সূরা আল আনআম (الأنعام) | গৃহপালিত পশু
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৬৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-১০১ঃ

بَدِيعُ (বাদী‘উ → অতুলনীয় সৃষ্টিকর্তা)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহের)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং জমিনের)
اَنّٰى (আন্না → কীভাবে)
يَكُونُ (ইয়াকূনু → হতে পারে)
لَهٗ (লাহূ → তাঁর)
وَلَدٌ (ওয়ালাদুন → সন্তান)
وَّلَمۡ (ওয়া লাম → অথচ না)
تَكُنۡ (তাকুন → ছিল)
لَّهٗ (লাহূ → তাঁর)
صَاحِبَةٌ (সাহিবাতুন → কোনো সঙ্গিনী)
وَخَلَقَ (ওয়া খালাকা → এবং তিনি সৃষ্টি করেছেন)
كُلَّ (কুল্লা → প্রত্যেক)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → বস্তু)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
بِكُلِّ (বিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → বিষয় সম্পর্কে)
عَلِيمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের অতুলনীয় সৃষ্টিকর্তা। তাঁর কীভাবে সন্তান হতে পারে, অথচ তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই? তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে অবগত।


আয়াত-১০২ঃ

ذٰلِكُمُ (যালিকুমু → তিনিই)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
لَآ (লা → নেই)
اِلٰهَ (ইলাহা → কোনো বিধানদাতা)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
هُوَ (হুওয়া → তিনি)
خَالِقُ (খালিকু → সৃষ্টিকর্তা)
كُلِّ (কুল্লি → সব)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → কিছুর)
فَاعۡبُدُوهُ (ফা‘বুদূহু → অতএব তোমরা তাঁরই দাসত্ব করো)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
عَلٰى (আলা → ওপর)
كُلِّ (কুল্লি → সব)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → কিছুর)
وَّكِيلٌ (ওয়াকীলুন → কর্মবিধায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক। তিনি ছাড়া কোনো সত্য বিধানদাতা নেই। তিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। অতএব তোমরা তাঁরই দাসত্ব করো। আর তিনিই সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক।


আয়াত-১০৩ঃ

لَا (লা → না)
تُدۡرِكُهُ (তুদরিকুহু → তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে)
الۡاَبۡصَارُ (আল-আবসারু → দৃষ্টিসমূহ)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনি)
يُدۡرِكُ (ইউদরিকু → পরিবেষ্টন করেন)
الۡاَبۡصَارَ (আল-আবসারা → সকল দৃষ্টিকে)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
اللَّطِيفُ (আল-লাতীফু → সূক্ষ্মদর্শী)
الۡخَبِيرُ (আল-খাবীরু → সবকিছুর খবর রাখেন)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে না; কিন্তু তিনি সকল দৃষ্টিকে পূর্ণভাবে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর তিনিই অতি সূক্ষ্মদর্শী এবং তিনি সর্ব বিষয়ে অবগত।


আয়াত-১০৪ঃ

قَدۡ (কাদ → ইতোমধ্যে)
جَآءَكُمۡ (জা-আকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
بَصَآئِرُ (বাসা-ইরু → অন্তর্দৃষ্টি/সত্য দেখার উপায়)
مِنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّكُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালনকারীর)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
اَبۡصَرَ (আবসারা → উপলব্ধি করল)
فَلِنَفۡسِهٖ (ফালিনাফসিহী → তা তার নিজের জন্য)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
عَمِيَ (আমিয়া → অন্ধ রইল/ সত্য উপলব্ধি করল না)
فَعَلَيۡهَا (ফা‘আলাইহা → তার পরিণাম তার নিজের ওপরই)
وَمَآ (ওয়া মা → আর আমি নই)
اَنَا (আনা → আমি)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
بِحَفِيۡظٍ (বিহাফীয → রক্ষক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অবশ্যই তোমাদের পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অন্তর্দৃষ্টি ও সত্য উপলব্ধির উপায়সমূহ এসেছে। অতএব, যে সত্য দেখতে ও উপলব্ধি করতে পারে, তার উপকার তার নিজের জন্যই। আর যে অন্ধ থাকে ও সত্য উপলব্ধি করে না, তার ক্ষতি তার নিজের ওপরই বর্তায়। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো রক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক নই।


