সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ১৭৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-১৫৩ঃ
یَسۡـَٔلُکَ (ইয়সআলুকা → তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে)
اَہۡلُ الۡکِتٰبِ (আহলুল কিতাব → কিতাবধারীরা)
اَنۡ (আন → যে)
تُنَزِّلَ (তুনাযযিলা → তুমি নাজিল করো)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
کِتٰبًا (কিতাবান → একটি কিতাব)
مِّنَ السَّمَآءِ (মিনাস সামা → আসমান থেকে)
فَقَدۡ سَاَلُوۡا (ফাকাদ সা’আলূ → তারা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন করেছে)
مُوۡسٰۤی (মূসা → মূসা নবী)
اَکۡبَرَ مِنۡ ذٰلِکَ (আকবারা মিন যা-লিকা → এর চেয়েও বড় কিছু)
فَقَالُوۡۤا (ফা কা-লূ → তারা বলেছিল)
اَرِنَا اللّٰہَ (আরিনা আল্লাহা → আমাদের আল্লাহকে দেখাও)
جَہۡرَۃً (জাহরাতান → প্রকাশ্যে)
فَاَخَذَتۡہُمُ (ফা আখাযাতহুম → তখন পাকড়াও করেছিল তাদের)
الصّٰعِقَۃُ (আস সা‘ইকা → বজ্রাঘাত)
بِظُلۡمِہِمۡ (বিজুলমিহিম → তাদের অন্যায়ের কারণে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اتَّخَذُوا (ইত্তাখাযূ → তারা গ্রহণ করেছিল)
الۡعِجۡلَ (আল ইজল → বাছুরকে)
مِنۡۢ بَعۡدِ (মিন বা‘দ → পরে)
مَا جَآءَتۡہُمُ (মা জাআতহুম → যখন তাদের কাছে এসেছে)
الۡبَیِّنٰتُ (আল বাইয়িনাত → স্পষ্ট প্রমাণসমূহ)
فَعَفَوۡنَا (ফা ‘আফাওনা → তারপর আমরা ক্ষমা করেছি)
عَنۡ ذٰلِکَ (আন যা-লিকা → সেই বিষয়ে)
وَاٰتَیۡنَا (ওয়া আ-তাইনা → এবং আমরা দিয়েছি)
مُوۡسٰی (মূসা → মূসা নবী)
سُلۡطٰنًا (সুলতানান → ক্ষমতা)
مُّبِیۡنًا (মুবীনা → স্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিতাবধারীরা তোমার কাছে চায়, যেন তুমি তাদের উপর আসমান থেকে একটি কিতাব নাজিল করো। অথচ তারা মূসার কাছে এর চেয়েও বড় দাবি করেছিল, তারা বলেছিল, আমাদের আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখাও। তখন তাদের অন্যায়ের কারণে তাদের উপর বজ্রাঘাত নেমে আসে। এরপর তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও তারা বাছুরকে গ্রহণ করেছিল। এরপরও আমি তাদের ক্ষমা করেছি এবং মূসাকে স্পষ্ট প্রমাণ ও কর্তৃত্ব দিয়েছি।
আয়াত-১৫৪ঃ
وَرَفَعۡنَا (ওয়া রাফা‘না → এবং আমরা সমুচ্চত করেছি/ উন্নীত করেছি)
فَوۡقَہُمُ (ফাওকাহুম → তাদের উপর)
الطُّوۡرَ (আত তূর → তূরা)
بِمِیۡثَاقِہِمۡ (বিমীছাকিহিম → তাদের অঙ্গীকারের কারণে)
وَقُلۡنَا (ওয়া কুলনা → এবং আমরা বলেছি)
لَہُمُ (লাহুম → তাদেরকে)
ادۡخُلُوا (উদখুলূ → প্রবেশ করো)
الۡبَابَ (আল বাব → দরজা)
سُجَّدًا (সুজ্জাদা → মান্য করে/আনুগত্য করো)
وَّقُلۡنَا (ওয়া কুলনা → এবং আমরা বলেছি)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
لَا تَعۡدُوۡا (লা তা‘দূ → সীমালঙ্ঘন করো না)
فِی السَّبۡتِ (ফিস সাবত → শনিবারে)
وَاَخَذۡنَا (ওয়া আখাযনা → এবং আমরা গ্রহণ করেছি)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের কাছ থেকে)
مِّیۡثَاقًا (মীছাকান → অঙ্গীকার)
غَلِیۡظًا (গালীজা → কঠোর)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আমি তাদের অঙ্গীকারের কারণে তাদের উপর তূরকে সমুচ্চত করেছি এবং বলেছিলাম তোমরা দরজা দিয়ে আনুগত্যের সহিত প্রবেশ করো আর তোমরা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করো না এবং আমি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
আয়াত-১৫৫ঃ
فَبِمَا (ফা বিমা → অতএব কারণ হিসেবে)
نَقۡضِہِمۡ (নাকদিহিম → তাদের ভঙ্গ করার কারণে)
مِّیۡثَاقَہُمۡ (মীছাকাহুম → তাদের অঙ্গীকার)
وَکُفۡرِہِمۡ (ওয়া কুফরিহিম → এবং তাদের অস্বীকার করার কারণে)
بِاٰیٰتِ اللّٰہِ (বিআয়াতিল্লাহি → আল্লাহর আয়াতসমূহকে)
وَقَتۡلِہِمُ الۡاَنۢبِیَآءَ (ওয়া কাতলিহিমুল আম্বিয়া → নবীদের হত্যা করার কারণে)
بِغَیۡرِ حَقٍّ (বিগাইরি হাক্ক → অন্যায়ভাবে)
وَّقَوۡلِہِمۡ (ওয়া কাওলিহিম → এবং তাদের কথার কারণে)
قُلُوۡبُنَا (কুলূবুনা → আমাদের হৃদয়)
غُلۡفٌ (গুলফ → আবৃত)
بَلۡ (বাল → বরং)
طَبَعَ اللّٰہُ (তাবা‘আল্লাহু → আল্লাহ সিলগালা লাগিয়ে দিয়েছেন)
عَلَیۡہَا (আলাইহা → তার উপর)
بِکُفۡرِہِمۡ (বিকুফরিহিম → তাদের অস্বীকারের কারণে)
فَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ (ফালা ইউ’মিনূনা → তারা বিশ্বাস আনে না)
اِلَّا قَلِیۡلًا (ইল্লা কালীলা → খুব অল্পই)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ, আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার, নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা এবং তাদের এই কথা যে আমাদের হৃদয় আবৃত—এর কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরে সিলগালা লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে তারা খুব অল্প সংখ্যক ছাড়া বিশ্বাস (ঈমান) আনে না।
আয়াত-১৫৬ঃ
وَّبِکُفۡرِہِمۡ (ওয়া বিকুফরিহিম → এবং তাদের অস্বীকারের কারণে)
وَقَوۡلِہِمۡ (ওয়া কাওলিহিম → এবং তাদের কথার কারণে)
عَلٰی مَرۡیَمَ (আলা মারইয়াম → মারিয়ামের বিরুদ্ধে)
بُہۡتَانًا (বুহতা-নান → মিথ্যা অপবাদ)
عَظِیۡمًا (আযীমা → মহা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের অস্বীকার এবং মারিয়ামের বিরুদ্ধে তাদের ভয়ংকর মিথ্যা অপবাদের কারণে।
আয়াত-১৫৭ঃ
وَّقَوۡلِہِمۡ (ওয়া কাওলিহিম → এবং তাদের কথার কারণে)
اِنَّا (ইন্না → নিশ্চয়)
قَتَلۡنَا (কাতালনা → আমরা হত্যা করেছি)
الۡمَسِیۡحَ (আল মাসীহ → বিশেষভাবে মনোনীত/মসীহ)
عِیۡسَی (ঈসা → ঈসা)
ابۡنَ مَرۡیَمَ (ইবনু মারইয়াম → মারিয়ামের পুত্র)
رَسُوۡلَ اللّٰہِ (রাসূলাল্লাহ → আল্লাহর রাসূল)
وَمَا قَتَلُوۡہُ (ওয়া মা কাতালূহু → কিন্তু তারা তাকে হত্যা করেনি)
وَمَا صَلَبُوۡہُ (ওয়া মা সালাবূহু → এবং তারা তাকে শূলে চড়ায়নি)
وَلٰکِنۡ (ওয়া লাকিন → কিন্তু)
شُبِّہَ لَہُمۡ (শুব্বিহা লাহুম → তাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক করে দেওয়া হয়েছিল)
وَاِنَّ الَّذِیۡنَ (ওয়া ইন্নাল্লাযীনা → এবং যারা)
اخۡتَلَفُوۡا (ইখতালাফূ → মতভেদ করেছে)
فِیۡہِ (ফীহি → এ বিষয়ে)
لَفِیۡ شَکٍّ (লাফী শাক্ক → সন্দেহে রয়েছে)
مِّنۡہُ (মিনহু → এ সম্পর্কে)
مَا لَہُمۡ (মা লাহুম → তাদের নেই)
بِہٖ (বিহী → এ বিষয়ে)
مِنۡ عِلۡمٍ (মিন ‘ইলম → কোনো জ্ঞান)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
اتِّبَاعَ الظَّنِّ (ইত্তিবা‘আয যান্ন → শুধু অনুমান অনুসরণ)
وَمَا قَتَلُوۡہُ (ওয়া মা কাতালূহু → এবং তারা তাকে হত্যা করেনি)
یَقِیۡنًا (ইয়াকীনা → নিশ্চিতভাবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের এই কথার কারণে যে, আমরা বিশেষভাবে মনোনীত (মসীহ) ঈসা ইবনে মারিয়াম, আল্লাহর রাসূলকে হত্যা করেছি—অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি, বরং বিষয়টি তাদের জন্য বিভ্রান্তিকর করে দেওয়া হয়েছিল। আর যারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে তারা এ সম্পর্কে সন্দেহে রয়েছে; তাদের এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তারা শুধু অনুমানের অনুসরণ করে। আর তারা তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করেনি।
আয়াত-১৫৮ঃ
بَلۡ (বাল → বরং)
رَّفَعَہُ (রাফা‘আহু → উন্নীত করলেন/মর্যাদা বৃদ্ধি করলেন/উচ্চ অবস্থানে স্থাপন করলেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তার প্রতি)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَزِیۡزًا (‘আযীযান → পরাক্রমশালী)
حَکِیۡمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বরং আল্লাহ তাকে তার প্রতি সমুন্নত করলেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-১৫৯ঃ
