সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা মোট আয়াতঃ ১৭৬
رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ
২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ
২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
আয়াত-৫১ঃ
أَلَمْ (আলাম → তুমি কি দেখনি)
تَرَ (তারা → তুমি দেখো)
إِلَى (ইলা → দিকে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
أُوتُوا (ঊতূ → যাদেরকে দেওয়া হয়েছে)
نَصِيبًا (নাসীবান → একটি অংশ)
مِنَ الْكِتَابِ (মিনাল কিতাব → কিতাব থেকে)
يُؤْمِنُونَ (ইউ’মিনূনা → তারা বিশ্বাস করে)
بِالْجِبْتِ (বিল জিব্ত → মূর্তি/অসত্য শক্তি)
وَالطَّاغُوتِ (ওয়াত্তা-গূত → তাগুত/অসত্য উপাস্য)
وَيَقُولُونَ (ওয়া ইয়াকূলূনা → এবং তারা বলে)
لِلَّذِينَ (লিল্লাযীনা → তাদেরকে যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
هَٰؤُلَاءِ (হাউলাই → এরা)
أَهْدَىٰ (আহদা → সঠিক পথপ্রাপ্ত/হেদায়াতপ্রাপ্ত)
مِنَ الَّذِينَ (মিনাল্লাযীনা → তাদের চেয়ে যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
سَبِيلًا (সাবীলা → পথে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তুমি কি তাদের দিকে লক্ষ্য করো না যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়েছে? তারা অসত্য শক্তি (জিবত) ও অসত্য উপাস্য (তাগূতে) বিশ্বাস করে এবং অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলে—এরা বিশ্বাসীদের অপেক্ষা বেশি সরল পথে আছে?
আয়াত-৫২ঃ
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারা)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
لَعَنَهُمُ اللَّهُ (লা‘আনাহুমুল্লাহু → আল্লাহ যাদেরকে অভিশাপ করেছেন)
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে)
يَلْعَنِ اللَّهُ (ইয়াল‘আনিল্লাহু → আল্লাহ যাকে অভিশাপ করেন)
فَلَنْ (ফালান → কখনোই না)
تَجِدَ (তাজিদা → তুমি পাবে)
لَهُ (লাহু → তার জন্য)
نَصِيرًا (নাসীরা → কোনো সাহায্যকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন। আর আল্লাহ যাকে অভিশাপ করেন, তুমি তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
আয়াত-৫৩ঃ
أَمْ (আম → অথবা/তবে কি)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
نَصِيبٌ (নাসীবুন → কোনো অংশ)
مِنَ الْمُلْكِ (মিনাল মুল্কি → রাজত্বের মধ্যে)
فَإِذًا (ফাইযান → তাহলে)
لَا يُؤْتُونَ (লা ইউ’তূনা → তারা দেবে না)
النَّاسَ (আন্নাসা → মানুষকে)
نَقِيرًا (নাকীরা → অতি সামান্য পরিমাণ / একেবারেই নগণ্য কিছু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তবে কি তাদের জন্য রাজত্বের কোনো অংশ আছে? যদি থাকত, তাহলে তারা মানুষকে সামান্য পরিমাণও দিত না।
আয়াত-৫৪ঃ
أَمْ (আম → নাকি/অথবা)
يَحْسُدُونَ (ইয়াহসুদূনা → তারা হিংসা করে)
النَّاسَ (আন্নাসা → মানুষকে)
عَلَىٰ (আলা → উপর)
مَا (মা → যা)
آتَاهُمُ اللَّهُ (আতাহুমুল্লাহু → আল্লাহ তাদেরকে দিয়েছেন)
مِنْ فَضْلِهِ (মিন ফাদলিহি → তাঁর অনুগ্রহ থেকে)
فَقَدْ (ফাকাদ → অবশ্যই)
آتَيْنَا (আতাইনা → আমরা দিয়েছি)
آلَ إِبْرَاهِيمَ (আলা ইব্রাহীম → ইব্রাহিম (আ.)-এর পরিবারকে)
الْكِتَابَ (আল কিতাব → কিতাব)
وَالْحِكْمَةَ (ওয়াল হিকমাহ → প্রজ্ঞা)
وَآتَيْنَاهُمْ (ওয়া আতাইনাহুম → এবং আমরা তাদের দিয়েছি)
مُلْكًا (মুল্কান → রাজত্ব/ক্ষমতা)
