সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
আয়াত ৫১
وَاِذْ (ওয়া ইয → স্মরণ করো যখন)
وَاعَدْنَا (ওয়া‘আদনা → আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসার সাথে)
اَرْبَعِينَ (আরবা‘ঈনা → চল্লিশ)
لَيْلَةً (লাইলাতান → রাত)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اتَّخَذْتُمُ (ইত্তাখাযতুম → তোমরা গ্রহণ করেছিলে)
الْعِجْلَ (আল-‘ইজলা → বাছুরকে)
مِنْ (মিন → পরে)
بَعْدِهِ (বা‘দিহি → তার)
وَاَنْتُمْ (ওয়া আন্তুম → অথচ তোমরা)
ظَالِمُونَ (জালিমূন → সীমালঙ্ঘনকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
স্মরণ করো, যখন আমরা মূসার সাথে চল্লিশ রাতের অঙ্গীকার করেছিলাম; তারপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা বাছুরকে গ্রহণ করেছিলে, অথচ তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলে।
আয়াত ৫২
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
عَفَوْنَا (‘আফাওনা → আমরা ক্ষমা করেছিলাম)
عَنْكُمْ (আনকুম → তোমাদেরকে)
مِنْ (মিন → পরে)
بَعْدِ (বা‘দি → পরে)
ذَٰلِكَ (যালিকা → সেই ঘটনার)
لَعَلَّكُمْ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشْكُرُونَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞ হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এরপর সেই ঘটনার পর আমরা তোমাদের ক্ষমা করেছিলাম—যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
আয়াত ৫৩
وَاِذْ (ওয়া ইয → স্মরণ করো যখন)
آتَيْنَا (আতাইনা → আমরা দিয়েছিলাম)
مُوسَى (মূসা → মূসাকে)
الْكِتَابَ (আল-কিতাবা → গ্রন্থ)
وَالْفُرْقَانَ (ওয়াল-ফুরক্বানা → সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী নির্দেশ)
لَعَلَّكُمْ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَهْتَدُونَ (তাহতাদূন → সঠিক পথে পরিচালিত হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
স্মরণ করো, যখন আমরা মূসাকে গ্রন্থ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীর নির্দেশ দান করেছিলাম—যাতে তোমরা সঠিক পথে পরিচালিত হও।
আয়াত ৫৪
وَاِذْ (ওয়া ইয → স্মরণ করো যখন)
قَالَ (ক্বালা → বলেছিলেন)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لِقَوْمِهِ (লিক্বাওমিহি → তার জাতিকে)
يَا (ইয়া → হে)
قَوْمِ (ক্বাওমি → আমার জাতি)
اِنَّكُمْ (ইন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
ظَلَمْتُمْ (জালামতুম → অন্যায় করেছ)
اَنْفُسَكُمْ (আনফুসাকুম → নিজেদের প্রতি)
بِاتِّخَاذِكُمُ (বিত্তিখাযিকুম → গ্রহণ করার মাধ্যমে)
الْعِجْلَ (আল-‘ইজলা → বাছুরকে)
فَتُوبُوا (ফাতূবূ → অতএব ফিরে এসো)
اِلَىٰ (ইলা → দিকে)
بَارِئِكُمْ (বারিইকুম → তোমাদের স্রষ্টার)
فَاقْتُلُوا (ফাকতুলূ → অতঃপর হত্যা করো)
أَنْفُسَكُمْ (আনফুসাকুম → নিজেদেরকে)
ذَٰلِكُمْ (যালিকুম → এটিই)
خَيْرٌ (খাইরুন → উত্তম)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عِنْدَ (ইন্দা → নিকট)
بَارِئِكُمْ (বারিইকুম → তোমাদের স্রষ্টার)
فَتَابَ (ফাতাবা → অতঃপর তিনি ক্ষমা করলেন)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের)
اِنَّهُ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই তিনি)
هُوَ (হুয়া → তিনিই)
التَّوَّابُ (আত্তাওয়াবু → বারবার ক্ষমাকারী)
الرَّحِيمُ (আর-রাহীম → দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
স্মরণ করো, যখন মূসা তার জাতিকে বলেছিলেন, “হে আমার জাতি, তোমরা বাছুর গ্রহণ করার মাধ্যমে নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছ। অতএব তোমাদের স্রষ্টার দিকে ফিরে এসো এবং নিজেদেরকে (নফসকে) হত্যা করো—এটাই তোমাদের স্রষ্টার নিকট উত্তম।” এরপর তিনি তোমাদের ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি বারবার ক্ষমাকারী, দয়ালু।
আয়াত ৫৫
وَاِذْ (ওয়া ইয → স্মরণ করো যখন)
قُلْتُمْ (কুলতুম → তোমরা বলেছিলে)
يَا (ইয়া → হে)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لَنْ (লান → কখনো না)
نُؤْمِنَ (নু’মিনা → আমরা বিশ্বাস করব)
لَكَ (লাকা → তোমার প্রতি)
حَتَّىٰ (হাত্তা → যতক্ষণ না)
نَرَى (নারা → আমরা দেখি)
اللَّهَ (আল্লাহা → সর্বশক্তিমান সত্তাকে)
جَهْرَةً (জাহরাতান → প্রকাশ্যে)
فَاَخَذَتۡکُمُ (ফা আখাযাতকুম → অতঃপর তোমাদের পাকড়াও করল)
الصَّاعِقَةُ (আস-সাআইক্বাতু → বজ্রাঘাত)
وَاَنْتُمْ (ওয়া আন্তুম → অথচ তোমরা)
تَنْظُرُونَ (তানজুরূন → দেখছিলে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
স্মরণ করো, যখন তোমরা বলেছিলে, “হে মূসা, আমরা কখনো তোমার প্রতি বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা প্রকাশ্যে সর্বশক্তিমান সত্তাকে দেখি।” অতঃপর বজ্রাঘাত তোমাদের পাকড়াও করল, আর তোমরা তা দেখছিলে।
আয়াত ৫৬
ثُمَّ (ছুম্মা→ তারপর)
بَعَثْنَاكُمْ (বা’আছনাকুম → আমরা তোমাদের পুনর্জীবিত করেছিলাম)
مِنْ (মিন → থেকে)
بَعْدِ (বা‘দি → পরে)
مَوْتِكُمْ (মাওতিকুম → তোমাদের মৃত্যুর)
لَعَلَّكُمْ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَشْكُرُونَ (তাশকুরূন → কৃতজ্ঞ হও)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এরপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমরা তোমাদের পুনর্জীবিত করেছিলাম—যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
আয়াত ৫৭
وَظَلَّلْنَا (ওয়া জাল্লালনা → এবং আমরা ছায়া দিয়েছিলাম)
عَلَيْكُمُ (আলাইকম → তোমাদের উপর)
الْغَمَامَ (আল-গামামা → মেঘ)
وَاَنْزَلْنَا (ওয়া আনযালনা → এবং আমরা অবতীর্ণ করেছিলাম)
عَلَيْكُمُ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
الْمَنَّ (আল-মান্না → নৈকট্যপূর্ণ অনুগ্রহ / বিশেষ অনুগ্রহ = ৫২:২৭)
وَالسَّلْوَىٰ (ওয়াস-সালওয়া → মিষ্টি খাবার / প্রিয় খাদ্য / রসিক খাদ্য)
كُلُوا (কুলূ → খাও)
مِنْ (মিন → থেকে)
طَيِّبَاتِ (তাইয়্যিবাতি → উত্তম জিনিসসমূহ)
مَا (মা → যা)
رَزَقْنَاكُمْ (রাযাক্বনাকুম → আমরা তোমাদের দিয়েছি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
ظَلَمُونَا (জালামূনা → তারা আমাদের প্রতি অন্যায় করেছিল)
وَلَٰكِنْ (ওয়া লাকিন → বরং)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
اَنْفُسَهُمْ (আনফুসাহুম → নিজেদেরই)
يَظْلِمُونَ (ইয়াজলিমূন → প্রতি অন্যায়কারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আমরা তোমাদের উপর মেঘের ছায়া দিয়েছিলাম এবং তোমাদের জন্য বিশেষ অনুগ্রহ (মান্না) ও প্রিয় খাদ্য (সালওয়া) অবতীর্ণ করেছিলাম। আমি তোমাদের যে উত্তম জীবিকা দিয়েছি তা থেকে খাও। তারা আমার প্রতি অন্যায় করেনি; বরং তারা নিজেদের প্রতিই অন্যায় করেছিল।
আয়াত ৫৮
وَاِذْ (ওয়া ইয → স্মরণ করো যখন)
قُلْنَا (ক্বুলনা → আমরা বলেছিলাম)
ادْخُلُوا (উদখুলূ → তোমরা প্রবেশ করো)
هَٰذِهِ (হাযিহি → এই)
الْقَرْيَةَ (আল-ক্বারইয়াতা → জনপদে)
فَكُلُوا (ফাকুলূ → অতঃপর খাও)
مِنْهَا (মিনহা → এখান থেকে)
حَيْثُ (হাইসু → যেখানে)
شِئْتُمْ (শি’তুম → তোমরা ইচ্ছা করো)
رَغَدًا (রাগাদান → স্বচ্ছন্দে)
وَادْخُلُوا (ওয়া উদখুলূ → এবং প্রবেশ করো)
الْبَابَ (আল-বাবা → দরজা দিয়ে)
سُجَّدًا (সুজ্জাদান → অবনত অবস্থায়)
وَقُولُوا (ওয়া কূলূ → এবং বলো)
حِطَّةٌ (হিত্তাতুন → ক্ষমা চাই)
نَغْفِرْ (নাগফির → আমরা ক্ষমা করব)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের)
خَطَايَاكُمْ (খাত্বায়াকুম → তোমাদের ভুলগুলো)
وَسَنَزِيدُ (ওয়া ছানাযীদু → এবং আমরা বাড়িয়ে দেব)
الْمُحْسِنِينَ (আল-মুহছিনীন → সৎকর্মশীলদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
স্মরণ করো, যখন আমরা বলেছিলাম, “এই জনপদে প্রবেশ করো এবং এখান থেকে যেখানে ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে খাও; দরজা দিয়ে অবনত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং বলো—‘ক্ষমা চাই’। আমরা তোমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের জন্য আরও বাড়িয়ে দেব।”
আয়াত ৫৯
فَبَدَّلَ (ফাবাদ্দালা → অতঃপর পরিবর্তন করল)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
ظَلَمُوا (জালামূ → অন্যায় করেছিল)
قَوْلًا (ক্বাওলান → কথাকে)
غَيْرَ (গাইরা → ভিন্ন)
الَّذِي (আল্লাযী → যা)
قِيلَ (ক্বীলা → বলা হয়েছিল)
لَهُمْ (লাহুম → তাদেরকে)
فَاَنۡزَلۡنَا (ফা আনযালনা → অতঃপর আমরা নাজিল করলাম)
عَلَى (আলা → উপর)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
ظَلَمُوا (জালামূ → অন্যায় করেছিল)
رِجْزًا (রিজযান → শাস্তি)
مِنَ (মিন → পক্ষ থেকে)
السَّمَاءِ (আস-ছামাঈ → আকাশের)
بِمَا (বিমা → কারণ)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
يَفْسُقُونَ (ইয়াফসুকূন → অবাধ্যতা করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল, তারা তাদেরকে বলা কথার পরিবর্তে ভিন্ন কথা বলল। ফলে তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি আকাশ থেকে তাদের ওপর শাস্তি নাজিল করলাম।
আয়াত ৬০
وَاِذِ (ওয়া ইযি → স্মরণ করো যখন)
اسْتَسْقَىٰ (ইছ-তাছক্বা → পানি চেয়েছিল)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لِقَوْمِهِ (লিক্বাওমিহি → তার জাতির জন্য)
فَقُلْنَا (ফাক্বুলনা → তখন আমরা বললাম)
اضْرِبْ (ইদরিব → আঘাত করো)
بِعَصَاكَ (বি‘আসাকা → তোমার লাঠি দ্বারা)
الْحَجَرَ (আল-হাজারা → পাথরে)
فَانْفَجَرَتْ (ফানফাজারাত → অতঃপর ফেটে বের হলো)
مِنْهُ (মিনহু → তা থেকে)
اثْنَتَا (ইছনাতা→ বারো)
عَشْرَةَ (আশরাতা → টি)
عَيْنًا (‘আইনান → ঝরনা)
قَدْ (ক্বাদ → নিশ্চয়ই)
عَلِمَ (‘আলিমা → জেনে গেল)
كُلُّ (কুল্লু → প্রত্যেক)
اُنَاسٍ (উনাছিন→ দল)
مَشْرَبَهُمْ (মাশরাবাহুম → তাদের পানিস্থল)
كُلُوا (কুলূ → খাও)
وَاشْرَبُوا (ওয়াশরাবূ → এবং পান করো)
مِنْ (মিন → থেকে)
رِزْقِ (রিজক্বি → জীবিকা)
اللَّهِ (আল্লাহি → সর্বশক্তিমান সত্তার)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَعْثَوْا (তা’ছাও→ দাঙ্গা সৃষ্টি করো)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদ → পৃথিবীতে)
مُفْسِدِينَ (মুফসিদীন → অশান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
স্মরণ করো, যখন মূসা তার জাতির জন্য পানি চাইলো। তখন আমি বললাম, “তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।” ফলে তা থেকে বারোটি ঝরনা বের হলো। প্রত্যেক দল তাদের পানিস্থল চিনে নিল। তোমরা সর্বশক্তিমান সত্তার দেওয়া জীবিকা থেকে খাও ও পান করো, আর পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়িও না।
আয়াত ৬১
وَاِذْ (ওয়া ইয → এবং যখন)
قُلْتُمْ (কুলতুম → তোমরা বলেছিলে)
يَا (ইয়া → হে)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لَنْ (লান → কখনো না)
نَصْبِرَ (নাসবিরা → আমরা ধৈর্য ধরতে পারব)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
طَعَامٍ (ত্বা’আমিন→ খাবারের)
وَاحِدٍ (ওয়াহিদিন → এক ধরনের)
فَادْعُ (ফাদ‘উ → সুতরাং ডাকো)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালকে)
يُخْرِجْ (ইউখরিজ → বের করে দেন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
تُنْبِتُ (তুমবিতু→ উৎপন্ন করে)
الۡاَرۡضُ (আল-আরদু → পৃথিবী)
مِنْ (মিন → থেকে)
بَقْلِهَا (বাক্বলিহা → তার শাকসবজি)
وَقِثَّائِهَا (ওয়াকিছ-ছাইহা → শসা)
وَفُومِهَا (ওয়া ফূমিহা → গম)
وَعَدَسِهَا (ওয়া’আদাছিহা → মসুর)
وَبَصَلِهَا (ওয়া বাসালিহা → পেঁয়াজ)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اَتَسۡتَبۡدِلُوۡنَ (আতাছ-তাবদিলূন, → কি তোমরা বদলাতে চাও)
الَّذِي (আল্লাযী → যে/যিনি)
هُوَ (হুয়া → তা)
اَدۡنٰی (আদনা → নিকৃষ্ট)
بِالَّذِي (বিল্লাযী → তার বিনিময়ে)
هُوَ (হুয়া → যা)
خَيْرٌ (খাইরুন → উত্তম)
اهْبِطُوا (ইহবিতূ → নেমে যাও/চলে যাওয়া)
مِصْرًا (মিসরান → কোনো নগরে)
فَاِنَّ (ফা ইন্না → তাহলে নিশ্চয়ই)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مَا (মা → তা)
سَأَلْتُمْ (ছাআলতুম→ যা তোমরা চেয়েছ)
وَضُرِبَتْ (ওয়া দুরিবাত → আরোপ করা হলো)
عَلَيْهِمُ (আলাইহিম → তাদের উপর)
الذِّلَّةُ (আয্-যিল্লাতু → লাঞ্ছনা)
وَالْمَسْكَنَةُ (ওয়াল-মাছকানাতু → দারিদ্র্য)
وَبَاءُوا (ওয়া বাআউ → এবং তারা ফিরে এলো)
بِغَضَبٍ (বিগাদাবিন → ক্রোধ নিয়ে)
مِنَ (মিন → পক্ষ থেকে)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
ذٰلِکَ (যালিকা → এটা)
بِاَنَّہُمۡ (বি-আন্নাহুম → কারণ তারা)
كَانُوا (কানূ → ছিল)
يَكْفُرُونَ (ইয়াকফুরূন → অস্বীকার করত)
بِآيَاتِ (বি-আয়াতি → নিদর্শনসমূহকে)
اللَّهِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তার)
وَيَقْتُلُونَ (ওয়া ইয়াকতুলূন → এবং হত্যা করত)
النَّبِيِّينَ (আন-নাবিয়্যীন → নবীগণকে)
بِغَيْرِ (বিগাইরি → ছাড়া/ব্যতীত)
الْحَقِّ (আল-হাক্বক্বি → ন্যায়)
ذَٰلِكَ (যালিকা → এটা)
بِمَا (বিমা → এজন্য যে)
عَصَوْا (আসও → তারা অবাধ্য হয়েছিল)
وَكَانُوا (ওয়া কানূ → এবং তারা ছিল)
يَعْتَدُونَ (ইয়া‘তাদূন → সীমালঙ্ঘন করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তোমরা বলেছিলে, “হে মূসা! আমরা এক ধরনের খাদ্যের উপর কখনো ধৈর্য ধারণ করবো না। তাই তোমার প্রতিপালকের কাছে আহ্বান করো, যেন তিনি আমাদের জন্য জমিন থেকে উৎপন্ন শাকসবজি, শসা, গম বা রসুন, মসুর ও পেঁয়াজ বের করে দেন।” তিনি বললেন, “তোমরা কি উত্তমের বিনিময়ে নিম্নতর বস্তু বদলা চাও? তবে কোনো নগরে নেমে যাও; নিশ্চয়ই সেখানে তোমরা যা চেয়েছ তা পাবে।” আর তাদের উপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য আরোপ করা হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরে এলো। এটা এজন্য যে তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ (আয়াতসমূহ) অস্বীকার করত এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করত। এটা এজন্য যে তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত।
আয়াত ৬২
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
هَادُوا (হাদূ → ফিরে আসা/প্রত্যাবর্তন করা/অনুতপ্ত হওয়া/সঠিক পথে ফিরে যাওয়া)
وَالنَّصَارَىٰ (ওয়ান-নাসারা →এবং সাহায্য করা/সমর্থন করা/ সহায়তা দেওয়া)
وَالصَّابِئِينَ (ওয়াস-সাবিঈন →এবং বের হয়ে যাওয়া/ বিচ্যুত হওয়া/ এক অবস্থা ছেড়ে অন্য অবস্থায় প্রবেশ করা)
مَنْ (মান → যে)
اٰمَنَ (আমানা → বিশ্বাস করেছে)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَالْيَوْمِ (ওয়াল-ইয়াওমি → এবং দিবসে)
الْآخِرِ (আল-আখিরি → শেষ দিনের)
وَعَمِلَ (ওয়া ‘আমিলা → এবং কাজ করেছে)
صَالِحًا (সালিহান → সৎকর্ম)
فَلَهُمْ (ফালাহুম → তবে তাদের জন্য)
اَجْرُهُمْ (আজরুহুম → তাদের প্রতিদান)
عِنْدَ (ইন্দা → নিকট)
رَبِّهِمْ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
خَوْفٌ (খাওফুন → ভয়)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
هُمْ (হুম → তারা)
يَحْزَنُونَ (ইয়াহযানূন → দুঃখিত হবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
“নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করেছে এবং যারা ফিরে এসেছে (ইহুদি) ও যারা সাহায্যকারী (নাসারা), এবং যারা পূর্ব অবস্থা থেকে বের হয়েছে (সাবিঈন), তাদের মধ্য থেকে যে কেউ আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তবে তাদের জন্য তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট; তাদের উপর কোনো ভয় নেই, এবং তারা দুঃখিত হবে না।”
আয়াত ৬৩
وَاِذْ (ওয়া ইয → এবং যখন)
أَخَذْنَا (আখাযনা → আমরা নিয়েছিলাম)
مِيثَاقَكُمْ (মীছাক্বাকুম→ তোমাদের অঙ্গীকার)
وَرَفَعْنَا (ওয়া রাফা‘না → এবং আমরা উত্তোলন করেছিলাম)
فَوْقَكُمُ (ফাওক্বাকুম→ তোমাদের উপর)
الطُّورَ (আত-তূরা → তূরা (তাওরাতের ভার)
خُذُوا (খুযূ → গ্রহণ করো)
مَا (মা → যা)
آتَيْنَاكُمْ (আতাইনা-কুম → আমরা তোমাদের দিয়েছি)
بِقُوَّةٍ (বিকুউ-ওয়াতিন → দৃঢ়ভাবে)
وَاذْكُرُوا (ওয়াযকুরূ→ এবং স্মরণ করো)
مَا (মা → যা)
فِيهِ (ফীহি → এতে আছে)
لَعَلَّكُمْ (লা‘আল্লাকুম → যাতে তোমরা)
تَتَّقُونَ (তাত্তাক্বূন → খোদাভীরুতা অর্জন করা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এবং যখন আমরা তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তোমাদের ওপর তূরা উত্তোলন করেছিলাম—“যা আমরা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং এতে যা আছে তা স্মরণ রাখো, যাতে তোমরা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারো।”
আয়াত ৬৪
ثُمَّ (ছুম্মা→ তারপর)
تَوَلَّيْتُمْ (তাওয়াল্লাইতুম → তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে)
مِنْ (মিন → থেকে)
بَعْدِ (বা‘দি → পরে)
ذَٰلِكَ (যালিকা → তা)
فَلَوْلَا (ফালাওলা → যদি না)
فَضْلُ (ফাদলু → অনুগ্রহ)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
وَرَحْمَتُهُ (ওয়া রাহমাতুহু → এবং তাঁর দয়া)
لَكُنْتُمْ (লাকুনতুম → তবে তোমরা হতে)
مِنَ (মিন → মধ্যে)
الْخَاسِرِينَ (আল-খাছিরীন→ ক্ষতিগ্রস্তদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এরপরও তোমরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে। যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে।
আয়াত ৬৫
وَلَقَدْ (ওয়া লাক্বাদ → আর অবশ্যই)
عَلِمْتُمُ (আলিমতুম → তোমরা জেনেছিলে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদের)
اعْتَدَوْا (আ’তাদাউ → সীমালঙ্ঘন করেছিল)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
فِي (ফী → বিষয়ে)
السَّبْتِ (আস-সাবতি → শনিবার)
فَقُلْنَا (ফাক্বুলনা → অতঃপর আমরা বলেছিলাম)
لَهُمْ (লাহুম → তাদেরকে)
كُونُوا (কূনূ → হয়ে যাও)
قِرَدَةً (কিরাদাতান → বানর)
خَاسِئِينَ (খাছিঈন→ লাঞ্ছিত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অবশ্যই তোমরা জানো—তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের বিধানে সীমালঙ্ঘন করেছিল; অতঃপর আমরা তাদের বলেছিলাম, “তোমরা লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হও।”
আয়াত ৬৬
فَجَعَلْنَاهَا (ফাজা‘আলনাহা → অতঃপর আমরা এটিকে করেছিলাম)
نَكَالًا (নাকালান → দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি)
لِمَا (লিমা → তার জন্য যা)
بَيْنَ (বাইনা → মধ্যে)
يَدَيْهَا (ইয়াদাইহা → এর পূর্বে ছিল)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
خَلْفَهَا (খালফাহা → এর পরে আসবে)
وَمَوْعِظَةً (ওয়া মাউ‘ইজাতান → এবং উপদেশ)
لِلْمُتَّقِينَ (লিল-মুত্তাক্বীন → খোদাভীরুদের জন্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর আমরা এটিকে তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং খোদাভীরুদের জন্য উপদেশ বানালাম।
আয়াত ৬৭
وَاِذْ (ওয়া ইয → এবং যখন)
قَالَ (ক্বালা → বলেছিলেন)
مُوسَىٰ (মূসা → মূসা)
لِقَوْمِهِ (লিক্বাওমিহি → তার জাতিকে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
يَأْمُرُكُمْ (ইয়া’মুরুকুম → তোমাদের আদেশ দেন)
اَنْ (আন → যে)
تَذْبَحُوا (তাযবাহূ → তোমরা জবাই করবে)
بَقَرَةً (বাক্বারাতান → একটি গাভী)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলল)
اَتَتَّخِذُنَا (আতাত্তাখিযুনা → তুমি কি আমাদের নিয়ে)
هُزُوًا (হুযুওয়ান → উপহাস করছ)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اَعُوذُ (আ‘ঊযু → আমি আশ্রয় চাই)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর কাছে)
اَنْ (আন → যে)
اَكُونَ (আকূনা → আমি হই)
مِنَ (মিন → মধ্যে)
الْجَاهِلِينَ (আল-জাহিলীন → জ্ঞানহীনদের/অজ্ঞদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এবং যখন মূসা তার জাতিকে বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন একটি গাভী জবাই করতে।” তারা বলল, “তুমি কি আমাদের নিয়ে উপহাস করছ?” তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—আমি যেন জ্ঞানহীনদের অন্তর্ভুক্ত না হই।”
আয়াত ৬৮
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলল)
ادْعُ (ইদ‘উ → ডাকো)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালককে)
يُبَيِّن (ইউবাইয়িন → তিনি স্পষ্ট করে দিন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مَا (মা → কী)
هِيَ (হিয়া → এটি)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اِنَّهُ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই তিনি)
يَقُولُ (ইয়াক্বূলু → বলেন)
اِنَّهَا (ইন্নাহা → নিশ্চয়ই তা)
بَقَرَةٌ (বাক্বারাতুন → একটি গাভী)
لَا (লা → না)
فَارِضٌ (ফারিদুন → অতিবৃদ্ধ)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
بِكْرٌ (বিকরুন → অল্পবয়সী)
عَوَانٌ (আওয়ানুন → মধ্যবয়সী)
بَيْنَ (বাইনা → মধ্যে)
ذٰلِکَ (যালিকা → এ দুটির)
فَافْعَلُوا (ফাফ‘আলূ → সুতরাং করো)
مَا (মা → যা)
تُؤْمَرُونَ (তুউ’মারূন → তোমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলল, “আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে ডাকো—তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, এটি কেমন গাভী।” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তা—এমন গাভী নয় যে অতিবৃদ্ধ, আবার অল্পবয়সীও নয়; বরং এ দুটির মাঝামাঝি। সুতরাং যা আদেশ করা হয়েছে, তা করো।”
আয়াত ৬৯
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলল)
ادْعُ (ইদ‘উ → ডাকো)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালককে)
يُبَيِّن (ইউবাইয়িন → তিনি স্পষ্ট করে দিন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مَا (মা → কী)
لَوْنُهَا (লাওনুহা → এর রং)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اِنَّهُ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই তিনি)
يَقُولُ (ইয়াক্বূলু → বলেন)
اِنَّهَا (ইন্নাহা → নিশ্চয়ই তা)
بَقَرَةٌ (বাক্বারাতুন → একটি গাভী)
صَفْرَاءُ (সাফরাউ → হলুদ)
فَاقِعٌ (ফাক্বি‘উন → উজ্জ্বল)
لَوْنُهَا (লাওনুহা → এর রং)
تَسُرُّ (তাছুররু→ আনন্দ দেয়)
