সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৭৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-৭৬ঃ

اَلَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
یُقَاتِلُوۡنَ (ইউকাতিলূনা → যুদ্ধ করে)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
سَبِیۡلِ (সাবীলি → পথে)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
یُقَاتِلُوۡنَ (ইউকাতিলূনা → যুদ্ধ করে)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
سَبِیۡلِ (সাবীলি → পথে)
الطَّاغُوۡتِ (আত-তাগূতি → মিথ্যা উপাস্যের (তাগূতের)
فَقَاتِلُوۡۤا (ফাকাতিলূ → সুতরাং তোমরা যুদ্ধ করো)
اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়াআ → বন্ধু/অনুসারীদের বিরুদ্ধে)
الشَّیۡطٰنِ (আশ-শাইতানি → কুমন্ত্রণাদাতার)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
کَیۡدَ (কাইদা → চক্রান্ত)
الشَّیۡطٰنِ (আশ-শাইতানি → কুমন্ত্রণাদাতার)
کَانَ (কানা → ছিল)
ضَعِیۡفًا (দাঈফা → দুর্বল)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা বিশ্বাস এনেছে তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, আর যারা অবিশ্বাস করেছে তারা মিথ্যা উপাস্যের (তাগূতের) পথে যুদ্ধ করে। সুতরাং তোমরা কুমন্ত্রণাদাতের (শয়তানের) অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিশ্চয়ই কুমন্ত্রণাদাতার (শয়তানের) চক্রান্ত দুর্বল।


আয়াত-৭৭ঃ

اَلَمۡ تَرَ (আলাম তারা→ তুমি কি দেখনি দেখেছ)
اِلَی (ইলা → দিকে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → তাদের যারা)
قِیۡلَ (কীলা → বলা হয়েছিল)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
کُفُّوۡۤا (কুফ্ফূ → বিরত রাখো)
اَیۡدِیَکُمۡ (আইদিয়াকুম → তোমাদের হাত)
وَاَقِیۡمُوا (ওয়া আকীমূ → এবং প্রতিষ্ঠা করো)
الصَّلٰوۃَ (আস-সালাতা → যোগাযোগ)
وَاٰتُوا (ওয়া আতূ → এবং হও)
الزَّکٰوۃَ (আয-যাকাতা → পরিশুদ্ধ)
فَلَمَّا (ফালাম্মা → অতঃপর যখন)
کُتِبَ (কুতিবা → লিখিত বিধান করা হলো)
عَلَیۡہِمُ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
الۡقِتَالُ (আল-কিতালু → সংগ্রাম)
اِذَا (ইযা → তখন)
فَرِیۡقٌ (ফারীকুন → একদল)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে থেকে)
یَخۡشَوۡنَ (ইয়াখশাওনা → ভয় করে)
النَّاسَ (আন-নাসা → মানুষকে)
کَخَشۡیَۃِ (কাখাশইয়াতি → যেমন ভয়)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহকে)
اَوۡ (আও → অথবা)
اَشَدَّ (আশাদ্দা → আরও বেশি)
خَشۡیَۃً (খাশইয়াতান → ভয়)
وَقَالُوۡا (ওয়া কালূ → এবং তারা বলল)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
لِمَ (লিমা → কেন)
کَتَبۡتَ (কাতাবতা → আপনি লিখিত বিধান করলেন)
عَلَیۡنَا (আলাইনা → আমাদের ওপর)
الۡقِتَالَ (আল-কিতালা → সংগ্রাম করা)
لَوۡلَاۤ (লাওলা → কেন নয়)
اَخَّرۡتَنَاۤ (আখখারতানা → আপনি আমাদের অবকাশ দিলেন)
اِلٰۤی (ইলা → পর্যন্ত)
اَجَلٍ (আজালিন → এক নির্দিষ্ট সময়)
قَرِیۡبٍ (কারীবিন → নিকটবর্তী)
قُلۡ (কুল → বলুন)
مَتَاعُ (মাতাউ → ভোগ-সামগ্রী)
الدُّنۡیَا (আদ-দুনইয়া → দুনিয়ার)
قَلِیۡلٌ (কালীলুন → অল্প)
وَالۡاٰخِرَۃُ (ওয়াল আখিরাতু → আর পরকাল)
خَیۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
لِّمَنِ (লিমানি → তার জন্য যে)
اتَّقٰی (ইত্তাকা → খোদাভীরুতা অবলম্বন করে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تُظۡلَمُوۡنَ (তুজলামূনা → তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে)
فَتِیۡلًا (ফাতীলা → একেবারে নগণ্য কিছু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদের বলা হয়েছিল, “তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করো এবং পরিশুদ্ধ হও।” অতঃপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধ লিখিত বিধান করা হলো, তখন তাদের একদল মানুষকে এমন ভয় করতে লাগল যেমন আল্লাহকে ভয় করা উচিত, বরং তার চেয়েও বেশি। তারা বলল, “হে আমাদের প্রতিপালক! কেন আপনি আমাদের ওপর যুদ্ধ লিখিত বিধান করলেন? কেন আমাদেরকে আর কিছুদিন অবকাশ দিলেন না?” বলুন, “দুনিয়ার ভোগসামগ্রী ক্ষুদ্র, আর পরকাল সেই ব্যক্তির জন্য উত্তম যে খোদাভীরুতা অবলম্বন করে। আর তোমাদের প্রতি অতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না।”