عَظِيمًا (আজীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নাকি তারা মানুষের প্রতি হিংসা করে এজন্য যে, আল্লাহ তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দিয়েছেন? অথচ আমি ইব্রাহিমের পরিবারকে কিতাব, প্রজ্ঞা এবং মহান রাজত্ব প্রদান করেছি।
আয়াত-৫৫ঃ
فَمِنْهُمْ (ফামিনহুম → তাদের মধ্যে কেউ)
مَنْ (মান → যে)
آمَنَ (আমানা → বিশ্বাস এনেছে)
بِهِ (বিহি → তার প্রতি)
وَمِنْهُمْ (ওয়া মিনহুম → এবং তাদের মধ্যে কেউ)
مَنْ (মান → যে)
صَدَّ (সাদ্দা → বাধা দিয়েছে/বিমুখ করেছে)
عَنْهُ (আনহু → তা থেকে)
وَكَفَىٰ (ওয়া কাফা → আর যথেষ্ট)
بِجَهَنَّمَ (বিজাহান্নামা → জাহান্নাম)
سَعِيرًا (সা‘ঈরা → জ্বলন্ত আগুন)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাদের মধ্যে কেউ এতে বিশ্বাস এনেছে এবং তাদের মধ্যে কেউ তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর জ্বলন্ত আগুন হিসেবে জাহান্নামই যথেষ্ট।
আয়াত-৫৬ঃ
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
كَفَرُوا (কাফারূ → অবিশ্বাস করেছে)
بِآيَاتِنَا (বিআয়াতিনা → আমাদের আয়াতসমূহের সাথে)
سَوْفَ (সাওফা → শীঘ্রই)
نُصْلِيهِمْ (নুসলীহিম → আমরা তাদের প্রবেশ করাব/দগ্ধ করাব)
نَارًا (না-রান → আগুনে)
كُلَّمَا (কুল্লামা → যখনই)
نَضِجَتْ (নাদিজাত → পুড়ে গেলে)
جُلُودُهُمْ (জুলূদুহুম → তাদের চামড়া)
بَدَّلْنَاهُمْ (বাদ্দালনাহুম → আমরা পরিবর্তন করে দেব)
جُلُودًا (জুলূদান → নতুন চামড়া)
غَيْرَهَا (গাইরাহা → অন্যটি)
لِيَذُوقُوا (লিয়াযূকূ → যাতে তারা স্বাদ গ্রহণ করে)
الْعَذَابَ (আল ‘আযাব → শাস্তি)
إِنَّ اللَّهَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
كَانَ (কানা → তিনি ছিলেন)
عَزِيزًا (আযীযান → পরাক্রমশালী)
حَكِيمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাময়)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, আমি তাদেরকে অচিরেই আগুনে প্রবেশ করাব। যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, আমি তাদেরকে নতুন চামড়া দিয়ে বদলে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত-৫৭ঃ
وَالَّذِينَ (ওয়াল্লাযীনা → আর যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
وَعَمِلُوا (ওয়া ‘আমিলূ → এবং করেছে)
الصَّالِحَاتِ (আস-সা-লিহাত → সৎকাজসমূহ)
سَنُدْخِلُهُمْ (সানুদখিলুহুম → আমরা তাদের প্রবেশ করাব)
جَنَّاتٍ (জান্নাতিন → জান্নাতসমূহে)
تَجْرِي (তাজরী → প্রবাহিত হয়)
مِنْ تَحْتِهَا (মিন তাহতিহা → যার নিচ দিয়ে)
الْأَنْهَارُ (আনহারু → নদীসমূহ)
خَالِدِينَ (খালিদীনা → চিরস্থায়ীভাবে থাকবে)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
أَبَدًا (আবাদা → চিরকাল)
لَهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
فِيهَا (ফীহা → সেখানে)
أَزْوَاجٌ (আজওয়াজুন → পবিত্র সঙ্গী/জোড়া)
مُطَهَّرَةٌ (মুতাহহারাহ → সম্পূর্ণ পবিত্র)
وَنُدْخِلُهُمْ (ওয়া নুদখিলুহুম → এবং আমরা তাদের প্রবেশ করাব)
ظِلًّا (জিল্লান → ছায়ায়)
ظَلِيلًا (জালীলা → শীতল ও স্থায়ী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যারা বিশ্বাস আনে এবং সৎকাজ করে, আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র সঙ্গী এবং আমি তাদেরকে স্থায়ী শীতল ছায়ায় প্রবেশ করাব।
আয়াত-৫৮ঃ
إِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