النَّاظِرِينَ (আন-নাজিরীন → দর্শকদের)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলল, “আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে ডাকো—তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, এর রং কী।” নিশ্চয়ই তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তা উজ্জ্বল হলুদ রঙের গাভী, যা দর্শকদের আনন্দ দেয়।”
আয়াত ৭০
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলল)
ادْعُ (ইদ‘উ → ডাকো)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালককে)
يُبَيِّن (ইউবাইয়িন → তিনি স্পষ্ট করে দিন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مَا (মা → কী)
هِيَ (হিয়া → এটি)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الْبَقَرَ (আল-বাক্বার → গাভীগুলো)
تَشَابَهَ (তাশাবাহা → একরকম মনে হচ্ছে)
عَلَيْنَا (আলাইনা → আমাদের কাছে)
وَاِنَّا (ওয়া ইন্না → আর নিশ্চয়ই আমরা)
اِنْ (ইন → যদি)
شَاءَ (শাআ → চান)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَمُهْتَدُونَ (লামুহতাদূন → অবশ্যই সঠিক পথে আসব)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা বলল, “আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে ডাকো—তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, এটি ঠিক কী; কারণ গাভীগুলো আমাদের কাছে একরকম মনে হচ্ছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ চাইলে আমরা অবশ্যই সঠিক পথে আসব।”
আয়াত- ৭১:
قَالَ (ক্বা-লা → তিনি বললেন)
اِنَّہٗ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই তা)
يَقُولُ (ইয়াকূলু→ তিনি বলেন)
اِنَّهَا (ইন্নাহা → নিশ্চয়ই সেটি)
بَقَرَةٌ (বাক্বারাতু → একটি গাভী)
لَّا (লা → না)
ذَلُولٌ (যালূলুন → বশীভূত/অত্যন্ত অনুগত)
تُثِيرُ (তুছীরু → চাষ করে/মাটি উল্টায়)
الۡاَرۡضَ (আল-আরদ্ব → জমিন)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَسْقِي (তাস্বক্বী → সেচ দেয়)
الْحَرْثَ (আল-হারছ → ক্ষেত)
مُسَلَّمَةٌ (মুসাল্লামাতুন → সম্পূর্ণ নির্দোষ)
لَا (লা → না)
شِيَةَ (শীয়াতুন → কোনো দাগ)
فِيهَا (ফীহা → এতে)
قَالُوا (ক্বালূ → তারা বলল)
الْآنَ (আল-আন → এখন)
جِئْتَ (জি’তা → তুমি এসেছো)
بِالْحَقِّ (বিল-হাক্বক্বি → সত্য/ন্যায়সহ)
فَذَبَحُوهَا (ফাযাবাহূহা → অতঃপর তারা সেটিকে জবাই করল)
وَمَا (ওয়ামা → অথচ না)
كَادُوا (কাদূ → তারা প্রায়ই)
يَفْعَلُونَ (ইয়াফ‘আলূন → করত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই সেটি এমন একটি গাভী, যা অত্যন্ত অনুগত নয়, যে জমি চাষ করবে এবং ক্ষেতে সেচ দেবে; সেটি সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাতে কোনো দাগ নেই।” তারা বলল, “এখন তুমি সত্যসহ এসেছো।” তারপর তারা সেটিকে জবাই করল, যদিও তারা প্রায় তা করতে চাইছিল না।
আয়াত- ৭২:
وَاِذْ (ওয়া ইয → আর যখন)
قَتَلْتُمْ (ক্বাতালতুম → তোমরা হত্যা করেছিলে)
نَفْسًا (নাফসান → প্রাণ (গাভীটির)
فَادَّارَأْتُمْ (ফাদ্দারা’তুম → অতঃপর তোমরা পরস্পর দোষারোপ করেছিলে)
فِيهَا (ফীহা → সে বিষয়ে)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহ → আর সৃষ্টিকর্তা)
مُخْرِجٌ (মুখরিজুন → প্রকাশকারী)
مَا (মা → যা)
كُنْتُمْ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَكْتُمُونَ (তাকতুমূন → গোপন করছিলে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তোমরা প্রাণ (গাভী) হত্যা করেছিলে এবং সে বিষয়ে পরস্পর দোষারোপ করেছিলে; আর তোমরা গোপন করছিলে, যা সৃষ্টিকর্তা প্রকাশকারী ।
আয়াত- ৭৩:
فَقُلْنَا (ফাকুলুনা → তখন আমরা বললাম)
اضْرِبُوهُ (ইদ্বরিবূহু → তাকে আঘাত করো)
بِبَعْضِهَا (বিবা‘দ্বিহা → তার একটি অংশ দিয়ে (গাভীর)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