وَاِنۡ (ওয়া ইন → এবং নেই)
مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ (মিন আহলিল কিতাব → কিতাবধারীদের মধ্যে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
لَیُؤۡمِنَنَّ (লাইউ’মিনান্না → যে অবশ্যই বিশ্বাস করবে)
بِہٖ (বিহী → তার প্রতি)
قَبۡلَ (কাবলা → পূর্বে)
مَوۡتِہٖ (মাওতিহী → তার মৃত্যুর)
وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ (ওয়া ইয়াওমাল কিয়ামাহ → এবং পুনরুত্থান দিবসে)
یَکُوۡنُ (ইয়াকূনু → তিনি হবেন)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের সম্পর্কে)
شَہِیۡدًا (শাহীদা → সাক্ষী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিতাবধারীদের মধ্য ব্যতীত কেউ নেই, যে তার মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। আর পরকালের সময়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন।
আয়াত-১৬০ঃ
فَبِظُلۡمٍ (ফা বিজুলমিন → অতঃপর তাদের অন্যায়ের কারণে)
مِّنَ الَّذِیۡنَ (মিনাল্লাযীনা → তাদের মধ্যে যারা)
ہَادُوۡا (হাদূ → অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছিল/ইহুদি হয়েছিল)
حَرَّمۡنَا (হাররামনা → আমরা নিষিদ্ধ করেছি)
عَلَیۡہِمۡ (‘আলাইহিম → তাদের উপর)
طَیِّبٰتٍ (তাইয়্যিবাতিন → পবিত্র জিনিসসমূহ / বিশুদ্ধ বিষয়সমূহ)
اُحِلَّتۡ (উহিল্লাত → বৈধ করা হয়েছিল)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
وَبِصَدِّہِمۡ (ওয়া বিসাদ্দিহিম → এবং তাদের বাধা দেওয়ার কারণে)
عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (‘আন সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথ থেকে)
کَثِیۡرًا (কাছীরা → অনেককে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসাদের (ইহুদিদের) অন্যায়ের কারণে এবং আল্লাহর পথ থেকে অনেককে বাধা দেওয়ার কারণেও, আমি তাদের জন্য বৈধ করা পবিত্র বিষয়সমূহ তাদের উপর নিষিদ্ধ করেছিলাম।
আয়াত-১৬১ঃ
وَّاَخۡذِہِمُ (ওয়া আখযিহিমু → এবং তাদের গ্রহণ করার কারণে)
الرِّبٰوا (আর রিবা → অতিরিক্ত বৃদ্ধি/ মূলধনের উপর বাড়তি সংযোজন / সুদ = অর্থাৎ দ্বিগুন বা বহুগুন লভ্যাংশ নেয়া যাবেনা। ( ৩:১৩০ )
وَقَدۡ (ওয়া কাদ → যদিও)
نُہُوۡا (নুহূ → তাদের নিষেধ করা হয়েছিল)
عَنۡہُ (‘আনহু → তা থেকে)
وَاَکۡلِہِمۡ (ওয়া আকলিহিম → এবং তাদের ভক্ষণ করার কারণে)
اَمۡوَالَ النَّاسِ (আমওয়ালান নাস → মানুষের সম্পদ)
بِالۡبَاطِلِ (বিল বাতিল → অন্যায়ভাবে)
وَاَعۡتَدۡنَا (ওয়া আ‘তাদনা → এবং আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি)
لِلۡکٰفِرِیۡنَ (লিল কাফিরীন → অস্বীকারকারীদের জন্য)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
اَلِیۡمًا (আলীমা → যন্ত্রণাদায়ক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তাদের মূলধনের উপর বাড়তি সংযোজন (সুদ) গ্রহণ করার কারণে এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার কারণে, যদিও তা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আর তাদের মধ্যকার অস্বীকারকারীদের জন্য আমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
আয়াত-১৬২ঃ
لٰکِنِ (লা-কিনি → কিন্তু)
الرّٰسِخُوۡنَ (আর রাসিখূনা → সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা)
فِی الۡعِلۡمِ (ফিল ‘ইলমি → জ্ঞানে)
مِنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ (ওয়াল মু’মিনূনা → এবং বিশ্বাসীরা)
یُؤۡمِنُوۡنَ (ইউ’মিনূনা → বিশ্বাস করে)
بِمَاۤ (বিমা → যা)
اُنۡزِلَ (উনঝিলা → অবতীর্ণ করা হয়েছে)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
وَمَاۤ (ওয়ামা → এবং যা)
اُنۡزِلَ (উনঝিলা → অবতীর্ণ করা হয়েছে)
مِنۡ قَبۡلِکَ (মিন কাবলিকা → তোমার পূর্বে)
وَالۡمُقِیۡمِیۡنَ (ওয়াল মুকীমীনা → এবং যারা প্রতিষ্ঠা করে)
الصَّلٰوۃَ (আস সালাতা → যোগাযোগ ব্যবস্থা)
وَالۡمُؤۡتُوۡنَ (ওয়াল মু’তূনা → এবং যারা প্রদান করে)
الزَّکٰوۃَ (আয যাকাতা → পরিশুদ্ধি)
وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ (ওয়াল মু’মিনূনা → এবং বিশ্বাসীরা)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি → এবং শেষ দিবসের প্রতি)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
سَنُؤۡتِیۡہِمۡ (সানু’তীহিম → আমরা শীঘ্রই তাদের দেব)
اَجۡرًا (আজরান → প্রতিদান)
عَظِیۡمًا (আযীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যারা বিশ্বাসী, তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে। আর যারা যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে এবং পরিশুদ্ধ হয় (যাকাত প্রদান করে), আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে—তারাই, যাদেরকে আমি মহা প্রতিদান প্রদান করব।
আয়াত-১৬৩ঃ
اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اَوۡحَیۡنَاۤ (আওহাইনা → আমরা বার্তা পৌঁছে দিয়েছি/প্রত্যাদেশ করেছি)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
کَمَاۤ (কামা → যেমন)
اَوۡحَیۡنَاۤ (আওহাইনা → প্রত্যাদেশ করেছি)
اِلٰی نُوۡحٍ (ইলা নূহ → নূহের প্রতি)
وَّالنَّبِیّٖنَ (ওয়ান নাবিয়্যীনা → এবং নবীদের প্রতি)
مِنۡۢ بَعۡدِہٖ (মিম বা‘দিহী → তার পরে)
وَاَوۡحَیۡنَاۤ (ওয়া আওহাইনা → এবং আমরা প্রত্যাদেশ করেছি)
اِلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ (ইলা ইবরাহীমা → ইবরাহীমের প্রতি)
وَاِسۡمٰعِیۡلَ (ওয়া ইসমা‘ঈলা → এবং ইসমাঈলের প্রতি)
وَاِسۡحٰقَ (ওয়া ইসহাকা → এবং ইসহাকের প্রতি)
وَیَعۡقُوۡبَ (ওয়া ইয়া‘কূবা → এবং ইয়াকূবের প্রতি)
وَالۡاَسۡبَاطِ (ওয়াল আসবাতি → এবং বংশধরদের প্রতি)
وَعِیۡسٰی (ওয়া ‘ঈসা → এবং ঈসার প্রতি)
وَاَیُّوۡبَ (ওয়া আইয়্যূবা → এবং আইয়ূবের প্রতি)
وَیُوۡنُسَ (ওয়া ইউনুসা → এবং ইউনুসের প্রতি)
وَہٰرُوۡنَ (ওয়া হারূনা → এবং হারূনের প্রতি)
وَسُلَیۡمٰنَ (ওয়া সুলাইমানা → এবং সুলাইমানের প্রতি)
وَاٰتَیۡنَا (ওয়া আ-তাইনা → এবং আমরা দিয়েছি)
دَاوٗدَ (দাউদা → দাউদকে)
زَبُوۡرًا (যাবূরা → লিখিত বা লিপিবদ্ধ গ্রন্থ/যাবূর)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি বার্তা পৌঁছে দিয়েছি, যেমন নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আর বার্তা পৌঁছে দিয়েছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, তাদের বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলাইমানের প্রতি। আর আমরা দাউদকে যাবূর প্রদান করেছিলাম।
আয়াত-১৬৪ঃ
وَرُسُلًا (ওয়া রুসুলান → এবং বহু রাসূল)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
قَصَصۡنٰہُمۡ (কাসাসনাহুম → আমরা বর্ণনা করেছি তাদের)
عَلَیۡکَ (‘আলাইকা → তোমার কাছে)
مِنۡ قَبۡلُ (মিন কাবলু → পূর্বে)
وَرُسُلًا (ওয়া রুসুলান → এবং বহু রাসূল)
لَّمۡ (লাম → না)
نَقۡصُصۡہُمۡ (নাকসুসহুম → আমরা বর্ণনা করিনি তাদের)
عَلَیۡکَ (‘আলাইকা → তোমার কাছে)
وَکَلَّمَ (ওয়া কাল্লামা → এবং বাণী বলেছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
مُوۡسٰی (মূসা → মূসার সাথে)
تَکۡلِیۡمًا (তাকলীমান → কথা বলা / কথোপকথন)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর এমন বহু রাসূল আছেন যাদের কাহিনি আমরা পূর্বে তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন বহু রাসূলও আছেন যাদের কাহিনি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন।
আয়াত-১৬৫ঃ
رُسُلًا (রুসুলান → রাসূলগণকে)
مُّبَشِّرِیۡنَ (মুবাশশিরীনা → সুসংবাদদাতা হিসেবে)
وَمُنۡذِرِیۡنَ (ওয়া মুনযিরীনা → এবং সতর্ককারী হিসেবে)
لِئَلَّا (লিআল্লা → যাতে না থাকে)
یَکُوۡنَ (ইয়াকূনা → হয়)
لِلنَّاسِ (লিন্নাসি → মানুষের জন্য)
عَلَی اللّٰہِ (‘আলাল্লাহি → আল্লাহর বিরুদ্ধে)
حُجَّۃٌ (হুজ্জাতুন → কোনো যুক্তি/অজুহাত)
بَعۡدَ الرُّسُلِ (বা‘দার রুসুলি → রাসূলদের আগমনের পরে)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَزِیۡزًا (‘আযীযান → পরাক্রমশালী)
حَکِیۡمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যাতে রাসূলদের আগমনের পর, মানুষের জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-১৬৬ঃ
لٰکِنِ (লা-কিনি → কিন্তু)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
یَشۡہَدُ (ইয়াশহাদু → সাক্ষ্য দেন)
بِمَاۤ (বিমা → যা)
اَنۡزَلَ (আনঝালা → তিনি অবতীর্ণ করেছেন)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
اَنۡزَلَہٗ (আনঝালাহু → তিনি তা অবতীর্ণ করেছেন)
بِعِلۡمِہٖ (বি‘ইলমিহী → তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে)
وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ (ওয়াল মালাইকাতু → এবং ফেরেশতারাও)
یَشۡہَدُوۡنَ (ইয়াশহাদূনা → সাক্ষ্য দেয়)
وَکَفٰی (ওয়া কাফা → এবং যথেষ্ট)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহ)
شَہِیۡدًا (শাহীদা → সাক্ষী হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমেই অবতীর্ণ করেছেন। আর ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দেয়। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আয়াত-১৬৭ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে)
وَصَدُّوۡا (ওয়া সাদ্দূ → এবং বাধা দিয়েছে)
عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ (‘আন সাবীলিল্লাহি → আল্লাহর পথ থেকে)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
ضَلُّوۡا (দাল্লূ → তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে)
ضَلٰلًۢا (দালালান → পথভ্রষ্টতায়)
بَعِیۡدًا (বা‘ঈদা → অনেক দূরে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে, তারা অবশ্যই গভীরভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে।
আয়াত-১৬৮ঃ
اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে)
وَظَلَمُوۡا (ওয়া জালামূ → এবং অন্যায় করেছে)
لَمۡ (লাম → না)
یَکُنِ (ইয়াকুনি → হন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لِیَغۡفِرَ (লিইয়াগফিরা → ক্ষমা করার জন্য)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদেরকে)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
لِیَہۡدِیَہُمۡ (লিইয়াহদিয়াহুম → তাদের পথ প্রদর্শন করার জন্য)
طَرِیۡقًا (তারীকা → কোনো পথ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা অস্বীকার করেছে এবং অন্যায় করেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথও দেখাবেন না।
আয়াত-১৬৯ঃ
اِلَّا (ইল্লা → ব্যতীত)
طَرِیۡقَ (তারীকা → পথ)
جَہَنَّمَ (জাহান্নামা → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
خٰلِدِیۡنَ (খালিদীনা → স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী)
فِیۡہَا (ফীহা → সেখানে)
اَبَدًا (আবাদান → চিরকাল)
وَکَانَ (ওয়া কা-না → এবং তা)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → সেটি)
عَلَی اللّٰہِ (‘আলাল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
یَسِیۡرًا (ইয়াসীরা → সহজ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানের (জাহান্নামের) পথ ছাড়া; সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর এটি আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
আয়াত-১৭০ঃ
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
النَّاسُ (আন নাসু → মানুষ)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
جَآءَکُمُ (জা-আকুমু → তোমাদের কাছে এসেছে)
الرَّسُوۡلُ (আর রাসূলু → রাসূল)
بِالۡحَقِّ (বিল হাক্কি → সত্যসহ)
مِنۡ رَّبِّکُمۡ (মির রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে)
فَاٰمِنُوۡا (ফা আ-মিনূ → সুতরাং বিশ্বাস করো)
خَیۡرًا (খাইরান → এটি উত্তম)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
تَکۡفُرُوۡا (তাকফুরূ → তোমরা অস্বীকার করো)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহরই)
مَا فِی السَّمٰوٰتِ (মা ফিস সামাওয়াতি → যা কিছু আকাশমণ্ডলীতে আছে)
وَالۡاَرۡضِ (ওয়াল আরদি → এবং পৃথিবীতে)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِیۡمًا (‘আলীমা → সর্বজ্ঞ)
حَکِیۡمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে মানুষ, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ রাসূল তোমাদের কাছে এসেছে। সুতরাং বিশ্বাস করো, এটি তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-১৭১ঃ
یٰۤاَہۡلَ (ইয়া আহলা → হে অনুসারীরা)
الۡکِتٰبِ (আল কিতাবি → গ্রন্থের)
لَا (লা → না)
تَغۡلُوۡا (তাগলূ → সীমা অতিক্রম করো)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
دِیۡنِکُمۡ (দীনিকুম → তোমাদের জীবনব্যবস্থার)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → বলো)
عَلَی اللّٰہِ (‘আলাল্লাহি → আল্লাহ সম্পর্কে)
اِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
الۡحَقَّ (আল হাক্কা → সত্য)
اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
الۡمَسِیۡحُ (আল মাসীহু → বিশেষভাবে নির্বাচিত/মসীহ)
عِیۡسَی (‘ঈসা → ঈসা)
ابۡنُ (ইবনু → পুত্র)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
رَسُوۡلُ (রাসূলু → রাসূল)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَکَلِمَتُہٗ (ওয়া কালিমাতুহু → এবং তাঁর বাণী)
اَلۡقٰہَاۤ (আলকাহা → তিনি নিক্ষেপ করেছিলেন)
اِلٰی (ইলা → প্রতি)
مَرۡیَمَ (মারইয়ামা → মারইয়ামের)
وَرُوۡحٌ (ওয়া রূহুন → এবং এক আত্মা)
مِّنۡہُ (মিনহু → তাঁর পক্ষ থেকে)
فَاٰمِنُوۡا (ফা আ-মিনূ → সুতরাং বিশ্বাস করো)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَرُسُلِہٖ (ওয়া রুসুলিহী → এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
تَقُوۡلُوۡا (তাকূলূ → বলো)
ثَلٰثَۃٌ (ছালাছাতুন → তিন)
اِنۡتَہُوۡا (ইনতাহূ → বিরত হও)
خَیۡرًا (খাইরান → উত্তম)
لَّکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اِنَّمَا (ইন্নামা → নিশ্চয়ই)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
اِلٰہٌ (ইলাহুন → উপাস্য)
وَّاحِدٌ (ওয়াহিদুন → একক)
سُبۡحٰنَہٗ (সুবহানাহু → তিনি মহিমাময়)
اَنۡ (আন → যে)
یَّکُوۡنَ (ইয়াকূনা → হবে)
لَہٗ (লাহু → তাঁর)
وَلَدٌ (ওয়ালাদুন → সন্তান)
لَہٗ (লাহু → তাঁরই)
مَا (মা → যা কিছু)
فِی السَّمٰوٰتِ (ফিস সামাওয়াতি → আকাশমণ্ডলীতে আছে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা কিছু)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদি → পৃথিবীতে আছে)
وَکَفٰی (ওয়া কাফা → এবং যথেষ্ট)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহ)
وَکِیۡلًا (ওয়াকীলা → কর্মবিধায়ক হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে গ্রন্থের অনুসারীরা, তোমাদের জীবণব্যস্থার ব্যাপারে সীমা অতিক্রম করো না এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। নিশ্চয়ই বিশেষভাবে নির্বাচিত ঈসা, মারইয়ামের পুত্র আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের প্রতি পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক আত্মা। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস করো। আর ‘তিন’ বলো না; বিরত হও, এটি তোমাদের জন্য উত্তম। নিশ্চয়ই আল্লাহ একক উপাস্য। তিনি মহিমাময়—তাঁর সন্তান থাকা থেকে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আয়াত-১৭২ঃ
لَنۡ (লান → কখনোই না)
یَّسۡتَنۡکِفَ (ইয়াস্তানকিফা → অবজ্ঞা করবে)
الۡمَسِیۡحُ (আল মাসীহু → বিশেষভাবে নির্বাচিত/মসীহ)
اَنۡ (আন → যে)
یَّکُوۡنَ (ইয়াকূনা → হবে)
عَبۡدًا (‘আবদান → বান্দা)
لِّلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর)
وَلَا (ওয়ালা → এবং না)
الۡمَلٰٓئِکَۃُ (আল মালাইকাতু → ফেরেশতাগণ)
الۡمُقَرَّبُوۡنَ (আল মুকাররাবূনা → নৈকট্যপ্রাপ্তরা)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یَّسۡتَنۡکِفۡ (ইয়াস্তানকিফ → অবজ্ঞা করে)
عَنۡ (‘আন → থেকে)
عِبَادَتِہٖ (‘ইবাদাতিহী → তাঁর দাসত্ব)
وَیَسۡتَکۡبِرۡ (ওয়া ইয়াস্তাকবির → এবং অহংকার করে)
فَسَیَحۡشُرُہُمۡ (ফাসাইয়াহশুরুহুম → তবে তিনি তাদের সমবেত করবেন)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁর দিকে)
جَمِیۡعًا (জামী‘আ → সকলকে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
বিশেষভাবে নির্বাচিত ব্যক্তি (মসীহ) কখনোই আল্লাহর বান্দা হতে অবজ্ঞা করবেন না, আর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও করবেন না। আর যে তাঁর দাসত্ব অবজ্ঞা করে এবং অহংকার করে, তিনি তাদের সবাইকে তাঁর দিকে সমবেত করবেন।
আয়াত-১৭৩ঃ
فَاَمَّا (ফা আম্মা → অতএব )
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَعَمِلُوا (ওয়া ‘আমিলূ → এবং কাজ করেছে)
الصّٰلِحٰتِ (আস সালিহাতি → সৎকর্মসমূহ)
فَیُوَفِّیۡہِمۡ (ফাইউওয়াফ্ফীহিম → তিনি পূর্ণরূপে দেবেন তাদেরকে)
اُجُوۡرَہُمۡ (উজূরাহুম → তাদের প্রতিদান)
وَیَزِیۡدُہُمۡ (ওয়া ইয়াযীদুহুম → এবং বৃদ্ধি করবেন তাদেরকে)
مِّنۡ (মিন → থেকে)
فَضۡلِہٖ (ফাদলিহী → তাঁর অনুগ্রহ)
وَاَمَّا (ওয়া আম্মা → আর যারা)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اسۡتَنۡکَفُوۡا (ইস্তানকাফূ → অবজ্ঞা করেছে)
وَاسۡتَکۡبَرُوۡا (ওয়াস্তাকবারূ → এবং অহংকার করেছে)
فَیُعَذِّبُہُمۡ (ফাইউ‘আযযিবুহুম → তিনি শাস্তি দেবেন তাদেরকে)
عَذَابًا (‘আযাবান → এক শাস্তি)
اَلِیۡمًا (আলীমা → যন্ত্রণাদায়ক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
یَجِدُوۡنَ (ইয়াজিদূনা → তারা পাবে)
لَہُمۡ (লাহুম → নিজেদের জন্য)
مِّنۡ دُوۡنِ (মিন দূনি → ছাড়া)
اللّٰہِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
وَلِیًّا (ওয়ালিয়্যান → কোনো অভিভাবক)
وَّلَا (ওয়ালা → এবং না)
نَصِیۡرًا (নাসীরা → কোনো সাহায্যকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তিনি তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের আরও বৃদ্ধি করে দেবেন। আর যারা অবজ্ঞা করেছে এবং অহংকার করেছে, তিনি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন। আর তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
আয়াত-১৭৪ঃ
یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
النَّاسُ (আন নাসু → মানুষ)
قَدۡ (কাদ → অবশ্যই)
جَآءَکُمۡ (জা-আকুম → তোমাদের কাছে এসেছে)
بُرۡہَانٌ (বুরহানুন → সুস্পষ্ট প্রমাণ)
مِّنۡ (মিম → থেকে)
رَّبِّکُمۡ (রাব্বিকুম → তোমাদের প্রতিপালক)
وَاَنۡزَلۡنَاۤ (ওয়া আনঝালনা → এবং আমরা অবতীর্ণ করেছি)
اِلَیۡکُمۡ (ইলাইকুম → তোমাদের প্রতি)
نُوۡرًا (নূরান → এক আলোক)
مُّبِیۡنًا (মুবীনা → সুস্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে মানুষ, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, এবং আমরা তোমাদের প্রতি এক সুস্পষ্ট আলো (নূর) অবতীর্ণ করেছি।
আয়াত-১৭৫ঃ
فَاَمَّا (ফা আম্মা → অতএব)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَاعۡتَصَمُوۡا (ওয়া‘তাসামূ → এবং দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে)
بِہٖ (বিহী → তাঁকে)
فَسَیُدۡخِلُہُمۡ (ফাসাইউদখিলুহুম → তবে তিনি প্রবেশ করাবেন তাদেরকে)
فِیۡ (ফী → মধ্যে)
رَحۡمَۃٍ (রাহমাতিন → অনুগ্রহ)
مِّنۡہُ (মিনহু → তাঁর পক্ষ থেকে)
وَفَضۡلٍ (ওয়া ফাদলিন → এবং অনুগ্রহজনিত দান)
وَّیَہۡدِیۡہِمۡ (ওয়া ইয়াহদীহিম → এবং পথনির্দেশ করবেন তাদেরকে)
اِلَیۡہِ (ইলাইহি → তাঁর দিকে)
صِرَاطًا (সিরাতান → পথ)
مُّسۡتَقِیۡمًا (মুস্তাকীমা → সরল/সঠিক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছে এবং তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তিনি তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও বিশেষ দানের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং তাদেরকে তাঁর দিকে সরল পথের (সিরাতল মুস্তাকিমের) নির্দেশনা দেবেন।
আয়াত-১৭৬ঃ
یَسۡتَفۡتُوۡنَکَ (ইয়াস্তাফতূনাকা → তারা তোমার কাছে বিধান জানতে চায়)
قُلِ (কুলি → বলো)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
یُفۡتِیۡکُمۡ (ইউফতীকুম → তোমাদেরকে বিধান জানান)
فِی (ফী → সম্পর্কে)
الۡکَلٰلَۃِ (আল কালালাতি → পিতা-মাতা ও সন্তানবিহীন মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার)
اِنِ (ইন → যদি)
امۡرُؤٌا (ইমরুউন → কোনো ব্যক্তি)
ہَلَکَ (হালাকা → মৃত্যুবরণ করে)
لَیۡسَ (লাইসা → নেই)
لَہٗ (লাহু → তার)
وَلَدٌ (ওয়ালাদুন → সন্তান)
وَّلَہٗۤ (ওয়া লাহু → এবং তার)
اُخۡتٌ (উখতুন → এক বোন)
فَلَہَا (ফালাহা → তবে তার জন্য)
نِصۡفُ (নিসফু → অর্ধেক)
مَا (মা → যা)
تَرَکَ (তারাকা → সে রেখে গেছে)
وَہُوَ (ওয়া হুয়া → এবং সে)
یَرِثُہَا (ইয়ারিসুহা → তার উত্তরাধিকারী হবে)
اِنۡ (ইন → যদি)
لَّمۡ (লাম → না)
یَکُنۡ (ইয়াকুন → থাকে)
لَّہَا (লাহা → তার)
وَلَدٌ (ওয়ালাদুন → সন্তান)
فَاِنۡ (ফাইন → অতঃপর যদি)
کَانَتَا (কা-নাতা → তারা হয়)
اثۡنَتَیۡنِ (ইসনাতাইনি → দুইজন)
فَلَہُمَا (ফালাহুমা → তবে তাদের জন্য)
الثُّلُثٰنِ (আস সুলুসানি → দুই-তৃতীয়াংশ)
مِمَّا (মিম্মা → যা থেকে)
تَرَکَ (তারাকা → সে রেখে গেছে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
کَانُوۡۤا (কা-নূ → তারা হয়)
اِخۡوَۃً (ইখওয়াতান → ভাইবোন)
رِّجَالًا (রিজালান → পুরুষ)
وَّنِسَآءً (ওয়া নিসা-আন → এবং নারী)
فَلِلذَّکَرِ (ফালিযযাকারি → তবে পুরুষের জন্য)
مِثۡلُ (মিসলু → সমান)
حَظِّ (হাজ্জি → অংশ)
الۡاُنۡثَیَیۡنِ (আল উনসায়াইনি → দুই নারীর)
یُبَیِّنُ (ইউবাইয়িনু → সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
اَنۡ (আন → যাতে)
تَضِلُّوۡا (তাদিল্লূ → তোমরা পথভ্রষ্ট না হও)
وَاللّٰہُ (ওয়াল্লাহু → এবং আল্লাহ)
بِکُلِّ (বিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইয়িন → বিষয় সম্পর্কে)
عَلِیۡمٌ (‘আলীমুন → সর্বজ্ঞ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা তোমার কাছে বিধান জানতে চায়। বলো, আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-মাতা ও সন্তানবিহীন মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পর্কে বিধান জানাচ্ছেন: যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, কিন্তু তার এক বোন থাকে, তবে সে যা রেখে গেছে তার অর্ধেক সেই বোনের জন্য। আর যদি বোনের কোনো সন্তান না থাকে, তবে ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। আর যদি দুই বোন থাকে, তবে তারা তার রেখে যাওয়া সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি ভাইবোন উভয়ই থাকে—পুরুষ ও নারী—তবে একজন পুরুষের জন্য দুই নারীর অংশ সমান। আল্লাহ তোমাদের জন্য এসব স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