يَأْمُرُكُمْ (ইয়া’মুরুকুম → তোমাদের আদেশ দেন)
أَنْ تُؤَدُّوا (আন তুআদ্দূ → যে তোমরা আদায় করো/পৌঁছে দাও)
الْأَمَانَاتِ (আল-আমানাত → গচ্ছিত দায়িত্বসমূহ/আমানতসমূহ)
إِلَىٰ أَهْلِهَا (ইলা আহলিহা → তার উপযুক্ত প্রাপকদের কাছে/তার উপযুক্ত অধিকারীর কাছে)
وَإِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
حَكَمْتُمْ (হাকামতুম → তোমরা বিচার করো)
بَيْنَ النَّاسِ (বাইনান নাস → মানুষের মাঝে)
أَنْ تَحْكُمُوا (আন তাহকুমূ → যে তোমরা বিচার করো)
بِالْعَدْلِ (বিল ‘আদল → ন্যায়ের সাথে)
إِنَّ اللَّهَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
نِعِمَّا (নি‘ইম্মা → কতই না উত্তম)
يَعِظُكُمْ بِهِ (ইয়া‘ইজুকুম বিহি → তিনি তোমাদের উপদেশ দেন এর মাধ্যমে)
إِنَّ اللَّهَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয় আল্লাহ)
كَانَ (কানা → তিনি ছিলেন)
سَمِيعًا (সামী‘আ → সর্বশ্রোতা)
بَصِيرًا (বাসীরা → সর্বদ্রষ্টা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন যে, তোমরা গচ্ছিত দায়িত্বসমূহ (আমানতসমূহ) তাদের উপযুক্ত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করো, তখন ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে কতই না উত্তম উপদেশ দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
আয়াত-৫৯ঃ
أَطِيعُوا (আতী‘উ → তোমরা আনুগত্য করো)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহর)
وَأَطِيعُوا (ওয়া আতী‘উ → এবং আনুগত্য করো)
الرَّسُولَ (আর-রাসূল → রাসূলের)
وَأُولِي الْأَمْرِ (ওয়া উলিল আমর → এবং কর্তৃত্ব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্য থেকে)
فَإِنْ (ফাইন → যদি)
تَنَازَعْتُمْ (তানাযা‘তুম → তোমরা মতভেদ করো)
فِي شَيْءٍ (ফী শাইইন → কোনো বিষয়ে)
فَرُدُّوهُ (ফারুদ্দূহু → তাহলে তা ফিরিয়ে দাও)
إِلَى اللَّهِ (ইলাল্লাহ → আল্লাহর দিকে)
وَالرَّسُولِ (ওয়ার রাসূল → এবং রাসূলের দিকে)
إِنْ كُنْتُمْ (ইন কুনতুম → যদি তোমরা হও)
تُؤْمِنُونَ (তু’মিনূনা → ঈমান রাখো)
بِاللَّهِ (বিল্লাহ → আল্লাহর প্রতি)
وَالْيَوْمِ الْآخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখির → পরকালের প্রতি)
ذَٰلِكَ (যালিকা → এটি)
خَيْرٌ (খাইরুন → উত্তম)
وَأَحْسَنُ (ওয়া আহসানু → এবং সবচেয়ে সুন্দর)
تَأْوِيلًا (তা’বীলা → পরিণামে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার দায়িত্বশীলদের আনুগত্য করো। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করো, তবে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরে এসো—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও। এটাই উত্তম এবং পরিণামে সবচেয়ে ভালো।
আয়াত-৬০ঃ
أَلَمْ تَرَ (আলাম তারা → তুমি কি দেখনি/ভাবোনি)
إِلَى (ইলা → দিকে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَزْعُمُونَ (ইয়াঝ‘উমূনা → দাবি করে)
أَنَّهُمْ (আন্নাহুম → যে তারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
بِمَا (বিমা → যা)
أُنزِلَ (উনঝিলা → অবতীর্ণ করা হয়েছে)
إِلَيْكَ (ইলাইকা → তোমার প্রতি)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
أُنزِلَ (উনঝিলা → অবতীর্ণ করা হয়েছে)
مِنْ قَبْلِكَ (মিন কাবলিকা → তোমার পূর্বে)
يُرِيدُونَ (ইউরীদূনা → তারা চায়)
أَنْ يَتَحَاكَمُوا (আন ইয়াতাহাকামূ → বিচার নিতে/ফয়সালা নিতে)
إِلَى الطَّاغُوتِ (ইলাত্তা-গূত → মিথ্যা উপস্যের/ তাগূতের কাছে)
وَقَدْ (ওয়া কাদ → অথচ)
أُمِرُوا (উমিরূ → তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে)
أَنْ يَكْفُرُوا (আন ইয়াকফুরূ → অস্বীকার করতে)
بِهِ (বিহি → তাকে)
وَيُرِيدُ (ওয়া ইউরীদু → আর চায়)
الشَّيْطَانُ (আশ-শাইতান → কুমন্ত্রণাদাতা)
أَنْ يُضِلَّهُمْ (আন ইউদিল্লাহুম → তাদের বিভ্রান্ত করতে)
ضَلَالًا (দালালান → ভ্রান্তভাবে)
بَعِيدًا (বা‘ঈদা → দূরবর্তী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তুমি কি তাদেরকে দেখ নাই যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে আর তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস করে, অথচ তারা মিথ্যা উপাস্যের (তাগূতের) কাছে ফয়সালা নিতে চায়, যদিও তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে? আর কুমন্ত্রণাদাতা (শয়তান) তাদেরকে দূরুত্ব সৃষ্টি করে ভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট করতে চায়।
আয়াত-৬১ঃ
وَإِذَا (ওয়া ইযা → এবং যখন)
قِيلَ (কীলা → বলা হয়)
لَهُمْ (লাহুম → তাদেরকে)
تَعَالَوْا (তা‘আলাও → এসো)
إِلَى (ইলা → দিকে)
مَا (মা → যা)
أَنْزَلَ اللَّهُ (আনযালাল্লাহু → আল্লাহ নাযিল করেছেন)
وَإِلَى الرَّسُولِ (ওয়া ইলার রাসূল → এবং রাসূলের দিকে)
رَأَيْتَ (রা’আইতা → তুমি দেখবে)
الْمُنَافِقِينَ (আল মুনাফিকীন → দ্বিমুখী আচরণকারী/মুনাফিকদের)
يَصُدُّونَ (ইয়াসুদ্দূনা → তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)
عَنْكَ (আনকা → তোমার থেকে)
صُدُودًا (সুদূদা → সম্পূর্ণ বিমুখতা)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসূলের দিকে ফিরে এসো,” তখন তুমি দ্বিমুখী আচরণকারীদের (মুনাফিকদের) দেখবে, তারা তোমার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আয়াত-৬২ঃ
فَكَيْفَ (ফাকাইফা → তাহলে কেমন হবে)
إِذَا (ইযা → যখন)
أَصَابَتْهُمْ (আসাবাতহুম → তাদেরকে আঘাত করে)
مُصِيبَةٌ (মুসীবাতুন → বিপদ)
بِمَا (বিমা → যার কারণে)
قَدَّمَتْ (কাদ্দামাত → আগেই করেছে)
أَيْدِيهِمْ (আইদীহিম → তাদের হাত)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
جَاءُوكَ (জাঊকা → তারা তোমার কাছে আসে)
يَحْلِفُونَ (ইয়াহলিফূনা → তারা শপথ করে)
بِاللَّهِ (বিল্লাহি → আল্লাহর নামে)
إِنْ (ইন → আমরা তো কেবল)
أَرَدْنَا (আরাদনা → চেয়েছি)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
إِحْسَانًا (ইহসানান → কল্যাণ/ভালো কাজ)
وَتَوْفِيقًا (ওয়া তাওফীকা → এবং সঠিক পথে মিলিয়ে দেওয়া/সফল সমাধান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাহলে কেমন হবে, যখন তাদের নিজের হাতের কৃতকর্মের কারণে তাদের উপর কোনো বিপদ আসে, এরপর তারা তোমার কাছে এসে আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, “আমরা তো কেবল কল্যাণ করা এবং সফল সমাধানই চেয়েছিলাম।”
আয়াত-৬৩ঃ
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → এরাই)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَعْلَمُ اللَّهُ (ইয়া‘লামুল্লাহু → আল্লাহ জানেন)
مَا (মা → যা)
فِي قُلُوبِهِمْ (ফী কুলূবিহিম → তাদের অন্তরে)
فَأَعْرِضْ (ফাআ‘রিদ → তুমি এড়িয়ে যাও)
عَنْهُمْ (আনহুম → তাদের থেকে)
وَعِظْهُمْ (ওয়া ‘ইজহুম → তাদের উপদেশ দাও)
وَقُلْ لَهُمْ (ওয়া কুল লাহুম → এবং তাদের বলো)
فِي أَنْفُسِهِمْ (ফী আনফুসিহিম → তাদের নিজেদের বিষয়ে)
قَوْلًا (কাওলান → কথা)
بَلِيغًا (বালীগা → শক্তিশালীভাবে পৌঁছানো বক্তব্য/গভীর ও প্রভাবশালী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এরাই তারা, যাদের অন্তরের অবস্থা আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন। তাই তুমি তাদের থেকে দূরে থাকো, তাদের উপদেশ দাও এবং তাদের নিজেদের বিষয়ে তাদেরকে মর্মস্পর্শী কথা বলো।
আয়াত-৬৪ঃ
وَمَا (ওয়া মা → আর আমরা কখনোই না)
أَرْسَلْنَا (আরসালনা → আমরা প্রেরণ করেছি)
مِنْ رَسُولٍ (মিন রাসূলিন → কোনো রাসূলকে)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
لِيُطَاعَ (লিইউতা‘আ → যেন তাঁর আনুগত্য করা হয়)
بِإِذْنِ اللَّهِ (বিইযনিল্লাহ → আল্লাহর অনুমতিতে)
وَلَوْ (ওয়া লাও → আর যদি)
أَنَّهُمْ (আন্নাহুম → তারা)
إِذْ ظَلَمُوا (ইয জালামূ → যখন তারা অত্যাচার করেছিল)
أَنْفُسَهُمْ (আনফুসাহুম → নিজেদেরকে)
جَاءُوكَ (জাঊকা → তোমার কাছে আসত)
فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ (ফাস্তাগফারুল্লাহা → আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত)
وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ (ওয়া স্তাগফারা লাহুমুর রাসূল → এবং রাসূল তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন)
لَوَجَدُوا (লাওয়াজাদূ → অবশ্যই তারা পেত)
اللَّهَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
تَوَّابًا (তাওওয়াবা → অতিশয় ক্ষমাশীল)
رَحِيمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
রাসূল এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করেছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তার আনুগত্য করা হবে। যখন তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করে তখন তারা তোমার নিকট আসলে ও আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং রাসূলও তাদের জন্যে ক্ষমা চাইলে তারা অবশ্যই আল্লাহ্কে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালুরূপে পাবে।
আয়াত-৬৫ঃ
فَلَا (ফালা → সুতরাং না)
وَرَبِّكَ (ওয়া রাব্বিকা → তোমার প্রতিপালকের শপথ)
لَا يُؤْمِنُونَ (লা ইউ’মিনূনা → তারা বিশ্বাসী হতে পারবে না)
حَتَّى (হাত্তা → যতক্ষণ না)
يُحَكِّمُوكَ (ইউহাক্কিমূকা → তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়)
فِيمَا (ফীমা → যে বিষয়ে)
شَجَرَ (শাজারা → মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে)
بَيْنَهُمْ (বাইনাহুম → তাদের মধ্যে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
لَا يَجِدُوا (লা ইয়াজিদূ → তারা না পায়)
فِي أَنْفُسِهِمْ (ফী আনফুসিহিম → তাদের নিজেরদের)
حَرَجًا (হারাজান → কোনো সংকীর্ণতা/অসন্তুষ্টি)
مِمَّا (মিম্মা → যা)
قَضَيْتَ (কাদাইতা → তুমি ফয়সালা করেছ)
وَيُسَلِّمُوا (ওয়া ইউসাল্লিমূ → এবং পূর্ণভাবে মেনে নেয়)
تَسْلِيمًا (তাসলীমা → সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
অতএব, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা কখনোই বিশ্বাসী হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তোমাকে তাদের পারস্পরিক বিরোধের ক্ষেত্রে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, তারপর তোমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা সম্পূর্ণভাবে তা মেনে নেয়।
আয়াত-৬৬ঃ
وَلَوْ (ওয়া লাও → আর যদি)
أَنَّا (আন্না → আমরা)
كَتَبْنَا (কাতাবনা → লিখিত করে দিতাম)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
أَنِ (আনি → যে)
اقْتُلُوا (ইকতুলূ → তোমরা হত্যা করো)
أَنْفُسَكُمْ (আনফুসাকুম → নিজেদেরকে/নফসকে)
أَوِ (আউ → অথবা)
اخْرُجُوا (উখরুজূ → বের হয়ে যাও)
مِنْ (মিন → থেকে)
دِيَارِكُمْ (দিয়ারিকুম → তোমাদের ঘরবাড়ি/আবাসভূমি)
مَا (মা → তবে না)
فَعَلُوهُ (ফা‘আলূহু → তারা তা পালন করত)
إِلَّا (ইল্লা → ছাড়া)
قَلِيلٌ (কালীলুন → অল্প কয়েকজন)
مِنْهُمْ (মিনহুম → তাদের মধ্যে)
وَلَوْ (ওয়া লাও → আর যদি)
أَنَّهُمْ (আন্নাহুম → তারা)
فَعَلُوا (ফা‘আলূ → পালন করত)
مَا (মা → যা)
يُوعَظُونَ (ইউ‘আজূনা → তাদের উপদেশ দেওয়া হয়)
بِهِ (বিহি → তা দ্বারা)
لَكَانَ (লাকানা → তবে তা হতো)
خَيْرًا (খাইরান → উত্তম)
لَّهُمْ (লাহুম → তাদের জন্য)
وَأَشَدَّ (ওয়া আশাদ্দা → এবং অধিক)
تَثْبِيتًا (তাসবীতা → দৃঢ়তা ও স্থিরতার কারণ)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি আমরা তাদের উপর এ লিখিত বিধান দিতাম যে, “তোমরা নিজেদেরকে/নফসকে হত্যা করো” অথবা “নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যাও”, তবে তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউই তা পালন করত না। আর যদি তারা সেই উপদেশ অনুযায়ী কাজ করত যা তাদের দেওয়া হয়, তবে তা তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর এবং বিশ্বাসের উপর অধিক দৃঢ়তর হতো।
আয়াত-৬৭ঃ
وَإِذًا (ওয়া ইযান → তখন)
لَّآتَيْنَاهُمْ (লা-আতাইনাহুম → আমরা অবশ্যই তাদের দিতাম)
مِنْ (মিন → থেকে)
لَدُنَّا (লাদুন্না → আমাদের পক্ষ থেকে)
أَجْرًا (আজরান → প্রতিদান/পরুস্কার)
عَظِيمًا (আজীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তখন আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহান পুরস্কার দিতাম।
আয়াত-৬৮ঃ
وَلَ (ওয়া লা → এবং অবশ্যই)
هَدَيْنَاهُمْ (হাদাইনা-হুম → আমরা তাদেরকে পথ দেখাতাম)
صِرَاطًا (সিরাতান → সরল পথ)
مُّسْتَقِيمًا (মুস্তাকীমা → সঠিক)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর অবশ্যই আমি তাদেরকে সরল সঠিক পথ (সিরাতল মুস্তাকিম) দেখাতাম।
আয়াত-৬৯ঃ
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে)
يُطِعِ (ইতি‘ই → আনুগত্য করে)
اللّٰهَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَالرَّسُولَ (ওয়া রাসূলা → এবং রাসূলকে)
فَأُولَٰئِكَ (ফাউলাইকা → তারা)
مَعَ (মা‘আ → সঙ্গে থাকবে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যাদেরকে)
أَنْعَمَ (আন‘আমা → অনুগ্রহ দিয়েছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَلَيْهِمْ (আলাইহিম → তাদের ওপর)
مِنَ (মিনা → থেকে)
النَّبِيِّينَ (আন্নাবিইয়ীন → নবীগণ)
وَالصِّدِّيقِينَ (ওয়াস্সিদ্দীকীন → সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণরা)
وَالشُّهَدَاءِ (ওয়াশ-শুহাদা → সাক্ষীগণ)
وَالصَّالِحِينَ (ওয়াস্সালিহীন → সৎকর্মশীলরা)
وَحَسُنَ (ওয়া হাসুনা → আর কতই না সুন্দর)
أُولَٰئِكَ (উলাইকা → তারা)
رَفِيقًا (রাফীকা → সঙ্গী হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা সেইসব লোকদের সঙ্গে থাকবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—নবীগণ, সত্যবাদীগণ, সাক্ষীগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী!
আয়াত-৭০ঃ
ذَٰلِكَ (যালিকা → এটি)
الْفَضْلُ (আল ফাদলু → অতিরিক্ত দয়া)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
وَكَفَىٰ (ওয়া কাফা → আর যথেষ্ট)
بِاللّٰهِ (বিল্লাহি → আল্লাহই)
عَلِيمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ হিসেবে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
এটি আল্লাহরই অতিরিক্ত দয়া। আর জ্ঞানী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আয়াত-৭১ঃ
یٰۤأَيُّهَا (ইয়া-আইয়ুহা → হে)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
آمَنُوا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছো)
خُذُوا (খুযূ → গ্রহণ করো)
حِذْرَكُمْ (হিযরাকুম → তোমাদের সতর্কতা/প্রস্তুতি)
فَانْفِرُوا (ফানফিরূ → বের হয়ে যাও)
ثُبَاتٍ (ছুবাতিন → দল দলে/দলবদ্ধভাবে)
أَوِ (আউ → অথবা)
انْفِرُوا (ইনফিরূ → অগ্রসর হও)
جَمِيعًا (জামী‘আ → একসাথে)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন করো, তারপর দলবদ্ধভাবে অগ্রসর হও অথবা সবাই একসাথে বেরিয়ে পড়ো।
আয়াত-৭২ঃ
وَإِنَّ (ওয়া ইন্না → নিশ্চয়ই)
مِنْكُمْ (মিনকুম → তোমাদের মধ্যে)
لَمَنْ (লামান → এমন কেউ আছে যে)
لَيُبَطِّئَنَّ (লায়ুবাত্তিআন্না → গড়িমসি করে/ ধীরতা দেখায়/পিছিয়ে দেয়)
فَإِنْ (ফাইন → অতঃপর যদি)
أَصَابَتْكُمْ (আসাবাতকুম → তোমাদের ওপর ঘটে যায়)
مُصِيبَةٌ (মুসীবাতুন → কোনো বিপদ)
قَالَ (কালা → সে বলে)
قَدْ (কাদ → নিশ্চয়ই)
أَنْعَمَ (আন‘আমা → অনুগ্রহ করেছেন)
اللّٰهُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
عَلَيَّ (আলাইয়া → আমার ওপর)
إِذْ (ইয → যখন)
لَمْ أَكُنْ (লাম আকুন → আমি ছিলাম না)
مَعَهُمْ (মা‘আহুম → তাদের সঙ্গে)
شَهِيدًا (শাহীদান → সাক্ষী। (শাহীদান মানে শহিদ নয় এই আয়াত তার প্রমাণ। কারণ শহিদ শব্দ বাক্যে ব্যবহার করলে বেমানান হয়।)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে অবশ্যই যারা গড়িমসি করে/ধীর গতিতে চলে দেখায়। অতঃপর যদি তোমাদের উপর কোনো বিপদ আসে, সে বলে: “আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, কারণ আমি তাদের সঙ্গে সাক্ষী ছিলাম না।”
আয়াত-৭৩ঃ
وَلَئِنْ (ওয়া লাইন → আর যদি)
أَصَابَكُمْ (আসাবাকুম → তোমাদের পৌঁছে যায়)
فَضْلٌ (ফাদলুন → অতিরিক্ত দয়া)
مِنَ (মিনা → থেকে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহ)
لَيَقُولَنَّ (লায়াকূলান্না → সে অবশ্যই বলবে)
كَأَنْ (কা-আন্না → যেন)
لَمْ تَكُنْ (লাম তাকুন → ছিল না)
بَيْنَكُمْ (বাইনাকুম → তোমাদের মধ্যে)
وَبَيْنَهُ (ওয়া বাইনাহু → এবং তার মধ্যে)
مَوَدَّةٌ (মাওয়াদ্দাতুন → ভালোবাসার সম্পর্ক)
يَا لَيْتَنِي (ইয়া-লাইতানী → হায়, আমি যদি)
كُنْتُ (কুনতু → থাকতাম)
مَعَهُمْ (মা‘আহুম → তাদের সঙ্গে)
فَأَفُوزَ (ফাআফূজা → তাহলে আমি সফল হতাম)
فَوْزًا (ফাওজান → এক বড় সাফল্য)
عَظِيمًا (আজীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো অতিরিক্ত দয়া আসে, সে অবশ্যই এমনভাবে বলবে, যেন তোমাদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই ছিল না: আর বলে “হায়! আমি যদি তাদের সঙ্গে থাকতাম, তাহলে আমিও মহা সাফল্য অর্জন করতাম।”
আয়াত-৭৪ঃ
فَلْيُقَاتِلْ (ফালইউকাতিল → তাহলে সংগ্রাম করা উচিত)
فِي (ফী → মধ্যে)
سَبِيلِ (সাবীলি → পথে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَشْرُونَ (ইয়াশরূনা → বিক্রি করে)
الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (আল-হায়াতাদ্দুনইয়া → দুনিয়ার জীবন)
بِالْآخِرَةِ (বিল আখিরাহ → আখিরাতের বিনিময়ে)
وَمَنْ (ওয়া মান → আর যে ব্যক্তি)
يُقَاتِلْ (ইউকাতিল → সংগ্রাম করে)
فِي سَبِيلِ اللّٰهِ (ফী সাবীলিল্লাহ → আল্লাহর পথে)
فَيُقْتَلْ (ফাইউকতাল → সে নিহত হয়)
أَوْ (আও → অথবা)
يَغْلِبْ (ইয়াগলিব → বিজয়ী হয়)
فَسَوْفَ (ফাসাওফা → তাহলে অচিরেই)
نُؤْتِيهِ (নু’তীহি → আমরা তাকে দেব)
أَجْرًا (আজরান → পুরুস্কার)
عَظِيمًا (আজীমা → মহান)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
তাদের উচিত আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা, যারা দুনিয়ার জীবনকে পরকালের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে—সে নিহত হোক বা বিজয়ী হোক—আমি তাকে অবশ্যই মহা পুরুস্কার দিব।
আয়াত-৭৫ঃ
وَمَا (ওয়া মা → আর কী)
لَكُمْ (লাকুম → তোমাদের)
لَا (লা → কেন না)
تُقَاتِلُونَ (তুকাতিলূনা → তোমরা সংগ্রাম করো)
فِي (ফী → মধ্যে)
سَبِيلِ (সাবীলি → পথে)
اللّٰهِ (আল্লাহি → আল্লাহর)
وَالْمُسْتَضْعَفِينَ (ওয়াল মুসতাদ‘আফীন → দুর্বল/নিপীড়িতদের জন্য)
مِنَ (মিনা → মধ্যে থেকে)
الرِّجَالِ (আর-রিজাল → পুরুষরা)
وَالنِّسَاءِ (ওয়ান নিসা → নারীরা)
وَالْوِلْدَانِ (ওয়াল ওলদান → শিশুদের)
الَّذِينَ (আল্লাযীনা → যারা)
يَقُولُونَ (ইয়াকূলূনা → বলে)
رَبَّنَا (রাব্বানা → হে আমাদের প্রতিপালক)
أَخْرِجْنَا (আখরিজনা → আমাদের বের করে নিন)
مِنْ (মিন → থেকে)
هَٰذِهِ (হাযিহি → এই)
الْقَرْيَةِ (আল কারইয়া → শহর/জনপদ)
الظَّالِمِ (আজ-জালিম → অন্যায়কারী)
أَهْلُهَا (আহলুহা → যার অধিবাসীরা)
وَاجْعَلْ (ওয়াজ‘আল → এবং বানিয়ে দিন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مِنْ لَدُنْكَ (মিন লাদুনকা → আপনার পক্ষ থেকে)
وَلِيًّا (ওয়ালিয়্যান → অভিভাবক/সহায়)
وَاجْعَلْ (ওয়াজ‘আল → এবং বানিয়ে দিন)
لَنَا (লানা → আমাদের জন্য)
مِنْ لَدُنْكَ (মিন লাদুনকা → আপনার পক্ষ থেকে)
نَصِيرًا (নাসীরা → সাহায্যকারী)
পূর্ণ বাংলা অর্থ:
আর তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং সেই দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য সংগ্রাম করছো না, যারা বলে: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে বের করে নিন, যার অধিবাসীরা অন্যায়কারী। আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক দিন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী দিন।”
