সূরা আল আনআম (الأنعام) | গৃহপালিত পশু
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৬৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-৫১ঃ

وَاَنۡذِرۡ (ওয়া আনযির → আর সতর্ক করুন)
بِهِ (বিহী → এর মাধ্যমে / এ (কুরআন) দ্বারা)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَخَافُونَ (ইয়াখাফূন → ভয় করে)
اَنۡ (আন → যে)
يُّحۡشَرُوا (ইউহশারূ → একত্রিত করা হবে)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
رَبِّهِمۡ (রাব্বিহিম → তাদের প্রতিপালকের)
لَيۡسَ (লাইসা → নেই)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
دُونِهِ (দূনিহী → তিনি ছাড়া)
وَلِيٌّ (ওয়ালিয়্যুন → অভিভাবক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
شَفِيعٌ (শাফী‘উন → সুপারিশকারী)
لَّعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَتَّقُونَ (ইয়াত্তাকূন → খোদাভীরু হয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর -এর মাধ্যমে (ওহীর মাধ্যমে) তাদের সতর্ক করুন, যারা ভয় করে যে তাদের প্রতিপালকের সামনে একত্রিত করা হবে। তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই, যাতে তারা খোদাভীরু হয়।


আয়াত-৫২ঃ

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَطۡرُدِ (তাতরুদি → তাড়িয়ে দিন)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَدۡعُونَ (ইয়াদ‘ঊনা → আহ্বান করে)
رَبَّهُمۡ (রাব্বাহুম → তাদের প্রতিপালককে)
بِالۡغَدٰوةِ (বিল-গাদাতি → সকালবেলায়)
وَالۡعَشِيِّ (ওয়াল-আশিয়্যি → সন্ধ্যাবেলায়)
يُرِيدُونَ (ইউরীদূন → তারা কামনা করে)
وَجۡهَهُ (ওয়াজহাহূ → তাঁর সন্তুষ্টি / তাঁর সান্নিধ্য)
مَا (মা → নয়)
عَلَيۡكَ (আলাইকা → আপনার ওপর)
مِنۡ (মিন → কোনো)
حِسَابِهِمۡ (হিসাবিহিম → তাদের হিসাবের)
مِنۡ (মিন → কোনো)
شَيۡءٍ (শাইয়িন → অংশ)
وَّمَا (ওয়া মা → এবং নয়)
مِنۡ (মিন → কোনো)
حِسَابِكَ (হিসাবিকা → আপনার হিসাবের)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
مِنۡ (মিন → কোনো)
شَيۡءٍ (শাইয়িন → অংশ)
فَتَطۡرُدَهُمۡ (ফাতাতরুদাহুম → ফলে আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন)
فَتَكُونَ (ফাতাকূনা → তখন আপনি হয়ে যাবেন)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الظّٰلِمِينَ (আয-জালিমীন → অত্যাচারীদের/ জালিমদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা সকাল এবং সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে, তাঁর সান্নিধ্য কামনা করে, তাদের তাড়িয়ে দেবেন না। তাদের হিসাবের কোনো দায়িত্ব আপনার উপর নেই এবং আপনার হিসাবের কোনো দায়িত্বও তাদের উপর নেই। সুতরাং যদি আপনি তাদের তাড়িয়ে দেন, তবে আপনি অবাধ্যদের (জালিমদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।


আয়াত-৫৩ঃ

وَكَذٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
فَتَنَّا (ফাতান্না → আমরা পরীক্ষা করেছি)
بَعۡضَهُمۡ (বা‘দাহুম → তাদের একদলকে)
بِبَعۡضٍ (বিবা‘দিন → অন্য একদলের মাধ্যমে)
لِّيَقُولُوا (লিইয়াকূলূ → যাতে তারা বলে)
اَهٰۤؤُلَآءِ (আহাউলাঈ → এরা কি সেই লোক)
مَنَّ (মান্না → অনুগ্রহ করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَلَيۡهِمۡ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
بَيۡنِنَا (বাইনিনা → আমাদের মধ্য থেকে)
اَلَيۡسَ (আলাইসা → তবে কি নন?)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِاَعۡلَمَ (বি-আ‘লামা → সর্বাধিক অবগত)
بِالشّٰكِرِينَ (বিশ-শাকিরীন → কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এভাবেই আমরা তাদের একদলকে অন্য একদলের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে, “আমাদের মধ্য থেকে এদের প্রতিই কি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন?” আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের (শুকরিয়াকারীদের) সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত নন?