আয়াত-৭৮ঃ

اَیۡنَمَا (আইনামা → যেখানে)
تَکُوۡنُوۡا (তাকূনূ → তোমরা থাকো)
یُدۡرِکۡکُّمُ (ইউদরিককুমু → তোমাদেরকে পেয়ে যাবে)
الۡمَوۡتُ (আল-মাউতু → মৃত্যু)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → যদিও)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা থাকো)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
بُرُوۡجٍ (বুরুজিন → সুদৃঢ় দুর্গে)
مُّشَیَّدَۃٍ (মুশাইয়াদাতিন → মজবুতভাবে নির্মিত)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تُصِبۡہُمۡ (তুসিবহুম → তাদেরকে পৌঁছে)
حَسَنَۃٌ (হাসানাতুন → ভালো কিছু)
یَّقُوۡلُوۡا (ইয়াকূলূ → তারা বলে)
هٰذِہٖ (হাযিহি → এটা)
مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ (মিন ‘ইনদিল্লাহি → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تُصِبۡہُمۡ (তুসিবহুম → তাদেরকে পৌঁছে)
سَیِّئَۃٌ (সাইয়িয়াতুন → খারাপ কিছু)
یَّقُوۡلُوۡا (ইয়াকূলূ → তারা বলে)
هٰذِہٖ (হাযিহি → এটা)
مِنۡ عِنۡدِکَ (মিন ‘ইনদিকা → আপনার পক্ষ থেকে)
قُلۡ (কুল → বলুন)
کُلٌّ (কুল্লুন → সবকিছু)
مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ (মিন ‘ইনদিল্লাহি → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
فَمَالِ (ফামা-লি → তাহলে কী হয়েছে)
هٰۤؤُلَآءِ (হাউলা-ই → এদের)
الۡقَوۡمِ (আল-কাওমি → জাতি)
لَا یَکَادُوۡنَ (লা ইয়াকা-দূনা → প্রায় পারে না)
یَفۡقَہُوۡنَ (ইয়াফকাহূনা → বুঝতে)
حَدِیۡثًا (হাদীছান → কথা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পেয়ে যাবে—যদিও তোমরা মজবুত দুর্গের ভিতরেও থাকো। আর যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে, তখন তারা বলে—“এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে।” আর যদি কোনো অকল্যাণ পৌঁছে, তখন তারা বলে—“এটা আপনার পক্ষ থেকে।” বলুন, “সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।” তাহলে এদের কী হয়েছে যে তারা কোনো হাদিস (কথা) বুঝতেই চায় না?


আয়াত-৭৯ঃ

مَاۤ (মা → যা)
اَصَابَکَ (আসাবাকা → তোমার ওপর পৌঁছেছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
حَسَنَۃٍ (হাসানাতিন → কোনো ভালো)
فَمِنَ اللّٰہِ (ফামিনাল্লাহি → তা আল্লাহর পক্ষ থেকে)
وَمَاۤ (ওয়া মা → আর যা)
اَصَابَکَ (আসাবাকা → তোমার ওপর পৌঁছেছে)
مِنۡ (মিন → থেকে)
سَیِّئَۃٍ (সাইয়িয়াতিন → কোনো খারাপ)
فَمِنۡ نَّفۡسِکَ (ফামিন নাফসিকা → তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে)
وَاَرۡسَلۡنٰکَ (ওয়া আরসালনা-কা → এবং আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি)
لِلنَّاسِ (লিন্নাসি → মানুষের জন্য)
رَسُوۡلًا (রাসূলান → রাসূল হিসেবে)
وَکَفٰی (ওয়া কাফা → এবং যথেষ্ট)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহ)
شَہِیۡدًا (শাহীদান → সাক্ষী হিসেবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ পৌঁছে তা তোমার নিজের কারণে। আর আমরা তোমাকে মানুষের জন্য রাসূল করে পাঠিয়েছি। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।


আয়াত-৮০ঃ

مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
یُّطِعِ (ইউতি‘ই → আনুগত্য করে)
الرَّسُوۡلَ (আর-রাসূলা → রাসূলকে)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে সে অবশ্যই)
اَطَاعَ (আতা‘আ → আনুগত্য করেছে)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
تَوَلّٰی (তাওয়াল্লা → মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَمَاۤ (ফামা → তবে না)
اَرۡسَلۡنٰکَ (আরসালনা-কা → আমরা তোমাকে পাঠাইনি)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
حَفِیۡظًا (হাফীযান → রক্ষাকারী হিসেবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আমি আপনাকে তাদের জন্য রক্ষাকারী করে পাঠাইনি।


আয়াত-৮১ঃ

وَیَقُوۡلُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূলূনা → আর তারা বলে)
طَاعَۃٌ (তা‘আতুন → আনুগত্য)
فَاِذَا (ফাইযা → কিন্তু যখন)
بَرَزُوۡا (বারাযূ → বের হয়ে যায়)
مِنۡ عِنۡدِکَ (মিন ‘ইনদিকা → তোমার কাছ থেকে)
بَیَّتَ (বাইয়্যাতা → গোপনে পরিকল্পনা করে)
طَآئِفَۃٌ (তায়িফাতুন → একদল)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে থেকে)
غَیۡرَ (গাইরা → ভিন্নভাবে)
الَّذِیۡ (আল্লাযী → যা)
تَقُوۡلُ (তাকূলু → তুমি বলো)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
یَکۡتُبُ (ইয়াকতুবু → লিখে রাখেন)
مَا (মা → যা)
یُبَیِّتُوۡنَ (ইউবাইয়িতূনা → তারা রাতে পরিকল্পনা করে)
فَاَعۡرِضۡ (ফাআ‘রিদ → তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদের থেকে)
وَتَوَکَّلۡ (ওয়া তাওয়াক্কাল → এবং ভরসা করো)
عَلَی اللّٰہِ (আলাল্লাহি → আল্লাহর ওপর)
وَکَفٰی (ওয়া কাফা → এবং যথেষ্ট)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহ)
وَکِیۡلًا (ওয়াকীলা → অভিভাবক হিসেবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা বলে—“আনুগত্য করব।” কিন্তু যখন তারা তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়, তখন তাদের একদল তোমার কথার বিপরীতভাবে গোপনে পরিকল্পনা করে। আর আল্লাহ তারা যা পরিকল্পনা করে তা লিখে রাখেন। অতএব তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। আর আল্লাহই অভিভাবক হিসাবে যথেষ্ট।


আয়াত-৮২ঃ

اَفَلَا (আফালা → তাহলে কি না)
یَتَدَبَّرُوۡنَ (ইয়াতাদাব্বারূনা → তারা চিন্তা-ভাবনা করে না)
الۡقُرۡاٰنَ (আল-কুরআনা → পাঠ করা (কুরআন)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
کَانَ (কা-না → হতো)
مِنۡ عِنۡدِ (মিন ‘ইনদি → পক্ষ থেকে)
غَیۡرِ اللّٰہِ (গাইরিল্লাহি → আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও)
لَوَجَدُوۡا (লাওয়াজাদূ → তারা পেত)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
اخۡتِلَافًا (ইখতিলাফান → অসংগতি)
کَثِیۡرًا (কাছীরা → অনেক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা কি পাঠ করা (কুরআন) নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি খুঁজে পেত।


আয়াত-৮৩ঃ

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
جَآءَہُمۡ (জাআহুম → তাদের কাছে আসে)
اَمۡرٌ (আমরুন → কোনো বিষয়)
مِّنَ الۡاَمۡنِ (মিনাল আমনি → নিরাপত্তা সংক্রান্ত)
اَوِ (আউ → অথবা)
الۡخَوۡفِ (আল-খাওফি → ভয়/ভীতির)
اَذَاعُوۡا (আযা‘ঊ → তারা তা প্রচার করে দেয়)
بِہٖ (বিহি → সেটি)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
رَدُّوۡہُ (রাদ্দূহু → তারা সেটি ফিরিয়ে দিত)
اِلَی الرَّسُوۡلِ (ইলার রাসূলি → রাসূলের কাছে)
وَاِلٰۤی (ওয়া ইলা → এবং দিকে)
اُولِی الۡاَمۡرِ (উলিল আমরি → দায়িত্বশীলদের)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে থেকে)
لَعَلِمَہُ (লা‘আলিমাহু → জানতেন তারা)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَسۡتَنۡۢبِطُوۡنَہٗ (ইয়াস্তানবিতূনাহু → সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে সিদ্ধান্ত বের করে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে থেকে)
وَلَوۡلَا (ওয়ালাওলা → আর যদি না হতো)
فَضۡلُ اللّٰہِ (ফাদলুল্লাহি → আল্লাহর দয়া)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
وَرَحۡمَتُہٗ (ওয়া রাহমাতুহু → এবং তাঁর অনুগ্রহ)
لَاتَّبَعۡتُمُ (লাত্তাবা‘তুমু → তোমরা অনুসরণ করতে)
الشَّیۡطٰنَ (আশ-শাইতানা → কুমন্ত্রণাদাতাকে (শয়তানকে)
اِلَّا قَلِیۡلًا (ইল্লা কালীলান → অল্প কিছু ব্যতীত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা সেটি রাসূলের কাছে এবং তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলদের কাছে ফিরিয়ে দিত, তবে তাদের মধ্যে যারা সঠিকভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করে সিদ্ধান্ত বের করতে সক্ষম তারা তা বুঝে নিত। আর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের উপর না থাকত, তবে তোমরা অল্প কিছু ব্যতীত কুমন্ত্রণাদাতার (শয়তানের) অনুসরণ করতে।


আয়াত-৮৪ঃ

فَقَاتِلۡ (ফাকাতিল → যুদ্ধ করো)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)
لَا تُکَلَّفُ (লা তুকাল্লাফু → তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না)
اِلَّا نَفۡسَکَ (ইল্লা নাফসাকা → শুধু তোমার নিজের)
وَحَرِّضِ (ওয়া হাররিদ → উৎসাহিত করো)
الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীন → মুমিনদের)
عَسَی اللّٰہُ (আসাল্লাহু → আশা করা যায় আল্লাহ)
اَنۡ یَّکُفَّ (আন ইয়াকুফফা → থামিয়ে দেবেন)
بَاۡسَ (বা’সা → শক্তি/আক্রমণ)
الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا (আল্লাযীনা কাফারূ → অবিশ্বাসীদের)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → আর আল্লাহ)
اَشَدُّ بَاۡسًا (আশাদ্দু বা’সান → অধিক শক্তিশালী আক্রমণে)
وَّاَشَدُّ تَنۡکِیۡلًا (ওয়া আশাদ্দু তানকীলা → এবং কঠোর শাস্তিতে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

অতএব তুমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। তোমাকে শুধু তোমার নিজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর খাঁটি বিশ্বাসীদের উৎসাহিত করো। আশা করা যায় আল্লাহ অবিশ্বাসীদের শক্তি থামিয়ে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তিতে সবচেয়ে কঠোর এবং শাস্তি প্রদানে সবচেয়ে কঠোর।


আয়াত-৮৫ঃ

مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
یَّشۡفَعۡ (ইয়াশফা‘ → সুপারিশ করে)
شَفَاعَۃً (শাফা‘আতান → সুপারিশ)
حَسَنَۃً (হাসানাতান → ভালো)
یَّکُنۡ (ইয়াকুন → হবে)
لَّہٗ (লাহু → তার জন্য)
نَصِیۡبٌ (নাসীবুন → অংশ)
مِّنۡہَا (মিনহা → তা থেকে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
یَّشۡفَعۡ (ইয়াশফা‘ → সুপারিশ করে)
شَفَاعَۃً (শাফা‘আতান → সুপারিশ)
سَیِّئَۃً (সাইয়িয়াতান → খারাপ)
یَّکُنۡ (ইয়াকুন → হবে)
لَّہٗ (লাহু → তার জন্য)
کِفۡلٌ (কিফলুন → অংশ/বোঝা)
مِّنۡہَا (মিনহা → তা থেকে)
وَکَانَ (ওয়া কানা → এবং আছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ (আলা কুল্লি শাইইন → সব কিছুর উপর)
مُّقِیۡتًا (মুকীতান → পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যে ব্যক্তি ভালো সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে একটি অংশ (বা দায়) থাকবে। আর যে ব্যক্তি খারাপ সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে একটি অংশ (বা দায়) থাকবে। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী।


আয়াত-৮৬ঃ

وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
حُیِّیۡتُمۡ (হুইয়ীতুম → তোমাদেরকে অভিবাদন জানানো হয়)
بِتَحِیَّۃٍ (বিতাহিয়্যাতিন → কোনো শুভেচ্ছা)
فَحَیُّوۡا (ফাহাইয়্যূ → তখন তোমরা জবাব দাও)
بِاَحۡسَنَ (বিআহসানা → তার চেয়ে উত্তমভাবে)
مِنۡہَا (মিনহা → তার থেকে)
اَوۡ (আও → অথবা)
رُدُّوۡہَا (রুদ্দূহা → ঠিক তেমনই ফিরিয়ে দাও)
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
کَانَ (কানা → আছেন)
عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ (আলা কুল্লি শাইইন → সব কিছুর উপর)
حَسِیۡبًا (হাসীবান → হিসাব গ্রহণকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যখন তোমাদেরকে কোনো শুভেচ্ছা জানানো হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে জবাব দাও অথবা অন্তত তেমনই ফিরিয়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর হিসাব গ্রহণকারী।


আয়াত-৮৭ঃ

اَللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَاۤ اِلٰہَ (লা ইলাহা → কোনো বিধানদাতা নেই)
اِلَّا ہُوَ (ইল্লা হুয়া → তিনি ছাড়া)
لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ (লাইয়াজমা‘আন্নাকুম → তিনি অবশ্যই তোমাদের একত্র করবেন)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমিল কিয়ামাতি → পরকালের দিনে)
لَا رَیۡبَ (লা রাইবা → কোনো সন্দেহ নেই)
فِیۡہِ (ফীহি → এতে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর কে)
اَصۡدَقُ (আসদাকু → অধিক সত্যবাদী)
مِنَ اللّٰہِ (মিনাল্লাহি → আল্লাহর চেয়ে)
حَدِیۡثًا (হাদীসান → কথায়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য বিধানদাতা নেই। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে শেষদিবসে একত্র করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এবং হাদিসের (কথার) দিক থেকে আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?


আয়াত-৮৮ঃ

فَمَا (ফামা → তবে কী)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের হয়েছে)
فِی (ফী → সম্পর্কে)
الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল-মুনাফিকীনা → দ্বিমুখী আচারণকারীদের)
فِئَتَیۡنِ (ফি’আতাইনি → দুই দলে বিভক্ত)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → অথচ আল্লাহ)
اَرۡکَسَہُمۡ (আরকাসাহুম → তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছেন/অধঃপতিত করেছেন)
بِمَا (বিমা → তাদের যা)
کَسَبُوۡا (কাসাবূ → অর্জন করেছে)
اَتُرِیۡدُوۡنَ (আতুরীদূনা → তোমরা কি চাও)
اَنۡ (আন → যে)
تَہۡدُوۡا (তাহদূ → পথ দেখাতে)
مَنۡ (মান → যাকে)
اَضَلَّ (আদাল্লা → পথভ্রষ্ট করেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যাকে)
یُّضۡلِلِ (ইউদলিলি → পথভ্রষ্ট করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَلَنۡ (ফালান → তবে কখনোই না)
تَجِدَ (তাজিদা → তুমি পাবে)
لَہٗ (লাহু → তার জন্য)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → কোনো পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমাদের কী হলো যে তোমরা দ্বিমুখী আচারণকারীদের (মুনাফিকদের) ব্যাপারে দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেছ? অথচ আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে অধঃপতিত করেছেন। তোমরা কি তাকে সৎপথে আনতে চাও, যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য তুমি কখনো কোনো পথ খুঁজে পাবে না।


আয়াত-৮৯ঃ

وَدُّوۡا (ওয়াদ্দূ → তারা কামনা করে)
لَوۡ (লাও → যদি)
تَکۡفُرُوۡنَ (তাকফুরূনা → তোমরা অবিশ্বাস করতে)
کَمَا (কামা → যেমন)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → তারা অবিশ্বাস করেছে)
فَتَکُوۡنُوۡنَ (ফাতাকূনূনা → তাহলে তোমরা হয়ে যেতে)
سَوَآءً (সাওয়াআন → সমান)
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
تَتَّخِذُوۡا (তাত্তাখিযূ → তোমরা গ্রহণ করো)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়াআ → অভিভাবক)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یُہَاجِرُوۡا (ইউহাজিরূ → তারা হিজরত করে/স্থানান্তরিত হয়)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথে)
فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
تَوَلَّوۡا (তাওয়াল্লাও → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
فَخُذُوۡہُمۡ (ফাখুযূহুম → তবে তাদেরকে ধরো)
وَاقۡتُلُوۡہُمۡ (ওয়াকতুলূহুম → এবং তাদের হত্যা করো/( যুদ্ধক্ষেত্র হলে হত্যা করো। কারণ সাধারণভাবে হত্যা করা সম্পূর্ণ নিষেধ (৫:৩২)। এরপরের আয়াত থেকে আরো স্পষ্ট বোঝা যায়)
حَیۡثُ (হাইসু → যেখানে)
وَجَدۡتُّمُوۡہُمۡ (ওয়াজাদতুমূহুম → তোমরা তাদের পাও)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَتَّخِذُوۡا (তাত্তাখিযূ → তোমরা গ্রহণ করো)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
وَلِیًّا (ওয়ালিয়্যান → অভিভাবক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَصِیۡرًا (নাসীরা → সাহায্যকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা চায় যে তোমরাও অবিশ্বাস করো, যেমন তারা অবিশ্বাস করেছে, ফলে তোমরা ও তারা সমান হয়ে যাবে। তাই তাদের মধ্য থেকে কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর পথে স্থান্তারিত হয় বা হিজরত করে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদেরকে ধরো এবং যেখানে পাও তাদের হত্যা করো (এটি যুদ্ধের সময়ের আদেশ: পরবর্তী দুটি আয়াতে স্পষ্ট বোঝা যায়) আর তাদের মধ্য থেকে কাউকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করো না।


