সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ২৮৬

আয়াত – ২৫১:

فَهَزَمُوۡهُمۡ (ফাহাঝামূহুম → অতঃপর তারা পরাজিত করল তাদের)
بِاِذۡنِ اللّٰهِ (বিইযনিল্লাহি → আল্লাহর অনুমতিতে)

وَقَتَلَ (ওয়া কাতালা → এবং হত্যা করল)
دَاوٗدُ (দাঊদু → দাউদ)
جَالُوۡتَ (জালূতা → জালুতকে)

وَاٰتٰىهُ (ওয়া আ-তা-হু → এবং তিনি তাকে দান করলেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
الۡمُلۡكَ (আল মুলকা → রাজত্ব)
وَالۡحِكۡمَةَ (ওয়াল হিকমাতা → প্রজ্ঞা)

وَعَلَّمَهٗ (ওয়া ‘আল্লামাহু → এবং তাকে শিক্ষা দিলেন)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
يَشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)

وَلَوۡلَا (ওয়া লাওলা → আর যদি না হতো)
دَفۡعُ (দাফ‘উ → প্রতিরোধ করা)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
النَّاسَ (আন্নাছা → মানুষকে)
بَعۡضَهُمۡ (বা‘দাহুম → তাদের একদলকে)
بِبَعۡضٍ (বিবা‘দিন → অন্য দলের মাধ্যমে)

لَّفَسَدَتِ (লাফাছাদাতি → অবশ্যই বিপর্যস্ত হয়ে যেত)
الۡاَرۡضُ (আল আরদু → পৃথিবী)

وَلٰكِنَّ (ওয়া লাকিন্না → কিন্তু)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
ذُوۡ فَضۡلٍ (যূফাদলিন → অনুগ্রহশীল)
عَلَى (আলা → উপর)
الۡعٰلَمِیۡنَ (আল ‘আলামীন → সমগ্র জগতের)

বাংলা অর্থ:

অতঃপর তারা আল্লাহর অনুমতিতে তাদের পরাজিত করল। আর দাউদ জালুতকে হত্যা করলেন। এবং আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং যা ইচ্ছা শিক্ষা দিলেন।

আর যদি আল্লাহ মানুষের একদলকে অন্যদলের মাধ্যমে প্রতিরোধ না করতেন, তবে পৃথিবী অবশ্যই বিপর্যস্ত হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ সমগ্র জগতের উপর অনুগ্রহশীল।


আয়াত – ২৫২:

تِلۡكَ (তিলকা → এগুলো)
اٰیٰتُ (আয়াতু → আয়াতসমূহ)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)

نَتۡلُوۡهَا (নাতলূহা → আমরা তিলাওয়াত করি/পাঠ করি)
عَلَيۡكَ (আলাইকা → তোমার নিকট)
بِالۡحَقِّ (বিলহাক্কি → সত্যসহ/সত্যভাবে)

وَاِنَّكَ (ওয়া ইন্নাকা → এবং নিশ্চয়ই তুমি)
لَمِنَ (লামিন → অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُرۡسَلِيۡنَ (আল মুরসালীন → প্রেরিত রাসূলদের মধ্যে)

বাংলা অর্থ:

এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহ, যা আমরা তোমার কাছে সত্যসহ তিলাওয়াত করি। আর নিশ্চয়ই তুমি প্রেরিত রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত।


আয়াত – ২৫৩:

تِلۡكَ (তিলকা → এরা)
الرُّسُلُ (আর রুসুলু → রাসূলগণ)

فَضَّلۡنَا (ফাদ্দালনা → আমরা মর্যাদা দিয়েছি)
بَعۡضَهُمۡ (বা‘দাহুম → তাদের কিছু অংশকে)
عَلٰى بَعۡضٍ (আলা বা‘দিন → অন্যদের উপর)

مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
مَنۡ (মান → কেউ)
كَلَّمَ (কাল্লামা → যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন)
اللّٰهُ (আল্লা-হু → আল্লাহ)

وَرَفَعَ (ওয়া রাফা‘আ → এবং উঁচু করেছেন)
بَعۡضَهُمۡ (বা‘দাহুম → তাদের কিছুজনকে)
دَرَجٰتٍ (দারাজাতিন → মর্যাদাসমূহে)

وَاٰتَيۡنَا (ওয়া আ-তাইনা → এবং আমরা দিয়েছি)
عِیۡسَى ابۡنَ مَرۡيَمَ (ঈসা ইবন মারইয়ামা → মরিয়মের পুত্র ঈসাকে)
الۡبَيِّنٰتِ (আল বাইয়িনা-তি → স্পষ্ট প্রমাণসমূহ)

وَاَيَّدۡنٰهُ (ওয়া আয়্যাদনা-হু → এবং আমরা তাকে শক্তিশালী করেছি)
بِرُوۡحِ الۡقُدُسِ (বিরূহিল কুদুস → পবিত্র আত্মা মাধ্যমে)

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰهُ (ওয়া লাও শাআল্লাহু → আর যদি আল্লাহ চাইতেন)
مَا اقۡتَتَلَ (মা ইকতাতালা → তারা যুদ্ধ করত না)
الَّذِيۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
مِنۡ بَعۡدِهِمۡ (মিন বা‘দিহিম → তাদের পরে)

مِنۡ بَعۡدِ (মিন বা‘দি → পরে)
مَا جَآءَتۡهُمُ (মা জাআতহুমু → যখন তাদের কাছে এসেছে)
الۡبَيِّنٰتُ (আল বাইয়িনাতু → স্পষ্ট প্রমাণসমূহ)

وَلٰكِنِ (ওয়া লাকিনি → কিন্তু)
اخۡتَلَفُوۡا (ইখতালাফূ → তারা মতভেদ করল)

فَمِنۡهُمۡ (ফামিনহুম → তাদের মধ্যে কেউ)
مَنۡ اٰمَنَ (মান আমানা → ঈমান আনল)
وَمِنۡهُمۡ مَنۡ كَفَرَ (ওয়া মিনহুম মান কাফারা → এবং কেউ অস্বীকার করল)

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰهُ (ওয়া লাও শাআল্লা-হু → আর যদি আল্লাহ চাইতেন)
مَا اقۡتَتَلُوۡا (মা ইকতাতালূ → তারা যুদ্ধ করত না)

