সূরা আল আনফাল (الأنفال) | অতিরিক্ত প্রাপ্তিসমূহ/যুদ্ধলব্ধ সম্পদ
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ৭৫
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-৫১ঃ
ذَٰلِكَ (যা-লিকা → এটাই)
بِمَا (বিমা → যে কারণে)
قَدَّمَتۡ (কাদ্দামাত → আগে পাঠিয়েছে)
أَيۡدِيكُمۡ (আইদীকুম → তোমাদের হাত)
وَأَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَيۡسَ (লাইছা → নন)
بِظَلَّامٍ (বিজাল্লা-ম → কোনো জুলুমকারী)
لِّلۡعَبِيدِ (লিল‘আবীদ → বান্দাদের প্রতি)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটা তোমাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে, তারই কারণে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুমকারী নন।
আয়াত-৫২ঃ
كَدَأۡبِ (কাদাআবি → যেমন ছিল রীতি)
آلِ فِرۡعَوۡنَ (আলি ফির‘আওন → ফিরআউনের অনুসারীদের)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
مِن قَبۡلِهِمۡ (মিন কাবলিহিম → তাদের পূর্বে ছিল)
كَفَرُوا (কাফারূ → তারা অবিশ্বাস করেছিল)
بِآيَاتِ اللّٰهِ (বিআ-য়া-তিল্লা-হ → আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে)
فَأَخَذَهُمُ (ফাআখাযাহুম → অতঃপর তাদের পাকড়াও করেছিলেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
بِذُنُوبِهِمۡ (বিযুনূবিহিম → তাদের অপরাধের কারণে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
قَوِيٌّ (কাওয়িয়্য → শক্তিশালী)
شَدِيدُ الۡعِقَابِ (শাদীদুল ‘ইকা-ব → শাস্তিতে কঠোর)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যেমন ছিল ফিরআউনের অনুসারীদের এবং তাদের পূর্ববর্তীদের রীতি—তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) অস্বীকার করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের অপরাধের কারণে তাদের পাকড়াও করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী, শাস্তিতে কঠোর।
আয়াত-৫৩ঃ
ذَٰلِكَ (যা-লিকা → এটাই)
بِأَنَّ (বিআন্না → কারণ)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَمۡ يَكُ (লাম ইয়াকু → হননি)
مُغَيِّرًا (মুগাইয়িরান → পরিবর্তনকারী)
نِّعۡمَةً (নি‘মাতান → কোনো স্বাচ্ছন্দ্যের দান/অনুকূলতা/সুখকর প্রাপ্তি)
أَنۡعَمَهَا (আন‘আমাহা → যা তিনি দান করেছেন)
عَلَىٰ قَوۡمٍ (আলা কাওমিন → কোনো সম্প্রদায়ের ওপর)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يُغَيِّرُوا (ইউগাইয়িরূ → তারা পরিবর্তন করে)
مَا (মা → যা)
بِأَنفُسِهِمۡ (বিআনফুছিহিম → নিজেদের মধ্যে)
وَأَنَّ (ওয়া আন্না → এবং নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
سَمِيعٌ (ছামী‘ → সর্বশ্রোতা)
عَلِيمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটা এজন্য যে, আল্লাহ কোনও সম্প্রদায়কে যে স্বাচ্ছন্দ্যের দান/অনুকূলতা/সুখকর প্রাপ্তি (নিয়ামত) দান করেন, তা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থার মাধ্যমে পরিবর্তন করে ফেলে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আয়াত-৫৪ঃ
كَدَأۡبِ (কাদাআবি → যেমন ছিল রীতি)
آلِ فِرۡعَوۡنَ (আলি ফির‘আওন → ফিরআউনের অনুসারীদের)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
مِن قَبۡلِهِمۡ (মিন কাবলিহিম → তাদের পূর্বে ছিল)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল)
بِآيَاتِ رَبِّهِمۡ (বিআ-য়া-তি রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহকে)
فَأَهۡلَكۡنَاهُمۡ (ফাআহলাকনা-হুম → অতঃপর আমরা তাদের ধ্বংস করেছিলাম)
بِذُنُوبِهِمۡ (বিযুনূবিহিম → তাদের অপরাধের কারণে)
وَأَغۡرَقۡنَا (ওয়া আগরাকনা → এবং আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম)
آلَ فِرۡعَوۡنَ (আ-লা ফির‘আওন → ফিরআউনের অনুসারীদের)
وَكُلٌّ (ওয়া কুল্লুন → আর প্রত্যেকেই)
كَانُوا (কা-নূ → ছিল)
