সূরা আল আনআম (الأنعام) | গৃহপালিত পশু
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৬৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-২৬ঃ

وَهُمۡ (ওয়া হুম → আর তারা)
يَنۡهَوۡنَ (ইয়ানহাওনা → বাধা দেয়)
عَنۡهُ (আনহু → তা থেকে)
وَيَنۡـَٔوۡنَ (ওয়া ইয়ানআওনা → নিজেরাও দূরে সরে যায়)
عَنۡهُ (আনহু → তা থেকে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → অথচ)
يُّهۡلِكُوۡنَ (ইউহলিকূনা → ধ্বংস করে)
اِلَّاۤ (ইল্লা → কেবল)
اَنۡفُسَهُمۡ (আনফুসাহুম → নিজেদেরকেই)
وَمَا (ওয়া মা → কিন্তু না)
يَشۡعُرُوۡنَ (ইয়াশউরূন → তারা উপলব্ধি করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা মানুষকে এ থেকে বাধা দেয় এবং নিজেরাও এ থেকে দূরে সরে যায়। অথচ তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেই ধ্বংস করছে না, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।


আয়াত-২৭ঃ

وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
تَرٰى (তারা → আপনি দেখতেন)
اِذۡ (ইয → যখন)
وُقِفُوۡا (উকিফূ → দাঁড় করানো হবে)
عَلَى (আলা → সামনে)
النَّارِ (আন-নারি → আগুন)
فَقَالُوۡا (ফাকালূ → তখন তারা বলবে)
يٰلَيۡتَنَا (ইয়া লাইতানা → হায়! যদি আমরা)
نُرَدُّ (নুরাদ্দু → ফিরিয়ে দেওয়া হতাম)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
نُكَذِّبَ (নুকাযযিবা → মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম)
بِاٰيٰتِ (বি-আয়াতি → নিদর্শনসমূহকে)
رَبِّنَا (রাব্বিনা → আমাদের পালনকর্তার)
وَنَكُوۡنَ (ওয়া নাকূনা → এবং হয়ে যেতাম)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُؤۡمِنِيۡنَ (আল-মু’মিনীন → একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি আপনি দেখতেন, যখন তাদেরকে আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে। তখন তারা বলবে, “হায়! যদি আমাদের আবার ফিরিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে আমরা আমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) আর মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।”


আয়াত-২৮ঃ

بَلۡ (বাল → বরং)
بَدَا (বাদা → প্রকাশ পেয়ে গেছে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের কাছে)
مَّا (মা → যা)
كَانُوۡا (কানূ → তারা)
يُخۡفُوۡنَ (ইউখফূন → গোপন করত)
مِنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلُ (কাবলু → আগে)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
رُدُّوۡا (রুদ্দূ → তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো)
لَعَادُوۡا (লাআদূ → তবে তারা অবশ্যই ফিরে যেত)
لِمَا (লিমা → সেই কাজে, যা থেকে)
نُهُوۡا (নুহূ → তাদের নিষেধ করা হয়েছিল)
عَنۡهُ (আনহু → তা থেকে)
وَاِنَّهُمۡ (ওয়া ইন্নাহুম → আর নিশ্চয়ই তারা)
لَكٰذِبُوۡنَ (লাকাযিবূন → অবশ্যই মিথ্যাবাদী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বরং তারা আগে যা গোপন করে রাখত, তা তাদের কাছে প্রকাশ পেয়ে গেছে। আর যদি তাদের আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেওয়া হতো, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজেই ফিরে যেত, যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আর নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।


আয়াত-২৯ঃ

وَقَالُوۡا (ওয়া কালূ → আর তারা বলল)
اِنۡ (ইন → নয়)
هِيَ (হিয়া → এটি)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
حَيَاتُنَا (হায়াতুনা → আমাদের জীবন)
الدُّنۡيَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব জগতের)
وَمَا (ওয়া মা → এবং না)
نَحۡنُ (নাহনু → আমরা)
بِمَبۡعُوۡثِيۡنَ (বিমাবঊসীন → পুনরুত্থিত হব)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা বলে, “এ পার্থিব জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমরা কখনোই পুনরুত্থিত হব না।”


আয়াত-৩০ঃ

وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
تَرٰى (তারা → আপনি দেখতেন)
اِذۡ (ইয → যখন)
وُقِفُوۡا (উকিফূ → দাঁড় করানো হবে)
عَلٰى (আলা → সামনে)
رَبِّهِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
قَالَ (কালা → বলবেন)
اَلَيۡسَ (আলাইসা → এ কি নয়?)
هٰذَا (হাযা → এটি)
بِالۡحَقِّ (বিল-হাক্কি → সত্য)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলবে)
بَلٰى (বালা → অবশ্যই হ্যাঁ)
وَرَبِّنَا (ওয়া রাব্বিনা → আমাদের প্রতিপালকের শপথ)
قَالَ (কালা → তিনি বলবেন)
فَذُوۡقُوا (ফাযূকূ → সুতরাং স্বাদ গ্রহণ করো)
الۡعَذَابَ (আল-আযাবা → শাস্তি)
بِمَا (বিমা → কারণ)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা)
تَكۡفُرُوۡنَ (তাকফুরূন → অবিশ্বাস করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি আপনি দেখতেন, যখন তাদেরকে তাদের পালনকর্তার সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেন, “এ কি সত্য নয়?” তারা বলবে, “অবশ্যই হ্যাঁ, আমাদের পালনকর্তার শপথ!” তিনি বলবেন, “তাহলে তোমরা যে অবিশ্বাস করতে, তার কারণে এখন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।”


আয়াত-৩১ঃ

قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
خَسِرَ (খাসিরা → ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে)
الَّذِيۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَذَّبُوۡا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِلِقَآءِ (বিলিকাঈ → সাক্ষাৎকে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
حَتّٰى (হাত্তা → এমনকি)
اِذَا (ইযা → যখন)
جَآءَتۡهُمُ (জাআতহুমু → তাদের কাছে এসে যাবে)
السَّاعَةُ (আস-সা’আতু → চূড়ান্ত সময়)
بَغۡتَةً (বাগতাতান → হঠাৎ)
قَالُوۡا (কালূ → তারা বলবে)
يٰحَسۡرَتَنَا (ইয়া হাসরাতানা → হায়! আমাদের আফসোস)
عَلٰى (আলা → এজন্য)
مَا (মা → যা)
فَرَّطۡنَا (ফাররাতনা → আমরা অবহেলা করেছি)
فِيۡهَا (ফীহা → এতে)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → আর তারা)
يَحۡمِلُوۡنَ (ইয়াহমিলূন → বহন করবে)
اَوۡزَارَهُمۡ (আওযারাহুম → তাদের পাপের বোঝা)
عَلٰى (আলা → উপর)
ظُهُوۡرِهِمۡ (যুহূরিহিম → তাদের পিঠ)
اَلَا (আলা → জেনে রাখো)
سَآءَ (সাআ → কতই না নিকৃষ্ট)
مَا (মা → যা)
يَزِرُوۡنَ (ইয়াযিরূন → তারা বহন করছে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অবশ্যই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। এমনকি যখন হঠাৎ তাদের কাছে কিয়ামত এসে যাবে, তখন তারা বলবে, “হায়! এ ব্যাপারে আমরা যে অবহেলা করেছি, তার জন্য কত আফসোস!” আর তারা নিজেদের পিঠে নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে। জেনে রাখো, তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট।


আয়াত-৩২ঃ

وَمَا (ওয়া মা → আর নয়)
الۡحَيٰوةُ (আল-হায়াতু → জীবন)
الدُّنۡيَا (আদ-দুনইয়া → পার্থিব জগতের)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
لَعِبٌ (লা‘ইবুন → খেল-তামাশা)
وَّلَهۡوٌ (ওয়া লাহউন → ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিনোদন)
وَلَ (ওয়া লা → আর অবশ্যই)
الدَّارُ (আদ-দারু → আবাস)
الۡاٰخِرَةُ (আল-আখিরাতু → পরকাল)
خَيۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
لِّلَّذِيۡنَ (লিল্লাযীনা → তাদের জন্য, যারা)
يَتَّقُوۡنَ (ইয়াত্তাকূন → খোদাভীরু হয়)
اَفَلَا (আফালা → তবে কি না?)
تَعۡقِلُوۡنَ (তা‘কিলূন → তোমরা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর পার্থিব জীবন খেল-তামাশা ও ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিনোদন ছাড়া আর কিছুই নয়। আর পরকালের আবাস খোদাভীরুদের জন্য অনেক উত্তম। তবে কি তোমরা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করবে না?


আয়াত-৩৩ঃ

قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
نَعۡلَمُ (না‘লামু → আমরা জানি)
اِنَّهٗ (ইন্নাহু → নিশ্চয়ই এটি)
لَيَحۡزُنُكَ (লাইয়াহযুনুকা → আপনাকে দুঃখ দেয়)
الَّذِيۡ (আল্লাযী → যা)
يَقُوۡلُوۡنَ (ইয়াকূলূন → তারা বলে)
فَاِنَّهُمۡ (ফাইন্নাহুম → কারণ নিশ্চয়ই তারা)
لَا (লা → না)
يُكَذِّبُوۡنَكَ (ইউকাযযিবূনাকা → আপনাকে মিথ্যাবাদী মনে করে)
وَلٰكِنَّ (ওয়ালাকিন্না → বরং)
الظّٰلِمِيۡنَ (আয-যালিমীন → অবিচারকারীরা / অন্যায়কারীরা)
بِاٰيٰتِ (বি-আয়াতি → নিদর্শনসমূহকে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
يَجۡحَدُوۡنَ (ইয়াজহাদূন → অস্বীকার করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অবশ্যই আমরা জানি, তারা যা বলে তা আপনাকে দুঃখ দেয়। কিন্তু বাস্তবে তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী মনে করে না; বরং অবিচারকারীরা (যালিমরা) আল্লাহর আয়াতসমূহকেই (নিদর্শনসমূহকেই) অস্বীকার করে।


আয়াত-৩৪ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → অবশ্যই)
كُذِّبَتۡ (কুযযিবাত → মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে)
رُسُلٌ (রুসুলুন → বার্তাবাহকগণ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلِكَ (কাবলিকা → আপনার পূর্বে)
فَصَبَرُوۡا (ফাসাবারূ → তাই তারা ধৈর্য ধারণ করেছে)
عَلٰى (আলা → ওপর)
مَا (মা → যা)
كُذِّبُوۡا (কুযযিবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছিল)
وَاُوۡذُوۡا (ওয়া ঊযূ → এবং কষ্ট দেওয়া হয়েছিল)
حَتّٰى (হাত্তা → অবশেষে)
اَتٰىهُمۡ (আতাহুম → তাদের কাছে এসেছে)
نَصۡرُنَا (নাসরুনা → আমাদের সাহায্য)
وَلَا (ওয়া লা → আর নেই)
مُبَدِّلَ (মুবাদ্দিলা → পরিবর্তনকারী)
لِكَلِمٰتِ (লিকালিমাতি → বাণীসমূহের)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → আর অবশ্যই)
جَآءَكَ (জাআকা → আপনার কাছে এসেছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
نَّبَاِ (নাবাই → সংবাদ)
الۡمُرۡسَلِيۡنَ (আল-মুরসালীন → প্রেরিত বার্তাবাহকদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবশ্যই আপনার পূর্বেও বহু বার্তাবাহককে (রাসূলকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তারপরও তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়া এবং কষ্ট দেওয়ার পর ধৈর্য ধারণ করেছে, যতক্ষণ না তাদের কাছে আমাদের সাহায্য এসেছে। আল্লাহর বাণীসমূহের (কালিমাসমূহের) পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর অবশ্যই প্রেরিত বার্তাবাহকদের কিছু সংবাদ আপনার কাছেও এসে পৌঁছেছে।


আয়াত-৩৫ঃ

وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
كَانَ (কানা → হয়)
كَبُرَ (কাবুরা → খুব কঠিন মনে হয়)
عَلَيۡكَ (আলাইকা → আপনার কাছে)
اِعۡرَاضُهُمۡ (ই‘রাদুহুম → তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া)
فَاِنِ (ফাইনি → তবে যদি)
اسۡتَطَعۡتَ (ইস্তাতাতা → আপনি সক্ষম হন)
اَنۡ (আন → যে)
تَبۡتَغِيَ (তাবতাগিয়া → খুঁজে নিতে)
نَفَقًا (নাফাকান → সুড়ঙ্গ)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
اَوۡ (আও → অথবা)
سُلَّمًا (সুল্লামান → সিঁড়ি)
فِي (ফী → মধ্যে)
السَّمَآءِ (আস-সামাই → আকাশ)
فَتَاۡتِيَهُمۡ (ফাতাতিয়াহুম → তারপর তাদের কাছে নিয়ে আসতে)
بِاٰيَةٍ (বি-আয়াতিন → একটি নিদর্শন)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
شَآءَ (শাআ → ইচ্ছা করতেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَجَمَعَهُمۡ (লাজামা‘আহুম → তবে অবশ্যই তাদের একত্র করতেন)
عَلَى (আলা → ওপর)
الۡهُدٰى (আল-হুদা → সঠিক পথনির্দেশ)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَكُوۡنَنَّ (তাকূনান্না → আপনি হবেন)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡجٰهِلِيۡنَ (আল-জাহিলীন → অবিবেচকদের/অজ্ঞদের/মূর্খসুলভ আচরণকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আপনার কাছে খুব কঠিন মনে হয়, তবে যদি পৃথিবীর মধ্যে কোনো সুড়ঙ্গ বা আকাশে ওঠার কোনো সিঁড়ি খুঁজে নিয়ে আপনি তাদের কাছে একটি নিদর্শন আনতে সক্ষম হন, তবে আনুন। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে অবশ্যই তাদের সবাইকে সঠিক পথনির্দেশের (হুদার) ওপর একত্র করতেন। সুতরাং আপনি কিছুতেই মূর্খসুলভ আচরণকারীদের (জাহিলদের) অন্তর্ভুক্ত হবেন না।


আয়াত-৩৬ঃ

اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
يَسۡتَجِيۡبُ (ইয়াস্তাজীবু → সাড়া দেয়)
الَّذِيۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَسۡمَعُوۡنَ (ইয়াসমাঊন → মনোযোগ দিয়ে শোনে)
وَالۡمَوۡتٰى (ওয়াল-মাওতা → মৃতরা)
يَبۡعَثُهُمُ (ইয়াবআসুহুম → তাদের পুনরুত্থিত করবেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তাঁর কাছেই)
يُرۡجَعُوۡنَ (ইউরজাঊন → ফিরিয়ে আনা হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই কেবল তারাই মানতে পারে, যারা মনোযোগ দিয়ে শোনে। আর মৃতদের আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন, তারপর তাঁর কাছেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।


আয়াত-৩৭ঃ

وَقَالُوۡا (ওয়া কালূ → আর তারা বলল)
لَوۡلَا (লাওলা → কেন নয়)
نُزِّلَ (নুযযিলা → নাযিল করা হয়)
عَلَيۡهِ (আলাইহি → তার ওপর)
اٰيَةٌ (আয়াতুন → একটি নিদর্শন)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّهِ (রাব্বিহি → তার পালনকর্তার)
قُلۡ (কুল → বলুন)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
قَادِرٌ (কাদিরুন → সর্বশক্তিমান)
عَلٰى (আলা → ওপর)
اَنۡ (আন → যে)
يُّنَزِّلَ (ইউনাযযিলা → নাযিল করতে)
اٰيَةً (আয়াতান → একটি নিদর্শন)
وَلٰكِنَّ (ওয়ালাকিন্না → কিন্তু)
اَكۡثَرَهُمۡ (আকছারাহুম → তাদের অধিকাংশ)
لَا (লা → না)
يَعۡلَمُوۡنَ (ইয়ালামূন → জানে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা বলে, “তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার ওপর কেন একটি আয়াত (নিদর্শন) নাযিল করা হয় না?” বলুন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি নিদর্শন নাযিল করতে সর্বশক্তিমান; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।”


আয়াত-৩৮ঃ

وَمَا (ওয়া মা → আর নেই)
مِنۡ (মিন → কোনো)
دَآبَّةٍ (দাব্বাতিন → বিচরণকারী প্রাণী)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
طٰٓئِرٍ (তায়িরিন → উড়ন্ত পাখি)
يَّطِيۡرُ (ইয়াতীরু → উড়ে)
بِجَنَاحَيۡهِ (বিজানাহাইহি → তার দুই ডানায়)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
اُمَمٌ (উমামুন → বিভিন্ন সম্প্রদায়)
اَمۡثَالُكُمۡ (আমছালুকুম → তোমাদের মতো)
مَا (মা → না)
فَرَّطۡنَا (ফাররাতনা → আমরা বাদ দিয়েছি)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡكِتٰبِ (আল-কিতাবি → বিধানগ্রন্থে)
مِنۡ (মিন → কোনো)
شَيۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
رَبِّهِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের পালকর্তার)
يُحۡشَرُوۡنَ (ইউহশারূন → একত্রিত করা হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর নেই পৃথিবীতে বিচরণকারী কোনো প্রাণী কিংবা নিজ দুই ডানায় উড়ন্ত কোনো পাখি, যারা তোমাদের মতো বিভিন্ন প্রকার সম্প্রদায়। আমরা বিধানগ্রন্থে কোনো বিষয়ই বাদ দিইনি। তারপর তাদের সবাইকে তাদের প্রতিপালকের কাছেই একত্রিত করা হবে।


আয়াত-৩৯ঃ

وَالَّذِيۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَذَّبُوۡا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِاٰيٰتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
صُمٌّ (সুম্মুন → বধির)
وَّبُكۡمٌ (ওয়া বুকমুন → বোবা)
فِي (ফী → মধ্যে)
الظُّلُمٰتِ (আয-যুলুমাতি → অন্ধকারসমূহ)
مَنۡ (মান → যাকে)
يَّشَاِ (ইয়াশাই → আল্লাহ ইচ্ছা করেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
يُضۡلِلۡهُ (ইউদলিলহু → তাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যাকে)
يَّشَاۡ (ইয়াশা → তিনি ইচ্ছা করেন)
يَجۡعَلۡهُ (ইয়াজআলহু → তাকে স্থাপন করেন)
عَلٰى (আলা → ওপর)
صِرَاطٍ (সিরাতিন → পথ)
مُّسۡتَقِيۡمٍ (মুস্তাকীম → সরল ও সঠিক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তারা অন্ধকারে বধির ও বোবা হয়ে রয়েছে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন, আর যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সরল ও সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত করেন।


আয়াত-৪০ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اَرَءَيۡتَكُمۡ (আরাআইতাকুম → তোমরা কি ভেবে দেখেছ)
اِنۡ (ইন → যদি)
اَتٰىكُمۡ (আতাকুম → তোমাদের কাছে আসে)
عَذَابُ (আযাবু → শাস্তি)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
اَوۡ (আও → অথবা)
اَتَتۡكُمُ (আতাতকুমু → তোমাদের কাছে এসে যায়)
السَّاعَةُ (আস-সা’আতু → চূড়ান্ত সময়)
اَغَيۡرَ (আগাইরা → ছাড়া অন্য)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
تَدۡعُوۡنَ (তাদঊন → তোমরা আহ্বান করবে)
اِنۡ (ইন → যদি)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হও)
صٰدِقِيۡنَ (সাদিকীন → সত্যবাদী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহর শাস্তি তোমাদের কাছে আসে অথবা চুড়ান্ত সময় এসে যায়, তবে কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আহ্বান করবে—যদি তোমরা সত্যবাদী হও?”


আয়াত-৪১ঃ

بَلۡ (বাল → বরং)
اِيَّاهُ (ইয়্যাহু → একমাত্র তাঁকেই)
تَدۡعُوۡنَ (তাদঊন → তোমরা আহ্বান কর)
فَيَكۡشِفُ (ফাইয়াকশিফু → তখন তিনি দূর করে দেন)
مَا (মা → যা)
تَدۡعُوۡنَ (তাদঊন → তোমরা আহ্বান করো)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তাঁর কাছে)
اِنۡ (ইন → যদি)
شَآءَ (শাআ → তিনি ইচ্ছা করেন)
وَتَنۡسَوۡنَ (ওয়া তানসাওনা → আর তোমরা ভুলে যাও)
مَا (মা → যাদেরকে)
تُشۡرِكُوۡنَ (তুশরিকূন → শরীক করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বরং তোমরা একমাত্র তাঁকেই (আল্লাহকেই) আহ্বান কর। তারপর তিনি ইচ্ছা করলে যে বিপদ দূর করার জন্য তোমরা তাকে আহ্বান করো, তা দূর করে দেন। আর তখন তোমরা যাদেরকে তাঁর অংশী করতে, তাদেরকে ভুলে যাবে।


আয়াত-৪২ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → অবশ্যই)
اَرۡسَلۡنَاۤ (আরসালনা → আমরা প্রেরণ করেছি)
اِلٰۤى (ইলা → প্রতি)
اُمَمٍ (উমামিন → বিভিন্ন সম্প্রদায়)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
قَبۡلِكَ (কাবলিকা → আপনার পূর্বে)
فَاَخَذۡنٰهُمۡ (ফাআখাযনাহুম → অতঃপর আমরা তাদেরকে পাকড়াও করেছি)
بِالۡبَاۡسَآءِ (বিল-বাসাঈ → কঠিন দুর্দশা দিয়ে)
وَالضَّرَّآءِ (ওয়াদ-দাররাঈ → দুঃখ-কষ্ট দিয়ে)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَتَضَرَّعُوۡنَ (ইয়াতাদাররা‘ঊন → বিনীতভাবে নতি স্বীকার করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবশ্যই আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে আমরা বার্তাবাহক প্রেরণ করেছি। অতঃপর আমরা তাদেরকে কঠিন দুর্দশা ও দুঃখ-কষ্ট দিয়ে পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনীতভাবে নত স্বীকার করে।


আয়াত-৪৩ঃ

فَلَوۡلَاۤ (ফালাওলা → অতঃপর কেন নয়)
اِذۡ (ইয → যখন)
جَآءَهُمۡ (জাআহুম → তাদের কাছে এসেছিল)
بَاۡسُنَا (বা’সুনা → আমাদের কঠিন শাস্তি)
تَضَرَّعُوۡا (তাদাররা‘ঊ → তারা বিনীতভাবে নতি স্বীকার করল)
وَلٰكِنۡ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
قَسَتۡ (কাসাত → কঠিন হয়ে গেল)
قُلُوۡبُهُمۡ (কুলূবুহুম → তাদের অন্তরসমূহ)
وَزَيَّنَ (ওয়া ঝাইয়ানা → আর শোভন করে দেখিয়েছে)
لَهُمُ (লাহুম → তাদের কাছে)
الشَّيۡطٰنُ (আশ-শাইতানু → কুমন্ত্রণাদাতা)
مَا (মা → যা)
كَانُوۡا (কানূ → তারা)
يَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া‘মালূন → করে আসছিল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন তাদের কাছে আমাদের কঠিন শাস্তি এসেছিল, তখন তারা কেন বিনীতভাবে নত স্বীকার করল না? কিন্তু তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল, আর কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) তাদের কাছে তাদের কাজগুলোকে শোভনীয় করে দেখিয়েছিল।


আয়াত-৪৪ঃ

فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
نَسُوۡا (নাসূ → তারা ভুলে গেল)
مَا (মা → যা)
ذُكِّرُوۡا (যুক্কিরূ → তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল)
بِهٖ (বিহী → তা দ্বারা)
فَتَحۡنَا (ফাতাহনা → আমরা খুলে দিলাম)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের জন্য)
اَبۡوَابَ (আবওয়াবা → দরজাসমূহ)
كُلِّ (কুল্লি → সকল)
شَيۡءٍ (শাইয়িন → বস্তুর)
حَتّٰى (হাত্তা → অবশেষে যখন)
اِذَا (ইযা → যখন)
فَرِحُوۡا (ফারিহূ → তারা আনন্দিত হলো)
بِمَا (বিমা → যা)
اُوۡتُوۡا (ঊতূ → তাদের দেওয়া হয়েছিল)
اَخَذۡنٰهُمۡ (আখাযনাহুম → আমরা তাদের পাকড়াও করলাম)
بَغۡتَةً (বাগতাতান → আকস্মিকভাবে)
فَاِذَا (ফাইযা → তখন হঠাৎ)
هُمۡ (হুম → তারা)
مُّبۡلِسُوۡنَ (মুবলিসূন → হতাশ হয়ে পড়ল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন তারা সেই উপদেশ ভুলে গেল যা তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা তাদের জন্য সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তারা প্রাপ্ত বিষয় নিয়ে আনন্দে মেতে উঠল, তখন আমরা হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম। আর তখনই তারা সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ল।


আয়াত-৪৫ঃ

فَقُطِعَ (ফাকুতি‘আ → অতঃপর সম্পূর্ণ নির্মূল করা হলো)
دَابِرُ (দাবিরু → শেষ চিহ্ন / মূল শিকড়)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সেই সম্প্রদায়ের)
الَّذِيۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
ظَلَمُوۡا (জালামূ → অন্যায় করেছে / জুলুম করেছে)
وَالۡحَمۡدُ (ওয়াল-হামদু → আর সকল প্রশংসা)
لِلّٰهِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
رَبِّ (রাব্বি → প্রতিপালক)
الۡعٰلَمِيۡنَ (আল-আলামীন → সমগ্র জগতসমূহের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যারা অত্যাচার (যুলুম) করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শেষ চিহ্নও নির্মূল করে দেওয়া হলো। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমগ্র জগতসমূহের প্রতিপালক।


আয়াত-৪৬ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اَرَءَيۡتُمۡ (আরাআইতুম → তোমরা কি ভেবে দেখেছ)
اِنۡ (ইন → যদি)
اَخَذَ (আখাযা → কেড়ে নেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
سَمۡعَكُمۡ (সাম‘আকুম → তোমাদের শ্রবণশক্তি)
وَاَبۡصَارَكُمۡ (ওয়া আবসারাকুম → এবং তোমাদের দৃষ্টিশক্তি)
وَخَتَمَ (ওয়া খাতামা → এবং মোহর করে দেন)
عَلٰى (আলা → ওপর)
قُلُوۡبِكُمۡ (কুলূবিকুম → তোমাদের অন্তরসমূহ)
مَّنۡ (মান → কে)
اِلٰهٌ (ইলাহুন → উপাস্য)
غَيۡرُ (গাইরু → ব্যতীত)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
يَاۡتِيۡكُمۡ (ইয়াতীকুম → তোমাদের ফিরিয়ে দিতে পারে)
بِهٖ (বিহী → তা)
اُنۡظُرۡ (উনযুর → দেখুন)
كَيۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
نُصَرِّفُ (নুসাররিফু → আমরা বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করি)
الۡاٰيٰتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপরও)
هُمۡ (হুম → তারা)
يَصۡدِفُوۡنَ (ইয়াসদিফূন → মুখ ফিরিয়ে নেয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে সীলগালা (খতম) করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কে উপাস্য আছে, যে তা তোমাদের ফিরিয়ে দিতে পারে?” দেখুন, আমরা কীভাবে বিভিন্ন আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) উপস্থাপন করি, তারপরও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।


আয়াত-৪৭ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اَرَءَيۡتَكُمۡ (আরাআইতাকুম → তোমরা কি ভেবে দেখেছ)
اِنۡ (ইন → যদি)
اَتٰىكُمۡ (আতাকুম → তোমাদের কাছে আসে)
عَذَابُ (আযাবু → শাস্তি)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
بَغۡتَةً (বাগতাতান → আকস্মিকভাবে)
اَوۡ (আও → অথবা)
جَهۡرَةً (জাহরাতান → প্রকাশ্যে)
هَلۡ (হাল → তবে কি)
يُهۡلَكُ (ইউহলাকু → ধ্বংস করা হয়)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
الۡقَوۡمُ (আল-কাওমু → সেই সম্প্রদায়)
الظّٰلِمُوۡنَ (আয-জালিমূন → অত্যাচারীরা / জালিমরা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহর শাস্তি তোমাদের উপর আকস্মিকভাবে অথবা প্রকাশ্যে এসে পড়ে, তবে অত্যাচারী (যালিম) সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কাউকে কি ধ্বংস করা হবে?”


আয়াত-৪৮ঃ

وَمَا (ওয়া মা → আর না)
نُرۡسِلُ (নুরসিলু → আমরা প্রেরণ করি)
الۡمُرۡسَلِيۡنَ (আল-মুরসালীন → বার্তাবাহকদের)
اِلَّا (ইল্লা → কেবল)
مُبَشِّرِيۡنَ (মুবাশশিরীন → সুসংবাদদানকারী)
وَمُنۡذِرِيۡنَ (ওয়া মুনযিরীন → সতর্ককারী)
فَمَنۡ (ফামান → অতএব যে)
اٰمَنَ (আমানা → বিশ্বাস করেছে)
وَاَصۡلَحَ (ওয়া আসলাহা → এবং নিজেদের সংশোধন করেছে)
فَلَا (ফালা → তবে না)
خَوۡفٌ (খাওফুন → কোনো ভয়)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
هُمۡ (হুম → তারা)
يَحۡزَنُوۡنَ (ইয়াহযানূন → দুঃখিত হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা বার্তাবাহকদের (রাসূলদের) কেবল সুসংবাদদানকারী ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি। অতএব, যারা বিশ্বাস করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।


আয়াত-৪৯ঃ

وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
كَذَّبُوا (কাযযাবূ → মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
بِاٰيٰتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহকে)
يَمَسُّهُمُ (ইয়ামাস্সুহুমু → তাদের স্পর্শ করবে)
الۡعَذَابُ (আল-আযাবু → শাস্তি)
بِمَا (বিমা → কারণ)
كَانُوا (কানূ → তারা)
يَفۡسُقُونَ (ইয়াফসুকূন → অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা আমাদের আয়তসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের কারণে শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে।


আয়াত-৫০ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
لَّاۤ (লা → না)
اَقُوۡلُ (আকূলু → আমি বলি)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদেরকে)
عِنۡدِيۡ (ইনদী → আমার কাছে)
خَزَآئِنُ (খাযাইনু → ভাণ্ডারসমূহ (রহমতের/ রিজিকের/ সম্পদের)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَلَاۤ (ওয়া লা → এবং না)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → আমি জানি)
الۡغَيۡبَ (আল-গাইব → অদৃশ্য বিষয়)
وَلَاۤ (ওয়া লা → এবং না)
اَقُوۡلُ (আকূলু → আমি বলি)
لَكُمۡ (লাকুম → তোমাদেরকে)
اِنِّيۡ (ইন্নী → আমি)
مَلَكٌ (মালাকুন → ফেরেশতা)
اِنۡ (ইন → আমি শুধু)
اَتَّبِعُ (আত্তাবি‘উ → অনুসরণ করি)
اِلَّا (ইল্লা → কেবল)
مَا (মা → যা)
يُوۡحٰۤى (ইউহা → প্রত্যাদেশ করা হয়)
اِلَيَّ (ইলাইইয়া → আমার প্রতি)
قُلۡ (কুল → বলুন)
هَلۡ (হাল → কী)
يَسۡتَوِي (ইয়াসতাওয়ী → সমান হতে পারে)
الۡاَعۡمٰى (আল-আ‘মা → অন্ধ)
وَالۡبَصِيۡرُ (ওয়াল-বাসীরু → চক্ষুষ্মান)
اَفَلَا (আফালা → তবে কি না)
تَتَفَكَّرُوۡنَ (তাতাফাক্কারূন → তোমরা চিন্তা কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ (দয়া/অনুগ্রহ, রিযিক/সম্পদ ইত্যাদির ভান্ডার) আছে। আর আমি অদৃশ্য বিষয়ও জানি না। আমি এটাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমি কেবল সেই ওহীরই (প্রত্যাদেশেরই) অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়।” বলুন, “অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তবে কি তোমরা চিন্তা-ভাবনা করবে না?”