আয়াত-৯০ঃ

اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতিক্রম)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَصِلُوۡنَ (ইয়াসিলূনা → যোগ দেয়)
اِلٰی (ইলা → দিকে)
قَوۡمٍ (কাওমিন → একটি সম্প্রদায়)
بَیۡنَکُمۡ (বাইনাকুম → তোমাদের মাঝে)
وَبَیۡنَہُمۡ (ওয়া বাইনাহুম → এবং তাদের মাঝে)
مِّیۡثَاقٌ (মীছাকুন → চুক্তি)
اَوۡ (আও → অথবা)
جَآءُوۡکُمۡ (জাআউকুম → তারা তোমাদের কাছে আসে)
حَصِرَتۡ (হাসিরাত → সংকুচিত হয়েছে)
صُدُوۡرُہُمۡ (সুদূরুহুম → তাদের অন্তর)
اَنۡ (আন → যে)
یُّقَاتِلُوۡکُمۡ (ইউকাতিলূকুম → তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে)
اَوۡ (আও → অথবা)
یُقَاتِلُوۡا (ইউকাতিলূ → যুদ্ধ করে)
قَوۡمَہُمۡ (কাওমাহুম → তাদের নিজ জাতি)
وَلَوۡ (ওয়ালাও → আর যদি)
شَآءَ اللّٰہُ (শাআল্লাহু → আল্লাহ চাইতেন)
لَسَلَّطَہُمۡ (লাসাল্লাতাহুম → তিনি তাদেরকে ক্ষমতা দিতেন)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
فَلَقٰتَلُوۡکُمۡ (ফালা-কাতালূকুম → তারা অবশ্যই যুদ্ধ করত)
فَاِنِ (ফাইন → অতএব যদি)
اعۡتَزَلُوۡکُمۡ (ই‘তাজালূকুম → তারা সরে যায়)
فَلَمۡ یُقَاتِلُوۡکُمۡ (ফালাম ইউকাতিলূকুম → যুদ্ধ না করে)
وَاَلۡقَوۡا (ওয়া আলকাও → এবং প্রস্তাব দেয়)
اِلَیۡکُمُ السَّلَمَ (ইলাইকুমুস সালামা → শান্তি)
فَمَا (ফামা → তবে নেই)
جَعَلَ اللّٰہُ (জা‘আলাল্লাহু → আল্লাহ করেছেন না)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের বিরুদ্ধে)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → কোনো পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে তারা ব্যতিক্রম, যারা এমন কোনো সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হয় যাদের সাথে তোমাদের ও তাদের মাঝে চুক্তি রয়েছে, অথবা যারা তোমাদের কাছে আসে এমন অবস্থায় যে তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে পড়ে—না তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায়, না তাদের নিজের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। আর আল্লাহ চাইলে তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতাবান করতে পারতেন, ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। অতএব যদি তারা তোমাদের থেকে সরে থাকে, যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেয়, তবে আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য কোনো পথ রাখেননি।


আয়াত-৯১ঃ

سَتَجِدُوۡنَ (সাতাজিদূনা → তোমরা পাবে)
اٰخَرِیۡنَ (আ-খারীনা → অন্যদের)
یُرِیۡدُوۡنَ (ইউরীদূনা → যারা চায়)
اَنۡ (আন → যে)
یَّاۡمَنُوۡکُمۡ (ইয়ামানূকুম → তোমাদের থেকে নিরাপত্তা পেতে)
وَیَاۡمَنُوۡا (ওয়া ইয়ামানূ → এবং নিরাপত্তা পেতে)
قَوۡمَہُمۡ (কাওমাহুম → তাদের নিজ জাতির কাছ থেকে)
کُلَّمَا (কুল্লামা → যখনই)
رُدُّوۡۤا (রুদ্দূ → ফিরিয়ে দেওয়া হয়)
اِلَی الۡفِتۡنَۃِ (ইলাল ফিতনাতি → বিপর্যয়ের দিকে)
اُرۡکِسُوۡا (উরকিসূ → তারা ফিরে যায়)
فِیۡہَا (ফীহা → তাতে)
فَاِنۡ (ফাইন → অতএব যদি)
لَّمۡ یَعۡتَزِلُوۡکُمۡ (লাম ই‘তাজিলূকুম → তারা তোমাদের থেকে সরে না যায়)
وَیُلۡقُوۡۤا (ওয়া ইউলকূ → এবং প্রস্তাব না দেয়)
اِلَیۡکُمُ السَّلَمَ (ইলাইকুমুস সালামা → শান্তি)
وَیَکُفُّوۡۤا (ওয়া ইয়াকুফফূ → এবং বিরত না থাকে)
اَیۡدِیَہُمۡ (আইদিয়াহুম → তাদের হাত)
فَخُذُوۡہُمۡ (ফাখুযূহুম → তাদের ধরো)
وَاقۡتُلُوۡہُمۡ (ওয়াকতুলূহুম → তাদেরকে হত্যা করো)
حَیۡثُ (হাইসু → যেখানে)
ثَقِفۡتُمُوۡہُمۡ (ছাকিফতুমূহুম → তোমরা তাদের পাও)
وَاُولٰٓئِکُمۡ (ওয়া উলাইকুম → আর এরা)
جَعَلۡنَا (জা‘আলনা → আমরা করেছি)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
سُلۡطٰنًا (সুলতানান → কর্তৃত্ব/ক্ষমতা)
مُّبِیۡنًا (মুবীনা → স্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তোমরা এমন কিছু লোক পাবে, যারা চায় তোমাদের কাছ থেকেও নিরাপত্তা পেতে এবং তাদের নিজ জাতির কাছ থেকেও নিরাপত্তা পেতে। যখনই তাদের বিপর্যয়ের দিকে (ফেতনার দিকে) ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তারা তাতে সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। অতএব যদি তারা তোমাদের থেকে সরে না যায়, তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব না দেয় এবং তাদের হাত সংযত না করে, তবে তাদেরকে ধরো এবং যেখানে পাও তাদেরকে হত্যা করো। আর এদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য আমরা স্পষ্ট কর্তৃত্ব/অধিকার স্থাপন করেছি।


আয়াত-৯২ঃ

وَمَا کَانَ لِمُؤۡمِنٍ (ওয়া মা কানা লিমু’মিনিন → কোনো খাঁটি বিশ্বাসীদের জন্য নয়)
اَنۡ یَّقۡتُلَ (আন ইয়াকতুলা → হত্যা করা)
مُؤۡمِنًا (মু’মিনান → একজন খাঁটি বিশ্বাসীকে)
اِلَّا خَطَـًٔا (ইল্লা খাতাআন → ভুলবশত ছাড়া)
وَمَنۡ قَتَلَ (ওয়া মান কাতালা → আর যে হত্যা করে)
مُؤۡمِنًا (মু’মিনান → একজন খাঁটি বিশ্বাসীকে)
خَطَـًٔا (খাতাআন → ভুলক্রমে)
فَتَحۡرِیۡرُ (ফাতাহরীরু → মুক্তি)
رَقَبَۃٍ (রাকাবাতিন → দাস)
مُّؤۡمِنَۃٍ (মু’মিনাতিন → খাঁটি বিশ্বাসী দাস)
وَدِیَۃٌ (ওয়া দিয়াতুন → রক্তপণ/ক্ষতিপূরণ)
مُّسَلَّمَۃٌ (মুসাল্লামাতুন → পরিশোধযোগ্য)
اِلٰۤی اَہۡلِہٖ (ইলা আহলিহী → তার পরিবারের কাছে)
اِلَّاۤ اَنۡ یَّصَّدَّقُوۡا (ইল্লা আন ইয়াসসাদ্দাকূ → যদি ক্ষমা করে দেয়)
فَاِنۡ کَانَ (ফাইন কানা → যদি হয়)
مِنۡ قَوۡمٍ (মিন কাওমিন → একটি জাতি থেকে)
عَدُوٍّ لَّکُمۡ (আদুউবিল্লাকুম → তোমাদের শত্রু)
وَہُوَ مُؤۡمِنٌ (ওয়া হুওয়া মু’মিনুন → অথচ সে খাঁটি বিশ্বাসী)
فَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مُّؤۡمِنَۃٍ (ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিন → খাঁটি বিশ্বাসী দাস মুক্তি)
وَاِنۡ کَانَ (ওয়া ইন কানা → আর যদি হয়)
مِنۡ قَوۡمٍ (মিন কাওমিন → এমন জাতি)
بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَہُمۡ مِّیۡثَاقٌ (বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম মীছাকুন → যাদের সাথে চুক্তি আছে)
فَدِیَۃٌ (ফাদিয়াতুন → রক্তপণ/ক্ষতিপূরণ)
مُّسَلَّمَۃٌ (মুসাল্লামাতুন → পরিশোধযোগ্য)
اِلٰۤی اَہۡلِہٖ (ইলা আহলিহী → তার পরিবারের কাছে)
وَتَحۡرِیۡرُ (ওয়া তাহরীরু → এবং মুক্তি)
رَقَبَۃٍ (রাকাবাতিন → দাস)
مُّؤۡمِنَۃٍ (মু’মিনাতিন → খাঁটি বিশ্বাসী দাস)
فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ (ফামাল্লাম ইয়াজিদ → যে না পায়)
فَصِیَامُ (ফাসিয়ামু → তাহলে বিরত থাকবে (রোজা)
شَہۡرَیۡنِ (শাহরাইনি → দুই মাস)
مُتَتَابِعَیۡنِ (মুতাতা-বি‘আইনি → ধারাবাহিকভাবে)
تَوۡبَۃً مِّنَ اللّٰہِ (তাওবাতাম মিনাল্লাহি → আল্লাহর ক্ষমা)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا (আলীমান হাকীমা → সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

কোনো মুমিনের (খাটি বিশ্বাসীর) জন্য বৈধ নয় অন্য কোনো মুমিনকে হত্যা করা, তবে ভুলবশত হলে ভিন্ন কথা। আর যে ভুলবশত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার কর্তব্য একটি মুমিন দাস মুক্ত করা এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে রক্তপণ প্রদান করা—তবে যদি তারা তা ক্ষমা করে দেয়। আর যদি নিহত ব্যক্তি এমন জাতির হয় যারা তোমাদের শত্রু, অথচ সে নিজে মুমিন, তাহলে কেবল একটি মুমিন দাস মুক্ত করতে হবে। আর যদি সে এমন জাতির হয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি আছে, তাহলে রক্তপণ তার পরিবারের কাছে প্রদান করতে হবে এবং একটি মুমিন দাস মুক্ত করতে হবে। আর যে তা না পায়, সে ধারাবাহিক দুই মাস রোজা রাখবে—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


আয়াত-৯৩ঃ

وَمَنۡ یَّقۡتُلۡ (ওয়া মান ইয়াকতুল → আর যে হত্যা করে)
مُؤۡمِنًا (মু’মিনান → একজন দৃঢ় বিশ্বাসী)
مُّتَعَمِّدًا (মুতাআম্মিদান → ইচ্ছাকৃতভাবে)
فَجَزَآؤُہٗ (ফাজাঝাউহু → তার প্রতিফল/শাস্তি)
جَہَنَّمُ (জাহান্নামু → জাহান্নাম)
خٰلِدًا فِیۡہَا (খালিদান ফীহা → সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে)
وَغَضِبَ اللّٰہُ عَلَیۡہِ (ওয়া গাদিবাল্লাহু আলাইহি → আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন)
وَلَعَنَہٗ (ওয়া লা‘আনাহু → এবং তাকে অভিশাপ দেবেন)
وَاَعَدَّ لَہٗ (ওয়া আ‘আদ্দা লাহু → এবং তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
عَظِیۡمًا (আজীমা → মহাশাস্তি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো দৃঢ় বিশ্বাসীকে (মুমিনকে) হত্যা করে, তার প্রতিফল হলো জাহান্নাম, যেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন, তাকে অভিশাপ দেবেন এবং তার জন্য ভয়াবহ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।


আয়াত-৯৪ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া-আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡۤا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছো)
اِذَا (ইযা → যখন)
ضَرَبۡتُمۡ (দারাবতুম → তোমরা বের হও)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)
فَتَبَیَّنُوۡا (ফাতাবাইয়ানূ → যাচাই করো)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → বলো না)
لِمَنۡ (লিমান → যে ব্যক্তিকে)
اَلۡقٰۤی (আলকা → সে পেশ করেছে)
اِلَیۡکُمُ السَّلٰمَ (ইলাইকুমুস সালামা → তোমাদের কাছে শান্তি)
لَسۡتَ (লাস্তা → তুমি নও)
مُؤۡمِنًا (মু’মিনান → দৃঢ় বিশ্বাসী)
تَبۡتَغُوۡنَ (তাবতাগূনা → তোমরা চাও)
عَرَضَ (আরাদা → সাময়িক লাভ)
الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا (আল-হায়াতিদ দুনইয়া → দুনিয়ার জীবন)
فَعِنۡدَ اللّٰہِ (ফাঈনদাল্লাহ → আল্লাহর কাছে)
مَغَانِمُ کَثِیۡرَۃٌ (মাগানিমু কাছীরাতুন → অনেক ধনভান্ডার)
کَذٰلِکَ (কাযালিকা → এমনই)
کُنۡتُمۡ (কুনতুম → তোমরা ছিলে)
مِّنۡ قَبۡلُ (মিন কাবলু → আগে)
فَمَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡکُمۡ (ফামান্নাল্লাহু আলাইকুম → আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন)
فَتَبَیَّنُوۡا (ফাতাবাইয়ানূ → তাই যাচাই করো)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
کَانَ (কানা → আছেন)
بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ (বিমা তা‘মালূনা → যা তোমরা করো)
خَبِیۡرًا (খাবীরা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে দৃঢ় বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা আল্লাহর পথে বের হও, তখন ভালোভাবে যাচাই করো। আর যে তোমাদের কাছে শান্তি (সালাম) পেশ করে, তাকে তোমরা “তুমি দৃঢ় বিশ্বাসী (মুমিন) নও” এমন কথা বলো না। তোমরা তো দুনিয়ার সাময়িক লাভ চাও, অথচ আল্লাহর কাছে রয়েছে অনেক ধনভান্ডার। আগে তোমরাও এমন ছিলে, পরে আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তাই ভালোভাবে যাচাই করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কাজ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।


আয়াত-৯৫ঃ

لَا یَسۡتَوِی (লা ইয়াসতাওী → সমান নয়)
الۡقٰعِدُوۡنَ (আল-কা‘ইদূনা → বসে থাকা লোকেরা)
مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (মিনাল মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসীদের মধ্যে)
غَیۡرُ اُولِی الضَّرَرِ (গাইরু উলিদ্দারার → অক্ষমদের ছাড়া)
وَالۡمُجٰہِدُوۡنَ (ওয়া আল-মুজাহিদূনা → যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)
بِاَمۡوَالِہِمۡ (বিআমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদ দিয়ে)
وَاَنۡفُسِہِمۡ (ওয়া আনফুসিহিম → এবং তাদের প্রাণ দিয়ে)
فَضَّلَ اللّٰہُ (ফাদ্দালাল্লাহু → আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন)
الۡمُجٰہِدِیۡنَ (আল-মুজাহিদীন → আল্লাহর পথে সংগ্রামকারীদের)
بِاَمۡوَالِہِمۡ (বিআমওয়ালিহিম → তাদের সম্পদ দিয়ে)
وَاَنۡفُسِہِمۡ (ওয়া আনফুসিহিম → এবং তাদের প্রাণ দিয়ে)
عَلَی الۡقٰعِدِیۡنَ (আলাল কা‘ইদীন → বসে থাকা লোকদের উপর)
دَرَجَۃً (দারাজাতান → মর্যাদায়)
وَکُلًّا (ওয়া কুল্লান → আর সবার জন্যই)
وَّعَدَ اللّٰہُ (ওয়া‘আদাল্লাহু → আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন)
الۡحُسۡنٰی (আল-হুসনা → উত্তম প্রতিদান)
وَفَضَّلَ اللّٰہُ (ওয়া ফাদ্দালাল্লাহু → আর আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন)
الۡمُجٰہِدِیۡنَ (আল-মুজাহিদীন → আল্লাহর পথে সংগ্রামকালী)
عَلَی الۡقٰعِدِیۡنَ (আলাল কা‘ইদীন → বসে থাকা লোকদের উপর)
اَجۡرًا عَظِیۡمًا (আজরান আজীমা → মহাপুরস্কার)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা দৃঢ় বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) মধ্যে অক্ষমতা ছাড়া ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে—এই দুই শ্রেণি সমান নয়। বসে থাকা লোকদের উপর আল্লাহর পথে সংগ্রামকারীদের (যিহাদকারীদের) মর্যদাপূর্ণ করেছেন। তবে আল্লাহ সকলকেই উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহর পথে সংগ্রামকারীদের বসে থাকা লোকদের তুলনায় মহাপুরস্কারে বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।


আয়াত-৯৬ঃ

دَرَجٰتٍ (দারাজাতিন → মর্যাদাসমূহ)
مِّنۡہُ (মিনহু → তাঁর পক্ষ থেকে)
وَمَغۡفِرَۃً (ওয়া মাগফিরাতান → এবং ক্ষমা)
وَّرَحۡمَۃً (ওয়া রাহমাতান → এবং অনুগ্রহ)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرًا (গাফূরান → অতীব ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহর পক্ষ থেকে বহু মর্যাদা, ক্ষমা এবং অনুগ্রহ। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-৯৭ঃ

اِنَّ الَّذِیۡنَ (ইন্নাল্লাযীনা → নিশ্চয় যারা)
تَوَفّٰہُمُ (তাওয়াফফাহুমু → যাদের মৃত্যু ঘটায়)
الۡمَلٰٓئِکَۃُ (আল মালাইকা → ফেরেশতারা)
ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ (জালিমী আনফুসিহিম → নিজেদের প্রতি জুলুমকারী অবস্থায়)
قَالُوۡا (ক্বালূ → তারা বলবে)
فِیۡمَ کُنۡتُمۡ (ফীমা কুনতুম → তোমরা কী অবস্থায় ছিলে)
قَالُوۡا (ক্বালূ → তারা বলবে)
کُنَّا (কুন্না → আমরা ছিলাম)
مُسۡتَضۡعَفِیۡنَ (মুস্তাদ‘আফীন → দুর্বল)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে)
قَالُوۡۤا (ক্বালূ → তারা বলবে)
اَلَمۡ تَکُنۡ (আলাম তাকুন → ছিল না কি)
اَرۡضُ اللّٰہِ (আরদুল্লাহ → আল্লাহর পৃথিবী)
وَاسِعَۃً (ওয়াসি‘আতান → প্রশস্ত)
فَتُہَاجِرُوۡا (ফাতুহাজিরূ → তোমরা স্থান্তারিত হতে/ হিজরত করতে)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → এরা)
مَاۡوٰىہُمۡ (মা’ওয়াহুম → তাদের আবাস)
جَہَنَّمُ (জাহান্নামু → জাহান্নাম)
وَسَآءَتۡ (ওয়া সাআত → কতই না খারাপ)
مَصِیۡرًا (মাসীরা → গন্তব্য)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা ঘটায় এমন অবস্থায় যে তারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী, ফেরেশতারা তাদের জিজ্ঞেস করবে—তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলবে—আমরা ছিলাম পৃথিবীতে দুর্বল। ফেরেশতারা বলবে—আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না, যেখানে তোমরা স্থান্তাতরিত হতে পারতে/ হিজরত করতে পারতে? তাদের আবাস হবে জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল।


আয়াত-৯৮ঃ

اِلَّا (ইল্লা → তবে নয় )
الۡمُسۡتَضۡعَفِیۡنَ (আল-মুস্তাদ‘আফীন → দুর্বল লোকেরা)
مِنَ الرِّجَالِ (মিনার রিজাল → পুরুষদের মধ্যে থেকে)
وَالنِّسَآءِ (ওয়ান নিসা → নারীদের মধ্যে থেকে)
وَالۡوِلۡدَانِ (ওয়াল উইলদান → এবং শিশুদের মধ্যে থেকে)
لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ (লা ইয়াসতাতী‘ঊনা → যারা সক্ষম নয়)
حِیۡلَۃً (হীলাতান → কোনো উপায়)
وَّلَا یَہۡتَدُوۡنَ (ওয়া লা ইয়াহতাদূনা → এবং তারা পথও জানে না)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → কোনো পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে তাদের জন্য ব্যতিক্রম—দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশু যারা কোনো উপায় অবলম্বন করতে সক্ষম নয় এবং সঠিক পথও জানে না।


আয়াত-৯৯ঃ

فَاُولٰٓئِکَ (ফাউলাইকা → তারাই)
عَسَی اللّٰہُ (‘আসাল্লাহু → আল্লাহ আশা করা যায়)
اَنۡ یَّعۡفُوَ عَنۡہُمۡ (আন ইয়াফুওয়া ‘আনহুম → তাদেরকে ক্ষমা করবেন)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَفُوًّا (আফুওওয়ান → অতীব ক্ষমাশীল)
غَفُوۡرًا (গাফূরান → পরম ক্ষমাশীল

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তাদের ব্যাপারে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


আয়াত-১০০ঃ

وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
یُّہَاجِرۡ (ইউহাজির → স্থান ত্যাগ করে/ হিজরত করে)
فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)
یَجِدۡ (ইয়াজিদ → সে পাবে)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে)
مُرٰغَمًا (মুরাগামান → আশ্রয়)
کَثِیۡرًا (কাছীরা → অনেক)
وَّسَعَۃً (ওয়া সা‘আতান → এবং প্রশস্ততা)
وَمَنۡ یَّخۡرُجۡ (ওয়া মান ইয়াখরুজ → আর যে বের হয়)
مِنۡۢ بَیۡتِہٖ (মিন বাইতিহী → তার ঘর থেকে)
مُہَاجِرًا (মুহাজিরান → স্থান ত্যাগকারী হয়ে)
اِلَی اللّٰہِ (ইলাল্লাহ → আল্লাহর দিকে)
وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রাসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলের দিকে)
ثُمَّ (সুম্মা → তারপর)
یُدۡرِکۡہُ (ইউদরিকহু → তাকে পেয়ে যায়)
الۡمَوۡتُ (আল-মাউত → মৃত্যু)
فَقَدۡ (ফাকাদ → তবে অবশ্যই)
وَقَعَ (ওয়াকাআ → সাব্যস্ত হয়েছে)
اَجۡرُہٗ (আজরুহু → তার প্রতিদান)
عَلَی اللّٰہِ (আলাল্লাহ → আল্লাহর উপর)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
غَفُوۡرًا (গাফূরান → ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمًا (রাহীমা → দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে দেশান্তর হয় (হিজরত করে), সে পৃথিবীতে অনেক আশ্রয় ও প্রশস্ততা পাবে। আর যে ব্যক্তি তার ঘর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে দেশান্তর হওয়ার জন্য বের হয়, তারপর তার মৃত্যু এসে পড়ে—তখন তার প্রতিদান আল্লাহর উপর নির্ধারিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।