালা ‘উদওয়ান → তবে কোনো সীমালঙ্ঘন নেই)
اِلَّا (ইল্লা → শুধু)
عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ (আলায-যালিমীন → অত্যাচারীদের ওপর)
বাংলা অর্থ:
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা শেষ হয় এবং দ্বীন/জীবণব্যবস্থা কেবল আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যদি তারা বিরত হয়, তবে অত্যাচারীদের ছাড়া আর কারও ওপর কোনো সীমালঙ্ঘন নয়।
আয়াত – ১৯৪:
اَلشَّهۡرُ الۡحَرَامُ (আশ-শাহরুল হারাম → নিষিদ্ধ মাস)
بِالشَّهۡرِ الۡحَرَامِ (বিশ-শাহরিল হারাম → নিষিদ্ধ মাসের বদলে)
وَالۡحُرُمٰتُ (ওয়াল হুরুমাতু → নিষিদ্ধ বিষয়গুলো)
قِصَاصٌ (কিসাসুন → সমান প্রতিশোধ)
فَمَنِ (ফামানি → অতএব যে)
اعۡتَدٰی (ই‘তাদা → সীমালঙ্ঘন করে)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
فَاعۡتَدُوۡا (ফা‘তাদূ → তোমরাও প্রতিশোধ নাও)
عَلَیۡہِ (আলাইহি → তার উপর)
بِمِثۡلِ (বিমিসলি → সমানভাবে)
مَا اعۡتَدٰی (মা ই‘তাদা → সে যা সীমালঙ্ঘন করেছে)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
وَاتَّقُوا اللّٰہَ (ওয়াত্তাকুল্লাহ → আল্লাহকে ভয় করো)
وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰہَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
مَعَ الۡمُتَّقِیۡنَ (মা‘আল মুত্তাকীন → মুত্তাকীদের/খোদাভীরুদের সাথে)
বাংলা অর্থ:
নিষিদ্ধ মাসের বদলে নিষিদ্ধ মাস, এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সমান প্রতিশোধ রয়েছে। অতএব যে তোমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করে, তোমরাও তার উপর একইভাবে সীমালঙ্ঘন করো যেভাবে সে করেছে। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো—আল্লাহ মুত্তাকীদের/খোদাভীরুদের সাথে আছেন।
আয়াত – ১৯৫:
وَاَنۡفِقُوۡا (ওয়া আনফিকূ → ব্যয় করো)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)
وَلَا تُلۡقُوۡا (ওয়া লা তুলকূ → আর নিক্ষেপ করো না)
بِاَیۡدِیۡکُمۡ (বি-আইদীকুম → নিজেদের হাতে)
اِلَی التَّہۡلُکَۃِ (ইলাত-তাহলুকাহ → ধ্বংসের দিকে)
وَاَحۡسِنُوۡا (ওয়া আহসিনূ → ভালো কাজ করো)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল মুহসিনীন → সৎকর্মশীলদের)
বাংলা অর্থ:
আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিক্ষেপ করোনা নিজেকে ধ্বংসের দিকে। আর ভালো কাজ করো—নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
আয়াত – ১৯৬:
وَاَتِمُّوا (ওয়া আতিম্মূ → পূর্ণ করো)
الۡحَجَّ (আল হাজ্জ → নির্দিষ্ট স্থানে বাহাস/ডিবেট/আলোচনা)
وَالۡعُمۡرَۃَ (ওয়া আল ‘উমরাহ → ধর্মীয় আলোচনার কার্য সম্পাদন/ সঠিক ম্যানেজমেন্ট/পরিচালনা)
لِلّٰہِ (লিল্লাহ → আল্লাহর জন্য)
فَاِنۡ اُحۡصِرۡتُمۡ (ফাইন উহসিরতুম → যদি তোমরা বাধাগ্রস্ত হও)
فَمَا اسۡتَیۡسَرَ (ফামা ইস্তাইসারা → যা সহজলভ্য)
