সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ ہَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত ১ঃ الم (আলিফ-লাম-মীম )
আয়াত ২ঃ
ذَٰلِكَ (যালিকা → এটি)
الْكِتَابُ (আল-কিতাবু → এই গ্রন্থ)
لَا (লা → নাই)
رَيْبَ (রাইবা → সন্দেহ)
فِيهِ (ফীহি → এতে)
هُدًى (হুদা → পথনির্দেশ)
لِلْمُتَّقِينَ (লিল-মুত্তাক্বীন → ধর্মভীরুদের জন্য/খোদাভীরুদের জন্য
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটি এই গ্রন্থ—এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি খোদাভীরুদের (মুত্তাকিদের) জন্য পথনির্দেশ (হুদা)।
আয়াত ৩ঃ
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يُؤْمِنُونَ (ইউ’মিনূন → বিশ্বাস করে)
بِالْغَيْبِ (বিল-গাইবি → অদৃশ্যে)
وَيُقِيمُونَ (ওয়া ইউক্বীমূন → এবং প্রতিষ্ঠা করে)
الصَّلَاةَ (আস-সালাতা → সংযোগ/যোগাযোগ)
وَمِمَّا (ওয়া মিম্মা → এবং যা থেকে)
رَزَقْنَاهُمْ (রাযাক্বনাহুম → আমরা তাদের জীবিকা দিয়েছি)
يُنْفِقُونَ (ইউনফিকুন) → তারা ব্যয় করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, (সালাত) সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।
আয়াত ৪ঃ
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
يُؤْمِنُونَ (ইউ’মিনূন → বিশ্বাস করে)
بِمَا (বিমা → তাতে যা)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাজিল করা হয়েছে)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
اُنۡزِلَ (উনযিলা → নাজিল করা হয়েছে)
مِنْ (মিন → আগে)
قَبْلِكَ (কাবলিকা → তোমার পূর্বে)
وَبِالْآخِرَةِ (ওয়া বিল-আখিরাতি → এবং পরকাল/পরবর্তী/শেষ জীবনে)
هُمْ (হুম → তারা)
يُوقِنُونَ (ইউক্বিনূন → অবিচল বিশ্বাস রাখে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এবং যারা বিশ্বাস করে তাতে যা তোমার প্রতি নাজিল করা হয়েছে ও যা তোমার পূর্বে নাজিল করা হয়েছে, আর পরকাল জীবনে তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
আয়াত ৫ঃ
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
هُدًى (হুদান → পথ নির্দেশ)
مِنْ (মিন → পক্ষ থেকে)
رَبِّهِمْ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → এবং তারাই)
هُمُ (হুমু → তারাই)
الۡمُفۡلِحُوۡنَ (আল-মুফলিহূন → সফলকাম)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারাই তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পথনির্দেশের (হুদার) উপর রয়েছে, আর তারাই সফলকাম।
আয়াত ৬ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে)
سَوَاءٌ (ছাওয়া-উন্ → সমান)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের জন্য)
أَأَنْذَرْتَهُمْ (আ-আনযারতাহুম → তুমি সতর্ক করো)
أَمْ (আম → অথবা)
لَمْ (লাম → না)
تُنْذِرْهُمْ (তুনযিরহুম → তুমি সতর্ক করো)
لَا (লা → না)
يُؤْمِنُونَ (ইউ’মিনূন → তারা বিশ্বাস করবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা (কাফের) অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য সমান—তুমি তাদের সতর্ক করো বা না করো, তারা বিশ্বাস করবে না।
আয়াত ৭ঃ
خَتَمَ (খাতামা → মোহর মেরেছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → সর্বশক্তিমান সত্তা)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
قُلُوبِهِمْ (কুলূবিহিম → তাদের হৃদয়সমূহের)
وَعَلَىٰ (ওয়া আলা → এবং উপর)
سَمْعِهِمْ (সামইহিম → তাদের শ্রবণশক্তির)