ظَالِمِينَ (জা-লিমীন → অত্যাচারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যেমন ছিল ফিরআউনের অনুসারীদের এবং তাদের পূর্ববর্তীদের রীতি। তারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা বলেছিল। অতঃপর আমরা তাদের অপরাধের কারণে তাদের ধ্বংস করেছিলাম এবং ফিরআউনের অনুসারীদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। আর তারা সবাই ছিল অত্যাচারী (জালিম)।
আয়াত-৫৫ঃ
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
شَرَّ (শার্রা → নিকৃষ্টতম)
الدَّوَابِّ (আদ্-দাওয়াব্বি → জীবজন্তু / সৃষ্টিজীবের)
عِندَ اللّٰهِ (ইনদাল্লা-হি → আল্লাহর কাছে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
فَهُمۡ (ফাহুম → অতঃপর তারা)
لَا يُؤۡمِنُونَ (লা ইউ’মিনূন → বিশ্বাস করে না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম জীবজন্তু তারা, যারা অবিশ্বাস করেছে; অতঃপর তারা বিশ্বাস করে না।
আয়াত-৫৬ঃ
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
عَاهَدتَّ (আ-হাত্তা → তুমি অঙ্গীকার করেছিলে)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
يَنقُضُونَ (ইয়ানকুদূন → তারা ভঙ্গ করে)
عَهۡدَهُمۡ (‘আহদাহুম → তাদের অঙ্গীকার)
فِي كُلِّ مَرَّةٍ (ফী কুল্লি মাররাতিন → প্রত্যেকবার)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
لَا يَتَّقُونَ (লা ইয়াত্তাকূন → আল্লাহভীরু না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যাদের সঙ্গে তুমি অঙ্গীকার করেছিলে, তারপর তারা প্রত্যেকবার তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, অথচ তারা আল্লাহভীরু না।
আয়াত-৫৭ঃ
فَإِمَّا (ফাইম্মা → অতঃপর যদি)
تَثۡقَفَنَّهُمۡ (তাছকাফান্নাহুম → তুমি অবশ্যই তাদের নাগাল পাবে)
فِي الۡحَرۡبِ (ফিল হারবি → বিরোধিতা / সংঘর্ষ / প্রতিদ্বন্দ্বিতা)
فَشَرِّدۡ بِهِمۡ (ফাশাররিদ বিহিম → তাদের মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ করে দাও)
مَّنۡ خَلۡفَهُمۡ (মান খালফাহুম → তাদের পেছনে যারা আছে তাদেরকে)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَذَّكَّرُونَ (ইয়াযযাক্কারূন → শিক্ষা গ্রহণ করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যদি তুমি বিরোধিতায় তাদেরকে নাগালে পেয়ে যাও, তাহলে তাদের মাধ্যমে তাদের পেছনে যারা আছে, তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দাও, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
আয়াত-৫৮ঃ
وَإِمَّا (ওয়া ইম্মা → আর যদি)
تَخَافَنَّ (তাখা-ফান্না → তুমি আশঙ্কা করো)
مِنۡ قَوۡمٍ (মিন কাওমিন → কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে)
خِيَانَةً (খিয়া-নাতান → বিশ্বাসঘাতকতার)
فَانۢبِذۡ إِلَيۡهِمۡ (ফানবিয ইলাইহিম → তবে তাদের দিকে তা নিক্ষেপ করে দাও/দূরে সরে রাখো)
عَلَىٰ سَوَاءٍ (আলা সাওয়া-ইন → সমানভাবে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
لَا يُحِبُّ (লা ইউহিব্বু → পছন্দ করেন না)
الۡخَائِنِينَ (আল-খা-ইনীন → বিশ্বাসঘাতকদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা করো, তাহলে তাদের সমানভাবে তোমরাও তা থেকে দূরে সরে রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের পছন্দ করেন না।
আয়াত-৫৯ঃ
وَلَا (ওয়ালা → আর যেন না)
يَحۡسَبَنَّ (ইয়াহছাবান্না → মনে করে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
سَبَقُوا (ছাবাকূ → তারা পার পেয়ে গেছে)
إِنَّهُمۡ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
لَا يُعۡجِزُونَ (লা ইউ‘জিঝূন → আল্লাহকে পরাস্ত করতে পারবে না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা অবিশ্বাস করেছে, তারা যেন মনে না করে যে তারা পার পেয়ে গেছে। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহকে পরাস্ত করতে পারবে না।
আয়াত-৬০ঃ
وَأَعِدُّوا (ওয়া আ‘ইদ্দূ → প্রস্তুত করো)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مَّا اسۡتَطَعۡتُمۡ (মা ইসতাতা‘তুম → যা তোমরা সামর্থ্য রাখো)
