সূরা আল আনফাল (الأنفال) | অতিরিক্ত প্রাপ্তিসমূহ/যুদ্ধলব্ধ সম্পদ
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ৭৫
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-২৬ঃ
وَاذْكُرُوا (ওয়াযকুরূ → আর স্মরণ করো)
إِذْ (ইয → যখন)
أَنتُمْ (আনতুম → তোমরা ছিলে)
قَلِيلٌ (কালীল → অল্পসংখ্যক)
مُّسْتَضْعَفُونَ (মুছতাদ‘আফূন → দুর্বল ও অসহায় অবস্থায়)
فِي (ফী → মধ্যে)
الْأَرْضِ (আল-আরদ → পৃথিবীতে)
تَخَافُونَ (তাখা-ফূন → তোমরা ভয় করতে)
أَن (আন → যে)
يَتَخَطَّفَكُمُ (ইয়াতাখাত্তাফাকুম → তোমাদেরকে হঠাৎ আক্রমণ করবে)
النَّاسُ (আন-না-স → মানুষজন)
فَآوَاكُمْ (ফাআওয়া-কুম → অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দিলেন)
وَأَيَّدَكُم (ওয়া আইয়াদাকুম → এবং তোমাদের শক্তিশালী করলেন)
بِنَصْرِهِ (বিনাসরিহী → তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে)
وَرَزَقَكُم (ওয়া রাঝাকাকুম → এবং তোমাদের জীবিকা দিলেন)
مِّنَ (মিনা → থেকে)
الطَّيِّبَاتِ (আত-তাইয়িবা-ত → উত্তম ও পবিত্র বস্তুসমূহ)
لَعَلَّكُم (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشْكُرُونَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞ হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে অল্পসংখ্যক, পৃথিবীতে দুর্বল ও অসহায় অবস্থায়; তোমরা ভয় করতে যে, মানুষজন তোমাদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দিলেন, তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে তোমাদের শক্তিশালী করলেন এবং তোমাদেরকে উত্তম ও পবিত্র বস্তু থেকে জীবিকা দিলেন—যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ (শুকরিকারী) হও।
আয়াত-২৭ঃ
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
لَا (লা → না)
تَخُونُوا (তাখূনূ → তোমরা বিশ্বাসভঙ্গ করো)
اللَّهَ (আল্লাহ → আল্লাহর সঙ্গে)
وَالرَّسُولَ (ওয়ার-রাছূল → এবং রসূলের সঙ্গে)
وَتَخُونُوا (ওয়া তাখূনূ → এবং বিশ্বাসভঙ্গ /খিয়ানত করো)
أَمَانَاتِكُمۡ (আমা-না-তিকুম → তোমাদের অর্পিত দায়িত্বসমূহ / আমানতসমূহ)
وَأَنتُمۡ (ওয়া আনতুম → অথচ তোমরা)
تَعۡلَمُونَ (তা‘লামূন → জানো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীরা! তোমরা আল্লাহ ও রসূলের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ (খিয়ানত) করো না, এবং জেনেশুনে তোমাদের অর্পিত দায়িত্বের (আমানতের) বিশ্বাসভঙ্গ (খিয়ানত) করো না।
আয়াত-২৮ঃ
وَاعۡلَمُوا (ওয়া‘লামূ → এবং জেনে রাখো)
أَنَّمَا (আন্নামা → নিশ্চয়ই কেবল)
أَمۡوَالُكُمۡ (আমওয়া-লুকুম → তোমাদের সম্পদ)
وَأَوۡلَادُكُمۡ (ওয়া আওলা-দুকুম → এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি)
فِتۡنَةٌ (ফিতনাতুন → পরীক্ষার বিষয়)
وَأَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহর)
عِندَهُۥ (ইনদাহূ → তাঁর কাছে)
أَجۡرٌ (‘আজর → প্রতিদান)
عَظِيمٌ (‘আযীম → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর জেনে রাখো, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কেবল একটি পরীক্ষা। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহান প্রতিদান।
আয়াত-২৯ঃ
یَا أَیُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِینَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
إِنۡ (ইন → যদি)
تَتَّقُوا (তাত্তাকূ → তোমরা ভয় করে চল)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
یَجۡعَل (ইয়াজ‘আল → তিনি করে দেবেন)
لَّكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
فُرۡقَانًا (ফুরকা-ন → সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ের মানদণ্ড)
وَیُكَفِّر (ওয়া ইউকাফফির → এবং তিনি মুছে দেবেন)
عَنكُمۡ (‘আনকুম → তোমাদের)
سَیِّئَاتِكُمۡ (সাইয়িআ-তিকুম → তোমাদের মন্দ কাজসমূহ)
وَیَغۡفِرۡ (ওয়া ইয়াগফির → এবং ক্ষমা করবেন)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