আয়াত-১০৫ঃ

وَكَذٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
نُصَرِّفُ (নুসাররিফু → আমরা বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করি)
الۡاٰيٰتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
وَلِيَقُولُوا (ওয়া লিয়াকূলূ → যাতে তারা বলে)
دَرَسۡتَ (দারাসতা → তুমি অধ্যয়ন করেছ)
وَلِنُبَيِّنَهٗ (ওয়া লিনুবাইয়িনাহু → এবং যাতে আমরা এটিকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করি)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য)
يَّعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → যারা জ্ঞান রাখে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এভাবেই আমরা আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) বিভিন্নভাবে উপস্থাপন ও সুস্পষ্ট করি, যাতে তারা বলতে পারে, “তুমি তো এগুলো অধ্যয়ন করে নিয়েছ।” আর যাতে আমরা এগুলো এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করি, যারা জ্ঞান রাখে ও উপলব্ধি করে।


আয়াত-১০৬ঃ

اِتَّبِعۡ (ইত্তাবি‘ → অনুসরণ করো)
مَا (মা → যা)
اُوۡحِیَ (ঊহিয়া → প্রত্যাদেশ করা হয়েছে)
اِلَيۡكَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
مِنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালনকারীর)
لَا (লা → নেই)
اِلٰهَ (ইলাহা → বিধানদাতা)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
هُوَ (হুওয়া → তিনি)
وَاَعۡرِضۡ (ওয়া আ‘রিদ → এবং মুখ ফিরিয়ে নাও)
عَنِ (আনিল → থেকে)
الۡمُشۡرِكِينَ (আল-মুশরিকীন → অংশীদার স্থাপনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমার পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ (ওহী) করা হয়েছে, তার অনুসরণ করো। তিনি ছাড়া কোনো সত্য বিধানদাতা নেই। আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।


আয়াত-১০৭ঃ

وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
شَآءَ (শা-আ → ইচ্ছা করতেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مَا (মা → তবে না)
اَشۡرَكُوا (আশরাকূ → অংশীদার স্থাপন করত)
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
جَعَلۡنٰكَ (জা‘আলনাকা → আমরা তোমাকে নিযুক্ত করেছি)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
حَفِيظًا (হাফীযান → রক্ষক)
وَمَا (ওয়া মা → আর নও)
اَنۡتَ (আন্তা → তুমি)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
بِوَكِيۡلٍ (বিওয়াকীল → কর্মবিধায়ক, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে তারা অংশীদার স্থাপন করত না। আর আমরা তোমাকে তাদের ওপর রক্ষাকারী করে নিযুক্ত করিনি। আর তুমি তাদের ওপর কোনো কর্মবিধায়ক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও নও।


আয়াত-১০৮ঃ

وَلَا (ওয়া লা → আর না)
تَسُبُّوا (তাসুব্বূ → গালি দিও/ অপমান করো)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَدۡعُونَ (ইয়াদ‘ঊনা → আহ্বান করে/ ডাকে)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُونِ (দূনি → বাদ দিয়ে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
فَيَسُبُّوا (ফাইয়াসুব্বূ → ফলে তারা গালি দেবে)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
عَدۡوًا (আদওয়ান → শত্রুতাবশত)
بِغَيۡرِ (বিগাইরি → ছাড়া)
عِلۡمٍ (ইলমিন → জ্ঞান)
كَذٰلِكَ (কাযালিকা → এভাবেই)
زَيَّنَّا (যাইয়ান্না → আমরা শোভনীয় করে দিয়েছি)
لِكُلِّ (লিকুল্লি → প্রত্যেক)
اُمَّةٍ (উম্মাতিন → সম্প্রদায়ের)
عَمَلَهُمۡ (আমালাহুম → তাদের কর্মকে)
ثُمَّ (ছুম্মা → এরপর)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
رَبِّهِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালনকারীর)
مَّرۡجِعُهُمۡ (মারজি‘উহুম → তাদের প্রত্যাবর্তন)
فَيُنَبِّئُهُمۡ (ফাইউনাব্বিউহুম → তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → যা সম্পর্কে)
كَانُوا (কানূ → তারা ছিল)
يَعۡمَلُونَ (ইয়া‘মালূন → কাজ করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমরা তাদের গালি দিও না, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের ডাকে। তাহলে তারা শত্রুতাবশত ও জ্ঞানহীনভাবে আল্লাহকেও গালি দেবে। এভাবেই আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের কর্মকে শোভনীয় করে দিয়েছি। এরপর তাদের প্রত্যাবর্তন তাদের প্রতিপালকের কাছেই। তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন তারা কী কাজ করত।