يُحْيِي (ইউহয়ী → জীবন দান করেন)
اللَّهُ (আল্লাহ → সর্বশক্তিমান সত্তা)
الْمَوْتَىٰ (আল-মাওতা → মৃতদের)
وَيُرِيكُمْ (ওয়া ইউরীকুম → এবং তোমাদের দেখান)
آيَاتِهِ (আয়াতিহি → তাঁর নিদর্শনসমূহ)
لَعَلَّكُمْ (লা‘আল্লাকুম → যেন তোমরা)
تَعْقِلُونَ (তা‘ক্বিলূন → বুদ্ধি প্রয়োগ করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তখন আমি বললাম, “তার (গাভীর) একটি অংশ দিয়ে তাকে আঘাত করো।” এভাবেই আল্লাহ মৃতদের জীবন দান করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ (আয়াতসমূহ) দেখান, যেন তোমরা বুদ্ধি প্রয়োগ করো।
আয়াত- ৭৪
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
قَسَتْ (ক্বাসাত → কঠিন হয়ে গেল)
قُلُوبُكُمْ (কুলূবুকুম → তোমাদের হৃদয়সমূহ)
مِنْ (মিন → পরে)
بَعْدِ (বা‘দি → এরপর)
ذٰلِکَ (যালিকা → তা)
فَهِيَ (ফাহিয়া → ফলে তা)
كَالْحِجَارَةِ (কাল-হিজারাতি → পাথরের মতো)
اَوْ (আও → অথবা)
اَشَدُّ (আশাদ্দু → আরও কঠিন)
قَسْوَةً (ক্বাসওয়াতান → কঠোরতায়)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → নিশ্চয়ই)
مِنَ (মিনা → মধ্যে থেকে)
الْحِجَارَةِ (আল-হিজারাতি → পাথরসমূহের)
لَمَا (লামা → এমনও আছে যা)
يَتَفَجَّرُ (ইয়াতাফাজ্জারু → ফেটে প্রবাহিত হয়)
مِنْهُ (মিনহু → তা থেকে)
االۡاَنۡہٰرُ (আল-আনহারু → নদীসমূহ)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই)
مِنْهَا (মিনহা → তার মধ্যে)
لَمَا (লামা → এমনও আছে যা)
يَشَّقَّقُ (ইয়াশ্শাক্কাকু → বিদীর্ণ হয়)
فَيَخْرُجُ (ফাইয়াখরুজু → ফলে বেরিয়ে আসে)
مِنْهُ (মিনহু → তা থেকে)
الْمَاءُ (আল-মা’উ → পানি)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই)
مِنْهَا (মিনহা → তার মধ্যে)
لَمَا (লামা → এমনও আছে যা)
يَهْبِطُ (ইয়াহবিতু → নেমে পড়ে)
مِنْ (মিন → থেকে)
خَشۡیَۃِ (খাশইয়াতি → ভয়/শ্রদ্ধাভীতি)
اللَّهِ (আল্লাহ → সর্বশক্তিমান সত্তা)
وَمَا (ওয়ামা → আর না)
اللَّهُ (আল্লাহ → সর্বশক্তিমান সত্তা)
بِغَافِلٍ (বিগাফিলিন → অমনোযোগী)
عَمَّا (আম্মা → যা সম্পর্কে)
تَعْمَلُونَ (তা‘মালূন → তোমরা করো)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারপর তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল; ফলে তা পাথরের মতো বা কঠোরতায় তার চেয়েও কঠিন। অথচ পাথরের মধ্য থেকেও এমন আছে, যেখান থেকে নদী প্রবাহিত হয়; আবার এমন আছে যা বিদীর্ণ হলেও পানি বের হয়; আবার এমনও আছে যা আল্লাহর ভয়ে নেমে পড়ে। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয়ে অমনোযোগী নন।
আয়াত- ৭৫:
اَفَتَطْمَعُونَ (আফাতত্বমা‘ঊন → তবে কি তোমরা আশা করো)
اَنْ (আন → যে)
يُؤْمِنُوا (ইউ’মিনূ → তারা বিশ্বাস করবে)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَقَدْ (ওয়া ক্বাদ → অথচ নিশ্চয়ই)
كَانَ (কানা → ছিল)
فَرِيقٌ (ফারীকুন → একটি দল)
مِنْهُمْ (মিনহুম → তাদের মধ্যে থেকে)
يَسْمَعُونَ (ইয়াসমা‘ঊন → শুনত)
كَلَامَ (কালামা → বাণী)
اللَّهِ (আল্লাহ → সৃষ্টিকর্তার)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
يُحَرِّفُونَهُ (ইউহাররিফূনাহু → তা বিকৃত করত)
مِنْ (মিন → পর)
بَعْدِ (বা‘দি → পরে)
مَا (মা → যা)
عَقَلُوهُ (আ‘ক্বালূহু → তারা বুঝেছিল)
وَهُمْ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
يَعْلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → জানত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তবে কি তোমরা আশা করো যে তারা তোমাদের জন্য বিশ্বাস করবে? অথচ তাদের একদল আল্লাহর বাণী (কালাম) শুনত, তারপর তা বুঝে নেওয়ার পর জেনেশুনে বিকৃত করত।
