সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
আয়াত- ১২৬:
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
اِبۡرٰہٖمُ (ইবরা-হীমু → ইবরাহীম)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اجۡعَلۡ (ইজ‘আল → বানাও)
هٰذَا (হা-যা → এই)
بَلَدًا (বালাদান → নগর)
اٰمِنًا (আ-মিনা → নিরাপদ)
وَّارۡزُقۡ (ওয়ারঝুক → রিজিক দাও)
اَہۡلَہٗ (আহলাহূ → এর অধিবাসীদের)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الثَّمَرٰتِ (ছামারা-তি → ফলমূল)
مَنۡ (মান → যারা)
اٰمَنَ (আ-মানা → ঈমান এনেছে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
بِاللّٰہِ (বিল্লা-হি → আল্লাহর প্রতি)
وَالۡیَوۡمِ (ওয়াল ইয়াওমি → এবং দিবসের প্রতি)
الۡاٰخِرِ (আ-খিরি → আখিরাতের)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
وَمَنۡ (ওয়ামান → আর যে)
كَفَرَ (কাফারা → অস্বীকার/কুফুরি করবে)
فَاُمَتِّعُہٗ (ফাইমাত্তি‘উহূ → আমি তাকে ভোগ করতে দেব)
قَلِیۡلًا (কালীলান → সামান্য সময়)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اَضۡطَرُّہٗۤ (আদতাররুহূ → তাকে বাধ্য করবো/ঠেলে দেবো)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
عَذَابِ (আযা-বি → শাস্তির)
النَّارِ (ন্না-রি → আগুনের)
وَبِئۡسَ (ওয়াবি’ছা → কতই না নিকৃষ্ট)
الۡمَصِیۡرُ (মাসীর → পরিণাম)
পূর্ণ অর্থ:
এবং যখন ইবরাহীম বললেন, “হে আমার প্রতিপালক! এই নগরকে নিরাপদ করো এবং এর অধিবাসীদের ফলমূল দ্বারা রিজিক দাও— তাদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান এনেছে।” তিনি বললেন, “আর যে অস্বীকার করবে, তাকে আমি সামান্য সময় ভোগ করতে দেবো; তারপর তাকে আগুনের শাস্তির দিকে ঠেলে দেবো। আর সেটাই কতই না নিকৃষ্ট পরিণাম!”
আয়াত- ১২৭:
وَاِذۡ (ওয়া ইয → এবং যখন)
یَرۡفَعُ (ইয়ারফা‘উ → উত্তোলন করছিলেন/উঁচু করছিলেন)
اِبۡرٰہٖمُ (ইবরা-হীমু → ইবরাহীম)
الۡقَوَاعِدَ (কাওয়া‘ইদা → ভিত্তিসমূহ)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الۡبَیۡتِ (বাইতি → ঘর/বাইত)
وَاِسۡمٰعِیۡلُ (ওয়াইছমাঈলু → ইসমাঈল)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
تَقَبَّلۡ (তাকাব্বাল → কবুল করুন)
مِنَّا (মিন্না → আমাদের থেকে)
اِنَّکَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই আপনি)
اَنۡتَ (আনতা → আপনিই)
السَّمِیۡعُ (ছামী‘উ → সর্বশ্রোতা)
الۡعَلِیۡمُ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ অর্থ:
এবং যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করছিলেন, তখন তারা বললেন,
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে এটি কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
আয়াত- ১২৮:
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
وَاجۡعَلۡنَا (ওয়াজা‘আলনা → আমাদের বানাও)
مُسۡلِمَیۡنِ (মুছলিমাইনি → আত্মসমর্পণকারী)
لَكَ (লাকা → তোমার জন্য)
وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং থেকে)
ذُرِّیَّتِنَاۤ (যুররিইইয়াতিনা → আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে)
اُمَّۃً (উম্মাতাম → একটি জাতি)
مُّسۡلِمَۃً (মুছলিমাতান → আত্মসমর্পণকারী গোত্র)
لَّكَ (ল্লাকা → তোমার জন্য)
وَاَرِنَا (ওয়া আরিনা → এবং আমাদের দেখাও)
مَنَاسِکَنَا (মানা-ছিকানা → আমাদের দাসত্বের বিধানসমূহ/আচার-অনুষ্ঠান/রীতিনীতি)
وَتُبۡ (ওয়াতুব → এবং তাওবা কবুল করো)
عَلَیۡنَا (‘আলাইনা → আমাদের উপর)
اِنَّكَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই তুমি)
اَنۡتَ (আনতা → তুমিই)
التَّوَّابُ (আত্তাওওয়া-বু → ক্ষমা প্রার্থনা)
الرَّحِیۡمُ (রাহীম → পরম দয়ালু)
পূর্ণ অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে তোমার আত্মসমর্পণকারী বানাও এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে তোমার অনুগত একটি জাতি সৃষ্টি করো। আমাদেরকে আমাদের দাসত্বের বিধানসমূহ দেখাও এবং আমাদের ক্ষমা প্রার্থনা কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।
আয়াত- ১২৯:
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
وَابۡعَثۡ (ওয়াব‘আছ → প্রেরণ করো)
فِیۡہِمۡ (ফীহিম → তাদের মধ্যে)
رَسُوۡلًا (রাছূলাম → একজন রাসূল)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকেই)
یَتۡلُوۡا (ইয়াতলূ → পাঠ করবে)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের কাছে)
اٰیٰتِکَ (আয়াতিকা → তোমার নিদর্শনসমূহ)
وَیُعَلِّمُہُمُ (ওয়া ইউ‘আল্লিমুহুম → এবং শিক্ষা দেবে তাদেরকে)
الۡکِتٰبَ (আল কিতাবা → গ্রন্থ)
وَالۡحِکۡمَۃَ (ওয়াল হিকমাতা → ও প্রজ্ঞা)
وَیُزَکِّیۡہِمۡ (ওয়া ইউঝাক্কীহিম → এবং পরিশুদ্ধ করবে তাদেরকে)
اِنَّكَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই তুমি)
اَنۡتَ (আনতা → তুমিই)
الۡعَزِیۡزُ (‘আঝীঝু → পরাক্রমশালী)
الۡحَکِیۡمُ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্যে তাদেরই একজন রাসূল প্রেরণ করো, যিনি তাদের কাছে তোমার নিদর্শনসমূহ (আয়াতসমূহ) পাঠ করবেন, তাদেরকে গ্রন্থ (কিতাব) ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ (যাকাত) করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত- ১৩০:
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর কে)
یَّرۡغَبُ (ইয়ারগাবু → বিমুখ হয়)
عَنۡ (আন → থেকে)
مِّلَّۃِ (মিল্লাতি → সম্প্রদায়ের জীবনবিধান)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইবরাহীমের)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
مَنۡ (মান → যে)
سَفِہَ (ছাফিহা → নির্বোধ হয়েছে)
نَفۡسَہٗ (নাফছাহু → নিজেকে)
وَلَقَدِ (ওয়ালাকাদি → অবশ্যই)
اصۡطَفَیۡنٰہُ (ইসতাফাইনাহু → আমরা তাকে মনোনীত করেছি)
فِی (ফি → মধ্যে)
الدُّنۡیَا (দ্দুনইয়া → দুনিয়ায়)
وَاِنَّہٗ (ওয়া ইন্নাহূ → এবং নিশ্চয়ই সে)
فِی (ফি → মধ্যে)
الۡاٰخِرَۃِ (আখিরাতি → পরকালে)
لَمِنَ (লামিনা → অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত)
الصّٰلِحِیۡنَ (আসসালিহীন → সৎকর্মশীলদের)
পূর্ণ অর্থ:
যে নিজেকে (নফসকে) নির্বোধ করেছে, সে ব্যতীত ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের জীবনবিধান হতে আর কে বিমুখ হবে। অবশ্যই পৃথিবীতে তাকে আমি মনোনীত করেছি; আর পরকালেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
আয়াত- ১৩১:
اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
لَہٗ (লাহূ → তাকে)
رَبُّہٗ (রাব্বুহূ → তার প্রতিপালক)
اَسۡلِمۡ (আছলিম → আত্মসমর্পণ করো)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
اَسۡلَمۡتُ (আছলামতু → আমি আত্মসমর্পণ করেছি)
لِرَبِّ (লিরাব্বি → প্রতিপালকের কাছে)
الۡعٰلَمِیۡنَ (‘আ-লামীন → সকল জগতের)
পূর্ণ অর্থ:
তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, ‘আত্মসমর্পণ কর’, সে বলেছিল, ‘জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম (আছলামতু লিরাব্বিল ‘আ-লামীন।)।’
আয়াত- ১৩২:
وَوَصّٰی (ওয়া ওয়াসসা → এবং অসিয়ত/ নির্দেশ দিয়েছিলেন)
بِہَاۤ (বিহা → এ বিষয়ে/এ কথা)
اِبۡرٰہٖمُ (ইবরা-হীমু → ইবরাহীম)
بَنِیۡہِ (বানীহি → তার সন্তানদেরকে)
وَیَعۡقُوۡبُ (ওয়া ইয়া‘কূবু → এবং ইয়াকূব)
یٰبَنِیَّ (ইয়া-বানিইইয়া → হে আমার সন্তানেরা)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
اصۡطَفٰی (আসতাফা → মনোনীত করেছেন)
لَکُمُ (লাকুমু → তোমাদের জন্য)
الدِّیۡنَ (দ্দীনা → দীন/ধর্ম)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَمُوۡتُنَّ (তামূতুন্না → তোমরা মৃত্যুবরণ করো না)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
وَاَنۡتُمۡ (ওয়া আনতুম → যখন তোমরা)
مُّسۡلِمُوۡنَ (মুছলিমূন → আত্মসমর্পণকারী/মুসলিম)
পূর্ণ অর্থ:
আর ইব্রাহীম ও ইয়াকুব এই বিষয়ে তাদের সন্তানদেরকে নির্দেশ (অসিয়ত করে) দিয়ে বলেছিল, ‘হে আমার সন্তানেরা আল্লাহ্ই তোমাদের জন্যে এ জীবণবিধানকে (দ্বীনকে) মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ কর না।
আয়াত- ১৩৩:
اَمۡ (আম → তবে কি)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
شُہَدَآءَ (শুহাদাআ → উপস্থিত/সাক্ষী)
اِذۡ (ইয → যখন)
حَضَرَ (হাদারা → উপস্থিত হলো)
يَعۡقُوۡبَ (ইয়াকূবা → ইয়াকূবের কাছে)
الۡمَوۡتُ (মাওতু → মৃত্যু)