مِّن قُوَّةٍ (মিন কুওওয়াতিন → শক্তি)
وَمِن رِّبَاطِ الۡخَيۡلِ (ওয়া মিন রিবা-তিল খাইল → এবং অশ্ববাহিনীর প্রস্তুতি)
تُرۡهِبُونَ بِهِ (তুরহিবূনা বিহী → যার মাধ্যমে তোমরা ভীতি সঞ্চার করবে)
عَدُوَّ اللّٰهِ (‘আদুওয়াল্লা-হ → আল্লাহর শত্রুকে)
وَعَدُوَّكُمۡ (‘আদুওয়াকুম → এবং তোমাদের শত্রুকে)
وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمۡ (ওয়া আ-খারীনা মিন দূনিহিম → এবং তাদের ছাড়া অন্যদেরকেও)
لَا تَعۡلَمُونَهُمۡ (লা তা‘লামূনাহুম → তোমরা তাদের জানো না)
اللّٰهُ يَعۡلَمُهُمۡ (আল্লাহু ইয়া‘লামুহুম → আল্লাহ তাদের জানেন)
وَمَا تُنفِقُوا (ওয়া মা তুনফিকূ → আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো)
مِن شَيۡءٍ (মিন শাই’ইন → কোনো কিছু)
فِي سَبِيلِ اللّٰهِ (ফী সাবীলিল্লা-হ → আল্লাহর পথে)
يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ (ইউওয়াফ্ফা ইলাইকুম → তা তোমাদেরকে পূর্ণরূপে ফিরিয়ে দেওয়া হবে)
وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ (ওয়া আনতুম লা তুজলামূন → এবং তোমাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের জন্য তোমরা যতটুকু সম্ভব শক্তি ও অশ্ববাহিনীর প্রস্তুতি রাখো, যার মাধ্যমে তোমরা ভীতি সঞ্চার করবে যারা আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং তাদের ছাড়া অন্যদেরও —যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন। আর তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে, তা তোমাদেরকে পূর্ণরূপে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।
আয়াত-৬১ঃ
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
جَنَحُوا (জানাহূ → তারা ঝুঁকে পড়ে / আগ্রহী হয়)
لِلسَّلۡمِ (লিস্সালমি → শান্তির দিকে)
فَاجۡنَحۡ لَهَا (ফাজনাহ্ লাহা → তুমিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ো)
وَتَوَكَّلۡ (ওয়া তাওয়াক্কাল → এবং ভরসা করো)
عَلَى اللّٰهِ (আলাল্লা-হ → আল্লাহর ওপর)
إِنَّهُ (ইন্নাহূ → নিশ্চয়ই তিনি)
هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
السَّمِيعُ (আস-সামী‘ → সর্বশ্রোতা)
الۡعَلِيمُ (আল-‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তারা শান্তির দিকে আগ্রহী হয়, তাহলে তুমিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আয়াত-৬২ঃ
وَإِن (ওয়া ইন → আর যদি)
يُرِيدُوا (ইউরীদূ → তারা ইচ্ছা করে)
أَن (আন → যে)
يَخۡدَعُوكَ (ইয়াখদা‘ঊকা → তোমাকে প্রতারণা করতে)
فَإِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
حَسۡبَكَ (হাছবাকা → তোমার জন্য যথেষ্ট)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ )
هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
أَيَّدَكَ (আইয়াদাকা → তোমাকে শক্তিশালী করেছেন)
بِنَصۡرِهِ (বিনাসরিহী → তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে)
وَبِالۡمُؤۡمِنِينَ (ওয়া বিলমু’মিনীন → এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের মাধ্যমে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তারা তোমাকে প্রতারণা করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের মাধ্যমে তোমাকে শক্তিশালী করেছেন।
আয়াত-৬৩ঃ
وَأَلَّفَ (ওয়া আল্লাফা → আর তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছেন)
بَيۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
قُلُوبِهِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহ)
لَوۡ (লাও → যদি)
أَنفَقۡتَ (আনফাকতা → তুমি ব্যয় করতে)
مَا (মা → যা কিছু)
فِي الۡأَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে আছে)
جَمِيعًا (জামী‘আন → সবকিছু)
مَّا أَلَّفۡتَ (মা আল্লাফতা → তুমি ঐক্যবদ্ধ করতে পারতে না)
بَيۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
قُلُوبِهِمۡ (কুলূবিহিম → তাদের অন্তরসমূহ)
وَلَٰكِنَّ (ওয়া লা-কিন্না → কিন্তু)
اللّٰهَ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক)
أَلَّفَ (আল্লাফা → ঐক্যবদ্ধ করেছেন)
بَيۡنَهُمۡ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
إِنَّهُ (ইন্নাহূ → নিশ্চয়ই তিনি)
عَزِيزٌ (‘আঝীঝ → পরাক্রমশালী)
حَكِيمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তিনি তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করেছেন। তুমি পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবকিছু ব্যয় করলেও তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-৬৪ঃ
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
النَّبِيُّ (আন-নাবিয়্যু → বার্তাবাহক/নবী)
حَسۡبُكَ (হাছবুকা → তোমার জন্য যথেষ্ট)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَمَنِ (ওয়া মানি → এবং যারা)
اتَّبَعَكَ (ইত্তাবা‘আকা → তোমার অনুসরণ করেছে)
مِنَ (মিন → মধ্য থেকে)
الۡمُؤۡمِنِينَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে নবী, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তোমার অনুসরণকারী একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরাও।
আয়াত-৬৫ঃ
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
النَّبِيُّ (আন-নাবিয়্যু → বার্তাবাহক/নবী)
حَرِّضِ (হাররিদ → উৎসাহিত করো)
الۡمُؤۡمِنِينَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)
عَلَى الۡقِتَالِ (আলাল কিতা-ল → সংগ্রামের জন্য)
إِنۡ (ইন → যদি)
يَكُنۡ (ইয়াকুন → থাকে)
مِّنكُمۡ (‘ইনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
عِشۡرُونَ (‘ইশরূন → বিশ জন)
صَابِرُونَ (সা-বিরূন → ধৈর্যশীল)
يَغۡلِبُوا (ইয়াগলিবূ → তারা পরাভূত করবে)
مِائَتَيۡنِ (মি’আতাইন → দুইশতকে)
وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
يَكُنۡ (ইয়াকুন → থাকে)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
مِّائَةٌ (মি’আহ → একশত)
يَغۡلِبُوا (ইয়াগলিবূ → তারা পরাভূত করবে)
أَلۡفًا (আলফান → এক হাজারকে)
مِّنَ الَّذِينَ (মিনাল্লাযীনা → তাদের মধ্য থেকে যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
بِأَنَّهُمۡ (বিআন্নাহুম → কারণ তারা)
قَوۡمٌ (কাওম → একটি সম্প্রদায়)
لَّا يَفۡقَهُونَ (লা ইয়াফকাহূন → যারা উপলব্ধি করে না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে নবী, একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের সংগ্রামের জন্য উৎসাহিত করো। তোমাদের মধ্যে বিশজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশজনকে পরাভূত করবে। আর তোমাদের মধ্যে একশজন থাকলে তারা অবিশ্বাসীদের এক হাজারকে পরাভূত করবে; কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা উপলব্ধি করে না।
আয়াত-৬৬ঃ
الۡـٰٔنَ (আল-আন → এখন)
خَفَّفَ (খাফফাফা → হালকা করেছেন / সহজ করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
عَنۡكُمۡ (‘আনকুম → তোমাদের থেকে)
وَعَلِمَ (ওয়া ‘আলিমা → এবং তিনি জানেন)
أَنَّ (আন্না → যে)
فِيۡكُمۡ (ফীকুম → তোমাদের মধ্যে)
ضَعۡفًا (দা‘ফান → দুর্বলতা)
فَإِنۡ (ফাই ইন → অতএব যদি)
يَكُنۡ (ইয়াকুন → থাকে)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
مِّائَةٌ (মি’আহ → একশত)
صَابِرَةٌ (সা-বিরাহ → ধৈর্যশীল)
يَغۡلِبُوا (ইয়াগলিবূ → তারা পরাভূত করবে)
مِائَتَيۡنِ (মি’আতাইন → দুইশতকে)
وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
يَكُنۡ (ইয়াকুন → থাকে)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
أَلۡفٌ (আলফ → এক হাজার)
يَغۡلِبُوا (ইয়াগলিবূ → তারা পরাভূত করবে)
أَلۡفَيۡنِ (আলফাইন → দুই হাজারকে)
بِإِذۡنِ (বিইযন → অনুমতি)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الصَّابِرِينَ (আস-সা-বিরীন → ধৈর্যশীল)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এখন আল্লাহ তোমাদের জন্য ভার হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জেনেছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। অতএব, তোমাদের মধ্যে একশজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশজনকে পরাভূত করবে। আর তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর অনুমতিতে তারা দুই হাজারকে পরাভূত করবে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
আয়াত-৬৭ঃ
مَا كَانَ (মা কা-না → এমন হওয়া উচিত ছিল না)
لِنَبِيٍّ (লিনাবিয়্যিন → কোনো বার্তাবাহকের জন্য)
أَن يَكُونَ (আঁ ইয়াকূনা → যে হবে)
لَهُ (লাহূ → তার জন্য)
أَسۡرَىٰ (আছরা → বন্দীরা)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يُثۡخِنَ (ইউছখিনা → শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত)
فِي الۡأَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে)
تُرِيدُونَ (তুরীদূন → তোমরা চাও)
عَرَضَ (আরাদ → সাময়িক লাভ)
الدُّنۡيَا (আদ-দুনইয়া → নিকটবর্তী পার্থিব জীবন)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → অথচ আল্লাহ)
يُرِيدُ (ইউরীদ → চান)
الۡآخِرَةَ (আল-আখিরাহ → পরবর্তী জীবন)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
عَزِيزٌ (‘আঝীঝ → পরাক্রমশালী)
حَكِيمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কোনো নবীর জন্য এটা সঙ্গত নয় যে, পৃথিবীতে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে বন্দী থাকবে। তোমরা পার্থিব জীবনের সাময়িক লাভ কামনা করো, অথচ আল্লাহ পরবর্তী জীবন চান। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-৬৮ঃ
لَوۡلَا (লাওলা → যদি না থাকত)
كِتَابٌ (কিতা-ব → কিতাব)
مِّنَ اللّٰهِ (মিনাল্লা-হ → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
سَبَقَ (ছাবাকা → পূর্বেই নির্ধারিত)
لَمَسَّكُمۡ (লামাছছাকুম → তোমাদের স্পর্শ করত)
فِيمَا (ফীমা → যা বিষয়ে)
أَخَذۡتُمۡ (আখাযতুম → তোমরা গ্রহণ করেছ)
عَذَابٌ (‘আযা-ব → শাস্তি)
عَظِيمٌ (‘আজীম → মহা/বিরাট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই নির্ধারিত কোনো কিতাব না থাকত, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ, সে কারণে তোমাদের উপর মহাশাস্তি এসে পড়ত।
আয়াত-৬৯ঃ
فَكُلُوا (ফাকুলূ → অতএব তোমরা গ্রহণ করো/খাও)
مِمَّا (মিম্মা → যা কিছু থেকে)
غَنِمۡتُمۡ (গানিমতুম → তোমরা অর্জন করেছ)
حَلَالًا (হালা-লান → বৈধ)
طَيِّبًا (তাইয়িবান → পবিত্র)
وَاتَّقُوا (ওয়াত্তাকূ → এবং ভীরু হও)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
غَفُورٌ (গাফূর → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِيمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব তোমরা যা কিছু অর্জন করেছ, তা থেকে বৈধ ও পবিত্র জিনিস গ্রহণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-৭০ঃ
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
النَّبِيُّ (আন-নাবিয়্যু → বার্তাবাহক/নবী)
قُلۡ (কুল → বলো)
لِمَن (লিমান → তাদেরকে যারা)
فِي أَيۡدِيكُمۡ (ফী আইদীকুম → তোমাদের অধীনে)
مِنَ الۡأَسۡرَىٰ (মিনাল আছরা → আবদ্ধদের থেকে)
إِن (ইন → যদি)
يَعۡلَمِ (ইয়া‘লাম → জানেন)
اللّٰهُ (আল্লাহ → আল্লাহ)
فِي قُلُوبِكُمۡ (ফী কুলূবিকুম → তোমাদের অন্তরে)
خَيۡرًا (খাইরান → উত্তম)
يُؤۡتِكُمۡ (ইউ’তিকুম → তিনি তোমাদের দেবেন)
خَيۡرًا (খাইরান → উত্তম/কল্যাণ)
مِّمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
أُخِذَ (উখিযা → নেওয়া হয়েছে)
مِنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের কাছ থেকে)
وَيَغۡفِرۡ (ওয়া ইয়াগফির → এবং তিনি ক্ষমা করবেন)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
غَفُورٌ (গাফূর → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَّحِيمٌ (রাহীম → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে নবী, তোমাদের অধীনে থাকা বন্দীদের বলো: যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে কোনো কল্যাণ দেখতে পান, তাহলে তোমাদের কাছ থেকে যা নেওয়া হয়েছে তার চেয়েও উত্তম কিছু তিনি তোমাদের দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-৭১ঃ
وَإِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
يُرِيدُوا (ইউরীদূ → তারা চায়)
خِيَانَتَكَ (খিয়া-নাতাকা → তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে ইতিমধ্যে)
خَانُوا (খা-নূ → তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مِن قَبۡلُ (মিন কাবলু → পূর্বে)
فَأَمۡكَنَ (ফাআমকানা → অতঃপর তিনি তাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন)
مِنۡهُمۡ (মিনহুম → তাদের উপর)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
عَلِيمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
حَكِيمٌ (হাকীম → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তারা তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায়, তবে এর আগেও তারা আল্লাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ফলে তিনি তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-৭২ঃ
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস গ্রহণ করেছে)
وَهَاجَرُوا (ওয়া হা-জারূ → এবং স্থানান্তরিত হয়েছে/এবং ছেড়ে চলে গিয়েছে)
وَجَاهَدُوا (ওয়া জা-হাদূ → এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে)
بِأَمۡوَالِهِمۡ (বিআমওয়া-লিহিম → তাদের সম্পদ দিয়ে)
وَأَنفُسِهِمۡ (ওয়া আনফুছিহিম → এবং নিজেদের দিয়ে)
فِي سَبِيلِ اللّٰهِ (ফী সাবীলিল্লা-হ → আল্লাহর পথে)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
آوَوا (আ-ওয়াও → আশ্রয় দিয়েছে)
وَنَصَرُوا (ওয়া নাসারূ → এবং সাহায্য করেছে)
أُولَٰئِكَ (উলা-ইকা → তারাই)
بَعۡضُهُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের একাংশ)
أَوۡلِيَاءُ (আওলিয়া → অভিভাবক/সহযোগী)
بَعۡضٍ (বা‘দ → অপর অংশের)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস গ্রহণ করেছে)
وَلَمۡ يُهَاجِرُوا (ওয়া লাম ইউহা-জিরূ → কিন্তু স্থানান্তরিত হয়নি)
مَا لَكُمۡ (মা লাকুম → তোমাদের জন্য নেই)
مِّن وَلَايَتِهِم (মিন ওয়ালা-ইয়াতিহিম → তাদের সঙ্গে সহযোগিতার)
مِن شَيۡءٍ (মিন শাই → কোনো অংশ)
حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا (হাত্তা ইউহা-জিরূ → যতক্ষণ না তারা স্থানান্তরিত হয়)
وَإِنِ اسۡتَنصَرُوكُمۡ (ওয়া ইনিসতানসারূকুম → আর যদি তারা তোমাদের কাছে সাহায্য চায়)
فِي الدِّينِ (ফিদ্দীন → জীবনব্যবস্থার মধ্যে)
فَعَلَيۡكُمُ النَّصۡرُ (ফা‘আলাইকুমুন নাসর → তাহলে তোমাদের ওপর সাহায্য করা দায়িত্ব)
إِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতিক্রম)
عَلَىٰ قَوۡمٍ (আলা কাওম → এমন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে)
بَيۡنَكُمۡ وَبَيۡنَهُمۡ (বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম → যাদের সঙ্গে তোমাদের)
مِّيثَاقٌ (মীছাক → অঙ্গীকার/চুক্তি)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লা-হ → আর আল্লাহ)
بِمَا تَعۡمَلُونَ (বিমা তা‘মালূন → তোমরা যা করো সে বিষয়ে)
بَصِيرٌ (বাসীর → সর্বদ্রষ্টা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাসী হয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে (জিহাদ করেছে), আর যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে—তারাই একে অপরের সহযোগী/অভিভাবক। আর যারা বিশ্বাস গ্রহণ করেছে কিন্তু স্থানান্তরিত হয়নি, তারা স্থানান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে তোমাদের অভিভাবকত্ব বা সহযোগিতার কোনো দায়িত্ব নেই। তবে তারা যদি বিশ্বাসের বিষয়ে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তাহলে তাদের সাহায্য করা তোমাদের দায়িত্ব—কিন্তু এমন কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, যাদের সঙ্গে তোমাদের চুক্তি রয়েছে। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সর্বদ্রষ্টা।