আয়াত-১০৯ঃ

وَاَقۡسَمُوا (ওয়া আকসামূ → তারা দৃঢ় শপথ করল)
بِاللّٰهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর নামে)
جَهۡدَ (জাহদা → সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার সঙ্গে)
اَيۡمَانِهِمۡ (আইমানিহিম → তাদের শপথসমূহ)
لَئِنۡ (লাইন → অবশ্যই যদি)
جَآءَتۡهُمۡ (জা-আতহুম → তাদের কাছে আসে)
اٰيَةٌ (আয়াতুন → নিদর্শন)
لَّيُؤۡمِنُنَّ (লাইউ’মিনুন্না → অবশ্যই তারা বিশ্বাস করবে)
بِهَا (বিহা → তাতে)
قُلۡ (কুল → বলো)
اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই কেবল)
الۡاٰيٰتُ (আল-আয়াতু → নিদর্শনসমূহ)
عِنۡدَ (ইনদা → কাছে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَمَا (ওয়া মা → আর কী)
يُشۡعِرُكُمۡ (ইউশ‘ইরুকুম → তোমাদের উপলব্ধি করাবে)
اَنَّهَآ (আন্নাহা → যে তা)
اِذَا (ইযা → যখন)
جَآءَتۡ (জা-আত → এসে যাবে)
لَا (লা → না)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → তারা বিশ্বাস করবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা আল্লাহর নামে অত্যন্ত জোর দিয়ে শপথ করল (জিহাদ) যে, যদি তাদের কাছে কোনো আয়াত (নিদর্শন) আসে, তবে তারা অবশ্যই তাতে বিশ্বাস করবে। বলো, “আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) তো একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।” আর কী তোমাদের এ কথা উপলব্ধি করাবে যে, আয়াত (নিদর্শন) এসে গেলেও তারা বিশ্বাস করবে না?


আয়াত-১১০ঃ

وَنُقَلِّبُ (ওয়া নুকাল্লিবু → আমরা পরিবর্তন করে দিই)
اَفۡـِٕدَتَهُمۡ (আফইদাতাহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
وَاَبۡصَارَهُمۡ (ওয়া আবসারাহুম → এবং তাদের দৃষ্টিসমূহ)
كَمَا (কামা → যেমন)
لَمۡ (লাম → না)
يُؤۡمِنُوا (ইউ’মিনূ → তারা বিশ্বাস করেছিল)
بِهٖ (বিহী → এতে)
اَوَّلَ (আওয়ালা → প্রথম)
مَرَّةٍ (মাররাতিন → বার)
وَنَذَرُهُمۡ (ওয়া নাযারুহুম → এবং আমরা তাদের ছেড়ে দিই)
فِىۡ (ফী → মধ্যে)
طُغۡيَانِهِمۡ (তুগইয়ানিহিম → তাদের অবাধ্যতা)
يَعۡمَهُونَ (ইয়া‘মাহূন → তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে পরিবর্তন করে দিই, যেমন তারা প্রথমবারই এতে বিশ্বাস করেনি। আর আমরা তাদের নিজেদের অবাধ্যতার মধ্যেই ছেড়ে দিই, ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে অন্ধের মতো ঘুরে বেড়ায়।


