সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ১৭৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-১০১ঃ
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
ضَرَبۡتُمۡ (দারাবতুম → তোমরা ভ্রমণ করো)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদ → পৃথিবীতে)
فَلَیۡسَ (ফালাইসা → নেই)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
جُنَاحٌ (জুনাহুন → কোনো গুনাহ)
اَنۡ تَقۡصُرُوۡا (আন তাকসুরূ → সংক্ষিপ্ত করো)
مِنَ الصَّلٰوۃِ (মিনাস সালাহ → সংযোগ থেকে)
اِنۡ خِفۡتُمۡ (ইন খিফতুম → যদি তোমরা ভয় পাও)
اَنۡ یَّفۡتِنَکُمُ (আন ইয়াফতিনাকুম → তারা তোমাদের বিপর্যয়ে ফেলবে)
الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا (আল্লাযীনা কাফারূ → যারা অবিশ্বাস করেছে)
اِنَّ الۡکٰفِرِیۡنَ (ইন্নাল কাফিরীন → নিশ্চয় অবিশ্বাসীরা)
کَانُوۡا لَکُمۡ (কানূ লাকুম → তোমাদের জন্য ছিল)
عَدُوًّا (আদুউও → শত্রু)
مُّبِیۡنًا (মুবীনা → স্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো, তখন তোমাদের কোনো পাপ নেই যদি তোমরা যোগাযোগ সংক্ষিপ্ত করো, যদি তোমরা ভয় পাও যে অবিশ্বাসীরা তোমাদের বিপদে ফেলবে। নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীরা তোমাদের স্পষ্ট শত্রু।
আয়াত-১০২ঃ
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
کُنۡتَ (কুনতা → তুমি থাকো)
فِیۡہِمۡ (ফীহিম → তাদের মধ্যে)
فَاَقَمۡتَ (ফাআকামতা → তুমি প্রতিষ্ঠা করো)
لَہُمُ الصَّلٰوۃَ (লাহুমুস সালাহ → তাদের জন্য যোগাযোগ)
فَلۡتَقُمۡ (ফালতাকুম → অতএব সে যেন দাঁড়ায়)
طَآئِفَۃٌ مِّنۡہُمۡ (তাইফাতুম মিনহুম → তাদের একটি দল)
مَّعَکَ (মা‘আকা → তোমার সাথে)
وَلۡیَاۡخُذُوۡۤا (ওয়ালইয়াখুযূ → এবং তারা ধারণ করুক)
اَسۡلِحَتَہُمۡ (আসলিহাতাহুম → তাদের অস্ত্র)
فَاِذَا سَجَدُوۡا (ফাইযা সাজাদূ → যখন তারা মান্য করে)
فَلۡیَکُوۡنُوۡا (ফালইয়াকূনূ → তারা থাকুক)
مِنۡ وَّرَآئِکُمۡ (মিন ওয়ারাইকুম → তোমাদের পেছনে)
وَلۡتَاۡتِ (ওয়ালতা’তি → এবং আসুক)
طَآئِفَۃٌ اُخۡرٰی (তাইফাতুন উখরা → অন্য দল)
لَمۡ یُصَلُّوۡا (লাম ইউসাল্লূ → যারা যোগযোগ করেনি)
فَلۡیُصَلُّوۡا (ফালইউসাল্লূ → তারা যোগাযোগ করুক)
مَعَکَ (মা‘আকা → তোমার সাথে)
وَلۡیَاۡخُذُوۡا (ওয়ালইয়াখুযূ → এবং তারা ধারণ করুক)
حِذۡرَہُمۡ (হিযরাহুম → তাদের সতর্কতা)
وَاَسۡلِحَتَہُمۡ (ওয়া আসলিহাতাহুম → এবং তাদের অস্ত্র)
وَدَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا (ওয়াদ্দাল্লাযীনা কাফারূ → অবিশ্বাসীরা চায়)
لَوۡ تَغۡفُلُوۡنَ (লাও তাগফুলূনা → যদি তোমরা অসতর্ক হও)
عَنۡ اَسۡلِحَتِکُمۡ (আন আসলিহাতিকুম → তোমাদের অস্ত্র থেকে)
وَاَمۡتِعَتِکُمۡ (ওয়া আমতিয়াতিকুম → এবং তোমাদের সরঞ্জাম থেকে)
فَیَمِیۡلُوۡنَ (ফাইয়ামীলূনা → তারা আক্রমণ করবে)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
مَّیۡلَۃً وَّاحِدَۃً (মাইলাতান ওয়াহিদাহ → একবারে হঠাৎ আক্রমণ)
وَلَا جُنَاحَ (ওয়া লা জুনাহ → কোনো গুনাহ নেই)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
اِنۡ کَانَ (ইন কানা → যদি থাকে)
بِکُمۡ اَذًی (বিকুম আযান → তোমাদের কষ্ট/অসুস্থতা)
مِّنۡ مَّطَرٍ (মিন মাতারিন → বৃষ্টির কারণে)
اَوۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی (আও কুনতুম মারদা → অথবা তোমরা অসুস্থ)
اَنۡ تَضَعُوۡۤا (আন তাদাউ → তোমরা রাখতে পারো)
اَسۡلِحَتَکُمۡ (আসলিহাতাকুম → তোমাদের অস্ত্র)
وَخُذُوۡا (ওয়া খুযূ → এবং গ্রহণ করো)
حِذۡرَکُمۡ (হিযরাকুম → তোমাদের সতর্কতা)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
اَعَدَّ (আ‘আদ্দা → প্রস্তুত করেছেন)
لِلۡکٰفِرِیۡنَ (লিল কাফিরীন → অবিশ্বাসীদের জন্য)
عَذَابًا مُّہِیۡنًا (আযাবান মুহীনা → অপমানজনক শাস্তি)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তুমি তাদের মধ্যে অবস্থান করো এবং তাদের জন্য যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করো, তখন তাদের একটি দল তোমার সাথে দাঁড়াবে এবং তারা তাদের অস্ত্র ধারণ করবে। যখন তারা মান্য করবে, তখন তারা তোমাদের পেছনে অবস্থান করবে। তারপর অন্য একটি দল আসবে যারা এখনো যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেনি, তারা তোমার সাথে যোগাযোগ করবে এবং তারা তাদের সতর্কতা ও অস্ত্র গ্রহণ করবে। অবিশ্বাসীরা চায় তোমরা যদি তোমাদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম থেকে অসতর্ক হও, তবে তারা তোমাদের ওপর একসাথে হঠাৎ আক্রমণ করবে। আর যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্টে থাকো বা অসুস্থ হও, তাহলে অস্ত্র নামিয়ে রাখায় তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, তবে সতর্কতা বজায় রাখবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
আয়াত-১০৩ঃ
فَاِذَا (ফাইযা → যখন)
قَضَیۡتُمُ الصَّلٰوۃَ (কাদাইতুমুস সালাহ → তোমরা যোগাযোগ সম্পন্ন করো)
فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ (ফাযকুরুল্লাহা → আল্লাহকে স্মরণ করো)
قِیٰمًا (কিয়ামান → দাঁড়িয়ে)
وَّقُعُوۡدًا (ওয়া কুউ‘উদান → বসে)
وَّعَلٰی جُنُوۡبِکُمۡ (ওয়া আলা জুনূবিকুম → এবং তোমাদের পাশ ফিরে/শুয়ে)
فَاِذَا (ফাইযা → তারপর যখন)
اطۡمَاۡنَنۡتُمۡ (ইত্মাআন্নানতুম → তোমরা নিরাপদ হও)
فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ (ফাআকীমুস সালাহ → যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করো)
اِنَّ الصَّلٰوۃَ (ইন্নাস সালাহ → নিশ্চয় যোগাযোগ)
کَانَتۡ (কানাত → নির্ধারিত করা হয়েছে)
عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আলাল মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসীদের উপর)
کِتٰبًا (কিতাবান → একটি লিখিত বিধান)
مَّوۡقُوۡتًا (মাওকূতা → নির্দিষ্ট সময়বদ্ধ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতঃপর যখন তোমরা যোগাযোগ শেষ করো, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে —সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করো। তারপর যখন তোমরা নিরাপদ হয়ে যাও, তখন নিয়মিতভাবে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করো। নিশ্চয় যোগাযোগ, দৃঢ় বিশ্বাসীদের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি লিখিত বিধান করা হয়েছে।
আয়াত-১০৪ঃ
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
تَہِنُوۡا (তাহিনূ → দুর্বল হয়ো)
فِی ابۡتِغَآءِ الۡقَوۡمِ (ফি ইবতিগাইল কাওম → শত্রুদের অনুসন্ধানে/মোকাবিলায়)
اِنۡ تَکُوۡنُوۡا (ইন তাকূনূ → যদি তোমরা হও)
تَاۡلَمُوۡنَ (তা’লামূনা → কষ্ট পাও)
فَاِنَّہُمۡ (ফাইন্নাহুম → তবে নিশ্চয় তারা)
یَاۡلَمُوۡنَ (ইয়া’লামূনা → কষ্ট পায়)
کَمَا تَاۡلَمُوۡنَ (কামা তা’লামূনা → যেমন তোমরা কষ্ট পাও)
وَتَرۡجُوۡنَ (ওয়া তারজূনা → আর তোমরা আশা করো)
مِنَ اللّٰہِ (মিনাল্লাহ → আল্লাহর কাছ থেকে)
مَا لَا یَرۡجُوۡنَ (মা লা ইয়ারজূনা → যা তারা আশা করে না)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِیۡمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)
حَکِیۡمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমরা শত্রুদের মোকাবিলায় দুর্বল হয়ো না। যদি তোমরা কষ্ট পাও, তবে তারাও তোমাদের মতোই কষ্ট পায়। আর তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে এমন কিছু আশা করো, যা তারা আশা করে না। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-১০৫ঃ
اِنَّاۤ (ইন্না → নিশ্চয় আমরা)
اَنۡزَلۡنَاۤ (আনযালনা → নাযিল করেছি)
اِلَیۡکَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাব → কিতাব)
بِالۡحَقِّ (বিল হাক্ক → সত্যসহ)
لِتَحۡکُمَ (লিতাহকুমা → যাতে তুমি বিচার করো)
بَیۡنَ النَّاسِ (বাইনা আন-নাস → মানুষের মাঝে)
بِمَاۤ (বিমা → সেই অনুযায়ী যা)
اَرٰىکَ اللّٰہُ (আরাকা আল্লাহু → আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন/শিখিয়েছেন)
وَلَا تَکُنۡ (ওয়া লা তাকুন → এবং হয়ো না)
لِّلۡخَآئِنِیۡنَ (লিল খাইনীন → বিশ্বাসঘাতকদের জন্য)
خَصِیۡمًا (খাসীমা → বিতর্ককারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যা শিখিয়েছেন তার ভিত্তিতে তুমি মানুষের মাঝে বিচার করো। আর তুমি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ অবলম্বনকারী হয়ো না।
আয়াত-১০৬ঃ
وَاسۡتَغۡفِرِ اللّٰہَ (ওয়া-স্তাগফিরিল্লাহা → এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
کَانَ (কানা → আছেন)
غَفُوۡرًا (গাফূরান → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত-১০৭ঃ
وَلَا تُجَادِلۡ (ওয়া লা তুজাদিল → এবং তুমি বাক-বিতণ্ডা করো না)
عَنِ الَّذِیۡنَ (আনিল্লাযীনা → তাদের পক্ষে যারা)
یَخۡتَانُوۡنَ (ইয়াখতা-নূনা → বিশ্বাসঘাতকতা করে)
اَنۡفُسَہُمۡ (আনফুসাহুম → নিজেদের বিরুদ্ধে)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
لَا یُحِبُّ (লা ইউহিব্বু → ভালোবাসেন না)
مَنۡ کَانَ (মান কানা → যে ব্যক্তি হয়)
خَوَّانًا (খাওওয়ানা → অতিমাত্রায় বিশ্বাসঘাতক)
اَثِیۡمًا (আসীমা → পাপিষ্ঠ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
যারা নিজেদেরকে প্রতারিত করে তাদের পক্ষে বাদ-বিতণ্ডা কর না, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বিশ্বাসভঙ্গকারী পাপীকে পছন্দ করেন না।
আয়াত-১০৮ঃ
یَّسۡتَخۡفُوۡنَ (ইয়াস্তাখফূনা → তারা গোপন করে)
مِنَ النَّاسِ (মিনান-নাস → মানুষের কাছ থেকে)
وَلَا یَسۡتَخۡفُوۡنَ (ওয়া লা ইয়াস্তাখফূনা → কিন্তু গোপন করতে পারে না)
مِنَ اللّٰہِ (মিনাল্লাহ → আল্লাহর কাছ থেকে)
وَہُوَ مَعَہُمۡ (ওয়া হুওয়া মা‘আহুম → অথচ তিনি তাদের সাথে আছেন)
اِذۡ یُبَیِّتُوۡنَ (ইয ইউবাইয়িতূনা → যখন তারা গোপনে পরিকল্পনা করে)
مَا لَا یَرۡضٰی (মা লা ইয়রদা → যা তিনি পছন্দ করেন না)
مِنَ الۡقَوۡلِ (মিনাল কাওল → কথার মধ্যে)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ (বিমা ইয়ামালূনা → তারা যা করে তা)
مُحِیۡطًا (মুহীতান → সর্ববেষ্টনকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা যা মানুষের কাছ থেকে গোপন করে, কিন্তু তা আল্লাহর কাছ থেকে গোপন করতে পারে না। অথচ তিনি তাদের সাথে থাকেন, যখন তারা গোপনে এমন কথা পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তাদের সব কাজকে সম্পূর্ণভাবে পরিবেষ্টন করে আছেন।
আয়াত-১০৯ঃ
ہٰۤاَنۡتُمۡ (হা-আনতুম → তোমরা তো)
ہٰۤؤُلَآءِ (হা-উলাই → এরা)
جٰدَلۡتُمۡ (জাদালতুম → পক্ষ নিয়েছো)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদের পক্ষে)
فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا (ফিল হায়াতিদ্দুনিয়া → দুনিয়ার জীবনে)
فَمَنۡ (ফামান → তবে কে)
یُّجَادِلُ اللّٰہَ (ইউজাদিলুল্লাহা → আল্লাহর সামনে তাদের পক্ষে বাক-বিতন্ডা করবে)
عَنۡہُمۡ (আনহুম → তাদের জন্য)
یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমাল কিয়ামাহ → পরকালে)
اَمۡ مَّنۡ (আম মান → অথবা কে)
یَّکُوۡنُ (ইয়াকূনু → হবে)
عَلَیۡہِمۡ (আলাইহিম → তাদের উপর)
وَکِیۡلًا (ওয়াকীলা → অভিভাবক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তোমরা তো দুনিয়ার জীবনে তাদের পক্ষ হয়ে বাক-বিতন্ডা করেছো। কিন্তু পরকালের দিন আল্লাহর সামনে তাদের পক্ষ হয়ে কে বাক-বিতন্ডা করবে? অথবা কে হবে তাদের অভিভাবক?
আয়াত-১১০ঃ
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
یَّعۡمَلۡ (ইয়া‘মাল → করে)
سُوۡٓءًا (সূআন → কোনো মন্দ কাজ)
اَوۡ (আও → অথবা)
یَظۡلِمۡ (ইয়াজলিম → অত্যাচার করে)
نَفۡسَہٗ (নাফসাহু → নিজের ওপর)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
یَسۡتَغۡفِرِ اللّٰہَ (ইয়াস্তাগফিরিল্লাহা → আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়)
یَجِدِ اللّٰہَ (ইয়াজিদিল্লাহা → সে আল্লাহকে পাবে)
غَفُوۡرًا (গাফূরান → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের ওপর জুলুম করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।
আয়াত-১১১ঃ
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
یَّکۡسِبۡ (ইয়াকসিব → করে নেয়)
اِثۡمًا (ইছমান → পাপ)
فَاِنَّمَا (ফাইন্নামা → তবে তা শুধু)
یَکۡسِبُہٗ (ইয়াকসিবুহু → সে তা বহন করে/অর্জন করে)
عَلٰی نَفۡسِہٖ (আলা নাফসিহী → নিজের ওপরই)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কানা আল্লাহু → আর আল্লাহ)
عَلِیۡمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)
حَکِیۡمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে কেউ কোনো পাপ অর্জন করে, সে তা নিজের ওপরই বহন করবে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-১১২ঃ
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
یَّکۡسِبۡ (ইয়াকসিব → করে নেয়)
خَطِیۡٓىـَٔۃً (খতীআহ → কোনো ভুল)
اَوۡ (আও → অথবা)
اِثۡمًا (ইছমান → পাপ)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
یَرۡمِ بِہٖ (ইয়ারমি বিহী → তা আরোপ করে)
بَرِیۡٓــًٔا (বারীআ → নির্দোষ ব্যক্তির ওপর)
فَقَدِ (ফাকাদ → তবে সে অবশ্যই)
احۡتَمَلَ (ইহতামালা → বহন করে নিয়েছে)
بُہۡتَانًا (বুহতানান → অপবাদ/মিথ্যা অভিযোগ)
وَّاِثۡمًا (ওয়া ইছমান → এবং পাপ)
مُّبِیۡنًا (মুবীনা → স্পষ্ট)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে ব্যক্তি কোনো ভুল বা পাপ করে, তারপর তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়, সে অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করবে।
আয়াত-১১৩ঃ
وَلَوۡلَا (ওয়া লাওলা → আর যদি না হতো)
فَضۡلُ اللّٰہِ (ফাদলুল্লাহি → আল্লাহর অতিরিক্ত প্রাপ্তি)
عَلَیۡکَ (আলাইকা → তোমার ওপর)
وَرَحۡمَتُہٗ (ওয়া রাহমাতুহু → এবং তাঁর অনুগ্রহ)
لَہَمَّتۡ (লাহাম্মাত → অবশ্যই সংকল্প করেছিল)
طَّآئِفَۃٌ (তাইফাতুন → একটি দল)
مِّنۡہُمۡ (মিনহুম → তাদের মধ্য থেকে)
اَنۡ یُّضِلُّوۡکَ (আঁ ইউদিল্লূকা → তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে)
وَمَا یُضِلُّوۡنَ (ওয়া মা ইউদিল্লূনা → কিন্তু তারা পথভ্রষ্ট করে না)
اِلَّاۤ اَنۡفُسَہُمۡ (ইল্লা আনফুসাহুম → নিজেদের ছাড়া)
