সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
আয়াত- ১০১:
وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → এবং যখন)
جَاءَهُمْ (জা’আহুম → তাদের কাছে এলো)
رَسُولٌ (রাছূলুন → একজন রসূল)
مِّنْ (মিন → থেকে)
عِندِ (ইন্দি → নিকট)
اللَّهِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা)
مُصَدِّقٌ (মুসাদ্দিকুন → সত্যায়নকারী)
لِّمَا (লিমা → যা)
مَعَهُمْ (মা‘আহুম → তাদের সাথে ছিল)
نَبَذَ (নাবাযা → নিক্ষেপ করলো/পিছনে ফেলে দিল)
فَرِيقٌ (ফারীকুন → একটি দল)
مِّنَ (মিনা → মধ্য থেকে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اُوتُوا (ঊতু → প্রদান করা হয়েছিল)
الْكِتَابَ (আল-কিতাবা → বিধানগ্রন্থ)
كِتَابَ (কিতাবা → গ্রন্থ)
اللَّهِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তার)
وَرَاءَ (ওয়ারাআ → পেছনে)
ظُهُورِهِمْ (জুহূরিহিম → তাদের পৃষ্ঠের পিছনে)
كَانَّهُمْ (কা’আন্নাহুম → যেন তারা)
لَا (লা → না)
يَعْلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → জানে)
পূর্ণ আয়াতের অর্থ :
আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে একজন রসূল এলো—যিনি তাদের সাথে থাকা বিধানকে সত্যায়নকারী—তখন তাদের মধ্যকার একদল, যাদেরকে বিধানগ্রন্থ প্রদান করা হয়েছিল, তারা আল্লাহর গ্রন্থকে নিজেদের পৃষ্ঠের পিছনে নিক্ষেপ করলো; যেন তারা জানেই না।
আয়াত- ১০২:
وَاتَّبَعُوا (ওয়াত্তাবা‘উ → এবং তারা অনুসরণ করলো)
مَا (মা → যা)
تَتۡلُوا (তাতলূ → পাঠ করতো)
الشَّيَاطِينُ (আশ-শায়াতীনু → কুমন্ত্রণাদাতারা)
عَلَى (আলা → উপর)
مُلۡکِ (মুলকি → রাজত্ব)
سُلَیۡمٰنَ (ছুলাইমানা → সুলাইমানের)
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
كَفَرَ (কাফারা → অবিশ্বাস করেছিল)
سُلَیۡمٰنُ (ছুলাইমানু → সুলাইমান)
وَلَكِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
الشَّيَاطِينَ (আশ-শায়াতীনা → কুমন্ত্রণাদাতারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করলো)
يُعَلِّمُونَ (ইউ‘আল্লিমূন → শিক্ষা দিত)
النَّاسَ (আন-নাসা → মানুষকে)
السِّحْرَ (আছ-ছিহরা → বিভ্রম/যাদু)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
اُنْزِلَ (উনযিলা → নাযিল করা হয়েছিল)
عَلَى (আলা → উপর)
الْمَلَكَيْنِ (আল-মালাকাইনি → দুই ফেরেস্তা)
بِبَابِلَ (বিবাবিলা → বাবিলে)
هَارُوتَ (হারূতা → হারূত)
وَمَارُوتَ (ওয়া মারূতা → ও মারূত)
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
يُعَلِّمَانِ (ইউ‘আল্লিমানী → তারা শিক্ষা দিত)
مِنْ (মিন → মধ্য থেকে)
اَحَدٍ (আহাদিন → কাউকে)
حَتَّى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَقُولَا (ইয়াকুলা → তারা বলতো)
اِنَّمَا (ইন্নামা → শুধুমাত্র)
نَحْنُ (নাহনু → আমরা)
فِتْنَةٌ (ফিতনাতুন → পরীক্ষা)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَكْفُرْ (তাকফুর → অবিশ্বাস করো)
فَيَتَعَلَّمُونَ (ফা-ইয়াতাআল্লামূন → অতঃপর তারা শিখে)
مِنْهُمَا (মিনহুমা → ঐ দু’জনের কাছ থেকে)
مَا (মা → যা)
يُفَرِّقُونَ (ইউফাররিকূন → বিচ্ছেদ ঘটায়)
بِهِ (বিহি → তার দ্বারা)
بَيْنَ (বাইনা → মধ্যে)
الْمَرْءِ (আল-মারই → স্বামী/ব্যক্তি)
وَزَوْجِهِ (ওয়াঝাওজিহী → এবং তার স্ত্রীর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
هُمْ (হুম → তারা)
بِضَارِّينَ (বিদাররীনা → ক্ষতিসাধনকারী)
بِهِ (বিহি → তার দ্বারা)
مِنْ (মিন → কারো)
اَحَدٍ (আহাদিন → একজনেরও)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
بِاِذْنِ (বিইযনি → অনুমতি ছাড়া নয়)
اللَّهِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
وَيَتَعَلَّمُونَ (ওয়া ইয়াতা‘আল্লামূনা→ এবং তারা শিখে)
مَا (মা → যা)
يَضُرُّهُمْ (ইয়াদুররুহুম → তাদের ক্ষতি করে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يَنْفَعُهُمْ (ইয়ানফাঊহুম → তাদের উপকার করে)
وَلَقَدْ (ওয়া লাকাদ → আর অবশ্যই)
عَلِمُوا (আলিমূ → তারা জেনেছে)
لَمَنِ (লামানি → যে ব্যক্তি)
اشْتَرٰىهُ (ইশতারাহু → তা গ্রহণ করেছে)
مَا (মা → তার জন্য নেই)
لَهُ (লাহু → তার জন্য)
فِي (ফি → মধ্যে)
الْاٰخِرَةِ (আল-আখিরাতি → পরকালে)
مِنْ (মিন → কোনো)
خَلَاقٍ (খালাকিন → অংশ)
وَلَبِئْسَ (ওয়ালাবি’ছা→ এবং কত নিকৃষ্ট)
مَا (মা → যা)
شَرَوْا (শারাও → তারা বিক্রি করেছে)
بِهِ (বিহি → তার বিনিময়ে)
اَنْفُسَهُمْ (আনফুছাহুম → নিজেদেরকে)
لَوْ (লাও → যদি)
كَانُوا (কা-নূ → তারা হতো)
يَعْلَمُونَ (ইয়ালামূন → জানত)
পূর্ণ অর্থ:
আর সুলায়মানের রাজত্বে কুমন্ত্রণাদাতারা (শয়তানরা) যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করত। সুলাইমান অবিশ্বাস করেনি; বরং কুমন্ত্রণাদাতারা (শয়তানরা) অবিশ্বাস করেছিল। তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং বাবিলে দুই ফেরেস্তা হারূত ও মারূতের উপর যা নাযিল হয়েছিল তা তারা কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না তারা বলতো—“আমরা তো পরীক্ষাস্বরূপ, তাই অবিশ্বাস করো না।” অতঃপর তারা ঐ দু’জনের কাছ থেকে এমন বিষয় শিখত যার দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যায়। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এর দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তারা যা শিখত তা তাদের ক্ষতি করত, উপকার করত না। আর তারা অবশ্যই জানত — যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, তার জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই।
আর নিশ্চয়ই কত নিকৃষ্ট বস্তু তারা নিজেদের বিনিময়ে বিক্রি করেছে — যদি তারা জানত!
আয়াত- ১০৩:
وَلَوْ (ওয়ালাও → আর যদি)
اَنَّهُمْ (আন্নাহুম → তারা)
امَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করতো)
وَاتَّقَوْا (ওয়াত্তাকাও → আর তারা ভয় করুক / পরহেজগার হোক)
لَمَثُوبَةٌ (লামাছূবাতুম→ অবশ্যই প্রতিদান)
مِّنْ (মিন → থেকে)
عِندِ (ইন্দি → নিকট)
اللَّهِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা)
خَيْرٌ (খাইরুন → উত্তম)
لَوْ (লাও → যদি)
كَانُوا (কানূ → তারা হতো)
يَعْلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → জানতো)
পূর্ণ অর্থ:
আর যদি তারা বিশ্বাস করতো ও খোদাভীরুতা অর্জন করতো, তবে আল্লাহর নিকট থেকে অবশ্যই উত্তম প্রতিদান হতো—যদি তারা জানতো।
আয়াত- ১০৪:
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া’আইয়ুহা → হে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
امَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছো)
لَا (লা → না)
تَقُولُوا (তাকূলূ → বলো)
رَاعِنَا (রা‘ইনা → আমাদের প্রতি লক্ষ্য/রক্ষা করো। (২৩:৮ এবং ৭০:৩২ আয়াতে রক্ষা করো আছে রুট শব্দ অনুযায়ী)
وَقُولُوا (ওয়া কুলূ → এবং বলো)
انۡظُرۡنَا (উনযুরনা → আমাদের প্রতি অবকাশ/দৃষ্টি দাও। ৬:১৫৮, ৭:১৪: অবকাশ দাও, ২৩:২৬,৩৯-সাহায্য করো)
وَاسْمَعُوا (ওয়াছমা’উ→ এবং শোনো)
وَلِلْكَافِرِينَ (ওয়ালিল কাফিরীনা → অবিশ্বাসীদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِيمٌ (আলীমুন → বেদনাদায়ক)
পূর্ণ অর্থ:
হে বিশ্বাসীরা, আমাদের প্রতি লক্ষ্য করো” বলো না; বরং বলো “আমাদের প্রতি অবকাশ দান করো” এবং শোনো। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
আয়াত- ১০৫:
مَا (মা → যা’না)
يَوَدُّ (ইয়াওয়াদ্দু → পছন্দ করে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
مِنْ (মিন → থেকে)
اَهْلِ (আহলি → অধিবাসী)
الْكِتَابِ (আল-কিতাব → বিধানগ্রন্থের)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
الْمُشْرِكِينَ (আল-মুশরিকীনা → অংশীদার স্থাপনকারীরা)
اَنْ (আন → যে)
يُنَزَّلَ (ইউনাঝঝালা → নাযিল হোক)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
مِّنْ (মিন → থেকে)
خَيْرٍ (খাইরিন → কল্যাণ)
مِّنْ (মিন → থেকে)
رَّبِّكُمْ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → এবং সৃষ্টিকর্তা)
يَخْتَصُّ (ইয়াখতাস্সু → বিশেষ করে)
بِرَحْمَتِهِ (বি রহমাতিহি → তাঁর দয়া/কৃপা)
مَنْ (মান → যে)
يَشَاءُ (ইয়াশাউ → ইচ্ছা করে)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → এবং সৃষ্টিকর্তা)
ذُو (যু → অধিকারী)
الْفَضْلِ (আল-ফজল → বড় দান/উপকার)
الْعَظِيمِ (আল-আজীম → মহান)
পূর্ণ অর্থ:
বিধানগ্রন্থের অধিবাসীদের (আহলে কিতাবীদের) মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে এবং অংশীদার স্থাপনকারীরা (শিরককারীরা) পছন্দ করে না যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের উপর কোনো কল্যাণ নাযিল হোক। অথচ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা নিজ দয়ার জন্যে বিশেষরূপে মনোনীত করেন এবং আল্লাহ্ মহা অনুগ্রহশীল।
আয়াত- ১০৬:
مَا (মা → যা/যে কোনো)
نَنْسَخْ (নানছাখ → আমরা রহিত করি)
مِنْ (মিন → থেকে)
اٰيَةٍ (আয়াতিন → কোনো নিদর্শন)
اَوْ (আও → অথবা)
نُنْسِهَا (নুনছিহা→ আমরা ভুলিয়ে দেই)
نَاْتِ (নাতি → আমরা নিয়ে আসি)
بِخَيْرٍ (বিখাইরিন → উত্তম কিছু)
مِّنْهَا (মিনহা → তার চেয়ে)
اَوْ (আও → অথবা)
مِثْلِهَا (মিছলিহা → তার সমতুল্য)
اَلَمْ (আলাম → তুমি কি না)
تَعْلَمْ (তা‘লাম → জানো)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَلٰى (আলা → উপর/সম্পূর্ণ ক্ষমতায়)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَيْءٍ (শাইয়িন → বস্তুর)
قَدِيرٌ (কাদীর → সর্বক্ষমতাবান)
পূর্ণ অর্থ:
আমি কোনো আয়াত (নিদর্শন) রহিত করলে অথবা ভুলিয়ে দিলে, তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য আয়াত (নিদর্শন) নিয়ে আসি। তুমি কি জানো না যে আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান?
আয়াত- ১০৭:
اَلَمۡ (আলাম → তুমি কি না)
تَعۡلَمۡ (তা‘লাম → জানো)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَہٗ (লাহু → তাঁরই)
مُلۡکُ (মুলকু → রাজত্ব)
السَّمٰوٰتِ (আছ-ছামাওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং জমিনের)
وَمَا (ওয়ামা → এবং নেই)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
دُوۡنِ (দূনি → ছাড়া)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مِنۡ (মিন → কোনো)
وَّلِیٍّ (ওয়ালিইয়া → অভিভাবক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَصِیۡرٍ (নাসীর → সাহায্যকারী)
পূর্ণ অর্থ:
তুমি কি জানো না যে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই? আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী নেই।
আয়াত- ১০৮:
اَمۡ (আম → তুমি কি)
تُرِیۡدُوۡنَ (তুরীদূ → চাও)
اَنۡ (না → যে)
تَسۡـَٔلُوۡا (তাছআলূ → জিজ্ঞেস করো)
رَسُوۡلَکُمۡ (রাছূলাকুম → তোমাদের রাসুলকে)
کَمَا (কামা → যেমন/যেরূপ)
سُئِلَ (ছুইলা → তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল)
مُوۡسٰی (মূছা → মূসা)
مِنۡ (মিন → আগে থেকে)
قَبۡلُ (কাবলু → আগে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যে কেউ)
یَّتَبَدَّلِ (ইয়াতাবাদ্দালি → পরিবর্তন করে)
الۡکُفۡرَ (আল-কুফর → অবিশ্বাস)
بِالۡاِیۡمَانِ (বিলঈমানি → বিশ্বাসের সঙ্গে)
فَقَدۡ (ফাকাদ্দ → তাহলে নিশ্চয়)
ضَلَّ (দাল্লা → ভুল পথে)
سَوَآءَ (ছাওয়াআ → সমান/ভ্রান্ত)
السَّبِیۡلِ (ছাবিইল → পথ/পথপ্রদর্শক)
পূর্ণ অর্থ:
তুমি কি তোমাদের রাসূলকে সেইরূপ প্রশ্ন করতে চাও, যেইরূপ পূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ? আর যে কেউ অবিশ্বাসকে বিশ্বাসের সঙ্গে পরিবর্তন করে, সে নিশ্চয়ই ভুল পথে চলে গেছে।
আয়াত- ১০৯:
وَدَّ (ওয়াদ্দা → কামনা করত)
کَثِیۡرٌ (কাছীরু → অনেক)
مِّنۡ (মিন → মধ্যে থেকে)
اَہۡلِ (আহলি → অধিবাসী/গোষ্ঠী)
الۡکِتٰبِ (কিতাবি → বিধানগ্রন্থের)
لَوۡ (লাও → যদি)
یَرُدُّوۡنَکُمۡ (ইয়ারুদ্দূনাকুম → তারা ফিরে নিয়ে যেত)
مِّنۡۢ (মিম → থেকে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পরবর্তী)
اِیۡمَانِکُمۡ (ঈমা-নিকুম → তোমাদের বিশ্বাসের)
کُفَّارًا (কুফফা-রান → অবিশ্বাসী হিসেবে)
حَسَدًا (হাছাদান → ঈর্ষা স্বরূপ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
عِنۡدِ (ইনদি → নিজেদের)
اَنۡفُسِہِمۡ (আনফুছিহিম → স্বভাব/অন্তর থেকে)
مِّنۡۢ (মিম → থেকে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পর)
مَا (মা → যা)
تَبَیَّنَ (তাবাইইয়ানা → সুস্পষ্ট হয়েছে)
لَہُمُ (লাহুমু → তাদের জন্য)
الۡحَقُّ (হাক্কু → সত্য)
فَاعۡفُوۡ (ফা‘ফূ → তাই ক্ষমা করো)
وَاصۡفَحُوۡ (ওয়া সফাহু → এবং উদার হ’ও)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَاۡتِیَ (ইয়া’তি → আসে)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِاَمۡرِہٖ (বিআমরিহী → তাঁর আদেশের সাথে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَلٰی (আলা → সবকিছুর উপর)
كُلِّ (কুল্লি → প্রতিটি)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়/বস্তুর)
قَدِیۡرٌ (কাদীর → সর্বক্ষমতাবান)
পূর্ণ অর্থ:
বিধানগ্রন্থের (আহলে কিতাবীদের) অনেকেই চেয়েছিল যে তারা তোমাদের বিশ্বাসের পরে আবার অবিশ্বাসীরূপে ফিরিয়ে নিক, তাদের অন্তর থেকে ঈর্ষা ও হিংসার কারণে। তারা যা সুস্পষ্ট সত্য দেখে, তাতেও ঈর্ষা করেছে। তাই ক্ষমা করো এবং উদার হও যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ আনেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বক্ষমতাবান।
আয়াত- ১১০:
وَاَقِیۡمُوا (ওয়া আকীমু → প্রতিষ্ঠা করো)
الصَّلٰوۃَ (সালাতা → সংযোগ/যোগাযোগ)
وَاٰتُوا (ওয়া আতুঝ → দাও/হও)
الزَّکٰوۃَ (ঝাকাতা → পরিশুদ্ধি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
تُقَدِّمُوۡا (তুকাদ্দিমূ → তুমি আগাম প্রদান কর)
لِاَنۡفُسِکُمۡ (লিআনফুছিকুম → নিজেদের জন্য)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
خَیۡرٍ (খাইরিন → কল্যাণ)
تَجِدُوۡهُ (তাজিদূহু → তা তুমি পাবে)
عِنۡدَ (ইন্দা → কাছে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূনা → তোমরা কর)
بَصِیۡرٌ (বাসীর → সর্বদৃষ্টি রাখেন/পর্যবেক্ষক)
পূর্ণ অর্থ:
যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করো এবং পরিশুদ্ধ হও। আর তোমরা যা আগাম নিজেদের জন্য কল্যাণ প্রদান করবে, তা তুমি আল্লাহর কাছে পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপের ওপর পরিপূর্ণ নজর রাখেন।
আয়াত- ১১১:
وَقَالُوۡا (ওয়া কা-লূ → তারা বলল)
لَنۡ (লান → কখনোই না)
یَّدۡخُلَ (ইয়াদখুলা → প্রবেশ করবে)
الۡجَنَّۃَ (আল-জান্নাতা → জান্নাতে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
مَنۡ (মান → যে কেউ)
کَانَ (কা-না → হতো)
ہُوۡدًا (হূদান → সঠিক পথে ফিরে যাওয়া)
اَوۡ (আও → অথবা)
نَصٰرٰی (নাসারা → সাহায্য করা/সমর্থন করা)
تِلۡکَ (তিলকা → এইগুলি)
اَمَانِیُّہُمۡ (আমা নিইয়ুহুম → তাদের খামখেয়ালী আশা)
قُلۡ (কূল → বলো)
ہَاتُوۡ (হা-তূ → হাজির করো)
بُرۡهَـنَکُمۡ (বুরহা-নাকুম → তোমাদের প্রমাণ)
اِنۡ (ইন → যদি)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
صٰدِقِیۡنَ (সা-দিকীন → সত্যবাদী)
পূর্ণ অর্থ:
তারা বলল, “কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যদি সে (ইহুদি) সঠিক পথে ফিরে না আসে বা সাহায্যকারী (নাসারা) হয়।” এসব তাদের মিথ্যা আশা মাত্র। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।’
আয়াত- ১১২:
بَلٰی (বালা → নিশ্চয়ই)
مَنۡ (মান → যে কেউ)
اَسۡلَمَ (আছলামা → আত্মসমর্পণ করেছে)
وَجۡہَہٗ (ওয়াজহাহূ → মুখমন্ডল)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর দিকে)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → এবং সে)
مُحۡسِنٌ (মুহছিনুন → কল্যাণকর/ভালো কাজকারী)
فَلَہٗۤ (ফালাহূ → তার জন্য)
اَجۡرُہٗ (আজরুহু → প্রতিদান/পুরস্কার)
عِنۡدَ (ইনদা → কাছে)
رَبِّہٖ (রাব্বিহী → তার প্রতিপালকের)
وَلَا (ওয়ালা → এবং নেই)
خَوۡفٌ (খাওফুন → ভয়)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
وَلَا (ওয়ালা → এবং নেই)
ہُمۡ (হুম → তারা)
یَحۡزَنُوۡنَ (ইয়াহঝানূন → শোক করবে/দুঃখিত হবে)
পূর্ণ অর্থ:
নিশ্চয়ই, যে কেউ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে তার মুখমন্ডল (চেহারা) এবং কল্যাণকর কাজ করে, তার জন্য প্রতিদান তার প্রতিপালকের কাছে রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা কখনো দুঃখিত হবেনা।
আয়াত- ১১৩:
وَقَالَتِ (ওয়া-কালাতি → বলল)
الۡیَہُوۡدُ (ইয়াহূদূ → সঠিক পথে ফিরে যায় যারা (ইহুদিরা)
لَیۡسَتِ (লাইছাতি → নয়)
النَّصٰرٰی (নাসারা → সাহায্যকারী (নাসারা)
عَلٰی (আলা → উপর)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → কোনো ভিত্তি/বিষয়/বস্তুর)
وَّقَالَتِ (ওয়া-কালাতি → বলল)
النَّصٰرٰی (নাসারা → সাহায্যকারী (নাসারা)
لَیۡسَتِ (লাইছাতি → নয়)
الۡیَہُوۡدُ (ইয়াহূদূ → সঠিক পথে ফিরে যায় যারা (ইহুদিরা)
عَلٰی (আলা → উপর)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → কোনো ভিত্তি/বিষয়/বস্তুর)
وَّہُمۡ (ওয়া হুম → এবং তারা)
یَتۡلُوۡنَ (ইয়াতলূন → পাঠ করে)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → গ্রন্থ/বিধান)
کَذٰلِکَ (কাজালিকা → এভাবেই)
قَالَ (কালা → বলেছেন)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَا (লা → না)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূনা → জানে)
مِثۡلَ (মিছলা → সমান)
قَوۡلِہِمۡ (কাওলিহিম → তাদের বাক্যের)
فَاللّٰہُ (ফা-আল্লাহু → অতএব আল্লাহ)
یَحۡکُمُ (ইয়াহকুমু → বিচার করবেন)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনা-হুম → তাদের মধ্যে)
یَوۡمَ (ইয়াওমা → দিনের (পূর্ণ সময়ের)
الۡقِیٰمَۃِ (কিয়ামাতি → কিয়ামতের)
فِیۡمَا (ফীমা → বিষয়ে)
کَانُوۡا (কা-নূ → তারা ছিল)
فِیۡہِ (ফীহি → তাতে)
یَخۡتَلِفُوۡنَ (ইয়াখতালিফূন → বিরোধ/ভিন্নমত)
পূর্ণ অর্থ:
যারা ফিরে এসেছে (ইহুদিরা) তারা বলল, “সাহায্যকারীরা (নাসারা) কোনো ভিত্তির উপর নেই।”
সাহায্যকারীরা (নাসারা) বলল, “যারা ফিরে এসেছে (ইহুদিরা) কোনো ভিত্তির উপর নেই।” অথচ তারা এই বিধান পাঠ করে। এভাবেই যারা জানে না তাদের জন্য সমান তাদের মতবাদ।
সুতরাং যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত কিয়ামতের সময় আল্লাহ্ তার মীমাংসা করবেন।
আয়াত- ১১৪:
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
اَظۡلَمُ (আজলামু → সবচেয়ে অন্যায্য)
مِمَّنۡ (মিম্মাম → তাদের মধ্যে যারা)
مَّنَعَ (মনা‘আ → প্রতিরোধ করেছে)
مَسٰجِدَ (মাছা-জিদা → মসজিদ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اَنۡ (আন → যাতে)
یُّذۡکَرَ (ইউযকারা → স্মরণ করা হয়)
فِیۡہَا (ফীহা → এতে)
اسۡمُہٗ (ছমুহূ → তাঁর নাম)
وَسَعٰی (ওয়া ছা‘আ → চেষ্টা/চেষ্টাশীল)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
خَرَابِہَا (খারা-বিহা → ধ্বংস/ধ্বংসাবশেষ)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারা)
مَا (মা → নয়)
کَانَ (কা-না → উপযুক্ত)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
اَنۡ (আন → যাতে)
یَّدۡخُلُوۡہَاۤ (উয়াদখুলূহা → তারা প্রবেশ করতে পারে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
خَآئِفِیۡنَ (খাইফীন → ভীত/সংকুচিত)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
فِی (ফি → মধ্যে)
الدُّنۡیَا (দুনইয়া → দুনিয়া)
خِزۡیٌ (খিঝ্যু → লাঞ্ছনা/লজ্জা)
وَّلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
فِی (ফি → পরকালে)
الۡاٰخِرَۃِ (আ-খিরাতি → পরকাল)
عَذَابٌ (আযা-বুন → শাস্তি)
عَظِیۡمٌ (আজীম → ভয়ঙ্কর/মহান)
পূর্ণ অর্থ:
যে কেউ আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা প্রদান করে এবং তাদের ক্ষতি সাধনের চেষ্ঠা করে তার চেয়ে বড় অন্যায়কারী কে হতে পারে ? অথচ ভীত না হয়ে তাদের জন্যে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত ছিল না। পৃথিবীতে তাদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনা ও পরকালে মহাশাস্তি।
আয়াত- ১১৫:
وَلِلّٰہِ (ওয়া লিল্লা-হি → এবং আল্লাহর জন্য)
الۡمَشۡرِقُ (আল-মাশরিকু → পূর্বদিকে)
وَالۡمَغۡرِبُ (ওয়াল মাগরিবু → এবং পশ্চিমদিকে)
فَاَیۡنَمَا (ফা-আইনামা → যেকোনো স্থানে)
تُوَلُّوۡا (তুওয়াল্লূ → তুমি মুখ ফেরাও/ঘুরাও)
فَثَمَّ (ফাছাম্মা → সেখানে)
وَجۡہُ (ওয়াজহু → মুখ/দৃষ্টি)
اللّٰہِ (ল্লা-হি → আল্লাহর)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
وَاسِعٌ (ওয়া-ছি‘উন → প্রশস্ত/সর্বব্যাপী)
عَلِیۡمٌ (‘আলীম → জ্ঞানী/পরিপূর্ণ জ্ঞানশীল)
পূর্ণ অর্থ:
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; এবং যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকই আল্লাহর দিক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
আয়াত- ১১৬:
وَقَالُوا (ওয়া কা-লূ → এবং তারা বলল)
اتَّخَذَ (উত্তাখাযা → নিয়েছেন/গ্রহণ করেছেন)
اللّٰہُ (ল্লা-হু → আল্লাহ)
وَلَدًا (ওয়ালাদান → সন্তান)
سُبۡحٰنَہٗ (ছুবহা-নাহূ → পরিপূর্ণতায় পবিত্র)
بَلۡ (বাল → বরং)
لَّہٗ (লাহূ → তাঁরই)
مَا (মা → যা)
فِی (ফী → মধ্যে)
السَّمٰوٰتِ (আছছামা-ওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং জমিনের)
كُلٌّ (কুল্লুন → সকল)
لَّہٗ (লাহূ → তাঁরই)
قٰنِتُوۡنَ (কা-নিতূন → আনুগত্যকারী/শ্রদ্ধাশীল)
পূর্ণ অর্থ:
এবং তারা বলে, ‘আল্লাহ্ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি অতি পবিত্র। বরং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। সব কিছু তাঁরই একান্ত অনুগত।
আয়াত- ১১৭:
بَدِیۡعُ (বাদী‘উ → অতুলনীয় /সৃজনশীল স্রষ্টা)
السَّمٰوٰتِ (আছছামা-ওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং জমিনের)
وَاِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
قَضٰۤی (কাদাআ → তিনি সম্পন্ন করেন/নির্ধারণ করেন)
اَمۡرًا (আমরান → কোনো কাজ/আদেশ)
فَاِنَّمَا (ফাইন্নামা → নিশ্চয়ই শুধু)
یَقُوۡلُ (ইয়াকূলু → তিনি বলেন)
لَہٗ (লাহূ → তার জন্য/প্রয়োগযোগ্য)
کُن (কুন → হও)
فَیَکُوۡنُ (ফাইয়াকূন → এবং তা হয়ে যায়)
পূর্ণ অর্থ:
তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের সৃজনশীল স্রষ্টা। যখন তিনি কোনো কাজ বা আদেশ সম্পন্ন করেন, তিনি শুধু বলেন, “হও,” এবং তা হয়ে যায়।
আয়াত- ১১৮:
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং বলেছেন)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَا (লা → না)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূনা → জানে)
لَوۡلَا (লাওলা → কেন না)
یُکَلِّمُنَا (ইউকাল্লিমুনা → আমাদের সঙ্গে কথা বলেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اَوۡ (আও → অথবা)
تَاۡتِیۡنَاۤ (তা’তীনা → আসে)
اٰیَۃٌ (আয়াতুন → নিদর্শন/চিহ্ন)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
قَالَ (কা-লা → বলেছেন)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
مِنۡ (মিন → পূর্ববর্তী)
قَبْلِهِمۡ (কাবলিহিম → তাদের)
مِّثۡلَ (মিছলা → সমান/অনুরূপ)
قَوۡلِہِمۡ (কাওলিহিম → তাদের বাক্যের)
تَشَابَہَتْ (তাশা-বাহাত → মিলেছে/সদৃশ হয়েছে)
قُلُوۡبُہُمۡ (কূলূবুহুম → তাদের অন্তর)
قَدۡ (কাদ → নিশ্চয়ই)
بَیَّنَّا (বাইইয়ান্না → আমরা স্পষ্ট করেছি / আমরা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছি)
الۡاٰیٰتِ (আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমি → জনগোষ্ঠীর জন্য)
یُّوۡقِنُوۡنَ (ইঊকিনূন → যারা দৃঢ় বিশ্বাস করে / যারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে)
পূর্ণ অর্থ:
আর যারা কিছু জানে না তারা বলে, ‘আল্লাহ্ আমাদের সঙ্গে কথা বলেন না কেন ? কিংবা কোন নিদর্শন আমাদের নিকট আসে না কেন?’ এইভাবে তাদের পূর্ববর্তীরাও তাদের অনুরূপ কথা বলত। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয়ই যারা দৃঢ় বিশ্বাস করে আমি এমন জনপদের জন্য নিদর্শনাবলী (আয়াতসমূহ) পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছি।
আয়াত- ১১৯:
اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
اَرۡسَلۡنٰکَ (আরছালনাকা → তোমাকে প্রেরণ করেছি)
بِالۡحَقِّ (বিলহাক্কি → সত্যসহ)
بَشِیۡرًا (বাশীরাও → সুসংবাদদাতা)
وَّنَذِیۡرًا (ওয়া নাযীরাও → এবং সতর্ককারী)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং নয়)
تُسۡئَلُ (তুছআলু → জিজ্ঞেস করা হবে)
عَنۡ (‘আন → সম্পর্কে)
اَصۡحٰبِ (আসহাবিল → সঙ্গীদের/অধিবাসীদের)
الۡجَحِیۡمِ (জাহীম → জাহান্নাম)
পূর্ণ অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।
আর তোমাকে জাহান্নামের অধিবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না।
আয়াত- ১২০:
وَلَنۡ (ওয়ালান → কখনোই না)
تَرۡضٰی (তারদা → সন্তুষ্ট হবে)
عَنۡکَ (‘আনকা → তোমার প্রতি)
الۡیَہُوۡدُ (ইয়াহূদু → সঠিক পথে ফিরে যায় যারা (ইহুদিরা)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
النَّصٰرٰی (নাসা-রা → সাহায্যকারীরা (নাসারারা)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
تَتَّبِعَ (তাত্তাবি‘আ → তুমি অনুসরণ করো)
مِلَّتَہُمۡ (মিল্লাতাহুম → তাদের ধর্ম/পথ)
قُلۡ (কূল → বলো)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
هُدَی (হুদা → পথনির্দেশ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
هُوَ (হুওয়া → সেটাই)
الۡهُدٰی (হুদা → সঠিক পথনির্দেশ)
وَلَئِنِ (ওয়ালাইন → আর যদি)
اتَّبَعۡتَ (ত্তাবা‘তা → তুমি অনুসরণ করো)
اَہۡوَآءَہُمۡ (আহওয়াআহুম → তাদের কামনা-বাসনা/তাদের খেয়াল-খুশি / তাদের প্রবৃত্তিসমূহ)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
جَآءَکَ (জাআকা → তোমার কাছে এসেছে)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الۡعِلۡمِ (‘ইলমি → জ্ঞান)
مَا (মা → নেই)
لَکَ (লাকা → তোমার জন্য)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مِنۡ (মিন → কোনো)
وَّلِیٍّ (ওয়ালিইয়া → অভিভাবক/সহায়ক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَصِیۡرٍ (নাসীর → সাহায্যকারী)
পূর্ণ অর্থ:
সঠিক পথে ফিরে যায় যারা (ইহুদিরা) ও সাহায্যকারীরা (নাসারারা) কখনোই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম অনুসরণ করো। বলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর পথনির্দেশই প্রকৃত পথনির্দেশ। আর যদি তোমার কাছে জ্ঞান আসার পরও তুমি তাদের খেয়াল-খুশি অনুসরণ করো, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য কোনো অভিভাবক (ওলি) ও সাহায্যকারী থাকবে না।
আয়াত- ১২১:
اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰتَیۡنٰہُمُ (আ-তাইনা-হুমু → আমরা দিয়েছি তাদেরকে)
الۡکِتٰبَ (কিতা-বা → বিধানগ্রন্থ)
یَتۡلُوۡنَہٗ (ইয়াতলূনাহূ → তারা তিলাওয়াত করে তা)
حَقَّ (হাক্কা → যথাযথভাবে/সঠিকভাবে)
تِلَاوَتِہٖ (তিলা-ওয়াতিহী → তার তিলাওয়াত)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
یُؤۡمِنُوۡنَ (ইউ’মিনূনা → ঈমান আনে)
بِہٖ (বিহী → তার প্রতি)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
یَّکۡفُرۡ (ইয়াকফুর → অস্বীকার করে)
بِہٖ (বিহী → তাকে/এর প্রতি)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তবে তারাই)
هُمُ (হুমুল → তারা)
الۡخٰسِرُوۡنَ (খাছিরূন → ক্ষতিগ্রস্ত)
পূর্ণ অর্থ:
যাদেরকে আমি বিধানগ্রন্থ দিয়েছি, তারা যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করে।
তারাই এর প্রতি ঈমান আনে। আর যে কেউ তা অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আয়াত- ১২২:
یٰبَنِیۡ (ইয়া-বানী → হে সন্তানেরা)
اِسۡرَآءِیۡلَ (ইছরাঈল → ইসরাঈল)
اذۡکُرُوۡا (আযকুরূ → স্মরণ করো)
نِعۡمَتِیَ (নি‘মাতিইয়া → আমার অনুগ্রহ)
الَّتِیۡۤ (আল্লাতী → যা)
اَنۡعَمۡتُ (আন‘আমতু → আমি দান করেছি)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَاَنِّیۡ (ওয়া আন্নী → এবং নিশ্চয়ই আমি)
فَضَّلۡتُکُمۡ (ফাদ্দালতুকুম → মর্যাদা দিয়েছি তোমাদের)
عَلَی (আলা → উপর)
الۡعٰلَمِیۡنَ (‘আ-লামীন → সকল সৃষ্টিজগতের)
পূর্ণ অর্থ:
হে ইসরাঈলের সন্তানেরা, স্মরণ করো আমার সেই অনুগ্রহ, যা আমি তোমাদের উপর দান করেছি। এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টিজগতের উপর মর্যাদা দিয়েছি।
আয়াত- ১২৩:
وَاتَّقُوۡا (ওয়াত্তাকূ → এবং ভয় করো/খোদাভীরু হও)
یَوۡمًا (ইয়াওমা → এক দিনকে)
لَّا (লা → না)
تَجۡزِیۡ (তাজঝী → প্রতিদান দেবে / প্রতিফল দেবে / কাজের বদলা দেবে)
نَفۡسٌ (নাফছুন → কোনো ব্যক্তি (নফস)
عَنۡ (‘আন → পক্ষ থেকে)
نَّفۡسٍ (নাফছিন → অন্য ব্যক্তি (নফস)
شَیۡئًا (শাইআও → সামান্য কিছু)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
یُقۡبَلُ (ইউকবালু → গ্রহণ করা হবে)
مِنۡہَا (মিনহা → তার থেকে)
عَدۡلٌ (‘আদলুও → কোনো বিনিময়)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَنۡفَعُہَا (তানফা‘উহা → উপকার করবে তাকে)
شَفَاعَۃٌ (শাফা-‘আতু → কোনো সুপারিশ)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
هُمۡ (হুম → তারা)
یُنۡصَرُوۡنَ (ইউনসারূন → সাহায্যপ্রাপ্ত হবে)
পূর্ণ অর্থ:
এবং সেই দিনকে ভয় কর যেদিন কেউ (কোন নফস) কারও(কোন নফসের) কাজে আসবে না; তার কাছ থেকে কোনো বিনিময় নেওয়া হবে না ও কোনো সুপারিশও গ্রহণ করা হবে না, এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবেনা।
আয়াত- ১২৪:
وَاِذِ (ওয়াইয্ → এবং যখন)
ابۡتَلٰۤی (ইবতালাই → পরীক্ষা করেছিলেন)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইবরাহীমকে)
رَبُّہٗ (রাব্বুহূ → তার প্রতিপালক)
بِکَلِمٰتٍ (বিকালিমা-তিন → কিছু বাণী/নির্দেশ দ্বারা)
فَاَتَمَّہُنَّ (ফাআতাম্মাহুন্না → অতঃপর তিনি পূর্ণ করলেন সেগুলো)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
اِنِّیۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
جَاعِلُکَ (জা‘ইলুকা → তোমাকে বানাবো)
لِلنَّاسِ (লিন্না-ছি → মানুষের জন্য)
اِمَامًا (ইমা-মা → নেতা/ইমাম)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং কি)
ذُرِّیَّتِیۡ (যুররিইইয়াতী → আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
لَا (লা → না)
یَنَالُ (ইয়ানা-লু → পৌঁছাবে/প্রযোজ্য হবে)
عَہۡدِی (‘আহদি → আমার অঙ্গীকার)
الظّٰلِمِیۡنَ (আজ্জা-লিমীন → জালিমদের/অন্যায়কারীদের)
পূর্ণ অর্থ:
এবং যখন ইবরাহীমকে তার প্রতিপালক কিছু বাণী (কালিমা) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, আর তিনি সেগুলো পূর্ণ করেছিলেন। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের জন্য নেতা বানাবো।” তিনি বললেন, “আর আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও?” তিনি বললেন, “আমার অঙ্গীকার জালিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়।”
আয়াত- ১২৫:
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
جَعَلۡنَا (জা‘আলনা → আমরা স্থাপন করেছি)
الۡبَیۡتَ (আল বাইতা → ঘরকে)
مَثَابَۃً (মাছা-বাতাল → প্রেরণাস্থল/প্রতিদান/সাফল্যের ফল)
لِّلنَّاسِ (লিন্না-ছি → মানুষের জন্য)
وَاَمۡنًا (ওয়া আমনা → নিরাপদ)
وَاتَّخِذُوۡا (ওয়া ত্তাখিযূ → গ্রহণ করো)
مِنۡ (মিন → থেকে)
مَّقَامِ (মাকা-মি → মর্যাদাপূর্ণ)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইবরাহীমের)
مُصَلًّی (মুসাল্লা → প্রার্থনার স্থান)
وَعَہِدۡنَاۤ (ওয়া‘আহিদনা → আমরা অঙ্গীকার করেছি)
اِلٰۤی (ইলা → প্রতি)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইবরাহীমকে)
وَاِسۡمٰعِیۡلَ (ওয়াইছমা-‘ঈল → ইসমাঈলকে)
اَنۡ (আন → যেন)
طَہِّرَا (তাহহিরা → পবিত্র করো)
بَیۡتِیَ (বাইতিয়া → আমার ঘর/বাইত)
لِلطَّآئِفِیۡنَ (লিত’তাইফীনা → তাওয়াফকারীদের/পরিভ্রমণকারীদের /আসা-যাওয়াকারীদের জন্য ( ২৪:৫৮- তাওয়াফ শব্দের সঠিক অর্থ আসা-যাওয়া সকল অনুবাদক ঠিকভাবে দিয়েছেন)
وَالۡعٰکِفِیۡنَ (ওয়াল ‘আ-কিফীনা → এবং একাগ্রচিত্তে উপাসনায় অবস্থানকারীদের জন্য)
وَرُّکَّعَ (ওয়াররুক্কা‘ → যারা বিনম্র হয়)
السُّجُوۡدِ (ইছছুজূদ → এবং আনুগত্য করে)
পূর্ণ অর্থ:
এবং যখন আমি ঘরকে (বাইতকে) মানুষের জন্য সাফল্যের এবং নিরাপদ স্থানেরূপে স্থাপন করলাম। তোমরা ইবরাহীমের মর্যাদাকে প্রার্থনার স্থানরূপে গ্রহণ করো। আমি ইবরাহীম এবং ইসমাঈলের নিকট অঙ্গীকার দিয়েছিলাম যে, তারা আমার ঘরকে (বাইতকে) পবিত্র রাখবে যাত্রাপথিকদের আসা-যাওয়া (তাওয়াফ), একাগ্রচিত্তে উপাসনায় অবস্থানকারীদের জন্য, এবং যারা বিনম্র (রুকুকারী) ও আনুগত্যকারীদের (সেজদাকারী) জন্য।