وَعَلَىٰ (ওয়া আলা → এবং উপর)
أَبْصَارِهِمْ (আবসারিহিম → তাদের দৃষ্টিশক্তির)
غِشَاوَةٌ (গিশাওয়াতুন → আচ্ছাদন/আবরণ/ঢাকনা)
وَلَهُمْ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
عَظِيمٌ (আজীমুন → ভয়াবহ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ (সর্বশক্তিমান সত্তা) তাদের হৃদয়, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির উপর মোহর ও আবরণ বসিয়ে দিয়েছেন, আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
আয়াত ৮ঃ
وَمِنَ (ওয়া মিন → আর কিছু)
النَّاسِ (আন্নাসি → মানুষের মধ্যে)
مَنْ (মান → এমন কেউ)
يَقُولُ (ইয়াকূলু → বলে)
آمَنَّا (আমান্না → আমরা বিশ্বাস করেছি)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → সর্বশক্তিমান সত্তায়)
وَبِالْيَوْمِ (ওয়া বিলইয়াওমি → এবং সেই দিনে)
الْآخِرِ (আল-আখিরি → শেষ/পরবর্তী)
وَمَا (ওয়া মা → কিন্তু না)
هُمْ (হুম → তারা)
بِمُؤْمِنِينَ (বিমু’মিনীন → বিশ্বাসীদের সঙ্গে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা বলে, “আমরা আল্লাহ ও সেই শেষ দিবসে বিশ্বাস করেছি,” অথচ তারা স্থায়ী বিশ্বাসীদের সঙ্গে নয়।
আয়াত ৯ঃ
يُخَادِعُونَ (ইউখাদি‘ঊন → তারা প্রতারণা করে)
اللَّهَ (আল্লাহা → সর্বশক্তিমান সত্তার সঙ্গে)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং তাদের সঙ্গে যারা)
آمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَمَا (ওয়া মা → কিন্তু না)
يَخْدَعُونَ (ইয়াখদা‘ঊন → তারা প্রতারণা করে)
اِلَّاۤ (ইল্লা → ছাড়া)
أَنْفُسَهُمْ (আনফুসাহুম → নিজেদেরই)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
يَشْعُرُونَ (ইয়াশ‘উরূন → তারা উপলব্ধি করে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা আল্লাহ ও বিশ্বাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়, অথচ তারা নিজেদেরই প্রতারণা করছে—এবং তা তারা বুঝতে পারে না।
আয়াত ১০ঃ
فِي (ফী → ভেতরে)
قُلُوبِهِمْ (কুলূবিহিম → তাদের হৃদয়ে)
مَرَضٌ (মারাদুন → রোগ/অসুস্থতা = subject form)
فَزَادَهُمُ (ফাযাদাহুম → অতঃপর বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের)
اللَّهُ (আল্লাহু → সর্বশক্তিমান সত্তা)
مَرَضًا (মারাদান → রোগ/অসুস্থতা = object form)
وَلَهُمْ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِیۡمٌۢ (আলীমুন → যন্ত্রণাদায়ক)
بِمَا (বিমা → কারণ যে)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
يَكْذِبُونَ (ইয়াকযিবূন → মিথ্যা বলত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাদের হৃদয়ে রয়েছে রোগ, আর সেই রোগ আল্লাহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি—কারণ যে তারা মিথ্যা বলত।
আয়াত ১১ঃ
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
قِيلَ (কীলা → বলা হয়)
لَهُمْ (লাহুম → তাদেরকে)
لَا (লা → না)
تُفْسِدُوا (তুফসিদূ → অশান্তি সৃষ্টি করো)
فِي (ফী → মধ্যে)
الْأَرْضِ (আল-আরদ → পৃথিবীতে)
قَالُوا (ক্বালু → তারা বলে)
اِنَّمَا (ইন্নামা → আমরা তো কেবলই)
نَحْنُ (নাহনু → আমরা)
مُصْلِحُونَ (মুসলিহূন → সংশোধনকারী/সংস্কারকর্মী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যখন তাদের বলা হয়, “পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না,” তখন তারা বলে, “আমরাই তো কেবল সংশোধনকারী।”
আয়াত ১২ঃ
اَلَاۤ (আলা → সাবধান)
اِنَّهُمْ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
هُمُ (হুমু → তারাই)
الْمُفْسِدُونَ (আল-মুফছিদূন → অশান্তি সৃষ্টিকারী)
وَلَٰكِنْ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لَا (লা → না)
يَشْعُرُونَ (ইয়াশ‘উরূন → তারা বোঝে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সাবধান—নিশ্চয়ই তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বোঝে না।
আয়াত ১৩ঃ
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
قِيلَ (ক্বীলা → বলা হয়)
لَهُمْ (লাহুম → তাদেরকে)
آمِنُوا (আমিনূ → বিশ্বাস করো)
كَمَا (কামা → যেমন)
آمَنَ (আমানা → বিশ্বাস করেছে)
النَّاسُ (আন্নাসু → মানুষেরা)
قَالُوا (ক্বালু → তারা বলে)
اَنُؤْمِنُ (আনু’মিনু → আমরা কি বিশ্বাস করব)
كَمَا (কামা → যেমন)
آمَنَ (আমানা → বিশ্বাস করেছে)
السُّفَهَاءُ (আছ-ছুফাহা → মূর্খরা)
اَلَا (আলা → সাবধান)
اِنَّهُمْ (ইন্নাহুম → নিশ্চয়ই তারা)
هُمُ (হুমু → তারাই)
السُّفَهَاءُ (আস-সুফাহা → মূর্খ)
وَلَٰكِنْ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لَا (লা → না)
يَعْلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → তারা জানে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যখন তাদের বলা হয়, “মানুষেরা যেমন বিশ্বাস করেছে, তেমন বিশ্বাস করো,” তখন তারা বলে, “আমরা কি মূর্খদের মতো বিশ্বাস করব?” সাবধান—নিশ্চয়ই তারাই মূর্খ, কিন্তু তারা জানে না।
আয়াত ১৪ঃ
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
لَقُوا (লাকূ → তারা মিলিত হয়)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদের সঙ্গে যারা)
اٰمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
قَالُوا (ক্বলু → তারা বলে)
اٰمَنَّا (আমান্না → আমরা বিশ্বাস করেছি)
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
خَلَوْا (খালাও → তারা আলাদা হয়)
اِلَىٰ (ইলা → দিকে)
شَيَاطِينِهِمْ (শায়াতীনিহিম → তাদের কুমন্ত্রণাদাতাদের)
قَالُوا (কালূ → তারা বলে)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
مَعَكُمْ (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
اِنَّمَا (ইন্নামা → আমরা তো কেবল)
نَحْنُ (নাহনু → আমরা)
مُسْتَهْزِئُونَ (মুছতাহযিউন → ঠাট্টাকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা যখন বিশ্বাসীদের সঙ্গে মিলিত হয়, বলে “আমরা বিশ্বাস করেছি”; আর যখন তারা তাদের (শয়তানদের) কুমন্ত্রণাদাতাদের সঙ্গে আলাদা হয়, তারা বলে “আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি—আমরা তো কেবল ঠাট্টা করছি।”
আয়াত ১৫ঃ
اللَّهُ (আল্লাহু → সর্বশক্তিমান সত্তা)
يَسْتَهْزِئُ (ইয়াস্তাহযিঊ → উপহাস করেন)
بِهِمْ (বিহিম → তাদের সঙ্গে)
وَيَمُدُّهُمْ (ওয়া ইয়ামুদ্দুহুম → এবং বাড়িয়ে দেন তাদের)
فِي (ফী → মধ্যে)
طُغْيَانِهِمْ (তুগইয়ানিহিম → তাদের সীমালঙ্ঘনে)
يَعْمَهُونَ (ইয়া‘মাহূন → তারা বিভ্রান্ত/পথভ্রষ্ট থাকে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তাদের সঙ্গে উপহাস করেন এবং তাদের মধ্যে সীমালঙ্ঘন আরও বাড়িয়ে দেন—তারা পথভ্রষ্ট থাকে।
সূরা আল-বাকারা | আয়াত ১৬–২৫
আয়াত ১৬ঃ
اُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারাই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اشْتَرَوُا (ইশতারাও → কিনে নিয়েছে)
الضَّلَالَةَ (আদ-দ্বালালাতা → পথভ্রষ্টতা)
بِالْهُدَىٰ (বিল-হুদা → সঠিক পথ নির্দেশনার বিনিময়ে)
فَمَا (ফামা → অতএব না)
رَبِحَتْ (রাবিহাত → লাভবান হয়েছে)
تِجَارَتُهُمْ (তিজারাতুহুম → তাদের বাণিজ্য)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
مُهْتَدِينَ (মুহতাদীন → সঠিক বিধানের পথে চলা/সঠিক জীবণব্যবস্থায় চলা/সৎপথপ্রাপ্তরা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারাই, যারা সঠিক পথ নির্দেশনার বিনিময়ে পথভ্রষ্টতা কিনে নিয়েছে; অতএব তাদের এই বাণিজ্য লাভজনক হয়নি এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না।
আয়াত ১৭ঃ
مَثَلُهُمْ (মাছালুহুম → তাদের দৃষ্টান্ত)
كَمَثَلِ (কামাছালি → যেমন দৃষ্টান্ত)
الَّذِي (আল্লাযী → সেই ব্যক্তির)
اسْتَوْقَدَ (ইছতাওক্বাদা → জ্বালিয়েছিল)
نَارًا (নারান → আগুন)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
اَضَاءَتْ (আদাআত → আলোকিত করল)
مَا (মা → যা)
حَوْلَهُ (হাওলাহু → তার চারপাশ)
ذَهَبَ (যাহাবা → নিয়ে নিলেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → সর্বশক্তিমান সত্তা)
بِنُورِهِمْ (বিনূরিহিম → তাদের আলো)
وَتَرَكَهُمْ (ওয়া তারাকাহুম → এবং ছেড়ে দিলেন তাদের)
فِي (ফী → মধ্যে)
ظُلُمَاتٍ (যুলুমাত → অন্ধকারসমূহ)
لَا (লা → না)
يُبْصِرُونَ (ইউবসিরূন → তারা দেখতে পায়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালাল; তারপর যখন তা তার চারপাশ আলোকিত করল, আল্লাহ (সর্বশক্তিমান সত্তা) তাদের আলো কেড়ে নিলেন এবং তাদের অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন—যেখানে তারা কিছুই দেখতে পায় না।
আয়াত ১৮ঃ
صُمٌّ (সুম্মুন → বধির)
بُكْمٌ (বুকমুন → বোবা)
عُمْيٌ (উমইউন → অন্ধ)
فَهُمْ (ফাহুম → ফলে তারা)
لَا (লা → না)
يَرْجِعُونَ (ইয়ারজিঊন → ফিরে আসে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বধির, বোবা ও অন্ধ—ফলে তারা আর ফিরে আসে না।
আয়াত ১৯ঃ
اَوْ (আউ → অথবা)
كصَيِّبٍ (কাসাইয়িবিন → প্রবল বৃষ্টির মতো)
مِّنَ (মিন → থেকে)
السَّمَاءِ (আছ-ছামাঈ → আকাশ)
فِيهِ (ফীহি → যার মধ্যে)
ظُلُمَاتٌ (যুলুমাত → অন্ধকার)
وَرَعْدٌ (ওয়া রা‘দুন → ও বজ্রধ্বনি)
وَبَرْقٌ (ওয়া বারকুন → ও বিদ্যুৎ)
يَجْعَلُونَ (ইয়াজ‘আলূন → তারা রাখে)
اَصَابِعَهُمْ (আসাবি‘আহুম → তাদের আঙুল)
فِي (ফী → মধ্যে)
اٰذَانِهِمْ (আযানিহিম → তাদের কানে)
مِّنَ (মিন → কারণে)
الصَّوَاعِقِ (আস-সাওয়াঈক → বজ্রাঘাত)
حَذَرَ (হাযারা → ভয়ে)
الْمَوْتِ (আল-মাওতি → মৃত্যুর)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → আর সর্বশক্তিমান সত্তা)
مُحِيطٌ (মুহীতুন → পরিবেষ্টনকারী/সব দিক থেকে ঘিরে থাকা)
بِالْكَافِرِينَ (বিল-কাফিরীন → অস্বীকারকারীদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অথবা তারা আকাশ থেকে নেমে আসা প্রবল বৃষ্টির মতো অবস্থায় আছে—যার মধ্যে আছে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ; বজ্রাঘাতের ভয়ে তারা মৃত্যুর আশঙ্কায় কানে আঙুল দেয়; আর আল্লাহ অস্বীকারকারীদের (কাফেরদের) সব দিক থেকে পরিবেষ্টন করেন।
আয়াত ২০ঃ
يَكَادُ (ইয়াকাদু → প্রায়)
الْبَرْقُ (আল-বারকু → বিদ্যুৎ)
يَخْطَفُ (ইয়াখত্বাফু → কেড়ে নেয়)
اَبْصَارَهُمْ (আবসারাহুম → তাদের দৃষ্টিশক্তি)
كُلَّمَا (কুল্লামা → যখনই)
اَضَاءَ (আদ্বাআ → আলোকিত করে)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
مَّشَوْا (মাশাও → তারা চলে)
فِيهِ (ফীহি → তাতে)
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
اَظْلَمَ (আজলামা → অন্ধকার করে)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের উপর)
قَامُوا (ক্বামূ → তারা থেমে যায়)
وَلَوْ (ওয়া লাও → আর যদি)
شَاءَ (শাআ → ইচ্ছা করতেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → সর্বশক্তিমান সত্তা)
لَذَهَبَ (লাযাহাবা → তবে নিয়ে যেতেন)
بِسَمْعِهِمْ (বিছাম‘ইহিম → তাদের শ্রবণশক্তি)
وَاَبْصَارِهِمْ (ওয়া আবসারিহিম → ও দৃষ্টিশক্তি)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → সর্বশক্তিমান সত্তা)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
كُلِّ (কুল্লি → সবকিছুর)
شَيْءٍ (শাইইন → বিষয়)
قَدِيرٌ (ক্বাদীরুন → ক্ষমতাশালী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বিদ্যুৎ প্রায় তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়; যখনই তা আলোকিত করে, তারা তাতে চলে, আর যখন অন্ধকার হয়, তারা থেমে যায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারতেন—নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাশালী।
আয়াত ২১ঃ
يَا (ইয়া → হে)
اَيُّهَا (আইয়ুহা → সকল)
النَّاسُ (আন্নাসু → মানুষ/মানবজালী)
اعْبُدُوا (উ‘বুদূ → উপাসনা করো)
رَبَّكُمُ (রাব্বাকুম → তোমাদের প্রতিপালকের)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
خَلَقَكُمْ (খালাক্বাকুম → তোমাদের সৃষ্টি করেছেন)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং তাদেরকে যারা)
مِنْ (মিন → পূর্বে)
قَبْلِكُمْ (কাবলিকুম → তোমাদের আগে)
لَعَلَّكُمْ (লা‘আল্লাকুম → যেন তোমরা)
تَتَّقُونَ (তাত্তাকূন → সচেতন হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে সকল মানবজাতী ! তোমাদের প্রতিপালকের উপাসনা করো—যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন—যেন তোমরা খোদাভীরুতা (তাকওয়া অর্জন) অর্জন কর।
আয়াত ২২ঃ
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
جَعَلَ (জা‘আলা → করেছেন)
لَكُمُ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
الۡاَرۡضَ (আল-আরদ্ব → পৃথিবী)
فِرَاشًا (ফিরাশান → বিছানা)
وَالسَّمَاءَ (ওয়াছ-ছামাআ → ও আকাশ)
بِنَاءً (বিনাআন → ছাদ)
وَاَنْزَلَ (ওয়া আনযালা → এবং নাজিল করেছেন/বর্ষন করেছেন)
مِنَ (মিন → থেকে)
السَّمَاءِ (আস-সামাঈ → আকাশ)
مَاءً (মাআন → পানি)
فَاَخۡرَجَ (ফা আখরাজা → অতঃপর বের করেছেন)
بِهِ (বিহি → তা দ্বারা)
مِنَ (মিন → থেকে)
الثَّمَرَاتِ (আছ-ছামারাত → ফলসমূহ)
رِزْقًا (রিযক্কান → জীবিকা)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَجْعَلُوا (তাজ‘আলূ → তোমরা স্থাপন করো)
لِلَّهِ (লিল্লাহি → সর্বশক্তিমান সত্তার জন্য)
اَنْدَادًا (আনদাদান → সমকক্ষ)
وَاَنْتُمْ (ওয়া আনতুম → অথচ তোমরা)
تَعْلَمُونَ (তা‘লামূন → স্বজ্ঞানে/জেনেবুঝে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন, আকাশ থেকে পানি বর্ষন করেন তাদ্বারা ফলসমূহ উৎপন্ন করেছেন তোমাদের জীবিকার জন্য। সুতরাং স্বজ্ঞানে আল্লাহ জন্য সমকক্ষ নির্ধারন করো না।
আয়াত ২৩ঃ
وَاِنْ (ওয়া ইন → আর যদি)
كُنْتُمْ (কুনতুম → তোমরা হও)
فِي (ফী → মধ্যে)
رَيْبٍ (রাইবিন → সন্দেহে)
مِمَّا (মিম্মা → সে বিষয়ে যা)
نَزَّلْنَا (নায-যালনা → আমরা নাজিল করেছি)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
عَبْدِنَا (আবদিনা → আমাদের বান্দার)
فَأْتُوا (ফা’তূ → তবে নিয়ে আসো)
بِسُورَةٍ (বিছূরাতিন → একটি অধ্যায় (সূরা)