وَلٰكِنَّ اللّٰهَ (ওয়া লা-কিন্নাল্লা-হা → কিন্তু আল্লাহ)
يَفۡعَلُ (ইয়াফ‘আলু → করেন)
مَا يُرِيۡدُ (মা ইউরীদু → যা তিনি চান)

বাংলা অর্থ:

এই রাসূলগণ—তাদের মধ্যে আমরা কাউকে অন্যের উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমনও আছেন যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কাউকে মর্যাদায় উঁচু করেছেন।

আর আমরা ঈসা ইবন মারইয়ামকে স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছি এবং তাঁকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি। আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তাদের পরবর্তী লোকেরা স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও যুদ্ধ করত না। কিন্তু তারা মতভেদ করল—তাদের কেউ ঈমান আনল, আর কেউ অস্বীকার করল। আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তারা যুদ্ধ করত না; কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন।


আয়াত – ২৫৪:

یٰۤاَیُّهَا (ইয়া-আইয়ুহা → হে)
الَّذِيۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আমানূ → ঈমান এনেছে)

اَنۡفِقُوۡا (আনফিকূ → ব্যয় করো/দান করো)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
رَزَقۡنٰكُمۡ (রাঝাকনাকুম → আমরা তোমাদের রিজিক দিয়েছি)

مِّنۡ قَبۡلِ (মিন কাবলি → আগে)
اَنۡ يَّاۡتِيَ (আন ইয়াতিয়া → আসার আগে)
يَوۡمٌ (ইয়াওমুন → এমন একটি দিন)

لَّا بَيۡعٌ (লা বাই‘উন → কোনো কেনাবেচা নেই)
فِيۡهِ (ফীহি → সেই দিনে)
وَلَا خُلَّةٌ (ওয়া লা খুল্লাতুন → কোনো বন্ধুত্ব নেই)
وَلَا شَفَاعَةٌ (ওয়া লা শাফা‘আতুন → কোনো সুপারিশ নেই)

وَالۡكَافِرُوۡنَ (ওয়াল কা-ফিরূন → আর যারা অস্বীকার করে)
هُمُ (হুমু → তারাই)
الظّٰلِمُوۡنَ (আজ-জালিমূন → অন্যায়কারী)

বাংলা অর্থ:

হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো সেই দিনের আগে, যেদিন কোনো কেনাবেচা থাকবে না, কোনো বন্ধুত্ব থাকবে না এবং কোনো সুপারিশও গ্রহণ করা হবে না। আর যারা অবিশ্বাস করে তারাই প্রকৃত জালিম।


আয়াত – ২৫৫:

اَللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَاۤ اِلٰهَ (লা ইলাহা → কোনো বিধানদাতা নেই)
اِلَّا هُوَ (ইল্লা হুয়া → তিনি ছাড়া)

اَلۡحَيُّ (আল হাইয়্যু → চিরজীবী)
الۡقَيُّوۡمُ (আল কাইয়্যূমু → সবকিছুর ধারক ও পরিচালনাকারী)

لَا تَاۡخُذُهٗ (লা তা’খুযুহু → তাঁকে আচ্ছন্ন করে না)
سِنَةٌ (সিনাতুন → তন্দ্রা)
وَلَا نَوۡمٌ (ওয়া লা নাওমুন → এবং না ঘুম)

لَهٗ (লাহু → তাঁরই)
مَا فِي السَّمٰوٰتِ (মা ফিস সামাওয়াতি → আসমানসমূহে যা কিছু আছে)
وَمَا فِي الۡاَرۡضِ (ওয়া মা ফিল আরদি → এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে)

مَنۡ ذَا الَّذِيۡ (মান যাল্লাযী → কে এমন আছে যে)
يَشۡفَعُ (ইয়াশফা‘উ → সুপারিশ করতে পারে)
عِنۡدَهٗ (ইনদাহু → তাঁর কাছে)
اِلَّا بِاِذۡنِهٖ (ইল্লা বিইযনিহী → তাঁর অনুমতি ছাড়া)

يَعۡلَمُ (ইয়া‘লামু → তিনি জানেন)
مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ (মা বাইনা আইদীহিম → তাদের সামনে যা আছে)
وَمَا خَلۡفَهُمۡ (ওয়া মা খালফাহুম → এবং যা তাদের পেছনে আছে)

وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ (ওয়া লা ইউহীতূনা → তারা আয়ত্ত করতে পারে না)
بِشَيۡءٍ (বিশাইইন → কোনো কিছু)
مِّنۡ عِلۡمِهٖ (মিন ‘ইলমিহী → তাঁর জ্ঞানের)
اِلَّا بِمَا شَآءَ (ইল্লা বিমা শা’আ → তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া)

وَسِعَ (ওয়াসি‘আ → পরিব্যাপ্ত হয়েছে)
كُرۡسِيُّهُ (কুরসিয়্যুহু → তাঁর কুরসি/তাঁর কর্তৃত্বের আসন)
السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ (আসমান ও পৃথিবী)

وَلَا يَـُٔوۡدُهٗ (ওয়া লা ইয়াউদুহু → তাঁর জন্য ভারী হয় না)
حِفۡظُهُمَا (হিফযুহুমা → তাদের সংরক্ষণ)

وَهُوَ (ওয়া হুয়া → আর তিনি)
الۡعَلِيُّ (আল আলিয়্যু → সর্বোচ্চ)
الۡعَظِيۡمُ (আল আযীম → মহান)

বাংলা অর্থ:

আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। তিনি চিরজীবী, সর্বকিছুর ধারক ও বাহক। তাঁকে তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করে না। আসমান ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কে সুপারিশ করবে? তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তিনি যতটুকু চান তা ছাড়া। তাঁর কর্তৃত্বের আসন আসমান ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। তাদের সংরক্ষণ তাঁর জন্য কোনো ভার সৃষ্টি করে না। আর তিনি সর্বোচ্চ, সর্বমহান।


আয়াত – ২৫৬:

لَاۤ (লা → না)
اِكۡرَاهَ (ইকরাহা → জোর-জবরদস্তি)
فِي الدِّينِ (ফিদ্দীনি → ধর্মে/জীবণব্যবস্থায়)

قَدۡ (কাদ → নিশ্চয়ই)
تَّبَيَّنَ (তাবাইয়ানা → স্পষ্ট হয়েছে)
الرُّشۡدُ (আর-রুশদু → সঠিক পথ)
مِنَ الۡغَيِّ (মিনাল গাইয়ি → ভ্রান্তি থেকে)

فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে ব্যক্তি)
يَّكۡفُرۡ (ইয়াকফুর → অস্বীকার করে)
بِالطَّاغُوۡتِ (বিত্তা-গূতি → সকল মিথ্যা বিধানদাতা)
وَيُؤۡمِنۡ (ওয়া ইউ’মিন → এবং ঈমান আনে)
بِاللّٰهِ (বিল্লা-হি → আল্লাহর প্রতি)

فَقَدِ (ফাকাদ → তবে সে অবশ্যই)
اسۡتَمۡسَكَ (ইস্তামছাকা → দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে)
بِالۡعُرۡوَةِ الۡوُثۡقٰى (বিল উরওয়াতিল উসকা → মজবুত হাতল/অটুট ভিত্তি)

لَا انۡفِصَامَ لَهَا (লা ইনফিসামা লাহা → যা কখনো ভাঙবে না)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
سَمِيۡعٌ (সামী‘উন → সর্বশ্রোতা)
عَلِيۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

জীবণব্যবস্থার ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। সঠিক পথ ভ্রান্ত পথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি সকল মিথ্যা বিধানদাতা অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, সে অবশ্যই এমন এক দৃঢ় অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরেছে যা কখনো ভাঙবে না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ২৫৭:

اَللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَلِيُّ (ওয়ালিয়্যু → অভিভাবক)
الَّذِيۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছে)

يُخۡرِجُهُمۡ (ইউখরিজুহুম → তিনি তাদের বের করেন)
مِّنَ الظُّلُمٰتِ (মিনাজ্জুলুমাতি → অন্ধকার থেকে)
اِلَى النُّوۡرِ (ইলান নূরি → আলোতে)

وَالَّذِيۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَفَرُوۡا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে)
اَوۡلِيَآؤُهُمُ (আওলিয়াউহুমু → তাদের অভিভাবকরা)
الطَّاغُوۡتُ (আত-তা-গূতু → মিথ্যা বিধানদাতা)

يُخۡرِجُوۡنَهُمۡ (ইউখরিজূনাহুম → তারা তাদের বের করে)
مِّنَ النُّوۡرِ (মিনান নূরি → আলো থেকে)
اِلَى الظُّلُمٰتِ (ইলাজ্জুলুমাতি → অন্ধকারে)

اُولٰٓئِكَ (উলাইকা → তারাই)
اَصۡحٰبُ النَّارِ (আসহাবুন নার → আগুনের অধিবাসী)

هُمۡ فِيۡهَا (হুম ফীহা → তারা তাতে)
خَالِدُوۡنَ (খালিদূন → চিরস্থায়ী)

বাংলা অর্থ:

আল্লাহ বিশ্বাসীদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান। আর যারা অস্বীকার (কুফুরি) করে, তাদের অভিভাবক হলো মিথ্যা বিধানদাতা (তাগুত); তারা তাদের আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। তারা জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।


আয়াত – ২৫৮:

اَلَمۡ تَرَ (আলাম তারা → তুমি কি দেখোনি)
اِلَى الَّذِيۡ (ইলাল্লাযী → তাদের দিকে)
حَآجَّ (হাজ্জা → তর্ক করেছিল)
اِبۡرٰهٖمَ (ইবরা-হীমা → ইব্রাহীমের সাথে)
فِيۡ رَبِّهٖ (ফী রাব্বিহী → তার প্রতিপালকের বিষয়ে)

اَنۡ اٰتٰىهُ (আন আ-তা-হু → যাকে দিয়েছিল)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
الۡمُلۡكَ (আল মুলক → রাজত্ব/ক্ষমতা)

اِذۡ قَالَ (ইয কা-লা → যখন তিনি বললেন)
اِبۡرٰهٖمُ (ইবরা-হীমু → ইব্রাহীম)
رَبِّيَ (রাব্বিয়া → আমার প্রতিপালক)
الَّذِيۡ (আল্লাযী → যিনি)
يُحۡيٖ (ইউহয়ী → জীবন দেন)
وَيُمِيتُ (ওয়া ইউমীতু → এবং মৃত্যু দেন)

قَالَ (কা-লা → সে বলল)
اَنَا (আনা → আমি)
اُحۡيٖ (উহয়ী → জীবন দিই)
وَاُمِيتُ (ওয়া উমীতু → এবং মৃত্যু দিই)

قَالَ اِبۡرٰهٖمُ (কা-লা ইবরা-হীমু → ইব্রাহীম বললেন)
فَاِنَّ اللّٰهَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
يَاۡتِي (ইয়া’তী → আনেন)
بِالشَّمۡسِ (বিশ-শামসি → সূর্যকে)
مِنَ الۡمَشۡرِقِ (মিনাল মাশরিক → পূর্ব দিক থেকে)
فَاۡتِ بِهَا (ফা’তি বিহা → তুমি তা আনো)
مِنَ الۡمَغۡرِبِ (মিনাল মাগরিব → পশ্চিম দিক থেকে)

فَبُهِتَ (ফাবুহিতা → তখন সে হতবাক হয়ে গেল)
الَّذِيۡ كَفَرَ (আল্লাযী কাফারা → যে অস্বীকার করেছিল)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا يَهۡدِي (লা ইয়াহদী → সঠিক পথ দেখান না)
الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِيۡنَ (আল কাওমাজ জালিমীন → জালিম সম্প্রদায়কে)

বাংলা অর্থ:

তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখোনি, যে ইব্রাহীমের সাথে তার প্রতিপালকের বিষয়ে তর্ক করেছিল, কারণ আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইব্রাহীম বললেন, “আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন,” সে বলল, “আমি জীবন দিই ও মৃত্যু দিই।” তখন ইব্রাহীম বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে আনেন, তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে আনো।” তখন সেই অস্বীকারকারী হতবাক হয়ে গেল। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সঠিক পথ দেখান না।


আয়াত – ২৫৯:

اَوۡ (আও → অথবা)
كَالَّذِيۡ (কাল্লাযী → তাদের মতো)
مَرَّ (মারা → অতিক্রম করেছিল)
عَلٰى قَرۡيَةٍ (আলা কারইয়াতিন → একটি জনপদের ওপর দিয়ে)
وَّهِيَ (ওয়া হিয়া → আর সেটি ছিল)
خَاوِيَةٌ (খা-উইয়াতুন → ধ্বংসপ্রায়)
عَلٰى عُرُوۡشِهَا (আলা উরূশিহা → তার ছাদসহ)

