সূরা আল আনআম (الأنعام) | গৃহপালিত পশু
মাক্কী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৬৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-৭৬ঃ

فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
جَنَّ (জান্না → ঢেকে ফেলল)
عَلَيۡهِ (আলাইহি → তাঁকে)
الَّيۡلُ (আল-লাইলু → রাত)
رَاٰ (রা’আ → তিনি দেখলেন)
كَوۡكَبًا (কাওকাবান → একটি নক্ষত্র)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
هٰذَا (হাযা → এটি)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
اَفَلَ (আফালা → তা অস্ত গেল)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
لَا (লা → না)
اُحِبُّ (উহিব্বু → আমি ভালোবাসি / গ্রহণ করি)
الۡاٰفِلِينَ (আল-আফিলীন → অস্তগামীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন রাত তাঁকে আচ্ছন্ন করল, তখন তিনি একটি নক্ষত্র দেখলেন। তিনি বললেন, “এটি আমার প্রতিপালক।” কিন্তু যখন তা অস্ত গেল, তখন তিনি বললেন, “আমি অস্তগামীদের ভালোবাসি না।”


আয়াত-৭৭ঃ

فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
رَاَ (রা’আ → তিনি দেখলেন)
الۡقَمَرَ (আল-কামারা → চাঁদকে)
بَازِغًا (বাযিগান → উদিত অবস্থায়)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
هٰذَا (হাযা → এটি)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
اَفَلَ (আফালা → তা অস্ত গেল)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
لَئِنۡ (লাইইন → যদি অবশ্যই)
لَّمۡ (লাম → না)
يَهۡدِنِيۡ (ইয়াহদিনী → তিনি আমাকে পথনির্দেশ দেন)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
لَاَكُونَنَّ (লাআকূনান্না → তবে অবশ্যই আমি হয়ে যাব)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → সেই সম্প্রদায়ের)
الضَّآلِّينَ (আদ-দাল্লীন → পথভ্রষ্টদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন তিনি চাঁদকে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, “এটি আমার প্রতিপালক।” কিন্তু যখন সেটিও অস্ত গেল, তখন তিনি বললেন, “যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথনির্দেশ না দেন, তবে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।”


আয়াত-৭৮ঃ

فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
رَاَ (রা’আ → তিনি দেখলেন)
الشَّمۡسَ (আশ-শামসা → সূর্যকে)
بَازِغَةً (বাযিগাতান → উদিত অবস্থায়)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
هٰذَا (হাযা → এটি)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
هٰذَا (হাযা → এটি)
اَكۡبَرُ (আকবারু → আরও বড়)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
اَفَلَتۡ (আফালাত → সেটিও অস্ত গেল)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
يٰقَوۡمِ (ইয়া কাওমি → হে আমার সম্প্রদায়!)
اِنِّيۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
بَرِيۡٓءٌ (বারীউন → সম্পূর্ণ দায়মুক্ত)
مِّمَّا (মিম্মা → যা কিছু থেকে)
تُشۡرِكُونَ (তুশরিকূন → তোমরা অংশীদার স্থির কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতঃপর যখন তিনি সূর্যকে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, “এটি আমার প্রতিপালক; এটি তো আরও বড়।” কিন্তু যখন সেটিও অস্ত গেল, তখন তিনি বললেন, “হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যাদের আল্লাহর সঙ্গে শরিক কর, আমি সেসব থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত।”


আয়াত-৭৯ঃ

اِنِّيۡ (ইন্নী → নিশ্চয়ই আমি)
وَجَّهۡتُ (ওয়াজ্জাহ্তু → একাগ্রভাবে অভিমুখ করেছি)
وَجۡهِيَ (ওয়াজহিয়া → আমার মুখমণ্ডল / আমার অভিমুখ)
لِلَّذِي (লিল্লাযী → সেই সত্তার দিকে, যিনি)
فَطَرَ (ফাতারা → প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন)
السَّمٰوٰتِ (আস-সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডলী)
وَالۡاَرۡضَ (ওয়াল আরদা → এবং পৃথিবী)
حَنِيفًا (হানীফান → একনিষ্ঠভাবে সত্যের দিকে ঝুঁকে / একমাত্র সত্যপন্থী হয়ে)
وَّمَا (ওয়া মা → এবং নই)
اَنَا (আনা → আমি)
مِنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الۡمُشۡرِكِينَ (আল-মুশরিকীন → অংশীদার স্থাপনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আমি আমার সমগ্র সত্তাকে সেই সত্তার দিকেই একাগ্রভাবে অভিমুখ করেছি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। আমি একনিষ্ঠ সত্যপন্থী; আর আমি কখনোই অংশীদার স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।


আয়াত-৮০ঃ

وَحَآجَّهٗ (ওয়া হাজ্জাহু → আর তার সঙ্গে বিতর্ক করল (হজ্ব অর্থ বিতর্ক)
قَوۡمُهٗ (কাওমুহু → তাঁর সম্প্রদায়)
قَالَ (ক্বালা → তিনি বললেন)
اَتُحَآجُّوۡنِّيۡ (আতুহাজ্জূন্নী → তোমরা কি আমার সঙ্গে বিতর্ক করছ? (হজ্ব অর্থ বিতর্ক)
فِي (ফী → সম্পর্কে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহতে)
وَقَدۡ (ওয়াকাদ → অথচ অবশ্যই)
هَدٰىنِ (হাদানী → তিনি আমাকে পথনির্দেশ দিয়েছেন)
وَلَا (ওয়া লা → আর না)
اَخَافُ (আখাফু → আমি ভয় করি)
مَا (মা → যাদের)
تُشۡرِكُونَ (তুশরিকূন → অংশীদার স্থির কর)
بِهٖ (বিহী → তাঁর সঙ্গে)
اِلَّاۤ (ইল্লা → তবে যদি না)
اَنۡ (আন → যে)
يَّشَآءَ (ইয়াশা’আ → ইচ্ছা করেন)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
شَيۡـًٔا (শাইআন → কোনো কিছু)
وَسِعَ (ওয়াসিআ → পরিব্যাপ্ত করেছেন)
رَبِّيۡ (রাব্বী → আমার প্রতিপালক)
كُلَّ (কুল্লা → প্রত্যেক)
شَيۡءٍ (শাইইন → বিষয়)
عِلۡمًا (ইলমান → জ্ঞানে)
اَفَلَا (আফালা → তবে কি না?)
تَتَذَكَّرُونَ (তাতাযাক্কারূন → তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাঁর সম্প্রদায় তাঁর সঙ্গে বিতর্কে (হজ্বে) লিপ্ত হলো। তিনি বললেন, “তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমার সঙ্গে বিতর্ক করছ, অথচ তিনিই আমাকে পথনির্দেশ (হুদা) দিয়েছেন? তোমরা যাদেরকে তাঁর সঙ্গে শরিক কর, আমি তাদের ভয় করি না—তবে যদি আমার প্রতিপালক কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, সেটি ভিন্ন কথা। আমার প্রতিপালকের জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?”


আয়াত-৮১ঃ

وَكَيۡفَ (ওয়া কাইফা → আর কীভাবে)
اَخَافُ (আখাফু → আমি ভয় করব)
مَا (মা → যাদের / যা)
اَشۡرَكۡتُمۡ (আশরাকতুম → তোমরা শরিক করেছ)
وَلَا (ওয়া লা → অথচ না)
تَخَافُونَ (তাখাফূন → তোমরা ভয় কর)
اَنَّكُمۡ (আন্নাকুম → যে তোমরা)
اَشۡرَكۡتُمۡ (আশরাকতুম → শরিক করেছ)
بِاللّٰهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর সঙ্গে)
مَا (মা → যা)
لَمۡ (লাম → না)
يُنَزِّلۡ (ইউনায্যিল → নাযিল করেছেন)
بِهٖ (বিহী → এর পক্ষে)
عَلَيۡكُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
سُلۡطٰنًا (সুলতানান → কোনো কর্তৃত্বপূর্ণ প্রমাণ)
فَاَيُّ (ফা-আইয়্যু → তাহলে কোন)
الۡفَرِيقَيۡنِ (আল-ফারীকাইনি → দুই দলের)
اَحَقُّ (আহাক্কু → অধিক সত্য)
بِالۡاَمۡنِ (বিল-আমনি → নিরাপত্তার)
اِنۡ (ইন → যদি)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা হয়ে থাকো)
تَعۡلَمُونَ (তা’লামূন → জানো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করেছ, আমি তাদের কীভাবে ভয় করব? অথচ তোমরা নিজেরাই ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করেছ যার পক্ষে তিনি তোমাদের কাছে কোনো কর্তৃত্বপূর্ণ প্রমাণ নাযিল করেননি। তাহলে যদি তোমরা জানো, তবে বলো—এই দুই দলের মধ্যে নিরাপত্তায় অধিক সত্য কে?


আয়াত-৮২ঃ

اَلَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوا (আমানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَلَمۡ (ওয়া লাম → এবং না)
يَلۡبِسُوا (ইয়ালবিসূ → মিশ্রিত করেছে)
اِيۡمَانَهُمۡ (ঈমানাহুম → তাদের বিশ্বাস)
بِظُلۡمٍ (বিজুলমিন → অন্যায় করার মাধ্যমে)
اُولٰٓئِكَ (উলাইকা → তারাই)
لَهُمُ (লাহুম → তাদের জন্য)
الۡاَمۡنُ (আল-আমনু → নিরাপত্তা / প্রশান্তি)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → এবং তারাই)
مُّهۡتَدُونَ (মুহতাদূন → সঠিক পথপ্রাপ্ত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বিশ্বাসকে অন্যায় দ্বারা মিশ্রিত করেনি, তারাই প্রকৃত নিরাপত্তার অধিকারী এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।


আয়াত-৮৩ঃ

وَتِلۡكَ (ওয়া তিলকা → আর এটিই)
حُجَّتُنَا (হুজ্জাতুনা → আমাদের প্রমাণ)
اٰتَيۡنٰهَا (আতাইনাহা → আমরা প্রদান করেছি)
اِبۡرٰهِيمَ (ইবরাহীমা → ইবরাহীমকে)
عَلٰى (আলা → বিরুদ্ধে)
قَوۡمِهٖ (কাওমিহী → তাঁর সম্প্রদায়ের)
نَرۡفَعُ (নারফাউ → আমরা উন্নীত করি)
دَرَجٰتٍ (দারাজাতিন → মর্যাদা)
مَّنۡ (মান → যাকে)
نَّشَآءُ (নাশাউ → আমরা ইচ্ছা করি)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
رَبَّكَ (রাব্বাকা → তোমার প্রতিপালক)
حَكِيمٌ (হাকীমুন → প্রজ্ঞাময়)
عَلِيمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এটাই ছিল আমাদের সেই অকাট্য প্রমাণ, যা আমরা ইবরাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দিয়েছিলাম। আমরা যাকে ইচ্ছা মর্যাদার উচ্চ স্তরে উন্নীত করি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।


আয়াত-৮৪ঃ

وَوَهَبۡنَا (ওয়া ওয়াহাবনা → আর আমরা দান করেছি)
لَهٗ (লাহূ → তাঁকে)
اِسۡحٰقَ (ইসহাকা → ইসহাক)
وَيَعۡقُوبَ (ওয়া ইয়াকূবা → এবং ইয়াকুব)
كُلًّا (কুল্লান → প্রত্যেককে)
هَدَيۡنَا (হাদাইনা → আমরা পথনির্দেশ দিয়েছি)
وَنُوحًا (ওয়া নূহান → এবং নূহকে)
هَدَيۡنَا (হাদাইনা → আমরা পথনির্দেশ দিয়েছি)
مِنۡ (মিন → এর)
قَبۡلُ (কাবলু → পূর্বেই)
وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং)
ذُرِّيَّتِهٖ (যুররিয়্যাতিহী → তাঁর বংশধরদের মধ্যে থেকে)
دَاوٗدَ (দাউদা → দাউদ)
وَسُلَيۡمٰنَ (ওয়া সুলাইমানা → এবং সুলাইমান)
وَاَيُّوبَ (ওয়া আইয়্যূবা → এবং আইয়্যুব)
وَيُوسُفَ (ওয়া ইউসুফা → এবং ইউসুফ)
وَمُوسٰى (ওয়া মূসা → এবং মূসা)
وَهٰرُونَ (ওয়া হারূনা → এবং হারূন)
وَكَذٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা → আর এভাবেই)
نَجۡزِي (নাজযী → আমরা প্রতিদান দিই)
الۡمُحۡسِنِينَ (আল-মুহসিনীন → সৎকর্মপরায়ণদের / উৎকৃষ্ট কর্মসম্পাদনকারীদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আমরা তাঁকে ইসহাক ও ইয়াকুবকে দান করেছিলাম। তাদের প্রত্যেককে আমরা পথনির্দেশ দিয়েছিলাম। আর এর আগেই নূহকেও আমরা পথনির্দেশ দিয়েছিলাম। তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে দাউদ, সুলাইমান, আইয়্যুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকেও। আর এভাবেই আমরা সৎকর্মপরায়ণদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।


আয়াত-৮৫ঃ

وَزَكَرِيَّا (ওয়া যাকারিয়্যা → এবং যাকারিয়্যা)
وَيَحۡيٰى (ওয়া ইয়াহইয়া → এবং ইয়াহইয়া)
وَعِيۡسٰى (ওয়া ঈসা → এবং ঈসা)
وَاِلۡيَاسَ (ওয়া ইলইয়াসা → এবং ইলইয়াস)
كُلٌّ (কুল্লুন → প্রত্যেকেই)
مِّنَ (মিনা → অন্তর্ভুক্ত)
الصّٰلِحِينَ (আস-সালিহীন → সৎকর্মপরায়ণদের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর (আমরা পথনির্দেশ দিয়েছিলাম) যাকারিয়্যা, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলইয়াসকে। তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত।


আয়াত-৮৬ঃ

وَاِسۡمٰعِيلَ (ওয়া ইসমাঈলা → এবং ইসমাঈল)
وَالۡيَسَعَ (ওয়াল ইয়াসাআ → এবং আল-ইয়াসা)
وَيُونُسَ (ওয়া ইউনুসা → এবং ইউনুস)
وَلُوطًا (ওয়া লূতান → এবং লূত)
وَكُلًّا (ওয়া কুল্লান → আর তাদের প্রত্যেককে)
فَضَّلۡنَا (ফাদ্দালনা → আমরা শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি / মর্যাদায় উন্নীত করেছি)
عَلَى (আলা → উপর / অপেক্ষা)
الۡعٰلَمِينَ (আল-‘আলামীন → সকল জগতের মানুষ / বিশ্ববাসীর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর (আমরা পথনির্দেশ দিয়েছিলাম) ইসমাঈল, আল-ইয়াসা, ইউনুস এবং লূতকে। তাদের প্রত্যেককে আমরা বিশ্ববাসীর ওপর বিশেষ মর্যাদা দান করেছিলাম।


আয়াত-৮৭ঃ

وَمِنۡ (ওয়া মিন → এবং থেকে)
اٰبَآئِهِمۡ (আবাঈহিম → তাদের পিতৃপুরুষদের)
وَذُرِّيّٰتِهِمۡ (ওয়া যুররিয়্যাতিহিম → এবং তাদের বংশধরদের)
وَاِخۡوَانِهِمۡ (ওয়া ইখওয়ানিহিম → এবং তাদের ভাইদের)
وَاجۡتَبَيۡنٰهُمۡ (ওয়াজতাবাইনাহুম → এবং আমরা তাদের মনোনীত করেছি)
وَهَدَيۡنٰهُمۡ (ওয়া হাদাইনাহুম → এবং আমরা তাদের পথনির্দেশ দিয়েছি)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
صِرَاطٍ (সিরাতিন → পথ)
مُّسۡتَقِيمٍ (মুস্তাকীম → সরল সঠিক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের পিতৃপুরুষদের, তাদের বংশধরদের এবং তাদের সহোদরদের মধ্য থেকেও। আমরা তাদের বেছে নিয়েছি এবং তাদের সরল ও সঠিক পথের পথনির্দেশ দিয়েছি।


আয়াত-৮৮ঃ

ذٰلِكَ (যালিকা → এটাই)
هُدَى (হুদা → পথনির্দেশ)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
يَهۡدِي (ইয়াহদী → তিনি পথনির্দেশ দেন)
بِهٖ (বিহী → এর মাধ্যমে)
مَنۡ (মান → যাকে)
يَّشَآءُ (ইয়াশাউ → তিনি ইচ্ছা করেন)
مِنۡ (মিন → থেকে)
عِبَادِهٖ (ইবাদিহী → তাঁর বান্দাদের)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
اَشۡرَكُوۡا (আশরাকূ → অংশীদার স্থির করত)
لَحَبِطَ (লাহাবিতা → অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেত)
عَنۡهُمۡ (আনহুম → তাদের থেকে)
مَّا (মা → যা)
كَانُوۡا (কানূ → তারা ছিল)
يَعۡمَلُوۡنَ (ইয়া’মালূন → তারা কাজ করত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

এটাই আল্লাহর পথনির্দেশ। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে পথনির্দেশ দেন। আর যদি তারা শিরক করত, তবে তারা যা কিছু আমল করত, অবশ্যই তার সবই নিষ্ফল হয়ে যেত।


আয়াত-৮৯ঃ

اُولٰٓئِكَ (উলাইকা → তারাই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰتَيۡنٰهُمُ (আতাইনাহুম → আমরা তাদের দিয়েছি)
الۡكِتٰبَ (আল-কিতাব → বিধানগ্রন্থ)
وَالۡحُكۡمَ (ওয়াল-হুকমা → প্রজ্ঞা)
وَالنُّبُوَّةَ (ওয়ান-নুবুওয়্যাতা → নবুয়ত / বার্তাবাহকের দায়িত্ব)
فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
يَّكۡفُرۡ (ইয়াকফুর → অবিশ্বাস করে)
بِهَا (বিহা → এগুলোকে)
هٰۤؤُلَآءِ (হাউলাই → এরা)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে অবশ্যই)
وَكَّلۡنَا (ওয়াক্কালনা → আমরা দায়িত্ব অর্পণ করেছি)
بِهَا (বিহা → এগুলোর)
قَوۡمًا (কাওমান → এক সম্প্রদায়ের ওপর)
لَّيۡسُوا (লাইসু → তারা নয়)
بِهَا (বিহা → এগুলোর প্রতি)
بِكٰفِرِينَ (বিকাফিরীন → অবিশ্বাসী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারাই তারা, যাদের আমরা বিধানগ্রন্থ, প্রজ্ঞা এবং বার্তাবাহকের দায়িত্ব (নবুয়তের) দিয়েছিলাম। অতঃপর যদি তারা এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে আমরা এগুলোর দায়িত্ব এমন এক সম্প্রদায়ের ওপর অর্পণ করেছি, যারা এগুলোর প্রতি অস্বীকারকারী নয়।


আয়াত-৯০ঃ

اُولٰٓئِكَ (উলাইকা → তারাই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
هَدَى (হাদা → পথনির্দেশ দিয়েছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَ (ফা → সুতরাং)
بِهُدٰىهُمُ (বিহুদাহুম → তাদের পথনির্দেশ অনুসারে)
اقۡتَدِهۡ (ইকতাদিহ → অনুসরণ করো)
قُلۡ (কুল → বলো)
لَّا (লা → না)
اَسۡـَٔلُكُمۡ (আসআলুকুম → আমি তোমাদের কাছে চাই)
عَلَيۡهِ (আলাইহি → এর জন্য)
اَجۡرًا (আজরান → কোনো পারিশ্রমিক)
اِنۡ (ইন → এটি নয়)
هُوَ (হুয়া → এটি)
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
ذِكۡرٰى (যিকরা → স্মরণিকা)
لِلۡعٰلَمِينَ (লিল-‘আলামীন → সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারাই তারা, যাদের আল্লাহ পথনির্দেশ (হুদা) দিয়েছেন। সুতরাং তুমি তাদের পথনির্দেশ অনুসরণ করো। বলো, “আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এটি তো সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য একটি স্মরণিকা (যিকরা) ছাড়া আর কিছুই নয়।”


আয়াত-৯১ঃ

وَمَا (ওয়া মা → আর না)
قَدَرُوا (কাদারূ → তারা যথাযথ মর্যাদা দেয়নি / মূল্যায়ন করেনি)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
حَقَّ (হাক্কা → যথাযথ)
قَدۡرِهٖ (কাদরিহী → তাঁর মর্যাদা)
اِذۡ (ইয → যখন)
قَالُوا (কালূ → তারা বলল)
مَا (মা → কিছুই না)
اَنۡزَلَ (আনযালা → নাযিল করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَلٰى (আলা → ওপর)
بَشَرٍ (বাশারিন → কোনো মানুষের)
مِّنۡ (মিন → কোনো)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → কিছু)
قُلۡ (কুল → বলো)
مَنۡ (মান → কে)
اَنۡزَلَ (আনযালা → নাযিল করেছেন)
الۡكِتٰبَ (আল-কিতাবা → বিধানগ্রন্থ)
الَّذِىۡ (আল্লাযী → যা)
جَآءَ (জা’আ → নিয়ে এসেছিলেন)
بِهٖ (বিহী → তা)
مُوسٰى (মূসা → মূসা)
نُورًا (নূরান → আলো)
وَّهُدًى (ওয়া হুদান → এবং পথনির্দেশ)
لِّلنَّاسِ (লিন্নাসি → মানুষের জন্য)
تَجۡعَلُونَهٗ (তাজআলূনাহু → তোমরা সেটিকে বানাও)
قَرَاطِيسَ (কারাতীসা → বিচ্ছিন্ন পত্র / কাগজপত্র)
تُبۡدُونَهَا (তুবদূনাহা → যার কিছু প্রকাশ করো)
وَتُخۡفُونَ (ওয়া তুখফূনা → আর গোপন করো)
كَثِيرًا (কাছীরান → অনেক)
وَعُلِّمۡتُمۡ (ওয়া উল্লিমতুম → আর তোমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে)
مَّا (মা → যা)
لَمۡ (লাম → না)
تَعۡلَمُوا (তা’লামূ → তোমরা জানতে)
اَنۡتُمۡ (আনতুম → তোমরা)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
اٰبَآؤُكُمۡ (আবাউকুম → তোমাদের পিতৃপুরুষরা)
قُلِ (কুল → বলো)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
ذَرۡهُمۡ (যারহুম → তাদের ছেড়ে দাও)
فِىۡ (ফী → মধ্যে)
خَوۡضِهِمۡ (খাওদিহিম → তাদের বেহুদা কথাবার্তায়)
يَلۡعَبُونَ (ইয়ালআবূন → তারা খেলায়/উপহাসে মগ্ন থাকে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, যখন তারা বলেছিল, “আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই নাযিল করেননি।” বলো, “তাহলে সেই বিধানগ্রন্থ কে নাযিল করেছিলেন, যা মূসা মানুষের জন্য আলো (নূর) ও পথনির্দেশ (হুদা) হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন? তোমরা সেটিকে বিচ্ছিন্ন কাগজপত্রে পরিণত করো; কিছু প্রকাশ করো আর অনেক কিছু গোপন করো। আর তোমাদের এমন বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা না তোমরা জানতে, না তোমাদের পিতৃপুরুষরা জানত।” বলো, “আল্লাহ নাযিল করেছেন।” তারপর তাদের বেহুদা কথাবার্তায় লিপ্ত থাকতে দাও।


আয়াত-৯২ঃ

وَهٰذَا (ওয়া হাযা → আর এটি)
كِتٰبٌ (কিতাবুন → এক কিতাব)
اَنۡزَلۡنٰهُ (আনযালনাহু → আমরা নাযিল করেছি)
مُبٰرَكٌ (মুবারাকুন → কল্যাণময়)
مُّصَدِّقُ (মুসাদ্দিকু → সত্যায়নকারী)
الَّذِىۡ (আল্লাযী → যা)
بَيۡنَ (বাইনা → পূর্বে)
يَدَيۡهِ (ইয়াদাইহি → এর আগে বিদ্যমান ছিল)
وَلِتُنۡذِرَ (ওয়া লিতুনযিরা → যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো)
اُمَّ الۡقُرٰى (উম্মা আল-কুরা → জন্মভূমি/মাতৃনগর/জনপদসমূহের কেন্দ্র)
وَمَنۡ (ওয়া মান → এবং যারা)
حَوۡلَهَا (হাওলাহা → এর আশেপাশে রয়েছে)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূনা → বিশ্বাস আনে)
بِالۡاٰخِرَةِ (বিল-আখিরাতি → পরকালের প্রতি)
يُؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূনা → তারা বিশ্বাস আনে)
بِهٖ (বিহী → এর প্রতি)
وَهُمۡ (ওয়া হুম → এবং তারা)
عَلٰى (আলা → ওপর)
صَلَاتِهِمۡ (সালাতিহিম → তাদের যোগাযোগ)
يُحَافِظُونَ (ইউহাফিযূন → যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর এটি এমন এক কল্যাণময় কিতাব, যা আমরা নাযিল করেছি। এটি এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, যাতে তুমি জন্মভূমি এবং এর আশেপাশের লোকদের সতর্ক করতে পারো। আর যারা পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তারা এ কিতাবের প্রতিও বিশ্বাস আনে এবং তারা নিজেদের যোগাযোগ যথাযথভাবে রক্ষা করে।


আয়াত-৯৩ঃ

وَمَنۡ (ওয়া মান → আর কে)
اَظۡلَمُ (আজলামু → অধিক অন্যায়কারী)
مِمَّنِ (মিম্মানি → তার চেয়ে, যে)
افۡتَرٰى (ইফতারা → মনগড়া রচনা করল)
عَلَى (আলাল → আল্লাহর ওপর)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
كَذِبًا (কাযিবান → মিথ্যা)
اَوۡ (আও → অথবা)
قَالَ (কালা → বলে)
اُوحِىَ (উহিয়া → প্রত্যাদেশ করা হয়েছে)
اِلَىَّ (ইলাইইয়া → আমার প্রতি)
وَلَمۡ (ওয়া লাম → অথচ না)
يُوحَ (ইউহা → প্রত্যাদেশ করা হয়েছে)
اِلَيۡهِ (ইলাইহি → তার প্রতি)
شَىۡءٌ (শাইউন → কোনো কিছু)
وَّمَنۡ (ওয়া মান → এবং যে)
قَالَ (কালা → বলে)
سَاُنۡزِلُ (সাউনযিলু → আমিও নাযিল করব)
مِثۡلَ (মিছলা → অনুরূপ)
مَا (মা → যা)
اَنۡزَلَ (আনযালা → নাযিল করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَلَوۡ (ওয়া লাও → আর যদি)
تَرٰى (তারা → তুমি দেখতে)
اِذِ (ইযি → যখন)
الظّٰلِمُونَ (আয-যালিমূন → অত্যাচারীরা/অন্যায়কারীরা)
فِىۡ (ফী → মধ্যে)
غَمَرٰتِ (গামারাতি → যন্ত্রণার ঘোরে)
الۡمَوۡتِ (আল-মাওতি → মৃত্যুর)
وَالۡمَلٰٓئِكَةُ (ওয়াল মালাইকাতু → আর ফেরেশতারা)
بَاسِطُوۡا (বাসিতূ → প্রসারিত করছে)
اَيۡدِيۡهِمۡ (আইদীহিম → তাদের হাত)
اَخۡرِجُوا (আখরিজূ → বের করো)
اَنۡفُسَكُمُ (আনফুসাকুম → তোমাদের প্রাণ)
اَلۡيَوۡمَ (আল-ইয়াওমা → আজ)
تُجۡزَوۡنَ (তুজযাওনা → তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে)
عَذَابَ (আযাবা → শাস্তি)
الۡهُوۡنِ (আল-হূনি → লাঞ্ছনাকর)
بِمَا (বিমা → কারণ)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
تَقُولُونَ (তাকূলূনা → বলতে)
عَلَى (আলাল → সম্পর্কে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
غَيۡرَ (গাইরাল → বিপরীত)
الۡحَقِّ (আল-হাক্কি → সত্যের)
وَكُنۡتُمۡ (ওয়া কুনতুম → এবং তোমরা ছিলে)
عَنۡ (আন → থেকে)
اٰيٰتِهٖ (আয়াতিহী → তাঁর নিদর্শনসমূহ)
تَسۡتَكۡبِرُونَ (তাসতাকবিরূন → অহংকার করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তার চেয়ে বড় অন্যায়কারী (যালিম) কে, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, “আমার প্রতি ওহি করা হয়েছে”, অথচ তার প্রতি কোনো ওহি করা হয়নি; অথবা যে বলে, “আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, আমিও তেমন নাযিল করতে পারি”? আর যদি তুমি দেখতে, যখন অত্যাচারীরা (যালিমরা) মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকবে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে বলবে, “তোমাদের প্রাণ (নফস) বের করো। আজ তোমাদের লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে, কারণ তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অসত্য কথা বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহের (নিদর্শনসমূহের) প্রতি অহংকার করতে।”


আয়াত-৯৪ঃ

وَلَقَدۡ (ওয়া লাকাদ → আর অবশ্যই)
جِئۡتُمُونَا (জি’তুমূনা → তোমরা আমাদের কাছে এসেছ)
فُرَادٰى (ফুরাদা → একাকী)
كَمَا (কামা → যেমন)
خَلَقۡنٰكُمۡ (খালাকনাকুম → আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম)
اَوَّلَ (আওয়ালা → প্রথম)
مَرَّةٍ (মাররাতিন → বার)
وَّتَرَكۡتُمۡ (ওয়া তারাকতুম → এবং তোমরা রেখে এসেছ)
مَّا (মা → যা)
خَوَّلۡنٰكُمۡ (খাওওয়ালনাকুম → আমরা তোমাদের দিয়েছিলাম)
وَرَآءَ (ওয়ারাআ → পেছনে)
ظُهُورِكُمۡ (যুহূরিকুম → তোমাদের পিঠের পিছনে)
وَمَا (ওয়া মা → আর না)
نَرٰى (নারা → আমরা দেখি)
مَعَكُمۡ (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
شُفَعَآءَكُمُ (শুফা‘আআকুম → তোমাদের সুপারিশকারীদের)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যাদের)
زَعَمۡتُمۡ (যা‘আমতুম → তোমরা ধারণা/দাবী করতে)
اَنَّهُمۡ (আন্নাহুম → যে তারা)
فِيكُمۡ (ফীকুম → তোমাদের ব্যাপারে)
شُرَكٰٓؤُا (শুরাকাউ → অংশীদার)
لَقَدۡ (লাকাদ → অবশ্যই)
تَّقَطَّعَ (তাকাত্তা‘আ → ছিন্ন হয়ে গেছে)
بَيۡنَكُمۡ (বাইনাকুম → তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক)
وَضَلَّ (ওয়া দাল্লা → এবং হারিয়ে গেছে)
عَنۡكُمۡ (আনকুম → তোমাদের থেকে)
مَّا (মা → যা)
كُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা)
تَزۡعُمُونَ (তায‘উমূন → দাবি করতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর অবশ্যই তোমরা আমার কাছে একাকী এসে গেছ, যেমন আমি প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম। আর আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা নিজেদের পেছনে ফেলে রেখে এসেছো। আর তোমাদের সঙ্গে আমি সেই সুপারিশকারীদেরও দেখছি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করতে যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর অংশীদার। অবশ্যই আজ তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের সেই সব দাবিও হারিয়ে গেছে, যা তোমরা করে আসতে।

[বি.দ্রঃ শেষ বিচার দিবসে আল্লাহর সামনে একাকী দাড়াতে হবে। কোন সুপারিশকারী থাকবেনা এবং কোন অংশীদারও থাকবেনা, যে বা যারা আল্লাহর মত ক্ষমতাবান হবে এবং মুক্তির ব্যবস্থা করবে। সবই হারিয়ে যাবে।]


আয়াত-৯৫ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
فَالِقُ (ফালিকু → উন্মোচনকারী / অঙ্কুরোদ্গমকারী)
الۡحَبِّ (আল-হাব্বি → শস্যবীজ)
وَالنَّوٰى (ওয়ান-নাওয়া → আঁটি / বীজ)
يُخۡرِجُ (ইউখরিজু → তিনি বের করেন)
الۡحَىَّ (আল-হাইয়্যা → জীবিতকে)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الۡمَيِّتِ (আল-মাইয়্যিতি → মৃত)
وَمُخۡرِجُ (ওয়া মুখরিজু → এবং বেরকারী)
الۡمَيِّتِ (আল-মাইয়্যিতি → মৃতকে)
مِنَ (মিনাল → থেকে)
الۡحَىِّ (আল-হাইয়্যি → জীবিত)
ذٰلِكُمُ (যালিকুমু → তিনিই)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَاَنّٰى (ফা-আন্না → তাহলে কীভাবে)
تُؤۡفَكُونَ (তু’ফাকূন → তোমরা সত্য থেকে ফিরে যাচ্ছো)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি উন্মোচনকারী। তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। তিনিই আল্লাহ। তাহলে, তোমরা কীভাবে সত্য থেকে ফিরে যাচ্ছো?


আয়াত-৯৬ঃ

فَالِقُ (ফালিকু → উদ্ভাসিতকারী / উন্মোচনকারী)
الۡاِصۡبَاحِ (আল-ইসবাহি → প্রভাত)
وَجَعَلَ (ওয়া জা‘আলা → এবং তিনি করেছেন)
الَّيۡلَ (আল-লাইলা → রাতকে)
سَكَنًا (সাকানান → বিশ্রামের সময়)
وَّالشَّمۡسَ (ওয়াশ-শামসা → এবং সূর্যকে)
وَالۡقَمَرَ (ওয়াল-কামারা → এবং চাঁদকে)
حُسۡبَانًا (হুসবানান → সুনির্দিষ্ট হিসাব/নির্ধারিত পরিমাপ)
ذٰلِكَ (যালিকা → এটাই)
تَقۡدِيرُ (তাকদীরু → নির্ধারণ)
الۡعَزِيزِ (আল-‘আযীযি → পরাক্রমশালীর)
الۡعَلِيمِ (আল-‘আলীম → সর্বজ্ঞের)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তিনি প্রভাত উদ্ভাসিত করেন। তিনি রাতকে বিশ্রামের জন্য এবং সূর্য ও চাঁদকে সুনির্দিষ্ট হিসাবের মাধ্যম করেছেন। এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নির্ধারণ।


আয়াত-৯৭ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الَّذِىۡ (আল্লাযী → যিনি)
جَعَلَ (জা‘আলা → সৃষ্টি করেছেন)
لَكُمُ (লাকুমু → তোমাদের জন্য)
النُّجُومَ (আন-নুজূমা → নক্ষত্রসমূহ)
لِتَهۡتَدُوا (লিতাহতাদূ → যাতে তোমরা পথ খুঁজে পাও)
بِهَا (বিহা → এগুলোর দ্বারা)
فِىۡ (ফী → মধ্যে)
ظُلُمٰتِ (যুলুমাতি → অন্ধকারে)
الۡبَرِّ (আল-বাররি → স্থলের)
وَالۡبَحۡرِ (ওয়াল-বাহরি → এবং সমুদ্রের)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
فَصَّلۡنَا (ফাস্সালনা → আমরা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি)
الۡاٰيٰتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য)
يَّعۡلَمُونَ (ইয়া‘লামূন → যারা জ্ঞান রাখে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে সেগুলোর দ্বারা পথ খুঁজে পেতে পারো। অবশ্যই আমরা জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।


আয়াত-৯৮ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الَّذِىۡ (আল্লাযী → যিনি)
اَنۡشَاَكُمۡ (আনশাআকুম → তোমাদের সৃষ্টি করেছেন)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
نَّفۡسٍ (নাফসিন → এক প্রাণ / এক সত্তা)
وَّاحِدَةٍ (ওয়াহিদাতিন → একক)
فَمُسۡتَقَرٌّ (ফামুস্তাকাররুন → অতঃপর এক স্থায়ী অবস্থান)
وَّمُسۡتَوۡدَعٌ (ওয়া মুস্তাওদা‘উন → এবং এক অস্থায়ী সংরক্ষণস্থল)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
فَصَّلۡنَا (ফাস্সালনা → আমরা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি)
الۡاٰيٰتِ (আল-আয়াতি → নিদর্শনসমূহ)
لِقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন এক সম্প্রদায়ের জন্য)
يَّفۡقَهُونَ (ইয়াফকাহূন → যারা গভীরভাবে অনুধাবন করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই তোমাদের এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের জন্য রয়েছে এক স্থায়ী অবস্থান এবং এক অস্থায়ী অবস্থান। অবশ্যই আমরা সেইসব মানুষের জন্য আয়াতসমূহ (নিদর্শনসমূহ) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি, যারা গভীরভাবে অনুধাবন করে।


আয়াত-৯৯ঃ

وَهُوَ (ওয়া হুওয়া → আর তিনিই)
الَّذِىۡ (আল্লাযী → যিনি)
اَنۡزَلَ (আনযালা → নাযিল করেছেন)
مِنَ (মিনা → থেকে)
السَّمَآءِ (আস-সামা-ই → আকাশ)
مَآءً (মা-আন → পানি)
فَاَخۡرَجۡنَا (ফা-আখরাজনা → অতঃপর আমরা উৎপন্ন করেছি)
بِهٖ (বিহী → তা দ্বারা)
نَبَاتَ (নাবাতা → উদ্ভিদ)
كُلِّ (কুল্লি → সব)
شَىۡءٍ (শাইয়িন → কিছুর)
فَاَخۡرَجۡنَا (ফা-আখরাজনা → অতঃপর আমরা বের করেছি)
مِنۡهُ (মিনহু → তা থেকে)
خَضِرًا (খাদিরান → সবুজ অঙ্কুর)
نُّخۡرِجُ (নুখরিজু → আমরা বের করি)
مِنۡهُ (মিনহু → তা থেকে)
حَبًّا (হাব্বান → শস্যদানা)
مُّتَرَاكِبًا (মুতারাকিবান → একটির ওপর আরেকটি সজ্জিত)
وَمِنَ (ওয়া মিনা → এবং থেকে)
النَّخۡلِ (আন-নাখলি → খেজুরগাছ)
مِنۡ (মিন → থেকে)
طَلۡعِهَا (তালইহা → তার মোচা)
قِنۡوَانٌ (কিনওয়ানুন → খেজুরের গুচ্ছ)
دَانِيَةٌ (দানিয়াতুন → ঝুলন্ত / নিকটবর্তী)
وَّجَنّٰتٍ (ওয়া জান্নাতিন → এবং বাগানসমূহ)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
اَعۡنَابٍ (আ‘নাবিন → আঙুর)
وَّالزَّيۡتُونَ (ওয়ায-যাইতূনা → এবং জলপাই)
وَالرُّمَّانَ (ওয়ার-রুম্মানা → এবং ডালিম)
مُشۡتَبِهًا (মুশতাবিহান → দেখতে সাদৃশ্যপূর্ণ)
وَّغَيۡرَ (ওয়া গাইরা → এবং অসাদৃশ্য)
مُتَشَابِهٍ (মুতাশাবিহিন → পরস্পরের মতো নয়)
اُنۡظُرُوٓا (উনযুরূ → তোমরা লক্ষ্য করো)
اِلٰى (ইলা → দিকে)
ثَمَرِهٖ (ছামারিহী → তার ফলের)
اِذَا (ইযা → যখন)
اَثۡمَرَ (আছমারা → ফল ধরে)
وَيَنۡعِهٖ (ওয়া ইয়ানইহী → এবং তার পরিপক্ব হওয়া)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
فِىۡ (ফী → মধ্যে)
ذٰلِكُمۡ (যালিকুম → এতে)
لَاٰيٰتٍ (লা-আয়াতিন → অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে)
لِّقَوۡمٍ (লিকাওমিন → এমন সম্প্রদায়ের জন্য)
يُّؤۡمِنُونَ (ইউ’মিনূন → যারা বিশ্বাস আনে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তিনিই আকাশ থেকে পানি নাযিল করেন। অতঃপর তা দ্বারা আমরা সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি। তারপর তা থেকে সবুজ অঙ্কুর বের করি, যেখান থেকে আমরা স্তরে স্তরে সাজানো শস্যদানা উৎপন্ন করি। আর খেজুরগাছের মোচা থেকে ঝুলন্ত খেজুরের গুচ্ছ বের করি। আর উৎপন্ন করি আঙুরের বাগান, জলপাই ও ডালিম—যেগুলোর কিছু দেখতে সাদৃশ্যপূর্ণ, আবার কিছু অসাদৃশ্য। তোমরা এর ফলের দিকে লক্ষ্য করো, যখন তা ফল ধরে এবং যখন তা পরিপক্ব হয়। নিশ্চয়ই এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য বহু আয়াত (নিদর্শন) রয়েছে।


আয়াত-১০০ঃ

وَجَعَلُوا (ওয়া জা‘আলূ → আর তারা স্থির করেছে)
لِلّٰهِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
شُرَكَآءَ (শুরাকাআ → অংশীদার)
الۡجِنَّ (আল-জিন্না → জিনদের)
وَخَلَقَهُمۡ (ওয়া খালাকাহুম → অথচ তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন)
وَخَرَقُوا (ওয়া খারাকূ → আর তারা মিথ্যাভাবে আরোপ করেছে)
لَهٗ (লাহূ → তাঁর জন্য)
بَنِينَ (বানীনা → পুত্র)
وَبَنٰتٍ (ওয়া বানাতিন → এবং কন্যা)
بِغَيۡرِ (বিগাইরি → কোনো)
عِلۡمٍ (ইলমিন → জ্ঞান ছাড়া)
سُبۡحٰنَهٗ (সুবহানাহূ → তিনি পবিত্র)
وَتَعٰلٰى (ওয়া তা‘আলা → এবং তিনি বহু ঊর্ধ্বে)
عَمَّا (আম্মা → তারা যা)
يَصِفُونَ (ইয়াসিফূন → বর্ণনা করে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারা জিনদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তারা কোনো জ্ঞান ছাড়াই তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা আরোপ করেছে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।