مِنْ (মিন → থেকে)
مِثْلِهِ (মিছলিহি → তার মতো)
وَادْعُوا (ওয়াদ‘ঊ → এবং ডাকো)
شُهَدَاءَكُمْ (শুহাদাআকুম → তোমাদের সাক্ষীদেরকে)
مِنْ (মিন → ছাড়া)
دُونِ (দূনি → ব্যতীত)
اللَّهِ (আল্লাহি → সর্বশক্তিমান সত্তা)
اِنْ (ইন → যদি)
كُنْتُمْ (কুনতুম → তোমরা হও)
صَادِقِينَ (সাদিক্বীন → সত্যবাদী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি আমার বান্দার উপর নাজিলকৃত বিষয়ে তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি অধ্যায় (সূরা) নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাক্ষীদেরকে ডাকো—যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
আয়াত ২৪ঃ
فَاِنۡ (ফা ইন → অতঃপর যদি)
لَمْ (লাম → না)
تَفْعَلُوا (তাফ‘আলূ → তোমরা করো)
وَلَنْ (ওয়া লান → এবং কখনোই না)
تَفْعَلُوا (তাফ‘আলূ → তোমরা পারবে)
فَاتَّقُوا (ফাত্তাকূ → সুতরাং সাবধান হও)
النَّارَ (আন্নারা → আগুন থেকে)
الَّتِي (আল্লাতী → যা)
وَقُودُهَا (ওয়াকূদুহা → যার জ্বালানি)
النَّاسُ (আন্নাসু → মানুষ)
وَالْحِجَارَةُ (ওয়াল-হিজারাহ → ও পাথর)
اُعِدَّتْ (উ‘ইদ্দাত → প্রস্তুত করা হয়েছে)
لِلْكَافِرِينَ (লিল-কাফিরীন → অস্বীকারকারীদের জন্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তোমরা তা না করো—এবং কখনোই তা পারবে না—তবে সেই আগুন থেকে সাবধান হও, যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করা হয়েছে অস্বীকারকারীদের (কাফেরদের) জন্য।
আয়াত ২৫ঃ
وَبَشِّرِ (ওয়া বাশশির → এবং সুসংবাদ দাও)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদেরকে যারা)
آمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَعَمِلُوا (ওয়া ‘আমিলূ → এবং কাজ করেছে)
الصَّالِحَاتِ (আস-সালিহাত → সৎকর্ম)
اَنَّ (আন্না → যে)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
جَنَّاتٍ (জান্নাতিন → উদ্যানসমূহ)
تَجْرِي (তাজরী → প্রবাহিত)
مِنْ (মিন → থেকে)
تَحْتِهَا (তাহতিহা → তার নিচ দিয়ে)
الْأَنْهَارُ (আল-আনহার → নদীসমূহ)
كُلَّمَا (কুল্লামা → যখনই)
رُزِقُوا (রুযিকূ → তাদের জীবিকা দেওয়া হয়)
مِنْهَا (মিনহা → সেখান থেকে)
مِنْ (মিন → কোনো)
ثَمَرَةٍ (ছামারাতিন → ফল)
رِزْقًا (রিযক্বান → জীবিকা)
قَالُوا (কালূ → তারা বলল)
هَٰذَا (হাযা → এটি)
الَّذِي (আল্লাযী → যা)
رُزِقْنَا (রুযিকনা → আমাদের দেওয়া হয়েছিল)
مِنْ (মিন → আগে)
قَبْلُ (ক্বাবলু → পূর্বে)
وَأُتُوا (ওয়া উতূ → এবং দেওয়া হবে)
بِهِ (বিহি → তা)
مُتَشَابِهًا (মুতাশাবিহান → একইরূপ/অনুরূপ/সদৃশভাবে)
وَلَهُمْ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
اَزْوَاجٌ (আযওয়াজুন → সঙ্গীরা/জোড়া বা যুগল)
مُطَهَّرَةٌ (মুত্বাহ-হারাহ → পরিশুদ্ধ)
وَهُمْ (ওয়া হুম → এবং তারা)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
خَالِدُونَ (খালিদূন → স্থায়ীভাবে থাকবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এবং সুসংবাদ দাও তাদেরকে যারা বিশ্বাস করেছে ও কাজ করেছে সৎকর্ম — অতএব, তাদের জন্য রয়েছে উদ্যানসমূহ, যার নিচ দিয়ে নদনদী প্রবাহিত। যখনই সেখান থেকে তাদেরকে কোনো জীবিকা হিসেবে কোন ফলমূল খাবার দেওয়া হয়, তারা বলে, “এটি তো পূর্বেও আমাদের দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের জন্য একইরূপ তা দেওয়া হবে। সেখানে থাকবে তাদের জন্য পরিশুদ্ধ সঙ্গীরা ও তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।
