সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৭৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-২৬ঃ

يُرِيدُ (ইউরীদু → ইচ্ছা করেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لِيُبَيِّنَ (লিইউবাইয়্যিনা → স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَيَهْدِيَكُمْ (ওয়া ইয়াহদিয়াকুম → এবং তোমাদের পথ প্রদর্শন করতে)
سُنَنَ (সুনানা → নীতিমালা ও পথসমূহ)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → তাদের)
مِنْ (মিন → যারা)
قَبْلِكُمْ (কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে ছিল)
وَيَتُوبَ (ওয়া ইয়াতূবা → এবং ক্ষমা করতে)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের)
وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → এবং আল্লাহ)
عَلِيمٌ (আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
حَكِيمٌ (হাকীমুন → প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে অবহিত করতে আর তোমাদের ক্ষমা করতে। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-২৭ঃ

وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
يُرِيدُ (ইউরীদু → চান)
أَنْ (আন → যে)
يَتُوبَ (ইয়াতূবা → ক্ষমা করুন/তাওবা কবুল করুন)
عَلَيْكُمْ (আলাইকুম → তোমাদের প্রতি)
وَيُرِيدُ (ওয়া ইউরীদু → আর চায়)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَتَّبِعُونَ (ইয়াত্তাবি‘ঊনা → অনুসরণ করে)
الشَّهَوَاتِ (আশ-শাহাওয়াতি → প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনা)
أَنْ (আন → যে)
تَمِيلُوا (তামীলূ → তোমরা হও)
مَيْلًا (মাইলান → বিচ্যুতি)
عَظِيمًا (আযীমা → মহাবড়/গভীর)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করতে চান, আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা ভীষণভাবে পথচ্যুত হও।


আয়াত-২৮ঃ

يُرِيدُ (ইউরীদু → চান)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
أَنْ (আন → যে)
يُخَفِّفَ (ইউখাফ্ফিফা → বোঝা হালকা করে দিতে)
عَنْكُمْ (আনকুম → তোমাদের থেকে)
وَخُلِقَ (ওয়া খুলিকা → এবং সৃষ্টি করা হয়েছে)
الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু → মানুষকে)
ضَعِيفًا (দা‘ঈফান → দুর্বল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বলরূপে।


আয়াত-২৯ঃ

يَا (ইয়া → হে)
أَيُّهَا (আইয়ুহা → সকল)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
لَا (লা → না)
تَأْكُلُوا (তা’কুলূ → তোমরা ভক্ষণ করো/গ্রাস করো)
أَمْوَالَكُمْ (আমওয়ালাকুম → তোমাদের সম্পদ)
بَيْنَكُمْ (বাইনাকুম → তোমাদের পারস্পরিক মধ্যে)
بِالْبَاطِلِ (বিল-বাতিলি → অন্যায়ভাবে)
إِلَّا (ইল্লা → তবে)
أَنْ (আন → যদি)
تَكُونَ (তাকূনা → হয়)
تِجَارَةً (তিজারাতান → ব্যবসা-বাণিজ্য)
عَنْ (আন → ভিত্তিক)
تَرَاضٍ (তারাদিন → পারস্পরিক সম্মতি)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَقْتُلُوا (তাকতুলূ → হত্যা করো)
أَنْفُسَكُمْ (আনফুসাকুম → নিজেদেরকে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → হলেন)
بِكُمْ (বিকুম → তোমাদের প্রতি)
رَحِيمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না; কিন্তু তোমাদের পরস্পরে সম্মত হয়ে ব্যবসা করো; আর একে অপরকে হত্যা কর না; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।


আয়াত-৩০ঃ

وَمَنْ (ওয়া মান → এবং যে কেউ)
يَفْعَلْ (ইয়াফ‘আল → করে)
ذَلِكَ (যালিকা → এটা)
عُدْوَانًا (উদওয়ানান → সীমালঙ্ঘন করে)
وَظُلْمًا (ওয়া জুলমান → এবং অন্যায়ভাবে)
فَسَوْفَ (ফাসাওফা → তবে শীঘ্রই)
نُصْلِيهِ (নুসলিহি → আমরা তাকে প্রবেশ করাব/দগ্ধ করাব)
نَارًا (না-রান → আগুনে)
وَكَانَ (ওয়া কানা → এবং এটি ছিল)
ذَلِكَ (যালিকা → তা)
عَلَى (আলা → উপর)
اللَّهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
يَسِيرًا (ইয়াসীরা → সহজ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে কেউ সীমালংঘন করে অন্যায়ভাবে তা করবে তাকে আগুনে দগ্ধ করব ; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।


আয়াত-৩১ঃ

اِنْ (ইন → যদি)
تَجْتَنِبُوا (তাজতানিবূ → তোমরা বর্জন করো)
كَبَائِرَ (কাবা-ইরা → বড় গুনাহ)
مَا (মা → যা)
تُنْهَوْنَ (তুনহাওনা → তোমাদের নিষেধ করা হয়)
عَنْهُ (আনহু → তা থেকে)
نُكَفِّرْ (নুকাফফির → আমরা মুছে দেব)
عَنْكُمْ (আনকুম → তোমাদের থেকে)
سَيِّئَاتِكُمْ (সাইয়িয়াতিকুম → তোমাদের ছোট পাপসমূহ)
وَنُدْخِلْكُمْ (ওয়া নুদখিলকুম → এবং আমরা তোমাদের প্রবেশ করাব)
مُدْخَلًا (মুদখালান → এক মর্যাদাপূর্ণ প্রবেশস্থানে)
كَرِيمًا (কারীমা → সম্মানিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমাদেরকে যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা গুরুতর পাপ তা হতে বিরত থাকলে তোমাদের ছোট পাপগুলি মোচন করবো আর তোমাদেরকে সম্মানজনক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রবেশ করাবো।


আয়াত-৩২ঃ

وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَتَمَنَّوْا (তাতামান্নাও → তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না)
مَا (মা → যা)
فَضَّلَ (ফাদ্দালা → প্রাধান্য দিয়েছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِهِ (বিহী → এর মাধ্যমে)
بَعْضَكُمْ (বা‘দাকুম → তোমাদের কিছুজনকে)
عَلَىٰ (আলা → ওপর)
بَعْضٍ (বা‘দিন → অন্যদের ওপর)
لِلرِّجَالِ (লিররিজালি → পুরুষদের জন্য)
نَصِيبٌ (নাসীবুন → অংশ)
مِمَّا (মিম্মা → যা)
اكْتَسَبُوا (ইকতাসাবূ → তারা অর্জন করেছে)
وَلِلنِّسَاءِ (ওয়া লিন্নিসাআ → আর নারীদের জন্য)
نَصِيبٌ (নাসীবুন → অংশ)
مِمَّا (মিম্মা → যা)
اكْتَسَبْنَ (ইকতাসাবনা → তারা অর্জন করেছে)
وَاسْأَلُوا (ওয়াসআলূ → তোমরা চাও)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর কাছে)
مِنْ (মিন → থেকে)
فَضْلِهِ (ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → আছেন)
بِكُلِّ (বিকুল্লি → সব)
شَيْءٍ (শাইইন → বিষয়)
عَلِيمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমরা এমন কিছুর আকাঙ্ক্ষা করো না, যেটার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের কাউকে অন্যের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ আর নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ। আর তোমরা আল্লাহর কাছেই তাঁর অনুগ্রহ চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।


আয়াত-৩৩ঃ

وَلِكُلٍّ (ওয়া লিকুল্লিন → আর প্রত্যেকের জন্য)
جَعَلْنَا (জা‘আলনা → আমরা নির্ধারণ করেছি)
مَوَالِيَ (মাওয়ালি → উত্তরাধিকারী)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
تَرَكَ (তারাকা → রেখে গেছে)
الْوَالِدَانِ (ওয়ালিদানি → পিতা-মাতা)
وَالْأَقْرَبُونَ (ওয়াল আকরাবূনা → এবং আত্মীয়-স্বজন)
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
عَقَدَتْ (আকাদাত → চুক্তিবদ্ধ হয়েছে)
أَيْمَانُكُمْ (আইমানুকুম → তোমাদের অঙ্গিকারভুক্ত)
فَآتُوهُمْ (ফাআতুহুম → তাদের দাও)
نَصِيبَهُمْ (নাসীবাহুম → তাদের অংশ)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → আছেন)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
شَيْءٍ (শাইইন → বিষয়ের)
شَهِيدًا (শাহীদা → সাক্ষী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি উত্তরাধিকারী, যা পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়রা রেখে যায় তা থেকে। আর যাদের সাথে তোমাদের অঙ্গিকার রয়েছে, তাদেরকে তাদের অংশ প্রদান করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর সাক্ষী।


আয়াত-৩৪ঃ

اَلرِّجَالُ (আর-রিজালু → পুরুষরা)
قَوَّامُونَ (কাওওয়ামূনা → দায়িত্বশীল)
عَلَى النِّسَاءِ (আলান নিসাআ → নারীদের উপর)
بِمَا (বিমা → কারণ)
فَضَّلَ (ফাদ্দালা → প্রাধান্য দিয়েছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بَعْضَهُمْ (বা‘দাহুম → তাদের কিছুজনকে)
عَلَىٰ بَعْضٍ (আলা বা‘দিন → অন্যদের উপর)
وَبِمَا (ওয়া বিমা → এবং কারণ)
أَنْفَقُوا (আনফাকূ → তারা ব্যয় করে)
مِنْ أَمْوَالِهِمْ (মিন আমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদ থেকে)
فَالصَّالِحَاتُ (ফাস সালিহাতু → সতী নারীরা)
قَانِتَاتٌ (কানিতাতুন → অনুগত)
حَافِظَاتٌ (হাফিযাতুন → রক্ষাকারী)
لِلْغَيْبِ (লিল গাইব → গোপনে)
بِمَا (বিমা → কারণ)
حَفِظَ (হাফিযা → রক্ষা করেছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَاللَّاتِي (ওয়াল্লাতী → আর যাদের ব্যাপারে)
تَخَافُونَ (তাখাফূনা → তোমরা ভয় করো)
نُشُوزَهُنَّ (নুশূযাহুন্না → তাদের অবাধ্যতা)
فَعِظُوهُنَّ (ফা‘ইজূহুন্না → তাদের উপদেশ দাও)
وَاهْجُرُوهُنَّ (ওয়াহজুরূহুন্না → তাদের থেকে আলাদা থাকো)
فِي الْمَضَاجِعِ (ফিল মাদা-জি‘ → শয্যায়)
وَاضْرِبُوهُنَّ (ওয়াদরিবূহুন্না → তাদের শাসন করো)
فَإِنْ (ফাইন → যদি)
أَطَعْنَكُمْ (আতা‘নাকুম → তারা তোমাদের মানে)
فَلَا تَبْغُوا (ফালা তাবগূ → তবে বাড়াবাড়ি করো না)
عَلَيْهِنَّ (আলাইহিন্না → তাদের বিরুদ্ধে)
سَبِيلًا (সাবীলা → কোনো পথ)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → আছেন)
عَلِيًّا (আলিয়্যু → সর্বোচ্চ)
كَبِيرًا (কাবীরা → সুমহান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
পুরুষরা নারীদের উপর দায়িত্বশীল, কারণ আল্লাহ তাদের কাউকে অন্যের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সৎ নারীরা অনুগত থাকে এবং আল্লাহ যা গোপনে রক্ষা করেছেন তা তারা রক্ষা করে। আর যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের উপদেশ দাও, বিছানায় তাদের থেকে আলাদা থাকো এবং প্রয়োজনে শাসন করো। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোচ্চ ও সুমহান।


আয়াত-৩৫ঃ

وَإِنْ (ওয়া ইন → আর যদি)
خِفْتُمْ (খিফতুম → তোমরা ভয় করো)
شِقَاقَ (শিকা-ক → বিরোধ)
بَيْنِهِمَا (বাইনিহিমা → তাদের দু’জনের মধ্যে)
فَابْعَثُوا (ফাব‘আছূ → তোমরা পাঠাও)
حَكَمًا (হাকামান → একজন বিচারক)
مِنْ أَهْلِهِ (মিন আহলিহী → তার পরিবারের পক্ষ থেকে)
وَحَكَمًا (ওয়া হাকামান → এবং একজন বিচারক)
مِنْ أَهْلِهَا (মিন আহলিহা → তার পরিবারের পক্ষ থেকে)
إِنْ (ইন → যদি)
يُرِيدَا (ইউরীদা → তারা দু’জন চায়)
إِصْلَاحًا (ইসলাহান → সংশোধন/সমঝোতা)
يُوَفِّقِ (ইউওয়াফফিক → মিলিয়ে দেন/সফল করেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بَيْنَهُمَا (বাইনাহুমা → তাদের দু’জনের মধ্যে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → আছেন)
عَلِيمًا (আলীমা → অত্যন্ত জ্ঞানী)
خَبِيرًا (খাবীরা → সম্পূর্ণ অবগত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তোমরা তাদের দু’জনের মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তাহলে একজন বিচারক নিযুক্ত কর তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং একজন বিচারক আরেক পরিবারের পক্ষ থেকে। যদি তারা উভয়ে সমঝোতা চাই, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত জ্ঞানী ও সব বিষয়ে অবগত।


আয়াত-৩৬ঃ

وَاعْبُدُوا (ওয়া‘বুদূ → তোমরা দাসত্ব করো)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تُشْرِكُوا (তুশরিকূ → তোমরা শরিক করো)
بِهِ (বিহী → তাঁর সাথে)
شَيْئًا (শাইআ → কোনো কিছু)
وَبِالْوَالِدَيْنِ (ওয়াবিল ওয়ালিদাইন → পিতা-মাতার সাথে)
إِحْسَانًا (ইহসানান → সদ্ব্যবহার)
وَبِذِي الْقُرْبَىٰ (ওয়া বিযিল কুরবা → নিকট আত্মীয়দের সাথে)
وَالْيَتَامَىٰ (ওয়াল ইয়াতামা → এতিমদের সাথে)
وَالْمَسَاكِينِ (ওয়াল মাসাকীন → গরিবদের সাথে)
وَالْجَارِ (ওয়াল জার → প্রতিবেশীর সাথে)
ذِي الْقُرْبَىٰ (যিল কুরবা → নিকট প্রতিবেশী)
وَالْجَارِ (ওয়ালজার → এবং প্রতিবেশী)
الْجُنُبِ (আল জুনুব → দূরের প্রতিবেশী)
وَالصَّاحِبِ (ওয়াস সাহিব → সহচর/সাথী)
بِالْجَنْبِ (বিল জানব → পাশে থাকা ব্যক্তি)
وَابْنِ السَّبِيلِ (ওয়াবনিস সাবীল → পথচারী/মুসাফির)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যারা)
مَلَكَتْ (মালাকাত → অধিকারভুক্ত)
أَيْمَانُكُمْ (আইমানুকুম → তোমাদের হাতের অধীন)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَا يُحِبُّ (লা ইউহিব্বু → ভালোবাসেন না)
مَنْ (মান → যে ব্যক্তি)
كَانَ (কানা → হয়)
مُخْتَالًا (মুখতালান → অহংকারী)
فَخُورًا (ফাখূরা → গর্বিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমরা আল্লাহর দাসত্ব করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, নিকট আত্মীয়, অসহায়, গরীব, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধীনস্থদের সাথেও ভালো আচরণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও দাম্ভিক ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।


আয়াত-৩৭ঃ

الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَبْخَلُونَ (ইয়াবখালূনা → কৃপণতা করে)
وَيَأْمُرُونَ (ওয়া ইয়া’মুরূনা → এবং নির্দেশ দেয়)
النَّاسَ (আন্নাসা → মানুষকে)
بِالْبُخْلِ (বিল বুখল → কৃপণতা করতে)
وَيَكْتُمُونَ (ওয়া ইয়াকতুমূনা → এবং গোপন করে রাখে)
مَا (মা → যা)
آتَاهُمُ (আতা-হুমু → তাদের দিয়েছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مِنْ فَضْلِهِ (মিন ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ থেকে)
وَأَعْتَدْنَا (ওয়া আ‘তাদনা → আমরা প্রস্তুত করেছি)
لِلْكَافِرِينَ (লিল কাফিরীন → অবিশ্বাসীদের জন্য)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
مُهِينًا (মুহীনা → অপমানজনক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়, এবং আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের যা দিয়েছেন তা গোপন করে রাখে, তাদের জন্য আমি অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।


আয়াত-৩৮ঃ

الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يُنْفِقُونَ (ইউনফিকূনা → ব্যয় করে)
أَمْوَالَهُمْ (আমওয়ালাহুম → তাদের সম্পদ)
رِئَاءَ (রিআআ → লোক দেখানো জন্য)
النَّاسِ (আন্নাস → মানুষের সামনে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
يُؤْمِنُونَ (ইউ’মিনূনা → তারা বিশ্বাস করে)
بِاللَّهِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
بِالْيَوْمِ الْآخِرِ (বিল ইয়াওমিল আখির → পরকালের প্রতি)
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
يَكُنِ (ইয়াকুনি → হয়)
الشَّيْطَانُ (আশ শাইতান → কুমন্ত্রণাদাতা)
لَهُ (লাহু → তার জন্য)
قَرِينًا (কারীনান → সঙ্গী/সাথী)
فَسَاءَ (ফাসা-আ → কতই না খারাপ)
قَرِينًا (কারীনা → সঙ্গী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা মানুষকে দেখানোর জন্যে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহ্ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন না। আর কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) কারও সঙ্গী হলে, সে কতই না মন্দ সঙ্গী!


আয়াত-৩৯ঃ

وَمَاذَا (ওয়া মা-যা → কীই বা)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের উপর)
لَوْ (লাও → যদি)
آمَنُوا (আ-মানূ → তারা বিশ্বাস আনত)
بِاللَّهِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَالْيَوْمِ الْآخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখির → পরকালের প্রতি)
وَأَنْفَقُوا (ওয়া আনফাকূ → এবং ব্যয় করত)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
رَزَقَهُمُ (রাঝাকাহুমু → আল্লাহ তাদের দিয়েছেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَكَانَ (ওয়া কানা → এবং ছিলেন)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِهِمْ (বিহিম → তাদের সম্পর্কে)
عَلِيمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস আনত এবং আল্লাহ তাদের যা দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করত? আর আল্লাহ তাদের বিষয়ে সর্বজ্ঞ।


আয়াত-৪০ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَا يَظْلِمُ (লা ইয়াজলিমু → তিনি জুলুম করেন না)
مِثْقَالَ (মিছকালা → পরিমাণ)
ذَرَّةٍ (যাররাতিন → অণু/ক্ষুদ্র কণা)
وَإِنْ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَكُ (তাকু → থাকে)
حَسَنَةً (হাসানাতান → একটি ভালো কাজ)
يُضَاعِفْهَا (ইউদা’ইফহা → তিনি তা বহুগুণ করেন)
وَيُؤْتِ (ওয়া ইউতি → এবং দান করেন)
مِنْ لَدُنْهُ (মিন লাদুনহু → তাঁর পক্ষ থেকে)
أَجْرًا (আজরান → প্রতিদান)
عَظِيمًا (আযীমা → মহান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ এক অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর যদি তা একটি ভালো কাজও হয়, তিনি সেটাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেন এবং নিজের পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার দান করেন।


আয়াত-৪১ঃ

فَكَيْفَ (ফাকাইফা → তখন কেমন হবে)
إِذَا (ইযা → যখন)
جِئْنَا (জি’না → আমরা উপস্থিত করব)
مِنْ (মিন → থেকে)
كُلِّ (কুল্লি → প্রত্যেক)
أُمَّةٍ (উম্মাতিন → জাতি/সম্প্রদায়)
بِشَهِيدٍ (বিশাহীদিন → একজন সাক্ষী)
وَجِئْنَا (ওয়া জি’না → এবং আমরা উপস্থিত করব)
بِكَ (বিকা → আপনাকে)
عَلَى (আলা → উপর)
هَؤُلَاءِ (হাউলাই → এদের)
شَهِيدًا (শাহীদান → সাক্ষীরূপে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে এদের উপর সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?

(বি:দ্র: রাসুলের সাক্ষ্যঃ সুরা আল ফুরকান ২৫:৩০= রাসূল বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাক্ত মনে করত।)


আয়াত-৪২ঃ

يَوْمَئِذٍ (ইয়াওমাইযিন → সেদিন/ নির্দিষ্ট সময়ের পর্যায়)
يَوَدُّ (ইয়াওয়াদ্দু → কামনা করবে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
وَعَصَوُا (ওয়া ‘আসাউ → এবং অবাধ্য হয়েছে)
الرَّسُولَ (আর-রাসূলা → রাসূলের)
لَوْ (লাও → যদি)
تُسَوَّى (তুসাওওয়া → সমান করে দেওয়া হতো)
بِهِمُ (বিহিমু → তাদের সঙ্গে)
الْأَرْضُ (আল-আরদু → পৃথিবী)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
يَكْتُمُونَ (ইয়াকতুমূনা → তারা গোপন করতে পারবে)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর কাছে)
حَدِيثًا (হাদীসান → কোনো কথা/বিবরণ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

সেদিন যারা অবিশ্বাস (কুফুরি) করেছে এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছে তারা কামনা করবে, যদি সেই নির্দিষ্ট সময়ে তাদেরকে যমীনের সঙ্গে একেবারে মিশিয়ে দেওয়া হতো। আর সেদিন তারা আল্লাহর কাছে কোনো হাদিসই (কথা/বাণী) গোপন করতে পারবে না।


আয়াত-৪৩ঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ(ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা → হে যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
لَا (লা → না)
تَقْرَبُوا (তাকরাবূ → তোমরা নিকটবর্তী হও)
الصَّلَاةَ (আস-সালাতা → যোগাযোগের/সংযোগের)
وَأَنْتُمْ (ওয়া আনতুম → যখন তোমরা)
سُكَارَى (সুকারা → নেশাগ্রস্ত/বিবেক ঢেকে যাওয়া / জ্ঞান-চেতনা আচ্ছন্ন হওয়া)
حَتَّى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
تَعْلَمُوا (তা‘লামূ → তোমরা জানো)
مَا (মা → যা)
تَقُولُونَ (তাকূলূনা → তোমরা বলছ)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
جُنُبًا (জুনুবান → অপবিত্র অবস্থায়)
إِلَّا (ইল্লা → তবে)
عَابِرِي (আবিরী → অতিক্রমকারী)
سَبِيلٍ (সাবীলিন → পথিক)
حَتَّى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
تَغْتَسِلُوا (তাগতাসিলূ → তোমরা গোসল কর/সম্পূর্ণভাবে পরিশুদ্ধ কর)
وَإِنْ (ওয়া ইন → আর যদি)
كُنْتُمْ (কুনতুম → তোমরা হও)
مَرْضَى (মারদা → অসুস্থ)
أَوْ (আও → অথবা)
عَلَى سَفَرٍ (আলা সাফারিন → সফরে)
أَوْ (আও → অথবা)
جَاءَ (জা-আ → এসেছে)
أَحَدٌ (আহাদুন → কেউ)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
مِنَ الْغَائِطِ (মিনাল গা-ইতি → পায়খানা থেকে/শৌচকার্য থেকে)
أَوْ (আও → অথবা)
لَامَسْتُمُ (লা-মাসতুম → তোমরা স্পর্শ করেছ)
النِّسَاءَ (আন-নিসাআ → নারীদের)
فَلَمْ (ফালাম → অতঃপর না)
تَجِدُوا (তাজিদূ → তোমরা পাও)
مَاءً (মা-আন → পানি)
فَتَيَمَّمُوا (ফাতাইয়াম্মামূ → পবিত্রতার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ কর)
صَعِيدًا (সাঈদান → পবিত্র মাটি)
طَيِّبًا (তাইয়্যিবান → পবিত্র)
فَامْسَحُوا (ফামসাহূ → অতঃপর মাসেহ করো)
بِوُجُوهِكُمْ (বিউজূহিকুম → তোমাদের মুখমণ্ডলে)
وَأَيْدِيكُمْ (ওয়া আইদীকুম → এবং তোমাদের হাতে)
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
كَانَ (কানা → হন)
عَفُوًّا (আফুওওয়ান → পরম ক্ষমাশীল)
غَفُورًا (গাফূরা → অত্যন্ত ক্ষমাকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বিকারগ্রস্ত অবস্থায় সংযোগের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না বুঝতে পারো তোমরা কী বলছ। আর অপবিত্র অবস্থায়ও নয়, তবে পথ অতিক্রমকারী হলে ভিন্ন কথা, যতক্ষণ না গোসল/সম্পূর্ণরূপে পরিশুদ্ধ হও। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ শৌচকার্য থেকে আসে, অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো, তারপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করো; অতঃপর তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত ক্ষমাকারী।


আয়াত-৪৪ঃ

أَلَمْ تَرَ (আলাম তারা → তুমি কি দেখনি)
إِلَى (ইলা → দিকে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
أُوتُوا (ঊতূ → দেওয়া হয়েছে)
نَصِيبًا (নাসীবান → অংশ)
مِنَ الْكِتَابِ (মিনাল কিতাবি → কিতাব থেকে)
يَشْتَرُونَ (ইয়াশতারূনা → তারা ক্রয় করে)
الضَّلَالَةَ (আদ্দালা-লাতা → ভ্রষ্টতা)
وَيُرِيدُونَ (ওয়া ইউরীদূনা → এবং তারা চায়)
أَنْ (আন → যে)
تَضِلُّوا (তাদিল্লূ → তোমরা পথভ্রষ্ট হও)
السَّبِيلَ (আস-সাবীল → পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তুমি কি তাদের দিকে লক্ষ করো না, যাদেরকে কিতাবের কিছু অংশ দেওয়া হয়েছে? তারা ভ্রষ্টতাকে কিনে নেয় এবং চায় যে তোমরাও পথভ্রষ্ট হও।


আয়াত-৪৫ঃ

وَاللَّهُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
أَعْلَمُ (আ‘লামু → সবচেয়ে ভালো জানেন)
بِأَعْدَائِكُمْ (বিআ‘দাইকুম → তোমাদের শত্রুদের বিষয়ে)
وَكَفَى (ওয়া কাফা → এবং যথেষ্ট)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহই)
وَلِيًّا (ওলিয়্যান → অভিভাবক হিসেবে)
وَكَفَى (ওয়া কাফা → এবং যথেষ্ট)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহই)
نَصِيرًا (নাসীরা → সাহায্যকারী হিসেবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আল্লাহ্ তোমাদের শত্রুদের বিষয়ে ভালভাবে জানেন। আল্লাহ্ই অভিভাবক হিসাবে যথেষ্ট এবং সাহায্যেকারী হিসেবেও আল্লাহ্ই যথেষ্ট।


আয়াত-৪৬ঃ

مِنَ الَّذِينَ (মিনাল্লাযীনা → তাদের মধ্যে যারা)
هَادُوا (হাদূ → অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছিল)
يُحَرِّفُونَ (ইউহাররিফূনা → তারা বিকৃত করে)
الْكَلِمَ (আল কালিমা → কথাগুলো)
عَنْ مَوَاضِعِهِ (আন মাওয়াদিইহি → তার স্থান থেকে)
وَيَقُولُونَ (ওয়া ইয়াকূলূনা → এবং তারা বলে)
سَمِعْنَا (সামি‘না → আমরা শুনেছি)
وَعَصَيْنَا (ওয়া ‘আসাইনা → এবং আমরা অমান্য করেছি)
وَاسْمَعْ (ওয়াসমা‘ → শুনুন)
غَيْرَ مُسْمَعٍ (গাইরা মুসমা‘ → যেন না শোনা হয়)
وَرَاعِنَا (ওয়া রা‘ইনা → আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন)
لَيًّا (লাইয়্যন → বিকৃত করে)
بِأَلْسِنَتِهِمْ (বিআলসিনাতিহিম → তাদের জিহ্বা দিয়ে)
وَطَعْنًا (ওয়া তা‘নান → এবং কটূক্তি)
فِي الدِّينِ (ফিদ্দীন → জীবণব্যবস্থার বিরুদ্ধে)
وَلَوْ (ওয়া লাও → আর যদি)
أَنَّهُمْ (আন্নাহুম → তারা)
قَالُوا (কালূ → বলত)
سَمِعْنَا (সামি‘না → আমরা শুনেছি)
وَأَطَعْنَا (ওয়া আতা‘না → এবং আমরা মান্য করেছি)
وَاسْمَعْ (ওয়াসমা‘ → এবং শুনুন)
وَانْظُرْنَا (ওয়ানযুরনা → আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিন)
لَكَانَ (লাকানা → হতো)
خَيْرًا (খাইরান → উত্তম)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
وَأَقْوَمَ (ওয়া আকওয়ামা → এবং অধিক সঠিক)
وَلَٰكِنْ (ওয়ালাকিন → কিন্তু)
لَعَنَهُمُ اللَّهُ (লা‘আনাহুমুল্লাহু → আল্লাহ তাদের অভিশাপ করেছেন)
بِكُفْرِهِمْ (বিকুফরিহিম → তাদের অবিশ্বাসের কারণে)
فَلَا (ফালা → তাই না)
يُؤْمِنُونَ (ইউ’মিনূনা → তারা বিশ্বাস আনে)
إِلَّا (ইল্লা → তবে)
قَلِيلًا (কালীলা → অল্প)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসাদের (ইহুদিদের) মধ্যে এমন একদল আছে যারা কালিমাগুলোকে (শব্দগুলোকে) তাদের আসল স্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে, “আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করি” এবং বলে “শুনুন, যেন না শোনেন”, আর বলে “আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন”—তারা তাদের জিহ্বাকে বাঁকিয়ে এবং জীবণব্যবস্থার (ধর্মের) বিরুদ্ধে কটূক্তি করে। যদি তারা বলত, “আমরা শুনেছি ও মেনেছি” এবং বলত “শুনুন” ও “আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিন”, তবে তা তাদের জন্য অধিক উত্তম ও মঙ্গলজনক হতো। কিন্তু আল্লাহ তাদের অবিশ্বাসের (কুফরের) কারণে তাদের অভিশাপ দিয়েছেন, তাই তারা খুব অল্পই বিশ্বাস (ঈমান) আনে।


আয়াত-৪৭ঃ

يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা → হে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
أُوتُوا (ঊতূ → দেওয়া হয়েছে)
الْكِتَابَ (আল কিতাবা → কিতাব)
آمِنُوا (আ-মিনূ → বিশ্বাস আনো)
بِمَا (বিমা → সেই বিষয়ে যা)
نَزَّلْنَا (নাযযালনা → আমরা নাযিল করেছি)
مُصَدِّقًا (মুসাদ্দিকান → সত্যায়নকারী হিসেবে)
لِمَا (লিমা → যা)
مَعَكُمْ (মা‘আকুম → তোমাদের কাছে আছে)
مِنْ قَبْلِ (মিন কাবলি → পূর্বে)
أَنْ (আন → যে)
نَطْمِسَ (নাতমিসা → আমরা মুছে দিই)
وُجُوهًا (উজূহান → মুখমণ্ডল)
فَنَرُدَّهَا (ফানারুদ্দাহা → তারপর আমরা ফিরিয়ে দেব)
عَلَى أَدْبَارِهَا (আলা আদবারিহা → তাদের পেছনে)
أَوْ (আও → অথবা)
نَلْعَنَهُمْ (নাল‘আনাহুম → আমরা অভিশাপ করব তাদের)
كَمَا (কামা → যেমন)
لَعَنَّا (লা‘আন্না → আমরা অভিশাপ করেছি)
أَصْحَابَ السَّبْتِ (আসহাবাস সাবত → শনিবারের লোকদের)
وَكَانَ (ওয়া কানা → এবং ছিল)
أَمْرُ اللَّهِ (আমরুল্লাহি → আল্লাহর নির্দেশ)
مَفْعُولًا (মাফ‘ঊলা → অবশ্যই বাস্তবায়িত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে কিতাবপ্রাপ্তগণ! তোমরা বিশ্বাস আনো সেই কিতাবের প্রতি যা আমরা অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের কাছে পূর্বে থাকা কিতাবকে সত্যায়ন করে, সেই সময় আসার আগে যখন আমি কিছু চেহেরাকে বিকৃত করে দেব, তারপর তা তাদের পেছন দিকে ফিরিয়ে দেব, অথবা তাদেরকে অভিশাপ করব যেমন আমি শনিবারের লোকদের অভিশাপ করেছি। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই বাস্তবায়িত হয়।


আয়াত-৪৮ঃ

إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
لَا يَغْفِرُ (লা ইয়াগফিরু → ক্ষমা করেন না)
أَنْ (আন → যে)
يُشْرَكَ (ইউশরাকা → শরিক করা হয়)
بِهِ (বিহি → তাঁর সাথে)
وَيَغْفِرُ (ওয়া ইয়াগফিরু → এবং তিনি ক্ষমা করেন)
مَا (মা → যা)
دُونَ (দূনা → ছাড়া)
ذَٰلِكَ (যালিকা → সেটা)
لِمَنْ (লিমান → যাকে)
يَشَاءُ (ইয়াশাউ → তিনি চান)
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে)
يُشْرِكْ (ইউশরিক → শরিক করে)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর সাথে)
فَقَدِ (ফাকাদ → তবে সে নিশ্চিতভাবে)
افْتَرَىٰ (ইফতারা → মিথ্যা রচনা করেছে)
إِثْمًا (ইছমান → পাপ)
عَظِيمًا (আজীমা → বড়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীদার (শরিক) করাকে ক্ষমা করেন না, কিন্তু এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে অংশীদার (শরিক) করে, তবে সে নিশ্চিতভাবে এক মহাপাপের মিথ্যা রচনা করেছে।


আয়াত-৪৯ঃ

أَلَمْ تَرَ (আলামতারা → তুমি কি দেখনি)
إِلَى (ইলা → দিকে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يُزَكُّونَ (ইউযাক্কূনা → নিজেদের পরিশুদ্ধ মনে করে)
أَنْفُسَهُمْ (আনফুসাহুম → নিজেদেরকে)
بَلِ (বালি → বরং)
اللَّهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
يُزَكِّي (ইউযাক্কী → পরিশুদ্ধ করেন)
مَنْ (মান → যাকে)
يَشَاءُ (ইয়াশাউ → তিনি চান)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
يُظْلَمُونَ (ইউজলামূনা → তাদের প্রতি জুলুম করা হয়)
فَتِيلًا (ফাতীলা → সামান্য পরিমাণও)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তুমি কি তাদের দিকে লক্ষ্য করো না, যারা নিজেদেরকে খুব পরিশুদ্ধ (যাকাত) বলে দাবি করে? বরং আল্লাহ যাকে চান তাকেই পরিশুদ্ধ (যাকাত) করেন। আর তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও অন্যায় করা হবে না।


আয়াত-৫০ঃ

اُنْظُرْ (উনযুর → চিন্তা করো)
كَيْفَ (কাইফা → কীভাবে)
يَفْتَرُونَ (ইফতারূনা → তারা মিথ্যা রচনা করে)
عَلَى اللَّهِ (আলাল্লাহি → আল্লাহর ওপর)
الْكَذِبَ (আল-কাযিবা → মিথ্যা)
وَكَفَى (ওয়া কাফা → আর যথেষ্ট)
بِهِ (বিহি → এটা)
إِثْمًا (ইছমান → পাপ হিসেবে)
مُبِينًا (মুবীনা → স্পষ্ট/পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তুমি কি দেখো না তারা কীভাবে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করছে? আর এটাই পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত পাপ হিসেবে যথেষ্ট।