আয়াত-১১১ঃ

وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
اَنَّنَا (আন্নানা → আমরা অবশ্যই)
نَزَّلۡنَا (নাযযালনা → নাযিল করতাম)
اِلَيۡهِمُ (ইলাইহিম → তাদের কাছে)
الۡمَلٰٓئِكَةَ (আল-মালাইকাতা → ফেরেশতাদের)
وَكَلَّمَهُمُ (ওয়া কাল্লামাহুম → এবং তাদের সঙ্গে কথা বলত)
الۡمَوۡتٰى (আল-মাওতা → মৃতরা)
وَحَشَرۡنَا (ওয়া হাশারনা → এবং আমরা সমবেত করতাম)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের সামনে)
كُلَّ (কুল্লা → প্রত্যেক)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → বস্তু)
قُبُلًا (কুবুলান → তাদের সামনে প্রত্যক্ষভাবে)
مَا (মা → তবুও না)
كَانُوا (কানূ → তারা হতো)
لِيُؤۡمِنُوا (লিইউ’মিনূ → বিশ্বাসকারী)
اِلَّآ (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
اَنۡ (আন → যে)
يَّشَآءَ (ইয়াশা-আ → ইচ্ছা করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَلٰكِنَّ (ওয়া লাকিন্না → কিন্তু)
اَكۡثَرَهُمۡ (আকছারাহুম → তাদের অধিকাংশ)
يَجۡهَلُونَ (ইয়াজহালূন → জানে না)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি আমরা তাদের কাছে ফেরেশতাদের নাযিল করতাম, মৃতরা তাদের সঙ্গে কথা বলত, এবং আমরা সকল জিনিস তাদের চোখের সামনে হাজির করে দিতাম, তবুও তারা বিশ্বাস করত না—যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করতেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।


আয়াত-১১২ঃ

وَكَذٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
جَعَلۡنَا (জা‘আলনা → আমরা নির্ধারণ করেছি)
لِكُلِّ (লিকুল্লি → প্রত্যেক)
نَبِىٍّ (নাবিয়্যিন → সংবাদবাহক)
عَدُوًّا (আদুওওয়ান → শত্রু)
شَيٰطِينَ (শাইয়াতীনা → কুমন্ত্রণাদাতার)
الۡاِنۡسِ (আল-ইনসি → মানুষের)
وَالۡجِنِّ (ওয়াল-জিন্নি → অদৃশ্য সত্তাদের)
يُوحِى (ইউহী → গোপনে প্ররোচনা দেয়)
بَعۡضُهُمۡ (বা‘দুহুম → তাদের একদল)
اِلٰى (ইলা → কাছে)
بَعۡضٍ (বা‘দিন → অন্যদের)
زُخۡرُفَ (যুখরুফা → চাকচিক্যময় অলংকার, বাহারি সাজ)
الۡقَوۡلِ (আল-কাওলি → কথার)
غُرُورًا (গুরূরান → বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
شَآءَ (শা-আ → ইচ্ছা করতেন)
رَبُّكَ (রাব্বুকা → তোমার প্রতিপালনকারী)
مَا (মা → তবে না)
فَعَلُوهُ (ফা‘আলূহু → তারা তা করতে পারত)
فَذَرۡهُمۡ (ফাযারহুম → সুতরাং তাদের ছেড়ে দাও)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
يَفۡتَرُونَ (ইয়াফতারূন → তারা মিথ্যা উদ্ভাবন করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এভাবেই আমরা প্রত্যেক বার্তাবাহকের (নবীদের) জন্য মানুষ ও জ্বীনদের মধ্য থেকে কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) নির্ধারণ করেছি। তাদের একদল অন্যদলকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে চাকচিক্যময় কথা গোপনে পৌঁছে দেয়। আর যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন, তবে তারা তা করতে পারত না। সুতরাং তাদের এবং তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তা ছেড়ে দাও।


আয়াত-১১৩ঃ

وَلِتَصۡغٰٓى (ওয়া লিতাসগা → যাতে আকৃষ্ট হয়)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তার প্রতি)
اَفۡـِٕدَةُ (আফইদাতু → অন্তরসমূহ)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَا (লা → না)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূনা → বিশ্বাস করে)
بِالۡاٰخِرَةِ (বিল-আখিরাতি → পরকালের জীবনে)
وَلِيَرۡضَوۡهُ (ওয়া লিইয়ারদাওহু → এবং যাতে তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়)
وَلِيَقۡتَرِفُوا (ওয়া লিইয়াকতারিফূ → এবং যাতে তারা অর্জন)
مَا (মা → যা)
هُمۡ (হুম → তারা)
مُّقۡتَرِفُونَ (মুকতারিফূন → অর্জনকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এজন্য পরকালের জীবনে বিশ্বাস না করা লোকদের অন্তর, তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তারা তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং তারা যা অর্জনকারী, তাই অর্জন করতে থাকে।