اِذۡ (ইয → যখন)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
لِبَنِیۡہِ (লিবানীহি → তার সন্তানদেরকে)
مَا (মা → কি)
تَعۡبُدُوۡنَ (তা‘বুদূনা → তোমরা দাসত্ব/উপাসনা করবে)
مِنۡۢ (মিম → থেকে)
بَعۡدِیۡ (বা‘দী → আমার পরে)
قَالُوۡا (কা-লূ → তারা বলল)
نَعۡبُدُ (না‘বুদু → আমরা দাসত্ব/উপাসনা করবো)
اِلٰہَكَ (ইলা-হাকা → তোমার বিধানদাতা)
وَاِلٰـہَ (ওয়া ইলা-হা → এবং বিধানদাতা)
اٰبَآئِكَ (আ-বাইকা → তোমার পিতৃপুরুষদের)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইবরাহীম)
وَاِسۡمٰعِیۡلَ (ওয়া ইছমা-‘ঈলা → ইসমাঈল)
وَاِسۡحٰقَ (ওয়া ইছহা-কা → ইসহাক)
اِلٰـہًا (ইলা-হাওঁ → এক বিধানদাতা)
وَّاحِدًا (ওয়া-হিদাওঁ → একমাত্র)
وَّنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → এবং আমরা)
لَہٗ (লাহূ → তাঁর কাছে)
مُسۡلِمُوۡنَ (মুছলিমূন → আত্মসমর্পণকারী)
পূর্ণ অর্থ:
তবে কি তোমরা উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকূবের কাছে মৃত্যু উপস্থিত হলো? যখন তিনি তার সন্তানদেরকে বললেন, “আমার পরে তোমরা কাকে দাসত্ব করবে?” তারা বলল, “আমরা তোমার বিধানদাতা এবং তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের বিধানদাতা— একমাত্র বিধানদাতার দাসত্ব করবো। আর আমরা তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণকারী।”
আয়াত- ১৩৪:
تِلۡکَ (তিলকা → তা/সেই)
اُمَّۃٌ (উম্মাতুন → উম্মত/সম্প্রদায়)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
خَلَتۡ (খালাত → অতিক্রম করেছে/চলে গেছে)
لَہَا (লাহা → তার জন্য)
مَا (মা → যা)
کَسَبَتۡ (কাছাবাত → অর্জন করেছে)
وَلَکُمۡ (ওয়া লাকুম → আর তোমাদের জন্য)
مَّا (মা → যা)
کَسَبْتُمۡ (কাছাবতুম → অর্জন করেছ)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُسۡـَٔلُوۡنَ (তুছআলূনা → জিজ্ঞেস করা হবে)
عَمَّا (আম্মা → যা বিষয়ে)
کَانُوۡا (কা-নূ → তারা ছিল)
یَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া‘মালূন → কর্ম করত)
পূর্ণ অর্থ:
সেই ছিল এক উম্মত, তা অতীত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের। তোমরা যা অর্জন কর তা তোমাদের। তারা যা করত সে সম্বন্ধে তোমাদের কোন প্রশ্ন করা হবে না।
আয়াত- ১৩৫:
وَقَالُوۡا (ওয়া কা-লূ → তারা বলল)
كُوۡنُوۡ (কূনূ → হও)
ہُوۡدًا (হূদান → ফিরে আসা/প্রত্যাবর্তন করা/অনুতপ্ত হওয়া/সঠিক পথে ফিরে যাওয়া))
اَوۡ (আও → অথবা)
نَصٰرٰی (নাসা-রা → সাহায্য করা/সমর্থন করা/ সহায়তা দেওয়া)
تَہۡتَدُوۡا (তাহতাদূ → পথ খুঁজবে/সঠিক পথে চলবে)
قُلۡ (কূল → বলো)
بَلۡ (বাল → বরং)
مِلَّۃَ (মিল্লাতা → সম্প্রদায়ের জীবনবিধান)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইবরাহীম)
حَنِیۡفًا (হানীফান → একনিষ্ঠ, সরল, সঠিক পথের অনুসারী)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
کَانَ (কা-না → ছিল)
مِنَ (মিনা → এর মধ্যে)
الۡمُشۡرِکِیۡنَ (আল মুশরিকীন → শরীক স্থাপনকারী/অংশীদারকারী)
পূর্ণ অর্থ:
তারা বলল, “তুমি সঠিক পথে ফিরে আসা (ইহুদি) অথবা সাহায্যকারী (নাসারা) হও, তখনই তুমি সঠিক পথে চলবে।” বলো, “বরং ইবরাহীমের সম্প্রদায়ের জীবনবিধানই একনিষ্ঠ পথ,
এবং তিনি কখনো শরীক স্থাপনকারীদের মধ্যে ছিলেন না।”
আয়াত- ১৩৬:
قُوۡلُوۡۤا (কুলূ → তোমরা বলো)
اٰمَنَّا (আ-মান্না → আমরা বিশ্বাস এনেছি)
بِاللّٰہِ (বিল্লা-হি → আল্লাহর প্রতি)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اُنۡزِلَ (উনঝিলা → অবতীর্ণ হয়েছে)
اِلَیۡنَا (ইলাইনা → আমাদের প্রতি)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اُنۡزِلَ (উনঝিলা → অবতীর্ণ হয়েছে)
اِلٰۤی (ইলা → প্রতি)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরাহীমা → ইবরাহীমের)
وَاِسۡمٰعِیۡلَ (ওয়া ইছমাঈলা → ইসমাঈল)
وَاِسۡحٰقَ (ওয়া ইছহাকা → ইসহাক)
وَیَعۡقُوۡبَ (ওয়া ইয়া‘কূবা → ইয়াকূব)
وَالۡاَسۡبَاطِ (ওয়াল আছবাতি → এবং তাদের বংশধরগণ)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اُوۡتِیَ (ঊতিইয়া → প্রদান করা হয়েছে)
مُوۡسٰی (মূছা → মূসা)
