সূরা আল বাকারা (البقرة) | গাভী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ২৮৬
আয়াত – ১৫১:
کَمَا (কামা → যেমনভাবে)
اَرۡسَلۡنَا (আরসালনা → আমি পাঠিয়েছি)
فِیۡکُمۡ (ফীকুম → তোমাদের মধ্যে)
رَسُوۡلًا (রাসূলান → একজন রাসূল)
مِّنۡکُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকেই)
یَتۡلُوۡا (ইয়াতলূ → তেলাওয়াত করে)
عَلَیۡکُمۡ (‘আলাইকুম → তোমাদের উপর)
اٰیٰتِنَا (আয়াতিনা → আমার নির্দশনসমূহ)
وَیُزَکِّیۡکُمۡ (ওয়া ইউযাক্কীকুম → এবং তোমাদের পরিশুদ্ধ করে)
وَیُعَلِّمُکُمُ (ওয়া ইউ‘আল্লিমুকুম → এবং তোমাদের শিক্ষা দেয়)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
وَالۡحِکۡمَۃَ (ওয়াল হিকমাতা → প্রজ্ঞা)
وَیُعَلِّمُکُمۡ (ওয়া ইউ‘আল্লিমুকুম → এবং তোমাদের শিক্ষা দেয়)
مَّا (মা → যা)
لَمۡ (লাম → না)
تَکُوۡنُوۡا (তাকূনূ → তোমরা ছিলে)
تَعۡلَمُوۡنَ (তা‘লামূন → জানতে)
বাংলা অর্থ:
যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তোমাদের পরিশুদ্ধ করেন, তোমাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন এবং তোমাদের এমন কিছু শেখান যা তোমরা জানতে না।
আয়াত – ১৫২:
فَاذۡکُرُوۡنِیۡ (ফাযকুরূনী → সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো)
اَذۡکُرۡکُمۡ (আযকুরকুম → আমিও তোমাদের স্মরণ করব)
وَاشۡکُرُوۡا (ওয়াশকুরূ → এবং কৃতজ্ঞ হও)
لِیۡ (লী → আমার প্রতি)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَکۡفُرُوۡنِ (তাকফুরূন → অকৃতজ্ঞ হও/অস্বীকার করো)
বাংলা অর্থ:
সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
আয়াত – ১৫৩:
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস এনেছ)
اسۡتَعِیۡنُوۡا (ইস্তাঈনূ → সাহায্য চাও)
بِالصَّبۡرِ (বিসসাবরি → ধৈর্যের মাধ্যমে)
وَالصَّلٰوۃِ (ওয়াসসালাতি → এবং যোগাযোগের মাধ্যমে)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহ → আল্লাহ)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে আছেন)
الصَّابِرِیۡنَ (আস-সাবিরীন → ধৈর্যশীলদের)
বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ ! তোমরা ধৈর্য ও যোগাযোগের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
আয়াত – ১৫৪:
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → তোমরা বলো)
لِمَنۡ (লিমান → তাদের সম্পর্কে যারা)
یُّقۡتَلُ (ইউকতালু → নিহত হয়)
فِیۡ (ফী → মধ্যে/পথে)
سَبِیۡلِ (সাবীলি → পথে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اَمۡوَاتٌ (আমওয়াতুন → মৃত)
بَلۡ (বাল → বরং)
اَحۡیَآءٌ (আহইয়াউন → তারা জীবিত)
وَّلٰکِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لَّا (লা → না)
تَشۡعُرُوۡنَ (তাশ‘উরূন → তোমরা উপলব্ধি করো)
বাংলা অর্থ:
আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের তোমরা মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।
আয়াত – ১৫৫:
وَلَنَبۡلُوَنَّکُمۡ (ওয়ালানাবলুওয়ান্নাকুম → অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব)
بِشَیۡءٍ (বিশাইয়িন → কিছু দিয়ে)
مِّنَ (মিনাল → থেকে)
الۡخَوۡفِ (আল-খাওফি → ভয়)
وَالۡجُوۡعِ (ওয়াল-জূ‘ই → ক্ষুধা)
وَنَقۡصٍ (ওয়া নাকসিন → এবং ঘাটতি)
مِّنَ (মিনাল → থেকে)
الۡاَمۡوَالِ (আল-আমওয়ালি → সম্পদ)
وَالۡاَنۡفُسِ (ওয়াল-আনফুসি → জীবন)
وَالثَّمَرٰتِ (ওয়াস-ছামারাতি → ফল-ফসল)
وَبَشِّرِ (ওয়া বাশশিরি → এবং সুসংবাদ দাও)
الصَّابِرِیۡنَ (আস-সাবিরীন → ধৈর্যশীলদের)
বাংলা অর্থ:
আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ঘাটতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।
আয়াত – ১৫৬:
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اِذَاۤ (ইযা → যখন)
اَصَابَتۡہُمۡ (আসাবাতহুম → তাদেরকে পৌঁছে যায়)
مُّصِیۡبَۃٌ (মুসীবাতুন → কোনো বিপদ)
قَالُوۡۤا (কালূ → তারা বলে)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়ই আমরা)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
وَاِنَّاۤ (ওয়া ইন্না → এবং নিশ্চয়ই আমরা)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁর দিকে)
رٰجِعُوۡنَ (রাজি‘ঊন → ফিরে যাব)
বাংলা অর্থ:
যারা কোনো বিপদে পড়লে বলে, “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।”
আয়াত – ১৫৭:
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → এরাই)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের উপর)
صَلَوٰتٌ (সালাওয়াতুন → যোগাযোগসমূহ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّہِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের রব)
وَرَحۡمَۃٌ (ওয়া রাহমাতুন → এবং দয়া)
وَاُولٰٓئِکَ (ওয়া উলাইকা → এবং এরাই)
ہُمُ (হুমু → তারাই)
الۡمُہۡتَدُوۡنَ (আল-মুহতাদূন → সঠিক পথে চলা মানুষ)
বাংলা অর্থ:
এরাই তারা, যাদের উপর তাদের রবের পক্ষ থেকে যোগাযোগসমূহ ও দয়া। আর এরাই তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত (হেদায়েতপ্রাপ্ত)।
আয়াত – ১৫৮:
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الصَّفَا (আস-সাফা → শুদ্ধতা /পরিষ্কারতা/নির্মল পাথর)
وَالۡمَرۡوَۃَ (ওয়াল মারওয়া → দৃঢ়তা/কঠিনতা/পাথুরে গঠন)
مِنۡ (মিন → থেকে)
شَعَآئِرِ (শাআইরি → ধর্মীয় প্রতীকসমূহ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
فَمَنۡ (ফামান → যে কেউ)
حَجَّ (হাজ্জা → বাহাস/বিতর্ক)
الۡبَیۡتَ (আল-বাইতা → ঘরটির)
اَوِ (আউ → অথবা)
اعۡتَمَرَ (ই‘তামারা → নির্দিষ্ট ধর্মীয় কাজ পরিচালনা)
فَلَا (ফালা → তাহলে না)
جُنَاحَ (জুনাহা → কোনো দোষ/অপরাধ)
عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তার উপর)
اَنۡ (আন → যে)
یَّطَّوَّفَ (ইয়াত্তাওয়াফা → ভ্রমণ করে)
بِہِمَا (বিহিমা → তাদের দু’টির মধ্যে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
تَطَوَّعَ (তাতাওওয়া‘আ → স্বেচ্ছায় বেশি করে)
خَیۡرًا (খাইরান → অতি উত্তম)
فَاِنَّ (ফাইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
شَاکِرٌ (শাকিরুন → কৃতজ্ঞতা গ্রহণকারী)
عَلِیۡمٌ (আলীম → সর্বজ্ঞ)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত। তাই যে ব্যক্তি ঘরটিতে বাহাস বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে, তার জন্য এদুটি স্থান ভ্রমণ করাতে কোনো দোষ নাই, আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বেশি উত্তম করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ কৃতজ্ঞতা গ্রহণকারী ও সর্বজ্ঞ।
আয়াত – ১৫৯:
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَکۡتُمُوۡنَ (ইয়াকতুমূনা → গোপন করে/লুকায়)
مَاۤ (মা → যা)
اَنۡزَلۡنَا (আনঝালনা → আমি নাযিল করেছি)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الۡبَیِّنٰتِ (আল-বাইয়িনাতি → স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ)
وَالۡہُدٰی (ওয়াল হুদা → এবং হিদায়াত/পথনির্দেশ)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَعۡدِ (বা‘দি → পরে)
مَا (মা → যা)
بَیَّنّٰہُ (বাইয়ান্নাহু → আমি তা স্পষ্ট করেছি)
لِلنَّاسِ (লিন্না-ছি → মানুষের জন্য)
فِی (ফি → মধ্যে)
الۡکِتٰبِ (আল-কিতাবি → কিতাব)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → এরাই)
یَلۡعَنُہُمُ (ইয়াল‘আনুহুমু → তাদের উপর লানত/অভিশাপ করে)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَیَلۡعَنُہُمُ (ওয়া ইয়াল‘আনুহুমু → এবং তাদের উপর লানত/অভিশাপ করে)
اللّٰعِنُوۡنَ (আল-লা‘ইনূন → অভিশাপকারীরা)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি কিতাবে যেসব স্পষ্ট আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) ও হিদায়াত (পথনির্দেশ) অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্যে, তা পরিষ্কারভাবে/স্পষ্টভাবে/বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার পরও যারা তা গোপন করে, আল্লাহ্ তাদেরকে লা‘নত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদেরকে অভিশাপ দেয়।
আয়াত – ১৬০:
اِلَّا (ইল্লা → কিন্তু/ছাড়া)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
تَابُوۡا (তা-বূ → ক্ষমা চাওয়া)
وَاَصۡلَحُوۡا (ওয়া আসলাহূ → এবং সংশোধন করেছে)
وَبَیَّنُوۡا (ওয়া বাইয়ানূ → এবং ব্যাখ্যা করেছে)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → এরাই)
اَتُوۡبُ (আতূবু → আমি ক্ষমা গ্রহণ করি)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের উপর)
وَاَنَا (ওয়া আনা → এবং আমি)
التَّوَّابُ (আত-তাওওয়াব → অত্যন্ত ক্ষমাশীল)
الرَّحِیۡمُ (আর-রাহীম → পরম দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
কিন্তু যারা ক্ষমা চায় এবং নিজেদের সংশোধন করে এবং স্পষ্ট করে—এরাই তারা, যাদের আমি ক্ষমা গ্রহণ করি। আর আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত – ১৬১:
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে/কুফর করেছে)
وَمَاتُوۡا (ওয়া মা-তূ → এবং মারা গেছে)
وَہُمۡ (ওয়া হুম → অথচ তারা)
کُفَّارٌ (কুফফারুন → কাফির/অবিশ্বাসী অবস্থায়)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → এরাই)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের উপর)
لَعۡنَۃُ (লা‘নাতু → লানত/অভিশাপ)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَالۡمَلٰٓئِکَۃِ (ওয়াল মালাইকাতি → ফেরেশতাদের)
وَالنَّاسِ (ওয়ান্নাসি → মানুষের)
اَجۡمَعِیۡنَ (আজমা‘ঈন → সকলের)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা কুফর (অবিশ্বাস) করেছে এবং কাফির (অবিশ্বাসী) অবস্থায় মারা গেছে, এরাই তারা—যাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতারা এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ রয়েছে।
আয়াত – ১৬২:
خٰلِدِیۡنَ (খালিদীন → চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
فِیۡہَا (ফীহা → তাতে/সে অবস্থায়)
لَا (লা → না)
یُخَفَّفُ (ইউখাফফাফু → হালকা করা হবে)
عَنۡہُمُ (‘আনহুমু → তাদের থেকে)
الۡعَذَابُ (আল-আযাবু → শাস্তি)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
ہُمۡ (হুম → তারা)
یُنۡظَرُوۡنَ (ইউনজারূন → অবকাশ/অবসর দেওয়া হবে)
বাংলা অর্থ:
তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। তাদের শাস্তি হালকা করা হবে না, এবং তাদের কোনো অবকাশও দেওয়া হবে না।
আয়াত – ১৬৩:
وَاِلٰـہُکُمۡ (ওয়া ইলাহুকুম → এবং তোমাদের বিধানদাতা/উপাস্য/আশ্রয়দাতা)
اِلٰہٌ (ইলা-হুন → একমাত্র বিধানদাতা)
وَّاحِدٌ (ওয়াহিদুন → একক)
لَاۤ (লা → নেই)
اِلٰہَ (ইলা-হা → কোনো ইলাহ)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
ہُوَ (হুওয়া → তিনি)
الرَّحۡمٰنُ (আর-রাহমান → পরম করুণাময়)
الرَّحِیۡمُ (আর-রাহীম → অতি দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
আর তোমাদের বিধানদাতা একমাত্র একক বিধানদাতা। তিনি ছাড়া কোনো বিধানদাতা নেই। তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
আয়াত – ১৬৪:
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
خَلۡقِ (খালকি → সৃষ্টি)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহ)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবী)
وَاخۡتِلَافِ (ওয়া খতিলাফি → এবং পরিবর্তন/ভিন্নতা)
اللَّیۡلِ (আল-লাইলি → রাত)
وَالنَّہَارِ (ওয়ান-নাহারি → দিন)
وَالۡفُلۡکِ (ওয়াল ফুলকি → নৌযান/জাহাজ)
الَّتِیۡ (আল্লাতি → যা)
تَجۡرِیۡ (তাজরী → চলে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡبَحۡرِ (আল-বাহরি → সমুদ্র)
بِمَا (বিমা → যা দিয়ে)
یَنۡفَعُ (ইয়ানফাউ → উপকার করে)
النَّاسَ (আন্নাসা → মানুষকে)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اَنۡزَلَ (আনজালা → নাযিল করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِنَ (মিনা → থেকে)
السَّمَآءِ (আস-সামা → আকাশ)
مِنۡ (মিন → থেকে)
مَّآءٍ (মা-ইন → পানি)
فَاَحۡیَا (ফাআহইয়া → তিনি জীবিত করেন)
بِہِ (বিহি → এর মাধ্যমে)
الۡاَرۡضَ (আল-আরদা → পৃথিবীকে)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
مَوۡتِہَا (মাওতিহা → তার মৃত্যু)
وَبَثَّ (ওয়া বাথ্থা → এবং ছড়িয়ে দিয়েছেন)
فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
کُلِّ (কুল্লি → সব)
دَآبَّۃٍ (দাব্বাতিন → প্রাণী)
وَتَصۡرِیۡفِ (ওয়া তাসরীফি → এবং পরিবর্তন)
الرِّیٰحِ (আর-রিয়াহি → বাতাস)
وَالسَّحَابِ (ওয়াস-সাহাবি → মেঘ)
الۡمُسَخَّرِ (আল-মুসাখখারি → নিয়ন্ত্রিত/বশীভূত)
بَیۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
السَّمَآءِ (আস-সামা → আকাশ)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবী)
لَاٰیٰتٍ (লা-আয়া-তিন → নিদর্শনসমূহ)
لِّقَوۡمٍ (লিকাওমিন → একটি জাতির জন্য)
یَعۡقِلُوۡنَ (ইয়া‘কিলূন → যারা চিন্তাভাবনা করে/বুঝে)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টি, রাত ও দিনের পরিবর্তন, মানুষের উপকারে সমুদ্রে চলমান নৌযান, আকাশ থেকে আল্লাহর নাযিলকৃত পানি, যার মাধ্যমে তিনি মৃত যমীনকে জীবিত করেন এবং তাতে সব ধরনের প্রাণী ছড়িয়ে দেন, বাতাসের পরিবর্তন এবং আকাশ ও যমীনের মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘ—এসবই সেই জাতির জন্য নিদর্শন যারা চিন্তাভাবনা করে।
আয়াত – ১৬৫:
وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং মধ্যে)
النَّاسِ (আন্নাসি → মানুষ)
مَنۡ (মান → কেউ)
یَّتَّخِذُ (ইয়াত্তাখিযু → গ্রহণ করে)
مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ (মিন দুনিল্লাহি → আল্লাহ ছাড়া অন্যকে)
اَنۡدَادًا (আনদাদান → সমকক্ষ)
یُّحِبُّوۡنَہُمۡ (ইউহিব্বূনাহুম → তাদের ভালোবাসে)
کَحُبِّ اللّٰہِ (কাহুব্বিল্লাহি → আল্লাহকে ভালোবাসার মতো)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
اٰمَنُوۡۤا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
اَشَدُّ (আশাদ্দু → সবচেয়ে বেশি/অধিক)
حُبًّا (হুব্বান → ভালোবাসায়)
لِّلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
یَرَی (ইয়ারা → দেখতো)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
ظَلَمُوۡۤا (জালামূ → জুলুম করেছে)
اِذۡ یَرَوۡنَ (ইয ইয়ারাওনা → যখন তারা দেখবে)
الۡعَذَابَ (আল-আযাবা → শাস্তি)
اَنَّ (আন্না → যে)
الۡقُوَّۃَ (আল-কুওওয়াতা → সমস্ত শক্তি)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
جَمِیۡعًا (জামী‘আন → সম্পূর্ণভাবে)
وَّاَنَّ اللّٰہَ (ওয়া আন্নাল্লাহা → এবং নিশ্চয় আল্লাহ)
شَدِیۡدُ الۡعَذَابِ (শাদীদুল ‘আযাবি → কঠোর শাস্তিদাতা)
বাংলা অর্থ:
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্যকে সমকক্ষ বানিয়ে তাদের এমনভাবে ভালোবাসে যেমন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত। আর যারা ঈমান (বিশ্বাস) এনেছে তারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। আর যদি জালিমরা সেই সময়ের শাস্তি দেখতে পেত, তাহলে তারা বুঝতে পারত—সমস্ত শক্তি একমাত্র আল্লাহর এবং আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
আয়াত – ১৬৬:
اِذۡ (ইয → যখন)
تَبَرَّاَ (তাবাররা → সম্পর্কচ্ছেদ করবে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যাদেরকে)
اتُّبِعُوۡا (উত্তুবি‘ঊ → অনুসরণ করা হয়েছে)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّبَعُوۡا (ইত্তাবা‘ঊ → অনুসরণ করেছিল)
وَرَاَوُا (ওয়া রাআউ → এবং তারা দেখবে)
الۡعَذَابَ (আল-আযাবা → শাস্তি)
وَتَقَطَّعَتۡ (ওয়া তাকাত্তা‘আত → বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে)
بِہِمُ (বিহিমু → তাদের মধ্যে)
الۡاَسۡبَابُ (আল-আসবাবু → সব সম্পর্ক/উপায়)
বাংলা অর্থ:
যখন অনুসরণকৃতরা অনুসরণকারীদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং তারা শাস্তি দেখবে, তখন তাদের মধ্যে সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
আয়াত – ১৬৭:
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং বলবে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّبَعُوۡا (ইত্তাবা‘ঊ → অনুসরণ করেছিল)
لَوۡ (লাও → যদি)
اَنَّ (আন্না → যে)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
کَرَّۃً (কাররাতান → একটি সুযোগ/ফিরে যাওয়ার সুযোগ)
فَنَتَبَرَّاَ (ফানাতাবাররা → তাহলে আমরা সম্পর্কচ্ছেদ করতাম)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের থেকে)
کَمَا (কামা → যেমন)
تَبَرَّءُوۡا (তাবাররাঊ → সম্পর্কচ্ছেদ করেছে)
مِنَّا (মিন্না → আমাদের থেকে)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এভাবেই)
یُرِیۡہِمُ (ইউরীহিমু → আল্লাহ তাদের দেখাবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اَعۡمَالَہُمۡ (আ‘মা-লাহুম → তাদের কর্মসমূহ)
حَسَرٰتٍ (হাসারাতিন → অনুতাপ/দুঃখ)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের উপর)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
ہُمۡ (হুম → তারা)
بِخٰرِجِیۡنَ (বিখারিজীন → বের হতে পারবে)
مِنَ النَّارِ (মিনান-নারি → আগুন থেকে)
বাংলা অর্থ:
যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে: “যদি আমাদের আরেকবার সুযোগ থাকত, তাহলে আমরা তাদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করতাম যেমন তারা আমাদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে।” এভাবেই আল্লাহ তাদের কর্মগুলোকে তাদের জন্য অনুতাপের কারণ বানিয়ে দেখাবেন। আর তারা আগুন থেকে বের হতে পারবে না।
আয়াত – ১৬৮:
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
النَّاسُ (আন্নাসু → মানুষ)
کُلُوۡا (কুলূ → খাও)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
فِی (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
حَلٰلًا (হালালান → বৈধভাবে)
طَیِّبًا (তাইয়্যিবান → পবিত্র/ভাল)
وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَتَّبِعُوۡا (তাত্তাবি‘ঊ → অনুসরণ করো)
خُطُوٰتِ (খুতুওয়াতি → পদক্ষেপ/পথ)
الشَّیۡطٰنِ (আশ-শাইতান → কুমন্ত্রণাদাতা)
اِنَّہٗ (ইন্নাহু → নিশ্চয় সে)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَدُوٌّ (আদুউন → শত্রু)
مُّبِیۡنٌ (মুবীন → স্পষ্ট)
বাংলা অর্থ:
হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা থেকে হালাল (বৈধ) ও পবিত্র খাবার গ্রহণ করো এবং শয়তানের পথ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের স্পষ্ট শত্রু।
আয়াত – ১৬৯:
اِنَّمَا (ইন্নামা → শুধু/নিশ্চয়ই)
یَاۡمُرُکُمۡ (ইয়া’মুরুকুম → তোমাদের আদেশ দেয়)
بِالسُّوۡٓءِ (বিসসুউ → খারাপ কাজ)
وَالۡفَحۡشَآءِ (ওয়াল ফাহশা → অশ্লীলতা/অশোভন কাজ)
وَاَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → তোমরা বলো)
عَلَی اللّٰہِ (আলাল্লাহি → আল্লাহ সম্পর্কে)
مَا (মা → যা)
لَا (লা → না)
تَعۡلَمُوۡنَ (তা‘লামূন → তোমরা জানো)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদেরকে খারাপ কাজ, অশ্লীলতা এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলার নির্দেশ দেয় যা তোমরা জানো না।
আয়াত – ১৭০:
وَاِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
قِیۡلَ (কীলা → বলা হয়)
لَہُمُ (লাহুমু → তাদেরকে)
اتَّبِعُوۡا (ইত্তাবি‘ঊ → অনুসরণ করো)
مَاۤ (মা → যা)
اَنۡزَلَ (আনঝালা → নাযিল করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলে)
بَلۡ (বাল → বরং)
نَتَّبِعُ (নাত্তাবি‘ঊ → আমরা অনুসরণ করি)
مَاۤ (মা → যা)
اَلۡفَیۡنَا (আলফাইনা → আমরা পেয়েছি)
عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তার উপর)
اٰبَآءَنَا (আবাআনা → আমাদের পূর্বপুরুষদের)
اَوَلَوۡ (আওয়ালাও → যদিও)
کَانَ (কা-না → ছিল)
اٰبَآؤُہُمۡ (আবাউহুম → তাদের পূর্বপুরুষরা)
لَا (লা → না)
یَعۡقِلُوۡنَ (ইয়া‘কিলূন → বুঝত না/বুদ্ধি ব্যবহার করত না)
شَیۡئًا (শাইআন → কিছুই)
وَّلَا (ওয়া লা → এবং না)
یَہۡتَدُوۡنَ (ইয়াহতাদূন → সঠিক পথপ্রাপ্ত)
বাংলা অর্থ:
যখন তাদেরকে বলা হয়, “আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করো,” তখন তারা বলে, “না, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যেভাবে যার উপর পেয়েছি সেটাই অনুসরণ করব।” যদিও তাদের পূর্বপুরুষরা না বুদ্ধি ব্যবহার করত, না তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত (সঠিক পথপ্রাপ্ত)।
আয়াত – ১৭১:
وَمَثَلُ (ওয়া মাছালু → এবং উদাহরণ / মাশালা)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → কুফর/অবিশ্বাস করেছে)
کَمَثَلِ (কামাছালি → সেই ব্যক্তির মতো)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যে)
یَنۡعِقُ (ইয়ান‘ইকু → ডাক দেয়)
بِمَا (বিমা → তাকে যা)
لَا (লা → না)
یَسۡمَعُ (ইয়াসমা‘উ → শোনে)
اِلَّا (ইল্লা → শুধু)
دُعَآءً (দু‘আআন → ডাক)
وَّنِدَآءً (ওয়া নিদাআন → এবং আহ্বান)
صُمٌّۢ (সুম্মুন → বধির)
بُکۡمٌ (বুকমুন → বোবা)
عُمۡیٌ (উমইয়ুন → অন্ধ)
فَہُمۡ (ফাহুম → তাই তারা)
لَا (লা → না)
یَعۡقِلُوۡنَ (ইয়া‘কিলূন → বুদ্ধি ব্যবহার করে)
বাংলা অর্থ:
যারা কুফর (অবিশ্বাস) করেছে তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে এমন কিছুকে ডাকে যা শুধু হাক-ডাক ছাড়া কিছুই শোনেনা। তারাই বধির, বোবা ও অন্ধ—তাই তারা বুদ্ধি/আকল ব্যবহার করে না।
আয়াত – ১৭২:
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → ঈমান এনেছে)
کُلُوۡا (কুলূ → খাও)
مِنۡ (মিন → থেকে)
طَیِّبٰتِ (তাইয়্যিবাতি → পবিত্র/উত্তম জিনিস)
مَا (মা → যা)
رَزَقۡنٰکُمۡ (রাযাকনা-কুম → আমি তোমাদের রিজিক দিয়েছি)
وَاشۡکُرُوۡا (ওয়া শুকুরূ → এবং শুকর আদায় করো)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
اِنۡ (ইন → যদি)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
اِیَّاہُ (ইয়্যা-হু → শুধুমাত্র তাঁকেই)
تَعۡبُدُوۡنَ (তা‘বুদূন → দাসত্ব/ ইবাদত করো)
বাংলা অর্থ:
হে ঈমানদারগণ (বিশ্বাসীগণ)! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি তা থেকে খাও এবং আল্লাহর জন্য শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই দাসত্ব করে থাকো।
আয়াত – ১৭৩:
اِنَّمَا (ইন্নামা → শুধু)
حَرَّمَ (হাররামা → নিষিদ্ধ/হারাম করেছেন)
عَلَیۡکُمُ (‘আলাইকুমু → তোমাদের উপর)
الۡمَیۡتَۃَ (আল-মাইতাতা → মৃত প্রাণী/মৃত পশু)
وَالدَّمَ (ওয়াদ-দামা → এবং রক্ত)
وَلَحۡمَ (ওয়া লাহমা → এবং মাংস)
الۡخِنۡزِیۡرِ (আল-খিনজীরি → শূকর/অধিক নোংরা বা পচাঁ)
وَمَاۤ (ওয়া মা → এবং যা)
اُہِلَّ (উহিল্লা → উচ্চস্বরে ঘোষণা করে জবাই করা হয়েছে)
بِہٖ (বিহী → তার উপর/নামে)
لِغَیۡرِ اللّٰہِ (লিগাইরিল্লাহি → আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে)
فَمَنِ (ফামানি → তবে যে ব্যক্তি)
اضۡطُرَّ (ইদতুররা → বাধ্য হয়ে পড়ে)
غَیۡرَ بَاغٍ (গাইরা বা-গিন → অবাধ্য নয়)
وَّلَا عَادٍ (ওয়া লা ‘আদিন → এবং না সীমা অতিক্রমকারী)
فَلَاۤ (ফালা → তাহলে নেই)
اِثۡمَ (ইছমা → অপরাধ)
عَلَیۡہِ (‘আলাইহি → তার উপর)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
غَفُوۡرٌ (গাফূরুন → ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمٌ (রাহীম → দয়ালু)
বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তোমাদের উপর শুধু মৃত প্রাণী, রক্ত, অধিক নোংরা বা পচাঁ (শূকরের) মাংস এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা প্রাণী নিষিদ্ধ করেছেন। তবে যে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে পড়ে কিন্তু অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার উপর কোনো অপরাধ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত – ১৭৪:
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَکۡتُمُوۡنَ (ইয়াকতুমূন → গোপন করে)
مَاۤ (মা → যা)
اَنۡزَلَ (আনঝালা → নাযিল করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِنَ الۡکِتٰبِ (মিনাল কিতা-বি → কিতাব থেকে)
وَیَشۡتَرُوۡنَ (ওয়া ইয়াশতারূন → এবং ক্রয় করে/বদলে নেয়)
بِہٖ (বিহী → এর বিনিময়ে)
ثَمَنًا (ছামানান → সামান্য মূল্য)
قَلِیۡلًا (কালীলান → অল্প)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → এরাই)
مَا (মা → যা)
یَاۡکُلُوۡنَ (ইয়া’কুলূন → খায়)
فِیۡ بُطُوۡنِہِمۡ (ফী বুতূনিহিম → তাদের পেটে)
اِلَّا (ইল্লা → শুধু)
النَّارَ (আন্নারা → আগুন)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
یُکَلِّمُہُمُ (ইউকাল্লিমুহুমু → তাদের সাথে কথা বলবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমাল কিয়ামাহ → কিয়ামতের দিন)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
یُزَکِّیۡہِمۡ (ইউযাক্কীহিম → তাদের পবিত্র করবেন)
وَلَہُمۡ (ওয়া লাহুম → এবং তাদের জন্য)
عَذَابٌ (আযাবুন → শাস্তি)
اَلِیۡمٌ (আলীম → যন্ত্রণাদায়ক)
বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব গোপন করে এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া কিছুই খায় না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আয়াত – ১৭৫:
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → এরাই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اشۡتَرَوُا (ইশতারাউ → ক্রয় করেছে/বদলে নিয়েছে)
الضَّلٰلَۃَ (আদ-দালালাতা → ভ্রষ্টতা)
بِالۡہُدٰی (বিল হুদা → হেদায়েতের/পথনির্দেশের বিনিময়ে)
وَالۡعَذَابَ (ওয়াল ‘আযাবা → এবং শাস্তি)
بِالۡمَغۡفِرَۃِ (বিল মাগফিরাহ → ক্ষমার পরিবর্তে)
فَمَاۤ (ফামা → তাহলে কী)
اَصۡبَرَہُمۡ (আসবারা-হুম → তাদের কত ধৈর্য)
عَلَی النَّارِ (‘আলান-নারি → আগুনের উপর)
বাংলা অর্থ:
এরাই তারা, যারা হেদায়েতের বদলে ভ্রষ্টতা এবং ক্ষমার বদলে শাস্তি ক্রয় করেছে। তাহলে আগুনের উপর তাদের কী ভয়ংকর ধৈর্য।