আয়াত-১১৪ঃ

اَفَغَيۡرَ (আফাগাইরা → তবে কি অন্যকে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
اَبۡتَغِي (আবতাগী → আমি অনুসন্ধান করব)
حَكَمًا (হাকামান → বিচারক / ফয়সালাকারী)
وَّهُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তিনিই)
الَّذِيۡ (আল্লাযী → যিনি)
اَنۡزَلَ (আনযালা → নাযিল করেছেন)
اِلَيۡكُمُ (ইলাইকুম → তোমাদের প্রতি)
الۡكِتٰبَ (আল-কিতাবা → বিধানগ্রন্থ)
مُفَصَّلًا (মুফাসসালান → বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাকৃত)
وَالَّذِيۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
اٰتَيۡنٰهُمُ (আতাইনাহুম → আমরা দিয়েছি তাদেরকে)
الۡكِتٰبَ (আল-কিতাবা → বিধানগ্রন্থ)
يَعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূনা → তারা জানে)
اَنَّهٗ (আন্নাহু → যে এটি)
مُنَزَّلٌ (মুনাযযালুন → নাযিলকৃত)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালনকারীর)
بِالۡحَقِّ (বিল-হাক্কি → সত্যের ভিত্তিতে)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَكُونَنَّ (তাকূনান্না → তুমি অবশ্যই হবে)
مِنَ (মিনা → মধ্যে)
الۡمُمۡتَرِيۡنَ (আল-মুমতারীন → সন্দেহকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে কি আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাকৃত বিধানগ্রন্থ নাযিল করেছেন। আর যাদেরকে আমরা বিধানগ্রন্থ দিয়েছি, তারা জানে যে এটি তোমার প্রতিপালনকারীর পক্ষ থেকে সত্যসহ নাযিলকৃত। সুতরাং তুমি কখনোই সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।


আয়াত-১১৫ঃ

وَتَمَّتۡ (ওয়া তাম্মাত → পূর্ণ হয়েছে)
كَلِمَتُ (কালিমাতু → বাণী)
رَبِّكَ (রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালনকারীর)
صِدۡقًا (সিদকান → সত্যরূপে)
وَّعَدۡلًا (ওয়া আদলান → এবং ন্যায়রূপে)
لَا (লা → নেই)
مُبَدِّلَ (মুবাদ্দিলা → পরিবর্তনকারী)
لِكَلِمٰتِهِۦ (লিকালিমাতিহী → তাঁর বাণীগুলোর)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
السَّمِيعُ (আস-সামীউ → সর্বশ্রোতা)
الۡعَلِيمُ (আল-আলীম → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায়ের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁর বাণীগুলো পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


আয়াত-১১৬ঃ

وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تُطِعۡ (তুতি‘ → তুমি অনুসরণ করো)
اَكۡثَرَ (আকছারা → অধিকাংশকে)
مَنۡ (মান → যারা)
فِى (ফিল → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
يُضِلُّوكَ (ইউদিল্লূকা → তারা তোমাকে পথভ্রষ্ট করবে)
عَنۡ (আন → থেকে)
سَبِيۡلِ (সাবীলি → পথ)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اِنۡ (ইন → কেবল)
يَّتَّبِعُونَ (ইয়াত্তাবি‘ঊনা → তারা অনুসরণ করে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
الظَّنَّ (আয-যান্না → অনুমান)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর না)
هُمۡ (হুম → তারা)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
يَخۡرُصُونَ (ইয়াখরুসূন → মনগড়া কথা বলে/ অনুমানভিত্তিক কথা বানায়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা কেবল অনুমানই অনুসরণ করে, আর তারা শুধু মনগড়া কথাই বলে।


আয়াত-১১৭ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালক)
هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → সর্বাধিক জানেন)
مَنۡ (মান → কে)
يَّضِلُّ (ইয়াদিল্লু → পথভ্রষ্ট হয়)
عَنۡ (আন → থেকে)
سَبِيۡلِهٖ (সাবীলিহী → তাঁর পথ)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → সর্বাধিক জানেন)
بِالۡمُهۡتَدِيۡنَ (বিল-মুহতাদীন → সঠিক পথপ্রাপ্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই সর্বাধিক জানেন, কে তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট হয়, আর তিনিই সঠিক পথপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সর্বাধিক অবগত।