আয়াত-৫৪ঃ

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
جَآءَكَ (জাআকা → আপনার কাছে আসে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → বিশ্বাস করে)
بِاٰيٰتِنَا (বি-আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহে)
فَقُلۡ (ফাকুল → তখন বলুন)
سَلٰمٌ (সালামুন → শান্তি)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
كَتَبَ (কাতাবা → নির্ধারণ করেছেন)
رَبُّكُمۡ (রাব্বুকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
عَلٰى (আলা → নিজের ওপর)
نَفۡسِهِ (নাফসিহী → নিজের জন্য)
الرَّحۡمَةَ (আর-রাহমাতা → দয়া)
اَنَّهٗ (আন্নাহূ → নিশ্চয়ই তিনি)
مَنۡ (মান → যে)
عَمِلَ (আমিলা → করেছে)
مِنۡكُمۡ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
سُوۡٓءًا (সূআন → মন্দ কাজ)
بِجَهَالَةٍ (বিজাহালাতিন → অজ্ঞতাবশত)
ثُمَّ (ছুম্মা → এরপর)
تَابَ (তাবা → ফিরে এসেছে / ক্ষমা চেয়েছে)
مِنۡۢ (মিন → থেকে)
بَعۡدِهِ (বা‘দিহী → এরপর)
وَاَصۡلَحَ (ওয়া আসলাহা → এবং নিজেকে সংশোধন করেছে)
فَاَنَّهٗ (ফাআন্নাহূ → তবে নিশ্চয়ই তিনি)
غَفُورٌ (গাফূরুন → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِيمٌ (রাহীমুন → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন আমাদের আয়াতসমূহে (নিদর্শনসমূহে) বিশ্বাসীরা আপনার কাছে আসে, তখন বলুন, “তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক (ছালা-মুন ‘আলাইকুম)।” তোমাদের প্রতিপালক নিজের উপর দয়া (রহমত) অবধারিত করে নিয়েছেন। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত কোনো মন্দ কাজ করে, তারপর তার পর সে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, তবে নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-৫৫ঃ

وَكَذٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
نُفَصِّلُ (নুফাসসিলু → আমরা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি)
الۡاٰيٰتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
وَلِتَسۡتَبِينَ (ওয়ালিতাস্তাবীনা → যাতে সুস্পষ্ট হয়ে যায়)
سَبِيلُ (সাবীলু → পথ)
الۡمُجۡرِمِينَ (আল-মুজরিমীন → অপরাধীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এভাবেই আমরা আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়।


আয়াত-৫৬ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اِنِّيۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
نُهِيتُ (নুহীতু → নিষেধ করা হয়েছি)
اَنۡ (আন → যে)
اَعۡبُدَ (আ‘বুদা → দাসত্ব করি)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদেরকে)
تَدۡعُونَ (তাদ‘ঊনা → তোমরা আহ্বান কর)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُونِ (দূনি → ব্যতীত)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
قُلۡ (কুল → বলুন)
لَّاۤ (লা → না)
اَتَّبِعُ (আত্তাবি‘উ → আমি অনুসরণ করি)
اَهۡوَآءَكُمۡ (আহওয়াআকুম → তোমাদের প্রবৃত্তি / খেয়াল-খুশি)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
ضَلَلۡتُ (দালালতু → আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম)
اِذًا (ইযান → তাহলে)
وَّمَا (ওয়া মা → এবং আমি নই)
اَنَا (আনা → আমি)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُهۡتَدِينَ (আল-মুহতাদীন → সঠিক পথপ্রাপ্তদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “নিশ্চয়ই আমাকে নিষেধ করা হয়েছে যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ডাকো, তাদের দাসত্ব করি।” বলুন, “আমি তোমাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করি না। যদি তা করতাম, তবে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম এবং সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকতাম না।”


আয়াত-৫৭ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اِنِّيۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
عَلٰى (আলা → উপর)
بَيِّنَةٍ (বাইয়্যিনাতিন → সুস্পষ্ট প্রমাণ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
رَّبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
وَكَذَّبۡتُمۡ (ওয়া কাযযাবতুম → আর তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছ)
بِهِ (বিহী → এটিকে)
مَا (মা → নেই)
عِنۡدِيۡ (ইনদী → আমার কাছে)
مَا (মা → যা)
تَسۡتَعۡجِلُونَ (তাসতা‘জিলূন → তোমরা তাড়াতাড়ি চাইছ)
بِهِ (বিহী → তা)
اِنِ (ইন → নয়)
الۡحُكۡمُ (আল-হুকমু → ফয়সালা / আদেশ)
اِلَّا (ইল্লা → কেবল)
لِلّٰهِ (লিল্লাহি → আল্লাহর)
يَقُصُّ (ইয়াকুস্সু → তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন / চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করেন)
الۡحَقَّ (আল-হাক্কা → সত্য)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
خَيۡرُ (খাইরু → সর্বোত্তম)
الۡفٰصِلِينَ (আল-ফাসিলীন → ফয়সালাকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “নিশ্চয়ই আমি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি, অথচ তোমরা তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছ। যে বিষয়টি তোমরা তাড়াতাড়ি চাচ্ছো, তা আমার কাছে নেই। ফয়সালা একমাত্র আল্লাহরই। তিনি সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন এবং তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।”