ذُو (যূ → অধিকারী)
الۡفَضۡلِ (আল-ফাদল → অনুগ্রহের)
الۡعَظِیۡمِ (আল-‘আযীম → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চলো, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ের একটি মানদণ্ড (ফুরকান) স্থাপন করে দেবেন; তোমাদের মন্দ কাজগুলো তোমাদের থেকে মুছে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।
আয়াত-৩০ঃ
وَإِذۡ (ওয়া ইয → আর যখন)
يَمۡكُرُ (ইয়ামকুর → ষড়যন্ত্র করে / কৌশল করে)
بِكَ (বিকা → তোমার বিরুদ্ধে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
لِيُثۡبِتُوكَ (লিইউছবিতূকা → তোমাকে আটকে রাখতে)
أَوۡ (আও → অথবা)
يَقۡتُلُوكَ (ইয়াকতুলূকা → তোমাকে হত্যা করতে)
أَوۡ (আও → অথবা)
يُخۡرِجُوكَ (ইউখরিজূকা → তোমাকে বের করে দিতে)
وَيَمۡكُرُونَ (ওয়া ইয়ামকুরূন → আর তারা ষড়যন্ত্র করে)
وَيَمۡكُرُ (ওয়া ইয়ামকুর → এবং কৌশল/পরিকল্পনা করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
خَيۡرُ (খাইর → শ্রেষ্ঠ)
الۡمَاكِرِينَ (আল-মা-কিরীন → কৌশলকারীদের / পরিকল্পনাকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন অবিশ্বাসীরা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল—তোমাকে বন্দী করে রাখার জন্য, অথবা তোমাকে হত্যা করার জন্য, অথবা তোমাকে নির্বাসিত করার জন্য—তখন তারা ষড়যন্ত্র করছিল, আর আল্লাহও কৌশল করছিলেন। আর আল্লাহই সর্বোত্তম কৌশলকারী/পরিকল্পনাকারী।
আয়াত-৩১ঃ
وَإِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
تُتۡلَىٰ (তুতলা → পাঠ করা হয় / তিলাওয়াত করা হয়)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের সামনে)
آيَاتُنَا (আ-য়া-তুনা → আমাদের আয়াতসমূহ)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলে)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
سَمِعۡنَا (ছামি‘না → আমরা শুনেছি)
لَوۡ (লাও → যদি)
نَشَاءُ (নাশা-উ → আমরা চাইতাম)
لَقُلۡنَا (লাকুলনা → তাহলে আমরা অবশ্যই বলতাম)
مِثۡلَ (মিছলা → অনুরূপ)
هَٰذَا (হা-যা → এর)
إِنۡ (ইন → নয়)
هَٰذَا (হা-যা → এটি)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
أَسَاطِيرُ (আসা-তীর → কাহিনিগুলো / উপকথাগুলো)
الۡأَوَّلِينَ (আল-আওয়ালীন → পূর্ববর্তীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তাদের সামনে আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তারা বলে, “আমরা তো শুনেছি। আমরা চাইলে এর অনুরূপ আমরাও বলতে পারতাম। এটি তো পূর্ববর্তীদের কাহিনি ছাড়া আর কিছুই নয়।”
আয়াত-৩২ঃ
وَإِذۡ (ওয়া ইয → আর যখন)
قَالُوا (কা-লূ → তারা বলেছিল)
اللّٰهُمَّ (আল্লা-হুম্মা → হে আল্লাহ)
إِنۡ (ইন → যদি)
كَانَ (কা-না → হয়)
هَٰذَا (হা-যা → এটি)
هُوَ (হুওয়া → সেটিই)
الۡحَقَّ (আল-হাক্ক → সত্য)
مِنۡ (মিন → থেকে)
عِندِكَ (‘ইনদিকা → তোমার পক্ষ থেকে)
فَأَمۡطِرۡ (ফাআমতির → তবে বর্ষণ করো)
عَلَيۡنَا (‘আলাইনা → আমাদের ওপর)
حِجَارَةً (হিজা-রাতান → পাথর)
مِّنَ (মিন → থেকে)
السَّمَاءِ (আস-সামা → আকাশ)
أَوِ (আও → অথবা)
ائۡتِنَا (ই’তিনা → আমাদের কাছে নিয়ে এসো)
بِعَذَابٍ (বি‘আযা-ব → শাস্তি)
أَلِيمٍ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তারা বলেছিল, “হে আল্লাহ! যদি এটি তোমার পক্ষ থেকে সত্যই হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো অথবা আমাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে এসো।”
আয়াত-৩৩ঃ
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
كَانَ (কা-না → ছিলেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لِيُعَذِّبَهُمۡ (লিইউ‘আযযিবাহুম → তাদের শাস্তি দেবেন)
وَأَنتَ (ওয়া আনতা → আর তুমি)
فِيهِمۡ (ফীহিম → তাদের মধ্যে আছ)
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
كَانَ (কা-না → এমন যে)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مُعَذِّبَهُمۡ (মু‘আযযিবাহুম → তাদের শাস্তিদাতা)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → যখন তারা)
يَسۡتَغۡفِرُونَ (ইয়াছতাগফিরূন → ক্ষমা প্রার্থনা করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দেবেন। আর তিনি এমন নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করতে থাকলে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন।
আয়াত-৩৪ঃ
وَمَا (ওয়া মা → আর কীভাবে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
أَلَّا (আল্লা → না)
يُعَذِّبَهُمُ (ইউ‘আযযিবাহুম → তিনি তাদের শাস্তি দেবেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
يَصُدُّونَ (ইয়াসুদ্দূন → বাধা দেয়)
عَنِ (‘আন → থেকে)
الۡمَسۡجِدِ (আল-মাছজিদ → শুধুমাত্র বা বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণের স্থান/ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্থান)
الۡحَرَامِ (আল-হারা-ম → সম্মানিত / নিষিদ্ধ)
وَمَا (ওয়া মা → আর তারা নয়)
كَانُوا (কা-নূ → ছিল)
أَوۡلِيَاءَهُ (আওলিয়া-আহূ → তাঁর অভিভাবক/ঘনিষ্ঠজন)
إِنۡ (ইন → নয়)
أَوۡلِيَاؤُهُ (আওলিয়া-উহূ → তাঁর অভিভাবক/ঘনিষ্ঠজন)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
الۡمُتَّقُونَ (আল-মুত্তাকূন → আল্লাহ-ভীরু)
وَلَٰكِنَّ (ওয়া লা-কিন্না → কিন্তু)
أَكۡثَرَهُمۡ (আকছারাহুম → তাদের অধিকাংশ)
لَا يَعۡلَمُونَ (লা-ইয়া‘লামূন → জানে না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর কীভাবে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না, যখন তারা আল্লাহর নাম স্মরণের সম্মানিত স্থানে (হারাম মসজিদে) যেতে মানুষকে বাধা দেয়? অথচ তারা তাঁর ঘনিষ্ঠজন ছিল না। তাঁর ঘনিষ্ঠজন তো কেবল আল্লাহ-ভীরুরাই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
আয়াত-৩৫ঃ
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
كَانَ (কা-না → ছিল)
صَلَاتُهُمۡ (সালা-তুহুম → তাদের যোগাযোগ)
عِندَ (ইনদা → কাছে)
الۡبَيۡتِ (আল-বাইত → সেই গৃহের)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
مُكَاءً (মুকা-আন → মুখ দিয়ে শব্দ করা/ শিস দেওয়ার মতো শব্দ)
وَتَصۡدِيَةً (ওয়া তাসদিয়াতান → এবং শব্দ সৃষ্টি করা/হাততালি)
فَذُوقُوا (ফাযূকূ → অতএব আস্বাদন করো)
الۡعَذَابَ (আল-‘আযা-ব → শাস্তি)
بِمَا (বিমা → যে কারণে)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَكۡفُرُونَ (তাকফুরূন → অবিশ্বাস করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর সেই গৃহের কাছে তাদের যোগাযোগ (সালাত) মুখ ও হাত দিয়ে শব্দ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। অতএব, তোমরা যে অবিশ্বাস করতে, তার কারণে শাস্তি ভোগ করো।
আয়াত-৩৬ঃ
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
يُنفِقُونَ (ইউনফিকূন → ব্যয় করে)
أَمۡوَالَهُمۡ (আমওয়া-লাহুম → তাদের সম্পদ)
لِيَصُدُّوا (লিয়াসুদ্দূ → বাধা দেওয়ার জন্য)
عَنۡ (আন → থেকে)
سَبِيلِ (সাবীল → পথ)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহর)
فَسَيُنفِقُونَهَا (ফাছাইউনফিকূনাহা → অতঃপর তারা তা ব্যয় করতেই থাকবে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
تَكُونُ (তাকূন → তা হবে)
عَلَيۡهِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের জন্য)
حَسۡرَةً (হাছরাতান → আফসোসের কারণ)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
يُغۡلَبُونَ (ইউগলাবূন → তারা পরাজিত হবে)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
إِلَىٰ (ইলা → দিকে)
جَهَنَّمَ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
يُحۡشَرُونَ (ইউহশারূন → তাদের সমবেত করা হবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করেছে, তারা আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়ার জন্য তাদের সম্পদ ব্যয় করে। অতঃপর তারা তা ব্যয় করতেই থাকবে; তারপর তা তাদের জন্য অনুশোচনার কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের দিকে একত্রিত করা হবে।
আয়াত-৩৭ঃ
لِيَمِيزَ (লিয়ামীঝা → যাতে পৃথক করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
الۡخَبِيثَ (আল-খাবীছ → নিকৃষ্টকে)
مِنَ (মিনা → থেকে)
الطَّيِّبِ (আত-তাইয়িব → পবিত্র)
وَيَجۡعَلَ (ওয়া ইয়াজ‘আল → এবং তিনি রাখেন)
الۡخَبِيثَ (আল-খাবীছ → নিকৃষ্টকে)
بَعۡضَهُ (বা‘দাহূ → তার এক অংশ)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
بَعۡضٍ (বা‘দিন → অন্য অংশের)
فَيَرۡكُمَهُ (ফাইয়ারকুমাহূ → অতঃপর তা স্তূপীকৃত করেন)
جَمِيعًا (জামী‘আন → সবটুকু একত্রে)
فَيَجۡعَلَهُ (ফাইয়াজ‘আলাহূ → তারপর তা স্থাপন করেন)
فِي (ফী → মধ্যে)
جَهَنَّمَ (জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের স্থানে)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
هُمُ (হুম → তারা)
الۡخَاسِرُونَ (আল-খা-ছিরূন → ক্ষতিগ্রস্ত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যাতে আল্লাহ নিকৃষ্টকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন এবং নিকৃষ্টকে একটির উপর আরেকটি জমা করে সব একত্র করেন, তারপর তা ভয়ংকর আগুনের স্থানে স্থাপন করেন। আর তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আয়াত-৩৮ঃ
قُلۡ (কুল → বলো)
لِّلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদেরকে যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
إِنۡ (ইন → যদি)
يَنتَهُوا (ইয়ানতাহূ → তারা বিরত হয়)
يُغۡفَرۡ (ইউগফার → ক্ষমা করা হবে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের)
مَّا (মা → যা)
قَدۡ (কাদ → ইতোমধ্যে)
سَلَفَ (ছালাফ → অতীতে ঘটেছে)
وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
يَعُودُوا (ইয়া‘ঊদূ → তারা ফিরে আসে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে ইতোমধ্যেই)
مَضَتۡ (মাদাত → কার্যকর হয়েছে)
سُنَّتُ (ছুন্নাত → বিধান)
الۡأَوَّلِينَ (আল-আওয়ালীন → পূর্ববর্তীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বলো, যারা অবিশ্বাস করেছে—তারা যদি বিরত হয়, তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তাদের তা ক্ষমা করা হবে। আর যদি তারা আবার ফিরে আসে, তবে পূর্ববর্তীদের ছুন্নাত (বিধি-বিধান) ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
আয়াত-৩৯ঃ
وَقَاتِلُوهُمۡ (ওয়া কা-তিলূহুম → এবং তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
لَا تَكُونَ (লা তাকূনা → থাকে না)
فِتۡنَةٌ (ফিতনাতুন → বিভ্রান্তি/পরীক্ষা)
وَيَكُونَ (ওয়া ইয়াকূনা → এবং প্রতিষ্ঠিত হয়)
الدِّينُ (আদ-দীন → জীবনব্যবস্থা)
كُلُّهُ (কুল্লুহূ → সম্পূর্ণরূপে)
لِلّٰهِ (লিল্লা-হ → আল্লাহর জন্য)
فَإِنِ (ফাইনি → অতঃপর যদি)
انۡتَهَوۡا (ইনতাহাও → তারা বিরত হয়)
فَإِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা কিছু)
يَعۡمَلُونَ (ইয়া‘মালূন → তারা করে)
بَصِيرٌ (বাসীর → সম্যক দ্রষ্টা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো, যতক্ষণ না বিভ্রান্তি (ফিতনা) দূর হয় এবং জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয় আল্লাহর জন্য। অতঃপর তারা যদি বিরত হয়, তবে তারা যা করে আল্লাহ তার সবকিছু দেখেন।
আয়াত-৪০ঃ
وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَاعۡلَمُوا (ফা‘লামূ → তবে জেনে রাখো)
أَنَّ (আন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مَوۡلَاكُمۡ (মাওলা-কুম → তোমাদের প্রভু/ আশ্রয়দাতা)
نِعۡمَ (নি‘মা → কতই উত্তম)
الۡمَوۡلَىٰ (আল-মাওলা → প্রভু/ আশ্রয়দাতা)
وَنِعۡمَ (ওয়া নি‘মা → এবং কতই উত্তম)
النَّصِيرُ (আন-নাসীর → সাহায্যকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো—নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আশ্রয়দাতা। আর তিনি কতই উত্তম আশ্রয়দাতা এবং কতই উত্তম সাহায্যকারী!