وَعِیۡسٰی (ওয়া ‘ঈছা → ঈসা)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اُوۡتِیَ (ঊতিইয়া → প্রদান করা হয়েছে)
النَّبِیُّوۡنَ (নাবিইয়ূনা → নবীগণকে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّہِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
لَا (লা → না)
نُفَرِّقُ (নুফাররিকু → আমরা পার্থক্য করি)
بَیۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
اَحَدٍ (আহাদিম → কারো)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
وَنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → এবং আমরা)
لَہٗ (লাহূ → তাঁর কাছে)
مُسۡلِمُوۡنَ (মুছলিমূন → আত্মসমর্পণকারী)
পূর্ণ অর্থ:
তোমরা বলো, “আমরা বিশ্বাস করেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে,
এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের বংশধরদের প্রতি;
এবং যা প্রদান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে; এবং যা প্রদান করা হয়েছে নবীগণকে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না, এবং আমরা তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)।”
আয়াত- ১৩৭:
فَاِنۡ (ফা-ইন → অতএব যদি)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → তারা বিশ্বাস আনে)
بِمِثۡلِ (বিমিছলি → অনুরূপভাবে)
مَاۤ (মা → যা)
اٰمَنۡتُمۡ (আ-মানতুম → তোমরা বিশ্বাস এনেছ)
بِہٖ (বিহী → তাতে)
فَقَدِ (ফাকাদি → তবে অবশ্যই)
اہۡتَدَوۡا (ইয়া-তাদাও → তারা হেদায়াত পাবে)
وَاِنۡ (ওয়া-ইন → আর যদি)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَاِنَّمَا (ফাইন্নামা → তবে নিশ্চয়ই)
ہُمۡ (হুম → তারা)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
شِقَاقٍ (শিকা-কিন → বিরোধ/বিভেদে)
فَسَیَکۡفِیۡکَہُمُ (ফাছাইয়াকফীকাহুমু → শীঘ্রই তিনি তোমার জন্য যথেষ্ট হবেন তাদের বিরুদ্ধে)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَہُوَ (ওয়া হুয়া → এবং তিনিই)
السَّمِیۡعُ (ছামী‘উ → সর্বশ্রোতা)
الۡعَلِیۡمُ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ অর্থ:
অতএব তারা যদি তোমাদের মতো বিশ্বাস আনে, তবে অবশ্যই তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে।
আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই তারা বিভক্তিতে রয়েছে। সুতরাং আল্লাহ তোমার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট হবেন। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ
আয়াত- ১৩৮:
صِبۡغَۃَ (সিবগাতা → রঙ/ স্বভাবগত রঙ/ধরণ/ বৈশিষ্ট্য)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
وَمَنۡ (ওয়ামান → আর কে)
اَحۡسَنُ (আহছানু → অধিক উত্তম)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
صِبۡغَۃً (সিবগাতা → রঙে/ স্বভাবগত রঙে/ধরণে)
وَّنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → এবং আমরা)
لَہٗ (লাহু → তাঁরই জন্য)
عٰبِدُوۡنَ (‘আবিদূন → দ্বাসত্বকারী)
পূর্ণ অর্থ:
আল্লাহর বৈশিষ্ট্য (রঙ) ! আর আল্লাহর বৈশিষ্টের চেয়ে কে অধিক উত্তম? আর আমরা তো তাঁরই দ্বাসত্বকারী।
আয়াত- ১৩৯:
قُلۡ (কুল → বলো)
اَتُحَآجُّوۡنَنَا (আতুহাজ্জূনানা → তোমরা কি তর্ক করছ আমাদের সাথে)
فِی (ফি → সম্পর্কে)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
وَہُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তিনিই)
رَبُّنَا (রাব্বুনা → আমাদের প্রতিপালক)
وَرَبُّکُمۡ (ওয়া রাব্বুকুম → এবং তোমাদের প্রতিপালক)
وَلَنَاۤ (ওয়া লানা → আর আমাদের জন্য)
اَعۡمَالُنَا (আ‘মা-লূনা → আমাদের কাজসমূহ)
وَلَکُمۡ (ওয়া লাকুম → আর তোমাদের জন্য)
اَعۡمَالُکُمۡ (আ‘মা-লুকুম → তোমাদের কাজসমূহ)
وَنَحۡنُ (ওয়া নাহনু → এবং আমরা)
لَہٗ (লাহূ → তাঁর জন্যই)
مُخۡلِصُوۡنَ (মুখলিসূন → একনিষ্ঠ)
পূর্ণ অর্থ:
বলো, “তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের সাথে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের প্রতিপালক। আমাদের জন্য আমাদের কর্মসমূহ, আর তোমাদের জন্য তোমাদের কর্মসমূহ। আর আমরা তাঁর জন্যই একনিষ্ঠ।”
আয়াত- ১৪০:
اَمۡ (আম → কি)
تَقُوۡلُوۡنَ (তাকূলূনা → বলছ?)
اِنَّ (ইন্না → সত্যিই)
اِبۡرٰہٖمَ (ইবরা-হীমা → ইব্রাহিম)
وَاِسۡمٰعِیۡلَ (ওয়া ইছমা-‘ঈলা → এবং ইসমাঈল)
وَاِسۡحٰقَ (ওয়া ইছহা-কা → এবং ইসহাক)
وَيَعۡقُوۡبَ (ওয়া ইয়াকূবা → এবং ইয়াকূব)
وَالۡاَسۡبَاطَ (ওয়াল আছবা-তা → এবং তাদের বংশধরগণ)
كَانُوۡا (কা-নূ → কি ছিলেন)
ہُوۡدًا (হূদান → সঠিকভাবে ফিরে আসা (ইহুদি)
اَوۡ (আও → অথবা)
نَصٰرٰی (নাসা-রা → সাহায্যকারী (নাসারা)
قُلۡ (কুল → বলো)
ءََاَنۡتُمۡ (আ’আনতুম → তুমি কি)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → জানো অধিক)
اَمِ (আমি → না কি)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহর)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর কে)
اَظۡلَمُ (আজলামু → অধিক অবিচারকারী)
مِمَّنۡ (মিম্মান → যিনি)
کَتَمَ (কাতামা → গোপন করল)
شَہَادَۃً (শাহা-দাতান → সাক্ষ্য)
عِنۡدَہٗ (ইন্দাহূ → তাঁর কাছে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰہِ (আল্লা-হি → আল্লাহর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং নয়)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
بِغَافِلٍ (বিগা-ফিলিন → অসচেতন)
عَمَّا (আম্মা → যা)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা করছ)
পূর্ণ অর্থ:
তোমরা কি বলছ, ‘ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব এবং তাদের বংশধরগণ ছিলেন সঠিকভাবে ফিরে আসা (ইহুদি) বা সাহায্যকারী (নাসারা) ? বলো, তোমরা কি বেশি জানো, না আল্লাহ? যিনি আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য লুকিয়েছে আর কে তার চেয়ে অধিক অবিচারকারী ? আর আল্লাহ তোমরা যা করছ, তা থেকে অসচেতন নন।
আয়াত- ১৪১:
تِلۡکَ (তিলকা → সেই)
اُمَّۃٌ (উম্মাতুন → সম্প্রদায়)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
خَلَتۡ (খালাত → চলে গেছে/অতীত হয়েছে)
لَہَا (লাহা → তার জন্য)
مَا (মা → যা)
کَسَبَتۡ (কাছাবাত → অর্জন করেছে)
وَلَکُمۡ (ওয়া লাকুম → আর তোমাদের জন্য)
مَّا (মা → যা)
کَسَبۡتُمۡ (কাছাব তুম → অর্জন করেছ)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تُسۡـَٔلُوۡنَ (তুছআলূনা → জিজ্ঞেস করা হবে)
عَمَّا (‘আম্মা → যা সম্পর্কে)
کَانُوۡا (কা-নূ → তারা ছিল)
یَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া‘মালূন → কাজ করত)
পূর্ণ অর্থ:
সেই সম্প্রদায় ছিল, যা অতীত হয়ে গেছে। তার জন্য যা তারা অর্জন করেছে, আর তোমাদের জন্য যা তোমরা অর্জন করেছ। আর তারা যা কর্ম করত সে বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।
আয়াত- ১৪২:
سَیَقُوۡلُ (ছাইয়াকূলু → বলবে)
السُّفَہَآءُ (ছুফাহাউ → বিবেকহীন)
مِنَ (মিন → মধ্য থেকে)
النَّاسِ (আন্না-ছি → মানুষের)
مَا (মা → যা)
وَلّٰہُمۡ (ওয়াল্লা-হুম → তারা ফিরেছে)
عَنۡ (‘আন → থেকে)
قِبۡلَتِہِمُ (কিবলাতিহিমু → তাদের লক্ষ্য)
الَّتِیۡ (আল্লাতী → যা)
کَانُوۡا (কা-নূ → তারা ছিল)
عَلَیۡہَا (‘আলাইহা → তার ওপর)
قُلۡ (কুল → বলো)
لِّلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
الۡمَشۡرِقُ (মাশরিকু → যেখান থেকে আলো আসে/আলো আসার স্থান (পূর্ব)
وَالۡمَغۡرِبُ (ওয়াল মাগরিবু → এবং আলো চলে যাওয়ার স্থান (পশ্চিম)
یَہۡدِی (ইয়াহদী → তিনি পথ দেখান)
مَن (মাইঁ → যাকে)
یَّشَآءُ (ইয়াশাউ → ইচ্ছা করে)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
صِرَاطٍ (সিরা-তিন → পথ)
مُّسۡتَقِیۡمٍ (মুছতাকীম → সঠিক/সরাসরি)
পূর্ণ অর্থ:
বিবেকহীন মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ বলবে, তারা কেন তাদের মূল লক্ষ্য (কিবলা) থেকে ফিরেছে? বলো: আলো আসা ও যাওয়ার স্থান (পূর্ব ও পশ্চিম) আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।
আয়াত- ১৪৩:
وَکَذٰلِکَ (ওয়া কাযা-লিকা → এভাবেই)
جَعَلۡنٰکُمۡ (জা‘আলনা-কুম → আমরা করেছি তোমাদের)
اُمَّۃً (উম্মাতা → সম্প্রদায়)
وَّسَطًا (ওয়াছাতাল → ভারসাম্যপূর্ণ/সামঞ্জস্যপূর্ণ)
لِّتَکُوۡنُوۡا (লিতাকূনূ → যাতে হও)
شُہَدَآءَ (শুহাদাআ → সাক্ষী)
عَلَی (‘আলা → প্রতি)
النَّاسِ (আন্না-ছি → মানুষের)
وَیَکُوۡنَ (ইয়াকূনার → হবে)
الرَّسُوۡلُ (রাছূলু → বার্তাবাহক)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের প্রতি)
شَہِیۡدًا (শাহীদা → সাক্ষী)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
جَعَلۡنَا (জা‘আলনা → আমরা করেছি)
الۡقِبْلَۃَ (কিবলাতাল → লক্ষ্য)
الَّتِیۡ (আল্লাতী → যা)
کُنۡتَ (কুনতা → তুমি ছিলে)
عَلَیۡہَا (‘আলাইহা → তার দিকে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
لِنَعۡلَمَ (লিনা‘লামা → যেন আমরা জানি)
مَن (মান → কে)
یَّتَّبِعُ (ইয়াত্তাবিউ → অনুসরণ করে)
الرَّسُوۡلَ (রাছূলা → বার্তাবাহককে)
مِمَّن (মিম্মান → এবং কে)
یَّنۡقَلِبُ (ইয়ানকালিবু → ফিরে যায়)
عَلٰی (আলা → উপর)
عَقِبَیۡہِ (‘আকিবাইহি → তার পিছু)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → এবং যদি)
کَانَتۡ (কা-নাত → এটা)
لَکَبِیۡرَۃً (লাকাবীরাতান → বড় ব্যাপার)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
عَلَی (আলাল → শুধুমাত্র)
الَّذِیۡنَ (ল্লাযীনা → যারা)
ہَدَی (হাদা → আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
کَانَ (কা-না → হতে পারে)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
لِیُضِیۡعَ (লিইউদী‘আ → নষ্ট করতে)
اِیۡمَانَکُمۡ (ঈমা-নাকুম → তোমাদের ঈমান)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লা-হা → আল্লাহ)
بِالنَّاسِ (বিন্না-ছি → মানুষের প্রতি)
لَرَءُوۡفٌ (লা-রাঊফু → দয়ালু)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → করুণাময়)
পূর্ণ অর্থ:
এভাবেই আমি তোমাদের ভারসাম্যপূর্ণ সম্প্রদায় করেছি, যাতে মানুষদের প্রতি সাক্ষী হও, এবং রসূল তোমাদের প্রতি সাক্ষী থাকবেন। তুমি যে লক্ষ্যের দিকে ছিলে, আমি সেটিকে নির্ধারণ করেছি শুধু জানতে যে, কে রসূলকে অনুসরণ করবে আর কে তার পিছু ফিরে যাবে। এটি বড় ব্যাপার হতে পারে, তবে শুধুমাত্র তাদের জন্য যাকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন। এবং আল্লাহ তোমাদের বিশ্বাস নষ্ট করতে চান না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়ালু এবং করুণাময়।
আয়াত- ১৪৪:
قَدۡ (কাদ → নিশ্চয়ই)
نَرٰى (না-রা → আমরা দেখছি)
تَقَلُّبَ (তাকাল্লুবা → ঘোরাফেরা)
وَجۡہِکَ (ওয়াজহিকা → তোমার চেহারা/ মুখ/মুখমণ্ডল)
فِی (ফি → মধ্যে)
السَّمَآءِ (ইছ-ছামাই → আকাশে)
فَلَنُوَلِّیَنَّکَ (ফালানুওয়ালিলয়ান্নাকা → আমরা অবশ্যই ফিরাবো)
قِبۡلَۃً (কিবলাতান → লক্ষ্যকে)
تَرۡضٰہَا (তারদাহা → যা তোমাকে সন্তুষ্ট করে)
فَوَلِّ (ফাওয়ালিল → ফিরাও/ঘুরাও)
وَجۡہَکَ (ওয়াজহাকা → তোমার অভিব্যক্তি/ মুখ/চেহারা)
شَطۡرَ (শাতরাল → দিকে/অংশে)
الۡمَسۡجِدِ (মাছজিদিল → প্রার্থনার স্থান)
الۡحَرَامِ (হারা-মি → নিষিদ্ধ/সম্মানিত/পবিত্র/নিরাপদ)
وَحَیۡثُ (ওয়া হাইছু → যেখানে)
مَا (মা → যা)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
فَوَلُّوۡا (ফাওয়াললূ → ঘুরাও)
وُجُوۡہَکُمۡ (উজূহাকুম → তোমাদের অভিব্যক্তি/ মুখমন্ডল)
شَطۡرَہٗ (শাতরাহূ → তার দিকে)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই)
الَّذِینَ (আল্লাযীনা → যারা)
اُوۡتُوا (ঊতু → দেওয়া হয়েছে)
الۡکِتٰبَ (কিতা-বা → গ্রন্থ)
لَیَعۡلَمُوۡنَ (লাইয়া‘লামূনা → তারা অবশ্যই জানে)
اَنَّہُ (আন্নাহু → যে এটি)
الۡحَقُّ (হাক্কুম → সত্য)
مِنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّہِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
بِغَافِلٍ (বিগা-ফিলিন → অবহেলা করে)
عَمَّا (‘আম্মা → যা)
یَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া‘মালূন → তারা কাজ করে)
পূর্ণ অর্থ:
আমি তোমার চেহারা আকাশের দিকে ফিরাতে দেখছি, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে এমন লক্ষ্যের দিকে ফেরাবো যা তোমাকে সন্তুষ্ট করবে। তোমার চেহারাকে নিরাপদ প্রার্থনার স্থানের দিকে ফিরাও। যেখানেই তোমরা অবস্থান করবে, তোমার চেহারাও সেই দিকে ফিরাও। নিশ্চয়ই যারা কিতাব পেয়েছে তারা জানে যে এটি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য। এবং আল্লাহ তাদের কাজের বিষয়ে কখনোই উদাসীন না।
আয়াত- ১৪৫:
وَلَئِنۡ (ওয়া-লা-ইন → এবং যদি)
اَتَیۡتَ (আতা-ইতা → তুমি যাও)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اُوۡتُوا (ঊতু → দেওয়া হয়েছে)
الۡکِتٰبَ (কিতাবা → গ্রন্থ)
بِکُلِّ (বিকুল্লি → প্রতিটি)
اٰیَۃٍ (আ-য়াতিম → নিদর্শন)
مَّا (মা → না)
تَبِعُوۡ (তাবিউ → তারা অনুসরণ করে)
قِبۡلَتَکَ (কিবলাতাকা → তোমার লক্ষ্য)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং না)
اَنۡتَ (আন্তা → তুমি)
بِتَابِعٍ (বিতাবি‘ → অনুসরণকারী)
قِبۡلَتَہُمۡ (কিবলাতাহুম → তাদের লক্ষ্য)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
بَعۡضُہُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের মধ্যে কেউ)
بِتَابِعٍ (বিতাবি‘ → অনুসরণকারী)
قِبۡلَۃَ (কিবলাত → লক্ষ্য)
بَعۡضٍ (বা‘দিন → আরেকজনের)
وَلَئِن (ওয়া-লা-ইন → এবং যদি)
اِتَّبَعۡتَ (ইত্তাব‘তা → তুমি অনুসরণ করো)
اَہۡوَآہُمۡ (আহওয়াআহুম → তাদের ইচ্ছা)
مِّنۡۢ (মিম → থেকে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পরে)
مَا (মা → যা)
جَآءَکَ (জাআকা → তোমার কাছে এসেছে)
مِنَ (মিন → থেকে)
الۡعِلۡمِ (ইলমি → জ্ঞান/তথ্য)
اِنَّکَ (ইন্নাকা → নিশ্চয়ই তুমি)
اِذًا (ইযাল্লা → তখন)
لَّمِنَ (লামিন → হয়ে যাবে)
الظّٰلِمِیۡنَ (জ্জালিমীন → অন্যায়কারী/অধিকারভ্রষ্ট)
পূর্ণ অর্থ:
যাদেরকে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে তুমি যদি তাদের নিকট সমস্ত নিদর্শন (আয়াত) পেশ কর, তবুও তারা তোমার লক্ষ্যের অনুসরণ করবে না; আর তুমিও তাদের লক্ষ্যের অনুসারী নও, আর তারাও পরস্পরের লক্ষ্যের অনুসারী নয়। তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর তুমি যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কর, নিশ্চয়ই তখন তুমি অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আয়াত- ১৪৬:
اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰتَیۡنٰہُمُ (আ-তাইনা-হুমু → আমরা তাদের দিয়েছি)
الۡکِتٰبَ (কিতা-বা → গ্রন্থ)
یَعۡرِفُوۡنَہٗ (ইয়া‘রিফূনাহূ → তারা চিনে/জানে এটি)
کَمَا (কামা → যেমন)
یَعۡرِفُوۡنَ (ইয়া‘রিফূনা → তারা জানে)
اَبۡنَآءَہُمۡ (আবনা-‘আহুম → তাদের সন্তানদের)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই)
فَرِیۡقًا (ফারীকা → একটি দল)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
لَیَکۡتُمُوۡنَ (লাইয়াকতুমূনা → তারা লুকায়/গোপন করে)
الۡحَقَّ (হাক্কা → সত্য)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
یَعۡلَمُوۡنَ (ইয়া‘লামূন → জানে)
পূর্ণ অর্থ:
আমি যাদেরকে গ্রন্থ দিয়েছি তারা এটিকে চিনে, যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে।
কিন্তু তাদের মধ্যে একটি দল সত্য লুকায়, অথচ তারা তা জানে।
আয়াত- ১৪৭:
اَلۡحَقُّ (আল-হাক্কু → সত্য)
مِنۡ (মিন → থেকে/প্রতি)
رَّبِّکَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালক)
فَلَا (ফালা → অতএব না)
تَکُوۡنَنَّ (তাকূনান্না → হও)
مِنَ (মিনা → মধ্যে)
الۡمُمۡتَرِیۡنَ (আল-মুমতারীন → সন্দেহপ্রবণ/সংশয়কারী)
পূর্ণ অর্থ:
সত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে, অতএব তুমি সন্দেহপ্রবণদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আয়াত- ১৪৮:
وَلِکُلٍّ (ওয়া-লিকুল্লি → প্রত্যেকের জন্য)
وِّجۡہَۃٌ (ওয়াবিজহাতুন → মুখ/চেহারা/দৃষ্টিভঙ্গি)
ہُوَ (হুওয়া → সে)
مُوَلِّیۡہَا (মুওয়াল্লীহা → নিয়ন্ত্রণকারী/প্রতিনিধি)
فَاسۡتَبِقُوا (ফাছতাবিকূ → প্রতিযোগিতা করো/স্পর্ধা করো)