আয়াত-৫৮ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
لَّوۡ (লাও → যদি)
اَنَّ (আন্না → নিশ্চয়)
عِنۡدِيۡ (ইনদী → আমার কাছে)
مَا (মা → যা)
تَسۡتَعۡجِلُونَ (তাসতা‘জিলূন → তোমরা তাড়াতাড়ি চাইছ)
بِهِ (বিহী → তা)
لَقُضِيَ (লাকুদিয়া → অবশ্যই নিষ্পত্তি হয়ে যেত)
الۡاَمۡرُ (আল-আমরু → বিষয়)
بَيۡنِيۡ (বাইনী → আমার মধ্যে)
وَبَيۡنَكُمۡ (ওয়া বাইনাকুম → এবং তোমাদের মধ্যে)
وَاللّٰهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
اَعۡلَمُ (আ‘লামু → সর্বাধিক অবগত)
بِالظّٰلِمِينَ (বিজ-জালিমীন → অবাধ্যদের সম্পর্কে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “যদি তোমরা যে বিষয়টি তাড়াতাড়ি চাইছ তা আমার কাছে থাকত, তবে আমার ও তোমাদের মধ্যকার বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যেত। আর আল্লাহ অবাধ্যদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।”


আয়াত-৫৯ঃ

وَعِنۡدَهٗ (ওয়া ‘ইনদাহূ → আর তাঁর কাছেই)
مَفَاتِحُ (মাফাতিহু → চাবিসমূহ)
الۡغَيۡبِ (আল-গাইবি → অদৃশ্য বিষয়ের)
لَا (লা → না)
يَعۡلَمُهَا (ইয়া‘লামুহা → তা জানে)
اِلَّا (ইল্লা → কেবল)
هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
وَيَعۡلَمُ (ওয়া ইয়া‘লামু → আর তিনি জানেন)
مَا (মা → যা কিছু)
فِي (ফী → আছে)
الۡبَرِّ (আল-বাররি → স্থলভাগে)
وَالۡبَحۡرِ (ওয়াল-বাহরি → এবং সমুদ্রে)
وَمَا (ওয়া মা → আর কোনো)
تَسۡقُطُ (তাসকুতু → ঝরে পড়ে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
وَّرَقَةٍ (ওয়ারাকাতিন → গাছের পাতা)
اِلَّا (ইল্লা → কিন্তু)
يَعۡلَمُهَا (ইয়া‘লামুহা → তিনি তা জানেন)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
حَبَّةٍ (হাব্বাতিন → দানা / বীজ)
فِي (ফী → মধ্যে)
ظُلُمٰتِ (যুলুমাতি → অন্ধকারসমূহ)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবীর)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
رَطۡبٍ (রাতবিন → সজীব)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
يَابِسٍ (ইয়াবিসিন → শুষ্ক)
اِلَّا (ইল্লা → কিন্তু)
فِي (ফী → রয়েছে)
كِتٰبٍ (কিতাবিন → লিপিবদ্ধ গ্রন্থে)
مُّبِينٍ (মুবীনিন → সুস্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাঁর কাছেই রয়েছে অদৃশ্য বিষয়ের (গায়েবের) সমস্ত চাবিকাঠি; তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। তিনি জানেন স্থলভাগে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে। এমন কোনো গাছের পাতা ঝরে না, যা তিনি তা জানেন না। পৃথিবীর অন্ধকারের মধ্যে কোনো দানা, কোনো সজীব বা কোনো শুষ্ক বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ নেই।


আয়াত-৬০ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
يَتَوَفّٰىكُمۡ (ইয়াতাওয়াফ্ফাকুম → তিনি তোমাদের সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেন। (রাতে ঘুমের মাধ্যমে)
بِالَّيۡلِ (বিল্লাইলি → রাতে)
وَيَعۡلَمُ (ওয়া ইয়া‘লামু → আর তিনি জানেন)
مَا (মা → যা)
جَرَحۡتُمۡ (জারাহতুম → তোমরা অর্জন করেছ)
بِالنَّهَارِ (বিন্নাহারি → দিনে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
يَبۡعَثُكُمۡ (ইয়াব‘আছুকুম → তিনি তোমাদের পুনরায় জাগিয়ে তোলেন)
فِيهِ (ফীহি → তাতে)
لِيُقۡضٰى (লিইউকদা → যাতে পূর্ণ হয়)
اَجَلٌ (আজালুন → সময়সীমা)
مُّسَمًّى (মুসাম্মান → নির্ধারিত)
ثُمَّ (ছুম্মা → এরপর)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তাঁর কাছেই)
مَرۡجِعُكُمۡ (মারজি‘উকুম → তোমাদের প্রত্যাবর্তন)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
يُنَبِّئُكُمۡ (ইউনাব্বিউকুম → তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন)
بِمَا (বিমা → যা সম্পর্কে)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَعۡمَلُونَ (তা‘মালূন → কাজ করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই, যিনি রাত্রিবেলা তোমাদের মৃত্যু দেন (গ্রহণ করেন) এবং দিনে তোমরা যা অর্জন কর তা জানেন। তারপর তিনি দিনে তোমাদের পুনরায় জাগিয়ে তোলেন, যাতে নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হয়। এরপর তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন, তোমরা কী কাজ করতে।


আয়াত-৬১ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الۡقَاهِرُ (আল-কাহিরু → সর্বময় কর্তৃত্বশালী / শাস্তিদানে কঠোর)
فَوۡقَ (ফাওকা → ঊর্ধ্বে)
عِبَادِهِۦ (ইবাদিহী → তাঁর বান্দাদের)
وَيُرۡسِلُ (ওয়া ইউরসিলু → এবং তিনি প্রেরণ করেন)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
حَفَظَةً (হাফাযাতান → রক্ষাকারী)
حَتّٰى (হাত্তা → অবশেষে যখন)
اِذَا (ইযা → যখন)
جَآءَ (জাআ → এসে যায়)
اَحَدَكُمُ (আহাদাকুম → তোমাদের কারও)
الۡمَوۡتُ (আল-মাওতু → মৃত্যু)
تَوَفَّتۡهُ (তাওয়াফ্ফাতহু → প্রাণ গ্রহণ করে/জান কবজ করে)
رُسُلُنَا (রুসুলুনা → আমাদের প্রেরিতগণ)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → আর তারা)
لَا (লা → না)
يُفَرِّطُونَ (ইউফাররিতূন → কোনো অবহেলা করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই তাঁর বান্দাদের প্রতি শাস্তিদানে কঠোর। তিনি তোমাদের উপর রক্ষাকারীদের প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন তোমাদের কারও মৃত্যু এসে যায়, তখন আমাদের প্রেরিতগণ (রসূলগণ/ফেরেস্তাগণ) তার প্রাণ পূর্ণরূপে গ্রহণ করেন এবং তারা কোনো অবহেলা বা ত্রুটি করেন না।


আয়াত-৬২ঃ

ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
رُدُّوۡا (রুদ্দূ → ফিরিয়ে নেওয়া হবে)
اِلَى (ইলা → কাছে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
مَوۡلٰىهُمُ (মাওলাহুম → তাদের প্রকৃত কর্তৃত্বশালী/প্রভু)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্য)
اَلَا (আলা → জেনে রাখো)
لَهُ (লাহু → তাঁরই)
الۡحُكۡمُ (আল-হুকমু → ফয়সালা)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
اَسۡرَعُ (আসরা‘উ → সর্বাধিক দ্রুত)
الۡحٰسِبِينَ (আল-হাসিবীন → হিসাব গ্রহণকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারপর তাদেরকে তাদের প্রকৃত সত্য প্রভু (মাওলানা) আল্লাহর কাছেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে। জেনে রাখো, ফয়সালা একমাত্র তাঁরই। আর তিনিই সর্বাধিক দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


আয়াত-৬৩ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
مَنۡ (মান → কে)
يُنَجِّيكُمۡ (ইউনাজ্জীকুম → তোমাদের উদ্ধার করে)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
ظُلُمٰتِ (যুলুমাতি → অন্ধকারসমূহ)
الۡبَرِّ (আল-বাররি → স্থলভাগের)
وَالۡبَحۡرِ (ওয়াল-বাহরি → এবং সমুদ্রের)
تَدۡعُونَهٗ (তাদ‘ঊনাহূ → তোমরা তাঁকেই আহ্বান কর)
تَضَرُّعًا (তাদাররু‘আন → কাকুতি-মিনতি করে)
وَّخُفۡيَةً (ওয়া খুফইয়াতান → এবং গোপনে)
لَئِنۡ (লাইন → যদি সত্যিই)
اَنۡجٰىنَا (আনজানা → তিনি আমাদের উদ্ধার করেন)
مِنۡ (মিন → থেকে)
هٰذِهٖ (হাযিহী → এই বিপদ)
لَنَكُونَنَّ (লানাকূনান্না → তবে অবশ্যই আমরা হয়ে যাব)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الشّٰكِرِينَ (আশ-শাকিরীন → কৃতজ্ঞদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহ থেকে তোমাদের কে উদ্ধার করে? তখন তোমরা তাঁকেই বিনীতভাবে ও গোপনে আহ্বান করে বলো, ‘যদি তিনি আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের (শুকরিয়াকারীদের) অন্তর্ভুক্ত হব।’”


আয়াত-৬৪ঃ

قُلِ (কুল → বলুন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
يُنَجِّيكُمۡ (ইউনাজ্জীকুম → তোমাদের উদ্ধার করেন)
مِّنۡهَا (মিনহা → তা থেকে)
وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং থেকে)
كُلِّ (কুল্লি → সকল)
كَرۡبٍ (কারবিন → সংকট / দুর্দশা)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
تُشۡرِكُونَ (তুশরিকূন → অংশীদার স্থির কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “আল্লাহই তোমাদের তা থেকে এবং সকল সংকট থেকে উদ্ধার করেন। তারপরও তোমরা তাঁর সঙ্গে অংশীদার স্থির কর।”


আয়াত-৬৫ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
هُوَ (হুওয়া → তিনিই)
الۡقَادِرُ (আল-কাদিরু → সর্বশক্তিমান)
عَلٰى (আলা → সক্ষম)
اَنۡ (আন → যে)
يَّبۡعَثَ (ইয়াব‘আছা → প্রেরণ করতে)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
فَوۡقِكُمۡ (ফাওকিকুম → তোমাদের ওপর দিক থেকে)
اَوۡ (আও → অথবা)
مِنۡ (মিন → থেকে)
تَحۡتِ (তাহতি → নিচে)
اَرۡجُلِكُمۡ (আরজুলিকুম → তোমাদের পায়ের তলা)
اَوۡ (আও → অথবা)
يَلۡبِسَكُمۡ (ইয়ালবিসাকুম → তোমাদের বিভ্রান্ত করে দিতে)
شِيَعًا (শিয়া‘আন → বিভিন্ন দলে)
وَّيُذِيقَ (ওয়া ইউযীকা → এবং আস্বাদন করাতে)
بَعۡضَكُمۡ (বা‘দাকুম → তোমাদের এক অংশকে)
بَاۡسَ (বা’সা → সংঘর্ষ)
بَعۡضٍ (বা‘দিন → অপর অংশের)
اُنۡظُرۡ (উনযুর → দেখুন)
كَيۡفَ (কাইফা → কীভাবে)
نُصَرِّفُ (নুসাররিফু → আমরা বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করি)
الۡاٰيٰتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَفۡقَهُونَ (ইয়াফকাহূন → গভীরভাবে অনুধাবন করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “তিনিই সর্বশক্তিমান—তিনি চাইলে তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে শাস্তি প্রেরণ করতে পারেন; অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে এক দলকে অন্য দলের সংঘর্ষের স্বাদ আস্বাদন করাতে পারেন।” দেখুন, আমরা কীভাবে নিদর্শনসমূহ বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করি, যাতে তারা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারে।


আয়াত-৬৬ঃ

وَكَذَّبَ (ওয়া কাযযাবা → এবং মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করা)
بِهِۦ (বিহী → এটিকে)
قَوۡمُكَ (কাওমুকা → আপনার সম্প্রদায়)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ এটি)
الۡحَقُّ (আল-হাক্কু → সত্য)
قُلۡ (কুল → বলুন)
لَّسۡتُ (লাসতু → আমি নই)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
بِوَكِيلٍ (বিওয়াকীলিন → দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আপনার সম্প্রদায় এটিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, অথচ এটিই সত্য। বলুন, “আমি তোমাদের ওপর কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক নই।”


আয়াত-৬৭ঃ

لِكُلِّ (লিকুল্লি → প্রত্যেকটির জন্য)
نَبَاٍ (নাবাইন → সংবাদ ও ঘোষণা)
مُّسۡتَقَرٌّ (মুস্তাকাররুন → নির্ধারিত সময় ও পরিণতি)
وَّسَوۡفَ (ওয়া সাওফা → আর অচিরেই)
تَعۡلَمُونَ (তা‘লামূন → তোমরা জানতে পারবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও ঘোষণার একটি নির্ধারিত সময় ও পরিণতি রয়েছে। আর অচিরেই তোমরা তা জানতে পারবে।


আয়াত-৬৮ঃ

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
رَاَيۡتَ (রা’আইতা → আপনি দেখেন)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَخُوضُونَ (ইয়াখূদূন → অর্থহীন তর্কে লিপ্ত হয়)
فِي (ফী → সম্পর্কে)
اٰيٰتِنَا (আয়াতিনা → আমাদের নিদর্শনসমূহ)
فَاَعۡرِضۡ (ফা-আ‘রিদ → তখন এড়িয়ে চলুন)
عَنۡهُمۡ (আনহুম → তাদের থেকে)
حَتّٰى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يَخُوضُوا (ইয়াখূদূ → তারা আলোচনা করে)
فِي (ফী → অন্য)
حَدِيثٍ (হাদীছিন → কথাবার্তায় / হাদিসে)
غَيۡرِهِۦ (গাইরিহী → এটি ছাড়া অন্য)
وَاِمَّا (ওয়া ইম্মা → আর যদি)
يُنسِيَنَّكَ (ইউনসিয়ান্নাকা → আপনাকে ভুলিয়ে দেয়)
الشَّيۡطٰنُ (আশ-শাইতানু → বিভ্রান্তকারী)
فَلَا (ফালা → তবে না)
تَقۡعُدۡ (তাক‘উদ → বসবেন)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
الذِّكۡرٰى (আয-যিকরা → স্মরণ হওয়ার)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সেই সম্প্রদায়ের)
الظّٰلِمِينَ (আজ-জালিমীন → সীমালঙ্ঘনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন আপনি দেখেন যে, কেউ আমাদের আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) নিয়ে অর্থহীন তর্ক বা বিদ্রূপে লিপ্ত হয়েছে, তখন তাদেরকে এড়িয়ে চলুন, যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো হাদিসে (কথাবার্তায়) প্রবেশ করে। আর যদি বিভ্রান্তকারী (শয়তান) আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আর বসে থাকবেন না।


আয়াত-৬৯ঃ

وَمَا (ওয়া মা → আর নয়)
عَلَى (আলা → ওপর)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَتَّقُونَ (ইয়াত্তাকূন → খোদাভীরু হয়)
مِنۡ (মিন → থেকে)
حِسَابِهِمۡ (হিসাবিহিম → তাদের হিসাবের)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → বিষয়/দায়)
وَلٰكِنۡ (ওয়ালাকিন → বরং)
ذِكۡرٰى (যিকরা → স্মরণ করিয়ে দেওয়া)
لَعَلَّهُمۡ (লা‘আল্লাহুম → যাতে তারা)
يَتَّقُونَ (ইয়াত্তাকূন → খোদাভীরু হয়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের হিসাব হতে কোন কিছুর দায় খোদাভীরুদের উপর বর্তায় না। তবে তাদের কর্তব্য হলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যাতে তারা খোদাভীরু হতে পারে।


আয়াত-৭০ঃ

وَذَرِ (ওয়া যারি → পরিত্যাগ করুন)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اتَّخَذُوا (ইত্তাখাযূ → গ্রহণ করেছে)
دِينَهُمۡ (দীনাহুম → তাদের জীবনব্যবস্থা / দ্বীন)
لَعِبًا (লা‘ইবান → খেল-তামাশা)
وَّلَهۡوًا (ওয়া লাহওয়ান → অর্থহীন আমোদ-প্রমোদ)
وَّغَرَّتۡهُمُ (ওয়া গাররাতহুম → আর প্রতারিত করেছে তাদের)
الۡحَيٰوةُ (আল-হায়াতু → জীবন)
الدُّنۡيَا (আদ-দুনইয়া → দুনিয়ার)
وَذَكِّرۡ (ওয়া যাক্কির → আর স্মরণ করিয়ে দিন)
بِهِۦ (বিহী → এর দ্বারা)
اَنۡ (আন → যাতে না)
تُبۡسَلَ (তুবসালা → ধ্বংসের হাতে সোপর্দ)
نَفۡسٌ (নাফসুন → কোনো ব্যক্তি / প্রাণ)
بِمَا (বিমা → যা)
كَسَبَتۡ (কাসাবাত → সে অর্জন করেছে)
لَيۡسَ (লাইসা → নেই)
لَهَا (লাহা → তার জন্য)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُونِ (দূনি → ব্যতীত)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
وَلِيٌّ (ওয়ালিয়্যুন → অভিভাবক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
شَفِيعٌ (শাফী‘উন → সুপারিশকারী)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَعۡدِلۡ (তা‘দিল → বিনিময় করতে চায়)
كُلَّ (কুল্লা → সমস্ত)
عَدۡلٍ (আদলিন → বিনিময় / মুক্তিপণ)
لَّا (লা → না)
يُؤۡخَذۡ (ইউ’খায → গ্রহণ করা হবে)
مِنۡهَا (মিনহা → তার কাছ থেকে)
اُولٰٓئِكَ (উলাইকা → এরাই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اُبۡسِلُوا (উবসিলূ → ধ্বংসের হাতে সোপর্দ করেছে)
بِمَا (বিমা → যা কারণে)
كَسَبُوا (কাসাবূ → তারা অর্জন করেছে)
لَهُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
شَرَابٌ (শারাবুন → পানীয়)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
حَمِيمٍ (হামীমিন → ফুটন্ত উত্তপ্ত তরল)
وَّعَذَابٌ (ওয়া আযাবুন → এবং শাস্তি)
اَلِيمٌ (আলীমুন → যন্ত্রণাদায়ক)
بِمَا (বিমা → কারণ তারা)
كَانُوا (কানূ → ছিল)
يَكۡفُرُونَ (ইয়াকফুরূন → অবিশ্বাস করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা তাদের জীবনব্যবস্থাকে খেল-তামাশা ও অর্থহীন আমোদ-প্রমোদের বিষয় বানিয়েছে এবং যাদেরকে পার্থিব জীবন প্রতারিত করেছে, তাদের ছেড়ে দিন। তবে এর মাধ্যমে (আয়াতের মাধ্যমে) স্মরণ করিয়ে দিন, যাতে কোনো নফস (ব্যক্তি/প্রাণ) তার নিজের অর্জনের কারণে ধ্বংসের হাতে পতিত না হয়। আল্লাহ ছাড়া তার কোনো অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না। আর যদি সে সব ধরনের বিনিময় ও মুক্তিপণ দিতেও চায়, তবুও তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না। এরাই তারা, যারা নিজেদের কৃতকর্মের কারণে ধ্বংসের হাতে পতিত হয়েছে। তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত উত্তপ্ত পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি—কারণ তারা অবিশ্বাস করত।


আয়াত-৭১ঃ

قُلۡ (কুল → বলুন)
اَنَدۡعُوا (আনাদ‘ঊ → আমরা কি আহ্বান করব?)
مِنۡ (মিন → ছাড়া)
دُونِ (দূনি → ব্যতীত)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
مَا (মা → এমন কিছুকে)
لَا (লা → যা না)
يَنۡفَعُنَا (ইয়ানফা‘উনা → আমাদের উপকার করে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
يَضُرُّنَا (ইয়াদুররুনা → আমাদের ক্ষতি করতে পারে)
وَنُرَدُّ (ওয়া নুরাদ্দু → আর আমরা কি ফিরিয়ে দেওয়া হব?)
عَلٰى (আলা → ওপর)
اَعۡقَابِنَا (আ‘কাবিনা → আমাদের গোড়ালিগুলো/ আমাদের পেছনের পথে। (৫:৬)
بَعۡدَ (বা‘দা → পরে)
اِذۡ (ইয → যখন)
هَدٰىنَا (হাদানা → তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
كَالَّذِي (কাল্লাযী → সেই ব্যক্তির মতো)
اسۡتَهۡوَتۡهُ (ইস্তাহওয়াতহু → পথভ্রষ্ট করেছে)
الشَّيٰطِينُ (আশ-শায়াতীনু → বিভ্রান্তকারীরা / শয়তানরা)
فِي (ফী → মধ্যে)
الۡاَرۡضِ (আল-আরদি → পৃথিবী)
حَيۡرَانَ (হাইরানা → দিশেহারা অবস্থায়)
لَهُۥ (লাহু → তার)
اَصۡحٰبٌ (আসহাবুন → সঙ্গীরা)
يَدۡعُونَهٗ (ইয়াদ‘ঊনাহূ → তাকে আহ্বান করে)
اِلَى (ইলা → দিকে)
الۡهُدَى (আল-হুদা → সঠিক পথনির্দেশ)
ائۡتِنَا (ই’তিনা → আমাদের কাছে এসো)
قُلۡ (কুল → বলুন)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়)
هُدَى (হুদা → পথনির্দেশ)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
هُوَ (হুওয়া → সেটিই)
الۡهُدَى (আল-হুদা → প্রকৃত পথনির্দেশ)
وَاُمِرۡنَا (ওয়া উমিরনা → আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে)
لِنُسۡلِمَ (লিনুসলিমা → আত্মসমর্পণ করতে)
لِرَبِّ (লিরাব্বি → প্রতিপালকের কাছে)
الۡعٰلَمِينَ (আল-‘আলামীন → সকল জগতের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

বলুন, “আমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে আহ্বান করব, যা আমাদের কোনো উপকারও করতে পারে না, আবার ক্ষতিও করতে পারে না? আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ (হুদা) দেখানোর পরও কি আমরা আবার পেছনের পথে (আমাদের গোড়ালিগুলো) ফিরে যাব? ঠিক সেই ব্যক্তির মতো, যাকে বিভ্রান্তকারীরা (শয়তানের দল) পৃথিবীতে পথভ্রষ্ট করে দিশেহারা করে ফেলেছে; অথচ তার কিছু সঙ্গী তাকে সৎপথের দিকে ডেকে বলে, ‘আমাদের কাছে এসো।’ বলুন, “নিশ্চয় আল্লাহর পথনির্দেশই (হুদা) প্রকৃত পথনির্দেশ (হুদা)। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন আমরা সমস্ত জগতের প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণকারী হই।”