আয়াত-৪১ঃ
وَاعۡلَمُوا (ওয়া‘লামূ → আর জেনে রাখো)
أَنَّمَا (আন্নামা → নিশ্চয়ই যা কিছু)
غَنِمۡتُمۡ (গানিমতুম → তোমরা অর্জন করো)
مِّنۡ شَيۡءٍ (মিন শাইয়িন → কোনো কিছু)
فَأَنَّ (ফাআন্না → তবে তার)
لِلّٰهِ (লিল্লা-হ → আল্লাহর জন্য)
خُمُسَهُ (খুমুছাহূ → এক-পঞ্চমাংশ)
وَلِلرَّسُولِ (ওয়া লিররাছূল → এবং রাসূলের জন্য)
وَلِذِي الۡقُرۡبَىٰ (ওয়া লিযিল-কুরবা → নিকটাত্মীয়দের জন্য)
وَالۡيَتَامَىٰ (ওয়াল-ইয়াতা-মা → এতিমদের জন্য)
وَالۡمَسَاكِينِ (ওয়াল-মাছা-কীন → অভাবগ্রস্তদের জন্য)
وَابۡنِ السَّبِيلِ (ওয়াবনিছ-ছাবীল → পথিকের জন্য)
إِنۡ (ইন → যদি)
كُنتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হয়ে থাকো)
آمَنتُمۡ (আ-মানতুম → বিশ্বাস করে থাকো)
بِاللّٰهِ (বিল্লা-হ → আল্লাহর প্রতি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
أَنزَلۡنَا (আনঝালনা → আমরা অবতীর্ণ করেছি)
عَلَىٰ (আলা → ওপর)
عَبۡدِنَا (‘আবদিনা → আমাদের বান্দার)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → দিনে)
الۡفُرۡقَانِ (আল-ফুরকা-ন → সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ের)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → যেদিন)
الۡتَقَى (ইলতাকা → মুখোমুখি হয়েছিল)
الۡجَمۡعَانِ (আল-জাম‘আ-ন → দুই দল)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হু → আর আল্লাহ)
عَلَىٰ (আলা → ওপর)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَيۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়ের)
قَدِيرٌ (কাদীর → সর্বশক্তিমান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর জেনে রাখো, তোমরা যে কোনো কিছু অর্জন করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য এবং রাসূলের জন্য এবং নিকটাত্মীয়দের জন্য এবং এতিমদের জন্য এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য এবং পথিকের জন্য। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং সেই বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস করে থাকো যা আমরা আমাদের বান্দার উপর অবতীর্ণ করেছি—সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ের দিনে, যেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আয়াত-৪২ঃ
اِذۡ (ইয → যখন)
أَنتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
بِالۡعُدۡوَةِ الدُّنۡيَا (বিল‘উদওয়াতিদ্দুনইয়া → নিকটবর্তী প্রান্তে)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → আর তারা)
بِالۡعُدۡوَةِ الۡقُصۡوَىٰ (বিল‘উদওয়াতিল কুসওয়া → দূরবর্তী প্রান্তে)
وَالرَّكۡبُ (ওয়াররাকবু → আর কাফেলা)
أَسۡفَلَ (আছফালা → নিচের দিকে)
مِنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের থেকে)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
تَوَاعَدتُّمۡ (তাওয়া‘আদতুম → তোমরা পরস্পর সময় নির্ধারণ করতে)
لَاخۡتَلَفۡتُمۡ (লাখতালাফতুম → তোমরা মতভেদ করতে)
فِي الۡمِيعَادِ (ফিল মী‘আদ → নির্ধারিত সময়ে)
وَلَٰكِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لِّيَقۡضِيَ (লিয়াকদিইয়া → যাতে তিনি সম্পন্ন করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
أَمۡرًا (আমরান → একটি বিষয়)
كَانَ (কা-না → যা ছিল)
مَفۡعُولًا (মাফ‘ঊলান → কার্যকর হওয়ার জন্য নির্ধারিত)
لِّيَهۡلِكَ (লিয়াহলিকা → যাতে ধ্বংস হয়)
مَنۡ (মান → যে)
هَلَكَ (হালাকা → ধ্বংস হয়েছে)
عَنۡ بَيِّنَةٍ (আন বাইয়িনাতিন → সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে)
وَيَحۡيَىٰ (ওয়া ইয়াহইয়া → এবং জীবিত থাকে)
مَنۡ (মান → যে)
حَيَّ (হাইয়া → জীবিত হয়েছে)
عَنۡ بَيِّنَةٍ (আন বাইয়িনাতিন → সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে)
وَإِنَّ (ওয়া ইন্না → আর নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَسَمِيعٌ (লাছামী‘ → অবশ্যই সর্বশ্রোতা)
عَلِيمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যখন তোমরা ছিলে নিকটবর্তী প্রান্তে, আর তারা ছিল দূরবর্তী প্রান্তে এবং কাফেলা ছিল তোমাদের অপেক্ষা নিচের দিকে। আর যদি তোমরা পরস্পর সময় নির্ধারণ করতে, তবে নির্ধারিত সময় নিয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ এমন একটি বিষয় সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন, যা কার্যকর হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল—যাতে যে ধ্বংস হবে, সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে, সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আয়াত-৪৩ঃ
اِذۡ (ইয → যখন)
يُرِيكَهُمُ (ইউরীকাহুম → তিনি তাদেরকে দেখাচ্ছিলেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
فِي مَنَامِكَ (ফী মানা-মিকা → তোমার স্বপ্নে)
قَلِيلًا (কালীলান → অল্প সংখ্যায়)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
أَرَاكَهُمۡ (আরা-কাহুম → তিনি তাদেরকে দেখাতেন)
كَثِيرًا (কাছীরান → বেশি সংখ্যায়)
لَّفَشِلۡتُمۡ (লাফাশিলতুম → তবে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়তে)
وَلَتَنَازَعۡتُمۡ (ওয়া লাতানা-ঝা‘তুম → এবং তোমরা পরস্পর বিরোধে জড়িয়ে পড়তে)
فِي الۡأَمۡرِ (ফিল-আমর → বিষয়টি নিয়ে)
وَلَٰكِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
سَلَّمَ (ছাল্লামা → নিরাপদ রেখেছেন)
إِنَّهُ (ইন্নাহূ → নিশ্চয়ই তিনি)
عَلِيمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)
بِذَاتِ الصُّدُورِ (বিযাতিস-সুদূর → অন্তরের বিষয় সম্পর্কে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যখন আল্লাহ তোমার স্বপ্নে তাদেরকে অল্প সংখ্যায় দেখিয়েছিলেন। আর যদি তিনি তাদেরকে বেশি সংখ্যায় দেখাতেন, তবে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়তে এবং বিষয়টি নিয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতো। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিরাপদ রেখেছেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
আয়াত-৪৪ঃ
وَإِذۡ (ওয়া ইয → আর যখন)
يُرِيكُمُوهُمۡ (ইউরীকুমূহুম → তিনি তাদেরকে তোমাদের দেখিয়েছিলেন)
إِذِ (ইযি → যখন)
الۡتَقَيۡتُمۡ (ইলতাকাইতুম → তোমরা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিলে)
فِي أَعۡيُنِكُمۡ (ফী আ‘ইউনিকুম → তোমাদের দৃষ্টিতে)
قَلِيلًا (কালীলান → অল্প সংখ্যক)
وَيُقَلِّلُكُمۡ (ওয়া ইউকাল্লিলুকুম → এবং তিনি তোমাদেরকে অল্প দেখিয়েছিলেন)
فِي أَعۡيُنِهِمۡ (ফী আ‘ইউনিহিম → তাদের দৃষ্টিতে)
لِيَقۡضِيَ (লিয়াকদিইয়া → যাতে তিনি সম্পন্ন করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
أَمۡرًا (আমরান → একটি বিষয়)
كَانَ (কা-না → যা ছিল)
مَفۡعُولًا (মাফ‘ঊলান → কার্যকর হওয়ার জন্য নির্ধারিত)
وَإِلَى اللّٰهِ (ওয়া ইলাল্লা-হ → আর আল্লাহর কাছেই)
تُرۡجَعُ (তুরজা‘উ → প্রত্যাবর্তিত হয়)
الۡأُمُورُ (আল-উমূর → সব বিষয়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তোমরা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিলে, তখন তিনি তোমাদের দৃষ্টিতে তাদেরকে অল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তাদের দৃষ্টিতেও তোমাদেরকে অল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যাতে আল্লাহ এমন একটি বিষয় সম্পন্ন করেন, যা কার্যকর হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। আর সব বিষয়ই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হয়।
আয়াত-৪৫ঃ
یَا أَیُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِینَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছ)
إِذَا (ইযা → যখন)
لَقِیتُمۡ (লাকীতুম → তোমরা সম্মুখীন হও)
فِئَةً (ফিআতান → কোনো দলের)
فَاثۡبُتُوا (ফাছবুতূ → তখন দৃঢ় থাকো)
وَاذۡكُرُوا (ওয়াযকুরূ → এবং স্মরণ করো)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহকে)
كَثِیرًا (কাছীরান → অধিক পরিমাণে)
لَّعَلَّكُمۡ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تُفۡلِحُونَ (তুফলিহূন → সফল হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা কোনো দলের সম্মুখীন হও, তখন দৃঢ় থাকো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হও।
আয়াত-৪৬ঃ
وَأَطِيعُوا (ওয়া আতী‘ঊ → এবং আনুগত্য করো)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহর)
وَرَسُولَهُ (ওয়া রাছূলাহূ → এবং তাঁর রাসূলের)
وَلَا تَنَازَعُوا (ওয়ালা তানা-ঝা‘ঊ → আর পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না)
فَتَفۡشَلُوا (ফাতাফশালূ → তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে)
وَتَذۡهَبَ (ওয়া তাযহাবা → এবং চলে যাবে)
رِيحُكُمۡ (রীহুকুম → তোমাদের প্রবাহ)
وَاصۡبِرُوا (ওয়াসবিরূ → আর ধৈর্য ধারণ করো)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে আছেন)
الصَّابِرِينَ (আস-সা-বিরীন → ধৈর্যশীলদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রবাহ চলে যাবে। আর ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
আয়াত-৪৭ঃ
وَلَا تَكُونُوا (ওয়ালা তাকূনূ → আর তোমরা হয়ো না)
كَالَّذِينَ (কাল্লাযীনা → তাদের মতো, যারা)
خَرَجُوا (খারাজূ → বের হয়েছিল)
مِن دِيَارِهِمۡ (মিন দিয়া-রিহিম → নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে)
بَطَرًا (বাতারান → অহংকারবশত)
وَرِئَاءَ النَّاسِ (ওয়া রিআ-আন্-না-স → এবং মানুষকে দেখানোর জন্য)
وَيَصُدُّونَ (ওয়া ইয়াসুদ্দূন → এবং তারা বাধা দেয়)
عَن سَبِيلِ اللّٰهِ (আন সাবীলিল্লা-হ → আল্লাহর পথ থেকে)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
بِمَا (বিমা → যা কিছু)
يَعۡمَلُونَ (ইয়া‘মালূন → তারা করে)
مُحِيطٌ (মুহীত → পরিবেষ্টনকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা অহংকার ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দিত। আর তারা যা কিছু করে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
আয়াত-৪৮ঃ
وَإِذۡ (ওয়া ইয → আর যখন)
زَيَّنَ (ঝাইয়ানা → আকর্ষণীয় করে দেখাল)
لَهُمُ (লাহুম → তাদের কাছে)
الشَّيۡطَانُ (আশ-শাইতান → কুমন্ত্রণাদাতা)
أَعۡمَالَهُمۡ (আ‘মা-লাহুম → তাদের কাজগুলো)
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং বলল)
لَا غَالِبَ (লা গা-লিবা → কোনো বিজয়ী নেই)
لَكُمُ (লাকুম → তোমাদের ওপর)
الۡيَوۡمَ (আল-ইয়াওম → আজ)
مِنَ النَّاسِ (মিনান্না-স → মানুষের মধ্যে)
وَإِنِّي (ওয়া ইন্নী → আর নিশ্চয়ই আমি)
جَارٌ لَّكُمۡ (জা-রুল্লাকুম → তোমাদের নিকটবর্তী)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
تَرَاءَتِ (তারা-আতি → মুখোমুখি দেখা দিল)
الۡفِئَتَانِ (আল-ফিআতান → দুই দল)
نَكَصَ (নাকাছা → পিছিয়ে গেল)
عَلَىٰ عَقِبَيۡهِ (আলা ‘আকিবাইহি → নিজের গোড়ালির ওপর / পিছনের দিকে)
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং বলল)
إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمۡ (ইন্নী বারীউম মিনকুম → আমি তোমাদের থেকে সম্পর্কহীন)
إِنِّي أَرَىٰ (ইন্নী আরা → আমি দেখতে পাচ্ছি)
مَا لَا تَرَوۡنَ (মা লা তারাওন → যা তোমরা দেখতে পাও না)
إِنِّي أَخَافُ اللّٰهَ (ইন্নী আখা-ফুল্লা-হ → আমি আল্লাহকে ভয় করি)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
شَدِيدُ الۡعِقَابِ (শাদীদুল ‘ইকা-ব → শাস্তিতে কঠোর)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) তাদের কাজগুলোকে তাদের কাছে আকর্ষণীয়/শোভনীয় করে দেখাল এবং বলল, “আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না, আর আমি তোমাদের ঘনিষ্ঠজন।” অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হলো, তখন সে পিছিয়ে গেল এবং বলল, “আমি তোমাদের থেকে সম্পর্কহীন। আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি, যা তোমরা দেখতে পাও না। আমি আল্লাহকে ভয় করি।” আর আল্লাহ শাস্তিতে কঠোর।
আয়াত-৪৯ঃ
اِذۡ (ইয → যখন)
يَقُولُ (ইয়াকূল → বলে)
الۡمُنَافِقُونَ (আল-মুনা-ফিকূন → দ্বিমুখী আচরণকারী/মুনাফিকরা)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
فِي قُلُوبِهِمۡ (ফী কুলূবিহিম → তাদের অন্তরে)
مَّرَضٌ (মারাদ → রোগ)
غَرَّ (গাররা → প্রতারিত করেছে)
هَٰؤُلَاءِ (হা-উলা-ই → এদেরকে)
دِينُهُمۡ (দীনুহুম → তাদের দ্বীন / জীবনব্যবস্থা)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
يَتَوَكَّلۡ (ইয়াতাওয়াক্কাল → ভরসা করে)
عَلَى اللّٰهِ (আলাল্লা-হ → আল্লাহর ওপর)
فَإِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَزِيزٌ (আযীঝ → পরাক্রমশালী)
حَكِيمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যখন দ্বিমুখী আচরণকারীরা (মুনাফিকরা) এবং যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তারা বলছিল, “এদেরকে তাদের জীবণব্যবস্থা/দ্বীন প্রতারিত করেছে।” অথচ আল্লাহর উপর ভরসা করলে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-৫০ঃ
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
تَرَىٰ (তারা → তুমি দেখতে)
إِذۡ (ইয → যখন)
يَتَوَفَّى (ইয়াতাওয়াফফা → পূর্ণভাবে প্রাণ হরণ করেন)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
الۡمَلَائِكَةُ (আল-মালা-ইকা → ফেরেশতারা)
يَضۡرِبُونَ (ইয়াদরিবূন → আঘাত করে)
وُجُوهَهُمۡ (উজূহাহুম → তাদের মুখমণ্ডলে)
وَأَدۡبَارَهُمۡ (ওয়া আদবা-রাহুম → এবং তাদের পিঠে)
وَذُوقُوا (ওয়া যূকূ → এবং আস্বাদন করো)
عَذَابَ (আযা-ব → শাস্তি)
الۡحَرِيقِ (আল-হারীক → দহন / জ্বলে যাওয়া)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা অবিশ্বাসকারীদের (কাফেরদের) প্রাণ হরণ করছিল—তাদের মুখমণ্ডল ও পিঠে আঘাত করছিল এবং বলছিল, “আগুনে দহনের শাস্তি ভোগ করো।
