সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ২৮৬

আয়াত – ২২৬:

لِلَّذِیۡنَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য যারা)
یُؤۡلُوۡنَ (ইউ’লূনা → শপথ করে বিরত থাকে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
نِّسَآئِہِمۡ (নিসা-ইহিম → তাদের স্ত্রীদের)

تَرَبُّصُ (তারাব্বুসু → অপেক্ষা করা)
اَرۡبَعَۃِ (আরবা‘আতি → চার)
اَشۡہُرٍ (আশহুরিন → মাস)

فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
فَآءُوۡ (ফাউ → তারা ফিরে আসে)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূর → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)

বাংলা অর্থ:

যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকার শপথ করে, তাদের জন্য চার মাস অপেক্ষার সময় রয়েছে। অতঃপর যদি তারা ফিরে আসে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত – ২২৭:

وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
عَزَمُوا (আ‘ঝামূ → তারা দৃঢ় সংকল্প করে)
الطَّلَاقَ (তালা-কা → তালাক/বিচ্ছেদ)

فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
سَمِیۡعٌ (সামী‘উন → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

আর যদি তারা তালাকের দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ২২৮:

وَالۡمُطَلَّقٰتُ (ওয়াল মুতাল্লাকাতু → তালাকপ্রাপ্ত নারীরা)
یَتَرَبَّصۡنَ (ইয়াতারাব্বাসনা → অপেক্ষা করবে)
بِاَنۡفُسِہِنَّ (বিআনফুসিহিন্না → নিজেদের ব্যাপারে)
ثَلٰثَۃَ (ছালা-ছাতা → তিন)
قُرُوۡٓءٍ (কুরূইওঁ → ঋতুস্রাব/পিরিয়ড)

وَلَا یَحِلُّ (ওয়া লা ইয়াহিল্লু→ এবং না বৈধ)
لَہُنَّ اَنۡ (লাহুন্নাআইয়ান → তাদের জন্য যে)
یَّکۡتُمۡنَ (ইয়াকতুমনা → তারা গোপন করবে)
مَا خَلَقَ (মা-খালাকা → যা সৃষ্টি করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
فِیۡۤ (ফী → মধ্যে)
اَرۡحَامِہِنَّ (আরহা-মিহিন্না → তাদের গর্ভে)

اِنۡ (ইন → যদি)
کُنَّ (কুন্না → তারা হয়ে থাকে)
یُؤۡمِنَّ (ইউ’মিন্না → একনিষ্ঠ বিশ্বাসী)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَالۡیَوۡمِ (ওয়াল ইয়াওমি → এবং দিবসে)
الۡاٰخِرِ (আখিরি → পরকাল)

وَبُعُوۡلَتُہُنَّ (ওয়া বু‘ঊলাতুহুন্না → তাদের স্বামীরা)
اَحَقُّ (আহাক্কু → অধিক হকদার)
بِرَدِّہِنَّ (বিরাদ্দিহিন্না → তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
ذٰلِکَ اِنۡ (যালিকাইন → এই সময় যদি)
اَرَادُوۡۤا (আরা-দূ → তারা চায়)
اِصۡلَاحًا (ইসলাহাওঁ → সংশোধন/মিলমিশ)

وَلَہُنَّ (ওয়া লাহুন্না → এবং তাদের জন্য)
مِثۡلُ (মিছলু → অনুরূপ)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
عَلَیۡہِنَّ (আলাইহিন্না → তাদের উপর)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)

وَلِلرِّجَالِ (ওয়া লিররিজালি → এবং পুরুষদের জন্য)
عَلَیۡہِنَّ (আলাইহিন্না → তাদের উপর)
دَرَجَۃٌ (দারাজাতুওঁ → একটি স্তর / ধাপ / পর্যায়)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
عَزِیۡزٌ (‘আঝীযুন → পরাক্রমশালী)
حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

বাংলা অর্থ:

তালাকপ্রাপ্ত নারীরা নিজেদের জন্য তিন ঋতুস্রাব পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। আর তাদের জন্য বৈধ নয় যে তারা তাদের গর্ভে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করবে—যদি তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হয়। আর তাদের স্বামীরা এই সময়ে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার অধিক হকদার—যদি তারা সংশোধন করতে চায়। আর নারীদের জন্য ন্যায়সংগতভাবে তেমন অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের উপর দায়িত্ব রয়েছে। তবে পুরুষদের তাদের উপর একটি পর্যায় রয়েছে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত – ২২৯:

اَلطَّلَاقُ (আত্তালাকু → তালাক)
مَرَّتٰنِ (মাররাতানি → দুইবার)

فَاِمۡسَاکٌۢ (ফাইমছাকুম → ধরে রাখা)
بِمَعۡرُوۡفٍ (বিমা‘রূফিন → ন্যায়সংগতভাবে)
اَوۡ (আও → অথবা)
تَسۡرِیۡحٌۢ (তাছরীহুম → ছেড়ে দেওয়া)
بِاِحۡسَانٍ (বিইহছা-নিওঁ → সদাচরণের সাথে)

وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
یَحِلُّ (ইয়াহিল্লু → বৈধ)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اَنۡ (আন → যে)
تَاۡخُذُوۡا (তা’খুযূ → তোমরা গ্রহণ করবে)
مِمَّاۤ (মিম্মা → যা থেকে)
اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ (আতাইতুমূহুন্না → তোমরা তাদের দিয়েছ)
شَیۡئًا (শাইআন → কোনো কিছু)

اِلَّاۤ (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
اَنۡ (আইঁ → যে)
یَّخَافَاۤ (ইয়াখাফা → তারা দুজন ভয় করে)
اَلَّا (আল্লা → যে না)
یُقِیۡمَا (ইউকীমা → তারা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে)
حُدُوۡدَ (হুদূদা → সীমা/বিধানসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)

فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
خِفۡتُمۡ (খিফতুম → তোমরা ভয় করো)
اَلَّا (আল্লা → যে না)
یُقِیۡمَا (ইউকীমা → তারা রক্ষা করতে পারবে)
حُدُوۡدَ (হুদূদা → সীমা)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)

فَلَا (ফালা → তবে না)
جُنَاحَ (জুনাহা → কোনো দোষ)
عَلَیۡہِمَا (আলাইহিমা → তাদের উভয়ের উপর)
فِیۡمَا (ফীমা → সে বিষয়ে যা)
افۡتَدَتۡ (আফতাদাত → বিনিময়/মুক্তিপণ দেয়)
بِہٖ (বিহী → এর মাধ্যমে)

تِلۡکَ (তিলকা → এগুলো)
حُدُوۡدُ (হুদূদু → সীমাসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَعۡتَدُوۡہَا (তা‘তাদূহা → তোমরা লঙ্ঘন করো)

وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یَّتَعَدَّ (ইয়াতা‘আদ্দা → অতিক্রম করে)
حُدُوۡدَ (হুদূদা → সীমাসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারা)
ہُمُ (হুমু → তারাই)
الظّٰلِمُوۡنَ (যালিমূন → জালিম/অত্যাচারী)

বাংলা অর্থ:

তালাক দুইবার (২য় পর্যায়/২য় সুযোগ) এরপর হয় ন্যায়সংগতভাবে ধরে রাখা, অথবা ন্যায় আচরণের সাথে ছেড়ে দেওয়া। আর তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা তাদের যা দিয়েছ তার কিছু ফিরিয়ে নেবে—তবে যদি উভয়েই ভয় করে যে তারা আল্লাহর সীমা রক্ষা করতে পারবে না। অতঃপর যদি তোমরা ভয় কর যে তারা আল্লাহর সীমা রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রী যে বিনিময় দেয় তাতে তাদের উভয়ের উপর কোনো দোষ নেই। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যে আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করে, তারাই জালিম।


আয়াত – ২৩০:

فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
طَلَّقَہَا (তাল্লাকাহা → সে তাকে তালাক দেয়)
فَلَا (ফালা → তবে না)
تَحِلُّ (তাহিল্লু → বৈধ)
لَہٗ (লাহূ → তার জন্য)
مِنۡۢ (মিম → থেকে)
بَعۡدُ (বা‘দু → এরপর)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
تَنۡکِحَ (তানকিহা → সে বিয়ে করে)
زَوۡجًا (ঝাওজান → একজন স্বামী)
غَیۡرَہٗ (গাইরাহূ → অন্য)

فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
طَلَّقَہَا (তাল্লাকাহা → সে তাকে তালাক দেয়)
فَلَا (ফালা → তবে না)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো দোষ)
عَلَیۡہِمَاۤ (‘আলাইহিমা → তাদের উভয়ের উপর)
اَنۡ (আইঁ → যে)
یَّتَرَاجَعَاۤ (ইয়াতারা-জা‘আ → তারা পুনরায় মিলিত হয়)
اِنۡ (ইন → যদি)
ظَنَّاۤ (ঝান্না → তারা ধারণা করে)
اَنۡ (আইঁ → যে)
یُّقِیۡمَا (ইউকীমা → তারা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে)
حُدُوۡدَ (হুদূদা → সীমাসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)

وَتِلۡکَ (ওয়া তিলকা → আর এগুলো)
حُدُوۡدُ (হুদূদু → সীমাসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
یُبَیِّنُہَا (ইউবাইয়িনুহা → তিনি বর্ণনা করেন)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এক জাতির জন্য)
یَّعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূন → যারা জ্ঞান রাখে)

বাংলা অর্থ:

অতঃপর যদি সে তাকে (তৃতীয় দফা) তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য বৈধ নয়—যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিয়ে করে। এরপর যদি সেই স্বামীও তাকে তালাক দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের উপর কোনো দোষ নেই পুনরায় মিলিত হতে—যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর সীমাসমূহ রক্ষা করতে পারবে। আর এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, যা তিনি বর্ণনা করেন জ্ঞানীদের জন্য।


আয়াত – ২৩১:

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
طَلَّقۡتُمُ (তাল্লাকতুম → তোমরা তালাক দাও)
النِّسَآءَ (নিছাআ → নারীদের)
فَبَلَغۡنَ (ফাবালাগনা → তারা পৌঁছে যায়)
اَجَلَہُنَّ (আজালাহুন্না → তাদের নির্ধারিত সময়)

فَاَمۡسِکُوۡہُنَّ (ফাআমছিকূহুন্না → তখন তাদের ধরে রাখো)
بِمَعۡرُوۡفٍ (বিমা‘রূফিন → ন্যায়সংগতভাবে)
اَوۡ (আও → অথবা)
سَرِّحُوۡہُنَّ (ছাররিহুহুন্না → তাদের ছেড়ে দাও)
بِمَعۡرُوۡفٍ (বিমা‘রূফিওঁ → ন্যায়সংগতভাবে)

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تُمۡسِکُوۡہُنَّ (তুমছিকূহুন্না → তোমরা তাদের ধরে রাখো)
ضِرَارًا (দিরা-রান → ক্ষতি করার জন্য)
لِّتَعۡتَدُوۡا (লিতা‘তাদূ → যাতে তোমরা সীমালঙ্ঘন করো)

وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یَّفۡعَلۡ (ইয়াফ‘আল → করে)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → এটা)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে নিশ্চয়)
ظَلَمَ (জালামা → সে জুলুম করেছে)
نَفۡسَہٗ (নাফছাহূ → নিজের ওপর)

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَتَّخِذُوۡۤا (তাত্তাখিযূ → তোমরা গ্রহণ করো)
اٰیٰتِ (আয়াতি → আয়াতসমূহকে)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
ہُزُوًا (হুঝুওয়াও → উপহাসরূপে)

وَّاذۡکُرُوۡا (ওয়াযকুরূ → আর স্মরণ করো)
نِعۡمَتَ (নি‘মাতা → অনুগ্রহ)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)

وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اَنۡزَلَ (আনঝালা → নাযিল করেছেন)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الۡکِتٰبِ (আল কিতাবি → কিতাব)
وَالۡحِکۡمَۃِ (ওয়াল হিকমাতি → ও হিকমত)
یَعِظُکُمۡ (ইয়া‘ইজুকুম → তিনি উপদেশ দেন তোমাদের)
بِہٖ (বিহী → এর মাধ্যমে)

وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → আর তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো)

বাংলা অর্থঃ

আর যখন তোমরা নারীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন তাদেরকে ন্যায়সংগতভাবে রেখে দাও অথবা ন্যায়সংগতভাবে ছেড়ে দাও। আর তাদেরকে ক্ষতি করার জন্য ধরে রেখো না, যাতে তোমরা সীমালঙ্ঘন করো। আর যে তা করে, সে নিজের উপরই জুলুম করে। আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বস্তু বানিও না। তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তিনি যে কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) নাযিল করেছেন তা স্মরণ করো—যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের উপদেশ দেন। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

(সুতরাং, কিতাব ও হিকমত আল্লাহই নাজিল করেন। হিকমত কোন মানুষ বা অন্য কোন কিতাব আকারে কোথাও আলাদা নাজিল হয়নি, এই আয়াত তারই স্পষ্ট প্রমাণ)


আয়াত – ২৩২:

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
طَلَّقۡتُمُ (তাল্লাকতুমু → তোমরা তালাক দাও)
النِّسَآءَ (নিছাআ → নারীদের)
فَبَلَغۡنَ (ফাবালাগনা → তারা পৌঁছে যায়)
اَجَلَہُنَّ (আজালাহুন্না → তাদের নির্ধারিত সময়)

فَلَا (ফালা → তবে না)
تَعۡضُلُوۡہُنَّ (তা‘দুলূহুন্না → তোমরা বাধা দিও না)
اَنۡ (আইঁ → যে)
یَّنۡکِحۡنَ (ইয়ানকিহনা → তারা বিয়ে করে)
اَزۡوَاجَہُنَّ (আঝওয়া-জাহুন্না → তাদের স্বামীদের)

اِذَا (ইযা → যখন)
تَرَاضَوۡا (তারাদাও → তারা পরস্পরে সম্মত হয়)
بَیۡنَہُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)

ذٰلِکَ (যালিকা → এটা)
یُوۡعَظُ (ইঊ‘আজু → উপদেশ দেওয়া হয়)
بِہٖ (বিহী → এর মাধ্যমে)
مَنۡ (মান → যে)
کَانَ (কানা → হয়)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
یُؤۡمِنُ (ইউ’মিনু → বিশ্বাস রাখে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَالۡیَوۡمِ (ওয়াল ইয়াওমি → এবং দিবসের)
الۡاٰخِرِ (আখিরি → আখিরাত)

ذٰلِکُمۡ (যালিকুম → এটা তোমাদের জন্য)
اَزۡکٰی (আঝকা → অধিক পবিত্র)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَاَطۡہَرُ (ওয়া আতহারু → এবং অধিক পরিষ্কার)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → কিন্তু তোমরা)
لَا تَعۡلَمُوۡنَ (লাতা‘লামুন → জানো না)

বাংলা অর্থ:

আর যখন তোমরা নারীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের নির্ধারিত সময় পূর্ণ করে, তখন তাদেরকে তাদের স্বামীদের সাথে বিয়ে করতে বাধা দিও না—যখন তারা পরস্পরের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে সম্মত হয়। এ দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয় তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে। এটি তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র (যাকাত) ও অধিক পরিস্কার। আর আল্লাহ তা জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।


আয়াত – ২৩৩:

وَالۡوَالِدٰتُ (ওয়াল ওয়া-লিদাতু → মায়েরা)
یُرۡضِعۡنَ (ইউরদি‘না → দুধ পান করাবে)
اَوۡلَادَہُنَّ (আওলা-দাহুন্না → তাদের সন্তানদের)
حَوۡلَیۡنِ (হাওলাইনি → দুই বছর)
کَامِلَیۡنِ (কামিলাইনি → পূর্ণভাবে)
لِمَنۡ (লিমান → যে চায়)
اَرَادَ (আরাদা → ইচ্ছা করে)
اَنۡ (আইঁ → যে)
یُّتِمَّ (ইউতিম্মা → পূর্ণ করতে)
الرَّضَاعَۃَ (আর-রাদা‘আতা → দুধপান)

وَعَلَی (ওয়া ‘আলা → এবং উপর)
الۡمَوۡلُوۡدِ (আল মাওলূদি → সন্তানের)
لَہٗ (লাহূ → জন্য)
رِزۡقُہُنَّ (রিঝকুহুন্না → তাদের জীবিকা)
وَکِسۡوَتُہُنَّ (ওয়া কিসওয়াতুহুন্না → এবং তাদের পোশাক)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)

لَا (লা → না)
تُکَلَّفُ (তুকাল্লাফু → দায়িত্ব দেওয়া হয়)
نَفۡسٌ (নাফছুন → কোনো প্রাণ)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
وُسۡعَہَا (উছ‘আহা → তার সামর্থ্য অনুযায়ী)

لَا (লা → না)
تُضَآرَّ (তুদাররা → ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে)
وَالِدَۃٌۢ (ওয়া-লিদাতুন → মা)
بِوَلَدِہَا (বিওয়ালাদিহা → তার সন্তানের কারণে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
مَوۡلُوۡدٌ (মাওলূদুন → সন্তান)
لَّہٗ (লাহূ → তার পিতার)
بِوَلَدِہٖ (বিওয়ালাদিহী → তার সন্তানের কারণে)

وَعَلَی (ওয়া ‘আলা → এবং উপর)
الۡوَارِثِ (আল ওয়ারিছি → উত্তরাধিকারীর)
مِثۡلُ (মিছলু → অনুরূপ দায়িত্ব)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → সেটির)

فَاِنۡ (ফাইন → যদি)
اَرَادَا (আরা-দা → তারা দুজন চায়)
فِصَالًا (ফিসালান → দুধ ছাড়ানো)
عَنۡ (‘আন → থেকে)
تَرَاضٍ (তারা-দিন → পারস্পরিক সম্মতি)
مِّنۡہُمَا (মিনহুমা → তাদের উভয়ের)
وَتَشَاوُرٍ (ওয়া তাশা-উরিন → পরামর্শের মাধ্যমে)
فَلَا (ফালা → তবে নেই)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো গুনাহ)
عَلَیۡہِمَا (আলাইহিমা → তাদের ওপর)

وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
اَرَدۡتُّمۡ (আরাদত্তুম → তোমরা চাও)
اَنۡ (আইঁ → যে)
تَسۡتَرۡضِعُوۡۤا (তাস্তারদি‘ঊ → দুধ পান করাও)
اَوۡلَادَکُمۡ (আওলা-দাকুম → তোমাদের সন্তানদের)
فَلَا (ফালা → তবে নেই)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো গুনাহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
اِذَا (ইযা → যখন)
سَلَّمۡتُمۡ (ছাল্লামতুম → তোমরা দিয়ে দাও)
مَّاۤ (মা → যা)
اٰتَیۡتُمۡ (আ-তাইতুম → তোমরা প্রদান করেছ)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)

وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → আর আল্লাহকে ভয় করো)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহকে)
وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
اَنَّ (আন্না → যে)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা কিছু)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কর)
بَصِیۡرٌ (বাসীর → সর্বদ্রষ্টা)

বাংলা অর্থ:

আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে—যে দুধপান পূর্ণ করতে চায়। আর সন্তানের পিতার দায়িত্ব হলো ন্যায়সংগতভাবে মায়েদের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করা। কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। কোনো মাকে তার সন্তানের কারণে ক্ষতি করা যাবে না, আর কোনো পিতাকেও তার সন্তানের কারণে ক্ষতি করা যাবে না। আর উত্তরাধিকারীর উপরও অনুরূপ দায়িত্ব থাকবে। যদি তারা উভয়ে পারস্পরিক সম্মতি ও পরামর্শের মাধ্যমে দুধ ছাড়াতে চায়, তবে তাদের কোনো গুনাহ নেই। আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানদের অন্য নারীর মাধ্যমে দুধ পান করাতে চাও, তবে ন্যায়সংগতভাবে যা প্রদান করবে তা দিয়ে দিলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজসমূহ সম্পর্কে সর্বদ্রষ্টা।


আয়াত – ২৩৪:

وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
یُتَوَفَّوۡنَ (ইউতাওয়াফফাওনা → মৃত্যু বরণ করে)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
وَیَذَرُوۡنَ (ওয়া ইয়াযারূনা → এবং রেখে যায়)
اَزۡوَاجًا (আঝওয়াজান → স্ত্রীদের)

یَّتَرَبَّصۡنَ (ইয়াতারাব্বাসনা → তারা অপেক্ষা করে)
بِاَنۡفُسِہِنَّ (বিআনফুছিহিন্না → নিজেদের জন্য)
اَرۡبَعَۃَ (আরবা‘আতা → চার)
اَشۡہُرٍ (আশহুরিন → মাস)
وَّعَشۡرًا (ওয়া ‘আশরান → এবং দশ দিন)

فَاِذَا (ফাইযা → যখন)
بَلَغۡنَ (বালাগনা → তারা পূর্ণ করে)
اَجَلَہُنَّ (আজালাহুন্না → তাদের নির্ধারিত সময়)
فَلَا (ফালা → তবে নেই)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো গুনাহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)

فِیۡمَا (ফীমা → যা কিছু)
فَعَلۡنَ (ফা‘আলনা → তারা করে)
فِیۡۤ اَنۡفُسِہِنَّ (ফীআনফুছিহিন্না → নিজেদের ব্যাপারে)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা কিছু)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কর)
خَبِیۡرٌ (খাবীর → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তারা নিজেদের জন্য চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে। তারপর যখন তারা তাদের নির্ধারিত সময় পূর্ণ করবে, তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে ন্যায়সংগতভাবে যা করবে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। আর আল্লাহ তোমারা যা কিছু কর সে সম্পর্কে সব জানেন।


আয়াত – ২৩৫:

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো গুনাহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
فِیۡمَا (ফীমা → যা বিষয়ে)
عَرَّضۡتُمۡ (‘আররাদতুম → ইঙ্গিত করেছ)
بِہٖ (বিহী → তার মাধ্যমে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
خِطۡبَۃِ (খিতবাতি → বিয়ের প্রস্তাব)
النِّسَآءِ (আন নিছাআ → নারীদের)
اَوۡ (আও → অথবা)
اَکۡنَنۡتُمۡ (আকনানতুম → গোপন রেখেছ)
فِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ (ফী আনফুছিকুম → নিজেদের মধ্যে)

عَلِمَ (‘আলিমা → জানেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اَنَّکُمۡ (আন্নাকুম → যে তোমরা)
سَتَذۡکُرُوۡنَہُنَّ (সাতাযকুরূনাহুন্না → তাদের স্মরণ করবে)

وَلٰکِنۡ (ওয়া লাকিন → কিন্তু)
لَّا (লা → না)
تُوَاعِدُوۡہُنَّ (তুয়া‘ইদূহুন্না → তোমরা গোপনে ওয়াদা করো)
سِرًّا (সিররান → গোপনে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
اَنۡ (আইঁ → যে)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → তোমরা বলো)
قَوۡلًا (কাওলান → কথা)
مَّعۡرُوۡفًا (মা‘রূফান → ন্যায়সংগতভাবে)

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَعۡزِمُوۡا (তা‘ঝিমূ → দৃঢ় সিদ্ধান্ত নাও)
عُقۡدَۃَ (উকদাতা → বন্ধন/চুক্তি)
النِّکَاحِ (আন নিকা-হি → বিয়ের)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَبۡلُغَ (ইয়াবলুগা → পৌঁছে)
الۡکِتٰبُ (আল কিতা-বু → নির্ধারিত বিধান)
اَجَلَہٗ (আজালাহু → তার সময়)

وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → আর জেনে রাখো)
اَنَّ (আন্না → যে)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
یَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → জানেন)
مَا (মা → যা কিছু)
فِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ (ফী আনফুছিকুম → তোমাদের অন্তরে)
فَاحۡذَرُوۡہُ (ফাহযারূহু → তাই তাঁকে ভয় করো)

وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → আর জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰہَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → অতিশয় ক্ষমাশীল)
حَلِیۡمٌ (হালীম → সহনশীল)

বাংলা অর্থ:

আর বিয়ের প্রস্তাবের ইঙ্গিত দেওয়া বা তা তোমাদের মনে গোপন রাখা বিষয়ে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। আল্লাহ জানেন যে তোমরা তাদের স্মরণ করবে, কিন্তু তাদের সাথে গোপনে ওয়াদা করো না—তবে ন্যায়সংগত কথা বলতে পারো। আর বিয়ের বন্ধন দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত নেবে না যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। আর জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের অন্তরের সবকিছু জানেন, তাই তাঁকে ভয় করো। আর জেনে রাখো, আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও সহনশীল।


আয়াত – ২৩৬:

لَا (লা → নেই)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো গুনাহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
اِنۡ (ইন → যদি)
طَلَّقۡتُمُ (তাল্লাকতুমু → তোমরা তালাক দাও)
النِّسَآءَ (আন নিছাআ → নারীদের)

مَا (মা → যখন না)
لَمۡ (লাম → না)
تَمَسُّوۡہُنَّ (তামাছছূহুন্না → তোমরা তাদের স্পর্শ করো)
اَوۡ (আও → অথবা)
تَفۡرِضُوۡا (তাফরিদূ → নির্ধারণ করো)
لَہُنَّ (লাহুন্না → তাদের জন্য)
فَرِیۡضَۃً (ফারীদাতান → ফরজ দায়িত্ব/বাধ্যতামূলক দায়িত্ব)

وَّمَتِّعُوۡہُنَّ (ওয়া মাত্তি‘ঊহুন্না → এবং তোমরা তাদেরকে ভরণপোষণ দাও)
عَلَی (‘আলা → উপর)
الۡمُوۡسِعِ (আল মূসি‘ → ধনী ব্যক্তি)
قَدَرُہٗ (কাদারুহু → তার সামর্থ্য অনুযায়ী)
وَعَلَی (ওয়া ‘আলা → এবং উপর)
الۡمُقۡتِرِ (আল মুকতিরি → দরিদ্র ব্যক্তি)
قَدَرُہٗ (কাদারুহু → তার সামর্থ্য অনুযায়ী)

مَتَاعًا (মাতা‘আন → উপকারের জিনিস / ব্যবহার্য সম্পদ)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)
حَقًّا (হাক্কান → সত্য কর্তব্য)
عَلَی (‘আলা → উপর)
الۡمُحۡسِنِیۡنَ (আল মুহসিনীন → সৎকর্মশীলদের)

বাংলা অর্থ:

যদি তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই অথবা তাদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক দায়িত্ব ঠিক করার পূর্বেই তালাক দাও, তবে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। আর তোমরা তাদেরকে ভরনপোশন দাও—ধনী ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী—এটি ন্যায়সংগতভাবে একটি উপকারের বিষয়, যা সৎকর্মশীলদের উপর সত্য কর্তব্য।


আয়াত – ২৩৭:

وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
طَلَّقۡتُمُوۡہُنَّ (তাল্লাকতুমূহুন্না → তোমরা তাদের তালাক দাও)
مِنۡ قَبۡلِ (মিন কাবলি → আগে)
اَنۡ (আইঁ → যে)
تَمَسُّوۡہُنَّ (তামাছছূহুন্না → তোমরা তাদের স্পর্শ করো)
وَقَدۡ (ওয়া কাদ → অথচ)
فَرَضۡتُمۡ (ফারাদতুম → তোমরা নির্ধারণ করেছ)
لَہُنَّ (লাহুন্না → তাদের জন্য)
فَرِیۡضَۃً (ফারীদাতান → ফরজ দায়িত্ব/বাধ্যতামূলক দায়িত্ব)

فَنِصۡفُ (ফানিসফু → অর্ধেক)
مَا (মা → যা)
فَرَضۡتُمۡ (ফারাদতুম → তোমরা ফরজ করেছ/বাধ্যতামূলক দায়িত্ব করেছ)

اِلَّاۤ (ইল্লা → তবে)
اَنۡ (আইঁ → যে)
یَّعۡفُوۡنَ (ইয়া‘ফূনা → তারা ছাড় দেয়)
اَوۡ (আও → অথবা)
یَعۡفُوَا (ইয়া‘ফুয়া → সে ছেড়ে দেয়)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যে )
بِیَدِہٖ (‘বিয়াদিহী → যার হাতে)
عُقۡدَۃُ (উকদাতু → বন্ধন)
النِّکَاحِ (আন নিকা-হি → বিয়ের)

وَاَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
تَعۡفُوۡۤا (তা‘ফূ → তোমরা ছাড় দাও)
اَقۡرَبُ (আকরাবু → বেশি নিকট)
لِلتَّقۡوٰی (লিত্তাকওয়া → তাকওয়ার)

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَنۡسَوُا (তানসাও → ভুলে যেও না)
الۡفَضۡلَ (আল ফাদলা → অনুগ্রহ/ভালো আচরণ)
بَیۡنَکُمۡ (বাইনাকুম → তোমাদের মধ্যে)

اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা কিছু)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কর)
بَصِیۡرٌ (বাসীর → সর্বদ্রষ্টা)

বাংলা অর্থঃ

আর যদি তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দাও, অথচ তাদের জন্য বাধ্যতামূক দায়িত্ব (ভরনপোশন) নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তবে নির্ধারিত দায়িত্বের অর্ধেক দিতে হবে—তবে যদি তারা বা যার হাতে বিয়ের বন্ধন আছে সে ছাড় দেয়, তাহলে ভিন্ন কথা। আর তোমাদের মধ্যে ছাড় দেওয়া তাকওয়ার বেশি নিকটবর্তী। আর তোমরা একে অপরের অনুগ্রহ ভুলে যেও না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সব কাজ দেখেন।


আয়াত – ২৩৮:

حٰفِظُوۡا (হাফিজূ → তোমরা রক্ষা করো)
عَلَی (আলা → উপর)
الصَّلَوٰتِ (আস সালাওয়াতি → যোগাযোগ সমূহ)
وَالصَّلٰوۃِ (ওয়াস সালাতি → এবং যোগাযোগ স্থাপন করা)
الۡوُسۡطٰی (আল উসতা → মধ্যবর্তী/মাঝের)

وَقُوۡمُوۡا (ওয়া কূমূ → আর দাঁড়াও)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
قٰنِتِیۡنَ (কানিতীন → বিনয়ী/আনুগত্যশীল হয়ে)

বাংলা অর্থ:

তোমরা যোগাযোগসমূহ এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী যোগাযোগ স্থাপন করাকে রক্ষা করো, এবং আল্লাহর জন্যে আনুগত্যশীল হয়ে দাঁড়াও।


আয়াত – ২৩৯:

فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
خِفۡتُمۡ (খিফতুম → তোমরা ভয় পাও)
فَرِجَالًا (ফারিজালান → পায়ে হেঁটে/চলমান অবস্থায়)
اَوۡ (আও → অথবা)
رُکۡبَانًا (রুকবানান → বাহনে/আরোহী অবস্থায়)

فَاِذَاۤ (ফাইযা → তারপর যখন)
اَمِنۡتُمۡ (আমিনতুম → তোমরা নিরাপদ হও)
فَاذۡکُرُوا (ফাযকুরূ → স্মরণ করো)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
کَمَا (কামা → যেভাবে)
عَلَّمَکُمۡ (‘আল্লামাকুম → তোমাদের শিখিয়েছেন)
مَّا (মা → যা)
لَمۡ (লাম → না)
تَکُوۡنُوۡا (তাকূনূ → তোমরা ছিলে)
تَعۡلَمُوۡنَ (তা‘লামূন → জানো)

বাংলা অর্থ:

অতএব যদি তোমরা ভয় পাও, তাহলে পায়ে হেঁটে বা বাহনে থাকা অবস্থায়, আর যখন তোমরা নিরাপদ হয়ে যাও, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদের শিখিয়েছেন, যা তোমরা আগে জানতে না।


আয়াত – ২৪০:

وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
یُتَوَفَّوۡنَ (ইউতাওয়াফফাওনা → মৃত্যুবরণ করে)
مِنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
وَیَذَرُوۡنَ (ওয়া ইয়াযারূনা → এবং রেখে যায়)
اَزۡوَاجًا (আঝওয়া-জান → স্ত্রীদের)

وَّصِیَّۃً (ওয়াসিয়্যাতান → উইল / শেষ নির্দেশ/ দায়িত্ব অর্পণ করা)
لِّاَزۡوَاجِہِمۡ (লিআঝওয়া-জিহিম → তাদের স্ত্রীদের জন্য)
مَّتَاعًا (মাতা‘আন → ব্যবহারযোগ্য সম্পদ)
اِلَی الۡحَوۡلِ (ইলাল হাওলি → এক বছর পর্যন্ত)
غَیۡرَ (গাইরা → ছাড়া)
اِخۡرَاجٍ (ইখরা-জিন → বের করে দেওয়া)

فَاِنۡ (ফাইন → তারপর যদি)
خَرَجۡنَ (খারাজনা → তারা বের হয়ে যায়)
فَلَا (ফালা → তবে নেই)
جُنَاحَ (জুনা-হা → কোনো গুনাহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)

فِیۡ (ফী → বিষয়ে)
مَا (মা → যা)
فَعَلۡنَ (ফা‘আলনা → তারা করে)
فِیۡۤ اَنۡفُسِہِنَّ (ফী আনফুছিহিন্না → নিজেদের ব্যাপারে)
مِنۡ مَّعۡرُوۡفٍ (মিন মা‘রূফিন → ন্যায়সংগতভাবে)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَزِیۡزٌ (‘আযীযুন → পরাক্রমশালী)
حَکِیۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

বাংলা অর্থ:

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তাদের জন্য নির্দেশ হলো—তাদের স্ত্রীদের এক বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য সম্পদ দেওয়া হবে, তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হবে না। কিন্তু যদি তারা নিজেরাই চলে যায়, তবে তারা নিজেদের ব্যাপারে ন্যায়সংগতভাবে যা করে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।


আয়াত – ২৪১:

وَلِلۡمُطَلَّقٰتِ (ওয়ালিল মুতাল্লাকাতি → তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য)
مَتَاعٌۢ (মাতা‘উন → ব্যবহারযোগ্য সম্পদ)
بِالۡمَعۡرُوۡفِ (বিলমা‘রূফি → ন্যায়সংগতভাবে)

حَقًّا (হাক্কান → একটি সত্যায়িত কর্তব্য)
عَلَی (আলা → উপর)
الۡمُتَّقِیۡنَ (আল মুত্তাকীন → আল্লাহভীরুদের)

বাংলা অর্থ:

আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য ন্যায়সংগতভাবে ব্যবহারযোগ্য সম্পদ দেওয়া আল্লাহভীরুদের উপর সত্য কর্তব্য।


আয়াত – ২৪২:

کَذٰلِکَ (কাযা-লিকা → এভাবেই)
یُبَیِّنُ (ইউবাইয়িনু → স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اٰیٰتِہٖ (আয়াতিহী → তাঁর আয়াতসমূহ/নিদর্শনসমূহ)
لَعَلَّکُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَعۡقِلُوۡنَ (তা‘কিলূন → তোমরা বুদ্ধি ব্যবহার করো)

বাংলা অর্থ:

এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুদ্ধি ব্যবহার করো।


আয়াত – ২৪৩:

اَلَمۡ تَرَ (আলামতারা → তুমি কি দেখনি/লক্ষ্য করনি)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
خَرَجُوۡا (খারাজূ → বের হয়েছিল)
مِنۡ دِیَارِہِمۡ (মিন দিয়ারিহিম → তাদের ঘরবাড়ি থেকে)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
اُلُوۡفٌ (উলূফুন → হাজার হাজার/অসংখ্য)
حَذَرَ (হাযারা → ভয় করে)
الۡمَوۡتِ (আল মাউতি → মৃত্যু)

فَقَالَ (ফাকালা → তখন বললেন)
لَہُمُ اللّٰہُ (লাহুমুল্লাহু → তাদেরকে আল্লাহ)
مُوۡتُوۡا (মূতূ → তোমরা মৃত্যুবরণ করো)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اَحۡیَاہُمۡ (আহইয়া-হুম → তাদেরকে পুনরায় জীবিত করলেন)

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَذُوۡ (লাযূ → অধিকারী)
فَضۡلٍ (ফাদলিন → অনুগ্রহের)
عَلَی النَّاسِ (আলান্নাসি → মানুষের ওপর)
وَلٰکِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
اَکۡثَرَ النَّاسِ (আকছারান্নাসি → অধিকাংশ মানুষ)
لَا یَشۡکُرُوۡنَ (লা ইয়াশকুরূন → কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না)

বাংলা অর্থ:

তুমি কি তাদের দেখনি, যারা মৃত্যু ভয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল, অথচ তারা ছিল অসংখ্য? তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন—তোমরা মারা যাও, এরপর তিনি তাদের পুনরায় জীবিত করলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের ওপর অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।


আয়াত – ২৪৪:

وَقَاتِلُوۡا (ওয়া কাতিলূ → আর তোমরা সংগ্রাম করো/লড়াই করো)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী ছাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)
وَاعۡلَمُوۡۤا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰہَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
سَمِیۡعٌ (সামী‘উন → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

আর তোমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করো এবং জেনে রাখো—নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ২৪৫:

مَنۡ (মান → কে)
ذَا (যা → সেই)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যে ব্যক্তি)
یُقۡرِضُ اللّٰہَ (ইউকরিদুল্লাহা → আল্লাহকে ঋণ দেয়)
قَرۡضًا (কারদান → ঋণ)
حَسَنًا (হাসানান → সুন্দর)

فَیُضٰعِفَہٗ (ফাইউদা‘ইফাহু → তখন তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন)
لَہٗ (লাহু → তার জন্য)
اَضۡعَافًا (আদ‘আফান → বহুগুণ)
کَثِیۡرَۃً (কাছীরাতান → অনেক)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَقۡبِضُ (ইয়াকবিদু → সংকুচিত করেন)
وَیَبۡصُۜطُ (ওয়া ইয়াবসুতু → এবং প্রসারিত করেন/বাড়িয়ে দেন)

وَاِلَیۡہِ (ওয়া ইলাইহি → এবং তাঁর কাছেই)
تُرۡجَعُوۡنَ (তুরজা‘ঊন → তোমরা ফিরে যাবে)

বাংলা অর্থ:

কে সেই যে আল্লাহকে সুন্দর ঋণ দেবে? তাহলে আল্লাহ তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন তার জন্য। আর আল্লাহই কমিয়ে দেন এবং বৃদ্ধি করেন, এবং তাঁরই কাছেই তোমারা ফিরিয়ে যাবে।


আয়াত – ২৪৬:

اَلَمۡ تَرَ (আলামতারা → তুমি কি দেখনি)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الۡمَلَاِ (আল মালা → নেতৃস্থানীয় দল/প্রভাবশালী)
مِنۡ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ (মিন বানী ইসরাঈলা → ইসরাঈলের সন্তানদের থেকে)
مِنۡۢ بَعۡدِ مُوۡسٰی (মিন বা‘দি মূসা → মূসার পর)

اِذۡ (ইয → যখন)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলেছিল)
لِنَبِیٍّ (লিনাবিয়িন → তাদের একজন নবীকে)
لَّہُمُ (লাহুমু → তাদের জন্য)
ابۡعَثۡ (ইব‘আছ → পাঠান/নিয়োগ করুন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مَلِکًا (মালিকান → একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি)
نُّقَاتِلۡ (নুকা-তিল → আমরা লড়াই করব)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী ছাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)

قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
هَلۡ (হাল → তবে কি)
عَسَیۡتُمۡ (‘আসাইতুম → তোমরা কি এমন হবে)
اِنۡ (ইন → যদি)
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা)
عَلَیۡکُمُ (আলাইকুমু → তোমাদের ওপর)
الۡقِتَالُ (আল কিতালু → যুদ্ধ/সংগ্রাম)
اَلَّا (আল্লা → না)
تُقَاتِلُوۡا (তুকাতিলূ → তোমরা লড়াই করবে )

قَالُوۡا (কালূ → তারা বলল)
وَمَا (ওয়ামা → আর কী কারণে)
لَنَاۤ (লানা → আমাদের)
اَلَّا نُقَاتِلَ (আল্লা নুকাতিলা → আমরা কেন লড়াই করব না)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী ছাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)
وَقَدۡ (ওয়া কাদ → অথচ)
اُخۡرِجۡنَا (উখরিজনা → আমাদের বের করে দেওয়া হয়েছে)
مِنۡ دِیَارِنَا (মিন দিয়ারিনা → আমাদের ঘরবাড়ি থেকে)
وَاَبۡنَآئِنَا (ওয়া আবনায়িনা → এবং আমাদের সন্তানদের থেকে)

فَلَمَّا (ফালাম্মা → যখন)
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা)
عَلَیۡہِمُ (আলাইহিমু → তাদের ওপর)
الۡقِتَالُ (আল কিতালু → যুদ্ধ)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নিল)
اِلَّا قَلِیۡلًا مِّنۡہُمۡ (ইল্লা কালীলাম মিনহুম → তাদের অল্প কিছু ছাড়া)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِیۡمٌۢ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
بِالظّٰلِمِیۡنَ (বিজ্জালিমীন → জালিমদের সম্পর্কে)

বাংলা অর্থ:

তুমি কি ইসরাঈলের সন্তানদের প্রভাবশালী একদলকে দেখনি মূসা -এর পর? যখন তারা তাদের নবীকে বলল—আমাদের জন্য একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি পাঠাও, যাতে আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করি। তিনি বললেন—যদি তোমাদের ওপর লড়াই লিখিত বিধান করা হয়, তবে কি তোমরা লড়াই করবে না? তারা বলল—আমরা কেন লড়াই করব না আল্লাহর পথে, অথচ আমাদের ঘরবাড়ি ও সন্তানদের থেকে আমাদের বের করে দেওয়া হয়েছে? কিন্তু যখন তাদের ওপর লড়াই লিখিত বিধান করা হলো, তখন তাদের অল্প কিছু ছাড়া সবাই মুখ ফিরিয়ে নিল। আর আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।


আয়াত – ২৪৭:

وَقَالَ (ওয়া কা-লা → আর বললেন)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
نَبِیُّہُمۡ (নাবিইয়ুহুম → তাদের নবী)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
قَدۡ (কাদ → ইতিমধ্যে)
بَعَثَ (বা‘আছা → পাঠিয়েছেন/নিয়োগ দিয়েছেন)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
طَالُوۡتَ (তা-লূতা → তালুত)
مَلِکًا (মালিকান → একজন ক্ষমতাধর)

قَالُوۡۤا (কালূ → তারা বলল)
اَنّٰی (আন্না → কীভাবে)
یَکُوۡنُ (ইয়াকূনু → হবে)
لَہُ (লাহু → তার জন্য)
الۡمُلۡکُ (আল মুলকু → নেতৃত্ব/রাজত্ব)
عَلَیۡنَا (‘আলাইনা → আমাদের ওপর)
وَنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → অথচ আমরা)
اَحَقُّ (আহাক্কু → বেশি হকদার)
بِالۡمُلۡکِ (বিল মুলকি → নেতৃত্বের জন্য)
مِنۡہُ (মিনহু → তার থেকে)
وَلَمۡ (ওয়া লাম → অথচ না)
یُؤۡتَ (ইউ’তা → দেওয়া হয়েছে)
سَعَۃً (সা‘আতান → সক্ষমতা)
مِّنَ الۡمَالِ (মিনাল মা-লি → সম্পদের মধ্যে)

قَالَ (কালা → তিনি বললেন)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
اصۡطَفٰىہُ (ইস্তফাহু → তাকে মনোনীত করেছেন)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَزَادَہٗ (ওয়া যা-দাহু → এবং তাকে বৃদ্ধি দিয়েছেন)
بَسۡطَۃً (বাসতাতান → প্রাচুর্য)
فِی الۡعِلۡمِ (ফিল ‘ইলমি → জ্ঞানে)
وَالۡجِسۡمِ (ওয়াল জিসমি → এবং শারীরিক শক্তিতে)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یُؤۡتِی (ইউ’তী → দেন)
مُلۡکَہٗ (মুলকাহু → তাঁর রাজত্ব/ক্ষমতা)
مَنۡ (মান → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
وَاسِعٌ (ওয়াসি‘উন → প্রাচুর্যশীল/ব্যাপক ক্ষমতাবান)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

আর তাদের নবী তাদেরকে বললেন—নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুতকে রাজা হিসেবে মনোনীত করেছেন। তারা বলল—তার কীভাবে আমাদের ওপর রাজত্ব থাকবে, অথচ আমরা তার চেয়ে রাজত্বের বেশি হকদার এবং তাকে সম্পদের প্রাচুর্যও দেওয়া হয়নি? তিনি বললেন—নিশ্চয় আল্লাহ তাকে তোমাদের ওপর মনোনীত করেছেন এবং তাকে জ্ঞান ও শারীরিক শক্তিতে বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে তাঁর রাজত্ব দান করেন। আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ২৪৮:

وَقَالَ لَهُمۡ نَبِیُّهُمۡ (ওয়া কা-লা লাহুম নাবিইয়ুহুম → আর তাদের নবী বললেন)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اٰیَةَ (আয়াতা → নিদর্শন)
مُلۡكِهِۦۤ (মুলকিহী → তার রাজত্বের)
اَنۡ یَّاۡتِیَكُمُ (আন ইয়া’তিয়াকুমু → তোমাদের কাছে আসবে)
التَّابُوتُ (আত-তাবূতু → সিন্দুক)
فِيهِ (ফীহি → এতে আছে)
سَكِینَةٌ (সাকীনাতুন → প্রশান্তি)
مِّنۡ رَّبِّكُمۡ (মির রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে)
وَبَقِیَّةٌ (ওয়া বাকিয়্যাতুন → এবং অবশিষ্ট কিছু)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
تَرَكَ (তারাকা → রেখে গিয়েছিল)
اٰلُ مُوسَىٰ (আলু মূসা → মূসার পরিবার/অনুসারীরা)
وَاٰلُ هَارُونَ (ওয়া আলু হারূনা → হারূনের পরিবার/অনুসারীরা)
تَحۡمِلُهُ (তাহমিলুহু → তা বহন করবে)
الۡمَلٰٓئِكَةُ (আল মালাইকাতু → ফেরেশতারা)

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
فِیۡ ذَٰلِكَ (ফী যালিকা → এতে)
لَآیَةً (লা-আয়াতান → একটি নিদর্শন)
لَّكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اِنۡ كُنتُمۡ (ইন কুনতুম → যদি তোমরা হও)
مُّؤۡمِنِینَ (মু’মিনীন → বিশ্বাসীরা)

বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই তাদের নবী তাদেরকে বললেন—তার রাজত্বের আয়াত হলো এই যে, তোমাদের কাছে সিন্দুক/বাক্স আসবে, যাতে থাকবে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রশান্তি এবং মূসা ও হারূনের পরিবারের রেখে যাওয়া কিছু অবশিষ্ট; এটি ফেরেশতারা বহন করে আনবে। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য বড় আয়াত রয়েছে, যদি তোমরা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হও।


আয়াত – ২৪৯:

فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
فَصَلَ (ফাসালা → রওনা হলো/বের হলো)
طَالُوۡتُ (তা-লূতু → তালুত)
بِالۡجُنُوۡدِ (বিলজুনূদি → সৈন্যবাহিনীসহ)

قَالَ (কা-লা → সে বলল)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লা-হা → নিশ্চয় আল্লাহ)
مُبۡتَلِیۡکُمۡ (মুবতালীকুম → তোমাদের পরীক্ষা করবেন)
بِنَہَرٍ (বিনাহারিন → একটি নদীর দ্বারা)

فَمَنۡ (ফামান → অতঃপর যে)
شَرِبَ (শারিবা → পান করবে)
مِنۡہُ (মিনহু → তা থেকে)
فَلَیۡسَ (ফালাইছা → সে নয়)
مِنِّیۡ (মিন্নী → আমার দলের)

وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
لَّمۡ (লাম → না)
یَطۡعَمۡہُ (ইয়াত‘আমহু → আস্বাদন করবে)
فَاِنَّہٗ (ফাইন্নাহু → তবে নিশ্চয় সে)
مِنِّیۡ (মিন্নী → আমার দলের)

اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতিক্রম)
مَنِ (মানি → যে)
اغۡتَرَفَ (ইগতারাফা → তুলে নেয়)
غُرۡفَۃًۢ (গুরফাতান → এক মুঠো)
بِیَدِہٖ (বিয়াদিহী → তার হাতে)

فَشَرِبُوۡا (ফাশারিবূ → অতঃপর তারা পান করল)
مِنۡہُ (মিনহু → তা থেকে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ছাড়া)
قَلِیۡلًا (কালীলাম → অল্প)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)

فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
جَاوَزَہٗ (জা-ওয়াঝাহু → সে অতিক্রম করল)
ہُوَ (হুওয়া → সে)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাসী)
مَعَہٗ (মা‘আহু → তার সাথে)

قَالُوۡا (কা-লূ → তারা বলল)
لَا (লা → না)
طَاقَۃَ (তা-কাতা → শক্তি)
لَنَا (লানা → আমাদের)
الۡیَوۡمَ (আলইয়াওমা → আজ)
بِجَالُوۡتَ (বিজালূতা → জালুতের বিরুদ্ধে)
وَجُنُوۡدِہٖ (ওয়া জুনূদিহী → ও তার বাহিনীর)

قَالَ (কা-লা → বলল)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَظُنُّوۡنَ (ইয়াজুন্নূনা → ধারণা রাখে)
اَنَّہُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
مُّلٰقُوا اللّٰہِ (মুলাকুল্লাহি → আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে)

كَمۡ (কাম → কত)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
فِئَۃٍ (ফিআতিন → দল)
قَلِیۡلَۃٍ (কালীলাতিন → ছোট)
غَلَبَتۡ (গালাবাত → জয়লাভ করেছে)
فِئَۃً (ফিআতান → দলকে)
كَثِیۡرَۃً (কাছীরাতান → বড়)
بِاِذۡنِ اللّٰہِ (বিইযনিল্লা-হি → আল্লাহর অনুমতিতে)

وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
مَعَ (মা‘আ → সাথে আছেন)
الصّٰبِرِیۡنَ (আসসাবিরীন → ধৈর্যশীলদের)

বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন তালুত তার সৈন্যবাহিনীসহ রওনা হলো, তখন সে বলল—নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের একটি নদীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। যে তা থেকে পান করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়; আর যে তা আস্বাদন করবে না, সেই আমার দলভুক্ত—তবে যে নিজ হাতে এক মুঠো তুলে নেয় সে ব্যতিক্রম। তারপর তারা তা থেকে পান করল, অল্প কয়েকজন ছাড়া। অতঃপর যখন তালুত ও তার সাথে ঈমানদাররা নদী অতিক্রম করল, তারা বলল—আজ জালুত ও তার বাহিনীর মোকাবেলায় আমাদের কোনো শক্তি নেই। কিন্তু যারা বিশ্বাস করত যে তারা আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে, তারা বলল—কত ছোট দল আল্লাহর অনুমতিতে বড় দলকে পরাজিত করেছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।


আয়াত – ২৫০:

وَلَمَّا (ওয়া লাম্মা → এবং যখন)
بَرَزُوۡا (বারাঝূ → তারা সম্মুখীন হলো/মুখোমুখি দাঁড়ালো)
لِجَالُوۡتَ (লিজালূতা → জালুতের সামনে)
وَجُنُوۡدِہٖ (ওয়া জুনূদিহী → এবং তার বাহিনীর)

قَالُوۡا (কা-লূ → তারা বলল)
رَبَّنَاۤ (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
اَفۡرِغۡ (আফরিগ → ঢেলে দাও)
عَلَیۡنَا (আলাইনা → আমাদের উপর)
صَبۡرًا (সাবরান → ধৈর্য)

وَّثَبِّتۡ (ওয়া ছাব্বিত → এবং দৃঢ় রাখো)
اَقۡدَامَنَا (আকদা-মানা → আমাদের পদসমূহ/পদক্ষেপ)
وَانۡصُرۡنَا (ওয়ানসুরনা → এবং আমাদের সাহায্য করো)
عَلَی (আলা → বিরুদ্ধে)
الۡقَوۡمِ (আল কাওমি → সেই জাতির)
الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কাফিরীন → অবিশ্বাসীদের)

বাংলা অর্থ:

আর যখন তারা জালুত ও তার বাহিনীর মুখোমুখি হলো, তখন তারা বলল—হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পদক্ষেপ দৃঢ় রাখুন এবং অবিশ্বাসী জাতির বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।