আয়াত-৭২ঃ

وَاَنۡ (ওয়া আন → এবং যে)
اَقِيمُوا (আকীমূ → প্রতিষ্ঠা কর / দৃঢ়ভাবে কায়েম কর)
الصَّلٰوةَ (আস-সালাতা → যোগাযোগ / সংযোগ)
وَاتَّقُوهُ (ওয়াত্তাকূহু → এবং খোদাভীরু হও)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই সেই সত্তা)
الَّذِي (আল্লাযী → যাঁর কাছে)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তাঁরই দিকে)
تُحۡشَرُونَ (তুহশারূন → তোমাদের একত্রিত করা হবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করো এবং তাঁর প্রতি খোদাভীরু হও। আর তিনিই সেই সত্তা, যাঁর কাছেই তোমাদের সবাইকে একত্রিত করা হবে।


আয়াত-৭৩ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الَّذِي (আল্লাযী → যিনি)
خَلَقَ (খালাকা → সৃষ্টি করেছেন)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডলী)
وَالۡاَرۡضَ (ওয়াল আরদা → এবং পৃথিবী)
بِالۡحَقِّ (বিল হাক্কি → সত্যের ভিত্তিতে / যথাযথ উদ্দেশ্যে)
وَيَوۡمَ (ওয়া ইয়াওমা → আর যেদিন)
يَقُولُ (ইয়াকূলু → তিনি বলবেন)
كُنۡ (কুন → “হও”)
فَيَكُونُ (ফাইয়াকূনু → তখনই তা হয়ে যায়)
قَوۡلُهُ (কাওলুহু → তাঁর কথা)
الۡحَقُّ (আল-হাক্কু → সত্য)
وَلَهُ (ওয়া লাহু → আর তাঁরই)
الۡمُلۡكُ (আল-মুলকু → সার্বভৌম কর্তৃত্ব)
يَوۡمَ (ইয়াওমা → যেদিন)
يُنۡفَخُ (ইউনফাখু → ফুঁ দেওয়া হবে)
فِي (ফী → মধ্যে)
الصُّورِ (আস-সূরি → শিঙ্গায় / সংকেতধ্বনিতে)
عَالِمُ (আলিমু → সর্বজ্ঞ)
الۡغَيۡبِ (আল-গাইবি → অদৃশ্য বিষয়)
وَالشَّهَادَةِ (ওয়াশ-শাহাদাতি → এবং দৃশ্যমান বিষয়)
وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الۡحَكِيمُ (আল-হাকীমু → প্রজ্ঞাময়)
الۡخَبِيرُ (আল-খাবীরু → সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। আর যেদিন তিনি বলবেন, “হও”, তখনই তা হয়ে যাবে। তাঁর বাণীই সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, সেদিন সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই হবে। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞান রাখেন। আর তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত।


আয়াত-৭৪ঃ

وَاِذۡ (ওয়া ইয → আর স্মরণ করুন, যখন)
قَالَ (ক্বালা → বলেছিলেন)
اِبۡرٰهِيمُ (ইবরাহীমু → ইবরাহীম)
لِاَبِيهِ (লি-আবীহি → তাঁর পিতাকে)
اٰزَرَ (আজারা → আজার)
اَتَتَّخِذُ (আতাত্তাখিযু → তুমি কি গ্রহণ কর)
اَصۡنَامًا (আসনামান → মূর্তিগুলোকে)
اٰلِهَةً (আলিহাতান → উপাস্যরূপে)
اِنِّيۡ (ইন্নী → নিশ্চয় আমি)
اَرٰى (আরা → দেখি)
كَ (কা → তোমাকে)
وَقَوۡمَكَ (ওয়া কাওমাকা → এবং তোমার সম্প্রদায়কে)
فِي (ফী → মধ্যে)
ضَلٰلٍ (দালালিন → পথভ্রষ্টতা / বিভ্রান্তি)
مُّبِينٍ (মুবীনিন → সুস্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম তাঁর পিতা আজারকে বলেছিলেন, “তুমি কি মূর্তিগুলোকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করছ? নিশ্চয়ই আমি তোমাকে এবং তোমার সম্প্রদায়কে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি।”


আয়াত-৭৫ঃ

وَكَذٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
نُرِيۡ (নুরী → আমরা দেখিয়েছিলাম)
اِبۡرٰهِيمَ (ইবরাহীমা → ইবরাহীমকে)
مَلَكُوتَ (মালাকূতা → বিশাল শাসনব্যবস্থা)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডলীর)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীর)
وَلِيَكُونَ (ওয়া লিয়াকূনা → যাতে তিনি হন)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُوقِنِينَ (আল-মূকিনীন → পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এভাবেই আমরা ইবরাহীমকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব দেখিয়েছিলাম, যাতে তিনি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন।