সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ২৮৬

আয়াত – ২৭৬:

یَمۡحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا (ইয়ামহাকুল্লাহুর রিবা → আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করে দেন)
وَیُرۡبِی الصَّدَقٰتِ (ওয়া ইউরবিস সাদাকাত → আর দানকে বৃদ্ধি করেন)

وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
لَا یُحِبُّ (লা ইউহিব্বু → পছন্দ করেন না)
کُلَّ کَفَّارٍ اَثِیۡمٍ (কুল্লা কাফফারিন আছীম → খুবই অকৃতজ্ঞ ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকে)

বাংলা অর্থ:

আল্লাহ সুদে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং স্বেচ্ছাদানকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন না।


আয়াত – ২৭৭:

اِنَّ الَّذِیۡنَ (ইন্নাল্লাযীনা → নিশ্চয় যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছে)
وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ (ওয়া ‘আমিলুস সা-লিহাত → ভালো কাজ করেছে)

وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ (ওয়া আকামুস সলাহ → নিয়মিত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছে)
وَاٰتَوُا الزَّکٰوۃَ (ওয়া আ-তাউজ জাকাত → পরিশুদ্ধ হয়েছে)

لَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ (লাহুম আজরুহুম → তাদের জন্য পুরস্কার আছে)
عِنۡدَ رَبِّہِمۡ (ইনদা রাব্বিহিম → তাদের রবের কাছে)

وَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ (ওয়া লা খাওফুন ‘আলাইহিম → তাদের কোনো ভয় নেই)
وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ (ওয়া লা হুম ইয়াহজানূন → তারা দুঃখিতও হবে না)

বাংলা অর্থ:
নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ভালো কাজ করে এবং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে ও পরিশুদ্ধ হয়—তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।


আয়াত – ২৭৮:

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ (ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা → হে যারা)
اٰمَنُوا (আ-মানু → ঈমান এনেছো)

اتَّقُوا اللّٰهَ (ইত্তাকুল্লাহ → আল্লাহকে ভয় করো)
وَذَرُوۡا (ওয়া জারূ → ছেড়ে দাও)
مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰوا (মা বাকিয়া মিনার রিবা → সুদের যে অংশ বাকি আছে)

اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ (ইন কুনতুম মু’মিনীন → যদি তোমরা সত্যিকারের বিশ্বাসী হও)

বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যে অংশ এখনো বাকি আছে, তা ছেড়ে দাও—যদি তোমরা একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হও।


আয়াত – ২৭৯:

فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا (ফাইন লাম তাফ‘আলূ → যদি তোমরা না করো)
فَاۡذَنُوۡا (ফা’যানূ → ঘোষণা গ্রহণ করো)
بِحَرۡبٍ مِّنَ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ (বিহারবিম মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী → আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা)

وَاِنۡ تُبۡتُمۡ (ওয়া ইন তুবতুম → আর যদি তোমরা ক্ষমা চাও)
فَلَکُمۡ رُءُوۡسُ اَمۡوَالِکُمۡ (ফালাকুম রুঊসু আমওয়ালিকুম → তোমাদের মূল সম্পদ তোমাদের জন্য)

لَا تَظۡلِمُوۡنَ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ (লা তাজলিমূনা ওয়া লা তুজলামূন → না তোমরা অন্যায় করবে, না তোমাদের ওপর অন্যায় করা হবে)

বাংলা অর্থ:

আর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে রাখো। আর যদি তোমরা ক্ষমা চাও, তবে তোমাদের মূল সম্পদ তোমাদেরই থাকবে—না তোমরা কারও উপর অন্যায় করবে, আর না তোমাদের উপর অন্যায় করা হবে।


আয়াত – ২৮০:

وَاِنۡ کَانَ ذُوۡ عُسۡرَۃٍ (ওয়া ইন কানা যূ ‘উসরা → আর যদি সে কষ্টে/অক্ষম অবস্থায় থাকে)
فَنَظِرَۃٌ اِلٰی مَیۡسَرَۃٍ (ফা নাজিরাতুন ইলা মাইসারা → তবে সহজ অবস্থায় আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত)

وَاَنۡ تَصَدَّقُوۡا (ওয়া আন তাসাদ্দাকূ → আর যদি তোমরা ছেড়ে দাও/মাফ করে দাও)
خَیۡرٌ لَّکُمۡ (খাইরুল্লাকুম → তা তোমাদের জন্য উত্তম)
اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ (ইন কুনতুম তা‘লামূন → যদি তোমরা বুঝতে পারো)

বাংলা অর্থ:

যদি কেউ অভাবে থাকে, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। আর যদি তোমরা তা মাফ করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম—যদি তোমরা তা বুঝতে।


আয়াত – ২৮১:

وَاتَّقُوۡا یَوۡمًا (ওয়াত্তাকূ ইয়াওমান → সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক থাকো)
تُرۡجَعُوۡنَ فِیۡہِ اِلَی اللّٰہِ (তুরজা‘ঊনা ফীহি ইলাল্লাহ → যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে)

ثُمَّ تُوَفّٰی کُلُّ نَفۡسٍ (ছুম্মা তুওয়াফফা কুল্লু নাফস → তারপর প্রত্যেককে পূর্ণভাবে দেওয়া হবে)
مَّا کَسَبَتۡ (মা কাসাবাত → যা সে অর্জন করেছে)

وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ (ওয়া হুম লা ইউজলামূন → আর তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হবে না)

বাংলা অর্থ:

সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে। তারপর প্রত্যেককে তার অর্জিত কর্ম পূর্ণভাবে দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হবে না।


আয়াত – ২৮২:

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ (ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা → হে যারা)

اٰمَنُوا اِذَا(আ-মানূ ইযা → যখন ঈমান এনেছো)

تَدَایَنۡتُمۡ (তাদা-ইয়ানতুম → তোমরা লেনদেন করো)

بِدَیۡنٍ (বিদাইনিন → ঋণ দ্বারা)

اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی (ইলা আজালিম মুসাম্মা → নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত)

فَاکۡتُبُوۡہُ (ফাকতুবূহু → তাহলে তা লিখে রাখো)

وَلۡیَکۡتُبۡ (ওয়ালইয়াকতুব → এবং লিখুক)

بَّیۡنَکُمۡ کَاتِبٌۢ(বাইনাকুম কাতিবুন → তোমাদের মাঝে একজন লেখক)

بِالۡعَدۡلِ (বিল‘আদল → ন্যায়সহকারে)

وَلَا یَاۡبَ (ওয়ালা ইয়াবা → অস্বীকার না করুক)

کَاتِبٌ (কাতিবুন → লেখক)

اَنۡ یَّکۡتُبَ (আন ইয়াকতুবা → লিখতে)

کَمَا عَلَّمَہُ اللّٰہُ (কামা আল্লামাহুল্লাহ → যেভাবে আল্লাহ তাকে শিখিয়েছেন)

فَلۡیَکۡتُبۡ (ফালইয়াকতুব → সে যেন লিখে)

وَلۡیُمۡلِلِ (ওয়ালইয়ুমলিল → এবং যেন লিখিয়ে দেয়)

الَّذِیۡ عَلَیۡہِ الۡحَقُّ (আল্লাযী আলাইহিল হাক্ক → যার উপর নায্যতা আছে)

وَلۡیَتَّقِ اللّٰہَ رَبَّہٗ (ওয়ালইয়াত্তাকিল্লাহা রাব্বাহু → সে তার রব আল্লাহকে ভয় করুক)

وَلَا یَبۡخَسۡ مِنۡہُ شَیۡئًا (ওয়ালা ইয়াবখাস মিনহু শাইআ → কোনো কিছু কম না করুক)

فَاِنۡ کَانَ (ফাইন কানা → যদি হয়)

الَّذِیۡ عَلَیۡہِ الۡحَقُّ (আল্লাযী আলাইহিল হাক্ক → যার উপর নায্যতা আছে)

سَفِیۡہًا (সাফীহা → অক্ষম)

اَوۡ ضَعِیۡفًا (আও দাঈফা → অথবা দুর্বল)

اَوۡ لَا یَسۡتَطِیۡعُ (আও লা ইয়াস্তাতীউ → অথবা লিখাতে সক্ষম না হয়)

فَلۡیُمۡلِلۡ وَلِیُّہٗ بِالۡعَدۡلِ (ফালইয়ুমলিল ওয়ালিইয়ুহু বিল‘আদল → তার অভিভাবক ন্যায়ভাবে লিখিয়ে দেবে)

وَاسۡتَشۡہِدُوۡا شَہِیۡدَیۡنِ (ওয়াস্তাশহিদূ শাহীদাইন → দুইজন সাক্ষী রাখো)

مِنۡ رِّجَالِکُمۡ (মিন রিজালিকুম → তোমাদের পুরুষদের মধ্যে)

فَاِنۡ لَّمۡ یَکُوۡنَا رَجُلَیۡنِ (ফাইন লাম ইয়াকূনা রাজুলাইনি → যদি দুই পুরুষ না থাকে)

فَرَجُلٌ وَّامۡرَاَتٰنِ (ফারাজুলুন ওয়া ইমরাতান → তাহলে একজন পুরুষ ও দুই নারী)

مِمَّنۡ تَرۡضَوۡنَ (মিম্মান তারদাওনা → যাদেরকে তোমরা পছন্দ করো)

مِنَ الشُّہَدَآءِ (মিনাশ শুহাদা → সাক্ষীদের মধ্যে)

اَنۡ تَضِلَّ اِحۡدٰىہُمَا (আন তাদিল্লা ইহদাহুমা → যাতে একজন ভুলে গেলে)

فَتُذَکِّرَ اِحۡدٰىہُمَا الۡاُخۡرٰی (ফাতুযাক্কিরা ইহদাহুমাল উখরা → অন্যজন স্মরণ করিয়ে দেয়)

وَلَا یَاۡبَ الشُّہَدَآءُ (ওয়ালা ইয়াবাশ শুহাদা → সাক্ষীরা অস্বীকার না করুক)

اِذَا مَا دُعُوۡا (ইযা মা দু‘ঊ → যখন তাদের ডাকা হয়)

وَلَا تَسۡـَٔمُوۡۤا (ওয়ালা তাসআমূ → বিরক্ত হয়ো না)

اَنۡ تَکۡتُبُوۡہُ (আন তাকতুবূহু → তা লিখতে)

صَغِیۡرًا اَوۡ کَبِیۡرًا (সাগীরান আও কাবীরা → ছোট বা বড়)

اِلٰۤی اَجَلِہٖ (ইলা আজালিহি → তার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত)

ذٰلِکُمۡ اَقۡسَطُ عِنۡدَ اللّٰہِ ( যালিকুম আকসাতু ইনদাল্লাহ — যা আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সঙ্গত)

وَاَقۡوَمُ لِلشَّہَادَۃِ —( ওয়া আকওয়ামু লিশশাহাদাহ — এবং সাক্ষ্যের জন্য অধিক শক্তিশালী)

وَاَدۡنٰۤی اَلَّا تَرۡتَابُوۡۤا —( ওয়া আদনা আল্লা তারতাবূ — এবং যাতে তোমাদের সন্দেহ না থাকে তার জন্য অধিক উপযুক্ত)

اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً حَاضِرَۃً — (ইল্লা আন তাকূনা তিজারাতান হাজিরাহ — তবে যদি তা তাৎক্ষণিক ব্যবসা হয়)

تُدِیۡرُوۡنَہَا بَیۡنَکُمۡ —( তুদীরূনাহা বাইনাকুম — যা তোমরা পরস্পর পরিচালনা করো)

فَلَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ اَلَّا تَکۡتُبُوۡہَا —( ফালাইসা আলাইকুম জুনাহুন আল্লা তাকতুবূহা )— তাহলে তা না লিখলেও তোমাদের কোনো গুনাহ নেই

وَاَشۡہِدُوۡۤا اِذَا تَبَایَعۡتُمۡ — (ওয়া আশহিদূ ইযা তাবায়া‘তুম — আর যখন তোমরা লেনদেন করো তখন সাক্ষী রাখো)

وَلَا یُضَآرَّ کَاتِبٌ وَّلَا شَہِیۡدٌ — (ওয়া লা ইউদাররা কাতিবুওঁ ওয়া লা শাহীদ — লেখক ও সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়)

وَاِنۡ تَفۡعَلُوۡا — (ওয়া ইন তাফ‘আলূ — আর যদি তোমরা এমন করো)

فَاِنَّہٗ فُسُوۡقٌۢ بِکُمۡ —( ফা ইন্নাহু ফুসূকুন বিকুম — তবে তা তোমাদের অবাধ্যতা)

وَاتَّقُوا اللّٰہَ — (ওয়াত্তাকুল্লাহ — আর আল্লাহকে ভয় করো)

وَیُعَلِّمُکُمُ اللّٰہُ — (ওয়া ইউ‘আল্লিমুকুমুল্লাহ — আর আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেন)

وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ —( ওয়াল্লাহু বিকুল্লি শাইইন আলীম — আর আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ)

বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্যে ঋণের কারবার কর তখন তা লিখে রেখ; তোমাদের মধ্যে কোন লেখক যেন ন্যায্যভাবে লিখে দেয়; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। যেমন আল্লাহ্ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং সে যেন লিখে এবং ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহ্কে ভয় করে, আর এর কিছু যেন না কমায়; কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি অক্ষম বা দুর্বল হয় বা লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে না পারে তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায্যভাবে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়। সাক্ষীদের মধ্যে যাদের ওপর তোমরা পছন্দ কর তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ সাক্ষী রাখবে, যদি দু’জন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক ; স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দিবে। সাক্ষীগণকে যখন ডাকা হবে তখন তারা যেন অস্বীকার না করে। এটা ছোট হোক বা বড় হোক, মেয়াদসহ লিখতে তোমরা কোনরূপ বিরক্ত হয়ো না। আল্লাহর নিকট এটা ন্যায্যতর ও প্রমাণের জন্যে দৃঢ়তর এবং তোমাদের মধ্যে সন্দেহ উদ্রেক না হওয়ার নিকটতর; কিন্তু তোমরা পরস্পর যে ব্যবসায় নগদ আদান-প্রদান কর তা তোমরা না লিখলে কোন দোষ নেই। তোমরা যখন পরস্পরের মধ্যে বেচাকেনা কর তখন সাক্ষী রেখ, লেখক এবং সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যদি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত কর তবে তা তোমাদের জন্যে পাপ। তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে অবহিত।


আয়াত – ২৮৩:

وَاِنۡ — ওয়া ইন — আর যদি
کُنۡتُمۡ — কুনতুম — তোমরা থাকো
عَلٰی — আলা — উপর
سَفَرٍ — সফারিন — সফর/ভ্রমণ
وَّلَمۡ — ওয়া লাম — এবং না
تَجِدُوۡا — তাজিদূ — তোমরা পাও
کَاتِبًا — কাতিবান — লেখক
فَرِہٰنٌ — ফারিহান — তবে বন্ধক
مَّقۡبُوۡضَۃٌ — মাকবূদাহ — গ্রহণকৃত

فَاِنۡ — ফা ইন — তারপর যদি
اَمِنَ — আমিনা — বিশ্বাস করে
بَعۡضُکُمۡ — বা‘দুকুম — তোমাদের কেউ
بَعۡضًا — বা‘দান — অন্যকে

فَلۡیُؤَدِّ — ফালইউআদ্দি — সে যেন আদায় করে
الَّذِیۡ — আল্লাযী — যে ব্যক্তি
اؤۡتُمِنَ — উতুমিনা — আমানত রাখা হয়েছে
اَمَانَتَہٗ — আমানাতাহু — তার আমানত

وَلۡیَتَّقِ — ওয়ালইয়াত্তাকি — আর সে যেন ভয় করে
اللّٰہَ — আল্লাহ — আল্লাহকে
رَبَّہٗ — রাব্বাহু — তার রব

وَلَا — ওয়া লা — এবং না
تَکۡتُمُوا — তাকতুমূ — তোমরা গোপন করো
الشَّہَادَۃَ — আশ-শাহাদাহ — সাক্ষ্য

وَمَنۡ — ওয়া মান — আর যে
یَّکۡتُمۡہَا — ইয়াকতুমহা — তা গোপন করে
فَاِنَّہٗ — ফা ইন্নাহু — তবে সে
اٰثِمٌ — আছিমুন — পাপী
قَلۡبُہٗ — কালবুহু — তার হৃদয়

وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
بِمَا — বিমা — যা কিছু
تَعۡمَلُوۡنَ — তা‘মালূনা — তোমরা করো
عَلِیۡمٌ — আলীম — সর্বজ্ঞ

বাংলা অর্থ:

আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তবে বন্ধক রাখা যেতে পারে।
আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করো, তাহলে যার ওপর আমানত রাখা হয়েছে সে যেন তা আদায় করে এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না; যে তা গোপন করে, তার হৃদয় পাপী। আর আল্লাহ তোমাদের সব কাজ সম্পর্কে অবহিত।


আয়াত – ২৮৪:

لِلّٰہِ مَا فِی — লিল্লাহ মা ফী— আল্লাহর জন্য/আল্লাহরই যা কিছু মধ্যে
السَّمٰوٰتِ — আস-সামাওয়াত — আসমানসমূহ
وَمَا فِی — ওয়া মা ফী— এবং যা কিছু মধ্যে
الۡاَرۡضِ — আল-আরদ — পৃথিবী

وَاِنۡ — ওয়া ইন — আর যদি
تُبۡدُوۡا — তুবদূ — তোমরা প্রকাশ করো
مَا فِیۡۤ — মা ফী— যার মধ্যে
اَنۡفُسِکُمۡ — আনফুসিকুম — তোমাদের অন্তর

اَوۡ — আও — অথবা
تُخۡفُوۡہُ — তুখফূহু — তোমরা গোপন করো

یُحَاسِبۡکُمۡ — ইউহাসিবকুম — তিনি তোমাদের হিসাব নেবেন
بِہِ — বিহি — এর দ্বারা
اللّٰہُ — আল্লাহ — আল্লাহ

فَیَغۡفِرُ — ফাইয়াগফিরু — তিনি ক্ষমা করেন
لِمَنۡ — লিমান — যাকে
یَّشَآءُ — ইয়াশা — তিনি ইচ্ছা করেন

وَیُعَذِّبُ — ওয়া ইউ‘আযযিবু — এবং শাস্তি দেন
مَنۡ — মান — যাকে
یَّشَآءُ — ইয়াশা — তিনি ইচ্ছা করেন

وَاللّٰہُ — ওয়াল্লাহু — আর আল্লাহ
عَلٰی کُلِّ — আলাকুল্লি —প্রতিটির উপর
شَیۡءٍ — শাইয়িন — জিনিস
قَدِیۡرٌ — কাদীর — সর্বশক্তিমান

বাংলা অর্থ:

আসমানসমূহে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তোমাদের অন্তরে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো বা গোপন করো, আল্লাহ তার হিসাব নেবেন। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।


আয়াত – ২৮৫:

اٰمَنَ — আ-মানা — ঈমান আনল
الرَّسُوۡلُ — আর-রাসূল — রাসূল
بِمَا — বিমা — যা
اُنۡزِلَ — উনযিলা — নাযিল করা হয়েছে
اِلَیۡہِ — ইলাইহি — তাঁর প্রতি
مِنۡ — মিন — থেকে
رَّبِّہٖ — রাব্বিহী — তাঁর রব

وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ — ওয়াল মু’মিনূন — এবং মুমিনরা

کُلٌّ — কুল্লুন — প্রত্যেকে
اٰمَنَ — আ-মানা — ঈমান এনেছে
بِاللّٰہِ — বিল্লাহ — আল্লাহর প্রতি
وَمَلٰٓئِکَتِہٖ — ওয়া মালাইকাতিহী — তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি
وَکُتُبِہٖ — ওয়া কুতুবিহী — তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি
وَرُسُلِہٖ — ওয়া রুসুলিহী — তাঁর রাসূলদের প্রতি

لَا — লা — না
نُفَرِّقُ — নুফাররিকু — আমরা পার্থক্য করি
بَیۡنَ — বাইনা — মধ্যে
اَحَدٍ — আহাদিন — কারো
مِّنۡ — মিন — থেকে
رُّسُلِہٖ — রুসুলিহী — তাঁর রাসূলদের

وَقَالُوۡا — ওয়া কালূ — এবং তারা বলল
سَمِعۡنَا — সামি‘না — আমরা শুনেছি
وَاَطَعۡنَا — ওয়া আতা‘না — এবং আমরা মান্য করেছি

غُفۡرَانَکَ — গুফরানাকা — আপনার ক্ষমা চাই
رَبَّنَا — রাব্বানা — হে আমাদের রব
وَاِلَیۡکَ — ওয়া ইলাইকা — এবং আপনারই দিকে
الۡمَصِیۡرُ — আল-মাসীর — প্রত্যাবর্তন

বাংলা অর্থ:

রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস এনেছেন, এবং মুমিনরাও বিশ্বাস এনেছেন। তারা সবাই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে। তারা বলে, আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কারও মধ্যে পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব, আমরা আপনার ক্ষমা চাই এবং আপনারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।


আয়াত – ২৮৬:

لَا — লা — না
یُکَلِّفُ — ইউকাল্লিফু — বোঝা চাপায়
اللّٰہُ — আল্লাহ — আল্লাহ
نَفۡسًا — নাফসান — কোনো প্রাণ/আত্মা
اِلَّا — ইল্লা — ছাড়া
وُسۡعَہَا — উস‘আহা — তার সামর্থ্য

لَہَا — লাহা — তার জন্য
مَا — মা — যা
کَسَبَتۡ — কাসাবাত — সে অর্জন করেছে

وَعَلَیۡہَا — ওয়া আলাইহা — এবং তার উপর
مَا — মা — যা
اکۡتَسَبَتۡ — ইকতাসাবাত — সে উপার্জন করেছে

رَبَّنَا — রাব্বানা — হে আমাদের রব
لَا — লা — না
تُؤَاخِذۡنَا — তু’আখিযনা — আমাদের ধরো/পাকড়াও করো
اِنۡ — ইন — যদি
نَّسِیۡنَا — নাসীনা — আমরা ভুলে যাই
اَوۡ — আও — অথবা
اَخۡطَاۡنَا — আখতা’না — ভুল করি

رَبَّنَا — রাব্বানা — হে আমাদের রব
وَلَا — ওয়া লা — এবং না
تَحۡمِلۡ — তাহমিল — বোঝা দিও
عَلَیۡنَا — আলাইনা — আমাদের উপর
اِصۡرًا — ইসরান — কঠিন বোঝা
کَمَا — কামা — যেমন
حَمَلۡتَہٗ — হামালতাহু — তুমি দিয়েছিলে
عَلَی — আলা — উপর
الَّذِیۡنَ — আল্লাযীনা — যারা
مِنۡ — মিন — থেকে
قَبۡلِنَا — কাবলিনা — আমাদের পূর্বে

رَبَّنَا — রাব্বানা — হে আমাদের রব
وَلَا — ওয়া লা — এবং না
تُحَمِّلۡنَا — তুহাম্মিলনা — আমাদের ওপর চাপিও
مَا لَا — মা লা— যা না
طَاقَۃَ — তা’কাত — শক্তি/সামর্থ্য
لَنَا — লানা — আমাদের
بِہٖ — বিহী — তার জন্য

وَاعۡفُ — ওয়া‘ফু — ক্ষমা করো
عَنَّا — আন্না — আমাদের
وَاغۡفِرۡ — ওয়াগফির — ক্ষমা করো
لَنَا — লানা — আমাদের
وَارۡحَمۡنَا — ওয়ারহামনা — আমাদের দয়া করো

اَنۡتَ — আনতা — তুমি
مَوۡلٰىنَا — মাওলানা — আমাদের অভিভাবক/প্রভু
فَانۡصُرۡنَا — ফানসুরনা — আমাদের সাহায্য করো
عَلَی — আলা — বিরুদ্ধে
الۡقَوۡمِ — আল-কাওম — জাতি
الۡکٰفِرِیۡنَ — আল-কাফিরীন — কাফেরদের

বাংলা অর্থ:

আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্য এবং যা করে তার ওপর তার প্রতিদান রয়েছে। হে আমাদের প্রতিপালক, যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের ওপর এমন কঠিন বোঝা চাপিও না যেমন পূর্ববর্তীদের ওপর দিয়েছিলে। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিও না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের ক্ষমা করো, আমাদের গুনাহ মাফ করো এবং আমাদের উপর দয়া করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক, তাই অবিশ্বাসীদের (কাফেরদের) বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।