وَمَا یَضُرُّوۡنَکَ (ওয়া মা ইয়াদুররূনাকা → এবং তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারে না)
مِنۡ شَیۡءٍ (মিন শাইইন → সামান্যও)
وَاَنۡزَلَ اللّٰہُ (ওয়া আনযালাল্লাহু → আর আল্লাহ নাযিল করেছেন)
عَلَیۡکَ (আলাইকা → তোমার ওপর)
الۡکِتٰبَ (আল-কিতাবা → কিতাব)
وَالۡحِکۡمَۃَ (ওয়াল-হিকমাতা → এবং প্রজ্ঞা)
وَعَلَّمَکَ (ওয়া আল্লামাকা → এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন)
مَا لَمۡ تَکُنۡ تَعۡلَمُ (মা লাম তাকুন তা‘লামু → যা তুমি জানতে না)
وَکَانَ (ওয়া কানা → এবং হয়েছে)
فَضۡلُ اللّٰہِ (ফাদলুল্লাহি → আল্লাহর করুণা)
عَلَیۡکَ (আলাইকা → তোমার ওপর)
عَظِیۡمًا (আযীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তোমার উপর আল্লাহর অতিরিক্ত করুণা ও অনুগ্রহ না থাকত, তবে তাদের একটি দল অবশ্যই তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেছিল। কিন্তু তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেই পথভ্রষ্ট করে না এবং তোমার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না। আল্লাহ তোমার উপর কিতাব ও প্রজ্ঞা নাযিল করেছেন এবং তোমাকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার উপর আল্লাহর করুণা অত্যন্ত মহান।
আয়াত-১১৪ঃ
لَا خَیۡرَ (লা খাইরা → কোনো কল্যাণ নেই)
فِیۡ کَثِیۡرٍ (ফী কাছীরিন → অধিকাংশ)
مِّنۡ نَّجۡوٰىہُمۡ (মিন নাজওয়াহুম → তাদের গোপন পরামর্শে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে ব্যতিক্রম)
مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
اَمَرَ (আমারা → নির্দেশ দেয়)
بِصَدَقَۃٍ (বিসাদাকাতিন → স্বেচ্ছাদানের মাধ্যমে)
اَوۡ مَعۡرُوۡفٍ (আও মা‘রূফিন → অথবা ভালোকাজে)
اَوۡ اِصۡلَاحٍ (আও ইস্লাহিন → অথবা মীমাংসা করতে)
بَیۡنَ النَّاسِ (বাইনান-নাস → মানুষের মধ্যে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
یَّفۡعَلۡ (ইয়াফ‘আল → করে)
ذٰلِکَ (যালিকা → এসব)
ابۡتِغَآءَ (ইবতিগা-আ → অনুসন্ধানে/লাভের উদ্দেশ্যে)
مَرۡضَاتِ اللّٰہِ (মারদাতিল্লাহি → আল্লাহর সন্তুষ্টি)
فَسَوۡفَ (ফাসাওফা → তবে অচিরেই)
نُؤۡتِیۡـہِ (নু’তীহি → আমরা তাকে দেব)
اَجۡرًا (আজরান → প্রতিদান)
عَظِیۡمًا (আযীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে সেই ব্যক্তির পরামর্শে কল্যাণ আছে যে স্বেচ্ছাদানের মাধ্যমে ও ভালোকাজ করতে বা মানুষের মধ্যে মীমাংসা করতে নির্দেশ দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এসব কাজ করে, তাকে আমরা অচিরেই মহান প্রতিদান দান করব।
আয়াত-১১৫ঃ
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে কেউ)
یُّشَاقِقِ (ইউশাকিকি → বিরোধিতা করে)
الرَّسُوۡلَ (আর-রাসূলা → রাসূলের)
مِنۡۢ بَعۡدِ (মিম বা‘দি → এরপর)
مَا تَبَیَّنَ (মা তাবাইয়ানা → যখন স্পষ্ট হয়ে গেছে)
لَہُ (লাহু → তার কাছে)
الۡہُدٰی (আল-হুদা → সঠিক পথ)
وَیَتَّبِعۡ (ওয়া ইয়াত্তাবি‘ → এবং অনুসরণ করে)
غَیۡرَ (গাইরা → ছাড়া)
سَبِیۡلِ (সাবীলি → পথ)
الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল-মু’মিনীনা → দৃঢ় বিশ্বাসীদের)
نُوَلِّہٖ (নুওয়াল্লিহি → আমরা তাকে ছেড়ে দেব)
مَا تَوَلّٰی (মা তাওয়াল্লা → যে পথে সে নিজে ফিরে গেছে)
وَنُصۡلِہٖ (ওয়া নুসলিহি → এবং তাকে প্রবেশ করাব)
جَہَنَّمَ (জাহান্নামা → ভয়াবহ শাস্তির চূড়ান্ত স্থানে)
وَسَآءَتۡ (ওয়া সা-আত → আর কত নিকৃষ্ট)
مَصِیۡرًا (মাসীরা → পরিণামস্থল)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে ব্যক্তি তার কাছে সঠিক পথ নির্দেশ (হিদায়াত) স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলের বিরোধিতা করে এবং দৃঢ় বিশ্বাসীদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তাকে আমি সে দিকেই ছেড়ে দেব যেপথ সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে ভয়াবহ শাস্তির চূড়ান্ত স্থানে (জাহান্নামে) প্রবেশ করাব। আর তা কতই না নিকৃষ্ট পরিণামস্থল।
আয়াত-১১৬ঃ
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয়ই আল্লাহ)
لَا یَغۡفِرُ (লা ইয়াগফিরু → ক্ষমা করেন না)
اَنۡ یُّشۡرَکَ بِہٖ (আঁ ইউশরাকা বিহী → তাঁর সাথে শিরক করা)
وَیَغۡفِرُ (ওয়া ইয়াগফিরু → এবং তিনি ক্ষমা করেন)
مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ (মা দুনা যালিকা → এর বাইরে যা কিছু)
لِمَنۡ یَّشَآءُ (লিমান ইয়াশা → যাকে ইচ্ছা)
وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ (ওয়া মান ইউশরিক বিল্লাহি → আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করে)
فَقَدۡ ضَلَّ (ফাকাদ দাল্লা → সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছে)
ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا (দালালান বা‘ঈদা → সুদূর বিভ্রান্তিতে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে কাউকে অংশীদ্বার (শরিক) করা ক্ষমা করেন না, তবে এর বাইরে যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে সুদূর পথভ্রষ্টতায় পড়ে যায়।
আয়াত-১১৭ঃ
اِنۡ (ইন → তারা)
یَّدۡعُوۡنَ (ইয়াদ‘ঊনা → ডাকে)
مِنۡ دُوۡنِہٖۤ (মিন দুনিহী → তাঁকে বাদ দিয়ে)
اِلَّاۤ (ইল্লা → শুধু)
اِنٰثًا (ইনাছান → নারীজাতী/স্ত্রীলিঙ্গ)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → এবং তারা)
یَّدۡعُوۡنَ (ইয়াদ‘ঊনা → ডাকে)
اِلَّا (ইল্লা → শুধু)
شَیۡطٰنًا (শাইতানান → কুমন্ত্রণাদাতা)
مَّرِیۡدًا (মারীদা → অবাধ্য)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শুধু নারীজাতীর (এক ধরনের নারীর মোহ) উপাসনা করে এবং তারা প্রকৃতপক্ষে শুধু অবাধ্য কুমন্ত্রণাদাতাকেই (শয়তানকেই) ডাকে।
আয়াত-১১৮ঃ
لَّعَنَہُ (লা‘আনাহু → তাকে অভিশাপ দিয়েছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
وَقَالَ (ওয়া কা-লা → এবং সে বলল)
لَاَتَّخِذَنَّ (লা-আত্তাখিযান্না → আমি অবশ্যই অনুসারী করব)
مِنۡ عِبَادِکَ (মিন ‘ইবা-দিকা → তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে)
نَصِیۡبًا (নাসীবান → একটি অংশ)
مَّفۡرُوۡضًا (মাফরূদান → নির্ধারিত)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত করেছেন। আর সে বলেছিল, আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী করব।
আয়াত-১১৯ঃ
وَّلَاُضِلَّنَّهُمۡ (ওয়া লা-উদিল্লান্নাহুম → এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব)
وَلَاُمَنِّیَنَّهُمۡ (ওয়া লা-উমান্নিইয়ান্নাহুম → এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে মিথ্যা আশা ও প্রলোভন দেব)
وَلَاٰمُرَنَّهُمۡ (ওয়া লা-আমুরান্নাহুম → এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে আদেশ করব)
فَلَیُبَتِّکُنَّ (ফা-লাইউবাত্তিকুন্না → ফলে তারা অবশ্যই বিকৃত করবে)
اٰذَانَ الۡاَنۡعَامِ (আ-যানাল আন‘আ-মি → গবাদিপশুর কান)
وَلَاٰمُرَنَّهُمۡ (ওয়া লা-আমুরান্নাহুম → এবং আমি আবারও তাদেরকে আদেশ করব)
فَلَیُغَیِّرُنَّ (ফা-লাইউগাইয়িরুন্না → ফলে তারা অবশ্যই পরিবর্তন করবে)
خَلۡقَ اللّٰهِ (খালকাল্লাহি → আল্লাহর সৃষ্টি)
وَمَنۡ یَّتَّخِذِ الشَّیۡطٰنَ (ওয়া মান ইয়াত্তাখিযিশ শাইতানা → আর যে কুমন্ত্রণাদাতাকে গ্রহণ করে)
وَلِیًّا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ (ওয়ালিয়্যান মিন দুনিল্লাহি → আল্লাহ ছাড়া অভিভাবক হিসেবে)
فَقَدۡ خَسِرَ (ফাকাদ খাসিরা → সে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে)
خُسۡرَانًا مُّبِیۡنًا (খুসরানাম মুবীনা → স্পষ্ট ও প্রকাশ্য ক্ষতি)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
কুমন্ত্রণাদাতা বলেছিল, আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে মিথ্যা আশা ও প্রলোভন দেব এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা গবাদিপশুর কান কেটে বিকৃত করবে এবং আমি আবারও তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া কুমন্ত্রণাদাতাকে (শয়তানকে) অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, সে অবশ্যই স্পষ্ট ক্ষতিতে রয়েছে।
আয়াত-১২০ঃ
یَعِدُہُمۡ (ইয়া‘ইদুহুম → সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়)
وَیُمَنِّیۡہِمۡ (ওয়া ইউমান্নীহিম → এবং সে তাদেরকে মিথ্যা আশা দেখায়)
وَمَا یَعِدُہُمُ الشَّیۡطٰنُ (ওয়ামা-ইয়া‘ইদুহুমুশ শাইতানু → আর কুমন্ত্রণাদাতা তাদেরকে যা প্রতিশ্রুতি দেয়)
اِلَّا غُرُوۡرًا (ইল্লা গুরূরান → তা শুধু প্রতারণা/ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি এবং মিথ্যা বাসনা দেখায়। আর কুমন্ত্রণাদাতা তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা শুধু ছলনা ছাড়া কিছুই নয়।
আয়াত-১২১ঃ
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
مَاۡوٰىہُمۡ (মা’ওয়া-হুম → তাদের আবাস)
جَہَنَّمُ (জাহান্নামু → ভয়াবহ শাস্তির চূড়ান্ত স্থান)
وَلَا یَجِدُوۡنَ (ওয়া লা-ইয়াজিদূনা → এবং তারা পাবে না)
عَنۡہَا (আনহা → সেখান থেকে)
مَحِیۡصًا (মাহীসা → কোনো পরিত্রাণ/পালানোর জায়গা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তারাই এমন লোক যাদের আবাস হবে ভয়াবহ শাস্তির চূড়ান্ত স্থান (জাহান্নাম) এবং তারা সেখান থেকে কোনো রকম পরিত্রাণ বা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।
আয়াত-১২২ঃ
وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → এবং যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস করেছে)
وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ (ওয়া ‘আমিলুস সা-লিহাত → এবং সৎকর্ম করেছে)
سَنُدۡخِلُہُمۡ (সানুদখিলুহুম → আমরা অবশ্যই তাদের প্রবেশ করাব)
جَنّٰتٍ (জান্নাতিন → বাগানসমূহে)
تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ (তাজরি মিন তাহতিহাল আনহার → যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়)
خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا (খালিদীনা ফীহা আবাদান → সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে)
وَعۡدَ اللّٰہِ (ওয়া‘দাল্লাহি → আল্লাহর প্রতিশ্রুতি)
حَقًّا (হাক্কান → সত্য)
وَمَنۡ اَصۡدَقُ (ওয়া মান আসদাকু → আর কে বেশি সত্যবাদী)
مِنَ اللّٰہِ (মিনাল্লাহি → আল্লাহর চেয়ে)
قِیۡلًا (কীলা → বাণীতে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা বিশ্বাস এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে উদ্যাণসমূহে প্রবেশ করাব, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটি আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি এবং কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?
আয়াত-১২৩ঃ
لَیۡسَ بِاَمَانِیِّکُمۡ (লাইসা বি-আমানীইকুম → এটি তোমাদের কল্পনা)
وَلَاۤ اَمَانِیِّ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ (ওয়া লা আমানীই আহলিল কিতাব → এবং এটি আহলে কিতাবীদের কল্পনার ওপরও নয়)
مَنۡ یَّعۡمَلۡ سُوۡٓءًا (মান ইয়া‘মাল সূআন → যে কেউ মন্দ কাজ করে)
یُّجۡزَ بِہٖ (ইউজঝা বিহী → তাকে তার প্রতিদান/ফল ভোগ করতে হবে)
وَلَا یَجِدۡ لَہٗ (ওয়া লা-ইয়াজিদ লাহু → এবং সে পাবে না)
مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ (মিন দুনিল্লাহি → আল্লাহ ছাড়া)
وَلِیًّا (ওলিয়্যান → কোনো অভিভাবক)
وَلَا نَصِیۡرًا (ওয়া লা নাসীরা → এবং কোনো সাহায্যকারীও না)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটি তোমাদের ইচ্ছা বা কল্পনার ওপর নির্ভরশীল নয়, এবং এটি আহলে কিতাবদের কল্পনার ওপরও নয়। যে কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল ভোগ করতেই হবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী পাবে না।
আয়াত-১২৪ঃ
وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ (ওয়া মান ইয়া‘মাল → এবং যে কেউ কাজ করে)
مِنَ الصّٰلِحٰتِ (মিনাস সা-লিহাত → সৎকর্মসমূহ থেকে)
مِنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی (মিন যাকারিন আও উনছা → পুরুষ হোক বা নারী হোক)
وَہُوَ مُؤۡمِنٌ (ওয়া হুয়া মু’মিনুন → এবং সে বিশ্বাসী অবস্থায় থাকে)
فَاُولٰٓئِکَ (ফা উলাইকা → তারাই)
یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ (ইয়াদখুলূনাল জান্নাহ → বাগাণে প্রবেশ করবে)
وَلَا یُظۡلَمُوۡنَ (ওয়া লা ইউজলামূনা → এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না)
نَقِیۡرًا (নাকীরা → অণু পরিমাণও নয়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে কেউ বিশ্বাসী হয় ও সৎকর্ম করে, সে পুরুষ হোক বা নারী, তবে তারাই বাগানে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণও অবিচার করা হবে না।
আয়াত-১২৫ঃ
وَمَنۡ اَحۡسَنُ (ওয়া মান আহসানু → আর কার উত্তম)
دِیۡنًا (দীনান → জীবনব্যবস্থা/ধর্মের দিক থেকে)
مِّمَّنۡ اَسۡلَمَ وَجۡہَہٗ لِلّٰہِ (মিম্মান আসলামা ওয়াজহাহু লিল্লাহি → যে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে)
وَہُوَ مُحۡسِنٌ (ওয়া হুয়া মুহসিনুন → এবং সে সৎকর্মশীল হয়)
وَّاتَّبَعَ مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ (ওয়াত্তাবা‘আ মিল্লাতা ইব্রাহীমা → এবং ইব্রাহীমের আদর্শ অনুসরণ করে)
حَنِیۡفًا (হানীফান → একনিষ্ঠভাবে/একাগ্রভাবে সত্যের পথে)
وَاتَّخَذَ اللّٰہُ اِبۡرٰہِیۡمَ (ওয়া ইত্তাখাযাল্লাহু ইব্রাহীমা → আর আল্লাহ ইব্রাহীমকে গ্রহণ করেছিলেন)
خَلِیۡلًا (খালীলা → ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এবং জীবনব্যবস্থার (ধর্মের) দিক থেকে তার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে, যে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণ করেছে ও সৎকর্মশীল হয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের আদর্শ অনুসরণ করেছে? আর আল্লাহ ইব্রাহীমকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