قَالَ (কা-লা → সে বলল)
اَنّٰى (আন্না- → কীভাবে)
يُحۡيِي (ইউহয়ী → জীবিত করবে)
هٰذِهِ (হা-যিহি → এই)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بَعۡدَ مَوۡتِهَا (বা‘দা মাওতিহা → তার মৃত্যুর পর)

فَاَمَاتَهُ (ফাআমাতাহু → অতঃপর তাকে মৃত্যু দিলেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِائَةَ عَامٍ (মিআতা ‘আমিন → একশ বছর)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
بَعَثَهٗ (বা‘আছাহু → তাকে পুনরুজ্জীবিত করলেন)

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
كَمۡ لَبِثۡتَ (কম লাবিছতা → তুমি কতক্ষণ অবস্থান করেছিলে?)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
لَبِثۡتُ يَوۡمًا (লাবিছতু ইয়াওমান → আমি একদিন ছিলাম)
اَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٍ (আও বা‘দা ইয়াওমিন → অথবা দিনের কিছু অংশ)

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
بَلۡ (বাল → বরং)
لَّبِثۡتَ مِائَةَ عَامٍ (তুমি একশ বছর ছিলে)

فَانظُرۡ (ফানযুর → দেখো)
اِلٰى طَعَامِكَ (ইলা তা‘আমিকা → তোমার খাবারের দিকে)
وَشَرَابِكَ (ওয়া শরাবিকা → এবং পানীয়ের দিকে)
لَمۡ يَتَسَنَّهۡ (যা নষ্ট হয়নি)

وَانظُرۡ (ওয়ানযুর → আর দেখো)
اِلٰى حِمَارِكَ (ইলা হিমারিকা → তোমার গাধার দিকে)

وَلِنَجۡعَلَكَ (ওয়া লিনাজ‘আলাকা → যাতে আমরা তোমাকে বানাই)
اٰيَةً لِّلنَّاسِ (আয়াতাল লিন্নাস → মানুষের জন্য নিদর্শন)

وَانظُرۡ (ওয়ানযুর → আর দেখো)
اِلَى الۡعِظَامِ (ইলাল ইযামি → হাড়গুলোর দিকে)
كَيۡفَ نُنۡشِزُهَا (কীভাবে আমরা তা জোড়া লাগাই)
ثُمَّ نَكۡسُوۡهَا لَحۡمًا (তারপর মাংস দিয়ে ঢেকে দিই)

فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهٗ (ফালাম্মা তাবাইয়ানা লাহু → যখন তার কাছে স্পষ্ট হলো)
قَالَ (কা-লা → সে বলল)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → আমি জানি)
اَنَّ اللّٰهَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
عَلٰى كُلِّ شَيۡءٍ قَدِيۡرٌ (আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর→ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান)

বাংলা অর্থ:

অথবা তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখোনি, যে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল? সে বলল, “এই জনপদকে আল্লাহ কীভাবে মৃত্যুর পর জীবিত করবেন?” তখন আল্লাহ তাকে একশ বছর মৃত রাখলেন, তারপর তাকে পুনরুজ্জীবিত করলেন। তিনি বললেন, “তুমি কতদিন ছিলে?” সে বলল, “একদিন বা দিনের কিছু অংশ।” তিনি বললেন, “বরং তুমি একশ বছর ছিলে। এখন তোমার খাবার ও পানীয়ের দিকে দেখো—তা নষ্ট হয়নি। আর তোমার গাধার দিকে দেখো, আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য আয়াত (নিদর্শন) বানাবো। আর হাড়গুলোর দিকে দেখো, কীভাবে আমি সেগুলো জোড়া লাগাই, তারপর মাংস দিয়ে ঢেকে দিই।” যখন তার কাছে সব স্পষ্ট হলো, সে বলল, “আমি জানি, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”


আয়াত – ২৬০:

وَاِذۡ (ওয়া ইয → আর যখন)
قَالَ (কা-লা → বললেন)
اِبۡرٰهٖمُ (ইবরা-হীমু → ইব্রাহীম)
رَبِّ (রাব্বি → হে আমার প্রতিপালক)
اَرِنِیۡ (আরিনী → আমাকে দেখাও)
كَيۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
تُحۡيِ (তুহয়ী → তুমি জীবিত করো)
الۡمَوۡتٰی (আল মাওতা → মৃতদের)

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
اَوَلَمۡ تُؤۡمِنۡ (আওয়ালাম তু’মিন → তুমি কি বিশ্বাস করোনি?)
قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
بَلٰى (বালা → হ্যাঁ)
وَلٰكِنۡ (ওয়ালা-কিন → তবে)
لِّيَطۡمَئِنَّ (লিইয়াতমাইন্না → যাতে শান্ত হয়)
قَلۡبِیۡ (কালবী → আমার হৃদয়)

قَالَ (কা-লা → তিনি বললেন)
فَخُذۡ (ফাখুয → তাহলে নাও)
اَرۡبَعَةً (আরবা‘আতান → চারটি)
مِّنَ الطَّيۡرِ (মিনাত্তাইরি → পাখি থেকে)
فَصُرۡهُنَّ (ফাসুরহুন্না → তাদের একত্র করো)
اِلَيۡكَ (ইলাইকা → তোমার কাছে)

ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اجۡعَلۡ (ইজ‘আল → রাখো/স্থাপন করো)
عَلٰى كُلِّ جَبَلٍ (আলা কুল্লি জাবালিন → প্রতিটি পাহাড়ে)
مِّنۡهُنَّ جُزۡءًا (মিনহুন্না জুজআন → তাদের একটি খন্ড অংশ)

ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
ادۡعُهُنَّ (উহুন্না → তাদের ডাকো)
يَاۡتِيۡنَكَ (ইয়া’তীনাকা → তারা তোমার কাছে আসবে)
سَعۡيًا (সা‘ইয়া → দৌড়ে)

وَاعۡلَمۡ (ওয়া‘লাম → আর জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰهَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
عَزِيۡزٌ (আযীযুন → পরাক্রমশালী)
حَكِيۡمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)

বাংলা অর্থ:

আর যখন ইব্রাহীম বললেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখাও, তুমি কীভাবে মৃতদের জীবিত করো।” তিনি বললেন, “তুমি কি বিশ্বাস আনোনি?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তবে আমার হৃদয় যেন আরও প্রশান্ত হয়।” আল্লাহ বললেন, “তুমি চারটি পাখি নাও, তাদের নিজের কাছে রাখো, তারপর প্রতিটি পাহাড়ে তাদের একটি খন্ড অংশ স্থাপন করো, এরপর তাদের ডাকো—তারা তোমার কাছে দৌড়ে আসবে।” আর জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।


আয়াত – ২৬১:

مَثَلُ (মাছালু → উদাহরণ)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূনা → ব্যয় করে)
اَمۡوَالَہُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)

کَمَثَلِ (কামাছালি → উদাহরণের মতো)
حَبَّۃٍ (হাব্বাতিন → একটি বীজ)
اَنۡبَتَتۡ (আমবাতাত → উৎপন্ন করেছে)
سَبۡعَ سَنَابِلَ (সাব‘আ সানা-বিলা → সাতটি শীষ)

فِیۡ كُلِّ سُنۡبُلَۃٍ (ফী কুল্লি সুন্বুলাতিন → প্রতিটি শীষে)
مِّائَۃُ حَبَّۃٍ (মিআতু হাব্বাতিন → একশ দানা)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یُضٰعِفُ (ইউদা‘ইফু → বহুগুণ বাড়িয়ে দেন)
لِمَنۡ یَّشَآءُ (লিমান ইয়াশা-উ → যাকে তিনি চান)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
وَاسِعٌ (ওয়াসি‘উন → অতি প্রশস্ত)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ হলো একটি বীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে এবং প্রতিটি শীষে থাকে একশ দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তার জন্য বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ অতি প্রশস্ত ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ২৬২:

اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূনা → ব্যয় করে)
اَمۡوَالَہُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)

ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
لَا یُتۡبِعُوۡنَ (লা ইউতবিঊনা → অনুসরণ করে না/জুড়ে দেয় না)
مَاۤ اَنۡفَقُوۡا (মা আনফাকূ → যা তারা ব্যয় করেছে)
مَنًّا (মন্নান → উপকারের কথা বলে কষ্ট দেওয়া/খোটা দেওয়া)
وَّلَاۤ اَذًى (ওয়া লা আযান → কিংবা কষ্ট দেওয়া)

لَّهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
اَجۡرُہُمۡ (আজরুহুম → তাদের পুরস্কার)
عِنۡدَ رَبِّہِمۡ (ইনদা রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের কাছে)

وَلَا خَوۡفٌ (ওয়ালা খাওফুন → কোনো ভয় নেই)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ (ওয়ালা হুম ইয়াহঝানুন → তারা দুঃখিতও হবে না)

বাংলা অর্থ:

যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তারপর যা ব্যয় করেছে তার পেছনে কোনো খোঁটা বা কষ্ট দেয় না—তাদের জন্য তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোনো ভয় থাকবে না, এবং তারা দুঃখিতও হবে না।


আয়াত – ২৬৩:

قَوۡلٌ (কাওলুন → কথা)
مَّعۡرُوۡفٌ (মা‘রূফুন → ভালো/শোভন কথা)
وَّمَغۡفِرَۃٌ (ওয়া মাগফিরাতুন → ক্ষমা)

خَیۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
مِّنۡ صَدَقَۃٍ (মিন সাদাকাতিন → স্বেচ্ছাদান চেয়ে)
یَّتۡبَعُہَاۤ اَذًی (ইয়াতবা‘উহা আযান → যার পরে কষ্ট দেওয়া হয়)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
غَنِیٌّ (গানিয়্যুন → ধনী)
حَلِیۡمٌ (হালীম → সহনশীল)

বাংলা অর্থ:
ভালো কথা বলা এবং ক্ষমা করা সেই স্বেচ্ছাদানের চেয়ে উত্তম, যার পরে কষ্ট বা অপমান করা হয়। আর আল্লাহ ধনী ও অত্যন্ত সহনশীল।


আয়াত – ২৬৪:

یٰۤاَیُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছে)

لَا تُبۡطِلُوۡا (লা তুবতিলূ → নষ্ট করো না/নিষ্ফল করো না)
صَدَقٰتِکُمۡ (সাদাকা-তিকুম → তোমাদের স্বেচ্ছাদান)
بِالۡمَنِّ (বিল মান্নি → খোঁটা দিয়ে)
وَالۡاَذٰی (ওয়াল আযা → কষ্ট দিয়ে)

كَالَّذِیۡ (কাল্লাযী → সেই ব্যক্তির মতো)
یُنۡفِقُ (ইউনফিকু → ব্যয় করে)
مَالَهٗ (মা-লাহু → তার সম্পদ)
رِئَآءَ النَّاسِ (রিআআন্না-ছি → মানুষের দেখানোর জন্য)

وَلَا یُؤۡمِنُ (ওয়ালা ইউ’মিনু → কিন্তু ঈমান আনে না)
بِاللّٰهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখির → আখিরাত দিবসের প্রতি)

فَمَثَلُهٗ (ফামাছালুহু → তার উদাহরণ)
كَمَثَلِ صَفۡوَانٍ (কামাছালি সাফওয়ান → মসৃণ পাথরের মতো)
عَلَیۡہِ تُرَابٌ (আলাইহি তুরাবুন → যার ওপর ধুলো আছে)

فَاَصَابَهٗ (ফাআসাবাহু → তারপর বৃষ্টি পড়ে তা ধুয়ে নেয়)
وَابِلٌ (ওয়াবিলুন → প্রবল বৃষ্টি)
فَتَرَکَهٗ صَلۡدًا (ফাতারাকাহু সালদান → একেবারে পরিষ্কার পাথর করে ফেলে)

لَا یَقۡدِرُوۡنَ (লা ইয়াকদিরূনা → তারা সক্ষম হয় না)
عَلٰی شَیۡءٍ (আলা শাইইন → কোনো কিছুই)
مِّمَّا كَسَبُوۡا (মিম্মা কাসাবূ → যা তারা অর্জন করেছিল)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا یَہۡدِی (লা ইয়াহদী → সঠিক পথ দেখান না)
الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কাওমাল কাফিরীন → অবিশ্বাসী জাতিকে)

বাংলা অর্থ:

হে ঈমানদারগণ! খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের স্বেচ্ছাদান নষ্ট করো না, যেমন সেই ব্যক্তি করে যে মানুষকে দেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয় করে কিন্তু আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে না। তার উদাহরণ হলো মসৃণ পাথরের মতো, যার ওপর ধুলো থাকে; তারপর প্রবল বৃষ্টি এসে তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলে—ফলে সে তার অর্জন থেকে কিছুই রাখতে পারে না। আর আল্লাহ কাফিরদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।


আয়াত – ২৬৫:

وَمَثَلُ (ওয়া মাছালু → আর উদাহরণ)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূনা → ব্যয় করে)
اَمۡوَالَہُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)

ابۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ اللّٰہِ (ইবতিগা-মারদা-তিল্লাহি → আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য)
وَتَثۡبِیۡتًا مِّنۡ اَنۡفُسِہِمۡ (ওয়া তাছবীতাম মিন আনফুছিহিম → নিজেদের অন্তরকে দৃঢ় করার জন্য)

كَمَثَلِ جَنَّۃٍ (কামাছালি জান্নাতিন → একটি বাগানের মতো)
بِرَبۡوَۃٍ (বিরাবওয়াতিন → উঁচু জায়গায়)

اَصَابَہَا وَابِلٌ (আসাবাহা ওয়াবিলুন → ভারী বৃষ্টি পড়ে)
فَاٰتَتۡ اُکُلَہَا ضِعۡفَیۡنِ (ফাআ-তাত উকুলাহা দি‘ফাইন → দ্বিগুণ ফল দেয়)

فَاِنۡ لَّمۡ یُصِبۡہَا وَابِلٌ (ফাইন লাম ইউসিবহা ওয়াবিলুন → যদি ভারী বৃষ্টি না-ও পড়ে)
فَطَلٌّ (ফাতাল্লুন → শিশিরই যথেষ্ট)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ (বিমা তা‘মালূনা → তোমরা যা করো)
بَصِیۡرٌ (বাসীর → সর্বদ্রষ্টা)

বাংলা অর্থ:

যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবং নিজেদের অন্তরকে দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ হলো একটি উঁচু জায়গার জান্নাতের (বাগানর) মতো—যেখানে ভারী বৃষ্টি পড়লে দ্বিগুণ ফল দেয়, আর ভারী বৃষ্টি না হলেও শিশিরই যথেষ্ট। আর আল্লাহ তোমরা যা করো তা দেখেন।


আয়াত – ২৬৬:

اَیَوَدُّ (আয়াওয়াদ্দু → কি কেউ চাইবে)
اَحَدُکُمۡ (আহাদুকুম → তোমাদের কেউ)

اَنۡ تَکُوۡنَ لَہٗ جَنَّۃٌ (আন তাকূনা লাহু জান্নাতুন → তার একটি বাগান থাকুক)
مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ (মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ‘না-বিন → খেজুর ও আঙুরের)
تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ (তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু → যার নিচ দিয়ে নদী বয়ে যায়)

لَہٗ فِیۡہَا (লাহু ফীহা → সেখানে তার জন্য)
مِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِ (মিন কুল্লিছ ছামারা-ত → সব ফল)

وَاَصَابَهُ الۡكِبَرُ (ওয়া আসা-বাহুল কিবারু → আর সে বৃদ্ধ হয়ে যায়)
وَلَهٗ ذُرِّیَّةٌ ضُعَفَآءُ (ওয়ালাহু যুররিয়্যাতুন দু‘আফা → তার দুর্বল সন্তান থাকে)

فَاَصَابَهَاۤ اِعۡصَارٌ (ফাআসা-বাহা ই‘সা-রুন → এক ঘূর্ণিঝড় আঘাত করে)
فِیۡهِ نَارٌ (ফীহি নারুন → যার মধ্যে আগুন থাকে)
فَاحۡتَرَقَتۡ (ফাহতারাকাত → সব পুড়ে যায়)

كَذٰلِكَ (কাযালিকা → এভাবেই)
یُبَیِّنُ اللّٰهُ (ইউবাইয়িনুল্লাহু → আল্লাহ বর্ণনা করেন)
لَكُمُ الۡاٰیٰتِ (লাকুমুল আয়াত → তোমাদের জন্য নিদর্শনগুলো)
لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُوۡنَ (লা‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারূন → যাতে তোমরা চিন্তা করো)

বাংলা অর্থ:

তোমাদের কেউ কি চাইবে—তার একটি জান্নাত (বাগান) থাকুক, খেজুর ও আঙুরের, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়, যেখানে তার সব ফল আছে, আর সে বৃদ্ধ হয়ে গেছে এবং তার দুর্বল সন্তান রয়েছে—এরপর সেই বাগানে একটি ঘূর্ণিঝড় এসে আগুনসহ সবকিছু পুড়িয়ে ফেলল?

এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শন বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করো।


আয়াত – ২৬৭:

یٰۤاَیُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছ)

اَنۡفِقُوۡا (আনফিকূ → ব্যয় করো/দান করো)
مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا كَسَبۡتُمۡ (মিন তাইয়িবা-তি মা কাসাবতুম → তোমরা যা উপার্জন করেছ তার উত্তম অংশ থেকে)
وَمِمَّاۤ اَخۡرَجۡنَا لَكُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ (ওয়া মিম্মা আখরাজনা লাকুম মিনাল আরদি → ভূমি থেকে যা আমরা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেছি)

وَلَا تَيَمَّمُوا الۡخَبِیۡثَ (ওয়ালা তায়াম্মামুল খাবীছা → খারাপ জিনিসের দিকে ইচ্ছা করো না)
مِنۡهُ تُنۡفِقُوۡنَ (মিনহু তুনফিকূনা → তা থেকে দান করো)
وَلَسۡتُمۡ بِاٰخِذِیۡہِ (ওয়ালাস্তুম বিআখিযীহি → অথচ তোমরা তা গ্রহণ করতে চাইবে না)
اِلَّاۤ اَنۡ تُغۡمِضُوۡا فِیۡهِ (ইল্লা আন তুগমিদূ ফীহি → যদি চোখ বুজে নাও)

وَاعۡلَمُوۡا (ওয়া‘লামূ → আর জেনে রাখো)
اَنَّ اللّٰهَ (আন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
غَنِیٌّ (গানিয়্যুন → ধনী/অমুখাপেক্ষী)
حَمِیۡدٌ (হামীদ → প্রশংসিত)

বাংলা অর্থ:

হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জনের উত্তম অংশ এবং ভূমি থেকে যা আমি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেছি তা থেকে ব্যয় করো। খারাপ জিনিস দান করার উদ্দেশ্যে বেছে নিয়ো না, অথচ তোমরা নিজেরা তা গ্রহণ করতে রাজি হবে না যদি না চোখ বুজে নাও। আর জেনে রাখো, আল্লাহ ধনী ও প্রশংসিত।


আয়াত – ২৬৮:

اَلشَّیۡطٰنُ (আশ-শাইতানু → শয়তান/কুমন্ত্রণাদাতা)
یَعِدُکُمُ (ইয়া‘ইদুকুম → তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়)
الۡفَقۡرَ (আল ফাকরা → দরিদ্রতা)

وَیَاۡمُرُکُمۡ (ওয়া ইয়ামুরুকুম → এবং তোমাদের আদেশ করে)
بِالۡفَحۡشَآءِ (বিল ফাহশা- → অশ্লীল কাজ)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَعِدُکُمۡ (ইয়া‘ইদুকুম → তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেন)
مَّغۡفِرَۃً مِّنۡهُ (মাগফিরাতাম মিনহু → তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা)
وَفَضۡلًا (ওয়া ফাদলান → এবং অনুগ্রহ/বৃদ্ধি)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
وَاسِعٌ (ওয়াসি‘উন → অতি প্রশস্ত)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আল্লাহ অতি প্রশস্ত ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত – ২৬৯:

یُّؤۡتِی (ইউ’তী → প্রদান করেন)
الۡحِکۡمَۃَ (আল হিকমাহ → প্রজ্ঞা)
مَنۡ یَّشَآءُ (মাইঁ ইয়াশা-উ → যাকে ইচ্ছা করেন)

وَمَنۡ یُّؤۡتَ الۡحِکۡمَۃَ (ওয়া মান ইউ’তা হিকমাহ → আর যাকে প্রজ্ঞা দেওয়া হয়)
فَقَدۡ اُوۡتِیَ خَیۡرًا کَثِیۡرًا (ফাকাদ ঊতিয়া খাইরান কাছীরা → তাকে অনেক কল্যাণ দেওয়া হয়েছে)

وَمَا یَذَّکَّرُ (ওয়া মা ইয়াযযাক্কারু → আর উপদেশ গ্রহণ করে না)
اِلَّاۤ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ (ইল্লা উলুল আলবা-ব → শুধু বুদ্ধিমান লোকেরা)

বাংলা অর্থ:

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা দেওয়া হয়, তাকে অনেক কল্যাণ দান করা হয়েছে। কিন্তু শুধু বুদ্ধিমান লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে।


আয়াত – ২৭০:

وَمَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ (ওয়া মা আনফাকতুম → তোমরা যা ব্যয় করো)
مِّنۡ نَّفَقَۃٍ (মিন নাফাকাতিন → কোনো দান)
اَوۡ نَذَرۡتُمۡ (আও নাযারতুম → বা কোনো অঙ্গিকার করো)
مِّنۡ نَّذۡرٍ (মিন নাযরিন → প্রতিশ্রুতি হিসেবে)

فَاِنَّ اللّٰهَ (ফাইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
یَعۡلَمُهٗ (ইয়া‘লামুহু → তা জানেন)

وَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ (ওয়া মা লিজ্জা-লিমীন → আর জালিমদের জন্য)
مِنۡ اَنۡصَارٍ (মিন আনসার → কোনো সাহায্যকারী নেই)

বাংলা অর্থ:

তোমরা যে কোনো দান করো কিংবা কোনো প্রতিশ্রুতি হিসেবে কোন অঙ্গিকার করো, নিশ্চয় আল্লাহ তা জানেন। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।


আয়াত – ২৭১:

اِنۡ تُبۡدُوا (ইন তুবদূ → যদি তোমরা প্রকাশ্যে দাও)
الصَّدَقٰتِ (আস-সাদাকাত → স্বেচ্ছাদান)
فَنِعِمَّا هِیَ (ফানি‘ইম্মা হিয়া → তবে তা কতই না ভালো কাজ)

وَاِنۡ تُخۡفُوۡهَا (ওয়া ইন তুখফূহা → আর যদি তা গোপন রাখো)
وَتُؤۡتُوۡهَا الۡفُقَرَآءَ (ওয়া তু’তূহাল ফুকারা → গরিবদের দাও)
فَهُوَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ (ফাহুওয়া খাইরুল্লাকুম → তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম)

وَیُکَفِّرُ عَنۡکُمۡ (ওয়া ইউকাফফিরু আনকুম → এবং তোমাদের পাপ মুছে দেন)
مِّنۡ سَیِّاٰتِکُمۡ (মিন সাইয়িয়াতিকুম → তোমাদের খারাপ কাজসমূহ থেকে)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ (বিমা তা‘মালূনা → তোমরা যা করো)
خَبِیۡرٌ (খাবীর → সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপনে করো এবং গরিবদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ মুছে দেন। আর আল্লাহ তোমরা যা করো তা ভালোভাবে জানেন।


আয়াত – ২৭২:

لَیۡسَ عَلَیۡکَ (লাইসা ‘আলাইকা → তোমার দায়িত্ব নয়)
ہُدٰىہُمۡ (হুদাহুম → তাদের হেদায়েত)

وَلٰکِنَّ اللّٰهَ (ওয়ালা-কিন্নাল্লাহা → কিন্তু আল্লাহ)
یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ (ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশা-উ → যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন)

وَمَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ (ওয়া মা তুনফিকূ মিন খাইরিন → তোমরা যা কিছু ভালো ব্যয় করো)
فَلِاَنۡفُسِکُمۡ (ফালিআনফুসিকুম → তা তোমাদের নিজেদের জন্যই)

وَمَا تُنۡفِقُوۡنَ (ওয়া মা তুনফিকূনা → আর তোমরা যা ব্যয় করো)
اِلَّا ابۡتِغَآءَ وَجۡهِ اللّٰهِ (ইল্লা ইবতিগা-আ ওয়াজহিল্লাহি → শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য)

وَمَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ (ওয়া মা তুনফিকূ মিন খাইরিন → আর যা ভালো কিছু ব্যয় করো)
یُّوَفَّ اِلَیۡکُمۡ (ইউওয়াফফা ইলাইকুম → তা পূর্ণভাবে তোমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে)
وَاَنۡتُمۡ لَا تُظۡلَمُوۡنَ (ওয়া আনতুম লা তুজলামূন → আর তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না)

বাংলা অর্থ:

তাদের হেদায়েত দেওয়া তোমার দায়িত্ব নয়; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত দেন। তোমরা যে কোনো ভালো কাজের জন্য ব্যয় করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই। আর তোমরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করো। যা কিছু ভালো তোমরা ব্যয় করো, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হবে না।


আয়াত – ২৭৩:

لِلۡفُقَرَآءِ (লিল ফুকারা → অভাবী লোকদের জন্য)
الَّذِیۡنَ اُحۡصِرُوۡا (আল্লাযীনা উহসিরূ → যারা আটকে পড়েছে)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)

لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ (লা ইয়াস্তাতী‘উনা → তারা পারে না)
ضَرۡبًا فِی الۡاَرۡضِ (দারবান ফিল আরদি → জীবিকার জন্য চলাফেরা করতে)

یَحۡسَبُہُمُ الۡجَاہِلُ (ইয়াহসাবুহুমুল জাহিলু → অজ্ঞ লোকেরা তাদের মনে করে)
اَغۡنِیَآءَ (আগনিয়া → ধনী)
مِنَ التَّعَفُّفِ (মিনাত তা‘আফুফি → তাদের সংযমের কারণে)

تَعۡرِفُہُمۡ بِسِیۡمٰہُمۡ (তা‘রিফুহুম বিসীমাহুম → তুমি তাদের চিহ্ন দেখে চিনবে)
لَا یَسۡـَٔلُوۡنَ النَّاسَ (লা ইয়াসআলূন্নাসা → তারা মানুষের কাছে চায় না)
اِلۡحَافًا (ইলহাফান → জোর দিয়ে)

وَمَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ (ওয়া মা তুনফিকূ মিন খাইরিন → তোমরা যা ভালো ব্যয় করো)
فَاِنَّ اللّٰهَ بِهِ عَلِیۡمٌ (ফাইন্নাল্লাহা বিহী আলীম → নিশ্চয় আল্লাহ তা জানেন)

বাংলা অর্থ:

এই দান অভাবীদের জন্য—যারা আল্লাহর পথে আটকে পড়েছে, পৃথিবীতে চলাফেরা করে উপার্জন করতে পারে না। অজ্ঞ লোকেরা তাদের আত্মসম্মানবোধের কারণে ধনী মনে করে, কিন্তু তুমি তাদের চিহ্ন দেখে চিনবে। তারা মানুষের কাছে জোর দিয়ে কিছু চায় না। আর তোমরা যা কিছু ভালো ব্যয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ তা জানেন।


আয়াত – ২৭৪:

اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یُنۡفِقُوۡنَ (ইউনফিকূনা → ব্যয় করে)
اَمۡوَالَہُمۡ (আমওয়ালাহুম → তাদের সম্পদ)

بِالَّیۡلِ وَالنَّہَارِ (বিল্লাইলি ওয়ান্নাহার → রাত ও দিনে)
سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً (ছিররাওঁ ওয়া আলানিয়াতান → গোপনে ও প্রকাশ্যে)

فَلَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ (ফালাহুম আজরুহুম → তাদের জন্য পুরস্কার আছে)
عِنۡدَ رَبِّہِمۡ (ইনদা রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের কাছে)

وَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ (ওয়া লা খাওফুন ‘আলাইহিম → তাদের কোনো ভয় নেই)
وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ (ওয়া লা হুম ইয়াহজানূন → তারা দুঃখিতও হবে না)

বাংলা অর্থ:

যারা রাত-দিন, গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের সম্পদ ব্যয় করে—তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।


আয়াত – ২৭৫:

اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَاۡکُلُوۡنَ الرِّبٰوا (ইয়াকুলূনার রিবা → সুদ খায়/সুদ গ্রহণ করে)

لَا یَقُوۡمُوۡنَ (লা ইয়াকূমূনা → তারা দাঁড়ায় না)
اِلَّا کَمَا یَقُوۡمُ (ইল্লা কামা ইয়াকূমু → যেমন দাঁড়ায়)
الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُہُ الشَّیۡطٰنُ (আল্লাযী ইয়াতাখাব্বাতুহুশ শাইতানু → শয়তান যাকে পাগল করে দেয়)
مِنَ الۡمَسِّ (মিনাল মাস্স → স্পর্শ/আঘাতের কারণে)

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ (যা-লিকা বিআন্নাহুম → এটা এজন্য যে তারা)
قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا (ইন্নামাল বাইউ মিছলুর রিবা → বলে: বেচাকেনা তো সুদের মতোই)

وَاَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَیۡعَ (ওয়া আহাল্লাল্লাহুল বাইআ → আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন)
وَحَرَّمَ الرِّبٰوا (ওয়া হাররামার রিবা → এবং সুদকে হারাম করেছেন)

فَمَنۡ جَآءَہٗ مَوۡعِظَۃٌ (ফামান জাআহু মাওইজাতুন → যার কাছে উপদেশ আসে)
فَانۡتَہٰی (ফানতাহা → সে বিরত হয়)
فَلَہٗ مَا سَلَفَ (ফালাহু মা সালাফা → আগে যা হয়েছে তা তার জন্য)

وَاَمۡرُہٗۤ اِلَی اللّٰهِ (ওয়া আমরুহু ইলাল্লাহ → তার বিষয় আল্লাহর কাছে)
وَمَنۡ عَادَ (ওয়া মান আ’দা → আর যে আবার করে)
فَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ (ফাউলাইকা আসহাবুন নার → তারাই আগুনের অধিবাসী)
هُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ (হুম ফীহা খালিদূন → সেখানে তারা স্থায়ী)

বাংলা অর্থ:

যারা সুদ খায়, তারা দাড়ায়না, এমনভাবে দাঁড়াবে যেমন শয়তানের স্পর্শে পাগল ব্যক্তি দাঁড়ায়। এটা এজন্য যে তারা বলে—বেচাকেনা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। যার কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তার পূর্বের বিষয় তার জন্য থাকবে। আর তার বিষয় আল্লাহর কাছে। কিন্তু যে আবার ফিরে যায়, তারা আগুনের অধিবাসী—সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।