আয়াত-১১৮ঃ

فَكُلُوا (ফাকুলূ → অতএব তোমরা খাও)
مِمَّا (মিম্মা → তা থেকে যা)
ذُكِرَ (যুকিরা → স্মরণ করা হয়েছে)
اسۡمُ (ইসমু → নাম)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَيۡهِ (আলাইহি → তার ওপর)
اِنۡ (ইন → যদি)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হয়ে থাকো)
بِاٰيٰتِهٖ (বি-আয়াতিহী → তাঁর নিদর্শনসমূহে)
مُؤۡمِنِينَ (মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতএব, তোমরা তাই খাও, যার উপর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়েছে, যদি তোমরা তাঁর আয়াতসমূহে (নিদর্শনসমূহে) একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হয়ে থাকো।


আয়াত-১১৯ঃ

وَمَا (ওয়া মা → আর কী)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اَلَّا (আল্লা → যে না)
تَأۡكُلُوا (তা’কুলূ → তোমরা খাবে)
مِمَّا (মিম্মা → তা থেকে যা)
ذُكِرَ (যুকিরা → স্মরণ করা হয়েছে)
اسۡمُ (ইসমু → নাম)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
عَلَيۡهِ (আলাইহি → তার ওপর)
وَقَدۡ (ওয়া কাদ → অথচ অবশ্যই)
فَصَّلَ (ফাসসালা → বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
مَا (মা → যা)
حَرَّمَ (হাররামা → নিষিদ্ধ করেছেন)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতীত)
مَا (মা → যা)
اضۡطُرِرۡتُمۡ (ইদতুরিরতুম → তোমরা বাধ্য হয়েছ)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তার প্রতি)
وَاِنَّ (ওয়া ইন্না → আর নিশ্চয়ই)
كَثِيرًا (কাছীরান → অনেকেই)
لَّيُضِلُّونَ (লাইউদিল্লূনা → অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে)
بِاَهۡوَآئِهِمۡ (বি-আহওয়াইহিম → তাদের খেয়াল-খুশি / প্রবৃত্তির মাধ্যমে)
بِغَيۡرِ (বিগাইরি → ছাড়া)
عِلۡمٍ (ইলমিন → জ্ঞান)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালক)
هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → সর্বাধিক জানেন)
بِالۡمُعۡتَدِينَ (বিল-মু‘তাদীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা তা থেকে খাও না, যার উপর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়েছে? অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন কী কী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে—তবে যা গ্রহণে তোমরা বাধ্য হও, তা ব্যতিক্রম। আর নিশ্চয়ই অনেকেই জ্ঞান ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।


আয়াত-১২০ঃ

وَذَرُوا (ওয়া যারূ → পরিত্যাগ করো)
ظَاهِرَ (যাহিরা → প্রকাশ্য)
الۡاِثۡمِ (আল-ইছমি → পাপ)
وَبَاطِنَهٗ (ওয়া বাতিনাহূ → এবং তার গোপন অংশ)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَكۡسِبُونَ (ইয়াকসিবূনা → অর্জন করে)
الۡاِثۡمَ (আল-ইছমা → পাপ)
سَيُجۡزَوۡنَ (ছাইউজঝাওনা → অচিরেই প্রতিফল পাবে)
بِمَا (বিমা → তার কারণে যা)
كَانُوا (কা-নূ → তারা ছিল)
يَقۡتَرِفُونَ (ইয়াকতারিফূন → অপরাধ অর্জন করছিল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমরা প্রকাশ্য পাপ এবং গোপন পাপ—উভয়ই পরিত্যাগ করো। নিশ্চয়ই যারা পাপ অর্জন করে, তারা তাদের কৃতকর্মের যথাযথ প্রতিফল অচিরেই পাবে।


আয়াত-১২১ঃ

পূর্ণ বাংলা অর্থ:


আয়াত-১২২ঃ

পূর্ণ বাংলা অর্থ:


আয়াত-১২৩ঃ

পূর্ণ বাংলা অর্থ:


আয়াত-১২৪ঃ

পূর্ণ বাংলা অর্থ:


আয়াত-১২৫ঃ

পূর্ণ বাংলা অর্থ: