সূরা আন নিসা (النساء) | নারী
মাদানী সুরা          মোট আয়াতঃ ১৭৬


رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ

২৩:৯৭ – হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

২৩:৯৮ – হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।


আয়াত-১২৬ঃ

وَلِلّٰہِ (ওয়া লিল্লাহি → আর আল্লাহরই)
مَا (মা → যা কিছু)
فِی السَّمٰوٰتِ (ফিস-সামাওয়াতি → আসমানসমূহে আছে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা কিছু)
فِی الۡاَرۡضِ (ফিল আরদি → জমিনে আছে)
وَکَانَ (ওয়া কা-না → এবং তিনি আছেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِکُلِّ (বিকুল্লি → প্রত্যেক)
شَیۡءٍ (শাইইন → বস্তুর)
مُّحِیۡطًا (মুহীতা → সর্বব্যাপী পরিবেষ্টনকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহর-ই এবং সবকিছুকে আল্লাহ্ পরিবেষ্টন করে আছেন।


আয়াত-১২৭ঃ

وَیَسۡتَفۡتُوۡنَکَ (ওয়া ইয়াসতাফতূনাকা → তারা আপনার কাছে সমাধান জানতে চায়)
فِی النِّسَآءِ (ফিন-নিসাই → নারীদের সম্পর্কে)
قُلِ (কুল → বলুন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
یُفۡتِیۡکُمۡ (ইউফতীকুম → তোমাদের সমাধান জানাচ্ছেন)
فِیۡہِنَّ (ফীহিন্না → তাদের সম্পর্কে)
وَمَا (ওয়া মা → এবং যা)
یُتۡلٰی (ইউতলা → পাঠ করা হয়)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের কাছে)
فِی الۡکِتٰبِ (ফিল কিতাবি → কিতাবে)
فِیۡ یَتٰمَی النِّسَآءِ (ফী ইয়াতামান-নিসাই → এতিম নারীদের সম্পর্কে)
الّٰتِیۡ (আল্লাতী → যাদেরকে)
لَا تُؤۡتُوۡنَہُنَّ (লা তু’তূনাহুন্না → তোমরা প্রদান কর না)
مَا كُتِبَ لَہُنَّ (মা কুতিবা লাহুন্না → তাদের জন্য নির্ধারিত অধিকার)
وَتَرۡغَبُوۡنَ (ওয়া তারগাবূনা → এবং তোমরা আগ্রহী হও)
اَنۡ تَنۡکِحُوۡہُنَّ (আন তানকিহূহুন্না → তাদেরকে বিবাহ করতে)
وَالۡمُسۡتَضۡعَفِیۡنَ (ওয়াল-মুস্তাদ‘আফীনা → এবং অসহায়দের সম্পর্কে)
مِنَ الۡوِلۡدَانِ (মিনাল উইলদানি → শিশুদের মধ্য থেকে)
وَاَنۡ تَقُوۡمُوۡا (ওয়া আন তাকূমূ → এবং তোমরা যেন প্রতিষ্ঠা কর)
لِلۡیَتٰمٰی (লিল-ইয়াতামা → এতিমদের জন্য)
بِالۡقِسۡطِ (বিল-কিস্তি → ন্যায়বিচার)
وَمَا تَفۡعَلُوۡا (ওয়া মা তাফ‘আলূ → আর তোমরা যা কিছু কর)
مِنۡ خَیۡرٍ (মিন খাইরিন → কোনো সৎকাজ)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
کَانَ (কা-না → আছেন)
بِہٖ (বিহী → সে সম্পর্কে)
عَلِیۡمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা আপনার কাছে নারীদের সম্পর্কে সমাধান জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তোমাদের সমাধান জানাচ্ছেন এবং কিতাবে তোমাদের কাছে যা পাঠ করা হয়, তাতেও অসহায় নারীদের সম্পর্কে নির্দেশ রয়েছে—যাদেরকে তোমরা তাদের নির্ধারিত অধিকার দাও না অথচ তাদেরকে বিবাহ করতে আগ্রহী হও। আর অসহায় শিশুদের সম্পর্কেও নির্দেশ রয়েছে যে, তোমরা অসহায়দের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। আর তোমরা যে কোনো সৎকাজ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।


আয়াত-১২৮ঃ

وَاِنِ (ওয়া ইন → আর যদি)
امۡرَاَۃٌ (ইমরাআতুন → কোনো স্ত্রী)
خَافَتۡ (খাফাত → ভয় করে)
مِنۡ بَعۡلِہَا (মিন বা‘লিহা → তার স্বামীর পক্ষ থেকে)
نُشُوۡزًا (নুশূযান → অবাধ্যতা)
اَوۡ (আও → অথবা)
اِعۡرَاضًا (ই‘রাদান → উপেক্ষা)
فَلَا جُنَاحَ (ফালা জুনাহা → কোনো গুনাহ নেই)
عَلَیۡہِمَاۤ (আলাইহিমা → তাদের উভয়ের উপর)
اَنۡ یُّصۡلِحَا (আন ইউসলিহা → তারা সমঝোতা করবে)
بَیۡنَہُمَا (বাইনাহুমা → নিজেদের মধ্যে)
صُلۡحًا (সুলহান → শান্তি)
وَالصُّلۡحُ (ওয়াসসুলহু → আর সমঝোতা)
خَیۡرٌ (খাইরুন → উত্তম)
وَاُحۡضِرَتِ (ওয়া উহদিরাতি → উপস্থিত করা হয়েছে)
الۡاَنۡفُسُ (আল-আনফুসু → আত্মাগুলো/মনগুলো)
الشُّحَّ (আশ-শুহ্‌হা → কৃপণতা)
وَاِنۡ تُحۡسِنُوۡا (ওয়া ইন তুহসিনূ → আর যদি তোমরা ভালো কর)
وَتَتَّقُوۡا (ওয়া তাত্তাকূ → এবং খোদাভীরুতা অবলম্বন কর)
فَاِنَّ (ফাইন্না → তবে নিশ্চয়ই)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহ)
کَانَ (কা-না → আছেন)
بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ (বিমা তা‘মালূনা → তোমরা যা কর)
خَبِیۡرًا (খাবীরা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর পক্ষ থেকে অবাধ্যতা বা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তাদের উভয়ের জন্য কোনো গুনাহ নেই যদি তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নেয়। আর সমঝোতাই উত্তম। মানুষের অন্তরে লোভ-সংকীর্ণতা রাখা হয়েছে। আর যদি তোমরা ভালোকাজ করো এবং খোদাভীরুতা অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজ সম্পর্কে সম্যক অবগত।


আয়াত-১২৯ঃ

وَلَنۡ تَسۡتَطِیۡعُوۡۤا (ওয়া লান তাসতাতী‘উ → এবং তোমরা কখনো সক্ষম হবে না)
اَنۡ تَعۡدِلُوۡا (আন তা‘দিলূ → ন্যায়বিচার করতে)
بَیۡنَ النِّسَآءِ (বাইনার নিসা → স্ত্রীদের মধ্যে)
وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡ (ওয়ালাও হারাসতুম → যদিও তোমরা চেষ্টা করো)
فَلَا تَمِیۡلُوۡا (ফালা তামীলূ → তাই একদিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না)
کُلَّ الۡمَیۡلِ (কুল্লাল মাইল → সম্পূর্ণ পক্ষপাত)
فَتَذَرُوۡہَا (ফা তাযারূহা → ফলে তাকে ছেড়ে দাও)
کَالۡمُعَلَّقَۃِ (কাল মু‘আল্লাকা → ঝুলন্ত অবস্থায়)
وَاِنۡ تُصۡلِحُوۡا (ওয়া ইন তুসলিহূ → আর যদি তোমরা সংশোধন করো)
وَتَتَّقُوۡا (ওয়া তাত্তাকূ → এবং খোদাভীরু থাকো)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ)
کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا (কা-না গাফূরার রাহীমা → অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তোমরা যতই চেষ্টা করো, তোমরা কখনোই সক্ষম হবে না স্ত্রীদের মধ্যে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে। তাই সম্পূর্ণ একদিকে ঝুঁকে পড়ে পক্ষপাত করো না, ফলে অন্যজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দাও। আর যদি তোমরা সংশোধন করো এবং আল্লাহভীতি অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।


আয়াত-১৩০ঃ

وَاِنۡ یَّتَفَرَّقَا (ওয়া ইন ইয়াতাফাররাকা → আর যদি তারা পৃথক হয়ে যায়)
یُغۡنِ اللّٰہُ (ইউগনিল্লাহু → আল্লাহ সমৃদ্ধ করবেন)
کُلًّا مِّنۡ سَعَتِہٖ (কুল্লান মিন সা‘আতিহি → প্রত্যেককে তাঁর নিজ সামর্থ্য থেকে)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → এবং আল্লাহ ছিলেন)
وَاسِعًا (ওয়াসি‘আন → সর্বব্যাপী অনুগ্রহশীল)
حَکِیۡمًا (হাকীমা → প্রজ্ঞাবান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যদি তারা আলাদা হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহ থেকে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী অনুগ্রহশীল ও প্রজ্ঞাবান।


আয়াত-১৩১ঃ

وَلِلّٰہِ (ওয়া লিল্লাহি → আর আল্লাহরই জন্য)
مَا فِی السَّمٰوٰتِ (মা ফিস সামাওয়াত → আসমানসমূহে যা কিছু আছে)
وَمَا فِی الۡاَرۡضِ (ওয়া মা ফিল আরদ → এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে)
وَلَقَدۡ وَصَّیۡنَا (ওয়া লাকাদ ওয়াস্সাইনাঃ → আমরা অবশ্যই নির্দেশ দিয়েছি)
الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ (আল্লাযীনা উতুল কিতাব → যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে)
مِنۡ قَبۡلِکُمۡ (মিন কাবলিকুম → তোমাদের পূর্বে)
وَاِیَّاکُمۡ (ওয়া ইইয়্যাকুম → এবং তোমাদেরকেও)
اَنِ اتَّقُوا اللّٰہَ (আনিত্তাকুল্লাহা → আল্লাহকে ভয় করতে)
وَاِنۡ تَکۡفُرُوۡا (ওয়া ইন তাকফুরূ → আর যদি তোমরা অস্বীকার করো)
فَاِنَّ لِلّٰہِ (ফা-ইন্না লিল্লাহি → তবে নিশ্চয়ই আল্লাহরই জন্য)
مَا فِی السَّمٰوٰتِ (মা ফিস সামাওয়াত → আসমানসমূহে যা কিছু আছে)
وَمَا فِی الۡاَرۡضِ (ওয়া মা ফিল আরদ → এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → এবং আল্লাহ আছেন)
غَنِیًّا (গানিয়্যান → সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী)
حَمِیۡدًا (হামীদা → সর্বপ্রশংসিত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদেরকে ও তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তবুও নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও সর্বপ্রশংসিত।


আয়াত-১৩২ঃ

وَلِلّٰہِ (ওয়া লিল্লাহি → আর আল্লাহরই জন্য)
مَا فِی السَّمٰوٰتِ (মা ফিস সামাওয়াত → আসমানসমূহে যা কিছু আছে)
وَمَا فِی الۡاَرۡضِ (ওয়া মা ফিল আরদ → এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে)
وَکَفٰی بِاللّٰہِ (ওয়া কাফা বিল্লাহি → আর আল্লাহই যথেষ্ট)
وَکِیۡلًا (ওয়াকীলা → অভিভাবক হিসেবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।


আয়াত-১৩৩ঃ

اِنۡ یَّشَاۡ (ইন ইয়াশা → যদি আল্লাহ চান)
یُذۡہِبۡکُمۡ (ইউযহিবকুম → তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করতে পারেন)
اَیُّہَا النَّاسُ (আইয়্যুহান্নাস → হে মানবজাতি)
وَیَاۡتِ بِاٰخَرِیۡنَ (ওয়া ইয়াতি বিআখারীন → এবং অন্যদের নিয়ে আসতে পারেন)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ আছেন)
عَلٰی ذٰلِکَ (আলা যালিকা → এ বিষয়ে)
قَدِیۡرًا (কাদীরা → পূর্ণ ক্ষমতাবান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে মানবজাতি, যদি আল্লাহ চান, তিনি তোমাদেরকে বিলুপ্ত করতে পারেন এবং অন্যদের নিয়ে আসতে পারেন। আর আল্লাহ এ বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।


আয়াত-১৩৪ঃ

مَنۡ کَانَ (মান কানা → যে কেউ হয়)
یُرِیۡدُ (ইউরীদু → ইচ্ছা করে)
ثَوَابَ الدُّنۡیَا (ছাওয়াবাদ দুনইয়া → দুনিয়ার পুরস্কার)
فَعِنۡدَ اللّٰہِ (ফা ইন্দাল্লাহি → তবে আল্লাহর কাছেই আছে)
ثَوَابُ الدُّنۡیَا (ছাওয়াবুদ দুনইয়া → দুনিয়ার প্রতিদান)
وَالۡاٰخِرَۃِ (ওয়াল আখিরাহ → এবং আখিরাতের প্রতিদান)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ আছেন)
سَمِیۡعًۢا (সামী‘আন → সর্বশ্রোতা)
بَصِیۡرًا (বাসীরা → সর্বদ্রষ্টা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যেকেউ দুনিয়ার প্রতিদান চাইলে, তবে দুনিয়া ও পরকালের প্রতিদান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।


আয়াত-১৩৫ঃ

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ (ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা → হে যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
کُوۡنُوۡا (কূনূ → তোমরা হয়ে যাও)
قَوّٰمِیۡنَ بِالۡقِسۡطِ (কাওওয়ামীনা বিলকিসত → ন্যায়ের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত)
شُہَدَآءَ لِلّٰہِ (শুহাদা লিল্লাহ → আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা)
وَلَوۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ (ওয়া লাও আলা আনফুসিকুম → যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে হয়)
اَوِ الۡوَالِدَیۡنِ (আউইল ওয়ালিদাইন → অথবা পিতা-মাতার বিরুদ্ধে)
وَالۡاَقۡرَبِیۡنَ (ওয়াল আকরাবীন → অথবা আত্মীয়দের বিরুদ্ধে)
اِنۡ یَّکُنۡ (ইন ইয়াকুন → যদি কেউ হয়)
غَنِیًّا اَوۡ فَقِیۡرًا (গানিয়্যান আও ফাকীরান → ধনী বা গরিব)
فَاللّٰہُ (ফাল্লাহু → তবে আল্লাহ)
اَوۡلٰی بِہِمَا (আউলা বিহিমা → তাদের বিষয়ে অধিক ন্যায়নিষ্ঠ)
فَلَا تَتَّبِعُوا الۡہَوٰۤی (ফালা তাত্তাবিউল হাওয়া → প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না)
اَنۡ تَعۡدِلُوۡا (আন তা‘দিলূ → যাতে তোমরা ন্যায়বিচার করতে পারো)
وَاِنۡ تَلۡوٗۤا اَوۡ تُعۡرِضُوۡا (ওয়া ইন তালউ আও তু‘রিদূ → আর যদি তোমরা বিকৃত করো বা এড়িয়ে যাও)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ)
کَانَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ (কা-না বিমা তা‘মালূনা → তোমরা যা করো সে সম্পর্কে)
خَبِیۡرًا (খাবীরা → সম্পূর্ণ অবগত)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ন্যায়বিচারের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা বা আত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। যদি কেউ ধনী বা গরিব হয়, তবে আল্লাহ তাদের উভয়ের ব্যাপারে অধিক ন্যায়নিষ্ঠ। তাই তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যাতে তোমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারো। আর যদি তোমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা উপেক্ষা করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ, তোমরা যা করো তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।


আয়াত-১৩৬ঃ

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ (ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা → হে যারা)
اٰمَنُوۡۤا (আ-মানূ → বিশ্বাসী)
اٰمِنُوۡا (আ-মিনূ → তোমরা বিশ্বাসে দৃঢ় হও)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَرَسُوۡلِہٖ (ওয়া রসূলিহী → এবং তাঁর রাসূলের প্রতি)
وَالۡکِتٰبِ (ওয়াল কিতাব → এবং কিতাবের প্রতি)
الَّذِیۡ نَزَّلَ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ (অল্লাযী নায্যালা আলা রসূলিহী → যা তিনি তাঁর রাসূলের উপর নাজিল করেছেন)
وَالۡکِتٰبِ (ওয়াল কিতাব → এবং সেই কিতাবের প্রতি)
الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنۡ قَبۡلُ (অল্লাযী আনযালা মিন কাবলু → যা তিনি এর আগে নাজিল করেছেন)

وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ (ওয়া মান ইয়াকফুর → আর যে অস্বীকার করে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহকে)
وَمَلٰٓئِکَتِہٖ (ওয়া মালাইকাতিহী → তাঁর ফেরেশতাদেরকে)
وَکُتُبِہٖ (ওয়া কুতুবিহী → তাঁর কিতাবসমূহকে)
وَرُسُلِہٖ (ওয়া রুসুলিহী → তাঁর রাসূলদেরকে)
وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ (ওয়াল ইয়াওমিল আখির → এবং শেষ দিবসকে)
فَقَدۡ ضَلَّ (ফাকাদ দাল্লা → সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছে)
ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا (দালালান বা‘ঈদা → সুদূর পথভ্রষ্টতা)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে যারা বিশ্বাস করেছ, তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, এবং তাঁর উপর নাজিলকৃত কিতাবের প্রতি, এবং এর পূর্বে নাজিলকৃত কিতাবের প্রতিও বিশ্বাস করো। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসকে অস্বীকার করে, সে অবশ্যই সুদূর পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।


আয়াত-১৩৭ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (অল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → অস্বীকার করেছে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → আবার বিশ্বাস এনেছে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
کَفَرُوۡا (কাফারূ → আবার অস্বীকার করেছে)
ثُمَّ (ছুম্মা → তারপর)
ازۡدَادُوۡا (ইযদাদূ → তারা বৃদ্ধি করেছে)
کُفۡرًا (কুফরান → অস্বীকার/অবিশ্বাস)
لَّمۡ یَکُنِ اللّٰہُ (লাম ইয়াকুনিল্লাহু → আল্লাহ কখনো ইচ্ছা করেন না)
لِیَغۡفِرَ لَہُمۡ (লিইয়াগফিরা লাহুম → তাদেরকে ক্ষমা করতে)
وَلَا لِیَہۡدِیَہُمۡ (ওয়া লা লিইয়াহদিয়াহুম → এবং তাদেরকে পথ দেখাতে)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → কোনো পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস (ঈমান) আনে, তারপর অস্বীকার (কুফুরি) করে, তারপর আবার বিশ্বাস (ঈমান) আনে, তারপর আবার অস্বীকার (কুফুরি) করে এবং তাদের অস্বীকার (কুফুরি) আরও বৃদ্ধি করে, আল্লাহ কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথও দেখাবেন না।


আয়াত-১৩৮ঃ

بَشِّرِ (বাশশির → সুসংবাদ দাও)
الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল মুনাফিকীন → দ্বিমুখী আচারণকারী/মুনাফিকরা)
بِاَنَّ (বি-আন্না → যে নিশ্চয়ই)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
اَلِیۡمًا (আলীমা → যন্ত্রণাদায়ক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

দ্বিমুখী আচারণকারী মানুষ (মুনাফিকদেরকে) সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


আয়াত-১৩৯ঃ

الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَتَّخِذُوۡنَ (ইয়াত্তাখিযূনা → গ্রহণ করে)
الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কাফিরীন → অস্বীকারকারীদের)
اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়া → ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে)
مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (মিন দুনিল মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসীদের বাদ দিয়ে)
اَیَبۡتَغُوۡنَ (আয়াবতাগূনা → তারা কি খুঁজে ফেরে)
عِنۡدَہُمُ (ইনদাহুম → তাদের কাছে)
الۡعِزَّۃَ (আল ইজ্জাহ → সম্মান)
فَاِنَّ الۡعِزَّۃَ (ফা ইন্নাল ইজ্জাহ → তবে নিশ্চয়ই সম্মান)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহরই জন্য)
جَمِیۡعًا (জামী‘আ → সম্পূর্ণভাবে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা দৃঢ় বিশ্বাসীদের বাদ দিয়ে অস্বীকারকারীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করে, তারা কি তাদের কাছে সম্মান খুঁজে ফেরে? অথচ নিশ্চয়ই সমস্ত সম্মান সম্পূর্ণভাবে আল্লাহরই জন্য।


আয়াত-১৪০ঃ

وَقَدۡ (ওয়া কাদ → এবং নিশ্চয়ই)
نَزَّلَ (নাযযালা → অবতীর্ণ করেছেন)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
فِی الۡکِتٰبِ (ফিল কিতাব → কিতাবে)
اَنۡ (আন → যে)
اِذَا (ইযা → যখন)
سَمِعۡتُمۡ (ছামি‘তুম → তোমরা শোনো)
اٰیٰتِ اللّٰہِ (আয়াতিল্লাহি → আল্লাহর আয়াতসমূহ)
یُکۡفَرُ بِہَا (ইউকফারু বিহা → সেগুলো অস্বীকার করা হয়)
وَیُسۡتَہۡزَاُ بِہَا (ওয়া ইউস্তাহযাউ বিহা → এবং সেগুলোকে উপহাস করা হয়)
فَلَا تَقۡعُدُوۡا (ফালা তাক‘উদূ → তোমরা বসো না)
مَعَہُمۡ (মা‘আহুম → তাদের সাথে)
حَتّٰی (হাত্তা → যতক্ষণ না)
یَخُوۡضُوۡا (ইয়াখূদূ → তারা লিপ্ত হয়)
فِیۡ حَدِیۡثٍ غَیۡرِہٖ (ফী হাদীসিন গাইরিহী → অন্য আলোচনায়/হাদীসে)
اِنَّکُمۡ (ইন্নাকুম → নিশ্চয়ই তোমরা)
اِذًا (ইযান → তখন)
مِّثۡلُہُمۡ (মিসলুহুম → তাদের মতোই)
اِنَّ اللّٰہَ (ইন্নাল্লাহা → নিশ্চয়ই আল্লাহ)
جَامِعُ (জামি‘উ → একত্রকারী)
الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল মুনাফিকীন → দ্বিমুখী আচারণকারী)
وَالۡکٰفِرِیۡنَ (ওয়াল কাফিরীন → অস্বীকারকারীরা)
فِیۡ جَہَنَّمَ (ফী জাহান্নাম → ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থান)
جَمِیۡعًا (জামী‘আ → সবাইকে একসাথে)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর নিশ্চয়ই তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা বা উপহাস করা শুনো, তখন তাদের সাথে বসো না যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় (আয়াতের হাদীসে) লিপ্ত হয়। নচেৎ তোমরাও তাদের মতোই হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্বিমুখী আচারণকারী (মুনাফিক) ও অবিশ্বাসীদের (কাফিরদের) সবাইকে ভয়ংকর আগুনের শাস্তির স্থানে একত্র করবেন।