مِنَ الۡہَدۡیِ (মিনাল হাদ্য → উপহার সঠিক স্থানে পরিচালিত)
وَلَا تَحۡلِقُوۡا (ওয়া লা তাহলিকূ → আর মাথা মুণ্ডন করো না/মাথা থেকে ঝেরে ফেলনা)
رُءُوۡسَکُمۡ (রুউসাকুম → তোমাদের মাথা)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَبۡلُغَ الۡہَدۡیُ (ইয়াবলুগাল হাদ্যু → উপহার সঠিক স্থানে পৌছানো)
مَحِلَّہٗ (মাহিল্লাহু → তার নির্ধারিত স্থানে)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
کَانَ مِنۡکُمۡ مَّرِیۡضًا (মারীদান → অসুস্থ)
اَوۡ بِہٖۤ اَذًی (আও বিহী আযা → অথবা মাথায় কষ্ট/সমস্যা)
مِّنۡ رَّاۡسِہٖ (মিন রা’সিহী → মাথা থেকে)
فَفِدۡیَۃٌ (ফাফিদইয়া → তাহলে মুক্তিপণ/বিনিময়/ক্ষতিপূরণ)
مِّنۡ صِیَامٍ (মিন সিয়াম → বিরতথাকা)
اَوۡ صَدَقَۃٍ (আও সদাকাহ → বা স্বেচ্ছাদান)
اَوۡ نُسُکٍ (আও নুসুক → বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান/রীতিনীতি)
فَاِذَاۤ اَمِنۡتُمۡ (ফাইযা আমিনতুম → যখন নিরাপদ হও)
فَمَنۡ تَمَتَّعَ (ফামান তামাত্তা‘আ → যে উপকৃত হয়)
بِالۡعُمۡرَۃِ (বিল ‘উমরাহ → ধর্মীয় আলোচনার কার্য সম্পাদন দ্বারা)
اِلَی الۡحَجِّ (ইলাল হাজ্জ → বাহাস পর্যন্ত)
فَمَا اسۡتَیۡسَرَ (ফামা ইস্তাইসারা → যা সহজলভ্য)
مِنَ الۡہَدۡیِ (মিনাল হাদ্য → উপহার সঠিক স্থানে পরিচালিত)
فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ (ফামান লাম ইয়াজিদ → যে না পায়)
فَصِیَامُ (ফাসিয়ামু → বিরত থাকা)
ثَلٰثَۃِ اَیَّامٍ (ছালাছাতি আইয়াম → তিন দিন)
فِی الۡحَجِّ (ফিল হাজ্জ → বাহাসের সময়)
وَسَبۡعَۃٍ (ওয়া সাব‘আ → এবং সাত দিন)
اِذَا رَجَعۡتُمۡ (ইযা রাজা‘তুম → যখন তোমরা ফিরে আসো)
تِلۡکَ عَشَرَۃٌ (তিলকা আশারাহ → এই হলো দশ দিন)
کَامِلَۃٌ (কামিলাহ → পূর্ণ)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটি)
لِمَنۡ لَّمۡ یَکُنۡ (লিমান লাম ইয়াকুন → যার জন্য নয়)
اَہۡلُہٗ حَاضِرِی الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ (আহলুহু হাজিরি মাসজিদিল হারাম → যার পরিবার মসজিদে হারামের কাছে নয়/উক্ত নিষিদ্ধ প্রার্থনার স্থানের কাছে নয়)
وَاتَّقُوا اللّٰہَ (ওয়াত্তাকুল্লাহ → আল্লাহকে ভয় করো)
وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰہَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ (শাদীদুল ‘ইকাব → কঠোর শাস্তিদাতা)
বাংলা অর্থ:
তোমরা আল্লাহ্ র উদ্দেশ্যে হজ্জ (বাহাস) ও উমরা (সঠিকভাবে কার্য পরিচালনা) পূর্ণ কর, কিন্তু তোমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হও তবে সহজলভ্য উপহার সঠিক স্থানে পরিচালিত কর। যে পর্যন্ত উপহার সঠিক স্থানে না পৌঁছে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা মাথা থেকে চিন্তা সরাবেনা/ঝেরে ফেলবেনা/মস্তক মুন্ডন করবে না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় সমস্যা থাকে তবে সে সিয়াম/বিরত থাকবে কিংবা স্বেচ্ছাদান বা ধর্মীয় রীতিনীতির মাধ্যমে এর উপহার সঠিক স্থানে পরিচালিত করবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বাহাসের শুরুতে সঠিকভাবে কার্য পরিচালনা দ্বারা লাভবান হতে চায় সে উপহার সঠিক স্থানে পরিচালিত করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায় তবে তাকে বাহাসের সময় তিনদিন এবং বাড়ী ফেরার পর সাতদিন-এই পূর্ণ দশদিন সিয়াম পালন করতে হবে। এটা তাদের জন্যে, যাদের পরিবারবর্গ (মসজিদুল হারামের) নিষিদ্ধ প্রার্থনার স্থানের বাসিন্দা নয়। আল্লাহ্কে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ শাস্তি দানে কঠোর।
আয়াত – ১৯৭:
اَلۡحَجُّ (আল হাজ্জু → হজ্জ/বাহাসের)
اَشۡہُرٌ (আশহুরুন → কয়েকটি মাস)
مَّعۡلُوۡمٰتٌ (মা‘লূমাতুন → নির্দিষ্ট পরিচিত)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
فَرَضَ (ফারাদা → নির্ধারণ করে নেয়)
فِیۡہِنَّ (ফীহিন্না → এই মাসগুলোর মধ্যে)
الۡحَجَّ (আল হাজ্জ → বাহাস)
فَلَا رَفَثَ (ফালা রাফাছা → কোনো অশ্লীলতা নেই)
وَلَا فُسُوۡقَ (ওয়া লা ফুসূকা → কোনো পাপাচার নেই)
وَلَا جِدَالَ (ওয়া লা জিদালা → কোনো ঝগড়া নেই)
فِی الۡحَجِّ (ফিল হাজ্জ → হজে)
وَمَا تَفۡعَلُوۡا (ওয়া মা তাফ‘আলূ → আর যা কিছু তোমরা করো)
مِنۡ خَیۡرٍ (মিন খাইরিন → কোনো ভালো কাজ)
یَّعۡلَمۡہُ اللّٰہُ (ইয়া‘লামহুল্লাহ → আল্লাহ তা জানেন)
وَتَزَوَّدُوۡا (ওয়া তাজাওওয়াদূ → তোমরা প্রস্তুতি নাও)
فَاِنَّ خَیۡرَ الزَّادِ (ফাইন্না খাইরায-যাদ → সর্বোত্তম পাথেয়)
التَّقۡوٰی (আত-তাকওয়া → খোদাভীরুতা)
وَاتَّقُوۡنِ (ওয়াত্তাকূনী → আমাকে ভয় করো)
یٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ (ইয়া উলিল আলবাব → হে বুদ্ধিমানগণ)
বাংলা অর্থ:
হজ্জ/বাহাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিচিত মাসে সম্পন্ন হয়। যে ব্যক্তি এসব মাসে বাহাস ফরজ (বাধ্যতামূলক) করে, তার জন্য বাহাসে অশ্লীলতা (স্ত্রী মেলামেশা), পাপাচার ও ঝগড়া নিষিদ্ধ। তোমরা যে কোনো উত্তম কাজ করো, আল্লাহ তা জানেন। আর তোমরা পাথেয় প্রস্তুত করো—সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া/খোদাভীরুতা। হে বুদ্ধিমানরা, আমাকে ভয় করো।
আয়াত – ১৯৮:
لَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ (লাইসা ‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই)
جُنَاحٌ (জুনাহুন → পাপ/অপরাধ)
اَنۡ تَبۡتَغُوۡا (আন তাবতাগূ → যে তোমরা অন্বেষণ করো)
فَضۡلًا (ফাদলান → অনুগ্রহ/রিজিক)
مِّنۡ رَّبِّکُمۡ (মিন রাব্বিকুম → তোমাদের রবের পক্ষ থেকে)
فَاِذَاۤ اَفَضۡتُمۡ (ফাইযা আফাদতুম → যখন তোমরা ফিরে আসো)
مِّنۡ عَرَفٰتٍ (মিন ‘আরাফাত → পরিচিত হওয়ার স্থান)
فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ (ফাযকুরুল্লাহ → আল্লাহকে স্মরণ করো)
عِنۡدَ الۡمَشۡعَرِ الۡحَرَامِ (ইনদাল মাশ‘আরিল হারাম → নিষিদ্ধ চিহ্নিত স্থানের কাছে)
وَاذۡکُرُوۡہُ (ওয়াযকুরুহু → এবং তাঁকে স্মরণ করো)
کَمَا ہَدٰىکُمۡ (কামা হাদা-কুম → যেমন তিনি তোমাদের সঠিক পথ দিয়েছেন)
وَاِنۡ کُنۡتُمۡ (ওয়া ইন কুনতুম → আর যদি তোমরা হও)
مِّنۡ قَبۡلِہٖ (মিন কাবলিহী → এর আগে)
لَمِنَ الضَّآلِّیۡنَ (লামিনাদ্দাল্লীন → পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত)
বাংলা অর্থ:
তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই যদি তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ অন্বেষণ করো। যখন তোমরা পরিচিত স্থান (আরাফাত) থেকে ফিরে আসো, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো নিষিদ্ধ চিহ্নিত স্থানের (মাশআরিল হারাম) কাছে এবং তাঁকে স্মরণ করো যেমন তিনি তোমাদের সঠিক পথ দিয়েছেন। আর এর আগে তোমরা ছিলে পথভ্রষ্টদের মধ্যে।
আয়াত – ১৯৯:
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اَفِیۡضُوۡا (আফীদূ → তোমরা ফিরে আসো/প্রস্থান করো)
مِنۡ حَیۡثُ (মিন হাইছু → যেখান থেকে)
اَفَاضَ النَّاسُ (আফাদান্নাসু → মানুষ ফিরে এসেছে)
وَاسۡتَغۡفِرُوا اللّٰہَ (ওয়াস্তাগফিরুল্লাহ → আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
তারপর তোমরা সেখান থেকে ফিরে আসো যেখান থেকে মানুষ ফিরে আসে, এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত – ২০০:
فَاِذَا قَضَیۡتُمۡ (ফাইযা কাদাইতুম → যখন তোমরা শেষ করো)
مَّنَاسِکَکُمۡ (মানাসিকাকুম → তোমাদের ধর্মীয় কার্য)
فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ (ফাযকুরুল্লাহ → আল্লাহকে স্মরণ করো)
کَذِکۡرِکُمۡ (কাযিকরিকুম → যেমন তোমরা স্মরণ করো)
اٰبَآءَکُمۡ (আবাআকুম → তোমাদের পিতৃগণ/পূর্বপুরুষদের)
اَوۡ اَشَدَّ ذِکۡرًا (আও আশাদ্দা যিকরান → বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ)
فَمِنَ النَّاسِ (ফামিনান্নাস → মানুষের মধ্যে কেউ কেউ)
مَنۡ یَّقُوۡلُ (মাইঁ ইয়াকূলু → বলে)
رَبَّنَاۤ (রাব্বানা → হে আমাদের পালনকর্তা)
اٰتِنَا (আতিনা → আমাদের দাও)
فِی الدُّنۡیَا (ফিদ্দুনিয়া → দুনিয়াতে)
وَمَا لَہٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ (ওয়া মা লাহু ফিল আখিরাহ → কিন্তু আখিরাতে তার জন্য কিছু নেই)
مِنۡ خَلَاقٍ (মিন খালাক → কোনো অংশ)
বাংলা অর্থ:
যখন তোমরা তোমাদের ধর্মীয় কার্য শেষ করো, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃগণকে স্মরণ করো, বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করো। মানুষের মধ্যে কিছু লোক বলে—“হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের দুনিয়াতে দাও”—কিন্তু আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই।