الۡخَیۡرٰتِ (আল-খাইরাতি → সৎকর্মে/ভাল কাজে)
اَیۡنَ (আইনা → যেখানে)
مَا (মা → যা)
تَکُوۡنُوۡ (তাকূনূ → তোমরা থাকো)
یَاۡتِ (ইয়া’তি → আনে/নিয়ে আসে)
بِکُمُ (বিকুমু → তোমাদের সঙ্গে)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
جَمِیۡعًا (জামীআন → সবাইকে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
عَلٰی (‘আলা → উপর)
کُلِّ (কুল্লি → সমস্ত)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়/কিছু)
قَدِیۡرٌ (কাদীর → সামর্থ্যবান/ক্ষমতাশালী)
পূর্ণ অর্থ:
প্রত্যেকের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা সে নিয়ন্ত্রণ করে, অতএব সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করো। তুমি যেখানে থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সামর্থ্যবান।
আয়াত- ১৪৯:
وَمِنۡ (ওয়া-মিন → এবং যেখান থেকে)
حَیۡثُ (হাইছু → যেখানে)
خَرَجۡتَ (খারাজতা → তুমি বের হয়েছ)
فَوَلِّ (ফাওয়ালিল → মুখ ফিরিয়ে নেওয়া/ অবস্থান পরিবর্তন করা)
وَجۡہَکَ (ওয়াজহাকা → তোমার মুখ/দৃষ্টিভঙ্গি/চেহারা )
شَطۡرَ (শাতরা → দিকে)
الۡمَسۡجِدِ (আল-মাসজিদি → প্রার্থনার স্থানটিতে)
الۡحَرَامِ (আল-হারা-মি → নিরাপদ/ সুরক্ষিত )
وَاِنَّہٗ (ওয়া ইন্নাহু → এবং নিশ্চয়ই এটি)
لَلۡحَقُّ (লাল-হাক্কু → সত্য/নিশ্চয়ই সত্য)
مِنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّکَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালক)
وَمَا (ওয়া মা → এবং নয়)
اللّٰہُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)
بِغَافِلٍ (বিগা-ফিলিন → উদাস/অসচেতন)
عَمَّا (আম্মা → যে বিষয়ে)
تَعۡمَلُوۡنَ (তা‘মালূন → তোমরা কাজ করছ)
পূর্ণ অর্থ:
যেখানে তুমি বের হও, তোমার চেহারা ফিরাও নিরাপদ প্রার্থনার স্থানের দিকে। এটি নিশ্চয়ই সত্য, তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে। আর আল্লাহ তোমাদের কাজ থেকে একটুও উদাসীন নন।
আয়াত- ১৫০:
وَمِنۡ (ওয়া-মিন → এবং যেখান থেকে)
حَیۡثُ (হাইছু → যেখানে)
خَرَجۡتَ (খারাজতা → তুমি বের হয়েছ)
فَوَلِّ (ফাওয়ালিল → মুখ ফিরিয়ে নেওয়া/ অবস্থান পরিবর্তন করা)
وَجۡہَکَ (ওয়াজহাকা → তোমার মুখ/চেহারা/দৃষ্টিভঙ্গি)
شَطۡرَ (শাতরা → দিকে)
الۡمَسۡجِدِ (আল-মাসজিদি → প্রার্থনার স্থানে)
الۡحَرَامِ (আল-হারা-মি → সুরক্ষিত/নিরাপদ)
وَحَیۡثُ (ওয়া হাইছু → এবং যেখানে)
مَا (মা → যা)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলেন)
فَوَلُّوۡا (ফাওয়াললূ → মুখ ফিরিয়ে নেওয়া/অবস্থান পরিবর্তন করা)
وُجُوۡہَکُمۡ (উজূহাকুম → তোমাদের মুখ)
شَطۡرَہٗ (শাতরাহু → সেই দিকে)
لِئَلَّا (লিআল্লা → যেন না হয়)
یَکُوۡنَ (ইয়াকূনা → হয়)
لِلنَّاسِ (লিন্না-ছি → মানুষের জন্য)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
حُجَّۃٌ (হুজ্জাতুন → কোনো প্রমাণ/দলিল)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
ظَلَمُوۡ (জালামূ → অত্যাচার/সীমালঙ্গন করেছে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَخۡشَوۡہُمۡ (তাখশাওহুম → তাদের ভয়ের)
وَاخۡشَوۡنِیۡ (ওয়া খশাওনী → এবং আমার ভয়ের)
وَلِاُتِمَّ (ওয়ালিউতিম্মা → যেন আমি সম্পূর্ণ করি)
نِعۡمَتِیۡ (নি‘মাতী → আমার অনুগ্রহ)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَلَعَلَّکُمۡ (ওয়া লা‘আল্লাকুম → যাতে হয় যে)
تَہۡتَدُوۡنَ (তাহতাদূন → তুমি/তোমরা সঠিক পথে চল)
পূর্ণ অর্থ:
যেখান থেকে তুমি বের হও, দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাও নিরাপদ প্রার্থনার স্থানের দিকে, এবং যেখানেই তুমি থাকো, দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাও সেই দিকে। যেন মানুষের উপর তোমাদের কোনো প্রমাণ না থাকে, কেবল যারা তাদের মধ্যে অত্যাচারী হয়েছে। সুতরাং তাদের ভয় করো না, আমায় ভয় করো। আর আমি যেন আমার অনুগ্রহ তোমাদের উপর সম্পূর্ণ করি, যাতে তোমরা সঠিক পথে চলতে পার।