আয়াত-৭৩ঃ
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
بَعۡضُهُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের একাংশ)
أَوۡلِيَاءُ (আওলিয়া → সহযোগী/অভিভাবক)
بَعۡضٍ (বা‘দ → অপর অংশের)
إِلَّا (ইল্লা → যদি না)
تَفۡعَلُوهُ (তাফ‘আলূহু → তোমরা তা কার্যকর করো)
تَكُنۡ (তাকুন → হবে)
فِتۡنَةٌ (ফিতনাহ → বিপর্যয়)
فِي الۡأَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে)
وَفَسَادٌ (ওয়া ফাসাদ → এবং বিশৃঙ্খলা)
كَبِيرٌ (কাবীর → বিরাট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের একাংশ অপর অংশের সহযোগী / অভিভাবক। তোমরা যদি তা কার্যকর না করো, তাহলে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
আয়াত-৭৪ঃ
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস গ্রহণ করেছে)
وَهَاجَرُوا (ওয়া হা-জারূ → এবং স্থানান্তরিত হয়েছে)
وَجَاهَدُوا (ওয়া জা-হাদূ → এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে)
فِي سَبِيلِ اللّٰهِ (ফী সাবীলিল্লা-হ → আল্লাহর পথে)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
آوَوا (আ-ওয়াও → আশ্রয় দিয়েছে)
وَنَصَرُوا (ওয়া নাসারূ → এবং সাহায্য করেছে)
أُولَٰئِكَ (উলা-ইকা → তারাই)
هُمُ (হুম → তারা)
الۡمُؤۡمِنُونَ (আল-মু’মিনূন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)
حَقًّا (হাক্কান → সত্যিকারভাবে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مَّغۡفِرَةٌ (মাগফিরাহ → ক্ষমা)
وَرِزۡقٌ (ওয়া রিঝক → জীবিকা)
كَرِيمٌ (কারীম → সম্মানজনক/মর্যাদাপূর্ণ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা বিশ্বাসী হয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আল্লাহর পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে (জিহাদ করেছে), আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে—তারাই সত্যিকার অর্থে একনিষ্ঠ বিশ্বাসী (মুমিন)। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।
আয়াত-৭৫ঃ
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস গ্রহণ করেছে)
مِنۢ بَعۡدُ (মিম বা‘দু → পরবর্তীতে)
وَهَاجَرُوا (ওয়া হা-জারূ → এবং স্থানান্তরিত হয়েছে)
وَجَاهَدُوا (ওয়া জা-হাদূ → এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে)
مَعَكُمۡ (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
فَأُولَٰئِكَ (ফাউলা-ইকা → তাহলে তারাই)
مِّنكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের অন্তর্ভুক্ত)
وَأُولُوا (ওয়া উলূ → আর অধিকারীরা)
الۡأَرۡحَامِ (আরহা-ম → আত্মীয়তার বন্ধনের)
بَعۡضُهُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের একাংশ)
أَوۡلَىٰ (আওলা → অধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত)
بِبَعۡضٍ (বিবা‘দ → অপর অংশের তুলনায়)
فِي كِتَابِ (ফী কিতা-ব → কিতাবে)
اللّٰهِ (আল্লাহ → আল্লাহ)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
بِكُلِّ (বিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَيۡءٍ (শাই → বিষয়)
عَلِيمٌ (‘আলীম → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা পরবর্তীতে বিশ্বাসী হয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছে এবং তোমাদের সঙ্গে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে (জিহাদ করেছে), তারাও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত। আর আত্মীয়তার বন্ধনে তাদের এক অংশ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী একে অপরের অধিক নিকটবর্তী ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