আয়াত-১৪১ঃ

الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَتَرَبَّصُوۡنَ (ইয়াতারাব্বাসূনা → অপেক্ষা করে থাকে)
بِکُمۡ (বিকুম → তোমাদের জন্য)
فَاِنۡ (ফা-ইন → অতঃপর যদি)
کَانَ (কা-না → হয়)
لَکُمۡ (লাকুম → তোমাদের জন্য)
فَتۡحٌ (ফাতহুন → বিজয়)
مِّنَ اللّٰہِ (মিনাল্লাহি → আল্লাহর পক্ষ থেকে)
قَالُوۡۤا (কা-লূ → তারা বলে)
اَلَمۡ (আলাম → আমরা কি না)
نَکُنۡ (নাকুন → ছিলাম)
مَّعَکُمۡ (মা‘আকুম → তোমাদের সঙ্গে)
وَاِنۡ (ওয়া ইন → আর যদি)
کَانَ (কা-না → হয়)
لِلۡکٰفِرِیۡنَ (লিল-কাফিরীনা → অবিশ্বাসীদের জন্য)
نَصِیۡبٌ (নাসীবুন → কোনো অংশ)
قَالُوۡۤا (কা-লূ → তারা বলে)
اَلَمۡ (আলাম → আমরা কি না)
نَسۡتَحۡوِذۡ (নাসতাহউইয → তোমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছি)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের ওপর)
وَنَمۡنَعۡکُمۡ (ওয়া নামনা‘কুম → এবং তোমাদের রক্ষা করেছি)
مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (মিনাল মু’মিনীনা → দৃঢ় বিশ্বাসীদের থেকে)
فَاللّٰہُ (ফাল্লাহু → অতএব আল্লাহ)
یَحۡکُمُ (ইয়াহকুমু → বিচার করবেন)
بَیۡنَکُمۡ (বাইনাকুম → তোমাদের মধ্যে)
یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ (ইয়াওমাল কিয়ামাহ → পরকালের দিন)
وَلَنۡ (ওয়ালান → এবং কখনোই না)
یَّجۡعَلَ (ইয়াজ‘আলা → ব্যবস্থা করবেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
لِلۡکٰفِرِیۡنَ (লিল-কাফিরীনা → অবিশ্বাসীদের জন্য)
عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আলাল মু’মিনীনা → দৃঢ় বিশ্বাসীদের ওপর)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → কর্তৃত্ব)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যারা তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করে থাকে। অতঃপর যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় হয়, তারা বলে, “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?” আর যদি অবিশ্বাসীদের কোনো সাফল্য হয়, তারা বলে, “আমরা কি তোমাদের ওপর প্রভাবশালী ছিলাম না এবং তোমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাসীদের থেকে রক্ষা করিনি?” অতএব আল্লাহ পরকালে তোমাদের মধ্যে বিচার করবেন। আর আল্লাহ কখনোই অবিশ্বাসীদের জন্য দৃঢ় বিশ্বাসীদের ওপর কর্তৃত্বের পথ করে দেবেন না।


আয়াত-১৪২ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল-মুনাফিকীনা → দ্বিমুখী আচারণকারী)
یُخٰدِعُوۡنَ (ইউখা-দি‘ঊনা → ধোঁকা দিতে চায়)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
وَہُوَ (ওয়া হুওয়া → অথচ তিনি)
خَادِعُہُمۡ (খা-দি‘উহুম → তাদের ধোঁকার প্রতিফল দানকারী)
وَاِذَا (ওয়া ইযা → আর যখন)
قَامُوۡۤا (কা-মূ → তারা দাঁড়ায়/কোন কাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা)
اِلَی الصَّلٰوۃِ (ইলাস-সালাতি → যোগাযোগের জন্য)
قَامُوۡا (কা-মূ → তারা দাঁড়ায়/কোন কাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা)
کُسَالٰی (কুসালা → অলসভাবে)
یُرَآءُوۡنَ (ইউরা-ঊনা → লোক দেখানোর জন্য করে)
النَّاسَ (আন-নাসা → মানুষকে)
وَلَا (ওয়া লা → এবং না)
یَذۡکُرُوۡنَ (ইয়াযকুরূনা → তারা স্মরণ করে)
اللّٰہَ (আল্লাহা → আল্লাহকে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
قَلِیۡلًا (কালীলা → অল্প)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই দ্বিমুখী আচারণকারীরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তিনিই তাদের ধোঁকার প্রতিফল দানকারী। আর যখন তারা যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তখন অলসভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে; তারা মানুষকে দেখানোর জন্য কাজ করে এবং আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করে।


আয়াত-১৪৩ঃ

مُّذَبۡذَبِیۡنَ (মুযাবযাবীনা → দোদুল্যমান)
بَیۡنَ (বাইনা → মধ্যে)
ذٰلِکَ (যা-লিকা → এ অবস্থার)
لَاۤ (লা → না)
اِلٰی ہٰۤؤُلَآءِ (ইলা হাউলাই → এদের দিকে)
وَلَاۤ (ওয়া লা → এবং না)
اِلٰی ہٰۤؤُلَآءِ (ইলা হাউলাই → ওদের দিকে)
وَمَنۡ (ওয়া মান → আর যে)
یُّضۡلِلِ (ইউদলিলি → পথভ্রষ্ট করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
فَلَنۡ (ফালান → তবে কখনোই না)
تَجِدَ (তাজিদা → তুমি পাবে)
لَہٗ (লাহু → তার জন্য)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → কোনো পথ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তারা এ অবস্থার মধ্যে দোদুল্যমান—না এদের দিকে, না ওদের দিকে। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কখনোই কোনো পথ খুঁজে পাবে না।


আয়াত-১৪৪ঃ

یٰۤاَیُّہَا (ইয়া আইয়্যুহা → হে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছ)
لَا تَتَّخِذُوا (লা তাত্তাখিযূ → তোমরা গ্রহণ করো না)
الۡکٰفِرِیۡنَ (আল কাফিরীন → অস্বীকারকারীদের)
اَوۡلِیَآءَ (আওলিয়া → অভিভাবক/ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে)
مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (মিন দুনিল মু’মিনীন → বিশ্বাসীদের বাদ দিয়ে)
اَتُرِیۡدُوۡنَ (আতুরীদূনা → তোমরা কি চাও)
اَنۡ تَجۡعَلُوۡا (আন তাজ‘আলূ → স্থাপন করতে)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
عَلَیۡکُمۡ (আলাইকুম → তোমাদের উপর)
سُلۡطٰنًا (সুলতানান → কর্তৃত্ব/ক্ষমতা)
مُّبِیۡنًا (মুবীনা → স্পষ্ট)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা অবিশ্বাসীদেরকে দৃঢ় বিশ্বাসীদের বাদ দিয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি চাও যে, আল্লাহ তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেন?


আয়াত-১৪৫ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الۡمُنٰفِقِیۡنَ (আল মুনাফিকীন → দ্বিমুখী আচারণকারী)
فِی الدَّرۡکِ الۡاَسۡفَلِ (ফিদ দরকিল আসফাল → সবচেয়ে নিম্নস্তরে)
مِنَ النَّارِ (মিনান্নার → আগুন)
وَلَنۡ تَجِدَ (ওয়া লান তাজিদা → আর তুমি কখনো পাবে না)
لَہُمۡ (লাহুম → তাদের জন্য)
نَصِیۡرًا (নাসীরা → কোনো সাহায্যকারী)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই দ্বিমুখী আচারণকারীরা (মুনাফিকরা) আগুনের সবচেয়ে নিম্নতম স্তরে থাকবে এবং তুমি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।


আয়াত-১৪৬ঃ

اِلَّا (ইল্লা → তবে)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
تَابُوۡا (তা-বূ → ক্ষমা চেয়েছে)
وَاَصۡلَحُوۡا (ওয়া আসলাহূ → এবং সংশোধন করেছে)
وَاعۡتَصَمُوۡا بِاللّٰہِ (ওয়া ই‘তাসামূ বিল্লাহ → আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে)
وَاَخۡلَصُوۡا (ওয়া আখলাসূ → এবং একনিষ্ঠ করেছে)
دِیۡنَہُمۡ (দীনাহুম → তাদের জীবনব্যবস্থা)
لِلّٰہِ (লিল্লাহি → আল্লাহর জন্য)
فَاُولٰٓئِکَ (ফা উলাইকা → তারাই)
مَعَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (মা‘আল মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসীদের সাথে থাকবে)
وَسَوۡفَ یُؤۡتِ اللّٰہُ (ওয়া সাওফা ইউতিল্লাহু → এবং অচিরেই আল্লাহ দেবেন)
الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (আল মু’মিনীন → দৃঢ় বিশ্বাসীদের)
اَجۡرًا عَظِیۡمًا (আজরান আযীমা → মহা পুরস্কার)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

তবে যারা ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং তাদের জীবণ ব্যবস্থাকে (দীনকে) আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেছে, তারাই দৃঢ় বিশ্বাসীদের সাথে থাকবে। আর অচিরেই আল্লাহ দৃঢ় বিশ্বাসীদেরকে মহা পুরস্কার দান করবেন।


আয়াত-১৪৭ঃ

مَا (মা → কি জন্য)
یَفۡعَلُ (ইয়াফ‘আলু → করেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
بِعَذَابِکُمۡ (বি‘আযাবিকুম → তোমাদের শাস্তি দিয়ে)
اِنۡ (ইন → যদি)
شَکَرۡتُمۡ (শাকারতুম → তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো)
وَاٰمَنۡتُمۡ (ওয়া আ-মানতুম → এবং বিশ্বাস)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ আছেন)
شَاکِرًا (শাকিরান → কৃতজ্ঞতা গ্রহণকারী)
عَلِیۡمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং বিশ্বাস আনো, তবে আল্লাহ তোমাদের শাস্তি দিয়ে কী করবেন? আর আল্লাহ কৃতজ্ঞতা গ্রহণকারী ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত-১৪৮ঃ

لَا (লা → না)
یُحِبُّ (ইউহিব্বু → ভালোবাসেন)
اللّٰہُ (আল্লাহু → আল্লাহ)
الۡجَہۡرَ (আল জাহরা → প্রকাশ্যে বলা)
بِالسُّوۡٓءِ (বিস সূ → অশ্লীল)
مِنَ الۡقَوۡلِ (মিনাল কাওল → কথার মাধ্যমে)
اِلَّا (ইল্লা → তবে)
مَنۡ (মান → যে ব্যক্তি)
ظُلِمَ (জুলিমা → যার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ আছেন)
سَمِیۡعًا (সামী‘আ → সর্বশ্রোতা)
عَلِیۡمًا (আলীমা → সর্বজ্ঞ)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আল্লাহ অশ্লীল কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা পছন্দ করেন না, তবে যার প্রতি জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।


আয়াত-১৪৯ঃ

اِنۡ (ইন → যদি)
تُبۡدُوۡا (তুবদূ → তোমরা প্রকাশ করো)
خَیۡرًا (খাইরান → ভালো কাজ)
اَوۡ (আও → অথবা)
تُخۡفُوۡہُ (তুখফূহু → তোমরা গোপন করো)
اَوۡ (আও → অথবা)
تَعۡفُوۡا (তা‘ফূ → তোমরা ক্ষমা করো)
عَنۡ سُوۡٓءٍ (‘আন সূ → কোনো খারাপ কাজ থেকে/দোষ থেকে)
فَاِنَّ اللّٰہَ (ফাইন্নাল্লাহা → তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ)
کَانَ (কা-না → আছেন)
عَفُوًّا (‘আফুওওয়া → পরম ক্ষমাশীল)
قَدِیۡرًا (কাদীরা → সর্বশক্তিমান)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

যদি তোমরা ভালো কাজ প্রকাশ্যে করো বা গোপনে করো, অথবা কোনো দোষ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও সর্বশক্তিমান।


আয়াত-১৫০ঃ

اِنَّ (ইন্না → নিশ্চয়ই)
الَّذِیۡنَ (আল্লাযীনা → যারা)
یَکۡفُرُوۡنَ (ইয়াকফুরূনা → অস্বীকার করে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহকে)
وَرُسُلِہٖ (ওয়া রুসুলিহী → এবং তাঁর রাসূলদের)
وَیُرِیۡدُوۡنَ (ওয়া ইউরীদূনা → এবং তারা চায়)
اَنۡ یُّفَرِّقُوۡا (আন ইউফাররিকূ → আলাদা করতে)
بَیۡنَ اللّٰہِ وَرُسُلِہٖ (বাইনা আল্লাহি ওয়া রুসুলিহী → আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের মধ্যে)
وَیَقُوۡلُوۡنَ (ওয়া ইয়াকূলূনা → এবং তারা বলে)
نُؤۡمِنُ بِبَعۡضٍ (নু’মিনু বিবা‘দ → আমরা কিছুতে বিশ্বাস করি)
وَّنَکۡفُرُ بِبَعۡضٍ (ওয়া নাকফুরু বিবা‘দ → এবং কিছু অস্বীকার করি)
وَّیُرِیۡدُوۡنَ (ওয়া ইউরীদূনা → এবং তারা চায়)
اَنۡ یَّتَّخِذُوۡا (আন ইয়াত্তাখিযূ → গ্রহণ করতে)
بَیۡنَ ذٰلِکَ (বাইনা যা-লিকা → এর মাঝখানে/মধ্যবর্তী অবস্থায়)
سَبِیۡلًا (সাবীলা → পথ/পদ্ধতি)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায় এবং বলে আমরা কিছুতে বিশ্বাস করি আর কিছু অস্বীকার করি, আর গ্রহণ করতে চায় এর মধ্যবর্তী কোন পথ।


আয়াত-১৫১ঃ

اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
ہُمُ (হুম → তারা)
الۡکٰفِرُوۡنَ (আল কাফিরূনা → অস্বীকারকারীরা)
حَقًّا (হাক্কান → সত্যিকার অর্থে)
وَاَعۡتَدۡنَا (ওয়া আ‘তাদনা → এবং আমরা প্রস্তুত করেছি)
لِلۡکٰفِرِیۡنَ (লিল কাফিরীন → অস্বীকারকারীদের জন্য)
عَذَابًا (আযাবান → শাস্তি)
مُّہِیۡنًا (মুহীনা → অপমানজনক)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর তারাই সত্যিকার অর্থে কাফির (অস্বীকারকারী)। আর কাফিরদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।


আয়াত-১৫২ঃ

وَالَّذِیۡنَ (ওয়াল্লাযীনা → যারা)
اٰمَنُوۡا (আ-মানূ → বিশ্বাস এনেছে)
بِاللّٰہِ (বিল্লাহি → আল্লাহর প্রতি)
وَرُسُلِہٖ (ওয়া রুসুলিহী → এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি)
وَلَمۡ یُفَرِّقُوۡا (ওয়া লাম ইউফাররিকূ → এবং তারা পার্থক্য করেনি)
بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ (বাইনা আহাদিম মিনহুম → তাদের কারও মধ্যে)
اُولٰٓئِکَ (উলাইকা → তারাই)
سَوۡفَ یُؤۡتِیۡہِمۡ (সাওফা ইউ’তীহিম → অচিরেই তাদেরকে দেবেন)
اُجُوۡرَہُمۡ (উজূরাহুম → তাদের প্রতিদান)
وَکَانَ اللّٰہُ (ওয়া কা-নাল্লাহু → আর আল্লাহ আছেন)
غَفُوۡرًا (গাফূরা → পরম ক্ষমাশীল)
رَّحِیۡمًا (রাহীমা → পরম দয়ালু)

পূর্ণ বাংলা অর্থ:

আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস এনেছে এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি, তারা অচিরেই তাদের প্রতিদান লাভ করবে। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।